মুহাম্মাদ তানিম আন্দালিব - ৪২/পি আজিমপুর এষ্টেট, ঢাকা-১২০৫

প্রশ্ন

আমরা লোকমুখে একটা ঘটনা শুনে থাকি যে, ইমাম বুখারী রাহ. যখন বোখারা শহরে বিভিন্ন মাসআলায় ফতোয়া দিতেন তখন জনৈক হানাফী ইমাম তাঁকে বারণ করেছিলেন। তবু তিনি ফতোয়া দিতে থাকেন। একসময় তিনি এক প্রশ্নের জবাবে দু’জন শিশুর একই বকরীর দুগ্ধপানের দ্বারা দুধের সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে বলে ফতোয়া দেন। তার এই ফতোয়াকে কেন্দ্র করে বোখারাতে নাকি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। প্রশ্ন এই যে, উপরোক্ত বর্ণনাটি কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আমাদের জানা মতে, যে সমস্ত কিতাবে উপরোক্ত ঘটনাটি পাওয়া যায় সেখানে এর কোনো সনদ বা সূত্রের উল্লেখ নেই। তাই ইমাম বুখারী রাহ.-এর মতো একজন ইমামের ক্ষেত্রে সনদবিহীন একটি ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. বলেন, ولكنه لم يذكر سندها لا هو ولا غيره فيما أعلم ففي نسبتها للإمام البخاري وقفة অর্থাৎ আমার জানা মতে, কেউই এই ঘটনার সূত্র উল্লেখ করেননি। অতএব ইমাম বুখারী রাহ.-এর সঙ্গে এই ঘটনা যুক্ত করার বিষয়ে আমার দ্বিধা রয়েছে। (টীকা : আল-ইমাম ইবনু মাজাহ ওয়া কিতাবুহুস সুনান পৃ. ১২৯) ইমাম বুখারী রাহ.-এর সংকলিত সহীহ বুখারী ও অন্যান্য হাদীস-সংকলন পাঠকের সামনে রয়েছে। এসব গ্রন্থ থেকে তাঁর যে পাণ্ডিত্য প্রমাণ হয় এতে এ ধরনের ভুল অবিশ্বাস্যই মনে হয়। বিশেষত সহীহ বুখারীর ‘রাযা’ বা শিশুর দুগ্ধপান বিষয়ক অধ্যায়গুলোতে এর কাছাকাছি কোনো মাসআলারও অস্তিত্ব নেই। আল্লামা আবদুল হাই লাখনাভী রাহ. বলেন, وهي حكاية مشهورة في كتب أصحابنا ذكرها أيضا صاحب العناية وغيره من شراح الهداية لكني استبعد وقوعها بالنسبة الى جلالة قدر البخاري ودقة فهمه وسعة نظره وغور فكره مما لا يخفى على من انتفع بصحيحه وعلى تقدير صحتها فالبشر يخطئ এমনিভাবে শায়খুল হাদীস যাকারিয়া কান্ধলভী রাহ. লামেউদ দারারীর (১/১৩) ভূমিকায় লিখেছেন, ‘‘ওয়া ইসতিবআদুহা যাহিরুন।’’ অর্থাৎ এই ঘটনা বাস্তবতা বিরোধী মনে হওয়াই স্বাভাবিক। অতএব ইমাম বুখারী রাহ.-এর মতো জলীলুল কদর ইমামের সঙ্গে এ ধরনের সনদ ও সূত্রহীন ঘটনা যুক্ত করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ফরিদাবাদ, ঢাকা-১২০৪

প্রশ্ন

...

উত্তর

আপনি এই সমস্যার ব্যাপারে আপনার তালীমী মুরব্বীর শরণাপন্ন হোন। অথবা ফোনে বা সরাসরি সাক্ষাতে যোগাযোগ করলে কোনো পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

যুবায়ের আহমদ - জামিআ মুহাম্মাদিয়া বনানী, ঢাকা

প্রশ্ন

আমি এ বৎসর জামাআতে জালালাইন পড়ছি। শুরু থেকেই মতনের পাশাপাশি কিতাবের হাশিয়া, হাশিয়াতুস সবী, ছফওয়াতুত তাফাসীর, ই’রাবুল কুরআনিল কারীম, তাফসীরুল কুরআনিল কারীম লিইবনি কাছীর, ফাতহুল কাদীর, কাশফুল আছরার ফী শারহিল মুসান্নাফি আলাল মানার ইত্যাদি কিতাব পড়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু ইদানীং অনেকের কাছে শুনতে পাচ্ছি, তাফসীরে জালালাইনের হাশিয়া ও হাশিয়াতুস সবীতে অনেক জাল বর্ণনা আছে। এক্ষেত্রে কি তা পড়া ছেড়ে দিব, না কী করব?

উত্তর

ছেড়ে দিবেন কেন? এই কিতাবগুলোতে জাল ও ইসরাঈলিয়াতের পাশাপাশি সহীহ ও তাফসীরের ক্ষেত্রে ‘মাকবুল হাদীসের সংখ্যাও তো কম নয়। এছাড়া কুরআন মাজীদের অর্থ অনুধাবন, তাফসীর ও জালালাইনের মূল ইবারত ‘হল’ সংক্রান্ত আরো যে সব বিষয় ঐ দুই হাশিয়ায় রয়েছে-তা থেকে বঞ্চিত হবেন কেন? হ্যাঁ, আপনার এই সমস্যার জন্য যা করণীয় তা হল, আপনি প্রত্যেকটি সবক মূল জালালাইন, সংশ্লিষ্ট হাশিয়া ও হাশিয়াতুস সবীতে পড়ার পর তাফসীরে ইবনে কাসীর যা আপনি মুতালাআ করছেন বলে প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন- এর মুতালাআ অবশ্যই নিয়মিত জারি রাখবেন। যে রেওয়ায়েতগুলো অন্য কিতাবে পেয়েছেন তা তাফসীরে ইবনে কাসীরে আছে কি না আর ঐ রেওয়ায়েতের ব্যাপারে ইবনে কাসীর রাহ. কী রায় পেশ করেছেন তা মনোযোগের সাথে পড়তে ও বুঝতে চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, তাফসীর বিররিওয়াহর ক্ষেত্রে তাফসীরে ইবনে কাসীর সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য কিতাব। আর ড. আবু শাহবার আলইসরাইলিয়াত ওয়াল মাওযূআত ফী কুতুবিত তাফসীর, তো একটি অনন্য কিতাব। কোনো এক অবসরে এটি অথবা এর আলোকে ‘আসির আদরবী’ লিখিত উর্দূ কিতাবটি পড়ে নিলে আপনার এই পেরেশানী অনেকটাই লাঘব হয়ে যাবে বলে আশা রাখি। তবে যে রেওয়ায়েতগুলো তাফসীরে ইবনে কাসীরে পাবেন না বা রেওয়ায়ত পেলেও এই সম্পর্কে ইবনে কাসীর রাহ.-এর কোনো আলোচনা পাবেন না সেসব রেওয়ায়েতের শুদ্ধাশুদ্ধি কোনো আহলে ফনের শরণাপন্ন হয়ে যাচাই করে নিবেন। আল্লাহ আপনার সহায় হোন। আমীন

শেয়ার লিংক

যুবায়ের আহমদ - জামিআ মুহাম্মাদিয়া বনানী, ঢাকা

প্রশ্ন

নবীদের ঘটনা ও তাদের নসব সম্পর্কে জানতে কী কী কিতাব মুতালাআ করা যেতে পারে?

উত্তর

আল্লাহর প্রেরিত পূর্ববর্তী নবীগণ ও তাদের ঘটনাবলির যে অংশ আমাদের জানা প্রয়োজন তা কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসে আছে। একজন মুমিনের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। আর এ বিষয়ে এই কুরআন-হাদীসই হচ্ছে প্রধান সূত্র।। দ্বিতীয় পর্যায়ে তারীখ বিষয়ক কিতাব বিশেষত আল্লামা হাফেয ইবনে কাসীর রাহ.-এর আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া এর প্রথম দুই খণ্ড, যা কাসাসুল আম্বিয়া শিরোনামে স্বতন্ত্রভাবেও ছেপেছে তা অধ্যয়ন করতে পারেন। কাসাসুল কুরআন সম্পর্কিত কিতাবগুলোর মধ্যে মাওলানা হিফযুর রহমান সিওহাররী এর কাসাসুল কুরআন অধ্যয়ন করা যেতে পারে।

শেয়ার লিংক

যুবায়ের আহমদ - জামিআ মুহাম্মাদিয়া বনানী, ঢাকা

প্রশ্ন

কুরআন মজীদে পেয়েছি ... كل آمن بالله وملائكته وكتبه ورسله ... আর রিয়াযুস সালেহীনে পড়েছি, لللإيمان : أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله ... ঈমানে মুফাসসালে বলে থাকি آمنت بالله وملائكته وكتبه ورسله ... এই সবখানে ‘রুসুলুহু’ দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু আমরা তো জানি, আল্লাহর প্রতি, নবীগণের প্রতি, ফেরেশতাগণের প্রতি ... ঈমান আনা, জানতে চাই, তাহলে আয়াতে কারীমা বা হাদীসের ব্যাখ্যা কী হবে? মেহেরবানি করে জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নে যতটুকু বুঝেছি তার আলোকে আপনাকে কুরআন মজীদের নিম্নোক্ত দু’টি আয়াত ও দু’টি হাদীসের অংশ বিশেষ পড়ার জন্য অনুরোধ করব। আয়াতটির মধ্যে প্রথম আয়াতটি সূরা বাকারার ১৭৭ নং আয়াত ليس البر ان تولوا وجوهكم قبل المشرق والمغرب ولكن البر من آمن بالله واليوم الآخر والملائكة والكتاب والنبيين আর দ্বিতীয় আয়াতটিও একই সূরার ১৩৬ নং আয়াত قولوا آمنا بالله وما آنزل الينا وما انزل إلى ابراهيم واسماعيل واسحاق ويعقوب والاسباط وما اوتى موسى وعيسى وما اوتى النبيون من ربهم لا نفرق بين أحد منهم ونحن له مسلمون আর যে হাদীস দুটির কথা বললাম, তা হাদীসে জিবরীলেরই দু’টি ভিন্ন রেওয়ায়েত। হযরত ইবনে আব্বাস রা. ও হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত উভয় রেওয়ায়েতেই নিম্নোক্ত বাক্যটি রয়েছে। الايمان أن تؤمن بالله واليوم الآخر والملائكة والكتاب والنبيين দেখুন : মুসনাদে আহমদ ১/৩১৯, হাদীস : ২৯২৪; মুসনাদে বাযযার-মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৮-৪০ আমার ধারণা, আপনার মনে উপরোক্ত প্রশ্ন জাগার পিছনে কারণ হল নবী ও রাসূলের মধ্যকার ইসতিলাহী ফরকটি। মনে রাখবেন, সেটি একটি ইসতিলাহ ছাড়া আর কিছুই নয়। অন্যথায় কুরআনে নবী শব্দ রাসূল অর্থে এবং রাসূল শব্দ নবী অর্থে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। আশা করি, আপনার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবুও কোনো প্রশ্ন থাকলে আবার লিখতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুঈনুদ্দীন - রাহাত হোসাইন তাহফিযুল কুরআন মাদরাসা, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬

প্রশ্ন

আমি হিফয বিভাগের একজন ছাত্র। শুনেছি আল্লাহ তাআলা কুরআন মজীদকে সহজ করে দিয়েছেন। সূরা কামারে একাধিকবার আল্লাহ তাআলা তা ইরশাদ করেছেন। অথচ কুরআন মজীদ ইয়াদ করলেও তা স্মরণে থাকে না। আমরা আরো শুনেছি, কুরআন মজীদ ইয়াদ করে ভুলে গেলে পরকালে কঠিন আযাব হয়। তাই কুরআন মজীদ ইয়াদ করার পদ্ধতি কী? আর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তা কীভাবে ইয়াদ রাখা যায়- এ বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দিবেন।

উত্তর

আপনি ভয় পাচ্ছেন কেন। হিম্মত রাখুন এবং মেহনত করুন। প্রতি বছর হাজার হাজার তালিবে ইলম কুরআন হেফয করছে আর আলহামদুলিল্লাহ ছোটখাটো কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবাই তা ইয়াদও রাখছে। সাময়িকভাবে কোনো আয়াত হেফয থেকে ছুটে গেলে সামান্য দেখেই তারা আবার তা ইয়াদ করে ফেলছেন। সহজ বলেই তো যুগ যুগ ধরে অসংখ্য মুসলমান কালামুল্লাহ হেফয করতে পেরেছেন। এখনও করে চলেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। পৃথিবীর অন্য কোনো গ্রন্থের বেলায় এর নজীর নেই। মনে রাখবেন, তিনি সহজ করে না দিলে যত মেধাই হোক এই মহান কালামুল্লাহ কোনো মাখলুকের পক্ষে পড়া, হিফয করা ও বুঝা সম্ভব ছিল না। এই যে, আপনি কালামুল্লাহ তিলাওয়াত করতে পারছেন, সামান্য সামান্য হলেও ইয়াদ করতে পারছেন তাতো তাঁর বিশেষ ফযল ও করমে সহজ করে দেওয়ার বদৌলতেই সম্ভব হচ্ছে। আর নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত অব্যাহত রাখা ও কুরআনের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক রাখা সত্ত্বেও ইয়াদ না থাকলে মাওলা তো গাফুরুর রাহীম। তিনিই অনিচ্ছাকৃত এই ত্রুটির উপর ক্ষমার চাদর ঢেলে দেবেন বলে আশা করা যায়। এরপরও আমার পরামর্শ হল, আপনার হিফযের উস্তাদের কাছে নিজের পুরো অবস্থা খুলে বলুন। তিনি আপনার মেধা ও স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে সম্যক অবগত বলে সুন্দর একটি পরামর্শ দিতে পারবেন। আল্লাহ তাআলা আপনার যেহেন খুলে দিন এবং চিন্তামুক্ত হয়ে তাঁর মহান কালাম হিফয করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement