জুমাদাল উলা ১৪২৮ || জুন ২০০৭

এনামুল হাসান - রায়পুর, লক্ষীপর

প্রশ্ন

মাননীয় পরিচালক, শিক্ষাপরামর্শ বিভাগ, মাসিক আলকাউসার, আমার সশ্রদ্ধ সালাম নিবেন। আশা করি আল্লাহ তায়ালার রহমতে সুস্থ আছেন। মাসিক আলকাউসার নামক অকৃত্রিম বন্ধু ও রাহনুমার সঙ্গে আমার যখন প্রথম পরিচয়, তখন থেকেই তাকে প্রাণের অনেক কাছে মনে হত। এর প্রত্যেকটি বিভাগের মধ্যেই আমি প্রাণের খোরাক খুঁজে পেয়েছি। বিশেষত শিক্ষাপরামর্শ বিভাগটি আমাকে প্রচণ্ড ভাবে আন্দোলিত করে, আলোড়িত করে। কারণ আমাদের মতো হতাশার সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকা একজন তালিবে  ইলমের জন্য এ বিভাগটি ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ । বিশেষত পরামর্শদাতা যখন এক জ্ঞানতাপস, সপ্রতিভ, বিদগ্ধ মুহাক্কিক, যার অভিজ্ঞতা ও গবেষণা-সিন্ধুর প্রতিটি বিন্দু-পতনে মুক্তা ধারণের প্রত্যাশায় উন্মুখ প্রতিটি ঝিনুক কাঙ্খিত সেই মুক্তা লাভে ধন্য হয়। তবে এ যাবত আমি অন্যান্য বন্ধুদেরকে প্রদত্ত পরামর্শেই উপকৃত  হতাম। বিভিন্ন কারণে আমার পরামর্শ চেয়ে পত্র লিখার সুযোগ হয়নি। আজ একটি বিষয়ে আপনার সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ কামনা করছি।

হযরত, দরসে নেযামীর যে প্রচলিত কোর্স আমাদের দেশে রয়েছে, গত কয়েক বছর পূর্বেই আমার তা সমাপ্ত করার তাওফীক হয়েছে। এরপর আল্লাহ তায়ালা খেদমতেরও সুযোগ করে দিয়েছেন। কিন্তু যখনই নিরীক্ষণের আরশীতে আপন চেহারাটা পরিদৃষ্ট হয়, তখনি কখনো হতাশার মধ্যে ডুবে যাই। আবার কখনো হীনম্মন্যতায় ভুগতে থাকি, কখনো বা এক বেদনাদায়ক অবর্ণনীয় অনুভূতির ঝড় বইতে থাকে। বিশেষ করে যখন দেখি, কোনো বাতিল পন্থী তার বাকচাতুর্য ও অগ্রহণযোগ্য কোনো যুক্তির মাধ্যমে আমার সম্মুখে আমার আকীদা ও বিশ্বাসের উপর আঘাত হানছে; অথচ আমার ইলমী অপরিপক্কতার কারণে আমাকে তার সামনে চুপ হয়ে থাকতে হয়। যেমন মওদূদী সাহেবের আকীদার ব্যাপারে আমার ধারণা খুবই সামান্য, কারণ আমরা তো আমাদের উস্তাদদেরকে শুধু বলতে শুনেছি যে, মওদূদীর আকীদা ভালো  নয়। কিন্তু তার আকীদার অসারতা তো আমাদেরকে কুরআন হাদীসের দলীলের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেননি। (এটা উস্তাদের সমালোচনা নয়, (নাউযুবিল্লাহ) কারণ তাঁরা তো আমার একটা জড়সম বস্তুতে প্রাণের সঞ্চার করেছেন। এটা শুধু একটা পর্যালোচনা ও আত্মসমালোচনা মাত্র) খুব দুঃখ হয় যখন মনে পড়ে যে, আমি দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত পড়েও সুনির্দিষ্টভাবে আহলে সুন্নতওয়াল জামায়াতের আকীদাগুলো জানি না। তাই বর্তমান প্রেক্ষিতে, বিশেষত বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে যখন দেখি আমলী  ভ্রান্তির ন্যায় আকীদাগত ভ্রান্তিও আমাদের খাওয়াসদেরও কারো কারো গাসওয়া হয়ে গেছে; এমনকি কোনো কোনো দরসে নেযামীর সন্তান এটাকে একটা ফুরূয়ী বিষয় বলতে দ্বিধা করছে না, তখন বেদনায় হৃদয়টা নীল হয়ে যায়। তখন মনের দৃঢ় প্রত্যয় জাগে যে, নিজের সকল সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতাকে জয় করে আমি এ বিষয়ে গভীর মুতালাআ করব। এ জন্যই আপনার শরণাপন্ন হওয়া। আপনি দয়া করে আমাকে পরামর্শ দিবেন, আমি কোন কিতাবগুলো মুতালাআ করলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদাগুলো পূর্ণভাবে জানতে পারব এবং এর বিপরীতে বাতিল কোনো ফেরকা কী আকীদা পোষণ করে তাও জানতে পারব।

আল্লাহ তায়ালা আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন।

উত্তর

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকাইদ বোঝার জন্য এবং বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদ জানার জন্য বিস্তারিত নিসাব ইনশাআল্লাহ  আমি আগামী কোনো প্রবন্ধে পেশ করব। আপাতত আপনি নিম্নোক্ত কিতাবগুলোর মাধ্যমে আপনার মুতালাআ আরম্ভ করতে পারেন।

১. দ্বীন ও শরীয়ত, মাওলানা মানযুর নুমানী

২. আল আকীদাতুল ইসলামিয়াহ, আরকানুহা, হাকায়েকুহা, মুফসিদাতুহা। ড. মুস্তফা আলখন ও ড. মুহিউদ্দিন

৩. শরহুল আকীদাতিত ত্বহাবিয়াহ, ইবনে আবিল ইয (মৃত্যু ৭৯২ হি.)

৪. আলউসতাযুল মওদূদী ওয়া শাইউম মিন হায়াতিহী ওয়া আফকারিহি.

আল্লামা মুহাম্মাদ ইউসুফ বানুরী (১৩৯৭ হি.)

৫. আসরে হাজির মে দ্বীন কী তাফহীম ওয়া তাশরীহ,

মাওলানা আবুল হাসান আলী নাদভী (১৪২০ হি.)

এই সংখ্যার অন্যান্য শিক্ষা পরামর্শসমূহ পড়ুন