শাব্বীর আহমাদ - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৬৯৮ . প্রশ্ন

কোনো মুসলমান ব্যক্তি কি কোনো অমুসলিমের ঝুটা খেতে পারবে?


উত্তর

অমুসলিমের ঝুটা নাপাক বা হারাম নয়। তাই প্রয়োজনে অমুসলিমের হালাল খবারের অবশিষ্টাংশ মুসলমানের জন্য খাওয়া বৈধ। অবশ্য কেউ যদি মদ বা নেশাদ্রব্য পান করার পর মুখ পবিত্র না করেই কিছু পানাহার করে তবে তার ঝুটা খাওয়া বা পান করা যাবে না।

Ñআদ্দুররুল মুখতার ১৮২২২; ফাতওয়া খানিয়া ১/১৮; শরহুল মুনইয়া ১৬৬

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - ঢাকা

৩৬৯৭. প্রশ্ন

কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে হায়েয অবস্থায় সহবাস করে। এখন তার করণীয় কী? দয়া করে জানাবেন।

 


উত্তর

হায়েয অবস্থায় জেনেশুনে স্ত্রী সহবাস করা হারাম। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তারা আপনাকে হায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে দিনতা অপবিত্রতা। অতএব তোমরা হায়েযের সময় স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাক এবং তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়। Ñসূরা বাকারা (২) : ২২২

সুতরাং ঐ ব্যক্তির কর্তব্য হলআল্লাহ তাআলার কাছে তওবা-ইস্তিগফার করা।

আর এক্ষেত্রে হায়েযের শুরুর দিকে সহবাস হলে এক দীনার আর শেষ দিকে হলে অর্ধ দীনার সদকা করার কথা কোনো কোনো হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাই এক্ষেত্রে তাওবা-ইস্তিগফারের পাশাপাশি উপরোক্ত নিয়মে সদকা করে দেওয়া উত্তম হবে।

প্রকাশ থাকে যেদীনার একটি স্বর্ণমুদ্রা। যা বর্তমান হিসেবে ৪.৩৭৪ গ্রাম সমপরিমাণ স্বর্ণ।

Ñজামে তিরমিযী, হাদীস ১৩৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২২০১; বাযলুল মাজহূদ ২/২৭৮; আলবাহরুর রায়েক ১/১৯৭; ফাতহুল কাদীর ১/১৪৭; ফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯৮

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - চট্টগ্রাম

৩৬৯৬. প্রশ্ন

জন্মগতভাবেই আমার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের পাশে অতিরিক্ত একটি ছোট আঙ্গুল আছে। যার কারণে মানুষের সামনে যেতে আমার লজ্জা হয়। আমি চাচ্ছি, অপারেশনের মাধ্যমে আঙ্গুলটি কেটে ফেলতে। আমার জন্য কি এ কাজ করা বৈধ হবে?

 


উত্তর

অতিরিক্ত আঙ্গুল কেটে ফেললে যদি ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে তাহলে তা কেটে ফেলা বৈধ হবে। অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তা করা যাবে।

Ñফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/২৮৮; বাযলুল মাজহূদ ১৭/৫৪-৫৫; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/১৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৬০;

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - ডেমরা, ঢাকা

৩৬৯৫. প্রশ্ন

বাথরুমে একাকী গোসল করার সময় অনাবৃত হওয়া যাবে কি না?

 


উত্তর

আবদ্ধ গোসলখানায় একাকি অনাবৃত হয়ে গোসল করা জায়েয। তবে বিনা প্রয়োজনে একেবারে পুরো শরীর খুলে ফেলা অনুত্তম।

Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ২৭৮; উমদাতুল কারী ৩/২২৮; শরহুল মুনইয়াহ ১/৫১; ইলাউস সুনান ২/১৭০; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৪

শেয়ার লিংক

আরিফা আক্তার - বারহাট্টা, নেত্রকোণা

৩৬৯৪. প্রশ্ন

আমার আম্মা গত বছর ইন্তেকাল করেছেন। আব্বা দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন। সৎ মা (আব্বার দ্বিতীয় স্ত্রী)-এর পিতা কদিন পরপর আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। আমি তাকে নানা ডাকি। তাকে মাহরাম মনে করে তার সামনে অবাধে যাওয়া-আসা করতাম। কিন্তু কদিন আগে আমার চাচাতো বোন বলল, সৎ মায়ের পিতার সাথে পর্দা করা জরুরি। এখন জানার বিষয় হল, তার কথা কি সঠিক?

 


উত্তর

হাঁসে ঠিকই বলেছে। সৎ মায়ের পিতা মাহরাম নয়। তার সাথে পর্দা করা ফরয।

Ñফাতাওয়া খায়রিয়া ১/৩৯; আননাহরুল ফায়েক ২/৪৫০; আলমাবসূত, সারাখসী ৫/১০৫; রদ্দুল মুহতার ৩/৩১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলী হাসান - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৬৯৩. প্রশ্ন

আমার দাদা হজ্বে যাওয়ার আগে একটি ছাগল ক্রয় করে আমার বাবাকে দিয়ে বলেন, আমার পক্ষ থেকে তুমি কুরবানীটা আদায় করে দিও। কিন্তু আমার বাবা কুরবানীর দিন ঐ ছাগল দিয়ে আমার পক্ষ থেকে কুরবানী আদায় করেন।

এখন আমার প্রশ্ন হল, উক্ত কুরবানী কার পক্ষ থেকে আদায় হবে? উল্লেখ্য যে, আমার দাদা ধনী।

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বাবা আপনার পক্ষ থেকে কুরবানীর নিয়ত করলেও তা আপনার পক্ষ থেকে হয়নি। বরং তা আপনার দাদার পক্ষ থেকেই আদায় হয়েছে। কেননা ছাগলটির মালিক আপনার দাদা। তিনি কুরবানীর জন্য ক্রয় করেছেন এবং আপনার বাবাকে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার জন্য প্রতিনিধি বানিয়েছেন। তাই পশুটি আপনার দাদার পক্ষ থেকেই কুরবানী হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে।

প্রকাশ থাকে যেআপনার দাদার সুস্পষ্ট নির্দেশের পরও তার পক্ষ থেকে কুরবানী না করে আপনার পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া ঠিক হয়নি।

Ñআল মুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭৫; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫৫; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৩০

শেয়ার লিংক

আহমদ কবীর - কানাইপুর, ফরিদপুর

৩৬৯২. প্রশ্ন

আমাদের কাপড়ের দোকান আছে। ঢাকা ও বিভিন্ন স্থান হতে মাল আনা হয় ট্রাকযোগে। ট্রাক সমিতির মালিকগণ আমাদের সাথে চুক্তি করে যে, আপনাদের প্রয়োজনে পুরো বছর আমাদের থেকে ট্রাক নিবেন অন্য কারো থেকে নয়। এভাবে পুরো বছরের জন্য চুক্তি করা হয়। এ চুক্তির হুকুম কী? আর এভাবে পুরো বছর তাদের থেকে ট্রাক নিলে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন হলে বছরান্তে কোনো মূল্যবান বস্তু গিফট দেয়। এ ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম জানতে চাই।


 


উত্তর

মালিক সমিতির সাথে পুরো বছরের জন্য এভাবে চুক্তিবদ্ধ হওয়া ওয়াদার অন্তর্ভুক্ত। এটা জায়েয আছে। পরবর্তীতে যখন তাদের থেকে ট্রাক নেওয়া হবে তখন ভাড়া সুনির্দিষ্ট করে নিতে হবে। যেন কোনো ধরনের অস্পষ্টতা না থাকে। আর পুরো বছর তাদের থেকে ভাড়া নেওয়ার কারণে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোন গিফট দেওয়া হলে তা নেওয়া যাবে।

শেয়ার লিংক

আকরাম - সিরাজগঞ্জ

৩৬৯১. প্রশ্ন

এক দোকানে চোরাই মোবাইল, মেমোরি কার্ড, চার্জার ইত্যাদি স্বল্প মূল্যে বিক্রি করা হয়। মানুষ জেনে-শুনেই স্বল্প মূল্যে উপরোক্ত পণ্যগুলো ক্রয়ের জন্য সেখানে যায়। আমার কিছু বন্ধুর পীড়াপীড়িতে আমিও সেখান থেকে একটি মোবাইল কিনতে চাচ্ছি। এখন প্রশ্ন হল, জেনেশুনে চোরাই মোবাইল বা অন্য কোনো পণ্য ক্রয় করা যাবে কি? দলিল-প্রমাণসহ জানিয়ে উপকৃত করবেন।

 


উত্তর

চোরাই মাল ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পূর্ণ হারাম। কারণবিক্রেতা এ মালের মালিক নয়। অথচ ক্রয়-বিক্রয়ের প্রধান শর্ত হলোবিক্রেতা পণ্যের/সম্পদের মালিক হওয়া। কারো কোনো জিনিস চুরি করা বা আত্মসাৎ করা মহাপাপ। এ পাপে লিপ্ত ব্যক্তির তাৎক্ষণিক ফরয হলো খাঁটি দিলে তওবা করা এবং চুরিকৃত জিনিসটি মালিককে ফেরত দেওয়া। তা না করে এটিকে বিক্রি করে দেওয়া চুরি এবং আত্মসাতের মতো অপরাধকে আরো প্রতিষ্ঠিত করার নামান্তর। যা স্বতন্ত্র কবীরা গুনাহ। আর যে ব্যক্তি জেনে-শুনে তা ক্রয় করল সেও এ কবীরা গুনাহে শরিক হলো। উপরন্তু এ ক্রয়-বিক্রয় যেহেতু ভুয়া তাই না ক্রেতা এ পণ্যের মালিক হবে না বিক্রেতা মূল্যের মালিক হবে। এদের উভয়ের উপর ফরয,পণ্য মূল মালিককে ফেরৎ দেওয়া।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২২৪৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৩৭৪, ৩৪০; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ৪/১১০

শেয়ার লিংক

আবদুল বারী - নেত্রকোণা

৩৬৯০. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় মাদরাসার জন্য একটি জমি ওয়াকফ করা হয়। তাতে এখনও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। ভবিষ্যতে মাদরাসা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশেই একটি মসজিদ আছে। মাদরাসার জমিতে যে সকল ফলমূল হয় তা বিক্রি করে এর মূল্য মসজিদের জন্য ব্যয় করা হয়। এখন প্রশ্ন হল, মাদরাসার জমিতে উৎপাদিত ফসলাদির মূল্য মসজিদের কাজে লাগানো জায়েয কি না? জানালে উপকৃত হব।

 


উত্তর

মাদরাসার জমিতে উৎপাদিত ফসলাদি মাদরাসার সম্পদ। তা বিক্রি করে মাদরাসার কাজেই ব্যয় করতে হবে এবং মাদরাসার জন্যই তা সংরক্ষণ করতে হবে। এই টাকা মসজিদের কাজে ব্যয় করা জায়েয হবে না।

Ñফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৬১; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৬০; দুরারুল হুককাম ২/৩৬

শেয়ার লিংক

নুসরাত জাহান - মতিঝিল, ঢাকা

৩৬৮৯. প্রশ্ন

গত জানুয়ারি মাসে আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছে। ইদ্দতের এক হায়েয অতিবাহিত হওয়ার পরপরই অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। এরপর থেকে দুই সপ্তাহ যাবত আমরা একসঙ্গেই থাকছি। এখন জানতে পারলাম যে, ইদ্দতের মাঝখানে হওয়ায় আমাদের বিবাহটি সহীহ হয়নি। কথাটি কি সঠিক? সঠিক হলে এখন আমাদের করণীয় কী? উল্লেখ্য, বর্তমান স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক জীবন যাপন করতে আমার পূর্ণ আগ্রহ রয়েছে।

 

 


উত্তর

ইদ্দত চলাকালীন অন্য কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নিষিদ্ধ। তাই ইদ্দত অবস্থায় আপনাদের উক্ত বিবাহটি সহীহ হয়নি। এতদিন একত্রে বসবাস করা হারাম হয়েছে। আপনাদের কর্তব্য হলএখনই আলাদা হয়ে যাওয়া এবং আল্লাহ তাআলার নিকট তওবা-ইস্তেগফার করা। তবে তালাক প্রদানের পর পূর্ণ ইদ্দত (তিনটি মাসিক স্রাব) অতিবাহিত হলে আপনি বর্তমান লোকটির সঙ্গে নতুনভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারবেন। 

Ñবাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৬৯; রদ্দুল মুহতার ৩/৫১৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৫৫১

শেয়ার লিংক

আয়েশা - রাজশাহী

৩৬৮৮. প্রশ্ন

গত বছর আমি হজ্বে গিয়েছিলাম। সেখানে এক জোড়া স্বর্ণের চুড়ি ক্রয় করি এবং পছন্দের জন্য হাতে পরে দেখি এবং সাথে সাথে খুলে ফেলি। প্রশ্ন হল, ইহরাম অবস্থায় স্বর্ণের চুড়ি হাতে দেওয়ার কারণে কি আমার উপর কোনো দম ওয়াজিব হয়েছে?

 


উত্তর

ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য স্বর্ণ-রূপার অলঙ্কার এবং চুড়ি পরা জায়েয। তাই চুড়ি পরার কারণে আপনার উপর কোনো দম ওয়াজিব হয়নি। হযরত নাফে রাহ. বলেন,আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর স্ত্রী ও কন্যাগণ ইহরাম অবস্থায় অলঙ্কার পরতেন।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৪৪১৪; ফাতহুল কাদীর ২/৩৪৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪১০; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ১১৫

শেয়ার লিংক

হাবীবুর রহমান - সিলেট

৩৬৮৭. প্রশ্ন

আমার নানীর বোন হজ্বে যাওয়ার ইচ্ছা করেছেন। তার ছেলেদের মধ্যে দ্বীনী শিক্ষায় শিক্ষিত বা পুরা দ্বীনদার কেউ নেই। তাই তিনি আমাকে সাথে করে হজ্বে যেতে চাচ্ছেন। প্রশ্ন হল, আমি কি তার মাহরাম? তিনি কি আমার সঙ্গে হজ্বে যেতে পারবেন? দয়া করে জানাবেন।

 


উত্তর

হাঁনানীর বোন মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। তাই তিনি আপনার সঙ্গে হজ্বে যেতে পারবেন।

Ñতাফসীরে কুরতুবী ৫/৭২; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৪/২৫২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩০; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭৩; রদ্দুল মুহতার ৩/৩০

শেয়ার লিংক

হুমায়ুন কবীর - নেত্রকোণা

৩৬৮৬. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি হজ্বে যাচ্ছেন। তার স্ত্রী ইতোপূর্বে নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেছেন। এখন আমি কি আমার পিতার বদলি হজ্ব ঐ মহিলাকে দিয়ে করাতে পারব? কোনো মহিলা কি পুরুষের বদলি হজ্ব করতে পারে?

 


উত্তর

মহিলার সাথে মাহরাম থাকলে মহিলাকে দিয়ে বদলি হজ্ব করালেও তা আদায় হয়ে যাবে। তবে ইতোপূর্বে নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেছে এবং হজ্বের বিধি বিধান সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখে এমন পুরুষের মাধ্যমে বদলি হজ্ব করানোই উত্তম।

Ñসহীহ বুখারী, হাদীস : ১৮৫৫; মানাসিক ৪৫৩; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭; ফাতহুল কাদীর ৩/৭২; আদ্দররুল মুখতার ২/৬০৩

শেয়ার লিংক

ইদরীস আহমদ - সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা

৩৬৮৫. প্রশ্ন

আমি আমার যাকাতের টাকা তিন ভাগ করে কিছু অংশ গরীব আত্মীয়-স্বজনকে দান করি। আর কিছু অংশ ভিক্ষুকদেরকে দান করি। আর অবশিষ্ট অংশ দিয়ে যাকাতের কাপড় ক্রয় করে বিতরণ করি। গরীব আত্মীয়-স্বজনদের অবস্থা তো আমি জানি। কিন্তু কাপড় বিতরণের সময় যে-ই আসে তাকে দিয়ে দেই। আলাদাভাবে খোঁজ-খবর নেওয়ার সুযোগ হয় না। ভিক্ষুকদের ক্ষেত্রেও এমন হয় যে, যে হাত পাতে তাকেই দেই। অথচ তাদের মধ্যে অনেক পেশাদার ভিক্ষুকও থাকে। তো এভাবে দিলে আমার যাকাত আদায় হবে কি? নাকি বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জানা জরুরি?

 


উত্তর

যাকাতের অর্থ উপযুক্ত ব্যক্তিকে প্রদান করা যাকাত আদায়কারীর কর্তব্য। কেউ যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত বলে প্রবল ধারণা হলে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।

আর ঘোষণা দিয়ে যাকাতের কাপড় বা অর্থ বিতরণ করা হলে সেক্ষেত্রে আগত লোকদের অবস্থা একটু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। যেন যাকাত তার হকদারদের কাছেই পৌঁছে। অবশ্য নিজের প্রবল ধারণা অনুযায়ী কাউকে দরিদ্র মনে করে যাকাত দিয়ে দিলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে পরে ভুল প্রমাণিত হলে অর্থাৎ সে দরিদ্র ছিল নাÑএমন প্রমাণিত হলেও ঐ যাকাত আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যে ব্যক্তি যাকাতের উপযুক্ত নয় তার জন্য যাকাত গ্রহণ করা কোনো অবস্থায়ই বৈধ নয়। কেউ গ্রহণ করে ফেললে তার দায়িত্ব হবে মালিককে তা ফেরত দেওয়া কিংবা কোনো দরিদ্রকে সদকা করে দেওয়া।

Ñমুসনাদে আহমদ, হাদীস ৬৫৩০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১২৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬৩; ফাতহুল কাদীর ২/২১৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৭-৪৮; রদ্দুল মুহতার ২/৩৫২

শেয়ার লিংক

সাঈদ আহমদ - উত্তরা, ঢাকা

৩৬৮৪. প্রশ্ন

আমাদের একজন আত্মীয় কিছু ঋণ রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিও এতই সামান্য যে, তা দিয়ে সব ঋণ পরিশোধ হবে না। এছাড়া তার সন্তানদের পক্ষেও নিজেদের অর্থ দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এখন আমি যদি আমার যাকাতের অর্থ দিয়ে তা পরিশোধ করি তাহলে আমার যাকাত আদায় হবে কি না?

 


উত্তর

যাকাতের অর্থ দিয়ে কোনো মৃতের ঋণ পরিশোধ করলে যাকাত আদায় হয় না। অবশ্য মৃত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ যাকাতের উপযুক্ত হলে তাদেরকে যাকাতের অর্থ দেওয়া যেতে পারে। অতপর তারা চাইলে তা দ্বারা মায়্যেতের ঋণ আদায় করে দিতে পারবে।

Ñহেদায়া, ফাতহুল কাদীর ২/২০৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১২১; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৪৪

শেয়ার লিংক

দেলোয়ার হুসাইন - নেত্রকোণা

৩৬৮৩. প্রশ্ন

যদি কোনো ব্যক্তির বৈধ সম্পদ এ পরিমাণ না থাকে, যার উপর যাকাত ওয়াজিব হয়। কিন্তু তার কাছে হারাম সম্পত্তিও রয়েছে যেগুলো যোগ করলে যাকাত ওয়াজিব হয়। এমন ব্যক্তির উপর যাকাত ওয়াজিব হবে কি না?

 


উত্তর

হারাম মালের উপর যাকাত আসে না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির যদি সত্যিই হালাল সম্পদ নেসাব পরিমাণ না থাকে তাহলে তার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে না।

প্রকাশ থাকে যেহারাম মাল পুরোটাই মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক। মালিক জানা না থাকলে গরীব-মিসকীনকে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দেওয়া জরুরি। তা কোনো অবস্থায়ই নিজে ভোগ করা জায়েয হবে না।

Ñফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৮৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৬

শেয়ার লিংক

আবিদ হাসান - হবিগঞ্জ

৩৬৮২. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের দুজন প্রতিবেশী মারা যান। তাদের দুজনের জানাযার নামায একসাথে পড়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে কিছু মানুষ আপত্তি করল যে, এক সাথে দুজনের জানাযার নামায পড়লে তা সহীহ হবে না। বরং প্রত্যেকের নামায আলাদা পড়তে হবে। এই নিয়ে তুমুল বাকবিত-া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকের নামায পৃথকভাবে পড়া হয়।

আমার প্রশ্ন হল, একসাথে একাধিক মায়্যেতের উপর একবার জানাযার নামায পড়লে তা কি সহীহ হবে? নাকি প্রত্যেকের জন্য পৃথক নামায পড়তে হবে?

 


উত্তর

একসাথে একাধিক জানাযা উপস্থিত হলে যথাসম্ভব প্রত্যেকের পৃথক পৃথক জানাযা নামায পড়াই উত্তম। তবে একাধিক মায়্যেতের জানাযা একসাথে পড়াও জায়েয আছে এবং এর দ্বারা সকলের জানাযা আদায় হয়ে যাবে। হাদীস শরীফে এসেছেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধে দশ দশজন শহীদের জানাযা একত্রে পড়েছেন।Ñশরহু মাআনিল আসার ১/২৪২

নাফে রাহ. থেকে বর্ণিত আছেইবনে উমর রা. নয়জন পুরুষ ও নারীর উপর একসাথে জানাযার নামায পড়েছেন।

Ñসুনানে কুবরা, বাইহাকী ৪/৩২; কিতাবুল আসল ১/৩৫০; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৪; শরহুল মুনইয়া ৬০৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২১৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৭

শেয়ার লিংক

হুযাইফা - সিলেট

৩৬৮১. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেওয়া হয়। জানতে চাই এভাবে পানি ছিটিয়ে দেওয়ার কথা কুরআন-সুন্নাহয় কি আছে? না এটা কোনো কুসংস্কার?

 


উত্তর

নাএটি কুসংস্কার নয়। বরং কবরের উপরে পানি ছিটিয়ে দেওয়ার কথা হাদীসে এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেনরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পুত্র ইবরাহীমের কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দিয়েছেন। Ñমারাসীলে আবু দাউদহাদীস ৩৮৭

ফকীহগণ বলেনপানি ছিটিয়ে দেওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলকবরের মাটি যেন ভালোভাবে জমে যায়।

Ñকিতাবুল আসার ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. ১/২৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৯৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৯৪

শেয়ার লিংক

বদরুদ্দোজা - ফরিদপুর

৩৬৮০. প্রশ্ন

আমি যোহরের নামাযে প্রথম বৈঠকে শরিক হই। শরিক হয়ে তাশাহহুদ পড়া শুরু করি। তখনই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। এখন জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমি কি তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াব, না ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাব?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তাশাহহুদ পূর্ণ করেই দাঁড়ানো উচিত। কেননা ইমামের পেছনে প্রথম বা দ্বিতীয় বৈঠকে শরিক হলে তাশাহহুদ পড়ে নেওয়াই নিয়ম। তাই ইমাম দাঁড়িয়ে গেলেও মুক্তাদি তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াবে।

Ñরদ্দুল মুহতার ১/৪৯৬; এমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩৩৯; এমদাদুল আহকাম ১/৫৫১

শেয়ার লিংক

হাবীবুর রহমান - কিশোরগঞ্জ

৩৬৭৯ . প্রশ্ন

ইমাম সাহেবকে দেখি, ফরয নামাযের পর নিজ জায়গা থেকে একটু সরে দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়েন। আমার জানার বিষয় হল, ফরয নামাযের পর নিজ জায়গা থেকে সরে অন্যত্র সুন্নত পড়ার হুকুম কী? এই হুকুম কি শুধু ইমাম সাহেবের জন্য প্রযোজ্য, নাকি মুসল্লিগণও অন্যত্র সুন্নত পড়বে?


উত্তর

যোহরমাগরিব ও ইশার নামাযের পর ইমাম যদি মসজিদের ভেতরই সুন্নত বা নফল পড়তে চানতাহলে ফরয নামাযের জায়গা থেকে ডানে বা বামে সরে সুন্নত পড়া উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত আছেইমাম যে স্থানে ফরয পড়েছে সেখানেই তার জন্য (সুন্নত-নফল) নামায পড়াকে তিনি অপছন্দ করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহাদীস ৬০৭৮

আর আশপাশে জায়গা থাকলে মুসল্লিদের জন্যও সামান্য আগ-পিছ করে দাঁড়ানো উত্তম। তবে ফরযের জায়গায় দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়লেও কোনো গুনাহ হবে না।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৬০৬৬-৬০৬৮; কিতাবুল আসল ১/১৭; হালবাতুল মুজাল্লী ২/২২৬; আততাজনীস ২/৩২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৩২

শেয়ার লিংক

হাবীবুর রহমান - খিলগাঁও, ঢাকা

৩৬৭৮ . প্রশ্ন

যদি কেউ এমন অবস্থায় নামাযের জামাতে শরিক হয় যখন ইমাম সাহেব কেরাত পড়ছেন অথবা রুকুতে চলে গেছেন, তখন সে কি সানা পড়বে নাকি ছেড়ে দিবে?

 


উত্তর

ইমাম সাহেব শব্দ করে কেরাত পড়ার সময় কেউ নামাযে শরিক হলে কিংবা রুকু অবস্থায় শরিক হলে সে সানা পড়বে না। আর আস্তে কেরাত পড়া অবস্থায় নামাযে শরিক হলে সানা পড়তে পারবে। 

Ñআত তাজনীস ২/৪৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৮৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৩৩; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আরমান কাদের - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৬৭৭ . প্রশ্ন

আমার অনেক নামায কাযা আছে। আমি যদি রাতের বেলা প্রতিদিন বিগত একদিনের নামায আদায় করতে চাই সেটা ঠিক হবে কি? আর কাযা নামায আদায়ের নিয়ম কী হবে? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

 


উত্তর

হাঁরাতে পুরো দিনের কাযা নামাযও আদায় করা যাবে। কেননা কাযা নামায আদায়ের কোনো সময় নির্দিষ্ট নেই। দিনের কাযা নামায রাতেও পড়া যায়। আর কাযা নামায বেশি হলে এভাবে নিয়ত করতে পারেন যেআমি সর্বপ্রথম অনাদায়ী ফজরের কাযা আদায় করছি অথবা সর্বশেষ অনাদায়ী ফজরের কাযা আদায় করছি। প্রতিদিনই এভাবে নিয়ত করবেন। অনুরূপভাবে যোহরআসরমাগরিবইশা ও বিতরের ক্ষেত্রে নিয়ত করবেন। 

Ñফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২১, ১২৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৮২; রদ্দুল মুহতার ২/৬৬, ৭৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ছানাউল্লাহ - আমিরাবাদ, লোহাগড়া

৩৬৭৬. প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয় এক সপ্তাহ যাবৎ অসুস্থ ছিল। একেবারে মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল। কোনো ক্রমেই নামায পড়া সম্ভব ছিল না। এমনকি মাথার ইশারায়ও নামায পড়া সম্ভব ছিল না। তাই নামায পড়তে পারেনি। তবে পুরো সময় হুঁশ-জ্ঞান ছিল। আমার প্রশ্ন হল, অসুস্থ ব্যক্তির যদি হুঁশ-জ্ঞান বাকি থাকে কিন্তু মাথার ইশারায়ও নামায পড়তে না পারে তাহলে তার নামাযের হুকুম কী? আমার ঐ আত্মীয়কে বিগত দিনগুলোর নামায কাযা করতে হবে কি না?

 


উত্তর

অসুস্থতার কারণে রুকু-সিজদার জন্য মাথা দ্বারা ইশারা করে নামায পড়ার ক্ষমতাও যদি না থাকে এবং এ অবস্থায় একদিন একরাতের চেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে এ সময়ে ছুটে যাওয়া নামাযগুলোর কাযা করতে হবে না। অবশ্য যদি একদিন এক রাত বা এর আগেই মাথা দ্বারা ইশারা করে নামায পড়ার মতো শক্তি ফিরে পায় তাহলে উক্ত সময়ে ছুটে যাওয়া নামাযসমূহ কাযা করে নিতে হবে।

Ñআদ্দুররুল মুখতার ২/৯৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৭; মারাকিল ফালাহ ২৩৬

শেয়ার লিংক

ইবরাহীম খলীল - লাকসাম, কুমিল্লা

৩৬৭৫. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি জামাতের সাথে নামায আদায় করছিল। দাঁড়ানো অবস্থায় তার ঘুম এসে যায়। এদিকে ইমাম সাহেব রুকু শেষ করে সিজদায় চলে গিয়েছিল। তখন সে জেগে উঠে এবং নিজে নিজে রুকু করে ইমামের সাথে সিজদায় শরিক হয়। জানার বিষয় হল, তার এ নামায সহীহ হয়েছে কি?

 


উত্তর

হাঁঐ ব্যক্তির নামায সহীহ হয়েছে। ইমামের সাথে নামায শুরু করার পর ঘুম বা অন্য কোনো ওযরে মাঝখানে কোনো রোকন ছুটে গেলে তা নিজে নিজে আদায় করে ইমামের সাথে শরিক হতে হয়। এটিই নিয়ম। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির একাকী রুকু করে ইমামের সাথে শরিক হওয়া নিয়মসম্মতই হয়েছে।

প্রকাশ থাকে যেনামাযের মধ্যে অবহেলা বা অলসতা খুবই অপছন্দনীয় বিষয়। নামায আদায় করতে হয় অত্যন্ত খুশুখুযু ও মনোযোগের সঙ্গে। আর নামাযে ঘুমিয়ে পড়া উদাসীনতার লক্ষণ। তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

Ñকিতাবুল হুজ্জাহ ১/১৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৪৭; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯২; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৫৬; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৪-৫৯৫

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - সাতক্ষীরা

৩৬৭৪. প্রশ্ন

 

গত রমযানে আমাদের এলাকার মসজিদে একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হাফেয তারাবীর নামায পড়িয়েছে। মসজিদের ইমাম সাহেব আমাদেরকে মাসআলা বলেছেন, নাবালেগের পিছনে তারাবীর নামায পড়া জায়েয আছে। জানার বিষয় হল, তার কথা কি সঠিক?

 


 

উত্তর

নাতার ঐ কথা ঠিক নয়। তারাবীর নামাযেও নাবালেগের ইমামতি সহীহ নয়। উমর বিন আবদুল আযীয ও আতা রাহ. বলেননাবালেগ ছেলে যেন প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে ইমামতি না করে। ফরয নামাযেও নয়অন্য নামাযেও নয়।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩৫২৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৫৯; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম - সাভার, ঢাকা

৩৬৭৩. প্রশ্ন

কোনো কোনো সময় যোহরের আগে চার রাকাত সুন্নত পড়ার মতো সময় থাকে না। এক্ষেত্রে আমি যোহরের আগে দুই রাকাত হলেও পড়ে নিই। আর বাকি দুই রাকাত যোহরের পরে আদায় করি। জানার বিষয় হল, এভাবে দুই রাকাত দুই রাকাত করে পড়লেও কি যোহরের সুন্নত আদায় হয়ে যায়?

 


উত্তর

যোহরের আগে চার রাকাত পড়ার মতো সময় না থাকলে সম্ভব হলে দুই রাকাত পড়ে নিবেন। তবে যোহরের পূর্বের চার রাকাতই যেহেতু সুন্নতে মুআক্কাদা তাই  কখনো যোহরের পূর্বে চার রাকাত সুন্নতপড়তে না পারলে যোহরের পর দুই রাকাত সুন্নত পড়ে পূর্বের চার রাকাত সুন্নত আদায় করে নেওয়া উচিত। কেননা হাদীস শরীফে এসেছে,হযরত আয়েশা রা. বলেননবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের আগে চার রাকাত পড়তে না পারলেতা যোহরের পর পড়ে নিতেন।

Ñজামে তিরমিযী, হাদীস ৪২৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১১৫৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৩২; ফাতহুল কাদীর ১/৪১৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২-১৩

শেয়ার লিংক

রোকনুজ্জামান ও মাহমুদ - নাটোর সদর, নাটোর

৩৬৭১. প্রশ্ন

১. কসর সালাতের দূরত্ব ও সময়সীমা অর্থাৎ কী পরিমাণ দূরত্বের সফর করলে কছর পড়তে হয় এবং কত দিন পর্যন্ত সফরের হুকুম বলবৎ থাকবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

২. কছর নামায সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

১ ও ২ : ৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটার বা এর বেশি সফর করার নিয়তে কেউ যদি নিজ গ্রাম বা শহরের সীমানা অতিক্রম করে তবে সে তখন থেকে মুসাফির গণ্য হবে এবং নামায কসর করবে। অর্থাৎ যোহর, আসর ও ইশার ফরয নামায দুই রাকাত করে আদায় করবে।

আর সফর অবস্থায় কোনো স্থানে একসাথে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত মুসাফির থাকবে।

আর কোনো স্থানে একসাথে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করলে মুকীম গণ্য হবে এবং পূর্ণ নামায পড়তে হবে। 

 


Ñশরহুল মুনয়াহ ৫৩৫, ৫৩৬, ৫৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭, ২/৩৮৮-৩৮৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮, ২/১৩১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১, ২/১২৪-১২৫; জাওয়াহিরুল ফিক্হ ৩/৪২৮

শেয়ার লিংক

ওমায়ের - পাইকপাড়া, মিরপুর,ঢাকা।

৩৬৭০. প্রশ্ন

মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সালাম ফিরানোর পর কখন দাঁড়াবে? অনেকে দেখা যায় প্রথম সালামের পর দাঁড়িয়ে যায়। আবার কেউ কেউ বলেন যে, দ্বিতীয় সালামের পর দাঁড়াতে হবে। কোনটি সঠিক।

 


উত্তর

সঠিক নিয়ম হলইমাম সাহেবের উভয় দিকে সালাম ফিরানোর পর মাসবুক তার অবশিষ্ট নামায আদায়ের জন্য দাঁড়াবে। ইমামের প্রথম সালামের পরই দাঁড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ ইমাম সাহু সিজদা দিলে মাসবুকেরও ইমামের সাথে সিজদা করা আবশ্যক। আর ইমামের সাহু সিজদা নেই এটা প্রায় নিশ্চিত হবে দ্বিতীয় সালামের পর। তাই দ্বিতীয় সালামের পরই মাসবুক দাঁড়াবে।

Ñমুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৩১৫৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৭৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৯৭

শেয়ার লিংক

মোহাম্মদ আলী - ঝিগাতলা, ঢাকা

৩৬৬৯. প্রশ্ন

মাঝে মধ্যেই দেশের বাইরে আমার সফর হয়ে থাকে। আমার বাসা ঝিগাতলা। আমি যখন ঝিগাতলা থেকে এয়ারপোর্ট যাব তখন এয়ারপোর্টে থাকাবস্থায় নামায কি কসর পড়ব না পূর্ণ পড়ব।

 


উত্তর

এয়ারপোর্টে আপনাকে পূর্ণ নামায অর্থাৎ চার রাকাত বিশিষ্ট নামায চার রাকাতই পড়তে হবে। বিমান এয়ারপোর্ট ত্যাগ করার পর থেকে কসরের হুকুম হবে।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৮২৫৩; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪৩২৩; কিতাবুল আছল ১/২৩২; শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১

শেয়ার লিংক

আহমদ কবীর - কানাইপুর, ফরিদপুর

৩৬৬৮. প্রশ্ন

ক) সফর অবস্থায় সুন্নত নামায পড়ার হুকুম কি?

খ) আমরা জানি যে, সফরে চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযে দুই রাকাত পড়তে হয়। ফরয এবং সুন্নত উভয় নামাযের জন্যই কি এই হুকুম? জানালে পেরেশানী মুক্ত হব।


 


উত্তর

ক) সফর অবস্থায় সুন্নত নামায পড়া-না পড়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের রা. দুই ধরনের আমলই বর্ণিত হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় সুন্নত পড়ার কথা এসেছে। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় সুন্নত না পড়ার কথাও এসেছে।

তবে ফজরের সুন্নতের ব্যাপারে এসেছে যেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ-অসুস্থমুসাফির-মুকিম কোনো অবস্থাতেই তা ছাড়তেন না। Ñমুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ ৩৯৫০

অতএব ফজরের সুন্নত গুরুত্বের সাথেই আদায় করবে। অন্যান্য সুন্নতের ক্ষেত্রে হুকুম হলযাত্রাপথে তাড়াহুড়ো ও ব্যস্ততার সময় সুন্নত পড়বে না। আর যদি যাত্রাপথে তাড়াহুড়ো ও ব্যস্ততা না থাকে এবং সুন্নত পড়ার অবকাশ থাকে তাহলে সম্ভব হলে পড়ে নিবে। আর গন্তব্যস্থলে নিরাপদে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে সুন্নত পড়ে নেওয়াই উত্তম। এক্ষেত্রে সুন্নত ছাড়বে না।

খ) সফর অবস্থায় চার রাকাত বিশিষ্ট নামায দুই রাকাত পড়ার বিধান কেবল ফরয নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুন্নত নামাযের কসর নেই। তাই সফর অবস্থায় সুন্নত পড়লে পূর্ণ চার রাকতই পড়তে হবে। Ñজামে তিরমিযীহাদীস ৫৫০৫৫২সহীহ ইবনে খুযায়মাহাদীস ৯৪৭সুনানে আবু দাউদহাদীস ১২৫২আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৩-৩৮৪ইলাউস সুনান ৭/৩২৯-৩৩২আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩১

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement