জুমাদাল উখরা ১৪৩১   ||   জুন ২০১০

মা অসম্ভবকে সম্ভব করেন

মুহাম্মাদ খালেদ

মা সন্তানকে যতই শাসন করুন তাঁর চেয়ে আপন আর কে আছে প্রথিবীতে? তাঁর ভালবাসা একটি স্পর্শই পারে পৃথিবীর সকল ভালবাসাকে ভুলিয়ে দিতে। মা সব সময় নিজেকে গোপন রাখেন, শুধু বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে তাঁর নিজেরও অজান্তে প্রকাশিত হয় সন্তানের জন্য হৃদয়-ভরা স্নেহ-ভালবাসা। এই মহার্ঘ মুহূর্ত সন্তানের জীবন একবার নয়, বারবার আসে। তবে সন্তান তা লক্ষ্য করে না এবং দেখেও দেখে না। আমার জীবনেও এমন অনেক মুহূর্ত এসেছিল এবং যথারীতি তা বিদায়ও নিয়েছে। তখন বুঝিনি কিন্তু এখন যখন মনে পড়ে তখন দু’ চোখ পানিতে ভরে যায়। একদিনের কথা কখনো ভুলব না। তখন আমি হেফযখানায় পড়ি। আমাদের রাতের খাবারের সময় ছিল আসরের পর। তাই আসরের নামাপ পড়ে বাসায় আসতাম এবং খাবার খেয়ে মাগরিবের আগেই মাদরাসায় ফিরে যেতাম। আম্মা প্রতিদিন আমার জন্য খাবার প্রস্তুত রাখতেন। একদিন এসে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছি। আম্মাকে ডাকছি, আম্মা সাড়া দিচ্ছেন না। পাক ঘরে গিয়ে দেখি তিনি যেন খুব লজ্জিত ও পেরেশান। আমি বললাম, আম্মা! আমি এখন চলে যাই, রাতে কিছু খেয়ে নিব। আম্মা ব্যাকুল হয়ে বললেন, না বাবা, একটু বস আমি ব্যবস্থা করছি। একটু পরে তিনি ভাত-তরকবারি সবই দস্তরখানে হাজির করলেন। আমার বুঝতে কষ্ট হল না যে, পাশের বাসা থেকে তিনি তা সংগ্রহ করে এনেছেন। আমি জানি, আমার আম্মার জন্য এটা কেমন কঠিন বিষয় ছিল, কিন্তু তা-ও তার জন্য সম্ভব হল শুধু সন্তানের কষ্টের কথা চিন্তা করে। আহা! সেদিন কেন বুঝিনি? আর আজও কেন পারছি না মায়ের হক্ব আদায় করতে? ইয়া আল্লাহ! মায়ের স্নেহের আঁচল আমার জন্য দীর্ঘায়িত কর। আর আমাকে তাওফীক দাও, মায়ের হক্ব আদায় করার।

 

advertisement