শাহ নেওয়াজ - কানাইঘাট সিলেট

৫০৬০. প্রশ্ন

মুহতারাম মুফতী সাহেব দামাত বারাকাতুহুম! আমার দোকানের শপিং ব্যাগে বরকত ও মহব্বতের প্রকাশস্বরূপ এক পাশে ডিজাইন করে আল্লাহ ও অপর পাশে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লেখা। কিছুদিন আগে এক ভাই তা দেখে আপত্তি করেন। যে এতে নাকি আল্লাহ্র নামের অপব্যবহার ও অবমাননা হয়। জানার আগ্রহী যে, তার এ কথাটি ঠিক কি না? এটা নিয়ে এখন পেরেশানিতে আছি। সঠিক সমাধানটা দ্রুত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

শপিং ব্যাগ মানুষ সাধারণত সংরক্ষণ করে রাখে না। কখনো তা ফেলে দেয় আবার কখনো যত্রতত্র রেখে দেয়। তাই আপনার উদ্দেশ্য ভালো থাকলেও এ কাজ করা ঠিক হয়নি। এখন আপনার উচিত হবে ব্যাগগুলো ক্রেতাদের না দেওয়া। আর যদি দিতেই চান তবে সেগুলো থেকে অবশ্যই ‘আল্লাহ’ ও ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ লিখিত অংশটুকু মুছে দিতে হবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪২৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৬৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৬৬; আলবাহরুর রায়েক ১/২০২; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৬

শেয়ার লিংক

আব্দুর রহমান - বরিশাল

৫০৫৯. প্রশ্ন

আমাদের মাদরাসায় প্রতি বছর বার্ষিক ওয়ায মাহফিল করা হয়, মাহফিলে পুরুষদের প্যান্ডেলের পাশাপাশি মহিলাদের জন্যও ভিন্ন প্যান্ডেলের ব্যাবস্থা করা হয়। মহিলা সমাগমও প্রচুর পরিমাণে হয়। মহিলারা প্রজেক্টরের মাধ্যমে সরাসরি বক্তার ওয়ায দেখে দেখে শুনতে ইচ্ছুক। এখন হযরতের নিকট প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিলাদের ওয়ায শোনার ব্যবস্থা করা এবং তাদের জন্য মাহফিলে এসে এভাবে প্রজেক্টরের মাধ্যমে শোনা জায়েয হবে কি?

দলীলসহ বিস্তারিত জানালে খুবই উপকৃত হতাম। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

উত্তর

মহিলাদেরকে মাঠে-ময়দানে ডেকে এনে ওয়ায শোনানোর আয়োজনটাই শরীয়তসম্মত নয়। কেননা মহিলাদের ক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা হল, ইবাদত-বন্দেগী থেকে শুরু করে তাদের সকল কাজ পুরুষদের থেকে আলাদা হবে। তাদের অবয়ব ও চলাফেরা পুরুষদের দৃষ্টির আড়ালে থাকবে। পুরুষের জন্য যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামায মসজিদে এসে জামাতের সাথে আদায় করা শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ হুকুম। সেখানে নারীদেরকে গৃহাভ্যন্তরে নামায আদায় করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। মসজিদে নববীতে যেখানে এক রাকাত নামাযের ফযীলত এক হাজার রাকাত সমান। এর সাথে আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত ইমামের পেছনে নামায পড়ার সৌভাগ্য তো রয়েছেই। তা সত্ত্বেও সে সময় নারী সাহাবীদেরকে তাদের গৃহাভ্যন্তরের সর্বাধিক নির্জন স্থানে নামায পড়াকে উত্তম বলা হয়েছে। এর উল্টো এমন একটি হাদীসও নেই, যাতে মহিলাদেরকে সম্বোধন করে মসজিদে এসে জামাতের সাথে নামায পড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বা এর দিকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে-

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سُوَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَمّتِهِ أُمِّ حُمَيْدٍ امْرَأَةِ أَبِي حُمَيْدٍ السّاعِدِيِّ، أَنّهَا جَاءَتِ النّبِيّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أُحِبّ الصّلَاةَ مَعَكَ، قَالَ: قَدْ عَلِمْتُ أَنّكِ تُحِبِّينَ الصّلَاةَ مَعِي، وَصَلَاتُكِ فِي بَيْتِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلَاتِكِ فِي حُجْرَتِكِ، وَصَلَاتُكِ فِي حُجْرَتِكِ خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِكِ فِي دَارِكِ، وَصَلَاتُكِ فِي دَارِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلَاتِكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ، وَصَلَاتُكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلَاتِكِ فِي مَسْجِدِي، قَالَ: فَأَمَرَتْ فَبُنِيَ لَهَا مَسْجِدٌ فِي أَقْصَى شَيْءٍ مِنْ بَيْتِهَا وَأَظْلَمِهِ، فَكَانَتْ تُصَلِّي فِيهِ حَتّى لَقِيَتِ اللهَ عَزّ وَجَلّ.

উম্মে হুমাইদ রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার সাথে নামায পড়তে খুব পছন্দ করি। তিনি বললেন, আমি জানি তুমি আমার সাথে নামায পড়তে পছন্দ কর। কিন্তু জেনে রাখ, তোমার ঘরের ভেতরের নামায বাহিরের

কামরার নামাযের চেয়ে উত্তম। বারান্দার নামায চৌহদ্দির ভেতরের নামাযের চেয়ে উত্তম। চৌহদ্দির ভেতরের নামায তোমার এলাকার মসজিদে নামাযের চেয়ে উত্তম এবং তোমার এলাকার মসজিদের নামায আমার মসজিদের নামাযের চেয়ে উত্তম।

বর্ণনাকারী বলেন, তখন উম্মে হুমাইদ রা.-এর নির্দেশে ঘরের সবচেয়ে নিভৃতে এবং অধিক আড়ালে তার জন্য নামাযের স্থান বানানো হয়। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই নামায আদায় করছেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৭০৯০)

সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন-

إِنّمَا النِّسَاءُ عَوْرَةٌ، وَإِنّ الْمَرْأَةَ لَتَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهَا وَمَا بِهَا مِنْ بَأْسٍ، فَيَسْتَشْرِفُ لَهَا الشّيْطَانُ، فَيَقُولُ: إِنّكِ لَا تَمُرِّينَ بِأَحَدٍ إِلّا أَعْجَبْتِهِ، وَإِنَّ الْمَرْأَةَ لَتَلْبَسُ ثِيَابَهَا، فَيُقَالُ: أَيْنَ تُرِيدِينَ؟ فَتَقُولُ: أَعُودُ مَرِيضًا، أَوْ أَشْهَدُ جِنَازَةً، أَوْ أُصَلِّي فِي مَسْجِدٍ، وَمَا عَبَدَتِ امْرَأَةٌ رَبّهَا مِثْلَ أَنْ تَعْبُدَهُ فِي بَيْتِهَا .

নারীগণ আবরণীয়। কোনো নারী যখন নিজ ঘর থেকে বের হয় অথচ তার কোনো সমস্যা নেই; তখন শয়তান তার পিছু নেয় এবং বলতে থাকে, তুমি যার সম্মুখ দিয়ে যাবে তোমাকে তার ভালো লাগবে। আর কোনো মহিলা যখন কাপড় পরিধান করে তখন ঘরের লোকজন জিজ্ঞাসা করে তুমি কোথায় যাও? সে বলে যে, অমুক অসুস্থকে দেখতে যাই বা কারো জানাযা পড়তে যাই, অথবা বলে, মসজিদে নামাযে যাই। অথচ মহিলাদের কোনো ইবাদতই এর চেয়ে উত্তম নয়, যা সে নিজ গৃহে আদায় করে। (আলমুজামুল কাবীর তাবারানী, হাদীস ৮৯১৪; মাজমাউয যাওয়াইদ, বর্ণনা ২১১৮)

এ বর্ণনাগুলো থেকে স্পষ্ট যে, মহিলাগণ শরীয়তসম্মত প্রয়োজন ছাড়া কোনো ইবাদত-বন্দেগির জন্যও ঘর থেকে বের হয়ে অন্য কোথাও যাবে না।

তাছাড়া স্পষ্টত নবীযুগের নারীরা পরবর্তী যে কোনো যুগের নারী অপেক্ষা দ্বীন শেখার প্রতি অধিক আগ্রহী ছিলেন। তারা যে পন্থায় দ্বীন শিখেছেন মূলত সেটাই আমাদের অনুসরণীয়। সহীহ বুখারী ও সহীহ ইবনে হিব্বানে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার কিছুসংখ্যক নারী সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার মজলিসে পুরুষদের সাথে আমাদের জন্য আসা সম্ভব হয় না। আমাদের জন্য একটি দিন ধার্য করুন, যাতে সেদিনটিতে আমরা আপনার নিকট আসতে পারি। তিনি বললেন- مَوْعِدُكُنّ بَيْتُ فُلَانَةَ অর্থাৎ নির্ধারিত দিন অমুক মহিলার ঘরে জমায়েত হও। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে তাদেরকে ওয়ায নসীহত করলেন। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ২৯৪১; সহীহ বুখারী, হাদীস ১০১)

লক্ষ করার বিষয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের ওয়ায-নসীহত করার জন্য পুরুষদের দৃষ্টির আড়ালে বাড়ির ভেতর নির্জন স্থান নির্বাচন করেছেন। তাদের আবদারের প্রেক্ষিতে প্রকাশ্য স্থান যেমন মসজিদে নববী, ঈদগাহ বা ঘরের আঙ্গীনার কথা বলেননি। তিনি তাদেরকে বলেছেন- مَوْعِدُكُنّ بَيْتُ فُلَانَةَ ‘অমুক মহিলার ঘরে একত্রিত হও’।

উপরন্তু শরীয়ত অনুমোদিত প্রয়োজন ছাড়া বোরকা পরেও নারীদের জন্য পুরুষদের সমাগম স্থলে যাওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে, যেখানে আসা যাওয়ার পথে ও অনুষ্ঠান স্থলে পরপুরুষের সাথে মেলা-মেশার আশঙ্কা থাকে।

দ্বিতীয়ত শরীয়তের বিধান হল, স্বাভাবিক অবস্থায় মহিলাগণ পরপুরুষের দিকে তাকাবে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَقُلْ لِّلْمُؤْمِنٰتِ یَغْضُضْنَ مِنْ اَبْصَارِهِنَّ.

আর মুমিন নারীদেরও বলে দিন, তারা যেন (পরপুরুষ থেকে) তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে। [সূরা আননূর (২৪) : ৩১]

হাদীস শরীফে এসেছে, উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা রা. বর্ণনা করেন যে, একবার তিনি ও মাইমুনা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলেন। তিনি বলেন, তখন সেখানে (অন্ধ সাহাবী) আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম রা. আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমাদেরকে বললেন, তোমরা তার থেকে আড়াল হয়ে যাও। মাইমুনা রা. তখন বললেন, তিনি তো অন্ধ; আমাদেরকে দেখছেন না এবং চেনেনও না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-

أَفَعَمْيَاوَانِ أَنْتُمَا؟ أَلَسْتُمَا تُبْصِرَانِهِ؟

তোমরা দু’জনও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখছ না? (জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭৭৮)

প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিলাদের জন্য পুরুষ বক্তাকে দেখানোর আয়োজন কুরআন-হাদীসের এই বিধানগুলোরও খেলাফ।

প্রজেক্টরের মাধ্যমে ওয়ায দেখানোর ক্ষেত্রে বেগানা পুরুষকে দেখার বিষয়টি ছাড়াও আরো ফেতনার আশংঙ্কা রয়েছে। জানা কথা যে, বর্তমানে কোনো কোনো বক্তা নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যার কারণে তাকে সরাসরি দেখে কোনো যুবতী-নারী ফেতনায় পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মাহফিল কমিটির কর্তব্য হবে, মহিলাদের জন্য মাহফিলে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা থেকেই বিরত থাকা। কেননা এর দ্বারা মহিলাদের ব্যাপারে শরীয়তের অনেকগুলো বিধান ও নির্দেশনার লঙ্ঘণ হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা পুরেপুরি নাজায়েযের আওতায় চলে যেতে পারে। তাই নিজেদের আবেগ ও চাহিদা অনুযায়ী আমল না করে শরীয়ত নির্দেশিত পন্থায় এবং শরীয়তের চাহিদা অনুযায়ী আমল করাই মুসলমানদের করণীয়।

প্রকাশ থাকে যে, দ্বীনের জরুরি ইলম শিক্ষা করা নারীদের উপরও ফরয। তাদেরকে সঠিক ঈমান-আকীদা শিক্ষা দেওয়া, তালীম-তরবিয়ত করা খুবই দরকার। তবে এর পদ্ধতি হতে হবে অবশ্যই শরীয়তসম্মত। আর তা হল ঘরের পুরুষরা দ্বীন শিখে তাদের নারীদেরকে শেখাবে। এমনিভাবে বাড়িতে বাড়িতে ঘরোয়া দ্বীনী মাহফিল এবং ঘরোয়া দ্বীনী তালীমের আয়োজন করা। আর ঘর/বাসার কাছে অনাবাসিক তালীমুল বানাতের ব্যবস্থা থাকলে সেখানে গিয়ে দ্বীন শিখে আসতে পারে। এতে প্রত্যেক ঘরেই দ্বীনী তালীমের চর্চা হবে এবং ঘরে ঘরে দ্বীনী পরিবেশ কায়েম হবে- ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফ - আফতাব নগর, ঢাকা

৫০৫৮. প্রশ্ন

আত্মরক্ষার কৌশল (মার্শাল আর্ট, কারাতে) শেখার সময় শিক্ষকের সামনে মাথা ঝুঁকাতে হয় (শিক্ষককে সম্মান দেখানোর জন্য) এতে কি কোনো অসুবিধা আছে? থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা কী?

উত্তর

মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামী তরীকা নয়। হাদীস শরীফে এভাবে সম্মান প্রদর্শন করতে নিষেধ করা হয়েছে। আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন-

قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ الرّجُلُ مِنّا يَلْقَى أَخَاهُ أَوْ صَدِيقَهُ أَيَنْحَنِي لَهُ؟ قَالَ: لَا.

এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের কেউ তার ভাই বা বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে মাথা ঝুঁকাবে? তিনি উত্তরে বললেন, না। (জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭২৮)

তাই উক্ত পদ্ধতি পরিহারযোগ্য। ইসলামে অভিবাদনের জন্য শুধু সালামের শিক্ষা রয়েছে।

-মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/৪৯৮; ফয়যুল কাদীর ৫/৪৯৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রিয়াজ - নোয়াখালী

৫০৫৭. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ ডিসিম জমি দান করে। সেখানে একটি অনাবাসিক নূরানী মকতব প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুই-তিন বছর পর এলাকার মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে মাদরাসা কমিটি সিদ্ধান্ত নিল, মাদরাসার পাশাপাশি একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করবে। তাই কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে উক্ত ব্যক্তি দানকৃত জমি থেকে ৪ ডিসিম জমি মসজিদের জন্য দান করে এবং সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে।

আমার প্রশ্ন হল, উক্ত প্রক্রিয়াটি সঠিক হয়েছে কি না? ভুল হলে সংশোধনের উপায় কী? এবং এতদিন এলাকাবাসীর আদায়কৃত নামাযে  কোনো সমস্যা হবে কি না? মাদরাসা ও মসজিদে একই কমিটি ও পূর্বের কমিটি অপরিবর্তিত।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সহযোগী শুভাকাক্সক্ষী ও এলাকাবাসীর জন্য মসজিদের প্রয়োজন হয় অর্থাৎ আশপাশে সুবিধাজনক অবস্থানে কোনো মসজিদ না থাকে তাহলে মাদরাসা কমিটির জন্য ওই জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা বৈধ হয়েছে। এখন এটি মাদরাসা মসজিদ হিসেবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হবে। সুতরাং এতদিন এলাকাবাসীর আদায়কৃত নামায নিয়ে সংশয়ে ভোগার প্রয়োজন নেই। অবশ্য জমিদাতার জন্য প্রথমে ১০ ডিসিম জায়গা মাদরাসার জন্য দিয়ে পরে আবার সেখান থেকে ৪ ডিসিম জায়গা মসজিদের জন্য দেওয়া সঠিক হয়নি। কেননা মাদরাসার জন্য দেওয়ার পর জমিটি মাদরাসার মালিকানায় চলে গেছে। এতে জমিদাতার কোনো স্বত্ব বাকি থাকেনি।

-আলবাহরুর রায়েক ৫/২১৩; আলইখতিয়ার ২/৫১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৬৮; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৬৬

শেয়ার লিংক

সুলাইমান আহমদ - হবিগঞ্জ

৫০৫৬. প্রশ্ন

আমরা তিন বোন দুই ভাই। বেশ কয়েক বছর যাবৎ আমাদের মাতা-পিতার মাঝে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছিল। কিছুদিন আগে এই ঝগড়া আরো প্রকট আকার ধারণ করে এবং আমার পিতা আমার মাকে এক তালাকে বায়েন দিয়ে দেন। তালাকের কয়েকদিন পর আমার মা খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাস্তায় গাড়ি এক্সিডেন্টে আমার মা ইন্তেকাল করেন, আমরাও গুরুতর আহত হই। ইন্তেকালের সময় আমার মায়ের মালিকানাধীন বেশ কিছু জমি, কিছু নগদ অর্থ আর কিছু স্বর্ণালঙ্কার ছিল। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার মায়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে আমরা তিন বোন, দুই ভাই এবং আমাদের পিতা কে কতটুকু করে অংশ পাবে? মাসআলাটির সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার পিতা আপনার মায়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে কোনো অংশ পাবেন না। কেননা বায়েন তালাকের দ্বারা বিবাহ ছিন্ন হয়ে যায়। তাই বায়েন তালাকের ইদ্দতের মাঝে স্ত্রী মারা গেলে স্বামী ঐ স্ত্রীর ওয়ারিশ হয় না। সুতরাং আপনার পিতা কোনো মীরাছ পাবেন না।

প্রকাশ থাকে যে, আপনার মায়ের সম্পত্তি বণ্টনের আগে তার কোনো ঋণ আছে কি না- তা দেখতে হবে। থাকলে প্রথমে তা আদায় করতে হবে। এরপর বৈধ কোনো ওছিয়ত থাকলে এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে তা পুরা করতে হবে। এরপর অবশিষ্ট স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি তার ওয়ারিশদের মাঝে নিম্নোক্ত হারে বণ্টিত হবে।

তিন মেয়ের প্রত্যেকে ১৪.২৮৭৫% করে মোট ৪২.৮৫৭১%

দুই ছেলের প্রত্যেকে ২৮.৫৭১৪% করে মোট ৫৭.১৪২৮%।

-কিতাবুল আছল ৪/৩৯৭, ৬/৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/১৩৮; ফাতহুল কাদীর ৩/৩৭৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৭৪

শেয়ার লিংক

যাহিদ হাসান - ময়মনসিংহ

৫০৫৫. প্রশ্ন

শরীয়ত মোতাবেক হালালভাবে মুরগি জবাইয়ের কিছু বিষয় জানার আবেদন করছি। বিষয়গুলো হল-

১. ইসলামী শরীয়তে মুরগি জবাই সহীহ হওয়ার শর্তগুলো কী কী?

২. মুরগি জবাইয়ের সুন্নত ও উত্তম পদ্ধতি কী?

৩. আড়াই পোঁচে মুরগি (বা অন্য হালাল প্রাণী) জবাই করা কি শর্ত?

৪. একা একা মুরগি জবাই করা যাবে কি?

৫. মুরগির রানের গোস্তের ভেতর কোনো হারাম (রগ বা অন্য কিছু) অংশ আছে কি? থাকলে অংশটা বা রগটা চিনব কী করে?

৬. stunner সিস্টেম ব্যবহার করে মুরগি অচেতন করে জবাই করা যাবে কি? stunner সিস্টেম হল, ৪০ঠ অঈ কারেন্ট একটি পানির পাত্রে দেওয়া হয়। এরপর ঝুলন্ত মুরগির মাথা ঐ পানির ভেতর ১০ সেকেন্ড পরিমাণ থাকে। এতে করে মুরগি অচেতন হয়ে যায়। কিন্তু মারা যায় না। এরপর মুসলমান ব্যক্তি জবাই করে। stunner ব্যবহার করার কারণে তাদের

কথা অনুযায়ী মুরগি জবাইয়ের কাজে মানবীয় দিক লক্ষ রাখা যায়। এতে করে রক্ত ভালভাবে প্রবাহিত হয়। সহজে মুরগি জবাই করা যায়। পশুর কল্যাণের প্রতি লক্ষ রাখা যায়।

বি. দ্র. জ্ঞানহারা হওয়ার দুই মিনিট ৩০ সেকেন্ড পর মুরগি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

অতএব বিনীত আবেদন এই যে, উক্ত বিষয়গুলোর সমাধান ইসলামী শরীয়া মোতাবেক দলীলসহকারে দেওয়ার জন্য আপনার সুমর্জি কমনা করছি।

উত্তর

মুরগী বা অন্যান্য পশু-পাখির জবাই সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে, জবাইকারী মুসলমান কিংবা আহলে কিতাব তথা কোনো আসমানী কিতাবের অনুসারী এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বুঝমান ব্যক্তি হওয়া। জবাইয়ের শুরুতে আল্লাহ তাআলার নাম উচ্চারণ করা এবং কোনো ধারালো বস্তু দ¦ারা গলার দিক থেকে জবাই করা এবং  শ্বাসনালি , খাদ্যনালি ও দুইি শাহরগের অন্তত একটি কেটে রক্ত প্রবাহিত করত জবাই সম্পন্ন করা। এসব শর্তের কোনোটি না পাওয়া গেলে জবাই সহীহ হবে না এবং সে প্রাণী খাওয়াও জায়েয হবে না। অবশ্য উপরোক্ত শর্ত পাওয়া যায়, এমন কেউ যদি জবাইয়ের সময় আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ করতে ভুলে যায় তাহলে জবাই সহীহ হবে। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃত আল্লাহ্র নাম ছেড়ে দেয় তাহলে উক্ত জবাই সহীহ হবে না। (সূরা মায়েদা (৫) : ৩-৫; সূরা আনআম (৬) : ১২১; সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫০৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৮৮৮; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৮৫৭৮, ৮৫৪১ ও ৮৫৫৬; তাফসীরে তাবারী ৪/৪৪০; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৭)

আর জবাইয়ের জন্য একাধিক ব্যক্তি হওয়া জরুরি নয়, একজনও জবাই করতে পারবে। এমনিভাবে আড়াই পোঁচে জবাই করাও জরুরি নয়। এটি একটি ভুল প্রচলন। মাসআলা হচ্ছে, রগ কেটে রক্ত প্রবাহিত করে দেয়া, তা যত পোঁচেই হোক। তবে জবাইয়ের ক্ষেত্রে ধারালো অস্ত্র ব্যবহর করবে। যেন প্রাণীর অধিক কষ্ট না হয়।

উপরোক্ত শর্তগুলো ছাড়াও জবাইয়ের কিছু আদব ও মুস্তাহাব রয়েছে। সুন্নাহসম্মত ও  উত্তমপন্থায় জবাই করতে চাইলে সে বিষয়গুলোর প্রতিও লক্ষ রাখা উচিত। যেমন-

১. প্রাণীকে প্রয়োজন অতিরিক্ত কষ্ট না দেওয়া। তাই প্রাণী ধরা, শোয়ানো ও জবাইয়ের কাজগুলো এভাবে করা উচিত যেন প্রাণীর অতিরিক্ত কষ্ট না হয়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৫৫; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৮৬০৯)

২. জবাইয়ের সময় পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে কিবলামুখী করে বাম কাতে শোয়ানো এবং জবাইকারীর কিবলামুখী হয়ে জবাই করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৮৫৮৭)

৩. জবাইয়ের জন্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِنّ اللهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ، وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذّبْحَ، وَلْيُحِدّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ، فَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ.

আল্লাহ তাআলা সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পাদন করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব যখন তোমরা হত্যা করবে তো উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা কর। যখন যবেহ করবে তো উত্তম পদ্ধতিতে যবেহ কর। প্রত্যেকে তার ছুরিতে শান দেবে এবং তার পশুকে শান্তি দেবে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৫৫)

৪. প্রাণীর সামনে অস্ত্র ধার না দেওয়া এবং এক প্রাণীর সামনে আরেক প্রাণী জবাই করা থেকে বিরত থাকা।

আবু হুরাইরা রা. বলেন-

إِذَا أَحَدّ أَحَدُكُمُ الشّفْرَةَ فَلَا يُحِدّهَا وَالشَاةُ تَنْظُرُ إِلَيْهِ.

কেউ যেন প্রাণীর দৃষ্টির সামনে ছুরিতে শান না দেয়। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৮৬০৬, ৮৬১০)

৫. দক্ষ ও পারদর্শী লোকের মাধ্যমে দ্রুত জবাইয়ের কাজ শেষ করা।

৬. শুধু গলার রগগুলো কেটেই ক্ষান্ত থাকা।

গর্দান বা পূর্ণ মাথা বিচ্ছিন্ন না করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৮৬০০)

৭. পুরোপুরি নিস্তেজ না হওয়া পর্যন্ত কাটা-ছেলা ও এজাতীয় অন্যান্য কাজ থেকে বিরত থাকা। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৮৮-৯০; আলমাবসূত, সারাখসী ১১/২২৬; আলইখতিয়ার ৪/২৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৪৭

৫ নং প্রশ্নের উত্তর : না, মুরগীর রানের গোস্তের ভিতর হারাম কোনো রগ বা নাজায়েয কিছু নেই। রানের গোস্তের পুরোটাই হালাল। তা খেতে অসুবিধা নেই।

৬ নং প্রশ্নের উত্তর : মেশিনের মাধ্যমে মুরগী জবাই করার পূর্বে মুরগীকে অজ্ঞান করার যে পদ্ধতি অবলম্বন করার কথা প্রশ্নে বলা হয়েছে তাতে বাহ্যত কোনো অসুবিধা ছিল না। কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষকের বক্তব্য হল, এ পদ্ধতিতে জবাইয়ের পূর্বে অনেক মুরগী মারা যায়। তাই অনেক আলেম অজ্ঞান করার এ প্রক্রিয়াকে অপছন্দ করেছন। তথাপি কেউ যদি এই পদ্ধতি অবলম্বন করে তবে প্রত্যেক মুরগীর বিষয়ে জবাইয়ের পূর্বে নিশ্চিত করে নিতে হবে- তা আদৌ জীবিত আছে কি না। অসতর্কতাবশতঃ কোনো মৃত মুরগী যেন মানুষের খাদ্য হিসাবে পরিবেশিত না হয়।

উল্লেখ্য, আধুনিক পদ্ধতিতে মেশিনের মাধ্যমে যেহেতু অল্প সময়ে অনেক মুরগী জবাই করা হয় তাই এক্ষেত্রে প্রত্যেক মুরগীর জন্য পৃথক পৃথক বিসমিল্লাহ বলার ক্ষেত্রে অবহেলার কথা শোনা যায়। তাই এক্ষেত্রেও প্রতিটি মুরগীর জবাইয়ের সময় স্বতন্ত্র বিসমিল্লাহ বলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো প্রকার অবহেলা করা যাবে না। কেননা প্রত্যেক প্রাণীর জন্য পৃথক বিসমিল্লাহ বলা ছাড়া প্রাণী হালালই হয় না। তাই সংশ্লিষ্টদের এধরনের বিষয়গুলো নির্ভরযোগ্য আলেমদের থেকে জেনে নিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

-মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা ১০, ১/৬৫৪; ফিকহুন নাওয়াযিল ৪/২৫১

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - উত্তরা, ঢাকা

৫০৫৪. প্রশ্ন

জনাব আসসালামু আলাইকুম। এক ব্যক্তি অনিয়ম করে কিছু টাকা আয় করেছে, যা সরকারি ফান্ডে জমা করা উচিত ছিল। কাজটি অন্যায় বোধোদয় হওয়ার পর ঐ টাকা সরকারি ফান্ডে জমা দেওয়ার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়। আমি দীর্ঘদিন খোঁজ-খবর নিয়ে টাকাগুলো সরকারি কোনো ফান্ডে জমা দেয়ার দৃশ্যমান কোনো উপায় খুঁজে পাইনি।

এছাড়া সরকারের কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে (যেমন রাস্তা মেরামত, টিউবওয়েল বসানো ইত্যাদি) ব্যয় করার সুযোগও খুঁজে পাইনি। তাই কয়েকজন অত্যন্ত গরীব অসহায় রোগীর তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য ঐ টাকা থেকে কিছু টাকা খরচ করেছি। বাকি টাকা এ ধরনের অসহায় রোগীর চিকিৎসা বা অসহায় এতীমগণের ভরণ-পোষণ বা গরিব নতুন মুসলমানকে সাহায্য করে খরচ করতে চাই। কেননা আমার মনে হয়, এসকল খাতে খরচ করাও সরকারের দায়িত্ব। এই টাকা এইভাবে খরচ করা ঠিক হবে কি না দয়া করে জানাবেন। এছাড়া অন্য কোনো সহজ উপায় থাকলে মেহেরবানী করে জানাবেন।

উত্তর

শ্নের বর্ণনা অনুযায়ী এ টাকা থেকে গরিব-অসহায়ের চিকিৎসা খরচ দেওয়া ঠিক হয়েছে। আর এখন বাকি টাকাও গরিব-মিসকীনদেরকে দিয়ে দিলে দায়মুক্ত হয়ে যাওয়ার আশা করা যায়। আর বিগত দিনে খেয়ানতের জন্য খাঁটি দিলে আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার সংকল্প রাখতে হবে।

-আলজামে লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ৩/২৩৭; আলইখতিয়ার ২/৫৬৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৬০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১৫৭; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪৯; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৫

শেয়ার লিংক

আব্দুল হামীদ - নারায়ণগঞ্জ

৫০৫৩. প্রশ্ন

আমি বিকাশের একজন এজেন্ট। অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে আমার দোকানে আসে। কেউ ক্যাশ আউট করতে আসলে বিকাশ এজেন্টগণ সাধারণত প্রতি হাজারে খরচ বাবদ ২০ টাকা রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে নির্ধারিত চার্জ হল ১৮.৫০। এখানে এজেন্টগণ ১.৫০ অতিরিক্ত লাভ গ্রহণ করে। আবার কারো ক্যাশ আউটের পরিমাণ বেশি হলে তাকে সেন্ড মানি করতে বলা হয়। এখানেও খরচ হিসেবে প্রতি হাজারে ২০ টাকা করে রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে সেন্ড মানির জন্য নির্ধারিত চার্জ হল পাঁচ টাকা। এক্ষেত্রে ২০ টাকা পুরোটাই অতিরিক্ত গ্রহণ করে থাকে। আর বলে- আমাদের তো টাকা ওঠাতে এত টাকা খরচ হবে। তাই আপনার থেকে রাখলাম। এক্ষেত্রে অনেকেই পরবর্তীতে ক্যাশ আউট না করে অন্যভাবে উক্ত টাকা ব্যবহার করে থাকে। অতএব হুযুরের কাছে উক্ত কারবারদুটির শরয়ী বিধান জানতে চাচ্ছি।

উত্তর

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের চার্জসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হয়। এর অতিরিক্ত কোনো টাকা দোকানী/এজেন্ট কর্তৃক নেওয়া আইনতও নিষেধ আর শরীয়তের দৃষ্টিতেও নাজায়েয। কারণ এজেন্ট মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানীর পক্ষ থেকে নিযুক্ত প্রতিনিধি বা উকীল। আর প্রতিনিধিরা দায়িত্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বাইরে অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করা রিশওয়াত তথা উৎকোচের অন্তর্ভুক্ত, যা শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর কেউ ক্যাশ আউট করতে আসলে তাকে পার্সোনাল নাম্বারে সেন্ড মানি করতে বলাও নীতি বহির্ভূত অন্যায় কাজ। এক্ষেত্রে এজেন্ট যদি পরবর্তীতে বাস্তবেই ক্যাশ আউট না করে তাহলে গ্রাহক থেকে ক্যাশ আউটের চার্জ গ্রহণ করাও জায়েয নয়। কারণ এজেন্ট পরবর্তীতে এ টাকা যদি কোথাও সেন্ড করে অথবা তা পণ্য খরিদ/মোবাইল রিচার্জ ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করে তাহলে তার কোনোই খরচ হবে না। তাই অতিরিক্তও নিতে পারবে

না।

-শরহু আদাবিল কাযী, খাসসাফ ২/২৫-২৬; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৫/১৪০; ইলাউস সুনান ১৫/৬৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হুমায়ূন - গোপালগঞ্জ

৫০৫২. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমি একটি দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের খাদেম। বছরের শুরুতে বা শেষে তাফসীলি সাফাইয়ের পর ছাত্র ভাইয়েরা যে ময়লা আমাকে ফেলার জন্য দেয়, তাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কলম, পেন্সিল, রাবারজাতীয় জিনিসপত্র থাকে। এগুলো তাদেরকে রেখে দিতে বললে তারা রাখতে চায় না; বরং জানায়- ‘এগুলো সারা বছর কামরায় পড়ে থাকে। কেউ নেয় না। খোঁজও করে না। আপনি চাইলে এগুলো রেখে দিতে পারেন কিংবা ফেলেও দিতে পারেন।’ মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, আমি কি এগুলো ব্যবহার করতে পারব?

উত্তর

এগুলো যেহেতু মালিকের পক্ষ থেকে খোঁজা বা চাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাই আপনি চাইলে তা নিজেও ব্যবহার করতে পারবেন। কিংবা কাউকে দিয়ে দিতে পারবেন।

-মুখতারাতুন নাওয়াযিল ২/৩১৯; ফাতহুল কাদীর ৫/৩৫২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/২৯০; রদ্দুল মুহতার ৪/২৭৮

শেয়ার লিংক

রুবেল হোসেন - নাটোর

৫০৫১. প্রশ্ন

বাড়িতে যাওয়ার সময় যাত্রাপথে আমাদের গাড়ি একটি হোটেলের সামনে থামে। হোটেলের বাইরে একটি অস্থায়ী স্টোর বসেছিল। সেখানে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানীর পণ্য নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০ টাকা বেশিতে বিক্রি করা হচ্ছিল। সাথে ছিল স্ক্র্যাচ কার্ড। পুরস্কার হিসাবে সাজানো ছিল রেইন কোর্ট, আকর্ষণীয় ছাতা ইত্যাদি। অনেকে লাভের আসায় ১০ টাকা বেশি দিয়ে পণ্যটি ক্রয় করছিল। অথচ সে একই পণ্য পাশের দোকানগুলোতে

নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান কী? এরকম ক্রয়-বিক্রয়ে অংশগ্রহণে কোনো অসুবিধা আছে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী স্ক্র্যাচ কার্ডের আশায় স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এক প্রকারের জুয়া। কেননা এখানে মানুষ অতিরিক্ত মূল্যে পণ্যটি খরিদ করছে পুরস্কার পাওয়ার আশায়। আর পুরস্কার পাওয়াটা অনিশ্চিত। ক্রেতা পুরস্কার পেতে পারে, নাও পেতে পারে। আবার পেলেও তা কম বা বেশি যে কোনো মূল্যের হতে পারে। যা মূলত জুয়ারই বৈশিষ্ট্য। তাই এই ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

-মাআলিমুস সুনান ৩/৪০; ফাতহুল কাদীর ৪/২৮৪; আলফাতাওয়াশ শারইয়্যাহ ১১/৩৯৬

শেয়ার লিংক

হাসানুল হক বান্না - নাড়িয়া, শরিয়তপুর

৫০৫০. প্রশ্ন

আমার বড় ভাই কুয়েতে থাকেন। আমার বড় ভগ্নিপতির ভাগ্নির সাথে তার বিবাহ ঠিক হয়। তিনি আমার ভগ্নিপতিকে ওকীল বানিয়ে দেন, যেন তিনি তার বিবাহটা পড়িয়ে দেন। ৫ লক্ষ টাকা দেন মহরের কথা হয়। কিন্তু বিবাহের মজলিসে মেয়ে পক্ষের জোরাজোরিতে আমার ভগ্নিপতি আরো দেড় লক্ষ টাকা বাড়িয়ে দেন। এক্ষেত্রে তিনি আমার ভাইয় থেকে পুনরায় অনুমতি নেননি এবং আমার বাবা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাকেও কিছু জিজ্ঞেস করেননি। কারণ তিনি জানতেন, আমার বাবা মহর বাড়িয়ে দিতে রাযি হবেন না। আমার ভাই এখনো কুয়েত থেকে আসেননি। আরো দুই মাস পরে আসার কথা। এখন আমার জানার বিষয় হচ্ছে, আমার বড় ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া মহর বৃদ্ধি করার কারণে তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? যদি হয় তাহলে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা কার উপর জরুরি? আমার ভাইয়ের উপর নাকি আমার ভগ্নিপতির উপর?

উল্লেখ্য, ঐ মেয়ের মহরে মিসিল বর্তমান বাজারে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মতো।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ভগ্নিপতির জন্য আপনার ভাইকে না জানিয়ে মহর বৃদ্ধি করা ঠিক হয়নি। এখন যদি আপনার ভাই বিষয়টি মেনে নেন তাহলে পূর্ণ ছয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকাই মহর হিসেবে গণ্য হবে এবং পুরোটা আপনার ভাইকেই পরিশোধ করতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে,  এক্ষেত্রে আপনার ভাইয়ের জন্য বর্ধিত মহর অনুমোদন না দেওয়ার এখতিয়ার আছে। সেক্ষেত্রে যদি কনে আপনার ভাইয়ের রাজি হওয়া মহরে একমত হয় তাহলে উক্ত বিবাহ বহাল থাকবে, অন্যথায় আপনার ভাই উক্ত বিবাহ প্রত্যাখ্যান করে দিতে পারবে।

-কিতাবুল আছল ১০/২০২; ফাতহুল কাদীর ৩/২০২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৪৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/১৫০

শেয়ার লিংক

বিনতে আবদুস সালাম - কল্যাণপুর, ঢাকা

৫০৪৯. প্রশ্ন

আমার বিয়ের সময় আত্মীয়স্বজন ও বান্ধবীগণ আমাকে বিভিন্ন জিনিস গিফট করেন। যার মধ্যে বেশ কিছু সোনার গয়নাও ছিল। বর্তমান যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা এবং বিয়ের সময় আমার মহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা বিয়ের সময় নগদ আদায় করা হয়। আর বাকি ১ লক্ষ ১০ হাজার পরে আদায় করার কথা রয়েছে। কিছুদিন আগে আমার বিয়ের ১ বছর পূর্ণ হয়েছে। এখন আমি আমার গয়নার যাকাত দিতে চাচ্ছি।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আমি যখন গয়নার যাকাত আদায় করব তখন কি আমাকে এই ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনাদায়ি মহরেরও যাকাত আদায় করতে হবে?

উত্তর

না, অনাদায়ি মহরের উপর যাকাত আসে না। মহরের টাকা হস্তগত হওয়ার পর থেকেই তা যাকাতযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তাই আপনাকে যাকাতের হিসাবের সময় অপরিশোধিত মহরের হিসাব করতে হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৪৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৩৮; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৪৩২; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১৮৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৫

শেয়ার লিংক

জোবায়ের আহমদ - গোপালগঞ্জ

৫০৪৮. প্রশ্ন

গোপালগঞ্জ শহরে আমার একটি মটর সাইকেলের শোরুম রয়েছে। আমার দোকানে প্রায়ই বিভিন্ন লোক সাহায্য চাওয়ার জন্য আসতে থাকে। আমি তাদেরকে টাকা দেওয়ার সময় যাকাতের নিয়ত করে দিই এবং তার হিসাব নির্ধারিত খাতায় লিখে রাখি। বছরের শেষে যখন আমার মোট সম্পদের যাকাত হিসাব করা হয়, তখন তা পূর্বের দেয়া টাকা যাকাতের নির্ধারিত পরিমাণের কম হলে (সাধারণত তাই হয়ে থাকে) বাকি টাকা আদায় করে দিই।

হুজুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আমার এইভাবে যাকাত আদায় করা কি শরীয়তসম্মত হচ্ছে? বছর শেষ হওয়ার আগের বিভিন্নজনকে দেয়া টাকা আমার জন্য যাকাত হিসাবে গণ্য করা বৈধ হবে?

উত্তর

বছরের শুরুতে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই অগ্রিম যাকাত আদায় করা জায়েয আছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে আপনার দেয়া যাকাত সহীহভাবেই আদায় হয়েছে। হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত আছে-

أَنّ العَبّاسَ سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فِي تَعْجِيلِ صَدَقَتِهِ قَبْلَ أَنْ تَحِلّ، فَرَخّصَ لَهُ فِي ذَلِكَ.

‘হযরত আব্বাস রা. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বর্ষ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে অগ্রিম যাকাত আদায় করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে এ বিষয়ের অনুমতি প্রদান করেন।’ (জামে তিরমিযী, হাদীস ৬৭৮)

-কিতাবুল আছল ২/১২৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৯১; ফাতহুল কাদীর ২/১৫৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৪

শেয়ার লিংক

লাবীব - চাঁদপুর

৫০৪৭. প্রশ্ন

গত রমযানে একদিন অযু করছিলাম। কুলি করার সময় হঠাৎ গলার ভেতরে পানি চলে যায়। অনিচ্ছাকৃত এমনটি ঘটেছে বিধায় সারাদিন রোযা অবস্থাতেই ছিলাম। আমার উক্ত রোযা কি শুদ্ধ হয়েছে? যদি শুদ্ধ না হয়ে থাকে তাহলে এখন আমার জন্য করণীয় কী?

উত্তর

রোযার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবেও গলার ভেতরে পানি চলে গেলে রোযা ভেঙ্গে যায়। তাই আপনার ঐ দিনের রোযা শুদ্ধ হয়নি। উক্ত রোযার কাযা করে নিতে হবে। তবে রোযাটি আদায় না হলেও বাকি দিন পানাহার থেকে বিরত থাকা নিয়ম সম্মতই হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে রমযানের সম্মানে পানাহার থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৯৫৮০; কিতাবুল আছল ২/১৫০ বাদায়েউস সানায়ে ২/২৩৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৮; ফাতহুল কাদীর ২/২৮২

শেয়ার লিংক

শহীদ - টাঙ্গাইল

৫০৪৬. প্রশ্ন

তিন বছর আগে আমি এক ব্যক্তি থেকে আমাদের বাজারে এক কাঠা জায়গা ক্রয় করি। এখন সেখানে একটি দোকান করতে চাচ্ছি। কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলল, এখানে প্রায় চল্লিশ বছর আগের একটি কবর আছে। এমতাবস্থায় আমি কি ঐ জায়গায় দোকান করতে পারব?

উত্তর

হাঁ, উক্ত জায়গায় আপনি দোকান করতে পারবেন। কেননা ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় কবর দেওয়া হলে এবং পুরাতন হওয়ার কারণে লাশ মাটির সাথে মিশে গেছে বলে প্রবল ধারণা হলে ঐ কবর সমান করে তাতে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করা জায়েয। এমনিভাবে অন্য কাজেও তা ব্যবহার করা জায়েয।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫২৪; উমদাতুল কারী ৪/১৭৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৮৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৮

শেয়ার লিংক

উম্মে ফারহান - পল্লবী, ঢাকা

৫০৪৫. প্রশ্ন

মহিলাদের জন্য যিয়ারতের উদ্দেশ্যে কবরস্থানে যাওয়া জায়েয আছে কি না?

উত্তর

হাঁ, মহিলাদের জন্য কিছু শর্তসাপেক্ষে কবর যিয়ারত করা জায়েয। তবে নিয়মিত কবরস্থানে না যাওয়াই উত্তম। কেননা মহিলাদেরকে গৃহাভ্যন্তরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কখনো গেলে নিম্নোক্ত শর্তাদির প্রতি খেয়াল রাখবে।

১. কবরস্থানে গিয়ে কান্নাকাটি, বিলাপ ইত্যাদি করতে পারবে না।

২. পূর্ণ পর্দার সাথে বের হবে।

৩. যাতায়াত নিরাপদ হতে হবে। কোনো প্রকারের গুনাহে পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকলে যাবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; রদ্দুল মুহতার ২/২৪২; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩৪০; বযলুল মাজহুদ ১৪/২০৪

শেয়ার লিংক

রহমাতুল্লাহ - নড়াইল

৫০৪৪. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক মুরব্বী মৃত্যুর পূর্বে তার এক বন্ধুকে জানাযা পড়ানোর অসিয়ত করে যান। কিন্তু তার ছেলে এই অসিয়তের কথা জানা সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে অন্য হুজুরকে দিয়ে জানাযা পড়ান। পরে এ নিয়ে তার আত্মীয়দের মাঝে মতবিরোধ তৈরি হয়ে যায়, ছেলে তার বাবার অসিয়ত পালন করেনি, অথচ অসিয়ত পালন করা জরুরি। জানার বিষয় হল, শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে এ অসিয়ত পালন করা কি জরুরি ছিল? এবং এ কাজের কারণে কি তার অন্যায় হয়েছে?

উত্তর

জানাযার ইমামতি কে করবে তার বিবরণ ও নির্দেশনা শরীয়তে রয়েছে। তাই কাউকে নিজ জানাযা পড়ানোর অসিয়ত করে গেলে তা পালন করা তার অভিভাবকের জন্য জরুরি হয়ে যায় না। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মৃতের অসিয়ত পালন না করার কারণে আত্মীয়দের কোনো গুনাহ হয়নি। অতএব এ নিয়ে সমালোচনা করা ঠিক নয়। তবে যাকে জানাযা পড়ানোর অসিয়ত করা হয়েছে তিনি যদি উপযুক্ত হন এবং যারা জানাযার হকদার তারা যদি নিজে না পড়িয়ে তাকে সুযোগ দেন তাহলে এতেও দোষের কিছু নেই।

-উয়ূনুল মাসাইল পৃ. ৩১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১১০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২২; আননাহরুল ফায়েক ১/৩৯১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/২২১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশিক - কুমিল্লা

৫০৪৩. প্রশ্ন

আমার পিতা বার্ধক্যজনিত কারণে হাঁটতে সক্ষম নন। মৃত্যুর পূর্বে তার শেষ ইচ্ছা তিনি হজ্ব করবেন। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল,

ক. হুইল চেয়ারে তাকে তাওয়াফ করালে তাঁর তাওয়াফ কি আদায় হবে? এবং এর কারণে কোনো দম বা সদকা আবশ্যক হবে কি?

খ. আমি যখন তাকে হুইল চেয়ারে তাওয়াফ করাব তখন এর দ্বারা কি আমার তাওয়াফ আদায় হবে, নাকি আমাকে পুনরায় পৃথক তাওয়াফ করতে হবে?

উত্তর

ক. হাঁ, হেঁটে তাওয়াফ করতে অক্ষম মাযূর ব্যক্তির জন্য হুইল চেয়ারে তাওয়াফ করা জায়েয। এর দ্বারা তার তাওয়াফ আদায় হয়ে যাবে। আর এ কারণে কোনো দম বা সদকা ওয়াজিব হবে না।

প্রকাশ থাকে যে, হেঁটে তাওয়াফ করতে সক্ষম ব্যক্তির জন্য হুইল চেয়ারে তাওয়াফ করা জায়েয নয়। এমন কোনো ব্যক্তি হুইল চেয়ারে তাওয়াফ করলে তার তাওয়াফই সহীহ হবে না। সুতরাং নতুন করে আবার হেঁটে তাওয়াফ করে নিতে হবে। যদি তা না করে তবে তাকে দম আদায় করতে হবে। -মুখতাসাতুত তাহাবী পৃ. ৬৪; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৪৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০৭; আলবাহরুল আমীক ২/১১৪৩ গুনয়াতুন নাসিক পৃ.২৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪৭

খ. হুইল চেয়ারে আপনার পিতাকে তাওয়াফ করানোর সময় নিজে তাওয়াফের নিয়ত করে নিলে আপনার তাওয়াফও আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে পৃথকভাবে আবার তাওয়াফ করতে হবে না। -মুখতাসারুত তাহাবী পৃ. ৬০; আততাজরীদ, কুদূরী ৪/১৮৭৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৪৯

শেয়ার লিংক

মুনিরুজ্জামান - জামালপুর

৫০৪২. প্রশ্ন

জামাতে নামায আদায় করা অবস্থায় মাঝে মাঝে আমার তাশাহহুদ শেষ হওয়ার আগেই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান।

এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী? আমি কি তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াব, না তাশাহহুদ অসমাপ্ত রেখেই ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাব?

উত্তর

মুক্তাদীর জন্য তাশাহহুদ পূর্ণ করা আবশ্যক। তাই তাশাহহুদ শেষ হওয়ার পূর্বেই যদি ইমাম তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান, তাহলে মুক্তাদী নিজের তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াবে। তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে যাবে না।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৫৯; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১০৮; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৯৯; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫২৭; রদ্দুল মুহতার ২/১২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমজাদ আলী - বগুড়া

৫০৪১. প্রশ্ন

আমি একজন বয়স্ক মানুষ। ইমামের একেবারে সাথে সাথে উঠা-বসা করতে অনেক কষ্ট হয়। তাই অনেকসময়

রুকু-সিজদার তাসবীহ তিন বার পড়ার আগেই ইমাম সাহেব তাকবীর বলে উঠে যান। এমতাবস্থায় আমি কি তাসবীহ তিন বার পূর্ণ করে উঠব নাকি তিন বার পূর্ণ না হলেও ইমাম সাহেব তাকবীর বললে উঠে যাব?

উত্তর

ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব এবং রুকু-সিজদার তাসবীহ সুন্নত। তাই প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনি রুকু-সিজদার তাসবীহ তিন বার পড়তে না পারলেও ইমামের সাথেই উঠতে চেষ্টা করবেন। আর ইমামের তাকবীরের আওয়াজ শোনামাত্র রুকু-সিজদার জন্য যেতে শুরু করবেন। এক্ষেত্রে তাসবীহর সংখ্যা পূর্ণ করার প্রয়োজন নেই।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৩১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১৬৯

শেয়ার লিংক

মাজেদুল ইসলাম - খুলনা

৫০৪০. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমি মসজিদে নামায পড়ছিলাম। হঠাৎ আমার হাঁচি আসে। হাঁচির পর বেখেয়ালে কিছুটা শব্দ করেই ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলে  ফেলি। নামায শেষ করার পর পাশে থাকা এক ব্যক্তি বললেন, নামাযটি আবার পড়ে নিলে ভালো হয়। কারণ, নামাযে হাঁচির পরের দুআ পড়া যায় না। জানার বিষয় হল, নামাযে হাঁচির পর ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বললে কি নামায নষ্ট হয়ে যায়?

উত্তর

নামাযে হাঁচি আসলে ‘আলহামদু লিল্লাহ’ না বলাই নিয়ম। তবে ‘আলহামদু লিল্লাহ’ যেহেতু যিকির তাই তা বলে ফেললেও নামায নষ্ট হবে না। সুতরাং আপনার উক্ত নামায সহীহ হয়েছে। তা পুনরায় পড়তে হবে না।

 -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১২০; যাদুল ফাকীর, ইবনুল হুমাম পৃ. ১৩৬; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৯৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩১৭; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১৭৮

শেয়ার লিংক

শরীফ - নওগাঁ

৫০৩৯. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার হাঁটুতে প্রচ- ব্যথা হয়েছিল। ওঠা-বসা করতে পারতাম না। তাই এক মুফতী সাহেবকে জিজ্ঞেস করে চেয়ারে বসে ইশারার মাধ্যমে রুকু-সিজদা করে নামায পড়তাম। তখন আমার সুস্থ অবস্থায় ছুটে যাওয়া কিছু নামাযের কাযা পড়ি। এখন আলহামদু লিল্লাহ আমার হাঁটুতে কোনো ব্যথা নেই। রুকু-সিজদা ঠিকভাবে করতে পারি। জানার বিষয় হল, অসুস্থ থাকাকালীন সুস্থ অবস্থায় ছুটে যাওয়া যে নামাযগুলোর কাযা পড়েছিলাম সেগুলো কি এখন পুনরায় পড়তে হবে?

উত্তর

না, অসুস্থ অবস্থায় যে কাযা নামাযগুলো পড়েছেন তা পুনরায় পড়তে হবে না। কারণ, সুস্থাবস্থায় ছুটে যাওয়া নামায অসুস্থতার কারণে ইশারা করে পড়ে নিলেও তা আদায় হয়ে যায়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪; আলহাবিল কুদসী ১/২২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৮; রদ্দুল মুহতার ২/৭৬

শেয়ার লিংক

মিলন - কুষ্টিয়া

৫০৩৮. প্রশ্ন

আমি একজন রঙমিস্ত্রি। রঙের কাজ করে তারপিন ইত্যাদি দিয়ে হাত পরিষ্কার করার পরও অনেকসময় নখের কোণায় কিছু রঙ আটকে থাকে, যা উঠানো খুবই কষ্টকর। জানার বিষয় হল, এমন অবস্থায় আমার অযুর কী হুকুম? আমার অযু কি শুদ্ধ হবে?

উত্তর

রঙমিস্ত্রিদের যেহেতু এটা পেশা, নিয়মিতই তাদেরকে রঙের কাজ করতে হয়। পরিপূর্ণ পরিষ্কার করাও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। তাই সাধারণভাবে পরিষ্কার করার পরও যদি তাদের হাতে-পায়ে কিছু রঙ লেগে থাকে তাহলে সে অবস্থায়ও তাদের অযু শুদ্ধ হয়ে যায়। তাই আপনার এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/২৭৮; হালবাতুল মুজাল্লী ১/১৫১; মারাকিল ফালাহ পৃ. ৩৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪

শেয়ার লিংক

মীযান - গফরগাঁও, ময়মনসিংহ

৫০৩৭. প্রশ্ন

আমি একদিন বড় ভাইয়ের সাথে মসজিদে যাচ্ছিলাম। পথে এক গাছের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় চড়–ই পাখির বিষ্ঠা এসে আমার জামায় পড়ে। মসজিদে পৌঁছে আমি জামা ধুতে চাইলে বড় ভাই বললেন, ধোওয়ার দরকার নেই। চড়–ই পাখির বিষ্ঠা নাপাক নয়। তাড়াতাড়ি জামাতে শরিক হয়ে যাও। নতুবা প্রথম রাকাত ছুটে যাবে। তার কথামত আমি তা না ধুয়েই নামায পড়ে নেই।

হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, বড় ভাইয়ের এই কথা কি সঠিক যে, চড়ুই পাখির বিষ্ঠা নাপাক নয়? তা জামায় লেগে থাকা অবস্থায় আমার উক্ত নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

উত্তর

হাঁ, আপনার বড় ভাই ঠিকই বলেছেন। চড়ুই পাখির বিষ্ঠা নাপাক নয়। তা কাপড়ে লাগার দ্বারা কাপড় নাপাক হয় না। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার উক্ত নামায শুদ্ধ হয়েছে। তবে চড়ুই পাখির বিষ্ঠা নাপাক না হলেও তা যেহেতু ময়লা তাই সম্ভব হলে নামাযের আগে তা ধুয়ে নেবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১২৬১; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৯৭; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ১/২১; শরহুল মুনয়া পৃ. ১৪৯; আলবাহরুর রায়েক ১/১১৩; রদ্দুল মুহতার ১/৩২০

শেয়ার লিংক

রাসেল - বরিশাল

৫০৩৬. প্রশ্ন

আমাদের পাশের বাড়িতে একজন মহিলা তালীম করেন। আমার আম্মু মাঝেমাঝে সেখানে বসেন। একদিন তালীম থেকে এসে বললেন যে, আজকে তালীমের মহিলা একটি মাসআলা বলল, তার উপর আমল করা তো কঠিন। মহিলা বলেছে, বালতির পানি দিয়ে গোসলের সময় শরীর থেকে পানির ছিটা বালতিতে পড়লে সে পানি দিয়ে গোসল হবে না। জানার বিষয় হল, মহিলার কথা কি ঠিক? অন্যথায় সঠিক মাসআলা কী?

উত্তর

মহিলার ঐ কথা ঠিক নয়। গোসলের সময় শরীর থেকে পানির ছিটা বালতিতে পড়লে কোনো সমস্যা নেই। একারণে বালতির পানি নাপাক হয় না। তাই বালতির ওই পানি দিয়ে গোসল করা সহীহ আছে। কারণ, গোসল ফরয অবস্থায় শরীরে বাহ্যিক নাপাকি লেগে না থাকলে শরীরে স্পর্শ করা পানি নাপাক নয়। তা الماء المستعمل তথা ব্যবহৃত পানির অন্তর্ভুক্ত। আর শরীরের ছিটা পানি যেহেতু খুবই সামান্য তাই তা বালতিতে পড়লেও সে পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতে কোনো সমস্যা নেই।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৭৮৯, ৭৯১; কিতাবুল আছল ১/২০; বাদায়েউস সানায়ে ১/২১১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৮; শরহুল মুনয়া পৃ. ১৫৩; রদ্দুল মুহতার ১/৩২৫

শেয়ার লিংক