মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলিল - ফুলগাজী, ফেনী

৬০৬১. প্রশ্ন

আমার তিন বিঘা ফসলি জমি একজনের নিকট বর্গা দিয়েছিলাম। বীজ ও হালচাষের মেশিনও আমি দিয়েছিলাম। আর বীজ বপন, দেখাশোনা ও চাষাবাদের যাবতীয় শ্রম ছিল চাষীর দায়িত্বে। ফসল বণ্টনের চুক্তি হয়েছিল এভাবে- আমি নেব ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ), অবশিষ্ট ২/৩ (দুই-তৃতীয়াংশ) নেবে চাষী। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বন্যায় আমাদের সব ফসল নষ্ট হয়ে যায়। কোনো ফসল ঘরে আনতে পরিনি। কিন্তু সেই চাষী এখন আমার নিকট তার শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিক দাবি করছে। জানতে চাই, আমি কি এখন তাকে পারিশ্রমিক দিতে বাধ্য?

উত্তর

বর্গাচাষের মধ্যে কোনো ফসল না হলে চাষী শ্রমের বিনিময়ে কিছুই পায় না। সুতরাং প্রশ্নোক্ত চাষী আপনার কাছে কোনো পরিশ্রমিক দাবি করতে পারবে না।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২৩/২০; বাদায়েউস সানায়ে ৫/ ২৬৪; আয্যাখীরাতুল বুরহানিয়া ১৩/৫০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৩৮; মাজমাউল আনহুর ৪/১৪৪; রদ্দুল মুহতার ৬/২৭৯

শেয়ার লিংক

মুহীউদ্দীন - কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ

৬০৬২. প্রশ্ন

দেশের প্রচলিত প্রথা হিসেবে এক ব্যক্তি একটি গরু বা ছাগল (কিনে হোক বা গরুওয়ালার পালের হোক) অন্য এক ব্যক্তিকে পালতে দিল। পালনেওয়ালা তার নিজ বাড়িতে গরুটিকে লালন-পালন করবে। এক্ষেত্রে গরুর খাবার ও শ্রম পালনেওয়ালার দায়িত্বে। যখন গরু বিক্রির সময় হবে তখন গরুর মালিক তার ক্রয়ের মূল্য বাদ দিয়ে বাকি টাকা অর্ধেক হারে ভাগাভাগি করে নেবে। যদি গাভী হয় তবে প্রথম প্রসবের বাছুর পালনেওয়ালা রেখে দেবে এবং গাভীটা মালিককে দিয়ে দেবে। জানার বিষয়  হল, শরীয়তে এভাবে গরু বা ছাগল ভাগে নেওয়া বা দেওয়ার অনুমতি আছে কি না।

উত্তর

প্রশ্নোল্লিখিত পদ্ধতিতে গরু-ছাগল ভাগে লালন-পালনের জন্য দেওয়া শরীয়তসম্মত নয়। এটি শরীয়তের ইজারা নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয়। কেউ এভাবে চুক্তি করে ফেললে চুক্তিটি এভাবে সংশোধন করে নেবে যে, লালন-পালনকারী তার ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে। আর পশুর খরচ ও চিকিৎসা ইত্যাদি বাবদ যা খরচ হবে তা মালিককে পরিশোধ করতে হবে। আর গরু-ছাগলের মূল্য বা প্রসবকৃত বাছুর সবই এককভাবে মালিকের হবে।

উল্লেখ্য, গরু-ছাগল বা অন্যান্য পশু কাউকে পালতে দিলে শুরুতেই শরীয়তসম্মতভাবে চুক্তি করে নেয়া আবশ্যক। সে চুক্তিতে পালনকারী ব্যক্তির পারিশ্রমিকও সুনির্ধারিত থাকতে হবে এবং অন্যান্য বিষয়াদিও বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৩৯৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১১৪; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩৩০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৭/৫০৫; রদ্দুল মুহতার ৪/৩২৭

শেয়ার লিংক

মুহীউদ্দীন - কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ

৬০৬৩. প্রশ্ন

দেশে প্রচলিত প্রথা হিসেবে এক ব্যক্তি এক বিঘা জমি এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে বন্ধক নিল। ২/৩ বছর কিংবা আরো বেশি বছর পর অর্থাৎ যখন জমিওয়ালা পূর্ণ এক লক্ষ টাকা ফেরত দেবে তখন বন্ধকওয়ালা জমি ছেড়ে দেবে। উল্লেখ্য, যতদিন বন্ধকওয়ালা টাকা ফেরত না পাবে ততদিন সে জমি চাষাবাদ করে ফসল ভোগ করবে। তবে সে প্রতি বছর খাজনার টাকা জমিওয়ালাকে দিয়ে দেবে। জানার বিষয় হল, এ নিয়মে জমি বন্ধক রাখা বা দেয়া শরীয়তে জায়েয হবে কি না। বিশেষত জমি বন্ধক রেখে পারিবারিক সমস্যা সমাধানের উপায় কী?

উত্তর

প্রচলিত জমি বন্ধক পদ্ধতি শরীয়তসম্মত নয়। এভাবে কাউকে টাকা দিয়ে বন্ধকী জমি ভোগ করা এক প্রকারের সুদ। তাই এধরনের লেনদেন করা যাবে না। এমনকি জমি ভোগ করা বাবদ খাজনার টাকা দিলেও প্রশ্নোক্ত চুক্তি বৈধ হবে না। অতএব উক্ত চুক্তি বাতিল করে দিতে হবে

উল্লেখ্য, জায়েয পন্থায় অন্যের জমি ভোগ করতে চাইলে ঋণ প্রদান ও বিনিময়ে বন্ধক হিসাবে জমি গ্রহণের চুক্তি না করে শুরু থেকেই পত্তন বা ভাড়া চুক্তি করতে হবে। এক্ষেত্রে জমির মালিকের একত্রে বেশি টাকার প্রয়োজন হলে জমির ভাড়া ধার্য করে একসঙ্গে কয়েক বছরের জন্য জমি ভাড়া দেবে এবং অগ্রিম ভাড়া নিয়ে নেবে। যেমন কারো এক লক্ষ টাকার প্রয়োজন, এক বিঘা জমির বার্ষিক ভাড়া হয় দশ হাজার টাকা। তখন সে দশ বছরের জন্য জমিটি ভাড়া দিয়ে অগ্রিম এক লক্ষ টাকা ভাড়া হিসাবে নিতে পারবে। এরপর যে কয় বছর অর্থদাতা জমি ভোগ করবে সে কয় বছরের ভাড়া ঐ টাকা থেকে কর্তিত হবে। দশ বছরের আগে জমি ফেরত দিলে আনুপাতিক হারে অবশিষ্ট টাকা জমিওয়ালা ভাড়া গ্রহিতাকে ফেরত দিয়ে দেবে। আর কেউ যদি আগে থেকে ভাড়াচুক্তি না করে বন্ধকী চুক্তি করে, তবে সেক্ষেত্রে অর্থদাতা বন্ধকী জমি থেকে উপকৃত হতে চাইলে, পূর্বের বন্ধকী চুক্তি বাতিল করে নতুনভাবে ভাড়াচুক্তিতে আবদ্ধ হতে হবে। তবে এক্ষেত্রে জমির ভাড়া যুক্তিযুক্ত হতে হবে। এলাকার এই মানের জমির ভাড়া সাধারণত যে পরিমাণ, তার সমান বা কাছাকাছি হতে হবে। অর্থাৎ নামেমাত্র ভাড়া ধরা চলবে না; বরং তা বাস্তবসম্মত হতে হবে।

-শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ৩/১৪৯; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ১/৫৩১; মাজমাউল আনহুর ৪/২৭৩; জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া, কিরমানী, পৃ. ৫০৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৪৮২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলআমিন - নন্দিগ্রাম, বগুড়া

৬০৬৪. প্রশ্ন

আমি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। লেখাপড়ার খরচ যোগানোর জন্য ছাগল লালন পালন করি। কয়েকদিন আগে টাকার খুব প্রয়োজন পড়ে। আমি জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা ঋণ নিই এবং তার কাছে তিনটি ছাগল বন্ধক রাখি। এখন হুজুরের নিকট জানার বিষয় হল, ওই ছাগলগুলো সংরক্ষণের খরচ এবং খাবার খরচ উক্ত ঋণদাতা দেবে, নাকি আমি দেব? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বন্ধকী ছাগলগুলোর খাবার খরচ এবং চরানোর জন্য রাখালের প্রয়োজন হলে তার পারিশ্রমিক আপনাকেই দিতে হবে। আর ঋণদাতা যেহেতু ছাগলগুলো বন্ধক হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাই এর হেফাযত সংক্রান্ত সকল দায়-দায়িত্ব তার ওপর বর্তাবে। সুতরাং সেগুলো হেফাযতে রাখার জন্য কোনো ঘর প্রয়োজন হলে এর ভাড়া বা এসংক্রান্ত খরচাদি বন্ধক গ্রহীতাকে বহন করতে হবে।

-কিতাবুল আছল ৩/১৬২; আলমাবসূত, সারাখসী ২১/৭৮; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৬১০; আলইখতিয়ার ২/১৬০; মাজমাউল আনহুর ৪/২৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৪৫৪

শেয়ার লিংক

কামালুদ্দীন - ফুলপুর, মোমেনশাহী

৬০৬৫. প্রশ্ন

আমি বাজারে খোলা জায়গায় তরকারি ও সবজির ব্যবসা করি। কিছুদিন আগে আমাদের পাশের বাড়ীর এক লোক পাঁচ কেজি গোশত ভর্তি একটি ব্যাগ তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার জন্য আমাকে আবেদন করলে আমি রাজি হয়ে যাইসে আমাকে গোশতগুলো দেখিয়ে ভালো করে হেফাযত করতে বলেছিল। কিন্তু বাড়ীতে যাওয়ার সময় আমি ব্যাগটির কথা ভুলে বাড়ির দিকে রওয়ানা হয়ে যাই। কিছুদূর যাওয়ার পর যখন মনে পড়ে তখন ঐ জায়গায় গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও ব্যাগটির কোনো সন্ধান পাইনি।

মুহতারামের কাছে জানতে চাই, গোশতভর্তি উক্ত ব্যাগটি হারিয়ে ফেলার কারণে কি আমাকে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে?

উত্তর

হাঁ, গোশতভর্তি উক্ত ব্যাগটি হারিয়ে ফেলার কারণে আপনাকে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কেননা তা যথাযথভাবে হেফাযত করা আপনার কর্তব্য ছিল। আর খোলা জায়গায় তা ভুলে রেখে যাওয়ার দ্বারা উক্ত আমানতের যথাযথ হেফাযত হয়নি। তাই তা হারিয়ে যাওয়ার দায় আপনার ওপর বর্তাবে। অতএব এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

-আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশাইখ, পৃ. ৫১৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/২৯৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৮৪; আদ্দুররুল মুখতার ৮/৩৩৩; শরহুল মাজাল্লাহ, আতাসী ৩/২৪৯

শেয়ার লিংক

শরীফুল আলম - উত্তরা, ঢাকা

৬০৬৬. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমি একটি বিপদে পড়ে যাই। তখন মানত করি, আল্লাহ তাআলা যদি আমাকে এই বিপদ থেকে মুক্তি দান করেন তাহলে সামনের কুরবানীতে আমি একটি খাসি কুরবানী দেব। আল্লাহ তাআলার মেহেরবানীতে আমি উক্ত বিপদ থেকে মুক্তি পাই।

জানার বিষয় হল, সামনের কুরবানীতে আমি প্রতি বছর আমার যে ওয়াজিব কুরবানী আদায় করি, সেই কুরবানী দ্বারাই কি আমার ওই মানত আদায় হয়ে যাবে, নাকি আমাকে ভিন্ন ভিন্ন দুটি কুরবানী করতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে উক্ত মানতের জন্য ভিন্ন একটি কুরবানী করতে হবে। আর প্রতি বছর যে ওয়াজিব কুরবানী দেন তাও আদায় করতে হবে। ওয়াজিব কুরবানী আদায় করার দ্বারা মানতের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে না।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩২০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৭৮; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৬/২৯২; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আতিকুল্লাহ আশিক - ফুলগাজী, ফেনী

৬০৬৭. প্রশ্ন

অনেক সময় দেখা যায় বড় কোনো খানার আয়োজনে যখন একসাথে অনেক মুরগি জবাই করার প্রয়োজন হয় তখন জবাইকারী শুরুতে একবার বিসমিল্লাহ বলেই একের পর এক মুরগী জবাই করতে থাকে। পরবর্তী মুরগীগুলো জবাইয়ের সময় আর বিসমিল্লাহ বলে না। জানতে চাই, একসাথে অনেক মুরগি জবাই করার ক্ষেত্রে শুরুতে একবার বিসমিল্লাহ বলে নিলেই চলবে, নাকি প্রতিটি মুরগি জবাইয়ের সময় পৃথক বিসমিল্লাহ বলতে হবে?

উত্তর

একসাথে অনেক মুরগি জবাই করলেও প্রতিটি মুরগি জবাইয়ের পূর্বে পৃথক বিসমিল্লাহ বলা আবশ্যক। শুরুতে একবার বিসমিল্লাহ বললে শুধু প্রথম মুরগিটির জবাই সহীহ হবে এবং তার গোশত হালাল হবে। পরবর্তী মুরগিগুলোর জবাই সহীহ হবে না এবং সেগুলোর গোশতও হালাল হবে না। তাই প্রতিটি মুরগি জবাইয়ের পূর্বে বিসমিল্লাহ বলতে হবে।

-কিতাবুল আছল ৫/৩৯৮; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/৪; আয্যাখীরাতুল বুরহানিয়া ৮/৩০০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৫৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৮৬

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - সিলেট

৬০৬৮. প্রশ্ন

এক হিন্দু জমিদারের জায়গা, যা সে দেশভাগের সময় ফেলে রেখে চলে গেছে, বর্তমানে জায়গাটি একজন মুসলমানের দখলে আছে। কয়েকজন মুসলমান মিস্ত্রি সে জায়গাতে কাজ করতে গিয়ে মাটির নিচে একটি স্বর্ণভর্তি মটকা পায়। এখন এই মটকাটির ব্যাপারে করণীয় কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

স্বর্ণভর্তি মটকাটি যে জমিনের নিচে পাওয়া গেছে উক্ত জমিনের বর্তমান বা পূর্বের কোনো মালিক যদি মাটির নিচে মটকাটি তার নিজের রাখা দাবি করে তাহলে তা তাকেই দিয়ে দিতে হবে। আর যদি জমিনের কোনো মালিক মটকাটি রেখেছে বলে জানা না যায় তাহলে মটকার ভেতরের স্বর্ণে কোনো আলামত আছে কি না তা দেখবে। আলামত থেকে তা মুসলমানের রাখা বলে প্রমাণিত হলে তাতে লোকতা তথা কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসের হুকুম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ তার মালিককে যথাসাধ্য খুঁজে বের করবে। চেষ্টার পরও যদি মালিক পাওয়া না যায় এবং মালিকের সন্ধান পাওয়া যাবে না বলে প্রবল ধারণা হয় তাহলে তা গরীব-মিসকীনকে সদকা করে দিবে। আর প্রাপক দরিদ্র হলে নিজেও তা ব্যবহার করতে পারবে।

আর যদি স্বর্ণভর্তি মটকাটি আলামত থেকে কোনো হিন্দু বা অন্য কোনো অমুসলিম কর্তৃক রাখা বোঝা যায়, অথবা আলামত থেকে কিছুই বোঝা না যায় তাহলে যে মিস্ত্রি তা পেয়েছেন তিনি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হলে উক্ত স্বর্ণের এক পঞ্চমাংশ পরিমাণ গরীব-মিসকীনকে সদকা করে দিতে হবে। আর অবশিষ্ট স্বর্ণগুলোর তিনিই মালিক হয়ে যাবেন। আর যদি তিনি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন তাহলে পুরো স্বর্ণই তিনি নিয়ে নিতে পারবেন।

-কিতাবুল আছল ২/১১৫; আযযিয়াউল মানাবী ৩/৮৮; ফাতহুল কাদীর ২/১৮৩; আননাহরুল ফায়েক ১/৪৫০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩২২; রদ্দুল মুহতার ২/৩২২

শেয়ার লিংক