রবিউল আখির ১৪৩৬   ||   ফেব্রুয়ারি ২০১৫

এখন শীতকাল

জাবির আব্দুল্লাহ

শফীক মাত্র ফজরের নামায পড়ে এসেছে। কুরআন তিলাওয়াত করবে, কনকনে শীত আবার প্রচন্ড শৈত্যপ্রবাহ চলছে, তাই ভাল করে দরজাটা চাপিয়ে দিল। কুরআন তিলাওয়াতে শফীকের মনে শান্তি অনুভব হয় এবং আত্মার প্রশান্তি লাভ হয়। সেই শান্তির  মাঝে  যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে তাই আগ থেকেই দরজা ভাল করে বন্ধ করে বসেছে। আধা পৃষ্ঠা পড়তে না পড়তেই বশীর কী যেন নিতে বিকট শব্দে দরজা ঠেলে ঢুকল এবং দরজাটা খোলা রেখেই চলে গেল। অমনি হনহন করে ঘরে ঠান্ডা বাতাস ঢুকে পড়ল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও  শফীক পড়ার মাঝখান থেকে উঠে দরজা বন্ধ করল। দুই পৃষ্ঠা পড়তে না পড়তেই আবার বশীর ধরাম করে দরজা খুলে কামরায় প্রবেশ করল। এবারও দরজা বন্ধ না করেই চলে গেল। আবারও অনিচ্ছা সত্ত্বেও শীতের প্রকটতার কারণে শফীককে উঠতে হল এবং সে মনে কষ্ট পেল, বিরক্ত হল শফীকের অসচেতনতার কারণে।

কখনো কখনো আমরাও অন্যের জন্য এমন কষ্টের কারণ হই বা কষ্টকর অবস্থার সম্মুখীন হই। অথচ একটু খেয়াল করলেই অন্যকে কষ্টে ফেলার গোনাহ থেকে বাঁচতে পারি। তাছাড়া কামরায় প্রবেশের আদব হল, আগে সালাম দিয়ে অনুমতি প্রার্থনা করা, অনুমতি হলে ধীর-শান্তভাবে নিঃশব্দে প্রবেশ করা। দরজা যে অবস্থায় ছিল  সে অবস্থায় রাখা বা সময়ের বিবেচনায় খোলা বা বন্ধ রাখা। প্রয়োজনে ঘরে অবস্থানকারী থেকে জেনে নেয়া- কী করবে?

এ বিষয়টা শীত বা গরম সবসময় লক্ষণীয়, যাতে আমি কারো কষ্টের কারণ না হই বা আমার কারণে কারো কাজে ব্যাঘাত না ঘটে।

 

 

 

 

advertisement