মাহবুবুল্লাহ - ময়মনসিং

৪৮৬০. প্রশ্ন

সম্মানিত মুফতী সাহেব, আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। বিনীত নিবেদন এই যে, আমার নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর জানালে খুব উপকৃত হব। আল্লাহ তাআলা আপনার মঙ্গল করবেন।

ক. আমার পিতা সরকারি চাকরি করতেন। তিনি গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। চাকরির কাগজপত্রে আমার মাকে নমিনি করা আছে। এখন প্রশ্ন হল, সরকার থেকে প্রাপ্ত সকল টাকা-পয়সার মালিক আমার আম্মা হবেন কি না?

যদি না হন তবে এসব টাকা-পয়সা কিভাবে বণ্টিত হবে? উল্লেখ্য, আমরা তিন বোন এক ভাই। তিন বোন সাবালিকা এবং বিবাহিতা। ভাইটি নাবালেগ (বয়স তিন বছর)।

আমার পিতার বাড়ি দাশপুকুরে। বাড়ি এবং বাড়ির জিনিসপত্র বণ্টন করার নিয়ম কী?

৪৮৬১ খ. বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা রেখে মাসে মাসে পেনশন আকারে উঠালে জায়েয হবে কি না?

উত্তর

ক. ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আপনার মরহুম পিতার চাকরির সুবাদে সরকার থেকে প্রাপ্ত এককালীন টাকা তার অন্যান্য সম্পদের মতো সকল ওয়ারিসের মাঝে মীরাসনীতি অনুসারে বণ্টিত হবে। নমিনি হিসাবে আপনার মা এককভাবে মালিক হবেন না। নমিনি হলেন একজন প্রতিনিধি মাত্র, যিনি নিজ দায়িত্বে টাকাগুলো গ্রহণ করে যার যার হিস্যা তাকে দিয়ে দিবেন। কাউকে নমিনি করার দ্বারা তিনি ঐ টাকার মালিক হয়ে যান না।

প্রাপ্ত ঐ টাকা এবং আপনার পিতার অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রথমে আপনার পিতার কোনো ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। এরপর তার বৈধ কোনো ওসিয়ত থাকলে অবশিষ্ট সম্পদের একতৃতীয়াংশ থেকে তা আদায় করতে হবে। এরপর আপনার পিতার অবশিষ্ট সকল সম্পত্তি (বাড়ী-আসবাবপত্রসহ) আপনাদের মাঝে নিম্নোক্ত শতকরা হারে বণ্টিত হবে।

মরহুমের স্ত্রী= ১২.৫%

এক ছেলে = ৩৫%

তিন মেয়ের প্রত্যেকে ১৭.৫% করে মোট ৫২.৫%

মোট = ১০০

উল্লেখ্য যে, মাইয়েতের সম্পত্তিগুলো যদি সমমূল্যের না হয়, তাহলে সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে নিয়ে পূর্বোক্ত শতকরা হারে বণ্টন করতে হবে। -ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ ৪/৩৫০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/৬২১; মাজমূআতুল ফাতাওয়াশ শারইয়্যাহ ১০/২৯২; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দা ১১৪৯

খ. আপনার এ প্রশ্নটি অস্পষ্ট। যদি ব্যাংকে টাকা রেখে তাদের থেকে প্রাপ্ত সুদ গ্রহণের কথা জিজ্ঞেস করে থাকেন তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে এমনটি করার সুযোগ নেই। ইসলামে সুদ গ্রহণ ও প্রদান করা সুস্পষ্টভাবে হারাম ও মারাত্মক কবীরা গুনাহ।

শেয়ার লিংক

আবু ফারহা - অস্ট্রেলিয়া

৪৮৫৯. প্রশ্ন

আমি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। আমার জানার বিষয় হল, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বন-জঙ্গলে ও পাহাড়ী এলাকায় মালিকানাহীন অনেক বন্য ছাগল-ভেড়া থাকে। কুরবানীর কিছু আগে খামারীরা সে সমস্ত বন্য ছাগল-ভেড়া ধরে এনে কিছু দিন খামারে রাখে। এই ছাগল-ভেড়াগুলো সাধারণ ছাগল-ভেড়া থেকে আকারে একটু বড় হয়। এগুলো খামারীদের যেহেতু কিনতে হয় না তাই এগুলো তারা সস্তা দামে বিক্রি করে দেয়। জানতে চাই, এই বন্য ছাগল-ভেড়া দ্বারা কুরবানী করা কি সহীহ হবে?

উত্তর

না, এসব বন্য ছাগল-ভেড়া কিছু দিনের জন্য খামারে আটকে রাখলেও এগুলো দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে না। কেননা এগুলো জন্মগতভাবে বন্য পশু। আর কুরবানী সহীহ হওয়ার জন্য পশু জন্মগতভাবে পৃহপালিত হওয়া আবশ্যক। বন্য পশু গৃহে বা খামারে এনে লালন-পালন করলেও তা দ্বারা কুরবানী সহীহ নয়।

-কিতাবুল আছল ৫/৪১১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২২

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ হারিস - নেত্রকোণা

৪৮৫৬. প্রশ্ন

আমার জানার বিষয় হল যে, ক. আমি বিগত সময় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে সেভিং একাউন্টে কিছু টাকা জমা রেখেছিলাম। যার লাভের হার ছিল ৪%। এই লাভের টাকা আমি কোনোদিনই ভোগ করিনি এবং কোনোদিন করবও না ইনশাআল্লাহ। এই লাভের টাকা দিয়ে বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসার টয়েলেট ও প্রস্রাব খানা তৈরি করার কাজে ব্যয় করা হয়। এখন অন্য ব্যাংকে যদি জমা রাখি তাহলে সেই ব্যাংক আমাকে ৫.৫% হারে লাভ দিবে। উল্লেখ থাকে যে, সেই টাকাও বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসার টয়লেট ও প্রস্রাব খানা তৈরি করার কাজে ব্যয় করা হবে। এখন জানাবেন যে, বেশি লাভের জন্য আমি অন্য ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে পারব কি না?

৪৮৫৭ খ. আমার ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোম্পানীর নামে একাধিক ব্যাংকে চলতি হিসাব বা কারেন্ট একাউন্ট চালু আছে এবং লেনদেন করছি। ঐসকল ব্যাংকগুলো তাদের ব্যাংকে লেনদেন করার কারণে বাৎসরিক সার্ভিস চার্জ বাবদ টাকা কেটে নেয়। আমি অন্য ব্যাংক থেকে যে সুদ বা লাভের টাকা পাব তা দিয়ে উক্ত সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে পারব কি না?

৪৮৫৮ গ. আমার কোম্পানীর ওভেন, ডায়ার ও চুলা ব্যবহারের নতুন গ্যাস লাইন বর্ধিত করার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি বাবদ ১০ লক্ষ টাকা তিতাস গ্যাস কোম্পানীকে দিতে হবে। উক্ত ব্যাংক গ্যারান্টির ১০ লক্ষ টাকা নগদ জমা দিলে আমাকে ২% হারে সুদ বা লাভ দিবে ব্যাংক এবং জামানতও দেওয়া হবে। আর যদি নগদ ৩ লক্ষ টাকা জামানত বাবদ জমা দেওয়া হয় তাহলে ব্যাংকে বছর শেষে আরো ছয় হাজার টাকা অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে। এখন আমার জানার ইচ্ছা যে, উক্ত সুদ বা লাভের টাকা অন্য ব্যাংক একাউন্টের সুদ বা লাভের টাকা থেকে পরিশোধ করা যাবে কি না?

মোটকথা হল, এক ব্যাংকের সুদ বা লাভের টাকা দিয়ে অন্য ব্যাংকের সুদ বা লাভের টাকা পরিশোধ করা যাবে কি না?

উত্তর

একাউন্টের অতিরিক্ত টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে খরচ করার নিয়তেও প্রচলিত সুদী ব্যাংকে সঞ্চয়ী বা মেয়াদী হিসাব খোলা জায়েয হবে না। কেননা সুদী ব্যাংকে এ ধরনের একাউন্ট খুলতে হলে সুদী চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হয়। তাই সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা জমা রাখার বিশেষ প্রয়োজন হলে প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকগুলোতে রেখে প্রাপ্ত মুনাফা গরীব-মিসকিনদের মাঝে বণ্টন করে দিতে হবে।

মসজিদ-মাদরাসার ব্যবহারকারী যেহেতু শুধু গরীবরাই নয় তাই এ ধরেনর কাজে ব্যয় না করে ভবিষ্যতে গরীবদেরকে দিয়ে দিবেন। তবে কিছু উলামায়ে কেরাম যেহেতু এ ধরনের টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে খরচ করার অনুমতি দিয়ে থাকেন তাই অতীতে ঐ টাকা দিয়ে বাথরুম-প্রস্রাবখানা তৈরি করার দ্বারাও আপনি দায়মুক্ত হয়ে গেছেন।

খ. সরকারি কর কেটে নেওয়ার পর যে নীট সুদ বা মুনাফা একাউন্টহোল্ডারদের একাউন্টে জমা থাকবে তার সবটুকুই সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীবদের দিয়ে দিতে হবে। বিভিন্ন চার্জ বাবদ ব্যাংক যে টাকা কেটে রাখে তা ব্যাংক কর্তৃক প্রদানকৃত সুদ বা লাভের টাকা দ্বারা আদায় করা যাবে না। কেননা ব্যাংক একাউন্টহোল্ডারদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের বিনিময় হিসাবেই এসব চার্জ নিয়ে থাকে, আর কিছু টাকা সরকার চার্জ করে থাকে। তাই সুদ দ্বারা ব্যাংকের চার্জ আদায় করলে নিজের কাজে সুদ ব্যবহার করা হয়ে যায়। সুতরাং এমনটি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

গ. ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদ গরীব-মিসকীনদের মাঝে বণ্টন করে দিতে হবে। এর দ্বারা অন্য ব্যাংক বা একাউন্টের সুদ পরিশোধ করা বৈধ হবে না।

আর পুরো টাকা নগদ না দিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে যেহেতু বছরে অতিরিক্ত ছয় হাজার টাকা দিতে হবে, যা শরীয়তসম্মত নয়, তাই আপনার কর্তব্য হল ব্যাংক গ্যারান্টির দশ লক্ষ টাকা নগদ জমা দেওয়া এবং তা থেকে প্রাপ্ত সুদ গরীবদের দিয়ে দেওয়া। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ২৩৫৯৩, ২৩৫৯৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/২২১; বাযলুল মাজহুদ ১/১৪৮; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা ৯, ১/৭৯৭

শেয়ার লিংক

আবদুল আহাদ - ঢাকা

৪৮৫৫. প্রশ্ন

দেশের আইন অনুযায়ী পাবলিক (সরকারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলে তিনি অবসর গ্রহণ করবেন। এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেটে উল্লেখিত জন্ম তারিখ হতে বয়স হিসাব করা হয়। এক ব্যক্তি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এসএসসি পরিক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করার সময় তার মামা (যিনি ঐ স্কুলের শিক্ষক ছিলেন) নিজের থেকেই তার একটা জন্ম তারিখ বসিয়ে দেন। সেই অনুযায়ী এসএসসি সার্টিফিকেটে তার জন্ম তারিখ উল্লেখ আছে। পরবর্তীতে ঐ ব্যক্তি তার মরহুম পিতার নোট বুকে তার জন্ম তারিখ লিখিত দেখেন। সেই অনুযায়ী এসএসসি সার্টিফিকেটে যদি তার সঠিক জন্ম তারিখ থাকত তবে তাকে ৩ বছর পূর্বে অবসরে যেতে হত। তিনি যদি ইচ্ছা করেন তবে তার সঠিক জন্ম তারিখ অনুযায়ী ৩ বছর পূর্বে অবসরে যেতে পারেন। এ বিভাগে শিক্ষক পদের সংখ্যা নির্দিষ্ট। তিনি অবসরে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় তার বিভাগে একজন নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে। অবসরে না যাওয়া পর্যন্ত ঐ পদে কোনো নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে না। এমতাবস্থায় এসএসসি সার্টিফিকেটে উল্লেখিত জন্ম তারিখ হিসাবে তার ৬৫ বছর পর্যন্ত চাকরি করা জায়েয হবে কি না?

উত্তর

যেহেতু এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেটে উল্লেখিত জন্ম তারিখ অনুযায়ী চাকরির বয়সের হিসাব করা হয় তাই কোনো ব্যক্তি (সার্টিফিকেট অনুযায়ী) চাকরির শেষ সময় পর্যন্ত চাকরির সামর্থ্য রাখলে এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারলে যতদিন তাকে চাকরিতে রাখা হবে তার উপার্জিত অর্থ হালাল হবে। কিন্তু দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য না থাকলে চাকরিতে বহাল থাকা জায়েয হবে না।

উল্লেখ্য, রেজিস্ট্রেশনের সময় বয়স কম লেখা মিথ্যা ও ধোঁকার অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে পরবর্তী জীবনে এ মিথ্যা লিখতে ও বলতে হয়। তাই রেজিস্ট্রেশনে কারো বয়স কম লেখা হয়ে থাকলে তার উচিত পরবর্তীতে তা এফিডেভিট করে শুদ্ধ করিয়ে নেওয়া।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৩০/২১১; মাজমুআতুল ফাতাওয়াশ শারইয়্যাহ ৩/২১০

শেয়ার লিংক

আবু সুহাইব - ফেনী

৪৮৫৪. প্রশ্ন

মাননীয় মুফতী সাহেব, আমার একটি পাঞ্জাবীর কাপড় ও টেইলার্সের দোকান আছে। আমার দোকানে কিছু পাঞ্জাবী পড়ে আছে, যা ক্রেতাদের অর্ডারে সেলাই করা হয়েছে। কিন্তু তারা তা নেয়নি। অপরদিকে আমাদের মেমোতে উল্লেখ রয়েছে, যা ক্রেতার নিকট রয়েছে, ৯০ দিনের মধ্যে কাপড় ডেলিভারী না নিলে তা নষ্ট হয়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। এমতাবস্থায় ছয় মাস পার হয়ে গেলেও ক্রেতা তার কাপড় না নিলে আমি ঐ কাপড় যাকাত স্বরূপ দিয়ে দেই। যেমন, একটি জুব্বার অর্ডার নিলাম। কাপড় বাবদ ৬০০ টাকা, সেলাই বাবদ ৪০০ টাকা মোট ১০০০ টাকা। ক্রেতা জমা দিল ২০০ টাকা বাকি আছে ৮০০ টাকা।

এক্ষেত্রে আমি ক্রেতার নিকট পাওনা ৮০০ টাকা হিসাবে জুব্বাটি যাকাত স্বরূপ দিয়ে দেই। প্রশ্ন হল, এ নিয়মে শরীয়তসম্মত যাকাত আদায় হবে কি না? যদি না হয় তাহলে সহীহ পন্থা কী হবে দলীলসহ জানাবেন।

উত্তর

আমাদের দেশে টেইলার্সগুলোতে পাঞ্জাবী-জুব্বা ইত্যাদি বানানোর জন্য দুই পদ্ধতিতে অর্ডার দেওয়া হয়। একটি হল, অর্ডারদাতার পক্ষ থেকে কাপড় দিয়ে টেইলার্সে শুধু বানানোর জন্য দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতি হল, যদি টেইলার্সে কাপড় পাওয়া যায় তাহলে কখনো কখনো অর্ডারদাতা সেখানের কোনো কাপড় পছন্দ করে পাঞ্জাবী বা জুব্বা বানানোর অর্ডার দিয়ে যায়।

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী বাস্তবেই যদি কোনো অর্ডারদাতা দ্বিতীয় পদ্ধতিতে আপনার দোকানে পাঞ্জাবী বা জুব্বা বানানোর জন্য দিয়ে যায়। কিন্তু এরপর সে তা নিতে না আসে বা চেষ্টা করেও অর্ডারদাতার সন্ধান পাওয়া না যায় তাহলে আপনি এ ধরনের পাঞ্জাবী বা জুব্বা যাকাত হিসাবে আদায় করে দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে এ ধরনের একটি তৈরি জুব্বার বাজারমূল্য যাকাত হিসাবে আদায় হবে। আর অর্ডারদাতা অগ্রিম টাকা জমা রেখে গেলে তা আপনার কাছে জমা রেখে দিতে হবে। পরবর্তীতে সে আসলে তাকে এ টাকা দিয়ে দিবেন। আর যদি কোনোভাবেই তার সন্ধান পাওয়া না যায় তবে ঐ টাকা তার নামে সদকা করে দিবেন। আর ভবিষ্যতে এ সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য অর্ডারদাতার নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার লিখে রাখবেন।

আর যদি কেউ প্রথম পদ্ধতিতে পোশাক তৈরীর অর্ডার দেয় অর্থাৎ কাপড় যদি অর্ডারদাতার হয় তাহলে ডেলিভারির নির্ধারিত মেয়াদ শেষেও তা যাকাত হিসাবে আদায় করা যাবে না। বরং তা আপনার কাছে হেফাযত করে রাখতে হবে। তবে যদি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর অর্ডারদাতা আসার কোনো সম্ভাবনা না থাকে এবং কোনোভাবেই তার সন্ধান পাওয়া না যায় তাহলে সেক্ষেত্রে তা বিক্রি করে আপনার মজুরী রেখে অবশিষ্ট টাকা লোকটির নামে সদকা করে দিবেন।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/৯৫; আলবাহরুর রায়েক ৬/১৭১, ৫/১৫৩; আলমাবসূত, সারাখসী ১১/৩; রদ্দুল মুহতার ৬/১৫১

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - খুলনা

৪৮৫৩. প্রশ্ন

আমার একটি বদঅভ্যাস আছে। আমি জানি তা বড় গুনাহের কাজ। কিন্তু ইচ্ছা-অনিচ্ছায় তা করে ফেলি। অনেক দিন ধরে চেষ্টা করছি, যেন তা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারি। বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রতিজ্ঞাই করেছি। একবার ঐ মন্দ কাজটি করার কারণে রাগে এ বলে প্রতিজ্ঞা করি যে, যদি সামনে কখনো এ কাজ করি তবে আমার উপর আল্লাহর গযব! আল্লাহর লানত!

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের সঙ্গে এ কথা নিয়ে আলোচনা করলে তিনি বলেন, এমন কথা বললে তা কসম হয়। তাই তোমাকে এ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে নতুবা কাফফারা আবশ্যক হবে। কিন্তু আমি কিছুদিন পরই তা করে ফেলি। এখন মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি যে, আসলেই কি এ কাজ করার কারণে আমার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে? সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

উত্তর

ইমাম সাহেবের কথাটি ঠিক নয়। উক্ত কথা বলার দ্বারা কসম সংঘটিত হয়নি। তাই কাজটি করে ফেলার কারণে আপনার উপর কোনো কাফফারা ওয়াজিব হয়নি।

উল্লেখ্য যে, গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করা জরুরি। কিন্তু তাই বলে এমন ক্ষেত্রেও নিজের উপর লানত করা মারাত্মক অন্যায় ও গুনাহ। অতএব এমন কথা বলার কারণে আল্লাহ তাআলার নিকট তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে হবে।

-কিতাবুল আছল ২/২৭৭; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩-৪; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৬৩; মাজমাউল আনহুর ২/২৭২; রদ্দুল মুহতার ৩/৭২১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ টিপু সুলতান - কাশিপুর, যশোর

৪৮৫২. প্রশ্ন

একবার আমি শপথ করে বলেছিলাম, আমার স্ত্রীর রান্না আর খাব না। পরে এই শপথ ভঙ্গ হয়ে যায় এবং আমি তার হাতের রান্না খাই। এর কাফফারা আদায়ের জন্য আমি দরিদ্র দশ জনকে দাওয়াত করি। তারা এসে দুপুরে আমার বাসায় খানা খায়। খানার পর তাদেরকে পরের দিন দুপুরে আবার আসার জন্য বলে দিই। সে হিসেবে তারা পরের দিনও এসে খানা খায়। কিন্তু তাদের মধ্যে দুইজন এমন ছিল, যারা আগের দিন আসেনি। এখন গ্রামের এক আলেম বলছেন, কাফফারা আদায়ের জন্য প্রথম দিন যারা এসেছিল তাদেরকেই খাওয়াতে হবে। অন্য দুই জনকে খাওয়ালে কাফফারা আদায় হবে না।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে আসলেই কি প্রথম দশ জনকে খাওয়াতে হবে?

নাকি যে কোনো দশজনকে খাওয়ালে হবে? যদি না হয় তাহলে এখন আমার করণীয় কী? এখন কি পুনরায় দশজনকে দু’বেলা খাওয়াতে হবে? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

উক্ত আলেম ঠিকই বলেছেন। কসমের কাফফারা আদায়ের জন্য দশজন দরিদ্রের প্রত্যেককে তৃপ্তি সহকারে দু’বেলা খানা খাওয়ানো শর্ত। কিন্তু প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বেলা যেহেতু প্রথম দশজনের দুইজন বাদ পড়েছে, তাই আপনার কাফফারা এখনো আদায় হয়নি। এক্ষেত্রে আপনার করণীয় হল, যে চার জন লোক এক বেলা করে খেয়েছে তাদের যে কোনো দু’জনকে আরো এক বেলা খানা খাওয়ানো। অথবা অন্য কোনো দু’জন দরিদ্রকে দু’বেলা কাফফারার নিয়তে খানা খাওয়ানো। এতেও আপনার কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। নতুন করে দশজনকে খানা খাওয়ানো লাগবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৬১; আলমাবসূত, সারাখসী ৮/১৫০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/৩০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬৩; রদ্দুল মুহতার ৩/৭২৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাকসুদ - ভোলা

৪৮৫১. প্রশ্ন

আমাদের গ্রামে একজন দরিদ্র বিধবা মহিলা থাকে। তার এক মেয়ে এক ছেলে। দুপুরে মেয়েটির বিবাহের আকদ সম্পন্ন হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইন্তিকাল করে। যেহেতু মেয়েটির সাথে লোকটির ঘর-সংসার হয়নি তাই কিছু দিন পর মৃত মেয়ের স্বামীর সঙ্গে বিধবা মহিলাটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আমাদের এলাকায় বিষয়টিকে সবাই বেশ খারাপ মনে করলেও কেউ কেউ তা শিথিলতার দৃষ্টিতে দেখছেন। এলাকায় এ নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমাদের আবেদন হল, এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে সবাইকে পেরেশানি মুক্ত করবেন।

উত্তর

মেয়ের স্বামীর সাথে শাশুড়ির বিবাহ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ। মেয়ে জীবিত থাকুক বা মৃত সর্বাবস্থায় এ হুকুম প্রযোজ্য। সুতরাং ঐ মহিলার জন্য এক্ষুনি তার জামাতা থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া আবশ্যক।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১০৮১১; কিতাবুল আছল ১০/১৮১; আহকামুল কুরআন, জাস্সাস, ২/১২৭; ফাতহুল কাদীর ৩/১১৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩১; রদ্দুল মুহতার ৩/২৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ যুবায়ের - ঢাকা

৪৮৫০. প্রশ্ন

কিছু দিন আগে আমার স্ত্রী একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তিকাল করে। আমার ছোট দুটি সন্তান আছে। তাদের লালন-পালনের জন্য একজন বিধবা নারীর প্রয়োজন। এক বিধবা নারীর সঙ্গে আমার বিয়ের কথা চলছে, যে আমার ছোট ভাইকে দুধ পান করিয়েছিল। এলাকার কিছু লোক বলছে, এ মহিলা যেহেতু আমার ছোট ভাইয়ের দুধ মা, তাই এ দুধ সম্পর্কের সব বিধিনিষেধ আমার সাথেও কার্যকর হবে। অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন কথাও অনেকে বলেছে, যা আমার কাছে শক্তিশালী মনে হয়েছে। সার্বিকভাবে ঐ বিধবাকে পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও শুধু এই আপত্তির কারণে বিয়েটি আটকে আছে। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি মহিলাটি আমার ছোট ভাইয়ের দুধ মা হওয়ার কারণে তার সাথে আমারও দুধের সম্পর্ক হয়ে গেছে, ফলে তাকে বিয়ে করা আমার জন্য বৈধ নয়? এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে পেরেশানি থেকে মুক্ত করবেন।

উত্তর

আপনার ছোট ভাই উক্ত মহিলার দুধ পান করার কারণে শুধুমাত্র তার সাথেই মহিলাটির দুধ-সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। এ কারণে আপনার সাথে কোনো ধরনের দুধ সম্পর্ক হয়নি। ঐ মহিলা এখনো আপনার জন্য গায়রে মাহরাম। সুতরাং তার সাথে আপনার বিবাহ জায়েয। তাকে বিয়ে করতে কোনো সমস্যা নেই। প্রশ্নোক্ত লোকদের কথা ঠিক নয়।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৫/১৩৭; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৪০; আলবাহরুর রায়েক ৩/২২৪; দুরারুল হুক্কাম ১/৩৫৬; মাজমাউল আনহুর ১/৫৫৩

শেয়ার লিংক

মুসাম্মাত আসমা - চট্টগ্রাম

৪৮৪৯. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমি আমার স্বামীর বড় স্ত্রী। কিছুদিন আগে আমার স্বামী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেই অবস্থায় আমার সতীনসহ তার সন্তানেরা আমাকে তালাক দেওয়ার জন্য তাকে প্ররোচিত করলে তিনি আমাকে তিন তালাক দেন। এরপর আমি তার বাড়িতেই ইদ্দত পালন শুরু করি। তার কয়েকদিন পড়েই তিনি সেই অসুস্থতায় মারা যান। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় আমার ইদ্দতের হুকুম কী? আমি কি তালাকের ইদ্দত পালন করব নাকি স্বামীর মৃত্যুর?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনাকে তালাকের ইদ্দত (তিন ঋতুস্রাব) ও স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত (চারমাস দশদিন) এই উভয়টির যে সময়টি অপেক্ষকৃত দীর্ঘ হয় সেটিই ইদ্দত হিসেবে পালন করতে হবে। অর্থাৎ যদি চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালনের পূর্বে তিন ঋতুস্রাব পূর্ণ হয়ে যায় তাহলে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত ইদ্দত পালন করতে হবে। আর যদি এমন হয় যে, চার মাস দশদিন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনো তিন ঋতু পূর্ণ হয়নি তাহলে তিন ঋতু পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ইদ্দত পালন করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, মৃত্যুশয্যায় তালাক দেওয়ার কারণে আপনি স্বামীর মীরাস থেকে বঞ্চিত হবেন না। অন্যান্য ওয়ারিসদের সাথে আপনিও হিসসা অনুপাতে মীরাস পাবেন।

-কিতাবুল আছল ৪/৫৪৩, ৫২৮; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩১৭; ফাতহুল কাদীর ৪/১৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩০; রদ্দুল মুহতার ৩/৫১৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালাহ উদ্দিন - বাগেরহাট

৪৮৪৮. প্রশ্ন

জনাব, কিছু দিন আগে আমার মায়ের ইন্তিকালের পর আমার পিতা এক বিধবা নারীকে বিবাহ করেন। তার ১৮ বছরের এক মেয়ে আছে। বর্তমানে সে আমাদের বাড়িতে অবস্থান করছে। সম্প্রতি ঐ মেয়ের মামা চাচ্ছেন আমার সঙ্গে তাকে বিবাহ দিতে। আমি কি তাকে বিবাহ করতে পারব? কেউ কেউ বলছেন, এই বিবাহ সহীহ হবে না। তাদের কথা কি ঠিক?

উত্তর

ঐ মেয়েটির পিতা-মাতা যেহেতু ভিন্ন তাই আপনি তাকে বিবাহ করতে পারবেন। কারণ মেয়েটি আপনার মাহরাম নয় এবং তার সাথে আপনার রক্তের কোনো সম্পর্কও নেই। তাই যারা বলেছে এই বিবাহ সহীহ হবে না, তাদের কথা ঠিক নয়।

-ফাতহুল কাদীর ৩/১২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭৭; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৩১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান - নান্দাইল, মোমেনশাহী

৪৮৪৭. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে বিয়ে করে। সাত মাসের গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে আরেক ছেলের সাথে সংসার শুরু করে। এর এক মাস পর প্রথম স্বামী ঐ মেয়েকে তালাক প্রদান করে। পালিয়ে যাওয়ার তিন মাস পর একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে মেয়েটি কাযী অফিসে গিয়ে ঐ ছেলেটিকে বিয়ে করে নেয়। সন্তানের লালন-পালন ঐ মেয়ে এবং তার দ্বিতীয় স্বামীই করে যাচ্ছে। প্রথম স্বামীকে লালন-পালন করা এমনকি দেখার সুযোগ দিতেও তারা রাজি না। এখন আমি জানতে চাই-

ক. ঐ কন্যা সন্তানের পিতা হিসেবে পরিচয় কে পাবে?

খ. সন্তানটির লালন-পালনের অধিকার কে রাখে?

উল্লেখ্য যে, সন্তানটির নানী জীবিত এবং সন্তানটির লালন-পালনে সে আগ্রহী। আর দ্বিতীয় স্বামী সন্তানটির মাহরাম নয়।

গ. এমন অপারগতাবস্থায় সন্তানের খোঁজ-খবর না নেওয়ার দ্বারা প্রথম স্বামী গুনাহগার হবে কি না?

ঘ. ঐ সন্তানের লালন-পালনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্বামীর কোনো অধিকার আছে কি না?

উত্তর

ক. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রথম স্বামীই ঐ শিশু মেয়েটির পিতা। তাই ঐ মেয়ের পিতা হিসাবে তার পরিচয়ই দিতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩৩৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/২৭৬; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৫৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩৭

খ. সাধারণ অবস্থায় সন্তান লালন-পালনের প্রথম হকদার সন্তানের মা। তবে প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সন্তানের মাহরাম নন এমন ব্যক্তির সাথে মার বিবাহ হওয়ায় তার এ সন্তান লালন-পালনের অধিকার নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমান অবস্থায় শিশুটির নানী তার লালন-পালনের অধিকার পাবে, যদি তার বাড়ির পরিবেশ দ্বীন-শরীয়তের অনুকূলে থাকে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২২৭৬; কিতাবুল আছল ১০/৩৫১; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪৫৬-৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২৭৩

গ. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পিতা যেহেতু চেষ্টা করা সত্ত্বেও সন্তানের খোঁজ-খবর নিতে পারছেন না তাই আশা করা যায়, এক্ষেত্রে তিনি গুনাহগার হবেন না।

ঘ. না, লালন-পালনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্বামীর কোন অধিকার নেই।

উল্লেখ্য, প্রথম স্বামী তালাক দেওয়ার পর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া দ্বারাই তার ইদ্দত শেষ হয়ে গেছে। এরপর ঐ ছেলেটির সাথে তার বিবাহ সহীহ হয়েছে। তবে এর আগ পর্যন্ত ঐ ছেলেটির সাথে একত্রে থাকা হারাম হয়েছে। এজন্য তাদেরকে আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে।

শেয়ার লিংক

সাইফুল ইসলাম - মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

৪৮৪৬. প্রশ্ন

গত শনিবার ধানমণ্ডি তাকওয়া মসজিদে আমার বড় ভাগ্নির বিবাহের আকদ হয়। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমার ভগ্নিপতি আমার ভাগ্নি থেকে ইযিন নিয়ে যান। এ সময় সেখানে শুধু আমার বোন ছিলেন। আকদের পূর্বে ছেলে পক্ষের কয়েকজন মুরব্বী বলে উঠলেন, বিবাহ সংঘটিত হওয়ার জন্য ইযিন নেয়ার সময়ও সাক্ষীদের উপস্থিত থাকা জরুরি। এরপর ইমাম সাহেব তাদেরকে কি যেন বলেন। তাতে তারা শান্ত হন। এরপর বিবাহ হয়। এছাড়াও এটা জরুরি কি না এ নিয়ে আরো কিছু বিবাহে জটিলতা সৃষ্টি হতে দেখেছি। এখন জানতে চাচ্ছি বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য  ‘ইযিন’ নেয়ার সময়  সাক্ষীদের উপস্থিতি জরুরি কি না?

উত্তর

বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য আকদের মজলিসে ইজাব কবুলের সময় সাক্ষীদের উপস্থিতি জরুরি। কনে থেকে সম্মতি নেওয়ার সময় কোনো সাক্ষী রাখা আবশ্যক নয়।

উল্লেখ্য যে, শরীয়তের কোনো বিষয়ে না জেনে কথা বলা মারাত্মক অন্যায়।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৫২৯; ফাতহুল কাদীর ৩/২০১; আলবাহরুর রায়েক ৩/৮৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬৯

শেয়ার লিংক

তন্নি আক্তার - বসিলা, ঢাকা

৪৮৪৫. প্রশ্ন

আমরা দুই ভাই এক বোন। আমার বাবা নেই। উভয়েই কাপড়ের ব্যবসা করেন। আমি ইন্টার পাশ করার পর তারা আমার বিবাহের জন্য একটি ছেলেকে পছন্দ করেন। ছেলেটি দ্বীনদার না হওয়াতে আমি রাযি হইনি। এরপর আমার মামা (যার মাধ্যমে আমি দ্বীনের বুঝ পেয়েছি) আমার জন্য একটি দ্বীনদার পাত্র ঠিক করেন, যার অর্থনৈতিক অবস্থা আমাদের থেকে কিছুটা দুর্বল। আমার বড় ভাইয়ের সম্মতিতে তার সাথে মহরে মিছিলে আমার বিবাহ হয়। এসময় আমার ছোট ভাই ব্যবসায়ী কাজে ইন্ডিয়াতে ছিলেন। আকদের দুই দিন পরে ইন্ডিয়া থেকে আসেন এবং বলেন আমি এই বিয়েতে রাযি নই। কারণ তারা আমাদের থেকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। এ বিষয়ে তিনি অনেক কঠোরতা করেছেন। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, ছোট ভাইয়ের সম্মতি ছাড়া অর্থনৈতিক দিক থেকে গাইরে কুফুর মধ্যে বিবাহ হওয়ার দ্বারা কি আমাদের বিবাহ সহীহ হয়েছে? শরয়ীভাবে আমার ছোট ভাই কি আমাদের বিবাহ ভেঙ্গে দেয়ার অধিকার রাখে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনাদের বিবাহ সহীহ হয়েছে। এক্ষেত্রে বড় ভাই ওলি হিসেবে তার সম্মতি আছে এবং কুফুর মধ্যে বিবাহ হয়েছে। সুতরাং ছোট ভাইয়ের জন্য এ বিয়েতে আপত্তি করা অন্যায় হবে। তার কর্তব্য এ বিবাহ মেনে নেওয়া।

প্রকাশ থাকে যে, মেয়ের তুলনায় ছেলের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হলেও মহরে মুআজ্জাল (المهر المعجل)  তথা মহরের নগদ আদায়যোগ্য অংশ ও ভরণ-পোষণের সামর্থ্য রাখলে ‘কুফু ফিল মাল’ (অর্থনৈতিক দিক থেকে সমতা) পাওয়া গেছে বলে ধর্তব্য হয়। তাই প্রশ্নোক্ত বিবাহটি কুফুর ভেতরই হয়েছে। তাছাড়া গাইরে কুফুতে যদি কোনো ওলির সম্মতিতে বিবাহ হয়ে যায় অন্য ওলিদের জন্য উক্ত বিবাহ বিচ্ছেদ করার অধিকার থাকে না। তাই বড় ভাইয়ের সম্মতিতে যে বিবাহ হয়েছে তা ছোট ভাইয়ের জন্য ভেঙ্গে দেয়ার সুযোগ নেই।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৪/২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৯১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৫১; আলবাহরুর রায়েক ৩/১২৯; মাজমাউল আনহুর ১/৫০৫; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশিক - কুষ্টিয়া

৪৮৪৪. প্রশ্ন

মুহতারাম, দুই বছর আগে রমযানে ‘ইসলামিক নলেজ’ নামের একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আমি ১ম স্থান অধিকার করি। পুরস্কার স্বরূপ সে বছর আমাকে হজে¦ নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। এখন আমার হজ্ব করার সামর্থ্য আছে। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় কি আমার জন্য পুনরায় হজ্ব করা আবশ্যক?

উত্তর

আপনি যদি হজে¦র ইহরামের সময় নফল হজে¦র নিয়ত না করে থাকেন; বরং সাধারণ নিয়তেই হজ্ব করে থাকেন তবে তা দ্বারাই আপনার ফরয হজ্ব আদায় হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সামর্থ্যবান হওয়ার পর আপনার জন্য পুনরায় হজ্ব করা আবশ্যক হবে না। তবে আপনি চাইলে নফল হজ্ব আদায় করতে পারেন।

-ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৭৭; আলবাহরুল আমীক ১/৩৭৬; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী, পৃ. ৬৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন হিশাম - খুলনা, বাগেরহাট

৪৮৪৩. প্রশ্ন

আল্লাহ তাআলার তাওফীকে আমি গত বছর হজ্বে গিয়েছিলাম। এর আগে একবার উমরা করেছি। সামনে রমযানেও উমরা করার ইচ্ছা আছে। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, অনেক সময় তাওয়াফ ও সাঈর চক্কর নিয়ে সন্দেহ হয় যে, কয়টি চক্কর হল। তো তাওয়াফ ও সাঈর চক্করের ব্যাপারে সন্দেহ হলে কী করণীয়? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

তাওয়াফ ও সাঈ আদায়কারীর কয় চক্কর হয়েছে এ নিয়ে যদি সন্দেহ হয়, তাহলে কম সংখ্যাটি ধরে নিয়ে সাত বার পূর্ণ করবে।

উল্লেখ্য যে, গণনার সুবিধার্থে ৭ দানার তাসবীহ হাতে রাখতে পারবেন।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ১৩৫২৪; আলবাহরুল আমীক ২/১২৩০; রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৬; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী, পৃ. ১৬৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবরাহীম - মুহাম্মাদ নগর, খুলনা

৪৮৪২. প্রশ্ন

গত বছর আব্বা ও আম্মাকে নিয়ে হজ্বে গিয়েছিলাম। আব্বা অনেক বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। মুআল্লিম সাহেব হজ্বের নিয়মাবলী বলে দেওয়ার পরও আব্বা অনেক কিছু ভুলে গিয়েছিলেন। ১০ তারিখ কংকর মারার সময় আব্বা দুটি কংকর একসাথে মেরেছিলেন।

মুফতী সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল, কংকর মারার সময় যদি দুইটি বা তিনটি কংকর একসাথে নিক্ষেপ করে ফেলে তাহলে করণীয় কী? এটার কারণে কোনো জরিমানা আসবে কি না? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

জামরায় কংকর মারার সময় প্রত্যেক কংকর পৃথকভাবে নিক্ষেপ করা আবশ্যক। একাধিক কংকর একত্রে নিক্ষেপ করলে একটি কংকর মারা হয়েছে বলে ধর্তব্য হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার আব্বা যেহেতু একসাথে দুইটি কংকর নিক্ষেপ করেছেন, তাই এ দুটি মিলে একটি কংকর মারা হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। এক্ষেত্রে তার করণীয় ছিল, আরো একটি কংকর নিক্ষেপ করা। কিন্তু তিনি যদি এমনটি না করে থাকেন, তাহলে তাকে এজন্য একটি ফিতরা পরিমাণ সদকা আদায় করতে হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৬৬; ফাতহুল কাদীর ২/৩৮৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩২৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৪৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৫৩০; আলবাহরুল আমীক ৩/১৬৭৬; গুনয়াতুন নাসিক, পৃ. ১৮৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশিক - মিরপুর

৪৮৪১. প্রশ্ন

আমি একজনকে মাসে ১৫ হাজার টাকায় বাসা ভাড়া দিই। সে ৫০ হাজার টাকা এ্যাডভান্স দেয়। এরপর গত দুই বছর ধরে তার থেকে বাসা ভাড়া আদায় করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আমার ছেলে অনেক কষ্টে তার থেকে দুই বছরের বাসা ভাড়া বাবদ তিন লক্ষ দশ হাজার টাকা উসূল করতে সক্ষম হয়।

মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই টাকাগুলোর যাকাতের বিধান কী? আমাকে কি এই টাকাগুলোর বিগত দুই বছরের যাকাত দিতে হবে?

উল্লেখ্য যে, উক্ত টাকা ছাড়া আমার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।

উত্তর

বাসা ভাড়া বাবদ আপনি যে তিন লক্ষ দশ হাজার টাকা পেয়েছেন সেগুলোর বিগত বছরের যাকাত দিতে হবে না। বরং এই টাকাগুলো পাওয়ার পর যাকাতবর্ষ পূর্ণ হলে তখন যা থাকবে তার যাকাত আদায় করতে হবে।

-শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/৩৪১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২৪৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমীর - রাজবাড়ি

৪৮৪০. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার ব্যবসায় লস হয়। ফলে আমি কিছুটা আর্থিক সংকটে পড়ি। তবে আমার সংকট এমন ছিল না, যার কারণে আমি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হব। আমার ভগ্নিপতি বিষয়টি বুঝতে না পেরে সহায়তার নামে আমাকে যাকাতের টাকা প্রদান করে, যা আমি বোনকে গোপনে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি।

মুহতারামের নিকট প্রশ্ন হল, আমি এই টাকাগুলো কী করব?

উত্তর

বাস্তবে যদি আপনি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হন, তাহলে আপনার জন্য এই টাকা ভোগ করা জায়েয হবে না। এক্ষেত্রে আপনার কর্তব্য হল, টাকাগুলো আপনার ভগ্নিপতিকে ফেরত দেওয়া কিংবা তার পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যক্তিকে সদকা করে দেওয়া।

-ফাতহুল কাদীর ২/২১৪; আননাহরুল ফায়েক ১/৪৬৭; আলবেনায়াহ শরহুল হেদায়াহ ৪/২০৮; রদ্দুল মুহতার ২/৩৫৩

শেয়ার লিংক

আহসানুল্লাহ - নড়িয়া, শরীয়তপুর

৪৮৩৯. প্রশ্ন

গত রমযানে আমাদের গ্রামের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে আমরা আটজন ইতিকাফে বসি। পাশের জামে মসজিদে আমার দুই মামাও ইতিকাফে বসেন। আটাশ রমযানে সেই মসজিদে জুমার নামায পড়তে গেলে বড় মামা আমাকে জোর করে রেখে দেন। ফলে বাকি দুদিন সেখানে থেকে ইতিকাফ পূর্ণ করি। এক হুজুরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করলে ইতিকাফ হয়ে যাবে বলে মত দেন। কিন্তু এ বিষয়ে খটকা রয়ে যায়। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন হল, এ বিষয়ে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ইতিকাফ সহীহ হয়ে গেছে। কেননা পাঞ্জেগানা মসজিদে ইতিকাফ শুরু করার পর জুমা আদায়ের প্রয়োজনে জামে মসজিদে গেলে এবং সেখানে থেকে গিয়ে বাকি দিনগুলোর ইতিকাফ পূর্ণ করলে ঐ ইতিকাফ আদায় হয়ে যায়। তবে ফকীহগণ শরয়ী প্রয়োজন (যেমন মসজিদ ভেঙে পড়া ইত্যাদি) ছাড়া এমন করা অনুত্তম বলেছেন।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১১৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮৩; ফাতহুল কাদীর ২/৩১০; আলইনায়া ২/৩১০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৪৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আসাদ - বরিশাল

৪৮৩৮. প্রশ্ন

গত রমযানে সেহরির পর তাড়াহুড়া করে পান খাওয়ার জন্য কামড় দিয়ে সুপারি ভাঙতে গিয়ে দাঁতে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অনেকক্ষণ কুলি করার পর রক্ত পড়া বন্ধ হয়। পরবর্তীতে বেসিনে থুথু ফেললে তাতে হালকা রক্তের ভাব দেখতে পাই।

মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা, এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গিয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু থুথুর সঙ্গে রক্তের পরিমাণ কম ছিল তাই তা গিলে ফেলার কারণে আপনার রোযা নষ্ট হয়নি।

প্রকাশ থাকে যে, এক্ষেত্রে রক্তের পরিমাণ যদি বেশি থাকত অর্থাৎ থুথু যদি গাঢ় লাল হত তাহলে গলায় এ রক্ত চলে গেলে রোযা ভেঙ্গে যেত। সেক্ষেত্রে শুধু কাযা করা লাগত। কাফফারা নয়।

-খিযানাতুল আকমাল ১/৩২৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৪; ফাতহুল কদীর ২/২৫৮; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ ১/২১৭

শেয়ার লিংক

আবুল কালাম - মুগদা, ঢাকা

৪৮৩৭. প্রশ্ন

জানাযার নামাযে হাত কখন ছাড়বে এ বিষয়ে জানতে চাচ্ছি। কেউ কেউ দেখি চতুর্থ তাকবীরের পর হাত ছেড়ে দেয়, তারপর সালাম ফেরায়। আর কেউ কেউ উভয় দিকে সালামের পর হাত ছাড়ে। আর মাঝে মাঝে কাউকে দেখি ডানদিকে সালাম ফেরানোর পর ডান হাত এবং বামদিকে সালাম ফেরানোর পর বাম হাত ছাড়ে। এ বিষয়ে সঠিক পদ্ধতিটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

জানাযার নামাযে কখন হাত ছাড়বে এ বিষয়ে ফকীহগণ থেকে দুটো মত পাওয়া যায়।

১. চতুর্থ তাকবীরের পর উভয় হাত ছেড়ে দিবে এরপর সালাম ফেরাবে।

২. উভয় দিকে সালাম ফেরানোর পর হাত ছাড়বে। দুটি মতই শুদ্ধ। যে কোনোটির উপর আমল করা যেতে পারে।

আর প্রশ্নে তৃতীয় যে পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ ডানদিকে সালাম ফিরিয়ে ডান হাত ছেড়ে দেওয়া এবং বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে বাম হাত ছাড়া তা  দলীলের নিরিখে সহীহ নয়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৫; আসসেআয়াহ ২/১৫৯; রদ্দুল মুহতার ১/৪৮৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৫০৩; কেফায়াতুল মুফতী ৫/৩৫২

শেয়ার লিংক

আবদুল হক - যশোর

৪৮৩৬. প্রশ্ন

কিছু দিন আগে আমার এক চাচা বাসায় বেড়াতে আসেন। আসরের সময় একসঙ্গে মসজিদে যাই। যেতে দেরি হওয়ায় গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব সালাম ফিরাচ্ছেন। তাই আমি মসজিদের এক পাশে গিয়ে নামায আদায় করি। নামায শেষে জানতে পারি, জামাতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে চাচা একজন মাসবুকের পেছনে ইক্তিদা করে নামায আদায় করেছেন।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, মাসবুকের পেছনে ইক্তিদা করে তার নামায পড়া কি সহীহ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

মাসবুক ব্যক্তি নিজের ছুটে যাওয়া নামায আদায়ের সময়ও মুক্তাদীর হুকুমে থাকে। তাই মাসবুকের ইকতেদা করা সহীহ নয়। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার চাচার ঐ আসরের নামায আদায় হয়নি। তাকে ঐ দিনের আসর নামায কাযা করে নিতে হবে।

-ফাতহুল কাদীর ১/৩৩৯; শরুহল মুনয়া, পৃ. ৪৬৭; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৭৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১১৩; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/৫৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - ঝিকোরগাছা, যশোর

৪৮৩৫. প্রশ্ন

আমি এক মসজিদের ইমাম। আমি জানি, সিজদার আয়াত যদি সূরার শেষে থাকে এবং সিজদার আয়াতের পর এক-দু আয়াত বাকি থাকে, তাহলে সূরা শেষ করে নামাযের রুকুর মাধ্যমে যদিও সিজদা আদায় হয়ে যায়, কিন্তু উত্তম হল, সিজদার আয়াত পড়ে ভিন্নভাবে সিজদা দেওয়া।

এক্ষেত্রে মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, ভিন্নভাবে সিজদা দেওয়ার পর দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট এক-দু আয়াত পড়ে রুকু করবে? নাকি অন্য সূরা থেকে আরো কিছু আয়াত মিলিয়ে রুকু করবে?

আর যেসব সূরা সিজদার আয়াতের মাধ্যমে শেষ হয়, যেমন- সূরা ‘আলাক’। সেক্ষেত্রে যদি সূরা শেষ করে সিজদা করে এবং সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে কিরাত না পড়েই রুকু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করে তাহলে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি না? দলীলসহ উক্ত বিষয়গুলোর সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

নামাযে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা করার পর দাঁড়িয়ে দুই/তিন আয়াত পড়ে রুকু করা মুস্তাহাব। এক্ষেত্রে পূর্বের সূরা শেষ হয়ে গেলে অন্য সূরা থেকেও পড়তে পারবে। তিলাওয়াতের সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে কোনো আয়াত না পড়েই রুকুতে চলে যাওয়া অনুত্তম। তবে কিছু না পড়ে রুকুতে গেলেও নামায হয়ে যাবে।

-কিতাবুল আছল ১/২৭৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৮; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৯২; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ২৬৪; রদ্দুল মুহতার ২/১১১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হুসাইন আহমদ - রামপুরা, ঢাকা

৪৮৩৪. প্রশ্ন

আমার বাড়ি খুলনায়। আমি ঢাকা রামপুরার এক মসজিদে ইমামতী করি। উভয় ঈদের খুতবার শুরুতে সাধারণত আমি তাকবীরে তাশরীক পড়ি না। তবে খুতবার মাঝে পড়ি। গত ঈদের আগে খুলনায় গিয়েছিলাম। ঈদের নামায আমাদের বাড়ির পাশে এক মসজিদে পড়ি। ইমাম সাহেব উভয় খুতবার শুরুতে কয়েকবার তাকবীর পড়েন। নামায শেষে ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, খুতবার শুরুতে এভাবে তাকবীর পড়া মুস্তাহাব।

মুফতী সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল, খুতবার শুরুতে তাকবীর বলার শরয়ী বিধান কী? বিস্তারিত দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

দুই ঈদের খুতবার শুরুতে বেশি বেশি তাকবীর পড়ার কথা বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে। যেমন উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ রাহ. বলেন-

السّنّةُ التّكْبِيرُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْعِيدِ، يَبْدَأُ خُطْبَتَهُ الْأُولَى بِتِسْعِ تَكْبِيرَاتٍ قَبْلَ أَنْ يَخْطُبَ، وَيَبْدَأُ الْآخِرَةَ بِسَبْعٍ.

ঈদের দিন মিম্বরে (ইমামের) তাকবীর পাঠ করা সুন্নত। প্রথম খুতবার শুরুতে নয় বার ও দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে সাত বার তাকবীর বলবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৫৬৭৪, ৫৬৭২, ৫৬৭৩

আরো দেখুন, সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৩/২৯৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৯১৬, ৫৯১৭)

-কিতাবুল উম্ম, ইমাম শাফেয়ী ১/২৭৩; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৪৯; এলাউস সুনান ৮/১৬১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলীল - সিলেট

৪৮৩৩. প্রশ্ন

আমার জানামতে আমাদের সমাজে কিছু মানুষ যে কোনো ফরয নামায (বিশেষ করে ফজরের ফরয নামায)-এর জামাতে অনুপস্থিত থাকে। কারণ হিসাবে তারা বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবসময় নামায আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করতেন এবং আবু দাউদ শরীফের একটি হাদীসে আছে, ‘যখন তোমাদের ইমামগণ নামায আদায়ে বিলম্ব করবে তখন তোমরা নিজেরা উক্ত নামায ঘরে আদায় করবে। পরে তাদের সাথে মিলিত হলে পুনরায় জামাতে শরীক হবে। তা তোমাদের জন্য নফল।’

তাদের এ বক্তব্য কতটুকু সঠিক এবং উক্ত কারণে জামাতে অনুপস্থিত থাকার গুনাহ হবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোল্লেখিত ব্যক্তিদের মসজিদের জামাত থেকে অনুপস্থিত থাকা এবং এর স্বপক্ষে উক্ত দলীল পেশ করা সহীহ নয়। আর সুনানে আবু দাউদের উক্ত হাদীসটি এক্ষেত্রে দলীল নয়। তাছাড়া মাগরিব ছাড়া প্রত্যেক নামাযেরই একটি মুস্তাহাব সময় রয়েছে। যা আওয়াল ওয়াক্ত থেকে কিছুটা পরে। যেমন, ফজরের নামায সম্পর্কে হযরত রাফে বিন খাদিজ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

أَسْفِرُوا بِالفَجْرِ، فَإِنّهُ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ.

তোমরা ফজরের নামায চারদিক আলোকিত হয়ে যাওয়ার পর পড়বে। কেননা তাতে অধিক সওয়াব রয়েছে। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫৪)

যোহরের নামায সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-

إِذَا اشْتَدّ الحَرّ فَأَبْرِدُوا بِالصّلاَةِ.

রোদের তাপ বেশি হলে তাপমাত্রা কমে আসার পর যোহরের নামায পড়।  (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৩৬)

আসরের নামায সম্পর্কে হযরত জাবের রা. বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يُصَلِّي الظّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ، وَالْعَصْرَ وَالشّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيّةٌ.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের নামায আদায় করতেন দ্বিপ্রহরে। আর আসর নামায আদায় করতেন সূর্য শুভ্র ও উজ্জ্বল থাকতেই। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৫২৭)

ইশার নামায সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন-

مَكَثْنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ لِصَلَاةِ الْعِشَاءِ الْآخِرَةِ، فَخَرَجَ إِلَيْنَا حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللّيْلِ، أَوْ بَعْدَهُ، فَلَا نَدْرِي أَشَيْءٌ شَغَلَهُ فِي أَهْلِهِ، أَوْ غَيْرُ ذَلِكَ، فَقَالَ حِينَ خَرَجَ: إِنّكُمْ لَتَنْتَظِرُونَ صَلَاةً مَا يَنْتَظِرُهَا أَهْلُ دِينٍ غَيْرُكُمْ، وَلَوْلَا أَنْ يَثْقُلَ عَلَى أُمّتِي لَصَلّيْتُ بِهِمْ هَذِهِ السّاعَةَ، ثُمّ أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ فَأَقَامَ الصّلَاةَ، وَصَلّى.

অর্থাৎ রাতের এক তৃতীতয়াংশ বা আরো বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইশার নামায পড়িয়ে বললেন, আমার উম্মতের জন্য কঠিন না হলে এ নামায আমি এ সময়েই পড়তাম। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৩৯)

এসব হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মাগরিব ছাড়া অন্যান্য নামাযের মুস্তাহাব সময় আওয়াল ওয়াক্তে নয়; বরং ওয়াক্ত শুরু হওয়ার কিছুটা পরে।

আর আবু দাউদের হাদীসে এক শ্রেণির আমীর-উমারা কর্তৃক নামাযের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর অথবা একেবারে ওয়াক্তের শেষ প্রান্তে এসে নামায পড়ার ভবিষ্যদ্বাণী করে সে সময়ের করণীয় নির্দেশ করা হয়েছে যে, সেক্ষেত্রে তোমরা একাকী নামায পড়ে নেবে এবং পরে তাদের সাথে জামাতে শরীক হবে। সুনানে আবু দাউদের পূর্ণ হাদীসটি এই-

عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ: إِنّهَا سَتَكُونُ عَلَيْكُمْ بَعْدِي أُمَرَاءُ تَشْغَلُهُمْ أَشْيَاءُ عَنِ الصّلَاةِ لِوَقْتِهَا حَتّى يَذْهَبَ وَقْتُهَا فَصَلّوا الصّلَاةَ لِوَقْتِهَا، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ أُصَلِّي مَعَهُمْ؟، قَالَ: نَعَمْ، إِنْ شِئْتَ.

উবাদাহ ইবনে সামিত রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার পর এমন কিছু শাসক আসবে যারা নির্ধারিত সময় থেকে নামাযকে বিলম্ব করবে এমনকি নামাযের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে। সে সময় তোমরা নামায যথা সময়ে আদায় করে নিবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি (অতপর) তাদের সাথে নামায পড়ে নিব? তিনি বললেন, হাঁ, তুমি চাইলে তা করতে পার। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৩৩)

এ হাদীসের পাঠ থেকেই একথা স্পষ্ট যে, ফাসেক আমীরগণ ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর নামায পড়বে। আওয়াল ওয়াক্ত থেকে বিলম্ব করার কোনো কথা এখানে বলা হয়নি। অতএব মুস্তাহাব ওয়াক্তে আদায়ের জন্য আওয়াল ওয়াক্ত থেকে কিছুটা বিলম্ব করার ক্ষেত্রে ঐ হাদীস কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়।

আর আমাদের দেশের মসজিদগুলোতে সাধারণত ফজরসহ অন্যান্য নামাযের জামাতের সময় মুস্তাহাব ওয়াক্তকে কেন্দ্র করেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। সুতরাং শরীয়তসম্মত ওজর ব্যতীত শুধু ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে জামাত অনুষ্ঠিত না হওয়ার অজুহাতে মসজিদের জামাতে অনুপস্থিত থাকা অন্যায়।

মুসলিমদের জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে হাদীসে কঠোর ধমকি এসেছে। এক হাদীসে আছে, হযরত আবু দারদা রা.-কে লক্ষ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

عَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ الْقَاصِيَةَ.

তুমি (মুসলিমদের) জামাআতকে নিজের উপর আবশ্যকীয় করে নাও। কেননা দলছুট বকরীকে নেকড়ে খেয়ে ফেলে। -সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ২১০১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫৪৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১৭১০

আর মসজিদে নামাযের জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন-

مَنْ سَرّهُ أَنْ يَلْقَى اللهَ غَدًا مُسْلِمًا، فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلَاءِ الصّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنّ، فَإِنّ اللهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ سُنَنَ الْهُدَى، وَإِنّهُنّ منْ سُنَن الْهُدَى، وَلَوْ أَنّكُمْ صَلّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ، لَتَرَكْتُمْ سُنّةَ نَبِيِّكُمْ، وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ... وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلّفُ عَنْهَا إِلّا مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ، وَلَقَدْ كَانَ الرّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرّجُلَيْنِ حَتّى يُقَامَ فِي الصّفِّ.

যে ব্যক্তি আশা রাখে যে, সে কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে মুসলিম অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, তার উচিত, সে যেন ঐ জায়গায় এই নামাযসমূহ আদায়ের প্রতি যত্নবান হয়; যেখানে আযান দেওয়া হয় (অর্থাৎ মসজিদে)। কেননা, মহান আল্লাহ তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য এমন সুন্নাহ নির্ধারণ করেছেন, যা হেদায়েত। আর নিশ্চয় এই নামাযসমূহ (মসজিদে আদায় করা) হেদায়েতের সুন্নাহ। যদি তোমরা (ফরয) নামায নিজেদের ঘরেই পড়, যেমন এই পিছিয়ে থাকা লোক নিজ ঘরে নামায পড়ে, তাহলে তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার করলে। আর (মনে রেখো,) যদি তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার কর, তাহলে নিঃসন্দেহে পথহারা হয়ে যাবে। একটা সময়  ছিল যখন আমরা মুসলিমদের দেখেছি যে, (তারা জামাত থেকে পিছনে থাকত না) শুধু দেখেছি যে, নামায (জামাতসহ পড়া) থেকে কেবল প্রকাশ্য মুনাফিকই পিছিয়ে থাকত। আরো দেখেছি যে, অসুস্থ ব্যক্তি দু’জনের উপর ভর করে মসজিদে আসত এবং তাকেও (নামাযের) সারিতে দাঁড় করানো হত। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫৪)

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - বি. বাড়িয়া

৪৮৩২. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমরা জানি, মুসল্লির সামনে অন্তত এক হাত পরিমাণ সুতরা থাকলেই তার সামনে দিয়ে চলাচল করা যায়। কিন্তু একটি বইয়ে দেখতে পেলাম যে, সেখানে উল্লেখ আছে, ‘যে ব্যক্তি নামায আদায় করবে সেই সুতরা স্থাপন করবে। সুতরাং নামাযী ব্যক্তি যদি সুতরা স্থাপন না করে তাহলে অতিক্রমকারী তার সামনে সুতরা রেখে অতিক্রম করতে পারবে না।’ আমার জানার বিষয় হল, ঐ বইয়ের বক্তব্যটি কি ঠিক?

উত্তর

না, বইয়ের উক্ত বক্তব্যটি ঠিক নয়। মুসল্লি যদি সুতরা স্থাপন না করে তাহলে অতিক্রমকারী নিজে মুসল্লির সামনে সুতরা রেখে অতিক্রম করতে পারবে।

-ফাতহুল কাদীর ১/৩৫৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৮৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৪; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৬

শেয়ার লিংক

আবুল হাশেম - মাধবপুর, হবিগঞ্জ

৪৮৩১. প্রশ্ন

আমাদের বাজার মসজিদে এশার সময় একদিন ইমাম সাহেব ছিলেন না। তখন এক মুসল্লী ইমামতী করে। সে আলেম না। তবে তার কেরাত শুদ্ধ। যখন নামায শুরু হয় তখন কোনো আলেম ছিলেন না। দ্বিতীয় রাকাতে এক আলেম এসে নামযে শরীক হন। নামাযের পর কেউ কেউ বলছে ঐ ব্যক্তি যেহেতু আলেম নয় তাই তার পেছনে আলেম ইকতেদা করার কারণে কারো নামায হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছে। এ ব্যাপারে শরীয়তের মাসআলা জানতে চাই।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সবার নামাযই আদায় হয়েছে। ঐ ব্যক্তির পেছনে আলেমের ইকতেদা করার কারণে কারো নামায হয়নি- প্রশ্নের এ কথাটি ঠিক নয়। কেননা যার তিলাওয়াত শুদ্ধ সে আলেম না হলেও তার পেছনে আলেমের ইকতেদা করা সহীহ আছে এবং এতে কারো নামায নষ্ট হয় না।

-মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৮০; যাদুল ফাকীর, ইবনুল হুমাম, পৃ. ১৬০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৫০; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৩৩২

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement