মাহফুজ - রংপুর

প্রশ্ন

হেদায়া গ্রন্থের হাদীস সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি। হাদীসটি হলো الثيب تشاور في نفسها  (২য় খন্ড ৩১০ পৃষ্ঠা)। হাফেয যায়লায়ী রাহ. হাদীসটি সম্পর্কে ‘নসবুর রায়া’ গ্রন্থে বলেছেন।  غريب بهذا اللفظ আর হাফেয ইবনে হাজার রাহ. বলেছেন لم أره بهذا اللفظ । কাসেম ইবনে কুতলুবুগা রাহ.-এর ‘মুনইয়াতুল আলমায়ীতে হাদীসটি তালাশ করে পাইনি। মূল হাদীসটি তো ভিন্ন শব্দে কুতুবে সিত্তাহসহ অনেক কিতাবেই রয়েছে। কিন্তু হেদায়াগ্রন্থকার হাদীসটি যে শব্দে উল্লেখ করেছেন তা কোনো হাদীসের কিতাবে আছে কি? নাকি এটি তার ‘রিওয়ায়াত বিল মা‘না’। যদি রিওয়ায়াত বিল মা‘না হয়ে থাকে তবে তো খাস এই শব্দ দ্বারা দলীল পেশ করা সহীহ হবে না।

উত্তর

হেদায়া কিতাবে উল্লেখিত হাদীস সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ইতোপূর্বে লেখা হয়েছে যে, হেদায়া ও অনুরূপ অন্যান্য ফিকহী কিতাবে যে হাদীস ও আছার উল্লেখিত হয়েছে তা পূর্ববর্তী হানাফী ইমামদের রচনাবলী থেকে গৃহীত। হাফেয যাইলায়ী ও হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী হেদায়ার কতক হাদীস কেন পেলেন না বা তিনি যে শব্দে উল্লেখ করেছেন সে শব্দে কেন পেলেন না এসবের একটি কারণ হলো, ছাহিবে হেদায়া যেসব উৎস থেকে হাদীস গ্রহণ করেছন অর্থাৎ আইম্মায়ে মাযহাব এবং মুতাকাদ্দিমীন ফুকাহা-মুহাদ্দিসীনের হাদীস। ফিকহুল হাদীস ও আলফিকহুল মুদাল্লাল বিষয়ক কিতাবসমূহে তারা হাদীসগুলো অনুসন্ধান করেননি বরং পরবর্তী মুহাদ্দিসীনের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে কেবল অনুসন্ধান করেছেন। এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে প্রশ্নোক্ত হাদীসটি। কারণ ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. হাদীসটি তাঁর ‘কিতাবুল আছল-এ (১০/১৯৭ নতুন সংস্করণ ১৪৩৩ হি.) এভাবে উল্লেখ করেছেন بلغنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال : الثيب تشاور في نفسها  হাদীসটি উপরোক্ত শব্দে আবু বকর জাসসাস রাযী (৪৭০ হি.) ‘শরহু মুখতাসারিত তাহাবী’তে এবং ইমাম সারাখসী (৪৯০ হি.) ‘আল মাবসুত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আপনি আরো অবাক হবেন যে, ছাহিবে হেদায়া যে শব্দে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন হুবহু সে শব্দে ইমাম আহমদ রাহ. সহীহ সনদে তাঁর প্রসিদ্ধ ‘মুসনাদ’ -এও রেওয়ায়াত করেছেন। (দেখুন ‘মুসনাদে আহমদ’ ১২/৩৩ হাদীস নং ৭১৩১, আরো দেখুন : আল আওসাত ; ইবনুল মুনযির ৮/২৭১ হাদীস ৭১৮৯; ‘সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর’ ১/১৮১ (৫৫৪)

আর হাফেয কাসেম ইবনে কুতলুবুগা রাহ. ‘মুনইয়াতুল আলমায়ী’ কিতাবে হাদীসটি যদিও তাখরীজ করেননি। কিন্তু হাফেয ইবনে হাজার রাহ.-এর ‘আদ-দিরাফ’-এর উপর যে হাশিয়া রয়েছে সেখানে তিনি হাদীসটি ইমাম হারেসীর সংকলিত ‘মুসনাদুল ইমাম আজম আবী হানীফা’-এর বরাতে উল্লেখ করেছেন।

 

বাকী থাকল হাদীসের উপরোক্ত শব্দ দ্বারা আলোচ্য মাসআলায় দলীল পেশ করা। তো ওজহে ইস্তেদলাল এবং দলীলে নকদ ও তাবসেরার জন্য ইবনুল হুমাম রাহ.-এর ‘ফাতহুল কাদীর’ দেখতে পারেন। 

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - মারকাযুল বুহূস আলইসলামিয়া, ঢাকা

প্রশ্ন

(ক) হযরত ওয়ালা দামাত বারাকাতুহুম-এর কাছে জানতে আগ্রহী যে, আমরা জানি ইমাম আবু যোহরা রাহ. একজন অনেক বড় আলেম ছিলেন। তিনি স্বীয় কিতাব উসূলুল ফিকহ-এর বহসুল মানদুব-এর ৪১ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘দাড়ি লম্বা করা এটা সুনানে আদিয়ার অন্তর্ভুক্ত। যে এটাকে দ্বীনের অংশ বা আবশ্যকীয় কোনো বিষয় মনে করবে তাহলে সে দ্বীনের মাঝে এমন বিষয় উদ্ভাবন করল যা তাতে নেই।’ এখানে হযরত ওয়ালা দামাত বারাকাতুহুম-এর কাছে জানার বিষয় হল ইমাম আবু যোহরা রাহ.-এর তাহকীক বা রচনাকৃত এ কিতাবের মান কী? তিনি কোন পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব ছিলেন? তিনি কোন কোন দলিলের ভিত্তিতে দাড়িকে সুন্নতে আদিয়া লিখেছেন এবং আহলে হক্বের পক্ষ থেকে সেগুলোর উত্তর কী?

(খ) হযরত ওয়ালা দামাত বারাতুহুম-এর কাছে জানতে আগ্রহী যে, শায়খুল ইসলাম তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর উসূলুল ইফতা ওয়া আদাবুহু কিতাবের নতুন নুসখার ৯৩ নং পৃষ্ঠায় ২নং হাশিয়ার ৭ নম্বর লাইনের وجامعه موجود حتى اليوم في قازان وزرته...  -এ ইবারত থেকে হযরত ওয়ালা দামাত বারাকাতুহুম-এর কাছে জানার বিষয় হল; যেই جامع -এর সাথে তাকী উসমানী ছাহেব দামাত বারাকাতুহুম সাক্ষাৎ করেছেন সেই جامع দ্বারা স্বয়ং নাযুরাতুল হক-এর মুসান্নিফ উদ্দেশ্য, নাকি অন্য কোনো  সংকলক উদ্দেশ্য? যদি ناظورة الحق -এর মুসান্নিফ উদ্দেশ্য হয় তাহলে তিনি কত বসর হায়াত পেয়েছেন? আর যদি অন্য কোনো সংকলক উদ্দেশ্য হন তাহলে তাঁর পরিচয় কী? মেহেরবানি করে তা জানাবার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা গেল। জাযাকুমুললস্নাহু খাইরান।

উত্তর

(ক) শায়খ মুহাম্মাদ আবু যাহরা রাহ. (১৩১৬-১৩৯৪ হি.) গত শতকে মিসরের হানাফী মাযহাবের অনুসারী একজন মুহাক্কিক আলেম ও মুসান্নিফ। তাঁর লিখিত ‘উসূলুল ফিকহ’ কিতাবটি সহজবোধ্য এবং মুফীদ। এ কিতাব থেকে ইস্তেফাদার সময় কোনো বিষয় শায বা গরীব মনে হলে সে ক্ষেত্রে স্থানীয় মুহাক্কিক আহলে ইলমদের শরণাপন্ন হতে হবে এবং তাঁদের রায়কে প্রাধান্য দিতে হবে।

দাড়ি সম্পর্কে উপরোক্ত কিতাবে উল্লিখিত রায়টি মুনকার। মাসনূন তরীকায় দাড়ি রাখা একটি ওয়াজিব আমল এবং সুন্নতে হুদার গুরুত্বপূর্ণ শাখা। দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ সম্বলিত হাদীসসমূহের ব্যাখ্যা শরহে হাদীসের নির্ভরযোগ্য কিতাবে পাঠ করলেও বিষয়টি বুঝতে পারবেন। এ ব্যাপারে শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রাহ. রচিত ‘ডারহীকা উজুব’ নামক পুস্তিকা দ্রষ্টব্য।

 

(খ) উক্ত ইবারত একটু খেয়াল করে পড়লে বুঝতে পারবেন, এখানে جامع  অর্থ সংকলক নয়, বরং মসজিদ। ‘নাযুরাতুল হক ফী ফরযিয়্যাতিল ইশা ওয়া ইনলাম ইয়াগিবিশ শাফাক’ কিতাবের মুসান্নিফ হলেন, হিজরী তের শতকের হানাফী ফকীহ হারুন ইবনে বাহাউদ্দিন আল মারজানী (১২৩৩-১৩০৬ হি.) রাহ.। তিনি বর্তমান রাশিয়ার কাযান শহরের অধিবাসী ছিলেন। এই কাযান শহরের যে মসজিদে তিনি থাকতেন এবং দরস দিতেন সেটি তাঁর নামের সাথে সম্বন্ধ করে মসজিদে মারজানী নামে এখনো পরিচিত। এই মসজিদের কথাই উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা মুহাম্মাদ তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম উক্ত ইবারতে বলেছেন। রাশিয়া সফরকালে তিনি পরিদর্শন করেছেন। এ সম্পর্কে তিনি তাঁর সফরনামা ‘সফর দর সফর’ -এ বিস্তারিত লিখেছেন, আপনি তা দেখতে পারেন।

শেয়ার লিংক