যিলহজ্ব ১৪৪১   ||   আগস্ট ২০২০

যিলহজ্ব, হজ্ব ও কুরবানী : গুরুত্ব, ফযীলত ও কিছু কথা

মুহাম্মাদ আশিক বিল্লাহ তানভীর

আরবী বার মাসের সর্বশেষ মাস- যিলহজ্ব এ মাসে রয়েছে ইসলামের মূল পাঁচ ভিত্তির অন্যতম- হজে¦র বিধান এবং মুসলিম উম্মাহ্র দুটি উৎসবের একটি- ঈদুল আযহা ইসলামের মহান দুটি শিআর ও নিদর্শন- হজ্ব ও কুরবানী রয়েছে ইয়াওমে আরাফা, আইয়ামে তাশরীক এবং যিলহজ্বের বরকত ও ফযীলতপূর্ণ প্রথম দশক

যিলহজ্ব মাস আশহুরে হুরুমতথা ইসলামের সম্মানিত চার মাসের অন্যতম প্রধান ফযীলতপূর্ণ মাস পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেন-

اِنَّ عِدَّةَ الشُّهُوْرِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِیْ كِتٰبِ اللهِ یَوْمَ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ مِنْهَاۤ اَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذٰلِكَ الدِّیْنُ الْقَیِّمُ.

আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই মাসসমূহের গণনা আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর বিধান মতে বারটি তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত -সূরা তাওবা (৯) : ৩৬

এ চার মাস কী কী? হাদীস শরীফে তা বলে দেওয়া হয়েছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

إِنّ الزّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللهُ السّمَوَاتِ وَالأَرْضَ، السّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا، مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلاَثٌ مُتَوَالِيَاتٌ: ذُو القَعْدَةِ، وَذُو الحِجّةِ، وَالمُحَرّمُ، وَرَجَبُ مُضَرَ الّذِي بَيْنَ جُمَادَى، وَشَعْبَانَ.

সময়ের হিসাব যথাস্থানে ফিরে এসেছে, আসমান-যমীনের সৃষ্টির সময় যেমন ছিল (কারণ, জাহেলী যুগে আরবরা নিজেদের স্বার্থ ও মর্জিমত মাস-বছরের হিসাব কম-বেশি ও আগপিছ করে রেখেছিল) বার মাসে এক বছর এর মধ্য থেকে চারটি মাস সম্মানিত তিনটি মাস ধারাবাহিক- যিলকদ, যিলহজ্ব ও মুহাররম আরেকটি হল রজব, যা জুমাদাল আখিরাহ ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস -সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৬৬২

আর এ চার মাসের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হল পবিত্র যিলহজ্ব মাস নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

أَلَا وَإِنّ أَحْرَمَ الشّهُورِ شَهْرُكُمْ هَذَا.

জেনে রেখো! সবচেয়ে সম্মানিত মাস হল, তোমাদের এই মাস (যিলহজ্ব) -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৯৩১; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১১৭৬২

তাই ইসলামের দৃষ্টিতে এ মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যমণ্ডিত কুরআন ও হাদীসে এ মাসের জন্য বিশেষভাবে যে কয়টি আমলের কথা উল্লেখ হয়েছে এখানে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হল-

 

আশারা যিলহজ্ব বা যিলহজ্বের প্রথম দশক : গুরুত্ব ও ফযীলত

যিলহজ্ব মাস সম্মানিত মাস আর এ মাসের প্রথম দশক সবিশেষ উল্লেখযোগ্য পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা কসম করে বলেন-

وَ الْفَجْرِ،  وَ لَیَالٍ عَشْرٍ.

শপথ ফজরের, শপথ দশ রাত্রির -সূরা ফাজ্র (৮৯) : ১-২

এখানে দশ রাত্রিদ্বারা যিলহজ্বের প্রথম দশ রাত উদ্দেশ্য হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা., হযরত ইবনে যুবাইর রা. ও মুজাহিদ রাহ.-সহ পূর্ববর্তী পরবর্তী অনেকেই এমনটি বলেছেন -তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা ফাজ্র দ্রষ্টব্য

হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَا مِنْ أَيّامٍ الْعَمَلُ الصّالِحُ فِيهَا أَحَبّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيّامِ يَعْنِي أَيّامَ الْعَشْرِ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ قَالَ: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ، إِلّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ.

আল্লাহর নিকট যিলহজ্বের দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও (এর চেয়ে উত্তম) নয় কি? তিনি বললেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয় তবে হাঁ, সেই ব্যক্তির জিহাদ এর চেয়ে উত্তম, যে নিজের জান-মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য বের হয়েছে অতপর কোনো কিছু নিয়ে ঘরে ফিরে আসেনি (অর্থাৎ শাহাদাত বরণ করেছে) -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৮; সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৯; জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৫৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৭২৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১৯৬৮

অতএব মুমিন বান্দার উচিত যিলহজ্ব মাসে নেক আমলের প্রতি অধিক মনোযোগী হওয়া বিভিন্ন নেক আমলের প্রতি আরো অগ্রসর হওয়া কেননা এ মাসের আমলগুলো আল্লাহ তাআলার নিকট অত্যন্ত প্রিয়

 

বেশি বেশি করি তাকবীর, তাহলীল ও তাহমীদ

হাদীস শরীফে এ মাসের আমলের ব্যাপারে বলা হয়েছে-

مَا مِنْ أَيّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ وَلَا أَحَبّ إِلَيْهِ الْعَمَلُ فِيهِنّ مِنْ هَذِهِ الْأَيّامِ الْعَشْرِ، فَأَكْثِرُوا فِيهِنّ مِنَ التّهْلِيلِ وَالتّكْبِيرِ وَالتّحْمِيدِ.

আল্লাহ তাআলার নিকট আশারায়ে যিলহজ্বের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ তাসবীহ পাঠ কর -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৫৪৪৬; আদদাআওয়াতুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ৫৩৪

তো এ মাসে এসকল যিকিরের মাধ্যমে আমরা আমাদের যবানকে সতেজ রাখতে পারি তেমনিভাবে অন্যান্য নফল ইবাদতের মাধ্যমেও রাখতে পারি এ মাসকে প্রাণবন্ত বিশেষ করে প্রথম দশক

 

এ দশকে মনোযোগী হই রোযার প্রতি

হাদীস শরীফে বিশেষভাবে এ সময় রোযা রাখার কথা এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত এ দশক (৯ দিন) রোযা রাখতেন হাদীস শরীফের মৌলিক গ্রন্থগুলোতে এ দশকে রোযা রাখার ব্যাপারে স্বতন্ত্র অধ্যায় নির্ধারিত হয়েছে বর্ণিত হয়েছে-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجّةِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্বের নয়টি দিবসে (সাধারণত) রোযা রাখতেন -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৩৩৪; সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস ৮৩৯৩

উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসা রা. থেকে বর্ণিত আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন-

أَرْبَعٌ لَمْ يَكُنْ يَدَعُهُنّ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: صِيَامَ عَاشُورَاءَ، وَالْعَشْرَ، وَثَلَاثَةَ أَيّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ.

চারটি আমল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ছাড়তেন না আশুরার রোযা, যিলহজ্বের প্রথম দশকের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা, ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামায -সুনানে নাসায়ী, হাদীস ২৪১৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৬৪২২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৬৩৩৯

অতএব সম্ভব হলে এ দশকে রোযা রাখার প্রতি মনোযোগ দেওয়া জরুরি পুরো নয় দিন রোযা রাখতে কষ্ট হলে যে কয়টি সম্ভব সে কয়টি রাখতে পারি তাতেও সাওয়াব হবে ইনশাআল্লাহ

 

যিলহজ্ব শুরু হয়েছে : নখ-চুল না কাটি, না ছাটি

এছাড়া এ দশকের একটি বিশেষ আমল হল- যিলহজ্বের চাঁদ ওঠা থেকে নিয়ে কুরবানী করা পর্যন্ত নখ-চুল না কাটা এতে একদিকে হাজ্বী সাহেবানের সাথে একরকম সাদৃশ্য প্রকাশ পায় পাশাপাশি এর জন্য রয়েছে বিশেষ ফযীলতও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِذَا رَأَيْتُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجّةِ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارهِ.

যখন যিলহজ্বের দশক শুরু হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কুরবানী করবে সে যেন তার চুল নখ না কাটে -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫২৩

অতএব যিলহজ্ব আগমনের পূর্বেই নখ-চুল কেটে ছেটে পরিপাটি হয়ে থাকা বাঞ্ছনীয় যারা কুরবানী করবেন তারা এ আমলের প্রতি তো যত্নবান হবেনই আর বিভিন্ন বর্ণনা ও সাহাবা-তাবেয়ীনের আমলের নিরিখে এ-ও বুঝে আসে যে, যারা কুরবানী করবেন না তারাও এ ফযীলতপূর্ণ আমলে শরীক হতে পারেন এমনকি এসময় বাচ্চাদের চুল-নখ কাটা থেকে বিরত থাকাও ভালো; যা সাহাবা-তাবেয়ীনের আমল থেকে বোঝা যায় (দ্রষ্টব্য: সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩৬৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৭৫২০; আল মুহাল্লা, ইবনে হাযম ৬/২৮)

 

ইয়াওমে আরাফা : গুরুত্ব ও ফযীলত

যিলহজ্ব মাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবস হল নয় তারিখ হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী- ‘ইয়াওমু আরাফা এ দিনটি হজে¦র মূল দিন আরাফার ময়দানে হাজ্বী সাহেবানের উকফ-অবস্থান এ দিনেই হয়ে থাকে আল্লাহ তাআলা এ দিনকে বিশেষ সম্মানে ভষিত করেছেন দ্বীন-ইসলামকে পূর্ণতার ঘোষণা দিয়েছেন এ দিনেই এ দিনেই নাযিল হয়েছে কুরআনে কারীমের সর্বশেষ আয়াত-

اَلْیَوْمَ اَكْمَلْتُ لَكُمْ دِیْنَكُمْ وَ اَتْمَمْتُ عَلَیْكُمْ نِعْمَتِیْ وَ رَضِیْتُ لَكُمُ الْاِسْلَامَ دِیْنًا .

আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিআমত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম -সূরা মায়েদা (৫) : ৩

এ দিনে বান্দার দিকে রবের রহমতের জোয়ার প্রবলবেগে উৎসারিত হয় অসংখ্য বান্দাকে তিনি ক্ষমা করে থাকেন এ দিনে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النّارِ، مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَإِنّهُ لَيَدْنُو، ثُمّ يُبَاهِي بِهِمِ الْمَلَائِكَةَ، فَيَقُولُ: مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ؟

আরাফার দিনের মত আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটবর্তী হন এবং বান্দাদের নিয়ে ফিরিশতাদের নিকট গর্ব করেন আল্লাহ বলেন, কী চায় তারা? -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪৮

জাবের রা. থেকে বর্ণিত আরেক বর্ণনায় রয়েছে-

يَنْزِلُ اللهُ إِلَى السّمَاءِ الدّنْيَا فَيُبَاهِي بِأَهْلِ الْأَرْضِ أَهْلَ السّمَاءِ، فَيَقُولُ: انْظُرُوا إِلَى عبادي شعثا غبرا ضاحين، جاؤوا مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ يَرْجُونَ رَحْمَتِي، وَلَمْ يَرَوْا عَذَابِي، فَلَمْ يُرَ يَوْمٌ أَكْثَرُ عِتْقًا من النار من يوم عرفة.

আল্লাহ তাআলা নিকটতম আসমানে আসেন এবং পৃথিবীবাসীকে নিয়ে আসামানের অধিবাসী অর্থাৎ ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করেন বলেন, দেখ তোমরা- আমার বান্দারা উস্কোখুস্কো চুলে, ধুলোয় মলিন বদনে, রোদে পুড়ে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে সমবেত হয়েছে তারা আমার রহমতের প্রত্যাশী অথচ তারা আমার আযাব দেখেনি ফলে আরাফার দিনের মত আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না -সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩৮৫৩

 

যে দিনের রোযায় মাফ হয় দুই বছরের গুনাহ

এ দিনের একটি রোযায় বান্দার দুই বছরের গুনাহ মাফ হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السّنَةَ الّتِي قَبْلَهُ، وَالسّنَةَ الّتِي بَعْدَهُ.

আরাফার দিনের (নয় যিলহজ্বের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা রাখি যে, তিনি আগের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২

প্রকাশ থাকে যে, হাদীসে বর্ণিত ইয়াওমে আরাফা দ্বারা যিলহজ্বের নয় তারিখ উদ্দেশ্য অতএব যে এলাকা যখন যিলহজ্বের নয় তারিখে উপনীত হবে সে এলাকায় তখন এ বিধান প্রযোজ্য হবে

যিলহজ্বের ফযীলতপূর্ণ প্রথম দশকের মাঝে যেহেতু ইয়াওমে আরাফা তথা নয় যিলহজ্ব সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তাই অন্যান্য দিনের তুলনায় এ দিবসটিকে বিশেষ গুরুত্বের সাথেই আমলে নেওয়া চাই পুরো দশক সম্ভব না হলেও কমপক্ষে এ দিনে রোযা রাখার চেষ্টা করি নেক আমলে আরো আগ্রগামী হই যিকির, দুআ, ইস্তিগফার, সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি তাসবীহ বেশি বেশি পাঠ করি যেহেতু এ দিবসে মহান মালিকের পক্ষ থেকে ব্যাপক ক্ষমার ঘোষণা এসেছে, বিশেষ করে হাজ্বী সাহেবানের জন্য, সেখানে আমরাও দূরদেশ থেকে সেই ব্যাপক ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভ করতে উন্মুখ হই

হাদীস শরীফে আরাফার দিনের দুআকে শ্রেষ্ঠ দুআ বলা হয়েছে নবীজী বলেন-

خَيْرُ الدّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنّبِيّونَ مِنْ قَبْلِي: لَا إِلَهَ إِلّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.

শ্রেষ্ঠ দুআ (-যিকির) আরাফার দুআ দুআ-যিকির হিসেবে সর্বোত্তম হল ঐ দুআ, যা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ করেছেন তা হল-

لَا إِلَهَ إِلّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

-জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৮৫; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৩৭৭৮

অতএব আমরা এ দুআটির প্রতিও বিশেষ ইহতিমাম করতে পারি

 

হজ্ব : এ মাসের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল

হজ্ব ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান এবং মর্যাদাশীল ইবাদত ইসলামের মৌলিক পাঁচ ভিত্তির একটি এবং শাআইরুল ইসলামের অন্যততম প্রধান শিআর হজ্বের মূল কার্যক্রম পালিত হয় মূলত এ মাসেই আর তাই এদিকে নিসবত বা সম্বন্ধিত করে এ মাসের নাম যুল হিজ্জাহ বা যিলহজ্ব মাস নানাবিধ শিক্ষা, তত্ত্ব ও তাৎপর্য ধারণকারী একটি ইবাদতের নাম হজ্ব আল্লাহ তাআলা এ বিধানকে ফরয করে দিয়েছেন তাঁর সামর্থ্যবান বান্দার জন্য আল্লাহ বলেন-

وَ لِلهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الْبَیْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَیْهِ سَبِیْلًا وَ مَنْ كَفَرَ فَاِنَّ اللهَ غَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ.

মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্ব করা তার জন্য অবশ্যকর্তব্য আর যে (এই নির্দেশ পালন করতে) অস্বীকার করবে তার জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ দুনিয়াবাসীদের প্রতি সামান্যও মুখাপেক্ষী নন -সূরা আলে ইমরান (৩) : ৯৭

অতএব হজ্ব ফরয হওয়ার পর তা পালনে যথাসাধ্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা চাই হজ্বের মতো ইবাদত আদায়ে গড়িমসি করা অন্তত মুমিনের শান হতে পারে না যেখানে আল্লাহ তাআলা বলছেন- ‘আর যে (এই নির্দেশ পালন করতে) অস্বীকার করবে তার জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ দুনিয়াবাসীদের প্রতি সামান্যও মুখাপেক্ষী ননএরকম কঠোর কথা শোনার পর একজন মুমিন এ ব্যাপারে উদাসীন হয় কী করে!

মুমিন মাত্রই আল্লাহ্র ঘরে হাজিরা দেবার জন্যে উদগ্রীব থাকে সে শুধু প্রতীক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে কখন তার রব তাকে ডেকে বসবেন আর সে লাব্বাইক বলে সেই ডাকে সাড়া দেবে! শুভ্র সফেদ ধবধবে দু টুকরো কাপড় গায়ে জড়িয়ে বলবে-

لَبّيْكَ اَللّٰهُمّ لَبّيْكَ، لَبّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبّيْكَ، إِنّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لاَ شَرِيْكَ لَكَ.

আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির আমি হাজির, আপনার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নিআমত আপনারই এবং সকল রাজত্ব আপনার কোনো শরীক নেই

তারপর সে যখন আরো শোনে যবানে নববীতে এই ঘোষণা-

مَنْ حَجّ لِلهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمّهُ.

যে ব্যক্তি একমাত্র অল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ্ব করে এবং কোনো অশ্লীল কাজ বা গুনাহে লিপ্ত হয় না, সে যেন সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে বাড়ী ফেরে -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৫২১

আরো যখন শোনে-

الحَجّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلّا الجَنّةُ.

মাবরূর (মকবুল) হজ্বের প্রতিদান তো কেবল জান্নাতই -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪৯

তখন ঈমানের ছিটেফোঁটা ধারণকারী একজন মুমিনের মনের মাঝে যে কী তোলপাড় সৃষ্টি হয় সেই কাবার পানে ছুটে যাওয়ার জন্য, কীভাবে যে সে নিজেকে সম্বরণ করে- তা সেই কাবার রবই ভালো জানেন! আল্লাহ তাআলা সকল মুমিন মুমিনাতকে হজ্জে মাবরূর নসীব করুন এবং বারবার নসীব করুন- আমীন

আম্বিয়া কেরামের পুণ্য স্মৃতি বিজড়িত সেই হিজাযভমি! সেই মিনা, আরাফা, মুযদালিফা; সেই নামায দুআ রোনাযারী; সেই মাতাফ তাওয়াফ সাঈ; সেই কালো ঘর, কালো গেলাফ, কালো পাথর, বাইতুল্লাহ, হাতীম ও মাকামে ইবরাহীম; আহ্! যমযম, মুলতাযাম আর মীযাবে রহমত; তারপর চির স্বপ্নের সোনার মদীনায় হাজিরী; সেই রওযায়ে আতহার, বাবুস সালাম, রিয়াযুল জান্নাহ; সেই জান্নাতুল বাকী, জান্নাতুল মুআল্লা; উহুদ খন্দক হোদাইবিয়া... এ স্মৃতি চিহ্নগুলো একজন মুমিনের হৃদয়গভীরে কী আন্দোলন সৃষ্টি করে, কীভাবে যে বিষয়গুলো তার দেহমন ছুঁয়ে যায়, তার ঈমান-একীন আমল-আখলাককে যে কীভাবে শিহরিত করে...!

বস্তুত হজ্বের প্রতিটি আমলের সাথে যুক্ত রয়েছে ত্যাগ, কুরবানী ও সমর্পণের শিক্ষা আল্লাহ্র হুকুমের সামনে নিজেকে বিলীন করার দীক্ষা ইবরাহীমী মিল্লাতে উজ্জীবিত হওয়ার তারবিয়াত সর্বপরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত আঁকড়ে ধরা ও যিন্দা করার তালীম মূলত হজ্ব এমন একটি মহিমান্বিত আমল, যা দুই চার কথায় বলে দেবার মতো নয় যবানে নবুওতে এককথায় যা উচ্চারিত হয়েছে সংক্ষিপ্তভাবে; কেবল এতটুকুই মনে রাখতে পারি-

الحَجّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلّا الجَنّةُ.

মাবরূর (মকবুল) হজ্বের প্রতিদান তো কেবল জান্নাতই -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪৯

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সেই খোশ নসীব দান করুন- আমীন

 

ইয়াওমুন নাহ্র বা কুরবানীর দিন : এ মাসের সবচে মহিমান্বিত দিবস

যিলহজ্ব মাসের সবচে মহিমান্বিত দিবস ১০ যিলহজ্ব বা কুরবানীর দিন হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী ইয়াওমুন নাহ্র এ দিবস রাব্বুল আলামীনের নিকট অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মুসলিম উম্মাহ গোটা বিশ্বজুড়ে এ দিনে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য হাছিলের জন্য পশু কুরবানী করে থাকে বস্তুত এটা ইসলামের অনেক বড় একটি আমল এবং গুরুত্বপূর্ণ শিআর-পরিচয় চিহ্ন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَ الْبُدْنَ جَعَلْنٰهَا لَكُمْ مِّنْ شَعَآىِٕرِ اللهِ لَكُمْ فِیْهَا خَیْرٌ  فَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَیْهَا صَوَآفَّ،  فَاِذَا وَجَبَتْ جُنُوْبُهَا فَكُلُوْا مِنْهَا وَ اَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَ الْمُعْتَرَّ،  كَذٰلِكَ سَخَّرْنٰهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ.

কুরবানীর উট (ও গরু)কে তোমাদের জন্য আল্লাহর শাআইর’ (নিদর্শনাবলি)-এর অন্তর্ভুক্ত করেছি তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে কল্যাণ সুতরাং যখন তা সারিবদ্ধ অবস্থায় দাঁড়ানো থাকে, তোমরা তার উপর আল্লাহর নাম নাও তারপর যখন (যবেহ হয়ে যাওয়ার পর) তা কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়, তখন তার গোশত হতে নিজেরাও খাও এবং ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও, এবং তাকেও, যে নিজ অভাব প্রকাশ করে এভাবেই আমি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর -সূরা হজ্ব (২২) : ৩৬

বস্তুত কুরবানীর জন্য উৎসর্গিত পশু আল্লাহ তাআলা নিজ মেহেরবানীতে বান্দার জন্য হালাল করে দিয়েছেন; পূর্ববর্তী উম্মতের ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য ছিল না এটা মূলত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে তাঁর হাবীবের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতের জন্য মেহমানদারি দশ যিলহজ্বসহ মোট চার দিন রোযা রাখা হারাম করা হয়েছে যেন বান্দা এ মেহমানদারী গ্রহণ করে তাই সাগ্রহে কুরবানীর গোশত নিজেরাও খাব এবং অন্যদেরও বিতরণ করব বিশেষ করে যারা অভাবী তাদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখব

 

একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য ত্যাগ স্বীকারের নাম কুরবানী

 আর কুরবানী করব একমাত্র আল্লাহ্র জন্যই

আল্লাহ তাআলা বলেন-

لَنْ یَّنَالَ اللهَ لُحُوْمُهَا وَ لَا دِمَآؤُهَا وَ لٰكِنْ یَّنَالُهُ التَّقْوٰی مِنْكُمْ  كَذٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلٰی مَا هَدٰىكُمْ  وَ بَشِّرِ الْمُحْسِنِیْنَ.

আল্লাহর কাছে না পৌঁছে তাদের (কুরবানীর পশুর) গোশত আর না তাদের রক্ত, বরং তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে এমনিভাবে তিনি সেগুলো (পশুগুলো) তোমাদের জন্য বশ করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর কারণ, তিনি তোমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন আর আপনি সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন -সূরা হজ্ব (২২) : ৩৭

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন-

قُلْ اِنَّنِیْ هَدٰىنِیْ رَبِّیْۤ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ  دِیْنًا قِیَمًا مِّلَّةَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا  وَ مَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ قُلْ اِنَّ صَلَاتِیْ وَ نُسُكِیْ وَ مَحْیَایَ وَ مَمَاتِیْ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ لَا شَرِیْكَ لَهٗ  وَ بِذٰلِكَ اُمِرْتُ وَ اَنَا اَوَّلُ الْمُسْلِمِیْنَ.

আপনি বলে দিন, নিশ্চয় আমার রব  আমাকে সরল পথ প্রদর্শন করেছেন, (যা) বিশুদ্ধ ধর্ম, ইবরাহীমের দ্বীন, যিনি ছিলেন (আল্লাহ্র আনুগত্যে) একনিষ্ঠ এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না আপনি বলুন, আমার সালাত, আমার কুরবানী (ব্যাপক অর্থে সকল ইবাদত), আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্য তাঁর কোনো শরীক নেই আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের একজন -সূরা আনআম (৬) : ১৬১-১৬৩

অতএব কুরবানী হবে একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টি ও নৈকট্য হাছিলের জন্য

 

এ দিনকে ঘোষণা করা হয়েছে এ উম্মতের ঈদ

ইয়াওমে আরাফায় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ব্যাপক ক্ষমা প্রাপ্তির ঘোষণা, আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের জন্য আল্লাহ্র রাস্তায় আল্লাহ্র নামে নিজের প্রিয় পশু উৎসর্গ করার সৌভাগ্য অতঃপর উৎসর্গিত পশু থেকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মেহমানদারি লাভের আনন্দ ও শুকরিয়া আদায়ের জন্য এ দিনকে মুসলমানদের জন্য ঈদ সাব্যস্ত করেছেন মহান রাব্বুল আলামীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى، جَعَلَهُ اللهُ عِيدًا لِهَذِهِ الْأُمّةِ.

আমাকে ইয়াওমুল আযহার আদেশ করা হয়েছে (অর্থাৎ, এ দিবসে কুরবানী করার আদেশ করা হয়েছে); এ দিবসকে আল্লাহ তাআলা এ উম্মতের জন্য ঈদ বানিয়েছেন -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৫৭৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৯১৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩৬৫

 

কুরবানী : নবীজী সরাসরি নির্দেশিত হয়েছেন যে আমলের

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআনে কারীমে সরাসরি নির্দেশ দিয়ে বলেন-

اِنَّاۤ اَعْطَیْنٰكَ الْكَوْثَرَ   فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ انْحَرْ.

আমি অবশ্যই তোমাকে কাউসার দান করেছি সুতরাং তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর -সূরা কাউসার (১০৮) : ১-২

এজন্য নবীজী সারা জীবন কুরবানী করে এসেছেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন-

أَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِالمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ يُضَحِّي كُلّ سَنَةٍ.

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার দশ বছরের প্রতি বছরই কুরবানী করেছেন -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫০৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৪৯৫

যিলহজ্ব মাসের দশ-এগার-বার এই তিন তারিখ কুরবানীর দিন উত্তম হল দশ তারিখেই কুরবানী করা কারণ ইয়াওমুন নাহ্র মূলত যিলহজে¦র দশ তারিখই অতএব যে ব্যক্তি এ তিন দিনে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার জন্য কুরবানী করা ওয়াজিব

 

কুরবানী : একটি ওয়াজিব আমল

কুরবানী নামায-রোযার মতো ফরয না হলেও অন্যান্য সাধারণ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব আমল উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসগুলোর মাধ্যমে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান হয়

এছাড়া বিষয়টি আরো জোরালোভাবেও বর্ণিত হয়েছে হযরত আবু হুরাইরা রা. বলেন-

مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ مَعَنَا فَلَا يَقْرَبَنّ مُصَلّانَا.

সামর্থ্য থাকা সত্তে¡ও যে ব্যক্তি কুরবানী করলো না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে -মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৭৫৬৬

কোনো বর্ণনা অনুযায়ী বক্তব্যটি মারফহাদীস হিসাবেও এসেছে দ্রষ্টব্য : মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৮২৭৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১২৩; মুসতাদরাকে হাকেম ৪/২৩২

অতএব সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০, ১১, ১২ তারিখের মধ্যে কুরবানীর এ আমল করতে হবে কুরবানী একটি আর্থিক ইবাদত যার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে তার নামে অবশ্যই কুরবানী হতে হবে যাকাত যেমন আর্থিক ইবাদত যার উপর যাকাত ফরয হয় তার পক্ষ থেকে অবশ্যই তা আদায় করতে হয় একই পরিবারে একাধিক ব্যক্তির উপর যাকাত ফরয হলে যেভাবে একজন যাকাত আদায় করা যথেষ্ট নয় তেমনি একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব হলে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী যথেষ্ট নয় হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী যারই সামর্থ্য থাকবে তারই কুরবানী হতে হবে নতুবা এ দায় তার উপর রয়ে যাবে

অনেক সময় কুরবানীকে সুন্নত বলে ব্যাপারটিকে হালকা করতে দেখা যায় বিষয়টি আদৌ এমন নয় কুরবানী ইসলামের শিআর গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান শরীয়তের দৃষ্টিতে ওয়াজিব আমল যেসকল ফকীহ একে সুন্নত বলেছেন, তাদের মতে এটা এমন গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতে মুআক্কাদাহ মর্যাদার বিচারে যা ওয়াজিব পর্যায়ের এবং যা তরক করলে গুনাহ হবে তাই কুরবানীকে ওয়াজিব বলুন আর সুন্নত, ফলাফলের বিচারে তা কাছাকাছি অর্থাৎ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আবশ্যকীয় আমল

তাই যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে তারা অবশ্যই কুরবানী আদায় করব আর যাদের উপর ওয়াজিব নয় সম্ভব হলে তারাও কুরবানী করব কেননা কুরবানী একটি ফযীলতপূর্ণ আমল

 

হজ্ব ও কুরবানী নিয়ে প্রোপাগান্ডা : কিছু নিবেদন

সঙ্গত কারণে এখানে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা জরুরি মনে হচ্ছে যে, হজ্ব ও কুরবানীর মৌসুম এলে কোনো কোনো মহল থেকে ইবাদতদুটির ব্যাপারে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নানারকম অপ্রীতিকর মন্তব্য ও আপত্তি উত্থাপন করতে শোনা যায় এসকল প্রোপাগাণ্ডায় প্রভাবিত হওয়া মুমিনের শান নয় মুমিনের শান ও মান তো কেবল আল্লাহ্র হুকুমের সামনে আত্মসমর্পণের মাঝেই নিহিত আর এ মহান শিক্ষা ও তরবিয়ত রয়েছে ইবাদত দুটির পরতে পরতে

কখনো কখনো কুরবানীর পশুর রক্ত প্রবাহিত করাকে মানবিকতার প্রশ্নে তোলা হয় এটা অত্যন্ত পীড়াদায়ক এবং অবান্তর আপত্তি অন্যান্য ধর্মাচারে পশু উৎসর্গের যে কালচার আর ইসলামে কুরবানীর যে বিধান তার মাঝে কি আসমান যমিনের ফারাক নজরে পড়ে না! ইসলাম পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেও যে আদাব ও নীতিমালা রেখেছে তা দেখেও কি অন্ধ চোখগুলো আলো পাবে না! একটি হাদীস শুনুন, হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِنّ اللهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ، وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذّبْحَ، وَلْيُحِدّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ، فَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ.

আল্লাহ তাআলা সকল কিছুর উপর অনুগ্রহকে অপরিহার্য করেছেন অতএব যখন তোমরা (শরীয়তের হুকুম মোতাবেক শাস্তি হিসেবে কাউকে) হত্যা করবে তো উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা কর যখন যবেহ করবে তো উত্তম পদ্ধতিতে যবেহ কর প্রত্যেকে তার ছুরিতে শান দিয়ে নেবে এবং তার পশুকে শান্তি দেবে -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৫৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৮১৫; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৪০৫; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৪০৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩১৭০

একটু লক্ষ করুন তো, এ হাদীসটির শব্দে শব্দে কত গভীর মর্ম নিহিত রয়েছে!

আফসোসের কথা হল, ইবাদতের ক্ষেত্রে অর্থ খরচ নিয়ে গরিবের বন্ধু সেজে নানা উপদেশ দিতে, বরং অতিমাত্রায় দরদী সাজতে দেখা গেলেও সমাজের নানা বিলাসিতা ও অনাচারে যে সম্পদ অপচয় ও নষ্ট হয় তা নিয়ে তো তেমন কোনো উচ্চবাচ্য শোনা যায়ই না; উপরন্তু তাতে আরো পৃষ্ঠপোষকতা করতে দেখা যায় এদেরকে মূলত সাধারণ মুসলমানদের ঈমান-আমলকে হুমকির মুখে দাঁড় করানোই থাকে এদের টার্গেট অতএব কোনো ধরনের প্রোপাগান্ডায় প্রভাবিত না হয়ে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই হবে আমাদের কুরবানী

 

আল্লাহ্র পক্ষ থেকে মেহমানদারি : নিজেও গ্রহণ করব, অন্যকেও শরীক করব

আমরা কুরবানী করব, আল্লাহ তাআলার মেহমানদারি গ্রহণ করব আল্লাহ তাআলার হুকুম মোতাবেক কুরবানীর গোশত নিজেরাও খাব আল্লাহ্র বান্দাদেরও মেহমানদারীতে শরীক করব আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এটাও একটা মাধ্যম আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

فَاِذَا وَجَبَتْ جُنُوْبُهَا فَكُلُوْا مِنْهَا وَ اَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَ الْمُعْتَرَّ،  كَذٰلِكَ سَخَّرْنٰهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ.

তারপর যখন (যবেহ হয়ে যাওয়ার পর) তা (পশুগুলো) কাত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়, তখন তার গোশত হতে নিজেরাও খাও এবং ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও, এবং তাকেও, যে নিজ অভাব প্রকাশ করে এভাবেই আমি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর -সূরা হজ্ব (২২) : ৩৬

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-এর এক বর্ণনায় এসেছে-

فَكُلُوا وَادّخِرُوا وَتَصَدّقُوا.

খাও, সংরক্ষণ কর এবং সদকা কর’ -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭১

বিশেষ করে সঙ্কটকালীন এ মুহূর্তে আল্লাহ্র বান্দাদের প্রতি খেয়াল করা আমাদের বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে কুরবানী না করে অর্থ দানের অতি উপদেশনয়; বরং কুরবানী করে এর গোশতের অধিকাংশ বিলিয়ে দেওয়া এসময়ের কর্তব্য  এ আমাদের নবীজীর শিক্ষা হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْ ضَحّى مِنْكُمْ فَلاَ يُصْبِحَنّ بَعْدَ ثَالِثَةٍ وَبَقِيَ فِي بَيْتِهِ مِنْهُ شَيْءٌ، فَلَمّا كَانَ العَامُ المُقْبِلُ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، نَفْعَلُ كَمَا فَعَلْنَا عَامَ المَاضِي؟ قَالَ: كُلُوا وَأَطْعِمُوا وَادّخِرُوا، فَإِنّ ذَلِكَ العَامَ كَانَ بِالنّاسِ جَهْدٌ، فَأَرَدْتُ أَنْ تُعِينُوا فِيهَا.

তোমরা যারা (এবছর) কুরবানী করেছ তাদের বাড়িতে যেন তিন দিনের পরে কুরবানীর (গোশতের) কোনো অংশ অবশিষ্ট না থাকে (সাহাবীরা এমনটিই করলেন) পরের বছর কুরবানী এলে তারা জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ্র রাসূল! গত বছর যেমন করেছি (অর্থাৎ তিন দিনের পরে কুরবানীর আর কোনো গোশত জমা রাখিনি; বরং সব বিলিয়ে দিয়েছি) এবছরও কি তেমন করব? তখন নবীজী বললেন, (এ বছর) তোমরা (তিন দিনের পরেও) খেতে পার, জমা করেও রাখতে পার গত বছর মানুষের অভাব ছিল, তাই আমি চেয়েছিলাম, তোমরা (কুরবানীর গোশতের মাধ্যমে) মানুষকে সহায়তা কর, মানুষের পাশে দাঁড়াও -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৬৯

সুতরাং শুধু কুরবানীর গোশত দ্বারা নয়; সাধারণ দান-সদকার অর্থ দ্বারাও বিত্তবানরা অভাবীদের পাশে দাঁড়াবেন করুণা মনে না করে নিজের দায় থেকে তাদের প্রতি এগিয়ে আসবেন বিশেষ করে ঐসকল ব্যক্তি ও পরিবারের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন, যারা প্রয়োজনগ্রস্ত, অথচ নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করতে পারে না

 

কুরবানীতে লক্ষ্য রাখি পরিচ্ছন্নতার প্রতি

ইসলাম এমনিতেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার তালীম দেয় কুরবানী করার ক্ষেত্রেও আমরা সে বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখব কুরবানীর পর বর্জ্য-আবর্জনা যথাস্থানে ফেলব সম্ভব হলে পুঁতে ফেলব দুর্গন্ধ যাতে না ছড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখব আমার শহর-নগর, এলাকা-মহল্লা ও বাড়ির আঙিনা ইত্যাদি নিজ দায়িত্ব ও উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং দূষণমুক্ত রাখব যাতে আল্লাহ তাআলার এ হুকুম পালনের মাঝে ইসলামের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার শিক্ষারও প্রকাশ ঘটে এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সতর্কতা-সচেতনতার সাথে সাথে রাষ্ট্র এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক তৎপরতা কাম্য বিশেষ করে শহরগুলোর বর্জ্য অপসারণের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা খুবই সুসংহত হওয়া জরুরি আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন- আমীন

আইয়ামে তাশরীক : যিকির, তাকবীর ও পানাহারের দিন

নয় যিলহজ্ব ফজর থেকে নিয়ে তের যিলহজ্ব আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত এ সময়ের প্রত্যেক ফরয নামাযের পর নারী-পুরুষ সকলের জন্য একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব তাকবীরে তাশরীক হল-

اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الْحَمْدُ.

সর্বমোট পাঁচ দিন তাকবীরে তাশরীক বলা হলেও পরিভাষায় এগার, বার ও তের যিলহজ্বকে আইয়ামে তাশরীক বলা হয় (দ্রষ্টব্য. মাউসুআ ফিকহিয়্যা কুয়েতিয়্যা ৭/৩২৫)

কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ اذْكُرُوا اللهَ فِیْۤ اَیَّامٍ مَّعْدُوْدٰتٍ.

তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ কর -সূরা বাকারা (২) : ২০৩

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, এখানে اَیَّامٍ مَّعْدُوْدٰتٍ দ্বারা উদ্দেশ্য- আইয়ামে তাশরীক (দ্র. সহীহ বুখারী, বাবু ফাদলিল আমাল ফী আইয়ামিত তাশরীক)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

أَيّامُ التّشْرِيقِ أَيّامُ أَكْلٍ، وَشُرْبٍ، وَذِكْرِ اللهِ.

আইয়ামে তাশরীক পানাহার ও আল্লাহর যিকিরের দিন -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২০৭২২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৪১

তো দেখা যাচ্ছে, এ দিনগুলো বেশি বেশি তাকবীর ধ্বনি উচ্চকিত করার দিন সাহাবায়ে কেরাম এই দিনগুলোতে তাকবীর ধ্বনি তুলতেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ও হযরত আবু হুরাইরা রা. বাজারে গিয়ে তাকবীরের আওয়াজ তুলতেন শুনে শুনে লোকেরাও তাদের সাথে তাকবীরের ধ্বনি তুলত -সহীহ বুখারী, বাবু ফাদলিল আমাল ফী আইয়ামিত তাশরীক; ফাতহুল বারী ২/৪৫৭

অতএব আমরা এ দিনগুলোতে যিকির ও তাকবীর পাঠের খুব ইহতিমাম করব

হাদীসে এ-ও বলা হচ্ছে যে, এ দিনটি হল পানাহারের দিন ইমাম মুসলিম রাহ. এ হাদীসটি উল্লেখ করেন আইয়ামে তাশরীকে রোযা রাখা হারামঅধ্যায়ে যিলহজ্বের দশ তারিখ থেকে তের তারিখ পর্যন্ত রোযা হারাম করা হয়েছে পূর্বেই যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুরবানী হবে আল্লাহ্র জন্য আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে বান্দার জন্য তা হালাল করেছেন কুরবানীর গোশতকে নির্ধারণ করেছেন বান্দার আপ্যায়ন হিসাবে তাই আইয়ামে তাশরীকের রোযার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা যেন সেই মেহমানদারি কবুল করার অপূর্ব সুযোগ! একমাত্র আবদ ও মাবুদের প্রেম-ভালবাসা এবং মুমিন-অন্তরের গভীরে ঈমানী অনুভতিই কেবল অনুধাবন করতে পারে সেই আপ্যায়নের স্বর্গীয় মিষ্টতা! আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সেই অনুধাবন নসীব করুন- আমীন

আলহামদু লিল্লাহ, ইতিপূর্বে মাসিক আলকাউসারের যিলকদ ও যিলহজ্ব সংখ্যাগুলোতে যিলহজ্ব মাস, হজ্ব ও কুরবানী বিষয়ক অনেকগুলো প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ফাযায়েল ও গুরুত্ব, মাসায়েল ও আহকাম, তাত্তি¡ক বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ধরনের আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে সেখানে বিস্তারিত জানার জন্য আগ্রহী পাঠকবর্গের প্রতি সেগুলো দেখে নেওয়ার অনুরোধ রইল অনলাইনেও এসকল প্রবন্ধ-নিবন্ধের একটি সমন্বিত আয়োজন রাখা হয় পাঠকবর্গ চাইলে তা থেকেও উপকৃত হতে পারেন

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমল করার তাওফীক দান করুন এবং নিজ মেহেরবানীতে আমাদের আমলগুলো কবুল করে নিন- আমীন

 

 

advertisement