আবদুল হাসীব - বি. বাড়িয়া

৪৪৬৫. প্রশ্ন

বসে নামায পড়া অবস্থায় কেরাত পড়ার সময় হাত বাঁধতে হবে কি? আমি একটি ইসলামী বইতে পড়েছি, নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় হাত বাঁধা সুন্নত। এখন জানার বিষয় হল, হাত বাঁধা কি দাঁড়ানো অবস্থার বিশেষ সুন্নত, নাকি বসে নামায আদায় করলেও তা সুন্নত হিসেবে বিবেচ্য হবে? বিষয়টির শরঈ সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হাঁ, বসে কেরাত পড়া অবস্থায়ও হাত বাঁধতে হবে। কেননা বসে নামাযের ক্ষেত্রে কেরাত পড়া অবস্থার হুকুম দাঁড়ানোর মতই। তাই এক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার সব নিয়মগুলোই প্রযোজ্য হবে। যেমন, ছানা ও কেরাত পড়া, হাত বাঁধা ইত্যাদি।

-হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ১৪০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৮৭

শেয়ার লিংক

মাহমুদুর রহমান - উত্তরখান, ঢাকা

৪৪৬৪. প্রশ্ন

মসজিদে নামায পড়তে গেলে কখনো কখনো এমন হয় যে, আমার সামনের মুসল্লীর পিঠে কোনো মানুষ বা প্রাণীর ছবি থাকে। এক আলেমের কাছে শুনেছি যে, নামায পড়ার সময় সামনে, ডানে বা বামে ছবি থাকলে নামায মাকরূহ হয়। আমার জানার বিষয় হল উক্ত আলেমের কথা কি ঠিক?

এমন পরিস্থিতিতে তার পেছনে নামায পড়ার কারণে কী আমার নামাযও মাকরূহ হবে?

উত্তর

নামাযী ব্যক্তির সামনে ডানে বা বামে যদি কোনো প্রাণীর ছবি এভাবে থাকে যে, নামাযী ব্যক্তি তা দেখতে পায় তাহলে নামায মাকরূহ হবে। তাই ইচ্ছাকৃত এমন জায়গায় দাঁড়াবে না যেখানে কোনো প্রাণীর ছবি দৃশ্যমান রয়েছে। কিন্তু যদি প্রাণীর ছবিযুক্ত পোষাক নিয়ে কোনো ব্যক্তি নামাযীর সামনে বা পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে এর জন্য নামাযী ব্যক্তি দায়ী হবে না এবং তার নামায মাকরূহ হবে না। এক্ষেত্রে যে ঐ পোষাক পরেছে তার গুনাহ হবে।

উল্লেখ্য যে, স্বাভাবিক অবস্থাতেই প্রাণীর দৃশ্যমান ছবি সম্বলিত পোষাক পরা মাকরূহে তাহরীমী। আর এ ধরনের পোষাক পরে নামায পড়া এবং মসজিদে আসা ও অন্যের নামাযের ক্ষতি করা তো আরো গুনাহের কাজ। তাই এধরনের পোষাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৪৭

শেয়ার লিংক

মাসউদ আবদুল্লাহ - দাশেরহাট, কুড়িগ্রাম

৪৪৬৩. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব যোহরে এবং এশার সময় কোনো এক রাকাতে তিন সিজদা দেন। পরে সাহু সিজদা দেন। মুসল্লীরা জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন যে, কেউ যদি দুই সিজদা অতিক্রম করে অতিরিক্ত আরো এক সিজদা দেয়, অর্থাৎ তিন সিজদাহ দেয়, তারপর সাহু সিজদা দেয় তবে নামায হয়ে যাবে। উক্ত কথাটি কতটুকু সঠিক। উত্তর দিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

জী হাঁ, ঐ ইমাম সাহেব ঠিকই বলেছেন। নামাযে ভুলবশত অতিরিক্ত সিজদা করলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়। আর ইমাম সাহেব যেহেতু সিজদায়ে সাহু করেছেন তাই ঐ নামায সহীহভাবেই আদায় হয়েছে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৩৫; রদ্দুল মুহতার ১/৪৬৯

শেয়ার লিংক

হাসান - ফেনী

৪৪৬২. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি চার রাকাত নফল নামায আদায় করেছে। কিন্তু তৃতীয় রাকাতে সে শুধু তাশাহ্হুদ পড়েছে; কোনো কেরাত পড়েনি। এমনকি সূরা ফাতেহাও না। এখন জানার বিষয় হল, তার এ নামাযের হুকুম কী?

উত্তর

নফল-সুন্নত নামাযের সকল রাকাতে কেরাত পড়া ফরয। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি যেহেতু তৃতীয় রাকাতে কেরাত পড়েনি তাই লোকটির শেষ দুই রাকাত নামায ফাসেদ হয়ে গেছে। অতএব সে ঐ দুই রাকাত নামায পুনরায় আদায় করে নিবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/২২৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/২০; আলবাহরুর রায়েক ২/১০৫; রদ্দুল মুহতার ২/৩২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ - বংশাল, ঢাকা

৪৪৬১. প্রশ্ন

কেউ ফজরের সুন্নত ঘরে পড়ে যদি মসজিদে যায় এবং সময় থাকে তাহলে ঐ সময় তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়তে পারবে কি? না পারলে কেন? এবং ঐ সময় কী আমল করলে  তাহিয়্যাতুল মসজিদের সওয়াব পাওয়া যাবে? দলীলসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

ফজরের সময় হয়ে যাওয়ার পর তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া যায় না। কেননা হাদীস শরীফে ফজরের সময় শুরু হওয়ার পর সূর্যোদয় পর্যন্ত ফজরের সুন্নাত ব্যতীত অন্য কোনো নফল নামায পড়তে নিষেধ করা হয়েছে।

উম্মুল মুমিনীন হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ، لَا يُصَلِّي إِلّا رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর উদিত হলে সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত (সুন্নত) নামায ব্যতীত আর কোনো (নফল) নামায পড়তেন না। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭২৩)

অন্য বর্ণনায়  আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

لَا صَلَاةَ بَعْدَ الفَجْرِ إِلّا سَجْدَتَيْنِ.

ফজরের সময় শুরু হওয়ার পর সুন্নত ছাড়া  অন্য কোনো নফল নামায নেই। (জামে তিরমিযী, হাদীস ৪১৯)

-কিতাবুল আছল ১/১৩২; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৫০; হালবাতুল মুজাল্লী ২৮৫৫৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - নোয়াখালী

৪৪৬০. প্রশ্ন

আমাদের মহল্লার মসজিদে নামায পড়তে গেলে প্রায়শই একটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কখনো তাশাহ্হুদ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। আবার কখনো আখেরী বৈঠকে দরূদ ও দুআ পড়ার আগে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। উল্লেখিত দুুটি ক্ষেত্রে আমার করণীয় কী হবে, জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

তাশাহ্হুদ পড়া যেহেতু মুক্তাদীর জন্য ওয়াজিব তাই মুক্তাদীর তাশাহ্হুদ শেষ হওয়ার পূর্বে ইমাম দাঁড়িয়ে গেলে সে তাশাহ্হুদ শেষ করেই দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে মুক্তাদী তাশাহ্হুদ পূর্ণ না করে দাঁড়িয়ে গেলে মাকরূহে তাহরীমী হবে।

আর দরূদ-দুআ পড়া যেহেতু সুন্নত তাই শেষ বৈঠকে মুক্তাদী দরূদ-দুআ শেষ করার আগে ইমাম সালাম ফিরিয়ে দিলে মুক্তাদী দরূদ-দুআ পূর্ণ করবে না। বরং ইমামের অনুসরণের জন্য তার সাথে সালাম ফিরিয়ে দিবে।

উল্লেখ্য, ইমাম সাহেবদের উচিত এমন গতিতে তাশাহ্হুদ ও দরূদ-দুআ পড়া যেন মুসল্লীগণও ভালোভাবে তা শেষ করতে পারে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৫৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯৬; রদ্দুল মুহতার ১/৪৭০; মারাকিল ফালাহ পৃ. ১৬৯

শেয়ার লিংক

হাবীবুর রহমান - ডেমরা, ঢাকা

৪৪৫৯. প্রশ্ন

নামাযে ভুলের কারণে ইমাম সাহু সিজদা দিলে মাসবুক ব্যক্তি কি ঐ  সিজাদায় ও সালামে শরীক হবে, নাকি হবে না? এ সম্পর্কে সঠিক পদ্ধতিটি জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

মাসবুক ব্যক্তি- যে ইমামের সাথে পুরো নামায পায়নি বরং কিছু রাকাত ছুটে গেছে সে ইমামের সাথে সাহু সিজদার সালাম ফিরাবে না। বরং শুধু সাহু সিজদায় শরীক হবে। অবশ্য কখনো ভুলে ইমামের সাথে সাহু সিজদার সালাম ফিরিয়ে ফেললে নামায ফাসেদ হবে না এবং নিজ নামায শেষে সাহু সিজদাও করতে হবে না। তবে মাসবুক ইচ্ছাকৃত এ সালাম ফিরালে তার নামায ফাসেদ হয়ে যাবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২২; আলবাহরুর রায়েক ২/১০০; রদ্দুল মুহতার ২/৮২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৫২

শেয়ার লিংক

আবুল খায়ের - বগুড়া

৪৪৫৮. প্রশ্ন

আমি এক মসজিদের ইমাম। সাধারণত ফজর ও আসর নামাযের পর মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসি। কিন্তু মাঝে মাঝেই মনে প্রশ্ন জাগে- আসলে বিষয়টি কতটুকু শরীয়তসম্মত। প্রশ্ন জাগার কারণ হল, মুসল্লীরা কিবলামুখী হয়ে দুআ করছে আর আমি কিবলার দিকে পিঠ করে। আর যদি বিষয়টি শরীয়তসম্মত হয় তাহলে জানার বিষয় হল, পুরোপুরি মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসতে হবে, নাকি ডান বা বাম দিকে ফিরে বসলেও চলবে?

উত্তর

নামায শেষে মুসল্লীর দিকে ইমামের ফিরে বসা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হযরত সামুরাহ বিন জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন-

كَانَ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ إِذَا صَلّى صَلاَةً أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো নামায আদায় করতেন নামায শেষে আমাদের দিকে ফিরতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৮৪৫)

তবে হাদীসে উদ্দেশ্য সম্ভবত এমন হবে, যা ফকীহগণ বলেছেন- ইমামের বরাবর সামনে কোনো মাসবুক থাকলে তিনি ডান বা বাঁ দিকে ফিরে বসবেন। অন্যাথা পুরোপুরি মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসবেন।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৩১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৯৩; শরহুল মুনয়া পৃ. ৩৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৭; রদ্দুল মুহতার ১/৫৩৩

শেয়ার লিংক

ইবনে আলী - লাকসাম, কুমিল্লা

৪৪৫৭. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় প্রায় সকল মসজিদে তারাবির নামাযে চার রাকাত অন্তর  অন্তর একটি দুআ-

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ...

ও তারপর মোনাজাতের রীতি রয়েছে। গত বছর হাফেজ সাহেব এভাবে মোনাজাত করাকে অনুত্তম বলেন এবং তা না করার কথা বলেন। এতে মুসল্লিরা দুই পক্ষ হয়ে যায়। ফিতনার আশংকায় কেউ কেউ মোনাজাত করার পরামর্শ দেন এবং তিনি তাই করেন। এ প্রেক্ষিতে একজন মুসল্লি বললেন, অনেকে এ মোনাজাতকে মুস্তাহাব পর্যায়ের বলে থাকে। অথচ তারাবির এ মোনাজাত সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন কেউ করেননি; তাহলে মুস্তাহাব সাব্যস্ত হয় কীভাবে?

২য় বিষয় : মোনাজাতের পূর্বে

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ ...

দুআর ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী?

উপরোক্ত বিষয়সমূহের দালীলিক সমাধান দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

(১, ২) তারাবীর নামাযের চার রাকাত পর পর এবং বিশ রাকাত শেষে বিতিরের পূর্বে কিছু সময় বিরতি দেওয়া মুস্তাহাব। এই বিরতীর সময় কী করতে হবে শরীয়ত তা নির্ধারণ করে দেয়নি। তাই ফকীহগণ বলেছেন, এসময় মুসল্লীরা যেমন তাসবীহ, তাহলীল দুআ-দুরূদ  বা যে কোনো যিকিরে কাটাতে পারে তেমনি কেউ চাইলে নিরবও বসে থাকতে পারে। আর আমাদের দেশের কোনো কোনো এলাকায় পঠিত-

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ....

তাসবীহটির পূর্ণ পাঠ সহীহ হাদীসে পাওয়া যায় না। আর তারাবীর তারবীহার সময় পড়ার বিষয়টি একেবারেই নবআবিষ্কৃত। সাহাবায়ে কেরামের কেউ এসময় এ ধরনের কোনো  তাসবীহ পড়েছেন- এমন প্রমাণও পাওয়া যায় না। তাই এই তাসবীহকে মুস্তাহাব বা সুন্নত মনে করার সুযোগ নেই এবং এটিকে এক্ষেত্রে পড়ার মত নির্দিষ্ট তাসবীহও মনে করা যাবে না। বিশেষ করে কোনো কোনো এলাকায় যৌথভাবে উচ্চস্বরে যেভাবে তাসবীহটি পড়া হয় তা পরিহারযোগ্য। তবে তাসবীহের এ দুআটি হাদীসে বর্ণিত না হলেও তার অর্থ ঠিক আছে। তাই কেউ এটিকে সুন্নত মনে না করে ব্যক্তিগতভাবে অনুচ্চস্বরে এটি পড়লে তাকে নিষেধ করারও প্রয়োজন নেই।

আর কোনো কোনো এলাকায় চার রাকাত পর পর মুনাজাতের যে প্রচলন আছে- এ আমলেরও কোনো দলীল নেই এবং সালাফে সালেহীন থেকে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।

তাই নিয়ম করে এমনটি না করাই উচিত। কেননা এতে কেউ আমলটাকে শরীয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত বা আবশ্যকীয় মনে করতে পারে, যা বিদআতের রাস্তা খুলে দেয়। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা আবশ্যক।

উল্লেখ্য যে, এ আমলটি কোনো কোনো এলাকায় যেহেতু বহুদিন থেকে প্রচলিত আছে তাই মানুষকে বুঝিয়ে ধীরে ধীরে সংস্কার করতে হবে। কোনোক্রমেই ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া যাবে না।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৪৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৮; মা সাবাতা বিস-সুন্নাহ পৃ. ২১২; ইমদাদুল আহকাম ১/৬৫৬

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement