জুমাদাল উখরা ১৪৩৫   ||   এপ্রিল ২০১৪

মায়ের মমতা মায়ের কষ্ট

 

সন্তানের কষ্ট মায়ের বুকে বাজে। মা কাঁদে। মায়ের চোখে অশ্রু ঝরে মমতার অশ্রু এবং বেদনার অশ্রু। মায়ের কষ্ট কি বাজে সন্তানের বুকে? সন্তান কি কাঁদে? তার চোখে কি অশ্রু ঝরে মায়ের দুঃখে? মা কত ভালোবাসেন সন্তানকে। সন্তান যদি তা বুঝতে পেতো। মা কত কাঁদেন সন্তানের জন্য, সন্তান যদি এক ফোঁটাও কাঁদতো মায়ের জন্য! মায়ের মুখে হাসি ফুটতো। তার বুকটা আনন্দে ভরে যেতো। কিন্তু মা যতটা উদার, সন্তান ততটাই উদাসীন। মায়েরমমতা ও মাতৃবেদনা কতটা গভীর অনেক সন্তানই তা জানে না। সন্তানের গর্ভব্যথা, প্রসব ব্যথা এবং জন্মের পর আরও কতশত ব্যথা সইতে হয় মাকে, পুরুষ যদি তার কিছুটাও ভুগতো হয়ত বুঝতো কাকে বলে মাতৃমমতা এবং মাতৃযাতনা।

মেয়েরা যখন শুধু মেয়ে থাকে তখন তারাও বোঝে না কেমন হয় মায়ের বুকের বেদনা এবং হৃদয়ের মমতা। এক সময় তার মাতৃত্ব তাকে বুঝিয়ে দেয় মায়ের মমতা এবং হৃদয়ের বেদনা কাকে বালে? 

আমিও এখন বুঝতে পারি। তাই কোন সন্তান যদি তার মায়ের মাতৃত্বকে অসম্মান করে সে আঘাত আমার যেন দিলে লাগে। আমার মাতৃহৃদয় চরমভাবে আহত হয়।  

মায়ের বুক ভরা আশা থাকে

সন্তানের জন্য। আশার এক একটি ইট দিয়ে মা তৈরি করেন স্বপ্নের প্রাসাদ। এই স্বপ্নবোনা শুরু হয় মায়ের মাতৃজীবনের সূচনালগ্ন থেকে এবং সেই স্বপ্নের জন্য মা তিলে তিলে ক্ষয় করেন নিজেকে।

একদিন সন্তান বড় হয়। কিন্তু সে বোঝে না মায়ের বুকের বেদনা। তাই মা যে স্বপ্নকে তিল তিল করে গড়ে তোলে কোনো কোনো সন্তান এক এক করে তা ভাঙতে থাকে। এভাবেই ভেঙে যায় মায়ের কষ্টে তৈরী স্বপ্ন-প্রাসাদ। সেই সঙ্গে মায়ের বুকটাও। ভাঙা বুক চিরে বের হয়ে আসে বেদনার দীর্ঘ নিঃশ্বাস।

বুকের বেদনা না হয়ে সন্তানের হওয়া উচিত মায়েরর বুকের সান্তনা। আমি কেন হতে পারি না আমার মায়ের চোখের শীতলতা? অথচ আমার সন্তানের কাছে আমার তো এটাই চাওয়া।

হে আল্লাহ! আমার মা, আমার

সন্তানের মা এবং পৃথিবীর সব মায়ের মনে তুমি শান্তি দাও। মায়েদের কষ্ট ও মনোবাসনা বুঝে চলার তাওফীক সন্তানদের দান করো। মায়ের বুকের বেদনা মুছে দিয়ে বুলিয়ে দাও সান্ত্বনার শীতল পরশ।

আলাহর দয়া

 

আল্লাহ কতভাবে দয়া করেন বান্দাকে। আল্লাহর দয়ার কথা শুনতে বড় ভালো লাগে। বলতে ভালো লাগে। লিখতেও ভালো লাগে। বান্দা অযোগ্য হতে পারে। অবুঝ ও অবোধ হতে পারে। কিন্তু যখন ডাকে ইয়া আল্লাহ! সঙ্গে সঙ্গে জবাব আসেও লাববাইক ইয়া আবদী!

আল্লাহর ছোট্ট এক বান্দা। তার ইচ্ছা হলো চকোলেট খাবে। জায়নামাজে দাঁড়ালো আল্লাহর সামনে। নামায পড়ে আল্লাহর কাছে চকোলেটের আব্দার জানাবে। ছোট্ট বান্দা সিজদায় গেলো আর আল্লাহর রহমতের দরিয়ায় জোশ এলো। আল্লাহ পাঠিয়ে দিলেন চকোলেট তার এক বান্দীকে উসীলা করে। চকোলেট পেয়ে ছোট্ট বান্দার আরও ছোট্ট মনটা খুশিতে ভরে ওঠলো। আল্লাহর প্রতি তার বিশ্বাস ও ভালোবাসা আরও সুদৃঢ় হলো।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সে যেন এ বিশ্বাসের উপর অটল থাকে-এ প্রার্থনাই তোমার কাছে হে আল্লাহ! ষ

(এ দুটি লেখার লেখকের নাম অজানা থাক।)

 

 

 

advertisement