জুমাদাল উখরা ১৪৩০ || জুন ২০০৯

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - ফরিদাবাদ মাদরাসা

প্রশ্ন

(ক) আমি মিশকাতের ছাত্র। আমার অবস্থা হল, আমি তরজমা ছাড়া ইবারত পড়তে পারি না। তরজমা জানলে ইবারত সহজেই পড়তে পারি। ইবারত থেকে মুবতাদা-খবর, হাল, মুতাআল্লিক ইত্যাদি নির্দিষ্ট করতে দেরি হয়।


(খ) আমার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ খুবই কম। আগ্রহের সময় অনেক পৃষ্ঠা পড়ে ফেলতে পারি। তবে অধিকাংশ সময়ই আগ্রহ থাকে না। অতএব কীভাবে সব সময় আগ্রহ নিয়ে পড়তে পারি তার উপায় জানাবেন।


(গ) আমাদের উস্তাদে মুহতারাম হাফেযে হাদীস মাওলানা যিকরুল্লাহ সাহেব হুজুর মাদরাসায়, মসজিদে উলূমুল হাদীসসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর অনেক দরস দেন কিন্তু আমার দরসি কিতাব হল করতে অনেক সময় লেগে যায়। তাছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ আছে যেন পরীক্ষায় সিরিয়ালে থাকি।

এজন্য দরসী কিতাবের পিছনে সময় দিতে গিয়ে হুজুরের মজলিসে বসতে পারি না। অপর দিকে মনে খুব আফসোসও হয়। এ ক্ষেত্রে আমি কী করতে পারি?


উত্তর

(ক) তরজমার মোটামুটি ধারণা না থাকলে তো কোনো ইবারতই সঠিকভাবে পড়া সম্ভব নয়। মর্ম সম্পর্কে কিছুটা আঁচ করতে না পারলে আমিলমামূল ও মামূলের প্রকার কীভাবে নির্ণয় করবেন? আর কিছুটা বিলম্বে হলেও তো চিন্তা-ভাবনার দ্বারা মুবতাদা-খবর, হাল, মুতাআল্লিক ও অন্যান্য বিষয় নির্ণয় করতে পারেন। এটাও তো সামান্য নয়। ইনশাআল্লাহ মুতালাআ যত বাড়বে এবং যত বেশি চিন্তাভাবনা করা হবে ততই তা সহজ হতে থাকবে। ওয়াল্লাহুল মুয়াফফিক্ব।

 

(খ) অপ্রাসঙ্গিক চিন্তা ও ব্যস্ততা যত কম হবে এবং ইলমের সঙ্গে  সম্পর্ক ও মুহাববত যত গভীর হবে ততই আগ্রহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধি পাবে। যে পরিমাণ আগ্রহ বিদ্যমান রয়েছে তা পূর্ণরূপে কাজে লাগালে তা বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপনার সামান্য অংশও বিনষ্ট করবেন না। আর যখন উদ্দীপনা থাকে না তখন আল্লাহর কথা স্মরণ করে সবর ও ধৈর্য্যের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। এভাবে কাজ করতে থাকলে একসময় আল্লাহ তাআলা জীবনকে কর্মোদ্দীপনায় পূর্ণ করে দিবেন এবং উদ্দীপনাহীন সময়েও কাজ করে যাওয়ার হিম্মত দান করবেন।

 

(গ) যদি দুটোর মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করা না যায় তাহলে সর্বাবস্থায় দরসী কাজকর্মকেই প্রাধান্য দিতে হবে। গায়রে দরসী কাজের ব্যাপারে মা লা ইউদরাকু কুল্লুহু লা ইউতরাকু কুল্লুহু  নীতি অনুসরণ করবেন।

আপনার কাছে একটি দরখাস্ত এই যে, নিজ উস্তাদের নিকট থেকেই ইলমী লকবসমূহের মর্ম ও প্রয়োগের নিয়মনীতি সম্পর্কে জেনে নিন এবং এটাও জেনে নিন যে, হাফিযুল হাদীসের সর্বনিম্ন পর্যায় কী?

এই সংখ্যার অন্যান্য শিক্ষা পরামর্শসমূহ পড়ুন