আনোয়ারা বেগম - লালমোহন, ভোলা

৫১৯০. প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আমি আনোয়ারা বেগম। আমার মোট পাঁচ সন্তান। ২ জন ছেলে, ৩ জন মেয়ে। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী। অন্য ছেলে পরিবার নিয়ে ভিন্ন থাকে। সে আমাদের ভরণ-পোষণ দেয় না। আমার স্বামী (ক্যানসারের রোগী ছিলেন) অসুস্থ হওয়া থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল খেদমত আমার ছোট মেয়ে করেছে এবং আমার ও আমার মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের সমস্ত দায়-দায়িত্ব মৃত্যু পর্যন্ত আমার ছোট মেয়ে বহন করবে। এই দায়-দায়িত্ব বহন করার শর্তে আমি তার নামে আমার বসত-বাড়ীর ৩১ শতাংশ জমি হেবা দলীল করে দিয়েছি। এছাড়া আমার আরো (১৪৪ শতাংশ ১৮ গণ্ডা) জমি আছে, যাতে আমার মৃত্যুর পর পাঁচ সন্তান মিরাছের ভিত্তিতে শরীক হবে। মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল :

১. মৃত্যু পর্যন্ত আমার ও আমার মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের সকল দায়-দায়িত্ব বহন করার শর্তে আমার ছোট মেয়ের নামে বসত-বাড়ীর ৩১ শতাংশ দলীল করে দেওয়া শরীয়তসম্মত হয়েছে কি না?

২. আরো জানতে চাই, আমি আমার (১৪৪ শতাংশ ১৮ গণ্ডা) জমির আয় আমার ছোট মেয়েকে দিচ্ছি। উক্ত আয় এককভাবে তাকে দেওয়া বৈধ হচ্ছে কি না? নাকি আমার সকল সন্তানের মাঝে তা বণ্টন করে দিতে হবে?

৩. আরো জানতে চাই, আমার মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের পেছনে ছোট মেয়ের ব্যয়ের পরিমাণ যদি অনেক বেশি হয়, তাহলে আমার ছেলে মিরাছসূত্রে যে সম্পদ পাবে, তা থেকে কর্তন করা যাবে কি না? নাকি ব্যয় বেশি হলেও তা ছোট মেয়েকেই বহন করতে হবে?

৪. আরো জানতে চাই, মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে ওয়ারিশসূত্রে যে জমি পাবে, তার মৃত্যুর পর ঐ জমির মালিক কে হবে? যেহেতু তার স্ত্রী-সন্তান নেই। যেহেতু ছোট মেয়ে তার দায়-দায়িত্ব নিয়েছে, সুতরাং উক্ত সম্পদ ছোট মেয়ে পাবে, নাকি সকল ওয়ারিশই পাবে?

উপরোক্ত সব বিষয়ে দয়া করে সমাধান জানিয়ে আমাদের অস্থিরতা দূর করবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : প্রশ্নে কেবলমাত্র আমার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তর

১. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি আপনার ও আপনার মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের মৃত্যু পর্যন্ত ব্যয়ভার বহন করার শর্তে ছোট মেয়েকে যে জমিনটুকু হেবা দলীল করে দিয়েছেন তা বৈধ হয়েছে। আপনার মেয়ে উক্ত জমি নিজে দখলে নেওয়ার দ্বারা তার মালিক হয়ে গেছে। এখন তার দায়িত্ব হল নিজের কৃত শর্ত পূরণ করা।

২. মেয়েকে হেবা করার পর আপনার মালিকানায় যে ১৪৪ শতাংশ জমি রয়েছে, তার আয়ের মালিক আপনি। উক্ত আয় কোথায় কীভাবে খরচ করবেন সে ব্যাপারে আপনার একক অধিকার রয়েছে। সন্তানরা সামর্থ্যবান হলে তাতে কারো কোনো বিশেষ অধিকার নেই। আপনি চাইলে তা নিজের কাছে জমা রাখতে পারেন। অথবা সন্তানদের তা বণ্টন করে দিতে পারেন। আবার এক্ষেত্রে ছোট মেয়ে যেহেতু একা আপনাদের দেখাশোনা করছে তাই উক্ত জমির আয় বিশেষভাবে তাকে দিতেও কোনো অসুবিধা নেই।

৩. ৪. আপনি ও আপনার অসুস্থ ছেলে যে সম্পদ নিজেদের মালিকানাধীন রেখে যাবেন তা পরবর্তীতে মীরাছনীতি অনুযায়ীই বণ্টিত হবে। আপনার ও আপনার অসুস্থ ছেলের সেবার কারণে আপনার ছোট মেয়ে কোনো অতিরিক্ত অংশ দাবি করতে পারবে না। তবে আপনি চাইলে নিজ জীবদ্দশায় তাকে এ ব্যাপারে আর্থিক সহযোগিতা করতে পারেন। -আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১৯৯; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৭৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪০০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মিজানুর রহমান - ঘুইংগারহাট, ভোলা

৫১৮৯. প্রশ্ন

আমার একটি বিষয় জানার খুবই প্রয়োজন। যেহেতু হালাল বা হারামের বিষয় তাই মেহেরবানী করে সমাধান দিলে কৃতজ্ঞ হব।

বিষয়টি হল, আমি একটি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির এজেন্ট। আমি এখানে মানুষকে দিয়ে ডিপিএস করাই। কোম্পানি তা থেকে আমাকে কিছু কমিশন দেয়। আমার জানার বিষয় হল, এখান থেকে যে টাকা পাই তা কি হালাল হবে? আর যদি হালাল না হয়, তাহলে আমি কি এই টাকা মসজিদ-মাদরাসা বা অন্যান্য সেবামূলক কাজে খরচ করতে পারব? আমি কি চাকরিটা চালিয়ে যা পাই তা যদি এইভাবে ব্যয় করি, তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে কি আমি দায়মুক্ত থাকব। আর যাদেরকে দিয়ে ডিপিএস করাই তাদের কাছে কি দায়ী থাকব? কেননা ডিপিএস করার এক বছরের ভিতরে ভাঙলে ডিপিএসকারী কোনো টাকাই পাবে না। এমনকি এক বছর পরে ভাঙলেও ডিপিএসকারীর কিছু লস হয়। যদিও আমি গ্রাহকদেরকে এই বিষয়গুলো জানিয়ে ডিপিএস করিয়ে থাকি।

মুফতী সাহেবকে আর একটু জানিয়ে রাখি, আমি আমার এলাকার এক আলেম থেকে জানতে পারি যে, আমাদের দেশের প্রায় সব ব্যাংক-বীমার কার্যক্রম হারামের ভিতরে পরে। তারপর আমি আমার ম্যানেজারকে বলি যে, স্যার এই চাকরি করা তো শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয নয়। তখন সে আমাকে ড. জাকির নায়েকের একটি ভিডিও দেখায়; সেখানে তিনি বলেন, ইন্সুরেন্স করা যাবে না- এরকম কথা কুরআনের কোথাও লেখা নেই। তবে তিনি বলেছেন, যেখানে সুদ আছে সেখানে কখনোই মুমিন যেতে পারে না।

তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমার আকুল আবেদন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শরীয়তের দলীল দ্বারা দিলে আমি অনেক উপকৃত হব এবং হারাম থেকে বাঁচতে পারব।

উত্তর

লাইফ ইন্সুরেন্সে শরীয়ত নিষিদ্ধ রিবা, কিমার ও আলগারার সবই বিদ্যমান। আর এসবকিছুই ইসলামে হারাম। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা বা এজেন্ট হওয়ার মানে হল হারাম ও জঘন্যতম গুনাহের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَ تَعَاوَنُوْا عَلَی الْبِرِّ وَ التَّقْوٰی وَ لَا تَعَاوَنُوْا عَلَی الْاِثْمِ وَ الْعُدْوَانِ.

তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সাহায্য কর, পাপ কাজে ও জুলুমে একে অপরকে সাহায্য করো না। -সূরা মায়েদা (৫) : ৩

সুতরাং কোনো মুসলমানের জন্য এ ধরনের কোম্পানিতে চাকরি করা বা এজেন্ট হওয়া জায়েয নয়। এখান থেকে যে কমিশন বা বেতন দেওয়া হয় তা-ও বৈধ নয়। এটাকা গ্রহণ করে ফেললে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীব-মিসকীনদের দিয়ে দিতে হবে।

আপনার মাধ্যমে যারা ডিপিএস করেছেন, তাদেরকে যদি আপনি কোম্পানির নিয়ম-নীতি সম্পর্কে ভুল কোনো তথ্য না দিয়ে থাকেন, তাহলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায়ভার আপনার উপর আসবে না।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২৩৫৯৩; আলমাবসূত, সারাখসী ১৬/৩৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৬০; বাযলুল মাজহুদ ১/১৪৮

শেয়ার লিংক

নূর মুহাম্মাদ মণ্ডল - মহাব্যবস্থাপক (অব.) বিএডিসি-কৃষিভবন, ঢাকা

৫১৮৮. প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন)-এ কর্মরত ছিলাম। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। বিএডিসি একটি কর্পোরেশন হলেও সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীর যাবতীয় বিধান অনুসরণপূর্বক বেতন-ভাতাদিসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। জাতীয় বেতন স্কেল অনুসরণে বেতন-ভাতাদি ও চাকরির অবসরকালীন যাবতীয় আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়। তবে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারিদের অবসরকালীন পেনশন ও গ্রাচ্যুটি প্রদান করা হয় আর বিএডিসির কর্মকর্তাদের সরকারি কর্মকর্তাদের ন্যায় পেনশন প্রদান করা হয় না। বিএডিসির কর্মকর্তা/কর্মচারীদের গ্রাচ্যুটি ও প্রভিডেন্ট-এর সুবিধা প্রদান করা হয়। তাই, জানতে চাই গ্রাচ্যুটি/প্রভিডেন্ট ফান্ড হতে প্রাপ্ত অর্থ পেনশন স্কিম (সঞ্চয়পত্র)-এ রাখা যাবে কি না? পেনশন স্কিমের সুবিধা হল, পঞ্চাশ লক্ষ টাকা জমা রাখলে প্রতি তিন মাস পর পর পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করা হয় এবং মূল অর্থ অক্ষত থাকে।

উল্লেখ্য, সরকারের জাতীয় স্কেলভুক্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীরাই শুধু পেনশন স্কিম (সঞ্চয়পত্র)-এ টাকা লগ্নি করতে পারে।

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। পেনশন স্কিম বা সঞ্চয়পত্র একটি সুদি স্কিম। এ থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত অর্থ সুদ। আর ইসলামে সুদ নিকৃষ্টতম হারাম। প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য তা থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ اَحَلَّ اللّٰهُ الْبَیْعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰوا.

আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে করেছেন হারাম। -সূরা বাকারা (২) : ২৭৫

জাবের রা. বলেন-

لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ.

সুদ গ্রহণকারী, সুদপ্রদানকারী, সুদের হিসাব লেখক এবং সুদের সাক্ষী- এদের সবার উপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন এবং বলেছেন (গুনাহের ক্ষেত্রে) তারা সকলেই সমান। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮

উল্লেখ্য, পেনশন স্কিম কেবলমাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের দেওয়া হয়। তাই সরকারি হওয়ার কারণে কারো মধ্যে এ ধারণা থাকতে পারে যে, এটি সুদ নয়। এমন ধারণা অমূলক।

-আহকামুল কুরআন, জাসসাস ১/৪৬৯; ফাতহুল কাদীর ৬/১৪৬; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৬/৪৩৬

শেয়ার লিংক

নুরুল আলম - মিরপুর, ঢাকা

৫১৮৭. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় ব্যবসায়ীগণ একধরনের সমিতি করে থাকে। সমিতিতে দুটি পক্ষ থাকে। এক. মালিক পক্ষ। দুই. সদস্য পক্ষ। যারা সদস্য হয় তাদের সাথে মালিক পক্ষের চুক্তি হয় নি¤œরূপ :

সমিতির মেয়াদ এক বছর (৩৬৫ দিন)। মালিকপক্ষ দৈনিক নির্ধারিত পরিমাণ টাকা (১০০০/২০০০/৫০০০) সদস্যের দোকান থেকে উত্তোল করবে। এভাবে এক বছর (৩৬৫দিন) টাকা তুলবে। বছর শেষে উত্তোলনকৃত টাকা থেকে ৩৬০ দিনের টাকা মালিক পক্ষ সদস্যকে ফেরত দেবে, আর অবশিষ্ট ৫ দিনের টাকা দৈনিক টাকা উত্তোলনের পারিশ্রমিক বাবদ মালিকপক্ষ রেখে দেবে।

উল্লেখ্য, মালিকপক্ষ নিজে দোকানে দোকানে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করে কিংবা টাকা তোলার জন্য বেতনের উপর কোনো কর্মচারী নিয়োগ করে। উত্তোলনকৃত টাকা মালিকপক্ষের হাতে যতদিন থাকবে ততদিন এই টাকা স্বাধীনভাবে মালিকপক্ষ যেকোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবে। যারা সদস্য হয় তাদের কারো কারো নিয়ত থাকে, এক বছর টাকা জমানোর পর এই টাকা বছর শেষে উত্তোলন করবে। আবার কারো নিয়ত থাকে, ৩৬০ দিনে সে যে টাকা জমা করবে (যেমন দৈনিক ১০০০ টাকা করে জমা করলে তিন লাখ ষাট হাজার টাকা) তা বছরের মাঝেই উত্তোলন করে নেয়ার আবেদন করবে। মালিকপক্ষের জন্য তার আবেদন গ্রহণ করা বা না করার অধিকার থাকবে। আবেদন গ্রহণ করলেও কখনো পুরো বছরের টাকাই দিয়ে দেয় অথবা এর চেয়ে কিছু কম দেয়। (তবে সবসময়ই তা বর্তমান জমাকৃত টাকার চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।)

আর কেউ এ ধরনের চুক্তি করেই সমিতির সদস্য হয়। সেক্ষেত্রে মালিকপক্ষ সদস্যের সাথে চুক্তির কারণে বছরের মাঝখানে ৩৬০ দিনের টাকা সদস্যকে প্রদান করে।

উপরোক্ত অবস্থায় মালিকপক্ষ সদস্য থেকে পাঁচ দিনের টাকার চেয়ে অতিরিক্ত কোনো অর্থ গ্রহণ করে না।

মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, শরীয়তের দৃষ্টিতে এই লেনদেন সহীহ কি না? সহীহ না হয়ে থাকলে শরীয়তসম্মতভাবে করার জন্য এতে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত সমিতিতে সদস্যদের টাকা উত্তোলনের তিনটি পদ্ধতি বলা হয়েছে-

১) বছর শেষে পুরো টাকা উত্তোলন করা।

২) পুরো বছরে যে পরিমাণ টাকা জমা করা হবে বছরের মাঝেই তা উত্তোলনের আবেদন করা।

৩) বছরের মাঝে পুরো বছরের টাকা উত্তোলন করার শর্তে সমিতিতে অংশগ্রহণ করা।

প্রথম পদ্ধতিতে সদস্যরা যেহেতু নিজেদের জমানো টাকাই উত্তোলন করে তাই এতে কোনো অসুবিধা নেই।

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে মালিকপক্ষের যেহেতু সদস্যদের আবেদন মঞ্জুর করা বা না করার পুরো অধিকার রয়েছে  (যেমনটি প্রশ্নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে) তাই মালিকপক্ষ যদি সদস্যদের আবেদন মঞ্জুর করে উক্ত টাকা প্রদান করে তাহলে তা জায়েয হবে। এক্ষেত্রে সমিতিতে টাকা জমা করা এবং মালিকপক্ষ থেকে অগ্রিম টাকা গ্রহণের আবেদন পৃথক পৃথক হতে হবে। একটির সাথে অন্যটিকে শর্তযুক্ত করা যাবে না। আর সমিতির পক্ষ থেকে জমাকৃত টাকার অতিরিক্ত যা দেওয়া হবে তা করযে হাসানা হবে।

তৃতীয় পদ্ধতিতে যেহেতু মালিকপক্ষ থেকে ঋণ পাওয়ার শর্তে সমিতিতে অংশগ্রহণ করা হয় তাই এ পদ্ধতি বৈধ নয়। কেননা সদস্যরা সমিতিতে যা জমা করে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে ঋণ হিসেবে বিবেচিত। আর কারো থেকে ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার শর্তে তাকে ঋণ প্রদান করা জায়েয নয়। তাই এ পদ্ধতি বাদ দিতে হবে।

আর প্রশ্নে সমিতির আয়োজকদের পক্ষ থেকে ৫ দিনের টাকা খরচ বাবদ রেখে দেওয়ার যে কথা বলা হয়েছে তা জায়েয হবে না। কেননা আয়োজকগণ কর্তৃক উক্ত টাকা নিজেদের কাজে খরচ করার বিষয়টি থাকায় শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি الأمانة المضمونة -এর অন্তর্ভুক্ত, যা القرض তথা ঋণ-এর হুকুমে। আর কারো থেকে ঋণ গ্রহণ করতে গিয়ে তার থেকে সার্ভিস চার্জ নেওয়ার বিধান শরীয়তে নেই। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৩৭৮৩; আলজামে লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ২/২২৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/৫৩; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৮; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৬/৪৩৭

শেয়ার লিংক

মাওলানা মুহাম্মাদ উমায়ের - চাঁদপুর

৫১৮৬. প্রশ্ন

আমি আমার এক বন্ধু থেকে বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকা ঋণ নিয়েছি। সে টাকা ক্যাশআউট করার কোনো খরচ সে দেয়নি। আমি খরচ দিয়ে ক্যাশআউট করেছি। এখন টাকা ফেরত দেওয়ার সময় উক্ত খরচের টাকা কেটে রাখতে পারব কি না? আর ঋণ পরিশোধের সময় আমি যদি টাকাগুলো পুনরায় বিকাশের মাধ্যমে পাঠাই তাহলে সেক্ষেত্রে ক্যাশআউট করার খরচ আমাকে দিতে হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ঋণ বা করজে হাসানার পুরো টাকা ঋণদাতার প্রাপ্য। ঋণ দেওয়া-নেওয়ার মাঝে বাস্তব কোনো খরচ হলে তা ঋণগ্রহীতা বহন করবে; ঋণদাতা নয়। সুতরাং বিকাশের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করলে তা ক্যাশআউট করার খরচ আপনাকেই বহন করতে হবে। এ টাকা ঋণের টাকা থেকে কেটে রাখা জায়েয হবে না। তদ্রƒপ ঋণের টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করলেও আপনাকেই তার ক্যাশআউট করার খরচ প্রদান করতে হবে। এসংক্রান্ত কোনো খরচই ঋণদাতার উপর চাপানো যাবে না। তবে ঋণদাতা স্বেচ্ছায় কোনো খরচ প্রদান করতে চাইলে এটা তার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও ছাড় ধরে নেওয়া হবে এবং তা গ্রহণ করা জায়েয হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৭২; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯; রদ্দুল মুহতার ৫/৬৮২

শেয়ার লিংক

মুনির হুসাইন - কিশোরগঞ্জ

৫১৮৫. প্রশ্ন

মাননীয় মুফতী সাহেব, মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা।

জনাব, আমাদের জানার বিষয় হচ্ছে :

(১) জামে মসজিদের উপর মাদরাসা করা যাবে কি না?

(২) মসজিদের উন্নয়নকল্পে অতিরিক্ত ওয়াক্ফকৃত জমিতে মাদরাসা করা যাবে কি না?

(৩) মসজিদের ওয়াক্ফকৃত জমির ভাড়ার টাকা প্রতি মাসে এত পরিমাণ জমা হয়, যার ২৫% টাকা মসজিদের কাজে লাগে, বাকি ৭৫% টাকা জমা থেকে যায়। উক্ত ৭৫% টাকা মাদরাসার কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না? অন্যথায় উক্ত টাকা-পয়সার জন্য কী ব্যবস্থা করা যেতে পারে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

(১) মসজিদের উপর ও নিচতলাসহ পুরোটাই মসজিদ হিসেবে বহাল রাখা আবশ্যক। তাই মসজিদের উপরে স্থায়ীভাবে মাদরাসা বা অন্যকিছু প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তবে দ্বীনী ইলমের তালীম মসজিদের মৌলিক উদ্দেশ্যাবলী ও কার্যক্রমের অংশ। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে দ্বীনী তালীমের গোড়াপত্তন করেছেন। তাই মসজিদে প্রয়োজনীয় দ্বীনী শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা শরীয়তের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মসজিদে তালীম হওয়া উচিত অনাবাসিক ভিত্তিতে। স্থায়ীভাবে আবাসিক মাদরাসা করা যাবে না। কোনো এলাকায় দ্বীনী শিক্ষার জন্য পৃথক ব্যবস্থা না থাকলে অস্থায়ী ভিত্তিতে ভিন্ন আয়োজন হওয়া পর্যন্ত মসজিদে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে উস্তায, তালিবে ইলম ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অবশ্যই মসজিদের সম্মান ও আদব যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। মসজিদের আদব ক্ষুণœ হয় এমন সব আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। সাথে সাথে মুসলমানদের নামায ও ইবাদতে বিঘœ ঘটে এমন সকল কাজ থেকেও বিরত থাকতে হবে এবং এলাকায় দ্বীনী তালীমের ব্যবস্থা হলে আবাসিক ব্যবস্থা মসজিদ থেকে সরিয়ে নিতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১৭২৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৬৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৫

(২) মসজিদের উন্নয়নের জন্য ওয়াক্ফকৃত জায়গা মসজিদের কাজে ব্যবহার করাই শরীয়তের বিধান। এলাকার মানুষদের দ্বীনী শিক্ষা-দীক্ষার উদ্দেশ্যে পৃথক জায়গার ব্যবস্থা করে তাতে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কর্তব্য। মসজিদের জায়গায় স্থায়ী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ নেই। তবে মসজিদের অতিরিক্ত জমি যদি এখনই  মসজিদের কাজে না লাগে তাহলে মসজিদ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে সেখানে সাময়িকভাবে মাদরাসার জন্য ঘর বানানো যাবে এবং তাতে মাদরাসার কার্যক্রমও পরিচালনা করা যাবে। তবে পরবর্তীতে যখনই ঐ জায়গা মসজিদের প্রয়োজন হবে তখন তা মসজিদের জন্য দ্রæত খালি করে দিতে হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৯০; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৬০

(৩) মসজিদ স্বতন্ত্র একটি ওয়াক্ফ প্রতিষ্ঠান। আর শরীয়তের নির্দেশনা হল, মুতাওয়াল্লি বা তার লোকজন ওয়াক্ফকারীর উদ্দেশ্য সাধন করে যাবে। তাই ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, মসজিদের আয় মসজিদের খাতেই ব্যয় হবে। যদি কোনো মসজিদের যাবতীয় খরচাদি নির্বাহ করার পরও তার আয় থেকে যায় তাহলে উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে নি¤œাক্ত কাজগুলো করা যেতে পারে :

১. পর্যাপ্ত ও যৌক্তিক পরিমাণে ইমাম-মুয়াযযিন ও খাদেমদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা।

২. তারা যাতে নিশ্চিন্ত মনে মসজিদের খেদমত আঞ্জাম দিতে পারেন সে লক্ষ্যে মসজিদের অদূরে তাদের বসবাসের জন্য আবাসন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।

৩. সাধারণ মুসল্লিদের দ্বীনী ইলম চর্চা ও সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যে মানসম্মত ও যুগোপযোগী পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা।

৪. দ্বীনী ইলমের প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে সকল শ্রেণি-পেশার মুসলামনদের জন্য খণ্ডকালীন দ্বীন শেখার আয়োজন করা।

৫. এলাকার স্কুলগামী ছেলেদের জন্য এবং স্কুলগামী মেয়ে শিশুদের জন্য প্রভাত ও বৈকালিক মক্তবের আয়োজন করা এবং পর্যাপ্তসংখ্যক যোগ্য শিক্ষকের মাধ্যমে তা পরিচালনা করা।

৬. মুসল্লিদের নামায, ইতিকাফ ও অন্যান্য ইবাদত আদায়ে আরাম হয়- এমন ব্যবস্থা করা।

৭. মসজিদের অযুখানা যদি অপর্যাপ্ত বা অস্বস্তিকর হয় অথবা মসজিদের জায়গার ভেতর এর যথাযথ সংকুলান না হয় তাহলে পার্শ্ববর্তী জায়গায় ভিন্নভাবে আলাদা ভবন নির্মাণ করে অযু-ইস্তিঞ্জার পর্যাপ্ত ও আরামদায়ক ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

এমন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পর টাকা উদ্বৃত্ত থাকলে তা ভবিষ্যতে মসজিদ-এর সম্ভাব্য নির্মাণ-স¤প্রসারণ ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সংরক্ষণ করে রাখবে। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য খরচের যোগান দেওয়া যায়- এ পরিমাণ টাকা গচ্ছিত রাখার পরও টাকা অতিরিক্ত হলে তা বাস্তবে প্রয়োজন আছে, আশপাশের এমন কোনো মসজিদে দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এমনকি তখন দ্বীনী তালীম যেহেতু মসজিদের মৌলিক কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত তাই কর্তৃপক্ষ চাইলে সে টাকার অংশবিশেষ মাদরাসার খাতেও খরচ করতে পারে। -আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১৫১; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩১৫

শেয়ার লিংক

মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান - বীরগঞ্জ, দিনাজপুর

৫১৮৪. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্সটি দশ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন। ভবনটি নির্মাণের পূর্বেই মুতাওয়াল্লী সাহেবসহ মসজিদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, ভবনটির দ্বিতীয় তলা স্থায়ীভাবে মসজিদ হবে এবং প্রয়োজনের সময় তাতে মাদরাসার কার্যক্রমও পরিচালিত হবে। যেমন, এখানে মাদরাসার পরীক্ষা ও বিভিন্ন জলসা অনুষ্ঠিত হওয়া ইত্যাদি। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, এ মসজিদে ইতিকাফ করা যাবে কি না?

উল্লেখ্য, এ তলাটিতে বর্তমানে জুমার নামাযসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া হচ্ছে এবং তাতে সর্বসাধারণের উন্মুক্ত অংশগ্রহণও রয়েছে।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বর্ণনামতে ভবনটির দ্বিতীয় তলা স্থায়ীভাবে মসজিদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। তাই এটি শরয়ী মসজিদ হিসাবে গণ্য হবে এবং তাতে ইতিকাফ করাও সহীহ হবে। যদিও নিয়ম হচ্ছে, একটি ভবনের উপর-নীচ পুরোটাই মসজিদ বানানো। তথাপি জায়গা সংকটের কারণে ভবনের এক-দুই তলা মসজিদের জন্য স্থায়ীভাবে বরাদ্দ করলে তাও শরয়ী মসজিদ হয়ে যায় এবং তাতে মসজিদের যাবতীয় বিধি-বিধানও প্রযোজ্য হয়।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় তলাটি যেহেতু মসজিদ, তাই এখানে মসজিদের পূর্ণ আদব বজায় রাখতে হবে। মসজিদের আদব ক্ষুণœ হয় এমন সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থকতে হবে। প্রয়োজনে মাদরাসার সাময়িক কার্যক্রম যেমন, পরীক্ষা ইত্যাদি তাতে পরিচালনা করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সকলে মসজিদের আদব রক্ষা করে চলবে।

-ফাতাহুল কাদীর ৪/৪৪৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৬; আলইসআফ, পৃ. ১২৬

শেয়ার লিংক

হুমায়ুন কবীর - মানিকনগর, ঢাকা

৫১৮৩. প্রশ্ন

আমি এক মাদরাসায় তাদরীসের পাশাপাশি ছোট একটা ব্যবসাও করি। পরিবারের প্রয়োজনে খরচ করার পর বছরের শেষে স্বাধারণত আমার কাছে ১০-১৫ হাজার টাকা বেঁচে থাকে। এ ছাড়া আমার আর কোনো সম্পদ নেই। তবে আমার সংগ্রহে আরবী, উর্দূ ও বাংলা মিলিয়ে বেশকিছু কিতাব আছে। যার ক্রয়মূল্য প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা।

আমার জানার বিষয় হল, উক্ত কিতাবগুলোর কারণে কি আমার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে?

উত্তর

আপনার উপর যাকাত ফরয নয়। আর আপনার সংগ্রহে যে কিতাবাদি আছে তা যেহেতু আপনার পড়াশোনার জন্য; ব্যবসার জন্য নয়, তাই এর উপরও যাকাত ফরয নয়।

-আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশায়িখ, সামারকান্দি, পৃ. ১০৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪০; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/৩৩৫; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ১৫৫; রদ্দুল মুহতার ২/২৬৫

শেয়ার লিংক

সরওয়ার হোসাইন - মহাখালী, ঢাকা

৫১৮২. প্রশ্ন

আলহামদু লিল্লাহ! আল্লাহ তাআলা আমাকে বেশ কিছু সম্পদ দান করেছেন। আমি প্রতি বছর রমযানের শুরুতে এই সম্পদের যাকাত আদায় করি। আমার একজন দ্বীনদার ব্যবসায়ী বন্ধু প্রায় ৩ বছর আগে আমার কাছ থেকে ৩ বছর মেয়াদে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ৩ বছর পর এই রমযানের মাস খানেক আগে তিনি সেই টাকা পরিশোধ করেছেন।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এই পাঁচ লক্ষ টাকা তো গত তিন বছর আমার কাছে ছিল না, এখন এই বছর কি আমাকে অন্যান্য সম্পদের সাথে এই টাকারও যাকাত আদায় করতে হবে?

উত্তর

হাঁ, আপনাকে এই বছর অন্যান্য সম্পদের সাথে এই পাঁচ লক্ষ টাকারও যাকাত আদায় করতে হবে। কেননা, তা আপনার হাতে না থাকলেও আপনি এ টাকার মালিক ছিলেন। এবং তা পাওয়ার আশাও ছিল, তাই আপনাকে বিগত বছরগুলোসহ চলতি বছরের যাকাতও দিতে হবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৩৪৬, ১০৩৫৬; কিতাবুল আছল ২/৯৭; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৯৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০; ফাতহুল কাদীর ২/১২৩; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬৩

শেয়ার লিংক

কাসীর বিন খলীল - মালিবাগ, ঢাকা

৫১৮১. প্রশ্ন

গত রমযানে সকালে জরুরি এক কাজে দেশের বাড়ি পাবনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। দুপুর ১টার দিকে যখন গাড়ি সিরাজগঞ্জে হোটেলে বিরতি দিল। তখন মাথায় চিন্তা আসল যে, আমি তো এখন মুসাফির। আর সফর অবস্থায় তো  রোযা না রাখারও অনুমতি রয়েছে। কিছুটা ক্লান্তিও লাগছিল। তাই বিষয়টি চিন্তা করে রোযা ভেঙে ফেললাম। পাবনায় পৌঁছার পর যখন আমার মামাকে উক্ত ঘটনা শোনালাম। তখন তিনি বললেন, রোযা রাখার পর তা ভেঙে ফেলা জায়েয নেই। এখন তোমাকে উক্ত রোযার কাযা-কাফফারা উভয়টিই আদায় করতে হবে। তার এই কথা শোনার পর থেকে আমি বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত। তাই এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আসলে সেই রোযার জরিমানাস্বরূপ এখন আমার করণীয় কী?

উত্তর

সফর অবস্থায় রোযা না রেখে পরে তা কাযা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু রোযা রেখে দিলে শুধু সফরের ওজরের কারণে তা ভেঙে ফেলা জায়েয হয়ে যায় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার জন্য উক্ত রোযা ভেঙে ফেলা ঠিক হয়নি। এখন উক্ত রোযার কাযা করে নিতে হবে। কাফফারা লাগবে না। এক্ষেত্রে কাফফারা লাগার কথা ঠিক নয়।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৭৭৬৬; আলমাবসূত, সারাখসী ৩/৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৮; ফাতহুল কাদীর ২/২৮৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪৩১

শেয়ার লিংক

হাবীবুর রাহমান - জকিগঞ্জ, সিলেট

৫১৮০. প্রশ্ন

আমাদের বাসায় স্বাভাবিকভাবে রমযানে সকলেই মসজিদের আযানের পরই ইফতার করি। কিন্তু আমার দাদা সাধারণত আযানের অপেক্ষা  করেন না। ঘড়িতে ইফতারের নির্ধারিত সময় হলেই ইফতার শুরু করে দেন। গত রমযানে একদিন বরাবরের মতই তিনি ঘড়িতে ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ায় ইফতার করে নেন। কিন্তু পরে জানা যায় যে সেদিন দুর্ঘটনাক্রমে ঘড়ি প্রায় ১২ মিনিট ফাস্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে ভুলে তিনি ইফতারের সময় হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগেই ইফতার করে নিয়েছেন।

এখন মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, দাদার সেই রোযা কি ভেঙে গিয়েছিল? ভেঙে গিয়ে থাকলে এখন তার করণীয় কী?

উত্তর

সময়ের আগে খেয়ে নেওয়ার কারণে আপনার দাদার উক্ত রোযা ভেঙে গেছে। অবশ্য ইফতারের সময় হয়ে গেছে ভেবে ভুলে খেয়ে ফেলেছেন বিধায় তাকে ঐ রোযার শুধু কাযা করে নিতে হবে, কাফফারা লাগবে না।

عَنْ عَلِيِّ بْنِ حَنْظَلَةَ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ : شَهِدْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطّابِ فِي رَمَضَانَ، وَقُرِّبَ إلَيْهِ شَرَابٌ ، فَشَرِبَ بَعْضُ الْقَوْمِ وَهُمْ يَرَوْنَ أَنّ الشّمْسَ قَدْ غَرَبَتْ، ثُمّ ارْتَقَى الْمُؤَذِّنُ، فَقَالَ : يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، وَاللهِ لَلشّمْسُ طَالِعَةٌ لَمْ تَغْرُبْ، فَقَالَ عُمَرُ : مَنَعَنَا اللهُ مِنْ شَرِّكَ مَرّتَيْنِ، أَوْ ثَلاَثَةً، يَا هَؤُلاَءِ، مَنْ كَانَ أَفْطَرَ فَلْيَصُمْ يَوْمًا مَكَانَ يَوْمٍ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ أَفْطَرَ فَلْيُتِمّ حَتّى تَغْرُبَ الشّمْسُ.

আলী ইবনে হানযালা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রোযার মাসে ওমর রা.-এর নিকট ছিলেন। তার নিকট পানীয় পেশ করা হল। উপস্থিতদের কেউ কেউ সূর্য ডুবে গেছে ভেবে তা পান করে ফেলল। এরপর ময়াযযিন আওয়াজ দিল, হে আমীরুল মুমিনীন! সূর্য এখনো ডোবেনি। তখন ওমর রা. বললেন, ...‘যারা ইফতারি করে ফেলেছে তারা একটি রোযা কাযা করবে। আর যারা ইফতারি করেনি তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৯১৩৮)

-কিতাবুল আছল ২/১৪৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৬; আলহাবিল কুদসী ১/৩১৫; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/১০০; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯১

শেয়ার লিংক

জাবের মাহমুদ - ভোলা

৫১৭৯. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে আমাদের এলাকার চেয়ারম্যান মৃত্যুবরণ করেন। একটি হাইস্কুল মাঠে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। দূরাগত অনেক লোক যারা অযু করে আসেনি। অযুর অপেক্ষায় হাইস্কুলের টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। জামাত শুরু হওয়ার পূর্বমুহূর্তে দেখলাম, তাদের অনেকেই তায়াম্মুম করে দ্রæত কাতারে দাঁড়িয়ে গেল।

জানার বিষয় হল, তাদের তায়াম্মুম করা কি ঠিক হয়েছে? পানি থাকতে তায়াম্মুম করলে কি নামায হয়?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তাদের জন্য তায়াম্মুম করে জানাযায় শরীক হওয়া ঠিক হয়েছে। কারণ, অযু করতে গেলে যদি জানাযার জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে তায়াম্মুম করে জামাতে শরীক হওয়া জায়েয আছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন-

إذَا خِفْتَ أَنْ تَفُوتَكَ الْجنَازَةُ وَأَنْتَ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ فَتَيَمّمْ وَصَلِّ.

তোমার যদি অযু না থাকে এবং অযু করতে গেলে জানাযা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তাহলে তায়াম্মুম করে জানাযা নামায পড়ে নিবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১১৫৮৭)

-কিতাবুল আছার, ইমাম আবু ইউসুফ, বর্ণনা ৩৯৫; খিযানাতুল আকমাল ১/৪০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৪২; আলবাহরুর রায়েক ১/১৫৭; ফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/৬৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩১

শেয়ার লিংক

মুস্তাফিজুর রহমান - বুয়েট, ঢাকা

৫১৭৮. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমাদের সুযোগ হয়েছিল দশ দিনের জন্য তাবলীগের সফরে বের হওয়ার। আমাদের রোখ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় ছিল। সেখানে গিয়ে আমরা একাকী নামায পড়লে কসর করতাম এবং নামাযের আগে পরের সুন্নাতগুলোও গুরুত্বের সাথে আদায় করছিলাম। আমাদের জামাতের আমীর সাহেব ফরয নামায কসর পড়লেও নামাযের আগে-পরের সুন্নতগুলো পড়তেন না এবং অন্যদেরকেও পড়তে নিষেধ করতেন। বলতেন যে, সফরে সুন্নাত পড়তে হয় না। আমরা যারা আগে থেকেই এই ধরনের সফরে সুন্নাত পড়ে আসছি, তার এই কথা শুনে বেশ সংশয়ে পড়ে যাই। এবং আমাদের অনেক সাথিই সুন্নাত পড়া বন্ধ করে দেয়।

এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমি বিষয়টির সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি যে, সফরে নামাযের আগে-পরের সুন্নাত আদায়ের বিধান কী?

উত্তর

সফরের যাত্রাপথে যখন গন্তব্যে পৌঁছার ব্যস্ততা ও তাড়াহুড়া থাকে তখন সুন্নাত ছেড়ে দেয়াই উত্তম। এ সময় সুন্নাতের ইহতেমাম নিজের বা সফর সঙ্গীদের পেরেশানীর কারণ হয়। আর গন্তব্যে পৌঁছার পর মসজিদে অবস্থানের সময় বা কাছাকাছি স্থানে এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে যাতায়াতের সময় কোনো তাড়াহুড়া বা কষ্ট-ক্লেশ না থাকলে যথাসম্ভব নামাযের আগে-পরের সুন্নাত আদায় করে নেয়া উত্তম।

উল্লেখ্য, ফজরের পূর্বের সুন্নাতের গুরুত্ব অন্যান্য সুন্নাতের চেয়ে বেশি। তাই সর্বাবস্থায় তা আদায়ের চেষ্টা করা উচিত।

-জামে তিরমিযী, হাদীস ৫৫০; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬০; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/১৭০; শরহুল মুনয়া, পৃ. ৫৪৫; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯

শেয়ার লিংক

মিসবাহ - জয়পুরহাট

৫১৭৭. প্রশ্ন

গত রমযানে একদিন আমি তারাবীহের ইমামতি করার সময় ভুলে ২য় রাকাতের পর না বসে দাঁড়িয়ে যাই। যাথারীতি কেরাত পড়ে যখন আমি সিজদায় গেলাম তখন আমার স্মরণ হল যে, আমি তো তিন রাকাত পড়ে ফেলেছি। উপায়ান্তর না দেখে আমি আরেক রাকাত মিলিয়ে চার রাকাত পুরা করে সাহুসিজদার সাথে নামায শেষ করি। সালামের পর আমাদের ইমাম বললেন, নামায হয়নি। এই চার রাকাত আবার পড়তে হবে। তার কথামত এই চার রাকাত আবার পড়া হয়। কিন্তু পরে আরেকজন আলেমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, নামায তো হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় বার পড়ার প্রয়োজন ছিল না।

তাই আমি এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, এখানে আসলে সঠিক বিষয়  কোন্টি? এক্ষেত্রে নামায আদায়ের সঠিক পদ্ধতি কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে শেষ দুই রাকাত তারাবীহ হিসেবে গণ্য হয়েছে। আর প্রথম দুই রাকাতের পর বৈঠক না করার কারণে উক্ত দুই রাকাত সহীহ হয়নি। সুতরাং প্রথম দুই রাকাত তারাবীহ পুনরায় আদায় করা যথাযথ হয়েছে। তবে পরের দুই রাকাত যেহেতু সহীহ হয়েছে তাই তা পুনরায় আদায় করা ঠিক হয়নি। তা নফল হিসেবে আদায় হয়েছে।

উল্লেখ্য, তারাবীহের নামাযে দুই রাকাতের পর না বসে ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় হল তৃতীয় রাকাতের সিজদার আগে মনে হলে বৈঠকে ফিরে আসবে এবং সাহু সিজদার সাথে নামায শেষ করবে।

-আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশায়িখ, সামারকান্দি পৃ. ৬৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৫৭; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/১১৬; শরহুল মুনয়া, পৃ. ৪০৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৫

শেয়ার লিংক

আমাতুল্লাহ উমামা - খুলনা

৫১৭৬. প্রশ্ন

আমি কুরআন মাজীদ হিফজ করেছি। দুপুর ও সন্ধ্যায় নিয়মিত তিলাওয়াত করি। কোনো কোনো সময় তিলওয়াত করা অবস্থায় আযান শুরু হয়। শুনেছি এসময় আযানের জবাব দিতে হয় না।

মুফতী সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল, তিলাওয়াতকালে আযান শুরু হলে কি করা উচিত? তিলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া, নাকি আযানের জবাব দেওয়া?

উত্তর

কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করা অবস্থায় আযান শুরু হলে তিলাওয়াত বন্ধ রেখে আযানের জবাব দেওয়া উচিত। আযান শেষে দুআ পড়ে আবার তিলাওয়াত শুরু করবে। অবশ্য এ অবস্থায় তিলাওয়াত অব্যাহত রাখাও জায়েয।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/১০২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫০; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৭; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ১০৯

শেয়ার লিংক

আহসান হাবিব - আবদুল্লাহপুর

৫১৭৫. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদ কমপ্লেক্সে একটি নূরানী মকতব আছে। মাঝে মাঝে মুয়াযযিন সাহেব না থাকলে মকতবের ছেলেরা আযান দেয়। যাদের বয়স আট থেকে দশ বছর। এসকল নাবালেগ ছেলেরা আযান দিলে কোনো অসুবিধা আছে কি না- জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

মুত্তাকী বালেগ ব্যক্তির আযান দেওয়াই উত্তম। তবে নাবালেগ বুঝমান ছেলে আযান দিলে তা আদায় হয়ে যাবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২৩৬৯; কিতাবুল আছল ১/১১৫; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৪৫; রদ্দুল মুহতার ১/৩৯১

শেয়ার লিংক

আবদুস সালাম - পঞ্চগড়

৫১৭৪. প্রশ্ন

আমাদের উত্তরবঙ্গে মিশনারীদের তৎপরতা অত্যধিক বেশি। খ্রিষ্টান মিশনারীরা নানা কৌশলে মানুষকে প্ররোচিত করছে। তারা সরলমনা মুসলমানদেরকে প্রভাবিত করতে প্রথমে তাদেরকে কুরআন পড়ে শোনায় এবং কিছু কিছু আয়াতের অনুবাদ করে তারা কুরআন থেকেই যীশুখ্রীস্টের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে।

তাদের কৌশল ও কার্যক্রম জানতে আমরা মাঝে মাঝে তাদের কথা শুনি। জানার বিষয় হল, এসব অমুসলিমদের থেকে সিজদার আয়াত শুনলে আমাদের উপর সিজদা ওয়াজিব হবে কি না?

উত্তর

অমুসলিম থেকে সিজদার আয়াত শুনলেও সিজদা ওয়াজিব হয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তাদের থেকে সিজদার আয়াত শুনলে আপনাদের উপর সিজদা তিলাওয়াত ওয়াজিব হবে।

-কিতাবুল আছল ১/২৭২; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৪; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১৩৮; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৩৬৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/১০৭

শেয়ার লিংক

ফারিহা রহমান - খুলনা

৫১৭৩. প্রশ্ন

আমার আট মাসের বাচ্চাকে খাটের উপর ঘুমন্ত রেখে আমি খাটের পাশে আসরের নামায পড়তে দাঁড়াই। ইতিমধ্যে ঘুম ভেঙ্গে গেলে বাচ্চা কাঁদতে শুরু করে এবং গড়াগড়ি করে খাটের পাশে চলে যায়। এ অবস্থা দেখে নিচে পড়ে যাওয়ার ভয়ে আমি নামায ছেড়ে দিয়ে বাচ্চাকে কোলে নিই।

জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

উত্তর

নামায অবস্থায় কাউকে কঠিন বিপদে পড়তে দেখলে এর থেকে তাকে বাঁচাতে নামায ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি আছে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে শিশুকে এ থেকে হেফাযতের জন্য আপনার  নামায ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়েছে। পরবর্তীতে ঐ নামায আবার পড়ে নিতে হবে।

-আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশায়িখ, সামারকান্দী পৃ. ৬৯; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ১/৫২৩; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/৭৭; ইমদাদুল ফাত্তাহ পৃ. ৪০৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৫৪

শেয়ার লিংক

শরীফ - কুমিল্লা

৫১৭২. প্রশ্ন

একদিন যোহরের নামাযে ইমাম সাহেব মসজিদে আসেননি। মুসল্লিদের থেকে একজন নামায পড়ালেন। তিনি ভুলক্রমে প্রথম বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। পেছন থেকে লোকমা দিলেও তিনি বসলেন না এবং শেষে সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করেন।

হুজুরের নিকট জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামায সহীহ হয়েছে কি না? এছাড়া ভুলক্রমে প্রথম বৈঠক না করলে করণীয় কী?

উত্তর

নামাযে প্রথম বৈঠক করা ওয়াজিব। ভুলবশত এটি না করলে সাহু-সিজদা ওয়াজিব হয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাহু-সিজদা দেওয়া ঠিক হয়েছে এবং আপনাদের নামায সহীহভাবে আদায় হয়েছে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

إِنّ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ قَامَ مِنَ اثْنَتَيْنِ مِنَ الظّهْرِ لَمْ يَجْلِسْ بَيْنَهُمَا، فَلَمّا قَضَى صَلاَتَهُ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمّ سَلّمَ بَعْدَ ذَلِكَ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন যোহরের নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে না বসে (ভুলক্রমে) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং নামায পূর্ণ করে সেজদা-সাহু করলেন, অতঃপর সালাম ফেরালেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১২২৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৭০)

-কিতাবুল আছল ১/১৯৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৯৯; আলইখতিয়ার ১/২৫০; আলবাহরুর রায়েক ২/১০০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৮৩

শেয়ার লিংক

মুনিবুর রহমান - সাতক্ষীরা

৫১৭১. প্রশ্ন

একদিন এশার নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে বসার সময় ইমাম সাহেব কিছুটা দীর্ঘ করে তাকবীর বলেন। একারণে আমরা কয়েকজন মুক্তাদি দাঁিড়য়ে যাই। এরপর অন্যদের  দেখে আবার বসে পড়ি এবং শেষে ইমামের সাথেই সালাম ফিরাই।

জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামায হয়েছে কি না। আমাদের কি সাহু সিজদা করতে হবে?

উত্তর

আপনাদের উক্ত নামায সহীহ হয়েছে। জামাতের সাথে নামায পড়া অবস্থায় মুক্তাদির নিজস্ব ভুলের কারণে ইমাম-মুক্তাদি কারো উপরই সাহু-সিজদা ওয়াজিব হয় না। তাই ভুলে দাঁড়িয়ে গেলেও আপনাদের উপর সাহু-সিজদা ওয়াজিব হয়নি। সুতরাং ইমামের সাথে সালাম ফিরানো ঠিক হয়েছে। ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

إِذَا سَهَوْتَ خَلْفَ الْإمَامِ، وَحَفِظَ الْإِمَامُ، فَلَيْسَ عَلَيْكَ سَهْوٌ، وَإِنْ سَهَا وَحَفِظْتَ فَعَلَيْكَ السّهْوُ.

তুমি যদি ইমামের পেছনে ভুল কর, কিন্তু ইমাম কোন ভুল না করে তাহলে তোমার উপর সাহু সিজদা নেই। আর ইমাম ভুল করলে তোমার ভুল না হলেও (ইমামের সাথে) তোমাকে সাহু সিজদা করতে হবে। (কিতাবুল আছার, ইমাম আবু ইউসুফ, বর্ণনা ১৮৭)

-কিতাবুল আছল ১/৯৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২০; ফাতহুল কাদীর ১/৪৪৩; শরহুল মুনয়া, পৃ. ৪৬৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৮; রদ্দুল মুহতার ২/৮২

শেয়ার লিংক

মুকাররমা - মানিকগঞ্জ

৫১৭০. প্রশ্ন

আমি একটি মহিলা মাদরাসায় হিফজ বিভাগের শিক্ষিকা। মাসিক ¯্রাবের সময়ও আমাকে ছাত্রীদের তিলাওয়াত শুনতে হয়। জানার বিষয় হল, এ সময় তারা সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে আমার উপর সিজদা ওয়াজিব হবে কি না?

উত্তর

মাসিক ¯্রাবের সময় সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা ওয়াজিব হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে তিলাওয়াতের সিজদা আদায় করতে হবে না। হযরত ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

عَنْ إبْرَاهِيمَ أَنّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الْحَائِضِ تَسْمَعُ السّجْدَةَ، قَالَ: لاَ تَسْجُدُ، هِيَ تَدَعُ مَا هُوَ أَعْظَمُ مِنَ السّجْدَةِ، الصّلاَة الْمَكْتُوبَةَ.

অর্থাৎ হায়েয অবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা করবে না। তার তো এর চেয়ে বড় বিধান ফরয নামাযই পড়তে হয় না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৪৩৪৭)

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৩৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৬৬; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১৩৮; রদ্দুল মুহতার ২/১০৭

শেয়ার লিংক

রিফাত - সাভার

৫১৬৯. প্রশ্ন

শীতের মৌসুমে কয়েকদিন আমি তীব্র জ¦রে আক্রান্ত ছিলাম। তায়াম্মুম করে নামায পড়তাম। একজন অত্মীয় আমাকে দেখতে এসে বললেন, ‘একবার তায়াম্মুম করে বারবার নামায পড়া যায় না। প্রতি ওয়াক্তে তায়াম্মুম করে নিও।’

জানার বিষয় হল, একবার তায়াম্মুম করে কত ওয়াক্ত নামায পড়া যায়? ইতিপূর্বে আমি এক তায়াম্মুমে (পবিত্রতা থাকা পর্যন্ত) একাধিক নামায পড়েছি। সেগুলোর কী হুকুম?

উত্তর

এক তায়াম্মুম দিয়ে কয়েক ওয়াক্ত নামায পড়াও জায়েয। সুতরাং আপনার উক্ত নামাযগুলো সহীহ হয়েছে। ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

إِذَا تَيَمّمَ الرّجُلُ، فَهُوَ عَلَى تَيَمّمِهِ، مَا لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ أَوْ يُحْدِثْ.

তায়াম্মুম করার পর পানি পাওয়ার আগ পর্যন্ত (পানি না থাকার কারেণ তায়াম্মুম করে থাকলে) অথবা অযু ভঙ্গের কোনো কারণ পাওয়া যাওয়ার আগ পর্যন্ত সে তায়াম্মুম অবস্থাতেই থাকবে। (কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ ১/৬৬)

-আলমাবসূত, সারাখসী ১/১১৩; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ১/৪২৪; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২১৭; আলবাহরুর রায়েক ১/১৫৬; শরহুল মুনয়া, পৃ. ৮৪

শেয়ার লিংক