শাওয়াল ১৪৩৯ || জুলাই ২০১৮

বাঐতারা গ্রামবাসী - সিরাজগঞ্জ

৪৪৯০. প্রশ্ন

সালাম ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক নিবেদন এই যে, আমাদের এলাকায় ১৯৮৩ ঈ. সালে দুই দাগ জমি মসজিদ-মাদরাসার জন্য ওয়াক্ফ করা হয়। কিন্তু মসজিদ ও মাদরাসার জন্য পৃথকভাবে জমির দাগ ও পরিমাণ নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে সাথে সাথে ওয়াকফকারীগণ ও গ্রামবাসী  সকলে মিলে এক দাগে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। সেখানে ১৯৯৪ ঈ. সন পর্যন্ত নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও জুমা হতে থাকাকালীন জায়গাটি যমুনা নদীতে ভেঙ্গে যায়। আনুমানিক ২০০১ বা ২০০২ ঈ. সনে জায়গাটি পুনরায় উঠে যায় এবং সেখানে কিছু বসতি স্থাপন হয়। তারা যেই দাগে পূর্বে মসজিদ ছিল তা নিচু থাকাতে অপর দাগে একটি টিনের ঘর উঠিয়ে নামায ও জুমা পড়তে থাকে এবং পূর্বের মসজিদের কিছু জায়গায় টয়লেট বানানো হয়। বর্তমানে এলাকাবাসী একটি পাকা মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

অতএব, জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় পাকা মসজিদ কোথায় নির্মাণ করবে, পূর্বের মসজিদের জায়গায়, না বর্তমান মসজিদের জায়গায় এবং টয়লেটগুলোর হুকুম কী হবে? শরীয়তের দৃষ্টিতে বিস্তারিত বিধান জানিয়ে আমাদেরকে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওয়াকফকারী মসজিদের জন্য পৃথকভাবে দাগ ও পরিমাণ নির্দিষ্ট করে না দিলেও পরবর্তীতে যেহেতু উক্ত দুই দাগের এক দাগে মসজিদ নির্মিত হয়েছে এবং এরপর তাতে নামায পড়া হয়েছে তাই এ জায়গাটিই মসজিদের জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং নদী থেকে জেগে ওঠার পরও সেটি মসজিদের জন্যই নির্ধারিত থাকবে। তা মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

অতএব, এখন আপনাদের করণীয় হল, উক্ত জায়গায় নির্মিত টয়লেট ভেঙ্গে তাতে পুনরায় মসজিদ নির্মাণ করা। আর বর্তমানে যে জায়গায় ঘর বানিয়ে অস্থায়ীভাবে নামায পড়া হচ্ছে সেটি অস্থায়ী নামায ঘর হিসাবে ধর্তব্য হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১২/৩৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৪; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫১; আলইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ পৃ. ৭১-৭২

এই সংখ্যার অন্যান্য প্রশ্ন-উত্তর পড়ুন

advertisement
advertisement