মুহাম্মাদ মুঈনুদ্দীন খান - মাদারীপুর

প্রশ্ন

সালাম বাদ আরয এই যে, আমি কাফিয়া জামাতের এক নগণ্য ছাত্র। বড়দের মুখে শুনি, প্রতিদিন একটি করে আরবী শব্দ অভিধান দেখে তাহকীক করবে। এতে আরবী শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হবে এবং আরবী ভাষায় দক্ষতা অর্জন হবে। তাই আমি প্রতিদিন অভিধান নিয়ে বসি। কিন্তু এত শব্দের ভিতরে কোনটা রেখে কোনটা তাহকীক করব ভেবে পাই না। তাই হুজুরের নিকট আরয, বহুল ব্যবহৃত অর্থাৎ কুরআন-হাদীসে যে শব্দগুলো সাধারণত পাওয়া যায় এমন তিরিশটি করে শব্দ প্রতিমাসে পর্যায়ক্রমে মাসিক আলকাউসারে উল্লেখ করলে ভালো হত।


 


উত্তর

আপনি হযরত মাওলানা আবদুর রশীদ নুমানী রচিত লুগাতুল কুরআন সংগ্রহ করুন। এটা যেমন কুরআনের অভিধান তেমনি কুরআনী শব্দমালার সূচিও বটে। এই গ্রন্থের সাহায্যে কুরআনের বহুল ব্যবহৃত শব্দগুলোও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাঈদুর রহমান বিন সিদ্দীকুর রহমান - ঢাকা

প্রশ্ন

(ক) আমি জালালাইন জামাতের একজন ছাত্র। আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল (যা ইতিপূর্বে কখনও হয়নি) আমি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে একটি মাদরাসায় ভর্তি হয়েছি। কিন্তু একাকি থাকার কারণে লেখাপড়ায় বিশেষ করে মুতালাআয় কোনোক্রমেই মন বসছে না। যখনই একটু কিতাব নিয়ে বসি তখনই নানারকম চিন্তা আমার মনকে আচ্ছন্ন করে এবং নিজেকে একাকি ভেবে বড় অসহায় বোধ হয়। তখন নিরবে অশ্রু ঝরানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এককথায় এখানে কোনোভাবেই আমার মন টিকছে না। তাছাড়া নদভী রাহ. বলেছেন, (যার মাফহুম হল) মাদরাসার পড়া যদি তোমার কাছে ভালো না লাগে তাহলে সোজা বাবা-মার কাছে বল যে, এখানে আমার ভালো লাগছে না। আমার জন্য অন্য ব্যবস্থা নিন। কেননা, তোমার মনঃপুত না হলে শুধু শুধু সময় নষ্ট হবে। আর এতে কোনো লাভ নেই। কিন্তু এখন যে অন্য কোথায়ও ভর্তি হওয়ারও সুযোগ নেই কিংবা থাকলেও তা হবে বাবা-মার অসন্তুষ্টিতে। সুতরাং এমনই দুর্যোগময় মুহূর্তে আমি কী করতে পারি? ভাঙ্গা মন নিয়েই কি থেকে যাব? নাকি এর জন্য অন্য কোনো পথ আছে? এ ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন।

খ) আপনার মতো সৌভাগ্যবান ব্যক্তির কথা আমি যখন থেকে শুনেছি তখন থেকেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছি আপনার মতো বড় না হতে পারলেও আপনার চেয়ে অনেক বড় হব ইনশাআল্লাহ। এমনকি উলূমে হাদীসের উপর দক্ষতা অর্জনের জন্য আপনার সান্নিধ্যে থেকে কিছু ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করব। আল্লাহ তাআলা আপনাকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। আমীন।

সুতরাং এখন থেকেই প্রস্ত্ততি হিসাবে কী পন্থা অবলম্বন করতে হবে জানিয়ে উপকৃত করবেন।


 


উত্তর

ক) মুরববীদের মশোয়ারা অনুযায়ী কাজ করুন। আল্লাহ আপনার নুসরত করবেন। আল্লাহ তাআলার কাছে মনোযোগ ও স্থিরতার জন্য দুআ করুন এবং চিন্তাকে বিক্ষিপ্ত করে-এমন সকল কথা, কাজ ও চিন্তা থেকে কষ্ট করে হলেও নিজেকে দূরে রাখুন। দুআ ও মুজাহাদাই সকল সৌভাগ্যের চাবিকাঠি।

كن رجلا رجله في الثرى + وهامة همته في الثريا

খ) এ বছর জালালাইনের সঙ্গে আবু শাহবা রাহ.-এর কিতাব আল ইসরাঈলিয়্যাত ওয়াল মওযূআত ফী কুতুবিত তাফসীর অধ্যয়ন করুন। আগামী রমযানে আল মাদখাল ইলা উলূমিল হাদীসিশ শরীফ ও আলবিযাআতুল মুযজাত (মুকাদ্দিমায়ে মিরকাতুল মাফাতীহ, মুলতান থেকে প্রকাশিত সংস্করণ) অধ্যয়ন করুন। এরপর আলমাদখাল-এর পরামর্শ অনুযায়ী ধীরে ধীরে সামনে অগ্রসর হোন। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহ কাউসার আহমদ - ফজিলত ২য় বর্ষ, জামেয়া কাসিমুল উলূম দরগাহ মাদরাসা, সিলেট

প্রশ্ন

আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালই আছেন। আমি এ বছর মিশকাত জামাতে লেখাপড়া করব আমি একজন মাঝারি ধরনের ছাত্র। এ জামাতের কিতাবাদি কীভাবে অধ্যয়ন করলে আমার উপকার হবে সে বিষয়ে জানার খুব আগ্রহ।

দয়া করে আপনার কিছু সময় আমার জন্য ব্যয় করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে দিয়ে দ্বীনের বিপুল খেদমত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।


 


উত্তর

এই জামাতের সব কিতাবের ব্যাপারেই আলকাউসারের বিভিন্ন সংখ্যায় লেখা হয়েছে। মেহেরবানী করে পিছনের সংখ্যাগুলোর শিক্ষার্থীদের পাতায় দেখুন। ইনশাআল্লাহ আপনার কাঙ্খিত তথ্য পেয়ে যাবেন।

একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করছি যে, আপনি প্রতিটি হাদীসের তরজমা ও মাফহুম পরিষ্কারভাবে বোঝার চেষ্টা করবেন। মাওলানা মনযুর নুমানী রাহ.-এর মাআরিফুল হাদীসমুতালাআয় রাখবেন। তিনি হাদীসের ভাব ও শিক্ষা যেভাবে সহজ-সরল ভাষায় বর্ণনা করেছেন আপনিও হাদীসের মাফহুম ঐভাবে বোঝার চেষ্টা করবেন। হাদীসের নির্দেশনাগুলো নিজের আমলী যিন্দেগীতে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করবেন। এরপরে অতিরিক্ত বিষয়, বিভিন্ন ফায়েদা, ইখতিলাফ সমূহ ও দলীল-প্রমাণের স্থান রাখবেন। এ বিষয়গুলো যতটুকু পারা যায় তাতেই আলহামদুলিল্লাহ, বাকি পরে দেখা যাবে।

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - ঢাকা

প্রশ্ন

 

ক) মানতিক সম্পর্কে কেউ বলেন, এর কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু শুধু সময় নষ্ট করা। আবার অনেকে এর পিছনে যথেষ্ট মুজাহাদা করে, মেধা খাটায়। আর আসল কুরআন ও হাদীস নিয়ে গবেষণার সময় হলে পড়া শেষ হয়ে যায়। তাহলে এ শিখার কী অর্থ? কেউ কেউ বলেন, মুহাক্কিক আলেম হওয়ার জন্য বিষয়টির যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। কুরআন-হাদীসের সূক্ষ্ণ তত্ত্ব ও ইঙ্গিত বুঝতে সহায়ক। তাই বিষয়টি অতীব প্রয়োজন।

এখন হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, বিষয়টির বাস্তবতা কতটুকু? কতটুকু অর্জন করা জরুরি? সুন্দর পরামর্শ প্রার্থী। 

খ) মানতিকের কিতাবগুলোতে কিছু বহছ আছে যথা- 

كل ج ب ـ موجهات عكس نقيض 

ইত্যাদি খুরাফাতের শামিল হবে কি না?

গ) আমাদের জামাতে কুতবী-এর তাছদীকাত অংশ পড়ানো হয়। কিতাবটি কোন পদ্ধতিতে পড়ব জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

ঘ) আমার মধ্যে তাহকীকের মাদ্দা কম। কোনো বিষয় মা লাহা ওয়া মা আলাইহা বুঝার উদ্দীপনা নেই। মুতালাআয় মনোযোগের বেশ অভাব। ভাসা ভাসা পড়ি। উদ্দেশ্য থাকে শুধু কিতাব শেষ করা। সময় নির্ধারণ করে প্রায় সময় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করে ফেলি। কিন্তু অনেক জায়গা কাঁচা থেকে যায়। আমার কী করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।


 

উত্তর

 

ক, খ ও গ) মানতিক সম্পর্কে এই বিভাগে ইতোপূর্বে অনেক কিছু লেখা হয়েছে। সংক্ষেপে আপনাকে শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, আপনি শায়েখ আবদুল ফাত্তাহ রাহ.-এর কিতাব 

العلماء العزاب الذين آثروا العلم على الزواج

  এর মধ্যে ইমাম নববী রাহ.-এর জীবনী হাশিয়াসহ মুতালাআ করুন এবং হাকীমুল উম্মত রাহ.-এর কিতাবসমূহ থেকে নির্বাচিত রেসালা উলূম ওয়া ফুনুন ও  নেসাবে তালীম থেকে মানতিক বিষয়ক আলোচনা মুতালাআহ করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি ভারসাম্যপূর্ণ ও অনুসরণীয় রায় পেয়ে যাবেন। তর্ক বাদ দিয়ে কাজ করা উচিত। সময় খুবই মূল্যবান, অযথা তর্ক-বিতর্ক করে সময় ব্যয় করা কাম্য নয়।

ঘ) এভাবেই মুতালাআ করতে থাকুন। তবে প্রত্যেক জামাতের বুনিয়াদী কিতাবগুলোর কিছু জায়গা থেকে নিজের তালীমী মুরববীকে শুনিয়ে কিতাবগুলো আপনার ভালোভাবে বুঝে আসছে কিনা  তা নিশ্চিত করবেন। বুনিয়াদী কিতাবে দুর্বলতা থাকা উচিত নয়। মেহনত করে মজবুত করে নেওয়া জরুরি।


 

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement