নাজিম উদ্দীন - মোহাম্মাদপুর ঢাকা
প্রশ্ন
আলহামদু লিল্লাহ, আমি এ বছর শরহে বেকায়া সম্পন্ন করেছি। ইনশাআল্লাহ, রমযানের পর জালালাইন জামাতে ভর্তি হব।
অনেকে বলেন, জালালাইনের বছর নাকি আরামের বছর, বেশি কষ্ট ছাড়াই পার হয়ে যায়। কিন্তু হুজুর, আমি বিষয়টাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে চাই।
তাই আমার জানার বিষয় হল, জালালাইন জামাতের কিতাবগুলো কোন্ পদ্ধতিতে পড়লে সবচেয়ে ভালোভাবে উপকার পাওয়া যায়? হুজুরের নসীহত ও দিকনির্দেশনা কামনা করছি।
আল্লাহ তাআলা হুজুরকে উত্তম জাযা দান করুন।
উত্তর
আল্লাহ তাআলা আপনাকে জাযায়ে খায়র দান করুন, আপনি ওই ভাইদের এমন ভুল কথায় প্রভাবিত হননি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাযত করুন– আমীন।
আরাম এবং ইলম অর্জন কখনো একসাথ হতে পারে না। পড়াশোনার কোনো স্তর এমন নেই, যা আরামে পার করা যায়। আপনি যে জামাতেই পড়েন না কেন, যদি ভালোভাবে পড়তে চান, তাহলে মেহনত এবং কষ্ট করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই নতুন কোনো শ্রেণিতে ভর্তি হলে শুরুতেই সে শ্রেণির মাকসাদ এবং শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত কিতাবাদির সুস্পষ্ট পরিচিতি এবং সেগুলোর পাঠ-পদ্ধতি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা হাসিল করা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা উচিত নয়।
উক্ত বিষয়গুলো ভালোভাবে হাসিল করলে এ ধরনের চিন্তা মাথায় আসবে না এবং মেহনত করার জযবা পয়দা হবে ইনশাআল্লাহ।
ইলম হাসিলের জন্য নিজের মধ্যে মেহনত ও কষ্ট করার অনুপ্রেরণা তৈরি করতে কোনো বিরতিতে মুতালাআ করুন, সায়্যিদী শায়েখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর মহান কিতাব–
صفحات من صبر العلماء على شدائد العلم والتحصيل
বিশেষ করে এর খাতেমা মুতালাআ করে নিন। আন্তরিকতার সাথে পাঠ করলে ইনশাআল্লাহ নিজের মধ্যে ভিন্ন একটা তড়প ও উদ্দীপনা পয়দা হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন– আমীন।
২. জালালাইন জামাতের কিতাবগুলো কীভাবে পড়বেন, এ বিষয়ে ‘তালিবানে ইলম পথ ও পাথেয়’ কিতাবে মৌলিক কিছু আলোচনা আপনি পেয়ে যাবেন।
আপনার প্রধান কিছু করণীয় হল, নেসাবভুক্ত প্রত্যেক কিতাবের পরিচিতি ও মাকসাদ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন করা এবং নিজেকে সে মাকসাদে উত্তীর্ণ করার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখা। কিতাবের পরিচিতি ও মাকসাদ সম্পর্কে জানতে জরুরি হল– মুসান্নিফের ভূমিকা, কিতাবের খাতেমা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে বুঝে-শুনে বারবার পড়া। পাশাপাশি উস্তাযের রাহনুমায়ী গ্রহণ করা। কিতাবের ইবারত সহীহভাবে পড়তে পারা। ইবারত ঠিকমতো বোঝা। যমীরের মারজে‘, মুশারুন ইলাইহি ভালোভাবে বোঝা। ইবারতের মর্ম স্পষ্টভাবে নিজ ভাষায় ব্যক্ত করতে শেখা। প্রত্যেক বহছের খোলাসা যেহেনে বসিয়ে নেওয়া। কোনো সবক যেন অস্পষ্ট না থাকে, এ বিষয়ে খুব বেশি সতর্ক থাকা। উস্তাযের দরস মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং ধারণ করার চেষ্টা করা। তাকরার ও মুতালাআর প্রতি সর্বোচ্চ মনোযোগী হওয়া। দরসী কিতাবাদির হক আদায় করার পর এর পাশাপাশি আরও কোনো কিতাব মুতালাআ করা যায় কি না– এ বিষয়ে উস্তাযের সঙ্গে পরামর্শ করা।