মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন - কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ

২২০৩. প্রশ্ন

জনৈক ওয়ায়েযকে হাদীসের

ما كنت تقول هذا الرجل

অর্থাৎ এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার বিশ্বাস কী ছিল?-এ অংশের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি যে, কবরে মৃত ব্যক্তিকে সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, ইনি কে? তুমি কি তাকে চিন? জানতে চাই এ ব্যাখ্যা কি সঠিক?

 

উত্তর

কবরে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে যখন জিজ্ঞাসা করা হবে তখন তাঁকে দেখানোর কথা কুরআন-হাদীসে উল্লেখ নেই। তাই হাদীস বিশারদগণ দেখানোর কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

-মাজমুআতুর রাসায়িলিল মুনীরিয়া, ইবনে হাজার আসকালানী ৪/৪১; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৬/২৪১; শরহুস সুদূর, ইমাম সুয়ূতী ১৪৫; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪/১৫৩; মিরকাত ১/১৯৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান - হবিগঞ্জ

২২০২. প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পাশে একটি মাযার আছে। যাতে প্রতি বছর ওরস হয় এবং প্রচুর লোকের সমাগম হয়। এক ওরসের সময় বাড়ি থেকে শুনলাম মাইকে এক লোক বলছে, হাদীসে পাকে আছে, ও আমার উম্মতেরা, যখন তোমরা কোন ব্যাপারে পেরেশান হবে তখন কবরবাসীদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করবে। জানতে চাই, এটি    বাস্তবেই হাদীস কি না।

 

উত্তর

এটি লোকমুখে হাদীস হিসেবে প্রসিদ্ধ হলেও বাস্তবে হাদীস নয়,  শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ., শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহ. ও আল্লামা আবদুল হাই লখনভী রাহ.সহ বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম সুস্পষ্ট ভাষায় একে মওযূ ও জাল বলেছেন। অতএব একে হাদীস মনে করা যাবে না এবং এ ধরনের আকীদাও পোষণ করা যাবে না। আর এমন কোনো কাজও করা যাবে না।প্রকাশ থাকে যে, কবরবাসীর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা শিরক। কবরবাসী যেই হোক না কেন সে কোনো ক্ষতি থেকে হেফাযত করতে, কোনো বিপদ হতে রক্ষা করতে কিংবা কোনো উপকার পৌঁছাতে পারে না। এগুলো কেবল আল্লাহ তাআলার কাছে চাওয়া যায়। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) সেই ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কেয়ামত দিবস পর্যন্ত তাতে সাড়া দিবে না এবং এগুলি তাদের প্রার্থনা সম্বন্ধেও অবহিত নয়। (সূরা আহকাফ : ৫)

হাদীস শরীফে আছে, যখন তুমি কিছু চাইবে আল্লাহর কাছে চাও। যখন তুমি সাহায্য প্রার্থনা করবে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর। জেনে রেখো, পুরো উম্মত যদি তোমার উপকার করতে একত্রিত হয় আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত তারা তোমার বিন্দুমাত্রও উপকার করতে পারবে না। তদ্রূপ তারা যদি তোমার ক্ষতি করতে একত্রিত হয় তবে আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত তারা তোমার বিন্দুমাত্রও ক্ষতি করতে পারবে না।

-জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৫১৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৬৬৯; ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ১/৩৫৬, ১১/২৯৩; মাজমুআতুল ফাতাওয়া ১/১৩৮; ইক্বতিযাউস সিরাতিল মুসতাকিম লিমুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম ২/৬৮৩; ফাতাওয়া আযীযী ১/১৭৮

শেয়ার লিংক

উম্মে সাফওয়ান - মালঞ্চ, হবিগঞ্জ

২২০১. প্রশ্ন

একটি লিফলেটে লেখা আছে, হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি দরুদ এইভাবে পড়িবে-আল্লাহুম্মা ছল্লিআলা মোহাম্মাদিওঁ ওয়াআনজিলহুল মাক্কআদাল মুকাররাবা ইন্দাকা ইয়াওমাল কিয়ামাহ তাহার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব। এটি সহীহ হাদীস কি না জানতে চাই।


উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত দরুদটি নির্ভরযোগ্যসূত্রে বর্ণিত। হযরত রুওয়াইফী ইবনে ছাবিত রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি

اللهم صل على محمد

এরপর

اللهم أنزله المقعد المقرب عندك يوم القيامة

 (হে আল্লাহ! কিয়ামতের দিন তুমি তাঁকে তোমার নিকটতম স্থানে অধিষ্ঠিত কর) বলবে তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৬৯৯১; আলমু’জামুল কাবীর, তবারানী ৫/২৬, আলমুজামুল আওসাত তবারানী ৪/১৭৪; মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/২৫৪; আততারগীব ওয়াততারহীব, হাদীস : ২৪৯৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আতীকুর রহমান - বরিশাল

২২০০. প্রশ্ন

আমি এক ওয়াজে শুনেছি যে, হাদীস শরীফে আছে, আখেরী যমানায় হজ্ব হবে ভ্রমণ ও চিত্ত বিনোদনের উদ্দেশ্যে। জানার বিষয় হল, হাদীস শরীফে কি এমন কথা আছে?


উত্তর

একটি অতি দুর্বল বর্ণনায় আছে যে, মানুষের উপর এমন একটি সময় আসবে যখন উম্মতের উচ্চ বিত্তরা হজ্ব করবে (ভ্রমণ) আনন্দ উপভোগের জন্য, মধ্যবিত্তরা হজ্ব করবে ব্যবসার জন্য, শিক্ষিতরা করবে সুনাম-সুখ্যাতি অর্জনের জন্য এবং গরীবরা করবে ভিক্ষার জন্য।

-তারীখে বাগদাদ ১০/২৯৬; আলইলালুল মুতানাহিয়াহ ২/৫৬৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমজাদ - ঢালকানগর, ঢাকা

২১৯৯. প্রশ্ন

আমি একজন আলেমকে স্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে নিম্নোক্ত হাদীসটি বলতে শুনেছি।

المعدة بيت الداء، والحمية رأس الدواء، وأعط كل بدن ما عودته

 (অর্থাৎ) উদর হল সর্বরোগের কেন্দ্র। আর খাদ্য-সংযম সর্বরোগের মহৌষধ। দেহকে তা-ই দাও, যাতে তাকে অভ্যস্ত করেছ। জানার বিষয় হল, এটি কি হাদীস। হাদীস হলে তা কোন কিতাবে আছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি কোথাও হাদীস হিসেবে উল্লেখেতি হলেও হাদীস বিশারদগণ বলেছেন, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস হিসেবে প্রমাণিত নয়; বরং তা আরবের প্রসিদ্ধ চিকিৎসক হারিস ইবনে কালদাহ-এর উক্তি।

অতএব তা হাদীস হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না।

-আলমাকাসিদুল হাসানাহ পৃ. ৬১১; কাশফুল খাফা ২/৯৩; আদ্দুরারুল মুনতাছিরাহ ১৬৮; আল লাআলিল মানসুরাহ ১৪৫; আলফাওয়াইদুল মাজমূআহ ১৬৬; যাদুল মাসীর ৩/১৮৮; রুহুল মাআনী ৫/১১০; তাফসীরে কুরতুবী ৭/১৯২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম - কুমিল্লা

২১৯৮. প্রশ্ন


আমি একটি বইয়ে পড়েছি যে, হযরত উসমান গনী রা.কে বিদ্রোহীরা কুরআন মজীদ তিলাওয়াতরত অবস্থায় শহীদ করেছিল এবং সর্বশেষ যে আয়াত তিনি তিলাওয়াত করেছিলেন তার উপরই তাঁর শরীরের রক্ত ছিটকে পড়েছিল। উপরোক্ত তথ্যটি কি সঠিক? যে আয়াতটির উপর রক্ত লেগেছিল সেটি কোন আয়াত? তাঁর হত্যাকারীর নাম কী?


উত্তর

হ্যাঁ, এই তথ্য সঠিক। নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত আছে যে, বিদ্রোহীরা যখন হযরত উসমান রা.-এর বাসগৃহ অবরোধ করে তখন তিনি কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করছিলেন। সূরা বাকারার ১৩৭ নম্বর আয়াত

فسيكفيكهم الله، وهو السميع العليم

এ পৌঁছলে বিদ্রোহীদের মধ্য থেকে কিনানা বিন বিশর আততুজীবী নামক এক লোক ঘরে ঢুকে পড়ে এবং তীরের ধারালো ফলা দিয়ে তাঁকে আঘাত করে। ফলে উক্ত আয়াতের উপর তাঁর শরীরের রক্ত ছিটকে পড়ে।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২১/৩১৫; আলমাতালিবুল আলিয়াহ ১০/৩২; আলবিদায়াহ ওয়াননিহায়া ১০/৩১০; তারীখুল ইসলাম, যাহাবী ৩/১৩২; আলকামিল ফিততারীখ ৩/১৭৯; তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/২৮০

শেয়ার লিংক

মাওলানা শাহাদত - মানিকগঞ্জ

২১৯৭. প্রশ্ন

জনৈক ইমাম সাহেব ফজরের নামাযে সূরা কিয়ামার

ولو القى معاذيرة   

এর স্থলে

  ولو القى مأذيرة

পড়েছেন। অর্থাৎ আইনের স্থলে হামযা পড়েছে। জানিয়ে বাধিত করবেন যে, তার নামায কী হয়েছে?

 

উত্তর

উক্ত ভুলের কারণে অর্থের এমন বিকৃতি ঘটেনি, যার দ্বারা নামায নষ্ট হয়ে যায়। তাই তার নামায আদায় হয়ে গেছে।

-শরুহুল মুনইয়া ৪৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮০; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৩

শেয়ার লিংক

শাববীর আহমদ - খুলনা

২১৯৬. প্রশ্ন


আমার এক বন্ধু তার জন্য একটি বই সংগ্রহ করার জন্য আমাকে কিছু টাকা দিয়েছে। বইটি তার জন্য ক্রয় করে আনার সময় পথিমধ্যে অন্য কোনো বন্ধু যদি তা নিতে চায় তাহলে আমি তাকে দিতে পারব কি না?


উত্তর

যে ব্যক্তি আপনাকে বইটি কেনার দায়িত্ব দিয়েছে যদি আপনি তার জন্যই বইটি কিনে থাকেন তাহলে তা তারই বই। এক্ষেত্রে তার অনুমতি ছাড়া বইটি অন্য কাউকে দেওয়া জায়েয হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১৫/৬৭-৬৮; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৭/২৪৩; শরহুল মাজাল্লা ৪/৪৬৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সুলতান হুসাইন - নিউমার্কেট, ঢাকা

২১৯৫. প্রশ্ন

আগে আমার কাপড়ের ব্যবসা ছিল। বর্তমানে নেই। পুরোনা অভিজ্ঞতার কারণে আমার চাচাতো ভাই আমাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বলল যে, চট্টগ্রামে কাপড়ের ব্যবসা কর, যা লাভ হবে তার ৩০% তোমার আর ৭০% আমার। আমি সেখানে গিয়ে একটি দোকান নেই এবং এক মাস পর্যন্ত ব্যবসা করি। এতে সামান্য কিছু লাভ হয়েছে। আর এই লাভ আমাদের সেখানে থাকা-খাওয়া, দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ইত্যাদির সমান। অতিরিক্ত আর কোনো লাভ হয়নি। আমি ঢাকায় এসে চাচাতো ভাইকে বললাম, ব্যবসায় লাভ হয়নি। কিন্তু আমি তো একমাস শ্রম দিয়েছি আমাকে কিছু মজুরী দাও। সে বলল, লাভ না হলে কিভাবে দিব? শরীয়তের দৃষ্টিতে সে আমাকে মজুরি দিতে বাধ্য কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু দেওয়া তার জন্য জরুরি নয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে আপনাদের কারবারটি মুদারাবা কারবার হয়েছে, অর্থাৎ এক পক্ষের মূলধন, অপর পক্ষের শ্রম। এক্ষেত্রে শরীয়তের নীতিমালা হল, ব্যবসা সংক্রান্ত খরচ বাদ দেওয়ার পর কোনো লাভ থাকলে তা পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষের মাঝে বণ্টন হবে। কিন্তু যদি লাভ না হয় তাহলে শ্রমদাতা পারিশ্রমিক হিসেবে কিছুই পাবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৫২; দুরারুল হুক্কাম ৩/৪৫৮; আলমাআইরুশ শরইয়্যাহ ২৪১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শুআইব মুর্শিদ - চাঁদপুর

২১৯৪. প্রশ্ন

সিএনজি অটো রিকশার ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে সরকার এবং চালকপক্ষের মাঝে দ্বন্দ্ব চলছে। সরকার তাদের জমা কমিয়ে মিটারের কিলোমিটার প্রতি ভাড়া বাড়িয়ে দিয়ে মিটারে চলতে বাধ্য করছে। কিন্তু অনেক চালক আইন অমান্য করে পূর্বের ন্যায় চুক্তিতে চালাচ্ছে। অপর দিকে অনেক যাত্রী আইনের কারণে তাদেকে মিটারে যেতে বাধ্য করছে। অন্যথায় পুলিশের নিকট ধরিয়ে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে আমার জানার বিষয় হল :

ক) সরকারের জন্য উক্ত আইন করা ঠিক হয়েছে কি না?

খ) ঠিক হয়ে থাকলে চালকদের জন্য আইন অমান্য করে টাকা কামানো বৈধ কি না?

গ) চালকের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও যাত্রীদের জন্য সরকারি নিয়মে ভাড়া পরিশোধ করা ঠিক কি না?


উত্তর

ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটো রিক্সাগুলো নির্ধারিত মিটারের ভাড়ায় চালানোর শর্তেই শুল্ক ইত্যাদি রেয়ায়েত দিয়ে আমদানি ও বাজারজাত করার সুযোগ হয় এবং এ শর্তেই তাদেরকে রুট পারমিট দেওয়া হয়। মালিকরা উক্ত শর্ত মেনেই তা ক্রয় করে থাকে এবং চালকগণও সে শর্ত মেনে নিয়েই রাস্তায় গাড়ি চালায়। তাই সিএনজি মালিক ও চালকদের জন্য সরকারের এ সিদ্ধান্ত মানা জরুরি। তাদের জন্য মিটার থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা ঠিক হবে না। আর যাত্রীদের জন্য মিটার অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করা বৈধ। এক্ষেত্রে চালকদের অসন্তুষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়; বরং চালক-মালিকের জন্য যাত্রীদের সাথে অসন্তোষ প্রকাশ করা বা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা অন্যায়

-সূরা মায়িদা : ১০; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/২৯৫; সহীহ মুসলিম ২/১২৫; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৩/৩২৩; আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৬৪; রদ্দুল মুহতার ২/১৮৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মতিউর রহমান - ভালুকা, ময়মনসিংহ

২১৯৩. প্রশ্ন

 

নামাযের দুআ মাছুরা আরবীতে না পড়ে বাংলায় এর অর্থটা পড়া যাবে কি এবং এতে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি?


 

উত্তর

নামাযের সকল দুআ ও যিকির আরবীতে পড়া জরুরি। অন্য ভাষায় পড়া মাকরূহ তাহরিমী। তাই নামাযে দুআ মাছুরার বাংলা অর্থ পড়া যাবে না; আরবী দুআই পড়তে হবে। বড় দুআ পড়তে না পারলে ছোট কোনো দুআ পড়বে। আর সম্ভব হলে নির্ধারিত দুআ মাছুরাটি মুখস্থ করে নিবে।

-কিতাবুল আসল ১/১৫; রদ্দুল মুহতার ১/৫২১, ১/৪৮৩; আহকামুন নাফাইস ফী আদাইল আযকার বিলিসানিল ফারিস (মাজমুআতু রাসায়িলিল লাখনভী ৪/৩৩৬) পৃ. ৩৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন - মাদারীপুর

২১৯২. প্রশ্ন

আমার একটি দোকান আছে। আমি বিভিন্ন পণ্য পাইকারি ক্রয় করে খুচরা মূল্যে বিক্রি করি। ইদানীং একটি শ্যাম্পু কোম্পানি দুই শত টাকার এক বোতল শ্যাম্পু ক্রয় করলে একটি ডোভ সাবান ফ্রি দেয়। বোতলের গায়ে একটি স্টিকারে সাবান ফ্রি লেখা থাকে। সাবানটির মূল্য ৫০/-টাকা। আমি স্টিকার উঠিয়ে শ্যাম্পুটি বিক্রি করি ২০০/-টাকায়। আর সাবানটি বিক্রি করি ৫০/-টাকায়। আমার জন্য উক্ত কাজটি বৈধ হচ্ছে কি না?

 

উত্তর

কাজটি অবৈধ। কারণ কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য ঠিক রেখে ক্রেতার অগোচরে পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া বা অংশবিশেষ রেখে দেওয়া প্রতারণার শামিল। প্রতারণার মাধ্যমে মূল্যেও বৃদ্ধি ঘটছে। ৫০০ মি.লি. শ্যাম্পুর বোতল থেকে ১০০ মি. লি. কমিয়ে দিয়ে গায়ের মূল্যে বিক্রি করা যেমন স্পষ্ট প্রতারণা তেমনি সাবান ফ্রির স্টিকার উঠিয়ে সাবান রেখে দিয়ে শ্যাম্পুর গায়ের মূল্যে বিক্রি করাও প্রতারণা। অতএব এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

-রদ্দুল মুহতার ৬/২২-২৩, ৫/১৪৫; আলগারার ওয়া আছারুহু ফিল উকূদ ৫৯; আলমুসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ৯/৫১

শেয়ার লিংক

ইবনে সুলতান কাউছার - মিরপুর, ঢাকা

২১৯১. প্রশ্ন

আমি একজন চাকরিজীবী। চাকরির পয়সায় মাস চালাতে চরম হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু একটি সংস্থা সম্মেলন করার জন্য আমাদের থেকে প্রতি বছর টাকা নিয়ে থাকে। গত বছর কোনো কথা ছাড়াই বেতন থেকে টাকা কেটে নিয়েছে। পরে কর্মচারীরা তা জানতে পারে। এই বছর একটু বলা হয়েছে যে, কত টাকা নেয়া হবে। আমরা আলিমদের মুখে শুনেছি যে, কারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ছাড়া নেওয়া বৈধ নয়। ইসলামী সম্মেলনের জন্য এভাবে টাকা নেওয়া কতটুকু বৈধ? আশা করি জানাবেন।


উত্তর

মাসিক বেতনের নিরঙ্কুশ মালিক হচ্ছেন চাকুরিজীবীরা। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি ছাড়া বেতনের টাকা কেটে রাখা  জায়েয হবে না। কর্তন করলে তা ফেরত দিতে হবে।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৫৪৮৮, ২৩৬০৫; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়া, মাদ্দাহ : ৪২৫; রদ্দুল মুহতার ৬/৬৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আসআদ - কানাইঘাট, সিলেট

২১৯০. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি হজ্ব করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাওয়াফে যিয়ারত না করেই মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে দেশে চলে এসেছেন। এখন তার করণীয় কী?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তার কর্তব্য হল, নতুন করে কোনো ইহরাম করা ছাড়া পুনরায় মক্কা মুকাররমা গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করা। এছাড়া তার কোনো গত্যন্ত নেই। আর ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্তের পূর্বে তাওয়াফটি আদায় না করার কারণে একটি জরিমানা দম আদায় করা তার উপর ওয়াজিব।

উল্লেখ্য, তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করার পূর্বে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া যাবে না। মিলিত হয়ে থাকলে পৃথকভাবে আরো একটি জরিমানার দম আদায় করতে হবে।

-কিতাবুল আসল ২/৩৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১৬; ফাতহুল কাদীর ২/৪৬৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৩৭০; আলবাহরুল আমীক ৩/১৮৩৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২০; রদ্দুল মুহতার ২/৫৫৩, ৫৬০; মানাসিক পৃ. : ৩৪৫, ৩৪১; গুনয়াতুন নাসিক ২৭০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ - হবিগঞ্জ, সিলেট

২১৮৯. প্রশ্ন

আমাদের বাড়িতে ছোট একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ আছে। তাতে আমরা জুমার নামায ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করতাম। জুমার নামায পাশের বড় মসজিদে গিয়ে আদায় করতাম। কিছু দিন পর কয়েকজন মুসল্লী এখানে জুমার নামাযও পড়া শুরু করে। অথচ এখানে মুসল্লি খুব কম। কারণ ওয়াক্তিয়া নামাযেই এই মসজিদের মুসল্লী কম হয়। আবার জুমআর দিন অনেক মুসল্লী বড় মসজিদে চলে যায়। তাই আমরা সকলে সমবেত হয়ে ছোট মসজিদে জুমআ বন্ধ করে আগের মতো বড় মসজিদে গিয়ে জুমআর নামায আদায় করতে চাই।

আমরা কি তা করতে পারি? জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

এলাকার ছোট ছোট মসজিদগুলোতে জুমআ না পড়ে সকল লোক বড় মসজিদে একত্র হয়ে জুমআ আদায় করা উত্তম। এলাকার ছোট বড় সব মসজিদে জুমআ পড়তে হবে-এটা জরুরি নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ছোট মসজিদে জুমআর জামাত বন্ধ করে পার্শ্ববর্তী বড় জামে মসজিদে গিয়ে জুমআ আদায় করাই বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে  বড় জামাতে পড়ার কারণে বেশি ছওয়াব হবে। অবশ্য সেখানে না গিয়ে এ ছোট মসজিদে জুমআ পড়ে নিলেও জুমআ আদায় হয়ে যাবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/১২০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৮৬; আলইখতিয়ার ১/৮৯; শরহুল মুনইয়া ৫৫১; রদ্দুল মুহতার ২/১৪৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৪৩৯; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/১০৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল আযীয - রংপুর

২১৮৮. প্রশ্ন


এক লোক মান্নত করেছে যে, তার চাকুরি হলে ৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি ছাগল ফকীরদেরকে সদকা করবে। চাকুরি হওয়ার পর মান্নত আদায়ের জন্য লোকটি তার এক নিকটাত্মীয় থেকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি ছাগল ক্রয় করে, যার বাজার মূল্য চার হাজার টাকা। এখন সে জানতে চায়, ৪ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল ৩ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে তা সদকা করলে মান্নত আদায় হবে কি না?


উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী বাস্তবেই যদি ঐ ছাগলের বাজারমূল্য ৪ হাজার টাকা হয়ে থাকে তাহলে সেটি সদকা করলেও তার  মান্নত আদায় হয়ে যাবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৬২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৫২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম - ময়মনসিংহ

২১৮৭. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি মান্নত করেছে, পরীক্ষায় পাশ করলে আজীবন দৈনিক দু রাকাত নফল নামায আদায় করবে। এখন পরীক্ষায় পাশ করার পর জানতে চাচ্ছে, প্রতিদিন দু রাকাত নফল নামায পড়া কি তার জন্য জরুরি? নামায না পড়ে কাফফারা দিলে কি যথেষ্ট হবে? দ্রুত জানতে আগ্রহী।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রতিদিন মান্নতের দুই রাকাত নামায পড়া জরুরি।  কাফফারা দেওয়া যথেষ্ট হবে না। অসুস্থতা বা কোনো কারণে কোনে দিন ছুটে গেলে ঐ নামায কাযা করে নিতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪১-২৪২; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৫৫৬; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৯/২৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল বারী - কুনিয়া, নেত্রকোণা

২১৮৬. প্রশ্ন

ক) এক এলাকায় ফসলী জমি ভাগে দেওয়ার একটি পদ্ধতি চালু আছে। তা এই যে, জমির মালিক কৃষককে ১০ কাঠা জমি চাষ করতে দিলে এক মওসুমে মালিককে ১৫ মণ ধান দিতে হবে। আর জমিটি কৃষক নিজের খরচে চাষ করবে।

এভাবে জমি ভাগে দেওয়া জায়েয হবে কি না? উল্লেখ্য, ধান দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকের ইচ্ছা। যে কোনো ক্ষেতের ধান সে দিতে পারে। নির্ধারিত কোনো ক্ষেতের ধান দেওয়ার শর্ত থাকে না।

খ) জনৈক প্রাইভেটকার ব্যবসায়ী ৮ লক্ষ টাকা মূল্যে একটি প্রাইভেটকার বিক্রি করেছেন। ক্রেতা নগদ ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। আর চুক্তি করেছেন যে, বাকি ৪ লাখ টাকা ৬ মাস পর পর ১ লাখ টাকা করে দিয়ে ২ বছরে পরিশোধ করবে। প্রশ্ন হল, এ ব্যবসায়ীকে বাকি ৪ লাখ টাকার যাকাত আদায় করতে হবে কি না।


গ) আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি ধানের ব্যবসা করেন। তিনি নগদ ও বাকিতে ধান বিক্রি করে থাকেন। বাকিতে বিক্রির একটি পদ্ধতি হল, তিনি জ্যৈষ্ঠ মাসে ক্রেতাকে ৫ মণ ধান দিয়ে দিলেন এবং বলে দিলেন যে, কার্তিক মাসে এ ধরনের ধানের যা মূল্য হবে তা পরিশোধ করতে হবে। এ পদ্ধতিতে ধান বিক্রি করা জায়েয হবে কি না?

ঘ) অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান হওয়ার পর যে স্রাব নির্গত হয় তা নেফাসের রক্ত বলে গণ্য হবে কি না?


উত্তর

ক) প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে চাষের জন্য জমি দেওয়া জায়েয। এই লেনদেনটি হচ্ছে জমি ভাড়া বা লিজ দেওয়া, ভাগে দেওয়া নয়। এক্ষেত্রে জমির মালিককে যে ১৫ মণ ধান দেওয়ার কথা হয়েছে তা জমির ভাড়া। ভাড়া যেমন টাকা হতে পারে তেমনি কোনো পণ্যও হতে পারে। পণ্য দ্বারা ভাড়া আদায় করলে কোন ধরনের পণ্য এবং তার পরিমাণ কি তা চুক্তির সময় নির্ধারণ করে নিতে হবে। কিন্তু এ জমির বা কোনো নির্দিষ্ট জমির ফসল থেকে দেওয়ার শর্ত করলে তা জায়েয হবে না। বরং কোন প্রকারের ধান দিবে তা নির্ধারিত করতে হবে।-হেদায়া ৪/৩০৬, ২৯৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৪, ৬০; মাজাল্লাহ, মাদ্দাহ : ৪৫১-৪৫৩, ৪৬৪, ৪৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৩৫; বাদায়েউস সানায়ে ৫/২৫৪, ২৫৮

খ) হ্যাঁ, ঐ ব্যবসায়ীকে গাড়ির বাকি মূল্য ৪ লক্ষ টাকারও যাকাত দিতে হবে। বছর শেষে ইচ্ছা করলে অন্যান্য সম্পদের যাকাত আদায় করার সময় ঐ ৪ লক্ষ টাকার যাকাতও আদায় করে দিতে পারবে। অথবা প্রতি কিস্তি হস্তগত হওয়ার পর ঐ কিস্তির বর্তমান ও বিগত বছরের যাকাতও আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য, ব্যবসার সম্পদ এমনিতেই যাকাতযোগ্য। তাই কারটি যদি বিক্রি না হয়ে দোকানে পড়েও থাকত তবুও তার যাকাত দিতে হত।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৪৮৪, ৪৮৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০-৯১; মাবসূত সারাখসী ২/১৯৭; ফাতহুল কাদীর ২/১২৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৫

 

গ) বাকি ক্রয়-বিক্রয়ের একটি শর্ত হল, বেচা-কেনার সময়ই পণ্যের মূল্য চূড়ান্ত করে নেওয়া। অন্যথায় লেনদেন নাজায়েয হয়ে যায়। প্রশ্নোক্ত লেনদেনে বিক্রয়ের সময় ধানের মূল্য যেহেতু নির্দিষ্ট করা হয় না তাই এ পদ্ধতিতে বেচাকেনা জায়েয হবে না।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩৫৫; হেদায়া ৩/২০; ফাতহুল কাদীর ৫/৪৬৭; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৭৩; রদ্দুল মুহতার ৪/৫২৯; মাজাল্লাহ ২৩৭-২৩৯; শরহুল মাজাল্লাহ ২/১৫৮-১৫৯

ঘ) হ্যাঁ, অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান হওয়ার পরও রক্তস্রাব চালু হলে তা নেফাস হিসেবে গণ্য হবে।-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৭; রদ্দুল মুহতার ১/২৯৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২১৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৩৮৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ মামুন - জামালপুর, সদর

২১৮৫. প্রশ্ন

 

জনৈক ব্যক্তি যাকাতের টাকা থেকে একটি কাপড় ক্রয় করে তার সৎ মাকে দিয়েছে। জানতে চাই যে, সৎ মাকে যাকাত দেওয়া জায়েয কি না এবং দিলে যাকাত আদায় হবে কি না?


 

উত্তর

হ্যাঁ, সৎ মা যদি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন তাহলে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে। যাকাত ও অন্যান্য ওয়াজিব সদকা দরিদ্র আত্মীয়দেরকে দেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১২২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - মিরপুর-১৪, ঢাকা

২১৮৪. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি ফরয নামাযে তিন আয়াত শুদ্ধ করে পড়ার পর এমন ভুল কিরাত পড়েছে, যা নামায নষ্ট করে দেয়। অতপর পরক্ষণে সে উক্ত ভুল কিরাত শুদ্ধ করে পড়ে নিয়েছে। এখন জানার বিষয় হল, ঐ ব্যক্তির নামায শুদ্ধ হয়েছে নাকি হয়নি?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি যদি ঐ রাকাতে রুকুর পূর্বে ভুল পঠিত কিরাত শুদ্ধ করে পড়ে থাকে, তাহলে তার নামায আদায় হয়ে গেছে। উল্লেখ্য যে, তিন আয়াত পরিমাণ পড়ার আগে বা পরে ভুল হওয়ার হুকুম একই। অর্থ বিকৃত হয়ে যায় এমন ভুল নামাযের যে পর্যায়েই হোক নামায নষ্ট হয়ে যাবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮২; হাশিয়াতুশ শারওয়ানী ২/২০৬; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/১৭৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - মিরপুর-১৪. ঢাকা

২১৮৩. প্রশ্ন

একজন বলল যে, নখ বড় থাকলে অযু সহীহ হয় না। এ কথা কি ঠিক?


উত্তর

না, এ কথা ঠিক নয়। কেননা নখ বড় থাকা সত্ত্বেও যদি নখের গোড়ায় পানি পৌঁছে যায় তাহলে অযু সহীহ হয়ে যাবে। তবে নখ বড় হওয়ার কারণে তাতে আটা বা ময়লা জমে থাকার কারণে যদি নখের গোড়ায় পানি না পৌঁছে তাহলে অযু সহীহ হবে না। উল্লেখ্য, নখ বড় রাখা সুন্নতের খেলাফ। তাই নিয়মিত নখ কেটে ছোট করে রাখতে হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২; ফাতহুল কাদীর ১/১৩; আলমুহীতুল বুরহানী ১/১৬৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৯০; মারাকিল ফালাহ ৩৫; আলবাহরুর রায়েক ১/১৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাসউদুযযামান - কেরাণীগঞ্জ

২১৮২. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি যোহরের চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে দ্বিতীয় সিজদা করতে ভুলে যায়। তৃতীয় রাকাতে রুকুর পর স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে তা আদায় করে নেয়। এরপর যথা নিয়মে বাকি নামায শেষ করে। তবে কোনো সাহু সিজদা করেনি। আমার জানার বিষয় হল, ওই ব্যক্তির উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে কি? হলে সেই নামাযের হুকুম কী? জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সিজদা যথাসময়ে আদায় না করার কারণে তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু সে যেহেতু সাহু সিজদা করেনি তাই উক্ত নামাযটি পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব।

-শরহুল মুনইয়াহ ২৯৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫১০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৫৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আদীব - ডেমরা, ঢাকা

২১৮১. প্রশ্ন

একাধিক জানাযা একত্রিত হলে নামায পড়ার পদ্ধতি কী হবে? প্রত্যেকটির জন্য পৃথকভাবে নামায পড়া আবশ্যক? না একসাথে পড়ারও সুযোগ আছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

একাধিক জানাযা একত্র হলে প্রত্যেকটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন নামায পড়া উত্তম। তবে সবগুলো একত্র করে একসাথে নামায পড়ে নেওয়ারও অবকাশ আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহুদ প্রান্তরে একত্রে দশ-দশজন শহীদের জানাযা নামায পড়িয়েছেন। হযরত ওসমান বিন আফফান রা., আবদুল্লাহ বিন ওমর রা ও হযরত আবু হুরায়রা রা. প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবীদের থেকেও একাধিক মাইয়্যেতের একত্রে জানাযা পড়ানো প্রমাণিত আছে।

-সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ১০৯; মারাসীলে আবু দাউদ ৪২৭-৪৩৫; শরহু মাআনিল আছার ৩২২; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৪৪৮, হাদীস : ৩২৮২২; মুয়াত্তা মালেক ১/২৩০; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪৬৫; সুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৪/৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৫৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম - নারায়ণগঞ্জ

২১৮০. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে এক ব্যক্তি যাকাতের নেসাবের চেয়ে অধিক টাকা-পয়সা ঋণ নিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করার কথা থাকলেও সে আদায় করেনি। ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ করতে অস্বীকারও করেনি, আবার সে গরীবও নয়। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত সম্পদের উপর যাকাত ফরয হবে কি না? আর যদি ঋণ গ্রহীতা তা পরিশোধ করে দেয় তাহলে বিগত বছরগুলোর অনাদায়ী যাকাত আদায় করতে হবে কি না?


 

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঋণদাতাকে উক্ত সম্পদের যাকাত আদায় করতে হবে। তবে ঋণ উসুল হওয়ার আগে ঐ টাকার যাকাত আদায় করা জরুরি নয়। পাওনা হস্তগত হওয়ার পর যাকাত আদায় করলেই চলবে। তবে কোনো যাকাতবর্ষ পার হয়ে যাওয়ার পর হস্তগত হলে অনাদায়ী বছরেরও যাকাত আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়ম হল, প্রথম বছরের যাকাত গোটা সম্পদ থেকে আদায় করবে। দ্বিতীয় বছরে প্রথম বছরের যাকাতের পরিমাণ বাদ দিয়ে অবশিষ্টকে মূল সম্পদ ধরে যাকাত আদায় করবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৩৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৯৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৮৪; ফাতহুল কাদীর ২/১২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৪-১৭৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪৫; মাবসূত, সারাখসী ২/১৯৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম - নোয়াখালী

২১৭৯. প্রশ্ন

যোহরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব ভুলবশত তিনটি সিজদা করেন। তৃতীয় সিজদার সময় কিছু মুক্তাদী ইমামের অনুসরণ করেছে। আর কিছু অনুসরণ করেনি। অতপর ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করা ব্যতীত নামায শেষ করেন। জানার বিষয় হল, উক্ত নামাযের হুকুম কী?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ভুলের কারণে ইমাম ও সকল মুসল্লির উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। সাহু সিজদা না করার কারণে সকলের জন্য নামাযটি পুনরায় পড়া ওয়াজিব ছিল।&

উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যে সকল মুকতাদি অতিরিক্ত সিজদায় ইমামের অনুসরণ করেনি তারা ঠিকই করেছেন। এ ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণ না করাই নিয়ম। তবে তারা ভুল না করলেও ইমামের ভুলের কারণে তাদের উপরও সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। অতএব এখন তাদেরকেও ঐ নামায কাযা করে নিতে হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬১; শরহুল মুনইয়াহ ৫২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৩; আলবাহরুর রায়েক ২/৯২; রদ্দুল মুহতার ২/৮২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খাইরুল ইসলাম - ডেমরা, ঢাকা

২১৭৮. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি হজ্ব আদায়ের জন্য মক্কা মুকাররমায় গমন করে এবং আল্লাহর অনুগ্রহে হজ্বের কার্যাবলি যথাযথভাবে সম্পন্ন করে, কিন্তু হজ্বের শেষ পর্যায়ে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। যার কারণে আইয়্যামে নহর তথা যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করতে পারেনি। জানার বিষয় হল, তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করা কি জরুরি? না এর পরিবর্তে দম দিলেই যথেষ্ট হবে? আর তাওয়াফের নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে আদায় করলে দম দেওয়া ওয়াজিব হবে কি?

 

উত্তর

তাওয়াফে যিয়ারত হজ্বের অন্যতম ফরয। তাই যেকোনোভাবেই হোক এবং যখনই হোক তা অবশ্যই আদায় করতে হবে। এই তাওয়াফ না করলে যত দমই দেওয়া হোক হজ্ব আদায় হবে না। অধিক অসুস্থতার কারণে পায়ে হেঁটে তাওয়াফ করতে না পারলে হুইল চেয়ার বা অন্য যে কোনো পদ্ধতিতে স্বয়ং ঐ ব্যক্তিকেই তাওয়াফ করতে হবে। কাউকে দিয়ে বদলী করানোরও সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য যে, ১২ তারিখ সূর্যাস্তের মধ্যে তাওয়াফে যিয়ারত সম্পন্ন করা ওয়াজিব। বিনা ওজরে বিলম্ব করলে দম ওয়াজিব হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু অসুস্থতা ছিল তাই বিলম্বের কারণে কোনো দম বা জরিমানা দিতে হবে না।

-সহীহ বুখারী ১/২২১; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ২৩২, ৩৪৮; সহীহ মুসলিম ১/৪১৩; মুসনাদে আহমদ ৩/৩১৭; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/১৩২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৫, ৪৪৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১১-৩১৬; গুনইয়াতুন নাসিক ২৩৯, ২৭৩; মাবসূত, সারাখসী ৪/৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৪৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সায়েম - পটুয়াখালি

২১৭৭.. প্রশ্ন

কোনো ব্যক্তির ৪৮ মাইল ব্যবধানে দুটি বাড়ি আছে। সে দুই বাড়িতেই বসবাস করে। তবে প্রথম বাড়ির তুলনায় দ্বিতীয় বাড়িতে বেশি দিন অবস্থান করে। আমি জানতে চাই, সে তার কোনো বাড়িতে মুসাফির হবে কি না?

 

উল্লেখ্য, আমি জানি যে, ওয়াতনে আসলী দ্বারা ওয়াতনে আসলী বাতিল হয়ে যায়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এ হুকুম প্রযোজ্য হবে কি? 

 

 

উত্তর

উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী যেহেতু ওই ব্যক্তি দুই বাড়িতেই বসবাস করে থাকে, কোনোটিকে পরিত্যাগ করেনি তাই লোকটি উভয় বাড়িতেই মুকিম থাকবে। এক্ষেত্রে উভয় বাড়িই তার জন্য ওয়াতনে আসলী বলে গণ্য হবে। কেননা, এক ব্যক্তির একাধিক ওয়াতনে আসলী হতে পারে। আর ওয়াতনে আসলী তখনই বাতিল হয় যখন সেটাকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করার নিয়ত করা হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সে কোনোটিকে পরিত্যাগ করেনি।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২১৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৯; শরহুল মুনইয়াহ ৫৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমীনুল ইসলাম - আড়াই হাজার

২১৭৬.. প্রশ্ন

এক ব্যক্তির বাম পা মারাত্মকভাবে যখম হওয়ায় ডাক্তার তার পা ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে। তাই সে অযু করার সময় ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করে নামায পড়ে। জানার বিষয় হল, তাকে যদি ফরয নামাযের ইমাম বানানো হয় আর সুস্থ লোকজন তার ইকতিদা করে তাহলে কি সুস্থ লোকদের নামায সহীহ হবে?


 

  

 

 

উত্তর

হ্যাঁ, ব্যান্ডেজের উপর মাসহকারী ইমাম হতে পারে এবং তার পিছনে সুস্থ লোকদের ইকতিদা সহীহ হবে। তবে  যে ব্যক্তির ক্ষতস্থান থেকে সর্বদা রক্ত বা পুঁজ ঝরতে থাকে তার জন্য ইমামতি করা সহীহ হবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৫০, ৩৫৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৪৭; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৮৫; শরহুল মুনইয়াহ ৫১৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৮৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ফাহিম - মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

২১৭৫. প্রশ্ন

জনৈক ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে মাত্র তিন তাকবীর বলেই সালাম ফিরিয়েছেন। তাকে জানানোর পর তিনি বলেন, সমস্যা নেই। তাকবীর কম হলে নামায অশুদ্ধ হয় না। কিন্তু মৃতের অভিভাবকগণ এতে সন্তুষ্ট না হয়ে পরের দিন অন্য ইমাম এনে কবরকে সামনে নিয়ে নামায পড়েছে। জানার বিষয় হল, প্রথম জানাযার নামায সহীহ ছিল কি না? আর কবরকে সামনে রেখে দ্বিতীয় নামায পড়া উচিত হয়েছে কি না?

 

  

 

উত্তর

জানাযার নামাযে চার তাকবীর বলা ফরয। একটি তাকবীর কম হলেও নামায আদায় হয় না। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব যেহেতু  চতুর্থ তাকবীর না বলেই সালাম ফিরিয়েছেন তাই উক্ত নামায সহীহ হয়নি। এক্ষেত্রে দাফনের পূর্বেই পুনরায় সহীহ তরীকায় নামায পড়ে নেওয়া জরুরি ছিল। যেহেতু পড়া হয়নি তাই পরের দিন কবরকে সামনে নিয়ে জানাযার  নামায আদায় করা সহীহ হয়েছে। কেননা জানাযা না দিয়ে দাফন করা হলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে কবরকে সামনে নিয়ে জানাযা পড়ার বিধান রয়েছে।

-সহীহ বুখারী ১/১৭৭-১৭৮; জামে তিরমিযী ১/১২১; সহীহ মুসলিম ১/৩০৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮২; ফাতহুল কাদীর ২/৮৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২২৩; শরহুল মুনইয়াহ ৫৮৬; বাদায়েউস সানায়ে২/৫১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২০৯

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement