উম্মে সায়েমা - মিরপুর, ঢাকা

৪১৫৫. প্রশ্ন

হুযুর! আমার মেয়ে নার্সারীতে পড়ে। ওদের অঙ্কনের ক্লাস হয়। এ ক্লাসে শিক্ষকরা ওদেরকে দিয়ে বিভিন্ন প্রাণীর ছবি আঁকায় ও রং করায়। আমি জানতে চাচ্ছি- প্রাণীর ছবি আঁকা কি জায়েয আছে? আমি মা হিসেবে এক্ষেত্রে আমার কর্তব্য কী? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।
 

উত্তর

প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা হারাম। এটি অনেক বড় গুনাহ। এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

إِنّ أَشَدّ النّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللّهِ يَوْمَ القِيَامَةِ المُصَوِّرُونَ

কিয়ামতের দিন ছবি অঙ্কনকারীরা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশি শাস্তির সম্মুখীন হবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৫০; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১০

অন্য হাদীসে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত রয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

إِنّ الّذِينَ يَصْنَعُونَ هَذِهِ الصّوَرَ يُعَذّبُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، يُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ.

নিশ্চয়ই যারা এসকল ছবি আঁকে তাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে এবং বলা হবে- তোমরা তোমাদের সৃজিত বস্তুতে (পারলে) প্রাণ সঞ্চার কর। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৫১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১০৮

তাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের কর্তব্য কোমলমতি শিশুদেরকে দিয়ে প্রাণীর ছবি অঙ্কন না করানো। তবে প্রাণী ছাড়া অন্য জড় বস্তুর ছবি আঁকতে পারে। এতে কোনো বাধা নেই। যেমন- গাছপালা, ফল-ফুল ইত্যাদি।

-ফাতহুল বারী ১০/৩৯৭; উমদাতুল কারী ২২/৭০; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭

শেয়ার লিংক

আমীনুর রহমান - নড়াইল

৪১৫৪. প্রশ্ন

আমার বড় ভাইয়ের বিয়েতে বেশ কিছু স্বর্ণের আংটি গিফট আসে। ভাইয়া আমাদের পাঁচ ভাইয়ের প্রত্যেককে ব্যবহারের জন্য একটি করে আংটি দেয়। আমি জানি, পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম। সবাইকে বিষয়টি জানালে তারা তা থেকে বিরত হয়। কিন্তু আমার ছোট ভাই, যার বয়স দশ বছর ভাইয়া তাকে ছোট করে একটি আংটি বানিয়ে দেয় এবং বলে, ছোটদের আবার নিষেধাজ্ঞা আছে নাকি? এখন আমি জানতে চাই, ছোটদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা বৈধ কি না?
 

উত্তর

ছোট ছেলেদেরকেও স্বর্ণ ব্যবহার করতে দেওয়া নাজায়েয। এতে তার অভিভাবকের গুনাহ হবে। হাদীসে এসেছে, আলী রা. বলেন,

إن نَبِي اللهِ صَلَى الله عَلَيهَ وَسَلم أَخَذَ حَرِيراً فَجَعَلَه فِي يَمِينِه، وَأَخَذَ ذَهَباً فَجَعَلَه فِي شِمَالِه، ثم قَالَ: إنَ هذَينِ حَرَامٌ عَلى ذُكُورِ أُمَتي.

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাতে রেশমি কাপড় আর বাম হাতে স্বর্ণ নিয়ে বললেন, এই দুটি আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪০৫৪; সুনানে নাসায়ী ৮/১৬০

ফকীহগণ বলেন, উপরোক্ত হাদীসের নিষেধাজ্ঞাটি ছোটদেরকে পরানোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অতএব বড়রা পরালে তাদের গুনাহ হবে।

-শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৮/৫২৯-৫৩০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৩৭; জামিউ আহকামিস সিগার ১/২১২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৩১

শেয়ার লিংক

মাহফুজুর রহমান - বরিশাল

৪১৫৩. প্রশ্ন

একজন স্ত্রীলোকের মা-বাবা উভয়েই খুব অসুস্থ। টানা অনেকদিন রোগাক্রান্ত থাকায় তারা অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণ করার সক্ষমতাটুকুও তাদের নেই। তাই স্ত্রীলোকটি মা-বাবার সেবা-যত্ন করার জন্য তাদের কাছে যেতে চায়; কিন্তু তার স্বামী অনুমতি দেয় না। এ পরিস্থিতিতে সে কি স্বামীর কথা না মেনে মা-বাবার খেদমত করার জন্য যেতে পারবে? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে স্বামীর কর্তব্য স্ত্রীকে মা-বাবার প্রয়োজনীয় খেদমতের জন্য যেতে দেয়া। কিন্তু স্বামী যদি কিছুতেই যাওয়ার অনুমতি না দেয়, আর মা-বাবার এমন কোনো সন্তান বা এমন কেউ না থাকে যে তাদের সেবাযত্ন করবে তাহলে মহিলার জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়াই মা-বাবার খেদমতে যাওয়া জায়েয হবে। কেননা স্ত্রীর উপর যেমনিভাবে স্বামীর হক আছে তেমনি সন্তানের উপর পিতা-মাতারও শরীয়ত কর্তৃক কিছু নির্ধারিত হক আছে। বিয়ের পরও সেসব হক অবশিষ্ট থাকে। তাই মা-বাবা বৃদ্ধ হয়ে গেলে বা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং মেয়ে ছাড়া অন্য কেউ সেবা করার মত না থাকলে তার কর্তব্য হয়ে যায় তাদের খেদমত করা। এক্ষেত্রে স্বামীর বাধা দেয়ার অধিকার নেই।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৪৪৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/২৩৬;  আদ্দুররুল মুখতার ৩/৬০৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩০৮; ফাতহুল কাদীর ৪/২০৮; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৯৫

শেয়ার লিংক

মায়মূন যায়েদ - রামনগর, যশোর

৪১৫২. প্রশ্ন

আমার নানা গরু লালন-পালন করেন। প্রতি বছর কুরবানীর সময় পালিত গরুগুলোর মধ্য থেকেই একটিকে কুরবানী করেন। এ বছর যে গরুটি কুরবানী করতে চাচ্ছেন সেটির অনেকগুলো দাঁত নেই। কিছু দাঁত আছে; তবে সেগুলোও ভাঙা। তবে গরুটি এখনও কষ্ট করে হলেও খাদ্য চিবিয়ে খেতে পারে। জানতে চাচ্ছি, এ গরুটি দিয়ে কুরবানী সহীহ হবে কি?

 

উত্তর

গরুটির যেহেতু এ পরিমাণ দাঁত আছে, যা দ্বারা সে খাদ্য চিবিয়ে খেতে পারে তাই ঐ গরু দিয়ে কুরবানী করা সহীহ হবে। কেননা এক্ষেত্রে খাদ্য চিবিয়ে খেতে পারাই মূল বিষয়; দাঁত বেশি বা কম থাকা মুখ্য নয়।

-মাবসূত, সারাখসী ১২/১৭; বাদায়েউস সনায়ে ৪/২১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৮

শেয়ার লিংক

হাবীবুল্লাহ - সিলেট

৪১৫১. প্রশ্ন

আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। আমার উপর কোনো বছর যাকাত ফরয হয় আবার কোনো বছর ফরয হয় না। কিন্তু আমি প্রতি বছর কুরবানী করি। আমাকে একজন বললেন, যে বছর আপনার উপর যাকাত ফরয হয় না সে বছর আপনার কুরবানী করা লাগবে না। এখানে আমার প্রশ্ন হল, ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক কি না? আর বাস্তবে কতটুকু সম্পদ থাকলে কুরবানী ওয়াজিব হয়? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

 

 

উত্তর

ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। কারণ যাকাত ও কুরবানী দুটো পৃথক পৃথক ইবাদত এবং উভয়ের ওয়াজিব হওয়ার কারণও ভিন্ন। একটি ফরয না হয়ে থাকলে অপরটিও হয় না এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং যাকাত ফরয হয় কেবল টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা ও ব্যবসায়িক পণ্যের উপর। আর কারো কাছে কুরবানীর দিনগুলোতে টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা ও ব্যবসায়িক পণ্য ছাড়াও সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য পরিমাণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে কোনো সম্পদ থাকলেই তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। অর্থাৎ কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা ও ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে সাথে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত সকল আসবাবপত্র হিসাবযোগ্য। অথচ যাকাতের ক্ষেত্রে এগুলো হিসাবযোগ্য নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ৬/২৮০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯২

শেয়ার লিংক

হামিদ হাসান - ঢাকা

৪১৫০. প্রশ্ন

কুরবানীর পশু জবাই করার পর তার পেটে জীবিত বাচ্চা পাওয়া গেলে তা কী করতে হবে? এমনিভাবে পশু ক্রয় করার পর কুরবানীর আগে বাচ্চা হলে উক্ত বাচ্চার কী হুকুম? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

 

উত্তর

কুরবানীর পশু জবাই করার পর তার পেটে জীবিত বাচ্চা পাওয়া গেলে তাকেও জবেহ করে দিবে এবং তার গোশতও খেতে পারবে। সাদকাও করতে পারবে।

আর কুবরানীর পশু খরিদ করার পর জবাইয়ের আগে তার বাচ্চা হলে উক্ত বাচ্চাকে জীবিত সাদকা করে দিবে। কিন্তু যদি জবাই করে তার গোশত খেয়ে ফেলে তবে বাচ্চাটির মূল্য সাদকা করে দিতে হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩২২, আল মুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭১, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১, রদ্দুল মুহতার ৬/৬২২

শেয়ার লিংক

বশির আহমাদ - রাজাপুর, ঝালকাঠী

৪১৪৯. প্রশ্ন

অনেক দিন আগের ঘটনা। একদিন রান্নার সময় দেখি, বাসায় লবণ নেই। তাই পাশের বাসা থেকে এক প্যাকেট লবণ ধার নেই। সেটি আর পরিশোধ করা হয়নি। এদিকে কিছুদিন হল লবণের দাম অনেক বেড়ে গেছে। প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। এখন কি আমাকে দাম বেশি হলেও এক কেজি লবণই পরিশোধ করতে হবে নাকি পূর্বের মূল্য বা সে হিসেবে বর্তমানে যে পরিমাণ লবণ হয় তা পরিশোধ করলেও চলবে?

 

উত্তর

কোনো বস্তু ধার নিলে নিয়ম হল, হুবহু ঐ বস্তুই সমপরিমাণ ফেরৎ দেওয়া। তাই বর্তমান বাজারে লবণের মূল্য বেশি হলেও আপনাকে সমপরিমাণ লবণই পরিশোধ করতে হবে। এর চেয়ে কম দেওয়া বা পূর্বের মূল্য দেওয়া জায়েয হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২০৮; রদ্দুল মুহতার ৫/১৬১-১৬২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ - সিলেট

৪১৪৮. প্রশ্ন

হুযুর আমি একজন মাদরাসার ছাত্র। আমার বাবা, ভাই কেউ নেই। অপর দিকে আয় উপার্জনেরও আমার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই একজন আলেম আমার হিতাকাক্সক্ষী হয়ে বলেছেন যে, আমি উনাকে ৫০,০০০/- টাকা দিলে মাসে দুই হাজার বা আড়াই হাজার টাকা তিনি ব্যবসা করে আমাকে দিবেন এবং আমার মূল টাকা আমি চাইলে দাওরা পাশ করার পর ফেরত দিবেন।

মুহতারামের নিকট জানতে চাচ্ছি, এই পন্থায় টাকা নেওয়া বৈধ হবে কি?

উত্তর

প্রশ্নে উল্লেখিত পন্থায় ব্যবসার জন্য টাকা দেওয়া জায়েয হবে না। কেননা এতে নির্দিষ্ট অংকে ২০০০/২৫০০ টাকা মুনাফা গ্রহণের চুক্তি করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত মূল টাকা অক্ষতভাবে ফেরৎ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু উক্ত দুটি বিষয়ই সুদী চুক্তির বৈশিষ্ট্য তাই এমন চুক্তি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

উল্লেখ্য যে, ঐ ব্যক্তির যদি বাস্তবেই কোনো হালাল ব্যবসা থাকে, তাহলে তার ব্যবসায় আপনি মুদারাবা ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে পারেন। বিনিয়োগের শরীয়তসম্মত আরো পন্থা রয়েছে। বিস্তারিত জানতে হলে নির্ভরযোগ্য কোনো ফতোয়া বিভাগ থেকে জেনে নিতে পারেন।

-কিতাবুল আসার, ইমাম মুহাম্মাদ ৭৬৪; কিতাবুল আছল ৪/১২৯; বাদায়েউস সনায়ে ৫/১১৯; শরহুল মাজাল্লাহ, খালেদ আতাসী ৪/৩৩৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রিদওয়ানুল ইসলাম - শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ

৪১৪৭. প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পেছনের দিকে এক কোণায় আমাদের মা-বাবা এবং দাদা-দাদির কবর আছে। সেখানে আমাদের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনেরও বেশ পুরোনো কিছু কবর আছে। সেগুলো আমাদের জন্মেরও বেশ আগের। অন্তত ৭০/৮০ বছরের পুরোনো হবে কবরগুলো। কবরের জায়গার পাশেই আমাদের একটি আম বাগান আছে। আমার ভাইয়েরা চাচ্ছে, কবরগুলো যেহেতু অনেক পুরোনো হয়ে গেছে তাই সেগুলোকে আম বাগানের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ের সঠিক বিধান কী? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কবরের জায়গা যদি ওয়াকফকৃত না হয় বরং আপনাদের মালিকানাধীন হয় এবং কবরগুলো অনেক পুরোনো হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে কবরগুলোকে সমান করে দিয়ে সেখানে ফলের গাছ লাগানো বা চাষাবাদ করা বৈধ হবে। এক্ষেত্রে যদি মাটির উপর কবরের চিহ্ন থাকে তবে তা সমান করে দিবেন। মাটি খনন করার সময় হাড় জাতীয় কোনো কিছু পাওয়া গেলে তা অন্যত্র দাফন করে দিবেন। আর যে কবরগুলো এখনো অনেক পুরোনো হয়নি সেগুলোর উপর চাষাবাদ করা যাবে না। এগুলোর পুরোনো হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৮৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৪৯৯; ফাতাওয়া রাহীমিয়া ৭/৬৯

শেয়ার লিংক

আব্দুল করীম - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৪১৪৬. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের সামনে একটি কবরস্থান আছে। মসজিদের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি বানানোর উপযুক্ত জায়গা নেই। এমতাবস্থায় নিচে ফাঁকা বা কবর রেখে উপরে দ্বিতীয় তলার জন্য সিঁড়ি বানানো যাবে কি না?

 

 

উত্তর

সাধারণ অবস্থায় কবরের উপর ছাদ দেওয়া নিষেধ। কিন্তু প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মসজিদের সিঁড়ির জন্য যদি বিকল্প কোনো ব্যবস্থাই না থাকে তবে ঐ স্থানেও সিঁড়ি বানানো যাবে। এক্ষেত্রে কবরস্থান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নিবে। এবং সিঁড়ির নিচে স্পষ্টত কোনো কবরের চিহ্ন রাখা যাবে না; বরং জায়গাটি সমতল করে দিবে এবং সিঁড়ির নিচে নতুন করেও কোনো কবর দেয়া যাবে না। অর্থাৎ পুরনো কবরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে সেখানে সিঁড়ি বানানো যাবে।

-রদ্দুল মুহতার ৪/৩৭৯; উমদাতুল কারী ৪/১৭৯

শেয়ার লিংক

আজমল খান - মিরপুর, ঢাকা

৪১৪৫. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের একই ছাদের সাথে মিলিয়ে নীচ তলায় এবং দ্বিতীয় তলায় কোয়াটার নির্মাণ করা হয়েছে। কোয়াটারটি মূল মসজিদের বাহিরের অংশে এবং এর প্রবেশপথ মসজিদের প্রবেশপথ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। জানতে চাচ্ছি, এ কোয়াটারে পরিবার নিয়ে বসবাস করা শরীয়তসম্মত হবে কি না? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

হাঁ, মসজিদ সংলগ্ন কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে বসবাস করা জায়েয। কোয়ার্টারের প্রবেশ পথ মসজিদের রাস্তা থেকে পৃথক রাখা উত্তম কাজ হয়েছে। আর কোয়ার্টারের ছাদ মসজিদের ছাদের সাথে মিলিয়ে দেয়া অন্যায় হয়নি।

-শরহুল মুনয়াহ পৃ. ৬১৪

শেয়ার লিংক

কামরুল ইসলাম - আদিতমারী, লালমনিরহাট

৪১৪৪. প্রশ্ন

আমি একটি কসম করেছিলাম, পরবর্তীতে তা ভঙ্গ হয়ে যায়। বিষয়টি একজন আলেমকে জানালে তিনি কসমের কাফফারা হিসেবে দশজন মিসকীনকে দু’বেলা পেটপুরে আহার করানোর পরামর্শ দেন।

সুতরাং আমি এলাকার একজন প্রবীণ মিসকীনকে দু’বেলা খাবারের জন্য তিনিসহ দশজন মিসকীন দাওয়াত দিতে বলি। রাতে খাবার পেশ করা হলে তাদের সাথে থাকা ৬/৭ বৎসরের একটি ছেলে অল্পকিছু খাবার খায়। দুপুরেও ছেলেটি তাদের সাথে ছিল।

 যেহেতু ছেলেটি তাদের দশজনের একজন তাই তার কম খাওয়ার কারণে আমার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

সুতরাং মুহতারামের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, বাচ্চাটির কম খাওয়ার কারণে কাফফারা আদায়ে কোনো সমস্যা হয়েছে কি? সমস্যা হয়ে থাকলে এখন আমার করণীয় কী?

 

 

উত্তর

কাফফারা আদায়ের জন্য পূর্ণ খাবার খেতে পারে এমন পরিণত বয়সের লোকদের খাওয়ানো জরুরি। ৬/৭ বছরের বাচ্চারা সাধারণত পূর্ণ খাবার খেতে পারে না। তাই তাদেরকে খাওয়ানোর দ্বারা কাফফারা আদায় হবে না। সুতরাং ঐ শিশু বাচ্চার বদলে প্রাপ্তবয়স্ক একজন মিসকীনকে দু’বেলা তৃপ্তি সহকারে আহার করাতে হবে। আর ৯ জনের আহার কাফফারা হিসাবেই আদায় হয়েছে।

-বাদায়েউস সনায়ে ৪২৬২; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/১৯৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৭৮

শেয়ার লিংক

রিয়াজ মাহমুদ - নাটোর

৪১৪৩. প্রশ্ন

আমার ছোট খালার বিয়ে হয় জেনারেল শিক্ষিত এক ফ্যামিলিতে, দ্বীনদারীতে যারা একদম শূন্যের কোঠায়। তাছাড়া তাদের ঘরের পরিবেশও ততো ভালো নয়। খালাকেও তারা দ্বীন থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। এমনকি এক পর্যায়ে বোরখা পর্যন্ত পরতে দেয় না।

অনেক বুঝিয়েও কোনো লাভ না হওয়ায় আমার বড় মামা, খালাকে ঐ বিয়ে থেকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন এবং এক পর্যায়ে তাদের তালাকও হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা দেখা যায় খালার দু‘বছরের ছোট ছেলেটিকে নিয়ে। শ্বশুর বাড়ীর লোকেরা জোর করে তাকে নিয়ে যায়। আমরা কয়েক বছরের জন্য রাখতে চাইলেও তারা সম্মত হয় না।

আমরা জানতে চাই, ইসলামের দৃষ্টিতে এই ছেলের উপর বেশি অধিকার কার? মায়ের না বাবার? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছেলের সাত বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার মা তাকে লালন পালনের জন্য নিজের কাছে রাখতে পারবে। মার সম্মতি ছাড়া ছেলেকে নিয়ে যেতে পারবে না। তবে ঐ ছেলের মাহরাম নয় এমন কারো সাথে যদি মহিলার বিয়ে হয়ে যায় তাহলে মহিলা এই সন্তানকে তার লালন-পালনে রাখার অধিকার রাখবে না।

হাদীস শরীফে এসেছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালাকপ্রাপ্ত এক নারীকে লক্ষ্য করে বলেন,

أَنْتِ أَحَقُّ بِهِ مَا لَمْ تَنْكِحِي.

তুমি ছেলের ব্যাপারে অধিক হকদার অন্যত্র বিয়ে করা পর্যন্ত। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২২৭৬)

-আলজামেউস সগীর পৃ. ১২৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/২৯৫; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৬৯; রদ্দুল মুহতার ৩/৫৬৬

শেয়ার লিংক

নাজিয়া সুলতানা - উত্তরা, ঢাকা

৪১৪২. প্রশ্ন

হুযুর! গত কয়েকদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার স্বামী এন্তেকাল করেছে। তার জীবদ্দশায় একটি দুধের বাচ্চা নিয়ে শহরের একটি ফ্ল্যাট বাসায় আমরা ভাড়া থাকতাম। তার অবর্তমানে এখন সে বাসায় ছোট বাচ্চা নিয়ে একাকী থাকতে খুব ভয় হচ্ছে। প্রায় রাতেই উল্টাপাল্টা স্বপ্ন দেখে চিৎকার দিয়ে উঠি। দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণ করতেও খুব কষ্ট হচ্ছে। একটু দূরে আমার ভাইয়ের বাসা আছে। ভাইয়া বলছেন, তার বাসায় গিয়ে ইদ্দত পালন করতে। আমি কি বর্তমান বাসা থেকে বের হয়ে তার বাসায় গিয়ে ইদ্দত পালন করতে পারব? দয়া করে জানালে  উপকৃত হব।

 

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী বর্তমান বাসায় একাকী থাকতে যেহেতু আপনার খুব সমস্যা হচ্ছে এবং খরচ চালাতেও কষ্ট হচ্ছে তাই এ পরিস্থিতিতে আপনি ভাইয়ের বাসায় গিয়ে ইদ্দতের বাকি অংশ পালন করতে পারবেন।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৫৫৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৮; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩৫

শেয়ার লিংক

উম্মে শাকীল - পরশুরাম, ফেনী

৪১৪১. প্রশ্ন

গত বছর আমি আমার বড় ভাইয়ের সাথে হজ্বে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। সফরের সব প্রস্তুতিই প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। ফ্লাইটের মাত্র পাঁচদিন আগে আমার স্বামী ইন্তেকাল করে। তখন কেউ কেউ আমাকে হজ্বে না গিয়ে বাড়িতে থেকে ইদ্দত পালন করতে বলে। আমি তাদের কথা না শুনে নির্দিষ্ট তারিখে হজ্বের সফরে বের হয়ে যাই। জানার বিষয় হল, ইদ্দতের ভেতর হজ্ব করার দ্বারা কি আমার ফরয হজ্ব আদায় হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।
 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইদ্দত পালন করা আপনার ওয়াজিব ছিল। তাই ইদ্দতের ভেতর হজ্ব করার কারণে আপনার গুনাহ হয়েছে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَ الَّذِیْنَ یُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَ یَذَرُوْنَ اَزْوَاجًا یَّتَرَبَّصْنَ بِاَنْفُسِهِنَّ اَرْبَعَةَ اَشْهُرٍ وَّ عَشْرًا

তোমাদের মধ্যে যারা মারা যায় ও স্ত্রী রেখে যায় তাদের সে স্ত্রীগণ নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় রাখবে। (সূরা বাকারা (২) : ২৩৪)

অবশ্য গুনাহ হলেও আপনার হজ¦ আদায় হয়ে গেছে।

প্রকাশ থাকে যে, শরীয়তের হুকুম মেনে নিয়ে এ বছর যদি ইদ্দত পালন করতেন আর হজ্ব পরের বছর পালন করতেন তাহলে দুটি হুকুমই পালন করা হতো। দ্বীনী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে কোনো বিজ্ঞ আলেম থেকে জেনে নেওয়া আবশ্যক। অন্যথায় ভুল হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।

-জামে তিরমিযী, হাদীস ১৩০৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৪৮৬৫; মাবসূত, সারাখসী ৪/১১১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০১; রদ্দুল মুহতার ২/৪৬৫; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ২৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইয়াকুব - টঙ্গী, গাজীপুর

৪১৪০. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি হজে¦ যাওয়ার জন্য বাড়িতে থাকতেই ইহরাম বেধেছে। হঠাৎ তার মা একটি মুমূর্ষু মুরগী হাতে নিয়ে তার কাছে এসে বললেন, বাবা! আর কাউকে তো কাছে দেখছি না; জলদি মুরগীটি জবাই কর। না হয় মরে যেতে পারে। সে দ্রুত একটি ছুরি নিয়ে মুরগীটি জবাই করে দিয়েছে। দূর থেকে তার এক চাচা এটা দেখে বললেন, ইহরাম অবস্থায় কোনো কিছু জবাই করা নিষেধ তাই জরিমানা হিসেবে তোমার উপর একটি দম ওয়াজিব হয়েছে। জানতে চাচ্ছি তার চাচার উক্ত কথা কি ঠিক? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

তার চাচার উক্ত কথা ঠিক নয়। ইহরাম অবস্থায় গৃহপালিত পশু যেমন : হাঁস, মুরগী, গরু-ছাগল ইত্যাদি জবাই করা নিষিদ্ধ নয়। তাই ঐ ব্যক্তি মুরগীটি জবাই করার কারণে কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়নি।

-আলজামেউস সগীর পৃ. ১৫২; মাবসূত, সারাখসী ৪/৯৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫২

শেয়ার লিংক

ইউনুস আহমাদ - লালমনিরহাট

৪১৩৯. প্রশ্ন

আমাদের ৩০ সদস্য বিশিষ্ট একটি সমিতি আছে। বর্তমানে সমিতির জমানো টাকার পরিমাণ ৭০০০০-এর উপর। আমরা এ বছর ঐ টাকা দিয়ে ব্যবসা করতে চাচ্ছি। এবং এজন্য একটি মাঝারী মানের মুদীর দোকান চালু করেছি।

জানতে চাচ্ছি, যেহেতু সকলের টাকায় ব্যবসা করা হচ্ছে এবং ব্যবসার মালামাল যাকাতের নেসাবের চেয়ে বেশি তাই আমাদেরকে উক্ত মালামালের যাকাত আদায় করতে হবে কি না? হলে কীভাবে তা আদায় করতে হবে?

 

 

উত্তর

সমিতির সমষ্টিগত সম্পদের উপর যাকাত ফরয হয় না। যাকাত ফরয হয় একেক ব্যক্তির নিজ মালিকানাধীন সম্পদের উপর, যদি তা নেসাব পরিমাণ হয় এবং অন্যান্য শর্ত পাওয়া যায়। সুতরাং সমিতির কোনো  সদস্যের সমিতির অংশ নেসাব পরিমাণ হলে অথবা তার অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদ মিলে নেসাব পরিমাণ হয়ে গেলে তার উপর যাকাত ফরয হবে।

-বাদায়েউস সনায়ে ২/১২৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮১

শেয়ার লিংক

ছলীমুল্লাহ শেখ - উত্তরখান, ঢাকা

৪১৩৮. প্রশ্ন

আমার উপর বেশ কিছু টাকা যাকাত এসেছে। কয়েকজন মাদরাসার ছাত্র ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় আছে। কথা প্রসঙ্গে তাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম, বর্তমানে মাদরাসার পাঠ্যপুস্তকগুলোর দাম অনেক বেশি। বিশেষত এ কিতাবগুলোর যে সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থ বৈরুত, মিশর, পাকিস্তান, হিন্দুস্তান ইত্যাদি রাষ্ট্র থেকে ছেপে আসে সেগুলো ক্রয় করে উপকৃত হওয়া অর্থের অভাবে অনেক মেধাবী ছাত্রের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তাই আমি চাচ্ছি আমার উক্ত যাকাতের টাকা দিয়ে এ ধরনের প্রয়োজনীয় কিছু কিতাব কিনে গরীব মেধাবী ছাত্রদের দিব। জানতে চাচ্ছি, এভাবে কিতাব কিনে দেওয়ার দ্বারা আমার যাকাত আদায় হবে কী?

 

উত্তর

হাঁ, যাকাতের টাকা দিয়ে কিতাব ক্রয় করে গরীব ছাত্র, যাদের প্রয়োজন আছে তাদেরকে দিয়ে দিলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। এবং এতে দ্বীনী কাজে সহায়তার সওয়াবও পাওয়া যাবে। তবে কোনো পাঠাগার বা প্রতিষ্ঠানে যাকাতের টাকা দিয়ে কিতাব কিনে দেয়া যাবে না।

-মাবসূত, সারাখসী ২/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৬; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৫৮;  আলবাহরুর রায়েক ২/২২১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৭, ২৮৫, ২৯৭, ৩৪৪

শেয়ার লিংক

শাশীম নূর শামী - শহীদী মসজিদ রোড, কিশোরগঞ্জ

৪১৩৭. প্রশ্ন

আমার বড় আপু শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল হওয়ায় গত রমাযানে আব্বু তাকে রোযা রাখতে নিষেধ করেন। তারপরও সে রোযা রাখে। কিন্তু প্রথম রোযার দিন ভুলে সে দুপুরবেলা খাওয়া শুরু করে দেয়। আমি তৎক্ষণাত তাকে রোযার কথা মনে করিয়ে দেই। কিন্তু আম্মু আমার উপর খুব রেগে যান। এবং ধমক দিয়ে বলেন, রোযাদার ভুলে কিছু খেতে গেলে তাকে মনে করিয়ে দিতে হয় না। সত্যিই কি আপুকে মনে করিয়ে দেয়া আমার অন্যায় হয়েছে?
 

উত্তর

শক্ত সামর্থ্যবান রোযাদার ব্যক্তিকে ভুলবশত পানাহার করতে দেখলে তাকে রোযার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া কর্তব্য। এমন ব্যক্তিকে রোযার কথা স্মরণ না করানো মাকরূহ তাহরীমী। আর যদি রোযাদার নিতান্তই দুর্বল হয় তাহলে তাকে ভুলবশত খেতে দেখলে রোযার কথা মনে না করানোই ভালো।

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বোন যেহেতু শারীরিকভাবে দুর্বল ছিল তাই তাকে রোযার কথা স্মরণ না করানোই ভালো ছিল। তবে স্মরণ করানোর কারণে আপনার কোনো গুনাহ হয়নি।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭১; মাজমাউল আনহুর ১/২০২; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫

শেয়ার লিংক

মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম - বিরুলিয়া, সাভার

৪১৩৬. প্রশ্ন

ক. কোনো মৃতের একবার জানাযা হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার তার জানাযা পড়া যাবে কি? কখনো দেখা যায়, একজন মৃতের একাধিকবার জানাযা হয় এটা কি শরীয়তসম্মত? দলীলপ্রমাণ সহ বিস্তারিত জানতে চাই।

খ. কোনো মৃতের যদি একাধিক ছেলে থাকে আর তার একবার জানাযা হয় এবং ঐ জানাযা নামাযে তার কোনো ছেলে শরীক থাকে তবে অন্য ছেলেদের জন্য পুনরায় তার জানাযা নামায পড়ার সুযোগ আছে কি? জানালে কৃতজ্ঞ হতাম।

গ. বর্তমানে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার লাশের অনুপস্থিতি গায়েবানা জানাযার নামায আদায় করা হয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কী? জানালে উপকৃত হতাম।

উত্তর

ক. জানাযা নামায কেবলমাত্র একবার পড়াই বিধান। এক মৃতের একাধিক জানাযা নামায সুন্নাহসম্মত নয়। সুতরাং মৃতের অলী জানাযা পড়ে নিলে বা তার সম্মতিতে জানাযা পড়া হয়ে গেলে দ্বিতীয় বার জানাযা পড়া বিদআত ও মাকরূহ।

নাফে রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا انْتَهَى إِلَى جِنَازَةٍ وَقَدْ صُلِّيَ عَلَيْهَا دَعَا وَانْصَرَفَ وَلَمْ يُعِدِ الصّلَاةَ.

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. কোনো জানাযায় পৌঁছতে পৌঁছতে জানাযা নামায শেষ হয়ে গেলে মৃতের জন্য দুআ করে ফিরে আসতেন। দ্বিতীয় বার জানাযা পড়তেন না। (মুছান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৬৫৪৫।

বিখ্যাত তাবেঈ ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. এক

মাইয়েতের একাধিক জানাযা পড়তে নিষেধ করেছেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১২০৭০)

عَنِ الْحَسَنِ ، أَنّهُ كَانَ إذَا سُبِقَ بِالْجِنَازَةِ يَسْتَغْفِرُ لَهَا وَيَجْلِسُ أَوْ يَنْصَرِفُ.

হাসান বসরী রাহ. সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি মৃতের জানাযা নামায না পেলে মৃতের জন্য ইসতেগফার করতেন। অতপর বসতেন অথবা ফিরে যেতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, ১২০৭১)

সালেহ ইবনে নাবহান রাহ. বলেন,

كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إذَا تَضَايَقَ بِهِمَ الْمَكَانُ رَجَعُوا ، وَلَمْ يُصَلُّوا.

সাহাবাগণ রা. জানাযা নামাযের জায়গা সংকীর্ণ হলে (মসজিদে) নামায না পড়ে ফিরে যেতেন, (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১২০৯৭)

এসব বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, সাহাবা তাবেঈনের যুগে দ্বিতীয়, তৃতীয় জানাযার প্রচলন ছিল না। একাধিক জানাযা যদি জায়েয হত তবে তারা ফিরে যেতেন না।

মৃতের জানাযা নামায হয়ে যাওয়ার পর হাদীসের নির্দেশনা মোতাবেক লাশ দ্রুত দাফন করে দেওয়া শরীয়তের নির্দেশ। দ্বিতীয় বা তৃতীয় জানাযার জন্য লাশ রেখে দেওয়া নিয়ম পরিপন্থী। সুতরাং বর্তমানে যে একবার জানাযা নামায হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তীতে জানাযা পড়ার জন্য লাশ রেখে দেয়া হয় বা অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় এটা শরীয়তসম্মত নয়। এটা সুস্পষ্টভাবে সুন্নাহ ও সালাফের আমল পরিপন্থী। তাই এ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। -আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৭; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/২১৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৭; ইলাউস সুনান ৮/২৮৮

খ. মৃত ব্যক্তির একাধিক সন্তান থাকলে তাদের মধ্য হতে প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ছেলে যদি মৃতের জানাযা পড়ে নেয় কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ছেলের সম্মতিতে জানাযা নামায পড়া হয়ে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে অন্য ছেলেদের জন্য পুনরায় তার জানাযা পড়ার সুযোগ থাকবে না। -আলজাওহারাতুন নাইয়িরা ১/১৩৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৪; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩২৪

গ. জানাযা নামায সহীহ হওয়ার জন্য লাশ সামনে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাযা নামায আদায়ের বিধান নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় অসংখ্য সাহাবী মদীনার বাইরে দূর-দূরান্তে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাদের গায়েবানা জানাযা পড়ার কোনো ঘটনা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নেই। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের জানাযা নামায পড়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিলেন। এজন্য তিনি বলে দিয়েছিলেন যে-

مَا مَاتَ مِنْكُمْ مَيِّتٌ مَا كُنْتُ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ إِلّا آذَنْتُمُونِي بِهِ فَإِنّ صَلَاتِي عَلَيْه رَحْمَةٌ.

তোমাদের কেউ মারা গেলে আমাকে জানাবে। কেননা আমার জানাযা নামায মৃতের জন্য রহমত। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩০৮৩)

তদ্রূপ খোলাফায়ে রাশেদীন থেকেও গায়েবানা জানাযা নামায পড়ার প্রমাণ নেই। অথচ তাদের খেলাফতকালে বিভিন্ন মুজাহিদ শহীদ হয়েছেন। গায়েবানা জানাযা নামায যদি সুন্নাহসম্মত হত তাহলে সাহাবীগণ অবশ্যই উক্ত সুন্নাহর অনুসরণ করতেন। কখনো পরিত্যাগ করতেন না।

আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রাহ. যাদুল মাআদ গ্র্রন্থে লেখেন, অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাযা নামায রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও আদর্শ ছিল না। কেননা অসংখ্য মুসলমান দূর-দূরান্তে ইন্তেকাল করেছেন। কিন্তু তিনি তাদের গায়েবানা জানাযা পড়েননি। (যাদুল মাআদ  ১/১৪৮)

সুতরাং বর্তমানে যেসব অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাযা পড়া হয় তা সুন্নাহসম্মত নয় এবং সালাফের আমলের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এ প্রথা অবশ্যই বর্জনীয়।

উল্লেখ্য যে, কেউ কেউ গায়েবানা জানাযা প্রমাণ করার জন্য রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নাজাশী রা. -এর জানাযা পড়াকে দলীল হিসেবে পেশ করতে চান। কিন্তু পুরো বিষয়টা সামনে রাখলে এ কথা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, নাজাশীর জানাযা পড়ার ঘটনাটি বর্তমানে প্রচলিত গায়েবানা জানাযার জন্য দলীল হতে পারে না। কারণ সেটি ছিল বিশেষ একটি ঘটনা, যা ব্যাপকভাবে গায়েবানা জানাযা জায়েয হওয়াকে প্রমাণ করে না। এছাড়া মুসনাদে আহমদ ও সহীহ ইবনে হিব্বানে নাজাশীর জানাযা সম্পর্কিত একটি হাদীস দ্বারা বোঝা যায় যে, নাজাশীর লাশ কুদরতিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনেই উপস্থিত ছিল।

ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি বলেন,

إِنّ أَخَاكُمْ النّجَاشِيّ تُوُفِّيَ فَصَلُّوا عَلَيْهِ. قَالَ: فَصَفّ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، وَصَفَفْنَا خَلْفَهُ فَصَلّى عَلَيْهِ، وَمَا نَحْسِبُ الْجِنَازَةَ إِلّا مَوْضُوعَةً بَيْنَ يَدَيْهِ.

তোমাদের ভাই নাজাশী ইন্তেকাল করেছে। সুতরাং তোমরা তার জানাযা আদায় কর। ইমরান রা. বলেন, অতপর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। আর আমরা তাঁর পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। অতপর তিনি তার জানাযা পড়ালেন। আমাদের মনে হচ্ছিল যে, নাজাশীর লাশ তাঁর সামনেই রাখা ছিল। -মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২০০০৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩০৯৮

আর অনেক মুহাদ্দিস নাজাশীর জানাযা সংক্রান্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ ঘটনাটি বিশেষ এক প্রয়োজনের কারণে সংঘটিত হয়েছিল। তা হল, নাজাশীর মৃত্যু হয়েছিল এমন এক ভূখণ্ডে যেখানে তার জানাযা পড়ার মতো কোনো (মুসলিম) ব্যক্তি ছিল না। তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণ নিয়মের বাইরে তার জানাযা পড়িয়েছেন।

উলামায়ে কেরাম এ ঘটনার আরো অন্যান্য ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন। যা হোক, এটা ছিল নববী জীবনের স্বাভাবিক রীতি বহির্ভূত মাত্র একটি ঘটনা। এর উপর ভিত্তি করে ব্যাপকভাবে প্রচলিত গায়েবানা জানাযাকে বৈধ বলার সুযোগ নেই। কেননা অনুসৃত সুন্নাহর সাথে এটির কোনো মিল নেই।

এছাড়া যে লাশের কোথাও জানাযার ব্যবস্থা আছে এবং তার জানাযা হয়েছে বা হচ্ছে তার গায়েবানা জানাযা পড়ার একটি ঘটনাও হাদীসের কিতাবে পাওয়া যায় না। তাই এটি অবশ্যই পরিত্যাজ্য। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৪০৯০; নাসবুর রায়া ২/২৮৩; যাদুল মাআদ ১/৫০২; উমদাতুল কারী ৮/১১৯; ফয়যুল বারী ২/৪৭০; ফাতহুল কাদীর ২/৮০, ৮১; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৮; রদ্দুল মুহতার ২/২০৯; ইলাউস সুনান ৮/২৮৩

শেয়ার লিংক

মো: আজিজুর রহমান - সাভার, ঢাকা

৪১৩৫. প্রশ্ন

১. অনেকে বলে থাকেন, জুমার নামায চার রাকাত। চার রাকাত থেকে দুই রাকাত করা হয়েছে। দুই রাকাত এর পরিবর্তে দুই খুতবাহ এবং বাকি দুই রাকাত হচ্ছে নামায।

২. জুমার আরবী খুতবাহ পাঠ করা অবস্থায় হাত নাড়াচাড়া করা যাবে কি না?

উভয় প্রশ্নের জবাব প্রমাণসহ জানালে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

জুমার নামায আসলে দুই রাকাতই। চার রাকাত থেকে দুই রাকাত করা হয়েছে -এ ধারণা ঠিক নয়। ওমর রা. থেকে বর্ণিত-

صَلاةُ السّفَرِ رَكْعَتَانِ، وَصَلاةُ الْأَضْحَى رَكْعَتَانِ، وَصَلاةُ الْفِطْرِ رَكْعَتَانِ، وَصَلاةُ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَانِ، تَمَامٌ غَيْرُ قَصْرٍ، عَلَى لِسَانِ مُحَمّدٍ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ.

সফরের নামায দুই রাকাত। ঈদুল আযহার নামায দুই রাকাত। ঈদুল ফিতরের নামায দুই রাকাত। জুমার নামায দুই রাকাত। (এগুলো) পূর্ণ নামায, কসর নয়। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৫৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১০৬)

আর খুতবা জুমার নামায সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত। খুতবা ছাড়া জুমার নামায সহীহ হয় না। কিন্তু এটি নামাযের অংশ নয়।

অবশ্য জুমার নামায দুই রাকাত হওয়ার বাহ্যিক একটি হেকমত হল, এর পূর্বে যেহেতু দুই খুতবা আছে তাই সহজিকরণ ও অন্যান্য হেকমতের ভিত্তিতে প্রথম থেকেই দুই রাকাতের বিধান দেওয়া হয়েছে। এই হেকমতটি বর্ণনা করতে গিয়েই সালাফের কেউ কেউ বলেছেন যে, إِنّمَا جُعِلَتِ الْخُطْبَةُ مَكَانَ الرّكْعَتَيْن  (খুতবা হল দুই রাকাতের স্থলাভিষিক্ত)। যদিও এই বক্তব্যটির মুত্তাসিল ও সহীহ কোনো সনদ নেই।

قال الراقم: وأما ما ورد برقم ৫৩৭৪ من المصنف لابن أبي شيبة: كَانَتِ الْجُمُعَةُ أَرْبَعًا، فَجُعِلَتْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ أَجْلِ الْخُطْبَةِ، فَمَنْ فَاتَتْهُ الْخُطْبَةُ فَلْيُصَلِّ أَرْبَعًا، فهو مخالف للحديث الصحيح المرفوع، إضافة إلى ذلك أن إسناده منقطع. والله تعالى أعلم.

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/২৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৫০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৮৯; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫৫৫

২. জুমার খুতবায় সাধারণ বয়ান-বক্তৃতার মতো হাত নাড়া চাড়া করা যাবে না।

আরবদের মাঝে সাধারণ বয়ান-বক্তৃতায় দুই হাত নেড়ে কথা বলার রীতি থাকা সত্ত্বেও খোলাফায়ে রাশেদীন, তাবেঈন ও তাবেতাবেঈগণ জুমার খুতবায় এমনটি করতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং দুই হাত স্বাভাবিক অবস্থায় রেখে খুতবা দেয়াই সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি। তবে কখনো কোনো কিছু বোঝানোর স্বার্থে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেছেন এমন বর্ণনা হাদীস শরীফে বিদ্যমান রয়েছে।

হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ إِذَا خَطَبَ احْمَرّتْ عَيْنَاهُ، وَعَلَا صَوْتُهُ، وَاشْتَدّ غَضَبُهُ، حَتّى كَأَنّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ يَقُولُ: صَبّحَكُمْ وَمَسّاكُمْ، وَيَقُولُ: بُعِثْتُ أَنَا وَالسّاعَةُ كَهَاتَيْنِ، وَيَقْرُنُ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ السّبّابَةِ، وَالْوُسْطَى.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন তাঁর চোখ দুটো লাল হয়ে যেত, তাঁর আওয়াজ উঁচু হয়ে যেত এবং তার ক্রোধ তীব্র হয়ে যেত, মনে হত তিনি কোনো সৈন্যবাহিনীকে সতর্ক করছেন। ... এবং বলতেন, আমার প্রেরণ এবং কেয়ামত এই দুটির মতো (নিকটবর্তী)। এরপর তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয়কে একত্র করে দেখালেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৬৭)

খুতবার সময় হাত উঠানোর ব্যাপারে এতটুকুই পাওয়া যায়। সুতরাং খুতবা অবস্থায় হাত নাড়া চাড়া করা ঠিক নয়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৭৪; কিতাবুল উম্ম ১/২৩০; বাযলুল মাজহুদ ৬/১০৬; ফতহুল মুলহিল ২/৪১৪; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/১৮০

শেয়ার লিংক

সুলাইমান হাবীব - বেলটিয়াবাড়ী, টাংগাইল

৪১৩৪. প্রশ্ন

মুহতারাম সবিনয় নিবেদন এই যে, আমার কিছু প্রশ্ন রয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক শরয়ী দলীল প্রমাণের আলোকে নিম্ন লিখিত প্রশ্নাবলীর সঠিক সমাধান প্রদান করে বাধিত করবেন। প্রশ্নগুলো নিম্নরূপ :

১. চলন্ত লঞ্চ, জাহাজ, বিমান, বাস, ট্রেনে নামায আদায় করার বিধান কী ও তার পন্থা কী?

২. অনেকে বলেন, নামাযে ছানা পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা, আবার কেউ কেউ বলেন যে, সুন্নাতে যায়েদা। কোনটা সঠিক?

উত্তর

১. চলন্ত লঞ্চ, জাহাজ, ট্রেন ও বিমানে ফরয নামায সম্ভব হলে কেবলামূখী হয়ে দাঁড়িয়ে রুকু সিজদাসহ আদায় করবে। দাঁড়ানো যদি কষ্টকর হয় তাহলে বসে স্বাভাবিক রুকু-সিজদা করে নামায আদায় করবে। এভাবে নামায আদায় করতে পারলে পরবর্তীতে তা পুনরায় পড়তে হবে না। আর যদি কেবলামুখী হয়ে রুকু-সিজদার সাথে নামায আদায় করা সম্ভব না হয় তাহলে যেভাবে সম্ভব বসে বা ইশারায় নামায পড়ে নিবে। এক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে সতর্কতামূলক ঐ ফরয নামায পরবর্তীতে আবার পড়ে নিবে।

আর বাসে যেহেতু সাধারণত দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে নামায পড়া যায় না তাই কাছাকাছি যাতায়াতের ক্ষেত্রে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পূর্বে গন্তব্যে পৌঁছে নামায আদায় করা সম্ভব হবে না বলে মনে হলে এবং নেমে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ অথবা অসুবিধাজনক না হলে পথিমধ্যে নেমে ফরয নামায পড়ে নিবে। আর দূরের যাত্রা হলে অথবা যে ক্ষেত্রে নেমে গেলে ঝুঁকি অথবা সমস্যায় পড়ার আশংকা থাকে সেক্ষেত্রে বাস না থামলে সিটেই যেভাবে সম্ভব বসে বা ইশারায় নামায আদায় করে নিবে এবং সতর্কতামূলক পরবর্তীতে এর কাযা করে নিবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘযাত্রায় বাস চালকগণের উচিত, ফরয নামায আদায়ের সুবিধার্থে কোনো মসজিদে যাত্রা বিরতি করা। এ বিষয়ে বাস মালিকদেরও ইতিবাচক নির্দেশনা দিয়ে রাখা উচিত। এক্ষেত্রে মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতিগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে। আর যাত্রীগণের কর্তব্য হল, বাসের একজন মুসল্লি নামায পড়তে চাইলেও তার জন্য বাস থামাতে চালককে নির্দেশনা দিয়ে রাখা। -ইলাউস সুনান ৭/২১২; মাআরিফুস সুনান ৩/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/১০১

২. নামাযে ছানা পড়া সুন্নতে মুআক্কাদাহ। -আলমাউসূআতুল ফিকহিয়্যা আলকুওয়াইতিয়্যা ২৭/৮৩; ফাতাওয়া উসমানী ১/৪০৮

শেয়ার লিংক

ইবনে আবদুস সামাদ - সদর, মোমেনশাহী

৪১৩৩. প্রশ্ন

আমরা তো জানি, যে সমস্ত নামাযে নিম্নস্বরে কেরাত পড়তে হয়, সেগুলোতে ইমাম সাহেব ভুলে ছোট তিন আয়াত বা বড় এক আয়াত সশব্দে পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। এমনিভাবে যে সমস্ত নামাযে সশব্দে কেরাত পড়তে হয় সেগুলোতে ঐ পরিমাণ কেরাত নিম্নস্বরে পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়।

একজন বললেন, সূরা ফাতিহার ক্ষেত্রে হুকুম একটু ভিন্ন। আমি জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে সূরা ফাতিহা ও অন্যান্য সূরার মাঝে হুকুমে কোনো পার্থক্য আছে কি না?

একজনের কাছে শুনেছি, বেহেশতী জেওরে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে ভুলে দুই-তিন শব্দ সশব্দে বা নিম্নস্বরে পড়ে ফেললেও সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়।

বেহেশতী জেওরের এ মাসআলা কি সঠিক? সঠিক হলে কি তা শুধু সূরা ফাতেহার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, না সকল সূরার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য?

উত্তর

নামাযে আস্তে কেরাতের ক্ষেত্রে ভুলে সশব্দে বা জোরে কেরাতের ক্ষেত্রে নিম্নস্বরে পড়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার মাসআলায় বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী সূরা ফাতেহা ও অন্যান্য সূরার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। অন্যান্য সূরার মত সূরা ফাতেহারও তিন আয়াত ভুলে সশব্দে বা নিম্নস্বরে পড়ে ফেললে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়।

বেহেশতী জেওরের উদ্ধৃতিতে যে মাসআলা আপনি শুনেছেন তা ঠিক শুনেননি। সশব্দে বা নিম্নস্বরে কেরাত পড়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার মাসআলাটি বেহেশতী  জেওরে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে বেহেশতী জেওরের পরিশিষ্ট বেহেশতী গাওহারে এ মাসআলাটি উল্লেখিত হয়েছে। সেখানে বরং উল্টো কথা আছে। তা হল, দুই-তিন শব্দ সশব্দে বা নিম্নস্বরে পড়ে ফেললে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। বরং নামাযে সর্বনিম্ন যতটুকু পরিমাণ কেরাত পড়া ফরজ ততটুকু পরিমাণ ভুলে সশব্দে বা নিম্নস্বরে পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। (দেখুন : বেহেশতী গাওহার পৃ. ৬৬)

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৮; শরহুল মুনয়া পৃ. ৪৫৭; ফাতহুল কাদীর ১/৪৪০; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৩৬

শেয়ার লিংক

রাফিউল ইসলাম - কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

৪১৩২. প্রশ্ন

কোনো ব্যক্তি যদি নামাযে অনিচ্ছাকৃতভাবে শুধু নিজে শুনতে পায় এতটুকু আওয়াজে কাউকে আসসালামু আলাইকুম বা অন্য কোনো কথা বলে ফেলে তাহলে কি তার নামায ভেঙ্গে যাবে? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

 

 

উত্তর

নামাযে কাউকে সম্বোধন করে আসসালামু আলাইকুম বললে বা অন্য কোন কথা নিজে নিজে বললেও নামায ভেঙ্গে যাবে। চাই সেটা নিচু আওয়াজে এবং অনিচ্ছাকৃতই হোক না কেন। হযরত মুআবিয়া ইবনুল হাকাম সুলামী রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

إِنّ هَذِهِ الصّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التّسْبِيحُ وَالتّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ.

নিশ্চয় নামাযে কথা বলার সুযোগ নেই। নামায তো কেবল তাসবীহ, তাকবীর এবং কুরআন তিলাওয়াত। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৩৭)

-মাবসূত, সারাখসী ২/১১২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৪৫; ফাতহুল কাদীর ১/৩৪৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৮; হালবাতুল মুজাল্লি ২/৪২৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬১৫

শেয়ার লিংক

হুমায়রা ইসলাম - সোনাইমুড়ি, নোয়াখালী

৪১৩১. প্রশ্ন

আমাদের ঘরের মেঝে পাকা নয়; মাটি দিয়ে লেপা। অনেক সময় ছোট বাচ্চারা ঘরের মেঝেতে পেশাব করে দেয়। আমার শ্বাশুরি বলেন, পেশাব করা স্থান মাটি দ্বারা লেপে দিলে পাক হয়ে যায়। আমরা সব সময় এমনটাই করে থাকি। কিন্তু আমার মনে হয়, মাটি লেপে দেয়ার পরও তো এ স্থানে পেশাব রয়েই যায়। সুতরাং তা পাক হবে কী করে?

আমি হুযুরের কাছে জানতে চাই, নাপাক মেঝে পাক করার সঠিক নিয়ম কী? এভাবে মাটি লেপে দিলে কি তা পাক হবে?

 

উত্তর

মাটিতে পেশাব পড়ার পর তা শুকিয়ে গেলে এবং নাপাকির চিহ্ন তথা রং গন্ধ দূর হয়ে গেলেই উক্ত জমীন পাক হয়ে যায়। এছাড়া নাপাকী দ্বারা ভেজা জমীন বেশি পরিমাণ মাটি দ্বারা লেপে দিলেও তা পাক হয়ে যাবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬২৯; শরহুল মুনয়া পৃ. ১৮৭; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ১/৪৯; ফাতহুল কাদীর ১/১৭৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৬

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement