শোআইব - তাকমীল, হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

ক. সম্প্রতি অনেকে বেশ জোরালোভাবে কওমী মাদরাসার শিক্ষা সিলেবাস পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। আবার অনেকে বলছেন, স্কুলের দশম শ্রেণী পর্যন্ত সবগুলো বই মাদরাসার সিলেবাসভুক্ত করতে হবে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে মাদরাসা সিলেবাসভুক্ত কিছু কিতাব বাদ দিতে হবে। সিলেবাসভুক্ত কিতাবগুলোর মধ্যেও আমূল সংস্কার করতে হবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যেহেতু উচ্চ শিক্ষার বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত হয় প্রাথমিক শিক্ষার কাঠামোর উপর তাই প্রাথমিক শিক্ষার ভিত নড়বড়ে হয়ে গেলে উচ্চ শিক্ষা বাধাগ্রস্থ হওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে। সুতরাং মাদরাসার সিলেবাস সংস্কার করলে সেই ভয়ানক আশংকার সম্মুখীন হতে হয় কি না বা শিক্ষার্থীরা ফল লাভে সক্ষম হবে কি না এ ব্যাপারে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাই।

খ. বর্তমানে মাদানী নেসাবের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু? এই নেসাবে পড়লে কি মুহাক্কিক আলেম হওয়া যাবে? জানতে ইচ্ছুক।

গ. বাব এর খাসিয়াত জানার জন্য আরবী, বাংলা উর্দূ কিছু কিতাবের নাম জানাবেন।

আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।


উত্তর

ক. মেরে মুহতারাম! নেসাবের বিষয়টি অতি সংবেদনশীল। এরপর এটি বাস্তব অভিজ্ঞতার বিষয়। শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা কিংবা নিছক পর্যালোচনা মূলক বহস এক্ষেত্রে মোটেই ফলদায়ক নয়। এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা বড়দের কর্তব্য। আর একটি পর্যায় পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা অব্যাহতও রেখেছেন। আলাহ তাআলা কল্যাণের পথ সুগম করুন এবং সকল প্রকার কল্যাণ আমাদেরকে দান করুন।

এ বিষয়ে আপনার আগ্রহ থাকলে আকাবিরের কিছু কিতাব অধ্যয়ন করতে পারেন। যথা- মুফতী যায়েদ মাজাহেরী সংকলিত মুখতালিফ উলূম ওয়া ফুনুন কা নিসাব (আয ইফাদাতে হাকীমুল উম্মত রহ.)।

হামারা তালীমী নেজাম হযরত মাওলানা মুহাম্মদ তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম, দ্বীনী মাদারেস, নিসাব ওয়া নিজামে তালীম আওর আসরী তাকাযে সংকলনে মাওলানা ডা. হাফেয হাক্কানী মিয়াঁ কাদেরী। এতে ১৯৬৮ সালে দিল্লীতে এবং ১৯৯০ খৃষ্টাব্দে রাঁচী ও দিল্লীতে অনুষ্ঠিত সেমিনারের কার্যবিবরণী, প্রবন্ধ ও আলোচনা সংকলিত হয়েছে।

খ. মাদানী নেসাবের পূর্ণ কাঠামো ( যা অন্তত ষোল বৎসরের নেসাব) এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। শুধু মধ্যবর্তী একটি অংশ কয়েক বছর যাবৎ কার্যকর হয়েছে কিন্তু সেটাও নেসাব প্রণেতার পরিকল্পনার পূর্ণ রূপটি ধারণ করেনি। আমি যদ্দুর জানি, এ পর্যন্ত অর্জিত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা স্বত্ত্বেও এটি তার লক্ষ্যে সফল দেখা যাচ্ছে। তবে এ প্রসঙ্গে স্বীকৃত কথা এই যে, উত্তম ফলাফলের জন্য শুধু নিসাব ভালো হওয়া যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীর মেহনত ও মনোযোগ এবং শিক্ষকের অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতা এ ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ।  আর এ বিষয়টি তো সর্বদা পাওয়া যায় না।

মুহাক্কিক আলিম শব্দটি যদি আপনি সঠিক অর্থে ব্যবহার করে থাকেন তবে জেনে রাখা প্রয়োজন যে, নেসাব যতই উচ্চাঙ্গের  হোক মুহাক্কিক হওয়ার জন্য তা শুধু সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে পারে। মুহাক্কিক পর্যায়টি অনেক উচু পর্যায়। এ পর্যায়ে উন্নীত হতে হলে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয় এবং এ জন্য আহলে ফিকহ ও আহলে দিল মুহাক্কিক আলিমের সাহচর্যও প্রয়োজন হয়।

মাদানী নেসাব সম্পর্কে আততরীক ইলাল বালাগাহর ভূমিকার আলোচনা অবশ্যই অধ্যয়ন করুন। যে বিষয়গুলো ওখানে স্পষ্টভাবে লিখে দেওয়া আছে সে সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের কোনো ধারণা নেই।

গ. এ প্রশ্নের জন্য ৪নং প্রশ্ন ক.-এর উত্তরটি দেখুন। আশা করি আপনার উত্তরও পেয়ে যাবেন।

শেয়ার লিংক

হাবীবা বিনতে আবদুস সামাদ - ৯৭/৮ পাটগুদাম, মোমেনশাহী

প্রশ্ন

আরবী ভাষা শেখার অংশ হিসেবে মীযান কিতাব শেষ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ। পুরো মীযান কিতাব বলা যায় একরকম মুখস্থ হয়ে গিয়েছে। যেখান থেকেই ধরা হয় বলতে পারি। সেজন্য আমার উস্তাদ বলেন, নাহবেমীর কিতাব পড়া শুরু করতে। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয় ছরফ পুরোপুরি এখনো শেখা হয়নি। কারণ মাঝে মাঝেই ছিগা, বাব, বহছ উলট-পালট হয়ে যায়। অনর্গল নির্ভুল বলতে পারি না। ঠেকে যাই। আপনার কাছে পরামর্শ চাই কিভাবে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি। আমি ইলমে ছরফ এমনভাবে আয়ত্ত করতে চাই যেখান থেকে যেভাবেই ধরা হোক যেন সঠিক উত্তর দিতে পারি। উল্লেখ্য যে, আমি আমার স্বামীর কাছে বাসায় পড়ি। একা একা কিভাবে এ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব এবং সহজ?


উত্তর

উস্তাদ যখন নাহবেমীর শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তো এক্ষেত্রে সংশয়ে ভোগা উচিত নয়।সরফ-এর যে দুর্বলতার কথা আপনি উল্লেখ করেছেন সেটা নাহবেমীর পড়ার সময়ও দূর করা সম্ভব।

আততরীক ইলাস সারফ-এর নির্দেশনা মোতাবেক অধিক পরিমাণে অনুশীলন করতে থাকলে ইনশাআল্লাহ এই দুর্বলতা দূর হয়ে যাবে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ জিয়াউল হক - ইফতা-১ম বর্ষ আলজামেয়া ইসলামিয়া, পটিয়া

প্রশ্ন

বাদ তাসলিম আরয এই যে, আমি জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার ইফতা বিভাগের একজন নগণ্য ছাত্র। আমি আপনাদের নিকট একখানা পত্র পাঠিয়ে জানতে চাই যে, আমি কিভাবে কিতাব মুতালাআ করব এবং কোন পদ্ধতিতে মাসআলার উসূল মুখস্থ এবং যবত্ করব? এ ব্যাপারে অল্প কিছু ধারণা দিলে বান্দার খুবই উপকার হত। কোন কোন কিতাব মুতালাআ করলে বেশি ফায়দা এবং উপকার হবে ঐ সমস্ত কিতাবের নাম পত্রিকায় ছাপিয়ে দিলে আমি উপকৃত হব। আর বেশি কিছু লিখে আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাই না।

আর উপরোক্ত সমস্যাগুলোর সমাধান তাড়াতাড়ি পত্রিকায় ছাপালে উপকৃত হব।


উত্তর

মাসআলার আছল তালাশ করার দুই অর্থ হতে পারে। এক. মাসআলার শরয়ী দলীল তালাশ করা। দুই. মাসআলাটি শরীয়তের মূলনীতিগুলোর মধ্যে কোন নীতির আওতায় পড়ে তা অন্বেষণ করা।

প্রথম বিষয়টি ফিকহের বিস্তারিত দলীল ও প্রমাণসমৃদ্ধ গ্রন্থসমূহে পাবেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, আপনি যদি হিন্দিয়া বা রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে কোনো মাসআলা পড়ে থাকেন তাহলে তার দলীল জানার জন্য এ মাসআলা হিদায়া, মাবসূতে সারাখসী, ও বাদায়ে থেকে বের করুন। সেখানে দলীল পেয়ে যাবেন। এরপর আরো অধিক জানার জন্যে ফাতহুল কাদীর, বিনায়া, নসবুর রায়া ইত্যাদি গ্রন্থ দেখবেন। এই কিতাবগুলোর সাহায্যে আহকামুল কুরআন ও তাফসীরের বিশদ গ্রন্থাবলির মুরাজাআত করতে পারবেন। শুধু আলমুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ও আলমুসান্নাফআবদুর রাযযাক- যা অত্যন্ত বুনিয়াদী গ্রন্থ ও কুতুবে সিত্তার আগে সংকলিত- এদুটি কিতাবেই শামী ও হিন্দিয়ার অসংখ্য মাসআলার স্পষ্ট দলীল পেয়ে যাবেন।

এই পন্থাটা, যা এখানে উল্লেখ করলাম, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য কিতাব ঘাঁটাঘাঁটির অভ্যাস গড়ে তোলার একটি সহজ পন্থা। এর চেয়েও সহজতায় আগ্রহী হলে ইলাউস সুনানের সাহায্য নিতে পারেন।

মাসআলার তামরীনের সময় শুধু ফিকহে মুজাররাদের কিতাব সমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না, দলীল-প্রমাণ বিষয়ক কিতাবাদি অধ্যয়নের অভ্যাস গড়ে তুলবেন। ইনশাআল্লাহ এতে অনেক উপকার হবে।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি অর্থাৎ শরীয়তের মূলনীতি বোঝার ক্ষেত্রেও হিদায়াবাদায়ে ও মাবসূতে সারাখসী মনোযোগের সঙ্গে অধ্যয়ন করলে উপকার হবে। এ প্রসঙ্গে মুতাকাদ্দীমীনের শরহুল হাদীস বিষয়ক গ্রন্থাবলি ও আহকামুল কুরআনের তাহকীকী গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন খুবই ফলদায়ক হয়। যথা: জাসসাস ও ইবনুল আরাবীর আহকামুল কুরআন, কুরতুবীর আলজামে লি আহকামিল কুরআন, খাত্তাবী রহ. এর মাআলিমুস সুনান, ইবনে আবদুল বার রহ. এর আততামহীদ ওআলইস্তেযকার ইবনুল আরাবীর আলকাবাস ও মাম্বিজী কৃত আলজামউ বাইনাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ থেকে সাহায্য নেওয়া যাবে।

আর এ বিষয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত পন্থা হচ্ছে, আলকাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ও আলআশবাহ ওয়ান নাযাইর  শিরোনামে যে কিতাবগুলো রয়েছে সেগুলোর মধ্যে যা সহজ মনে হয় সে কিতাব বারবার অধ্যয়ন করা; বরং কোনো উস্তাদের নিকট থেকে পড়ে নিলে ভালো। এক সময় দেখবেন, কোনো মাসআলা সামনে এলে নিজেই বলতে পারবেন এ মাসআলার সম্পর্ক অমুক অমুক কায়েদার সঙ্গে।

আপনি এ প্রশ্নও করেছেন যে, মাসআলার আছল কীভাবে মুখস্থ ও আত্মস্থ করবেন। এ প্রসঙ্গে পন্থা একটিই। তা  হচ্ছে বারবার অধ্যয়ন, আলোচনা এবং খাতায় নোট গ্রহণ। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কেননা, ইলমের প্রকৃতিই হল তা ধীরে ধীরে হাসিল হয়।

এজন্য ধীরে ধীরে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। আলাহ  তাআলা আপনার মদদ করবেন।

সর্বশেষ দরখাস্ত এই যে, আপনি লেখার বিষয়েও কিছু অনুশীলনী অব্যাহত রাখুন। প্রতিদিন কিছু সময় এ বিষয়ে ব্যয় করুন। কেননা, এটাও  প্রয়োজনীয় বিষয়।

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - গুলশান, ঢাকা

প্রশ্ন

ক. আমরা যে দরসের মধ্যে খাসিয়াতে আবওয়াব-এর জন্য ফুসূলে আকবরী জাতীয় কিতাব পড়ে থাকি তা থেকে ওই বিষয়টি আত্মস্থ করা কতটুকু সম্ভব? তাছাড়া খাছিয়াতে আবওয়াব সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? মনে তো হয় যে, এর অনেক প্রয়োজন রয়েছে। এর জন্য তামরীনী কোনো কিতাব আছে কি যার সাহায্যে এর মাকসাদ পর্যন্ত পৌঁছা যাবে?

হযরত দা.বা. কাছে বিনীত দরখাস্ত যদি এ ব্যাপারে সুপরামর্শ দিতেন তাহলে কৃতজ্ঞ হতাম।

খ. আমাদের মাদরাসায় আরবী প্রথম কিতাব হিসেবে বাকূরাতুল আদব পড়ানো হয়। এখন এর দ্বারা তো তেমন কোন ফায়দা পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তো তামরীনও তেমন নেই। এমনিভাবে আরেকটি কিতাব হল রাওযাতুল আদব। এক্ষেত্রে কোন কিতাবটি রওযাএর স্থানে নিসাবের জন্য উপকারী হবে।

এখন আমরা যারা ছাত্ররা আছি তাদের কী করণীয়? মাদরাসা কর্তৃপক্ষরা সম্ভবত আকাবিরদের তরয মনে করে এড়িয়ে যান। এমনিভাবে মাতৃভাষা শেখাকে জরুরি মনে করছেন না। এ ব্যাপারে আপনার সদুপদেশ প্রত্যাশা করছি। আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করে শেষ করছি।


উত্তর

ক. মুজাররাদ এর বাবগুলোতে খাসিয়াত বলতে কিছু আলামতকে বোঝানো হয়। যাতে তালিবে ইলমদের একটি ধারণা সৃষ্টি হয় যে, কোন ধরনের ফেল কোন ধরণের বাব থেকে আসে। এতেমাজী ও মুযারি- এর আইন কালিমায় কী হরকত হবে তার একটা অনুমান ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। যদিও এ বিষয়ে ইয়াকীনী ইলম লুগাতের কিতাব থেকেই অর্জন করতে হবে।

ছুলাছী মাযীদ ফীহ, গায়রে মুলহাক-এর বাবগুলোতে খাসিয়াত বলতে ওই অর্থগুলো বুঝানো হয় যেগুলো নতুন অক্ষর সংযুক্তির কারণে সৃষ্টি হয়। মুজাররাদ-এর সঙ্গে যখন নতুন অক্ষর যুক্ত হয়ে মাযীদ ফীহ তৈরি হয় তখন কিছু নতুন অর্থ সৃষ্টি হয়। ওই অর্থগুলোই খাসিয়াত শব্দে নির্দেশ করা হয়েছে। ইবনুল হাজিব রহ. আশশাফিয়া তে খাসিয়াত কে মাআনী শব্দে উল্লেখ করেছেন। তদ্রূপ আবু হায়্যান আনদালুসী ইরতিশাফুয যারাব মিন লিসানিল আরব গ্রন্থে (১/৭৬)এই আলোচনার শিরোনাম দিয়েছেন-বাবু আবনিয়াতিল আফআল ওয়ামা জাআত লাহু মিনাল মাআনী

এখানে মাআনী বলতে ধাতুগত অর্থ উদ্দেশ্য নয়; বাবের ওজন ও কাঠামোগত অর্থ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ ধাতুগত দিক থেকে এ শব্দের অর্থ যাই দাঁড়াক না কেন, তার অন্তর্নিহিত ব্যাঞ্জনায় বাবের কাঠামোগত সূর ধ্বনিত হবে।

এ বিষয়ে অবহিত হলে আরবী ভাষায় পরিপক্কতা ও পারদর্শিতা অর্জনে সাহায্য পাওয়া যায়। পূর্বাপরের সঙ্গে মিলিয়ে আরবী ইবারতের ফেলসমূহের মর্ম নির্ধারণ করা সহজ হয় এবং সহজে লুগাতের কিতাব থেকে ফেলসমূহের মর্ম অনুধাবনের যোগ্যতা অর্জিত হয়। এজন্য এ আলোচনা, যেমনটি আপনিও বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এবং তা পড়া ও অনুধাবন করার প্রয়োজন রয়েছে।

আমি শায়খ আবদুল ফাত্তাহ রহ.-এর কাছে শুনেছি, এক আরব আলিম অসুস্থ ছিলেন। তাকে দেখতে আসা একজন দুআ করছিলেন-আল্লাহুম্মা আশফিহি (বাবে ইফআল থেকে)! বেচারা বাবে ইফআল এর একটি অর্থ সালবে মাখায সম্পর্কে অবগত ছিলেন না তাই তিনি নিজের অজান্তেই তার সুস্থতার স্থলে মৃত্যু কামনা করছিলেন। ওই আরব আলিম তার দুআ শুনে বলতে লাগলেন-আল্লাহুম্মা আমীন আলা নিয়্যাতিহী, লা আলা লাফযিহ

ফুসূলে আকবরী যদি আপনি উস্তাদের কাছে বুঝে শুনে পড়তে পারেন তাহলে এ কিতাবের মাধ্যমেও খাসিয়াত সম্পর্কে ধারণা লাভ হবে। শুনেছি, মাওলানা রোকনুদ্দীন ছাহেব মুদ্দাযিল্লুহুম সাবেক উস্তাদ, বড় কাটারা মাদরাসা তার কিতাব-কাওয়াইদুস সারফে খাসিয়াতের আলোচনা সহজ করে লিখেছেন। জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া-এর মুহতামিম মাওলানা আবদুল হালীম ছাহেব বুখারী মুদ্দাযিল্লুহুমও এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র রিসালা-আসান খাসিয়াতে আবওয়াব নামে লিপিবদ্ধ করেছেন। তবে এ কিতাবগুলো দেখার সুযোগ আমার হয়নি।

আপনার একটি প্রশ্ন ছিল, এ বিষয়ে তামরীনী কোনো কিতাব আছে কি না? আমার জানা নেই। তবে একজন বুদ্ধিমান তালিবে ইলম শুধু আলমুজামুল ওয়াসীত এর সাহায্যেই এক একটিখাসিয়াতে-র বহু উদাহরণ সংগ্রহ করতে পারবে। তামরীন বা অনুশীলন তো আসলে তালিবে ইলমের নিজের কাজ। নিজে মেহনত করে তামরীন করলে তবেই এর উপকারিতা পাওয়া যাবে।

কুরআন মজীদ তেলাওয়াতের সময়ও যদি এ বিষয়ে দৃষ্টি দেন তাহলেও অনেক উদাহরণ সংগ্রহ হবে। এরপর এ বিষয়ে কোনো তামরীনী কিতাব আপনি নিজেও তৈরি করে ফেলতে পারবেন।

খ. মেরে ভাই, তালিবে ইলমের কাজ হল, সে যে প্রতিষ্ঠানে পড়ছে সেখানকার নিয়ম-কানুন এবং যে উস্তাদদের কাছে পড়ছে তাঁদের নির্দেশনা মোতাবেক চলা। বাকুরা ও রাওযা যদি আপনাদের ওখানে নিসাবে থেকে থাকে তাহলে উস্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী মেহনত করে পড়তে থাকুন। ইনশাআল্লাহ ফায়েদা হবে।

আপনার তালীমী মুরববী যদি অনুমতি দেন তাহলে আপনি পরিপূরক অনুশীলনী হিসেবেআততরীক ইলাল আরাবিয়্যা ও আততামরীনুল কিতাবী আলাত তরীক ইলাল আরাবিয়্যা পাশে রাখতে পারেন। ইনশাআল্লাহ এতে ফায়েদা বৃদ্ধি পাবে।

আপনার এ কথা-মাদরাসা কর্তৃপক্ষরা সম্ভবত আকাবিরদের তরয-তরীকা মনে করে এড়িয়ে যান। এমনিভাবে মাতৃভাষা শিক্ষাকে জরুরি মনে করছেন না। আমার কাছে ভালো লাগেনি। কথাবার্তার এ ঢং তো ভালো নয়। তাছাড়া এ ধরনের মন্তব্য যে মানসিকতা প্রকাশ করে সেটাও ভালো মানসিকতা নয়। সমালোচনা ও পর্যালোচনার একটি সময় আছে। এর জন্য যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। আর তা ফলপ্রসূ হওয়া নির্ভর করে এ বিষয়ক অনেক আদব মেনে চলার উপর। আমরা যারা তালিবে ইলম, আমাদের সীমার মধ্যেই থাকা উচিত।

আমি যদ্দূর জানি তাতে একথা ঠিক নয় যে, মাদরাসা-কর্তৃপক্ষরা ছাত্রদের মাতৃভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। তবে তারা এ বিষয়ে ছাত্রদেরকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দেওয়ার পক্ষপাতী নন। এটা অবশ্যই সঠিক। কেননা, মাতৃভাষা চর্চা হয়তো প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে হতে হবে কিংবা ছাত্রের তালীমী মুরববীর তত্ত্বাবধানে। অধ্যয়ন যদি পরিছন্ন না হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী না হয় তবে এতে কোনো সুফল আসে না। নিজেই ভাবুন, এ বিষয়টি সঠিক তত্ত্বাবধান ছাড়া সম্ভবপর কি না।

শেয়ার লিংক

আব্দুল বারী - বাইতুস সালাম উত্তরা-২

প্রশ্ন

আমি কওমী মাদরাসার ছাত্র। আমার পরিবার আমাকে কওমী মাদরাসায় পড়াতে আগ্রহী নয়। অথচ আমি দুই দুই বার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার সুযোগ পেয়েছি স্বপ্নযোগে। কওমী মাদরাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচন্ড চাপের মুখে রমজান মাসে বাদ ফজর দেওবন্দে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছি এবং কিছু দিন পূর্বে মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. ও হাফেজ্জী রহ.-এর সাথে মাসআলা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনারত আছি এমন এক স্বপ্ন দেখেছি এবং মুসলমানদের বিশাল দুর্গেও প্রধান ফটকের দায়িত্ব এবং এক ছাত্রকে কিতাবের আরবী.....এর সমাধান দেয়ার মত স্বপ্ন দেখে আমি বড়ই আশ্বস্ত। কিন্তু এই মুহূর্তে প্রয়োজনে

 পিতা মাতার কথা অমান্য করা আমার জন্য কতটুকু শোভনীয় বা শরীয়তসম্মত হবে। না, মা বাবার কথা শুনে নিজেকে অন্য কাজে ব্যবহার করাটা ভাল হবে। শরীয়তসম্মত সমাধানের জন্য উদগ্রীব।

হুজুর আমার পাঠাতে দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু দ্রুত সমাধানের খুবই প্রয়োজন। তাই একটু কষ্ট করে হলেও আমার উত্তরটা জানিয়ে আমার উপকার করুন।

 

উত্তর

পিতা-মাতার সঙ্গে সব  সময় ভালো ব্যবহার করবেন এবং তাদের সামনে বিনয়ী হয়ে থাকবেন। তবে পূর্বের মতোই পড়াশুনা অব্যহত রাখুন। সঙ্গে সঙ্গে সালাতুল হাজত পড়ে দুআ করতে থাকুন, আল্লাহ তাআলা যেন আপনার পিতামাতাকে দ্বীনী ইলমের গুরুত্ব এবং সঠিক পন্থায় অর্জনের অপরিহার্যতা বোঝার তাওফীক দান করেন।

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement