মুহাম্মাদ মুস্তাফিজুর রহমান মাসুমপুর - মাসুমপুর, সিরাজগঞ্জ মাদরাসা

প্রশ্ন

আমি শরহে বেকায়া জামাতের একজন ছাত্র। আমার শিক্ষা-জীবনের শুরু হতে এই পর্যন্ত কোনো একটি দিন মন ভারাক্রান্ত ব্যতিত অতিবাহিত হয়নি। কারণ, আমার স্মরণশক্তি কম, কোনো কিতাবই বুঝে আসে না, إعراب   লাগাতে পারি না...। আল্লাহ আপনাকে হায়াতে তাইয়েবাহ দান করুন।

উত্তর

ভাই মুস্তাফিজুর রহমান আপনি ঘাবড়াবেন না। যারা আপনাকে নিরুৎসাহিত করতে চেয়েছে তারা খুবই খারাপ করেছে। আপনার লেখা দেখে তো মনে হয়, আপনি এত দুর্বল নন। আপনি যদি তাকওয়া ও তাহারাতের ব্যাপারে যত্নবান হন এবং ইখলাসের সাথে মেহনত জারি রাখেন তাহলে ইনশাআল্লাহুল আযীয অবশ্যই সফল হবেন। আপনার জন্য অপেক্ষা করছে দ্বীন ও ইলমের খেদমতের বিশাল ও বিস্তৃত ময়দান। এজন্য জরুরী হল, আপনার কোনো অভিজ্ঞ ও মেহেরবান উস্তাযকে তালীমী মুরুববী হিসেবে গ্রহণ করা এবং তাঁর পরামর্শ ও নেগরানীতে মেহনত করতে থাকা। পাশাপাশি আপনি চিঠিপত্রের মাধ্যমে আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। কখনো সুযোগ হলে সাক্ষাতও করতে পারেন। আপনি সবসময় মন ও শরীরকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করবেন। আমি দুআ করছি আল্লাহ তাআলা যেন আপনার যেহেন খুলে দেন এবং রুসুখ ফিল ইলম ও তাফাক্কুহ ফীদ্দীন নসীব করেন। আপনিও আল্লাহ তাআলার দরবারে কাকুতি-মিনতিসহ দুআ করবেন।

رب زدني علما نافعا، رب اشرح لي صدري.... اللهم إني أسألك علما نافعا ورزقا طيبا وعملا متقبلا

দুআগুলো বেশি বেশি পাঠ করবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দিন এবং কবুল করুন, আমীন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ - হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

 

সঠিক ও বাস্তবসম্মতভাবে উসূলে ফিকহের ইজরা-পদ্ধতি জানতে চাই। মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন বলে আশা রাখি। আল্লাহ তাআলা আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন, আমীন।

 

উত্তর

উসূল ও কাওয়ায়েদ আয়ত্ত করার পর ইজরা ও তাতবীক (উদাহরণ ও অনুশীলন)-এর প্রতি যত্ন নেয়া উচিত। এবিষয়ে কিতাব ও উপকরণ কম থাকায় কিছু বাড়তি মেহনত করতে হবে। কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত এবং আহাদীস মুতালাআর সময় বিভিন্ন উসূলের তাতবীক ও ইজরার চেষ্টা করা যেতে পারে। এখন আপনি উসূলুশ শাশী পড়ার সময় থানবী রাহ. রচিত আত তালখীসাতুল আশারাহ-এর অন্তর্ভূক্ত পঞ্চম রিসালা আল মাদার লিহাল্লিল মানার-এর সহযোগিতা নিতে পারেন। এরপর সম্ভব হলে ড. মুহাম্মাদ আকবার রচিত الواضح في أصول الفقه দেখতে পারেন। তাছাড়া আপনার কোনো উস্তাযের তত্ত্বাবধানেও আপনি কিছুদিন অনুশীলন অব্যাহত রাখতে পারেন।

শেয়ার লিংক

উবাইদুল্লাহ - জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা

প্রশ্ন

(ক) আমরা তো চারই মাযহাবকে হক বলে স্বীকার করি। তাহলে হিদায়ার মধ্যে অন্যান্য মাযহাবের মাসআলাগুলো খন্ডন করা হয় কেন? শুধু আমাদের মাযহাবটা সাব্যস্ত করলেই তো চলে। হক কথাকে খন্ডন করার কী প্রয়োজন?

(খ) হিদায়ার হাদীসের তাখরীজসমূহের মধ্যে ইবনে হাজার রাহ.-এর তাখরীজে অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে। আর نصب الراية   দীর্ঘ হওয়ার কারণে প্রতিটি হাদীস সেখানে দেখা সম্ভব হয় না। তাই আমি জানতে চাই, হিদায়ার এমন কোনো সংক্ষিপ্ত তাখরীজ আছে কি না যাতে হাদীসের তাখরীজ করা হয়েছে হানাফী মুহাদ্দিসগণের কিতাব থেকে। প্রতিটি হাদীস বর্ণনা করার সাথে সাথে হানাফীদের পরিভাষা অনুযায়ী তা  خبر واحد    না    مشهورনা   متواتر তা বর্ণিত থাকবে। 

 

 

 

 

উত্তর

 

 

 

 


(খ) আদদিরায়া ফী মুনতাখাবি তাখরীজি আহাদিসিল হিদায়া নামে হাফেজ ইবনু হাজার রাহ. হেদায়ার হাদীসের তাখরীজ লিখেছেন। এটি তাঁর নিজের স্বতন্ত্র ও মৌলিক তাসনীফ নয়। বরং নসবুর রায়া-এরই একটি উত্তম খোলাসা ও সারসংক্ষেপ। সুতরাং নাসবুর রায়া গ্রন্থের অনেক বৈশিষ্ট্য স্বত্ত্বেও হেদায়ার হাদীসের তাখরীজের ক্ষেত্রে যে কয়েকটি বিষয়ের অভাব ও শুন্যতা রয়েছে তা এর খোলাসা আদদিরায়াতেও রয়েছে। তবে পার্থক্য হল, নসবুর রায়ায় অনেক হাদীস ও রেওয়ায়েতেরই শুধু তাখরীজ করা হয়েছে, হুকুম ও মান উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু আদদিরায়ায় সংক্ষেপে প্রায় সকল রেওয়ায়েতের হুকুমও বয়ান করা হয়েছে। তবে হেদায়া কিতাবের হাদীস ও রেওয়ায়েতের তাখরীজ এবং সেগুলোর আসল মান ও অবস্থান জানার জন্য এবং সংশ্লিষ্ট মাসআলার দলীলযোগ্য অন্যান্য হাদীস ও আছার জানার জন্য এ কিতাবটি কোনক্রমেই যথেষ্ট নয়। এর জন্য এ বিষয়ে আহাদীসুল আহকাম এবং হানাফী মুহাদ্দিস ও ফকীহদের সংকলিত হাদীস ও ফিকহে মুদাল্লাল-এর কিতাবের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।

আপনি আপাতত সহজ ও সংক্ষেপে হাদীসসমূহের তাখরীজ-উৎস-উদ্ধৃতি জানার জন্য আদদিরায়া দেখতে পারেন। কোনো সময় তাফসীল প্রয়োজন হলে নসবুর রায়াতেও হাদীসটির তাখরীজ দেখে নিবেন। আর হাদীসের হুকুম ও মান জানার জন্য এবং দলীলযোগ্য অন্যান্য রেওয়ায়েত জানার জন্য ফতহুল কাদীর মুতালাআয় রাখতে পারেন। কারণ এ কিতাবটি মৌলিকভাবে হেদায়ার ফিকহী শর্হ হওয়ার পাশাপাশি হেদায়ার হাদীস ও আছারের মাঝারি কলেবরের তাখরীজও বটে। তাখরীজের ক্ষেত্রে এর মূল উৎসই হচ্ছে নসবুর রায়াএ কিতাবের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হল যে, এতে হাদীসের তাসহীহ তাযঈফের ক্ষেত্রে মানহাজুল মুহাদ্দিসীন ও মানহাজুল ফুকাহা-এর সমন্বয় ঘটেছে।

বেশ কিছু হাদীসের ক্ষেত্রে হাফেয যাইলাঈ রাহ. হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. উভয়েই বলেছেন যে, এই হাদীস আমরা পাইনি বা হাদিসটি আমরা এই শব্দে পাইনি। এধরনের ক্ষেত্রে ফতহুল কাদীর-এর সাথে সাথে কাসেম ইবনে কুতলুবুগা রাহ.-এর

منية الألمعي فيما فات من تخريج أحاديث الهداية للزيلعي

  এবং আদদিরায়া-এর দ্বিতীয় অংশের উপর তাঁর টীকা দেখা যেতে পারে। এরপর প্রয়োজন হলে আহাদীসুল আহকাম ও ফিকহে মুদাল্লাল-এর অন্যান্য কিতাবের মুরাজাআত করতে হবে। এক্ষেত্রে মাওলানা যফর আহমদ উসমানী রা.-এর ইলাউস সুনান কিতাবটি মুতালাআয় রাখা যেতে পারে।

 

 

শেয়ার লিংক

শাহাদাত হুসাইন - মুন্সিগঞ্জ

প্রশ্ন

হুযুর, গত কোনো এক সংখ্যায় সিয়ারু আলামিন নুবালা থেকে তরজমা বের করতে তবাকা-এর সাহায্য নিতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে যেন ফাহারিস এর আশ্রয় না নেওয়া হয় সে কথাও বলা হয়েছে। জানার বিষয় হল, তবাকা হিসাবে তরজমা বের করার পদ্ধতি কী? জানালে খুশি হব।

 

উত্তর

আলকাউসারের ঐ সংখ্যায় তবাকা-এই পরিভাষাটির অর্থ লেখা হয়েছেসমকালীন ব্যক্তিবর্গ যাদের মাঝে মিল রয়েছে বয়সের এবং সমকালীন মাশায়েখদের শিষ্যত্ব গ্রহণে। সুতরাং সিয়ারু আলামিন নুবালা থেকে তবাকা হিসেবে জীবনী বের করার জন্য প্রয়োজন হবে উদ্দীষ্ট ব্যক্তি কোন যামানার বা কোন প্রজন্মের সে-সম্পর্কে ধারণা থাকা। এরপরসিয়ারু আলামিন নুবালা গ্রন্থের কোথায় কোনো যামানার ও প্রজন্মের লোকদের জীবনী লিপিবদ্ধ হয়েছে তা জানতে হবে। যেমন এতে প্রথমে সাহাবায়ে কেরামের জীবনী সন্নিবেশিত হয়েছে। এরপর তাবিয়ীনের জীবনী লিপিবদ্ধ হয়েছে। এতে তাবিয়ীদেরকে জন্মমৃত্যু এবং ইলম অর্জনের সময় ইত্যাদির ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী ও পরবর্তী হওয়া- এই বিবেচনায় ছয় তবাকায় বিভক্ত করা হয়েছে। এরপর আতবাউত তাবিয়ীন এবং তাঁদের শাগরিদ ও শাগরিদদের শাগরিদ- এভাবে ধারা পরম্পরায় হাফেয যাহাবী রাহ.-এর মাশায়েখ ও আসাতিযার তবাকা পর্যন্ত লিপিবদ্ধ হয়েছে।

এখন এই তবাকাগুলোর বিন্যাস এবং কোন খণ্ডে কোন তবাকার জীবনী লিপিবদ্ধ হয়েছে তা জানার জন্য সরাসরি কিতাবের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার। কোন তবাকা কিতাবের কোথায় শুরু হয়েছে আর কোথায় শেষ হয়েছে তা আপনি পুরো কিতাবের উপর ইজমালীভাবে নযর বুলিয়েও জানতে পারেন। এক্ষেত্রে তবাকাভিত্তিক যে ফিহরিস রয়েছে সেটা থেকেও প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা নিতে পারেন। প্রথমে একটু কঠিন মনে হলেও কিতাবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে এবং অভ্যস্ত হয়ে উঠলে সহজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

সাজ্জাদ - বক্স বাজার, মহেশখালী

প্রশ্ন

আমি শিক্ষার্থীদের পাতায় প্রকাশিত কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলার শানে ব্যবহৃত বহুবচনরূপী সর্বনামের অনুবাদ প্রসঙ্গ প্রবন্ধটি বুঝে পড়ার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে তা খুবই দালীলিক ও তাহকীকপূর্ণ মনে হয়েছে।

প্রবন্ধে উল্লেখিত হয়েছে যে,বিভিন্ন ভাষায় ব্যক্তির মর্যাদা ও গৌরব প্রকাশের জন্য একবচনের স্থলে বহুবচনের সর্বনাম ব্যবহার হয়ে থাকে। এখানে সর্বনামের মাঝে কোনো পার্থক্য করা হয়নি এবং আলোচনা থেকে বুঝে আসে যে, নাম-উত্তম-মধ্যম পুরুষ সর্বক্ষেত্রেই ضمير العظمة   ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

এক্ষেত্রে شرح الرضي থেকেও একটি বক্তব্যকে দলীল হিসেবে পেশ করা হয়েছে :

   ويقول الواحد المعظم أيضا : نفعل، وفعلنا، وهو مجاز عن الجمع لعدهم المعظم كالجماعة

অথচ উল্লেখিত বক্তব্যের পরই মুসান্নিফ লিখেছেন :

 ولم يجئ للواحد الغائب والمخاطب المعظمين فعلوا وفعلتم في الكلام القديم المعتد به وإنما هو استعمال المولدين.

এখান থেকে বুঝে আসে উত্তম পুরুষের ক্ষেত্রে   ضمير العظمة ব্যবহৃত হলেও নামপুরুষ ও মধ্যমপুরুষের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য পূর্ববর্তী আরবী ভাষাবিদদের ব্যবহারে ضمير العظمة -এর ব্যবহার পাওয়া যায় না বরং তা পরবর্তীতে সৃষ্ট ব্যবহার। মুসান্নিফের পরবর্তী উক্তিটি প্রবন্ধের এ দাবির সাথে অসংগতিপূর্ণ মনে হয়। বিষয়টি স্পষ্ট করলে বাধিত হব।


 

 

 

 


উত্তর

হাযের ও গায়েবের সীগার ক্ষেত্রে যমীরুল আযামাহ-এর ব্যবহারকে মুয়াল্লাদ বলা ইমাম রযীউদ্দীন রাহ.-এর একটি শায কওল। অন্যথায় তাঁর পূর্ববর্তী একাধিক ইমামুল লুগাহ সীগায়ে হাযের-এর ক্ষেত্রে যমীরুল আযামাহ-এর ব্যবহারকে ফসীহ আরবী এবং আরবী ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইমামুল লুগাহ আবুল হুসাইন ইবনু ফারিস রাহ. (মৃত্যু ৩৯৫ হি.) তাঁর ফিকহুল লুগাহ  গ্রন্থে বলেন-

 و من سنن العرب مخاطبة الواحد بلفظ الجمع، فيقال للرجل العظيم انظروا في أمري ـ وكان بعض أصحابنا يقول : إنما يقال هذا، لأن الرجل العظيم يقول : نحن فعلنا، فعلى هذا الابتداء خوطبوا في الجواب ومنه في القرآن: "قال رب ارجعون" (سورة المؤمنون : ৯৯)

উপরোক্ত নসটি ইমাম সুয়ূতী রাহ. (মৃত্যু ৯১১ হি.) আল মুযহির ফী উলূমিল লুগাহ গ্রন্থে নকল করেছেন। ইমাম ইবনু ফারিসের মতো একই কথা ইমাম আবু মনসূর ছায়ালাবী (মৃত্যু ৪২৯ হি.) সিররুল আদব ফী মাজারী কালামিল আরব কিতাবে এবং ইমাম আবুল ফাতহ উছমান ইবনু জিন্নী আল-খাসায়িস গ্রন্থে বলেছেন। দ্রষ্টব্য: তাফসীরু রূহুল মাআনীমাহমুদ আলূসী ১১ ভলিয়ম ২০ খণ্ড৪৮ পৃষ্ঠা সূরা কাসাসের ৯ নং আয়াতের তাফসীর। এখানে ইমাম মাহমূদ আলূসী রাহ. বলিষ্ঠ ভাষায় রযীউদ্দীন রাহ.-এর শায কওলকে খণ্ডন করেছেন এবং উপরোক্ত আইম্মায়ে লুগাহ-এর হাওয়ালা দিয়েছেন।

সীগায়ে হাযের-এর ক্ষেত্রে যমীরুল আযামাহর ব্যবহার দৃষ্টান্ত প্রাচীন আরবী কবিতায় রয়েছে।

দ্রষ্টব্য : তাফসীরুল কাশশাফজারুল্লাহ যমখশারী ৩/৪২ সূরা মুমিনূন ৯৯ নং আয়াতআদ-দুররুল মাসূন ৫/২০০ সূরা মুমিনূন ৯৯ নং আয়াত

মাহমুদ আলুসী রাহ. বলেন-

 والحق أن التعظيم يكون في ضمير المتكلم والمخاطب بل والغائب، والاسم الظاهر، وإنكار ذلك غير رضي والإيهام الذي يدعيه ابن مالك هنا لا يلتفت إليه.

দ্রষ্টব্য : রূহুল মাআনীসূরা মুমিনূন-এর ৯৯নং আয়াতের তাফসীর।

শেয়ার লিংক

আব্দুল হাকীম - জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া

প্রশ্ন

 

গত ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় শিক্ষার্থীদের পাতায় কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলার শানে ব্যবহৃত বহুবচনরূপী সর্বনামের অনুবাদ প্রসঙ্গ নামে একটি প্রবন্ধ পড়লাম। এ থেকে ইস্তেফাদা করেছি। তবে আমার একটি খটকার বিষয় হল, প্রবন্ধটিতে উর্দু ভাষার বাকরীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, উর্দুতে সম্মানার্থে আল্লাহ তাআলার শানে বহুবচনের সর্বনাম ব্যবহার হয়। আমার প্রশ্ন হল, এটি কি উর্দু ভাষার সর্বজন-স্বীকৃত রীতি নাকি ভিন্ন কোনো রায়ও রয়েছে? কারণ উর্দু ভাষায় অনেক সময় আল্লাহ তাআলার শানে একবচনের সীগার ব্যবহারও লক্ষ করা যায়। রাহবারে উর্দু নামক কিতাবে তো  আল্লাহ তাআলার শানে হাযের ও গায়েবের একবচনের যমীর ব্যবহার হওয়াকেই উর্দু ভাষার রীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


 

উত্তর

 

উত্তর : লক্ষ করলে দেখবোউর্দু ভাষার প্রাচীন ও আধুনিক উভয় বাকরীতিতেই সম্মানার্থে একবচনের স্থলে বহুবচনের প্রয়োগ বহু রয়েছে। দৈনন্দিনের কথ্য ভাষায়ও এর ব্যবহার সুপরিচিত। সম্মান ও আদবের উদ্দেশ্যে যমীর ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে ইসম ও সিফাতেরও বহুবচনের রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়-  

وہ  بچارے کیا کہتے ،سن کر چپ ہو رہے- وہ مجھ سے بڑے ہیںحضرت ہمارے بڑے ہیں

মুবতাদা যদি কোন সম্মানসূচক শব্দ বা যমীর হয় তবে তার খবর-ফেয়েলটি বহুবচন ব্যবহৃত হয়। যেমন উর্দূতে বলা হয়-

 رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم فرماتے ہیں- والد فرماتے تھے- ابا کہتے ہیں- آپ کے ابا اب کیسے ہیں؟ -آپ کی اما ں اب کیسی ہیں؟ مولوی صاحب ابھی تشریف نہیں لائے - آپ كب تک قیام فرمائیں گے- حضرت کب آئے؟

তবে মনে রাখতে হবে নযম ও কবিতায় সম্বোধনের জন্য সাধারণত তু এই একবচনের যমীর ব্যবহৃত হয়। এমনকি বড় ব্যক্তিত্ব ও রাজা-বাদশাদের জন্যও।[1] 

কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা যেহেতু এক অদ্বিতীয়-লাশরীক তাই তার শানে কী ধরনের সীগা ব্যবহৃত হবেন এ বিষয়ে উর্দুতে কিছু তফসীল রয়েছে। দুআর স্থলে আল্লাহ তাআলাকে খেতাব ও সম্বোধন করার জন্য সাধারণত এক বচনের সীগাই ব্যবহৃত হয়।[2]  এছাড়া সাধারণ অবস্থায় এবং বিশেষত যখন গায়েব ও মুতাকাল্লিমের সীগা ব্যবহৃত হয়তখন আল্লাহ তাআলার শানে সম্মানার্থে বহুবচনের সর্বনাম ও ক্রিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আহলে ইলম ও লেখক-সাহিত্যিকদের মাঝে রুচিগত বিভিন্নতা লক্ষ করা যায়।

কেউ কেউ তো সাধারণ উর্দু বাকরীতির কারণেই সম্মানার্থে বহুবচনের ব্যবহারকে পছন্দ করে থাকেন। যেমন উর্দুতে এভাবে বলা হয়-

اللہ تعالی یوں ارشاد فرماتے ہیں

خداے پاک ہر چیز  پر قادر ہیں

(দ্রষ্টব্য : লুগাতে রোযেমাররাহশামসুর রহমান ফারুকীআঞ্জুমানে তারাক্কী উর্দু  (হিন্দ) পৃ. ৮৩ এবং ৩০২

পক্ষান্তরে কতক আহলে ইলম ও লেখক-সাহিত্যিক আল্লাহ তাআলার শানে বহুবচনের পরিবর্তে একবচনের সর্বনাম ও ক্রিয়া ব্যবহার করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দ্রষ্টব্য : মাহের আল কাদেরী কে তাবসেরে,সংকলক : তালিব হাশেমী১/৩৮ ও ৮৭  মারকাযী মাকতাবা ইসলামী পাবলিশার্স (দিল্লী)

হযরত থানবী রাহ. এক প্রসঙ্গে এ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। সে আলোচনার সারসংক্ষেপ হলআল্লাহ তাআলার শানে একবচনের সীগাহ ব্যবহার করা আদব ও ইহতেরামের পরিপন্থী নয়কারণ উর্দূভাষাভাষীদের মাঝে এধরনের ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তেমনি বহুবচনের সীগাহ ব্যবহার করাও তাওহীদ পরিপন্থী নয়।

একবচনের সীগা ব্যবহারে তাওহীদের অর্থ বেশি ফুটে উঠে আর বহুবচনের সীগাহ ব্যবহারে মহিমা ও গৌরবের অর্থ বেশি পরিস্ফুট হয়। তবে তিনি তাঁর উস্তায মাওলানা ইয়াকূব নানুতুবী রাহ.-এর অনুকরণে আল্লাহ তাআলার শানে বহুবচনের সীগা ব্যবহারকে পছন্দ করতেন। তিনি আলোচনার শেষে বলেছেন- 

مگر پھر بھی میں کسی ایک شق کو دوسرے پر ترجیح  نہیں دیتا کیونکہ ممکن ہے کہ اپنے استادکی محبت کی وجہ سے اس شق کو پسند کر تا  ہوں

দ্রষ্টব্য : আশরাফুত তাফসীর ৩/৮৯-৯০ (বিভিন্ন আয়াত সম্পর্কে থানবী রাহ.-এর তাফসীরের সংকলন)



[1] দেখুন,দরইয়ায়ে লাতাফাত,মীর ইনশাউল্লাহ খাঁন ইনশা,পৃ.২৪০-২৪১,আঞ্জুমানে তরাক্কী উর্দু  (হিন্দ),কাওয়াদে উর্দু,ড. মওলবী আব্দুল হক,পৃ. ১৭২,২০০,২৬৩,;উর্দু সরফ ও নাহু পৃ. ৭৪,১১৮,১৩৭,১৫৩;কাওয়াদে উর্দু,ফেদা আলী খাঁন,পৃ. ১০৪,খোদা বখশ ওরেয়েন্টাল পাবলিক লাইব্রেরী,পাটনা;উর্দু সরফ,উর্দু নাহু,মোহাম্মাদ আনসারুল্লাহ পৃ. ৩২,১৩;লুগাতে রোযেমাররাহ,শামসুর রহমান ফারুকী,আঞ্জুমানে তারাক্কী উর্দু  (হিন্দ) পৃ. ৮৩,৩০২   

[2] দেখুন,কাওয়াদে উর্দু,ড. মওলবী আব্দুল হক,পৃ. ৮৭;উর্দু সরফ ও নাহু পৃ. ৫৬;উর্দু সরফ,মোহাম্মাদ আনসারুল্লাহ পৃ. ৩২ কাওয়াদে উর্দু,ফেদা আলী খাঁন,পৃ. ১৫৪,খোদা বখশ ওরিয়েন্টাল পাবলিক লাইব্রেরী,পাটনা;

 

শেয়ার লিংক

নূরুল হক বিন নূরুল ইসলাম - ওলামা বাজার,সোনাগাজী,ফেনী

প্রশ্ন

আশা করি ভাল আছেন। আর ভাল থাকাটাই কামনা করি এবং দুআ করি আল্লাহ যেন হযরতকে ভাল রাখেন,আমীন।

নিম্নের সমস্যাগুলোর সমাধান চাই। আশা করি দলিলসহ সমাধান পাবো।

(ক) ছাত্র জীবনে ছাত্রদের জন্য পত্রিকা পড়া কেমনযদি ভাল না হয় তাহলে কেন?

(খ) মাসিক আলকাউসারকে অন্যান্য পত্রিকার মত ধরা হবে কি না?

(গ) শেখ সাদী রাহ.-এর লিখিত কিতাবগুলোর গ্রহণযোগ্যতা কতটুকুযদি বলেন নাইতবে তাঁর লিখিত কিতাবগুলোর মধ্য থেকে গুলিস্তাঁ ও বোস্তাঁ কওমী পাঠ্য সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত কেনআর যদি বলেন আছে তাহলে তাঁর লিখিত বোস্তাঁ নামক কিতাবের দিবাচার ১৮ নং শেরটি সম্পর্কে আপনার মতামত কীকেননা আলকাউসার ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসের সংখ্যার প্রচলিত ভুল পাতায় বলা হয়েছে যে কোহে কাফ-এর মোরগ তো দূরের কথা কোহে কাফের কোনো অস্তিত্ব নাই।

উল্লেখ্যবোস্তাঁ নামক কিতাবের দিবাচার ১৮ নং শেরটি হল,

چناں پہن خواںکرم گسترد

کہ سیمرغ درقاف قسمت خورد

উত্তর

উত্তর : (ক) একজন তালিবে ইলমকে সবধরনের ব্যস্ততা ও প্রতিবন্ধকতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে একাগ্রতার সাথে ইলম চর্চায় নিজেকে ওয়াকফ করে দিতে হয়। এছাড়া দ্বীনের সঠিক বুঝ ও ইলমের দৃঢ়তা অর্জনের আশা করা যায় না। ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত, তেলাওয়াত এবং কিছু নাওয়াফেল ও আওরাদ আদায়ের পর দরস, মুতালাআ ও তামরীন এসব ইলমী কাজে সবসময় মশগুল থাকতে হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় ইযাফী মুতালাআও জারি রাখতে হয়।

এসব ইলমী কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন। মনোযোগ ও আত্মনিবেদনের প্রয়োজন। এরপর আবার পত্র-পত্রিকা দেখার সুযোগ হবে কীভাবে? সংবাদপত্র দেখার অভ্যাস তো তার ইলমী নিমগ্নতা ও অভিনিবেশকে বিঘ্নিত করবে। অধিকন্তু সংবাদপত্র পাঠ তালিবে ইলমের প্রয়োজনের আওতায় আসে না। এসব কারণে ছাত্রজীবনে তালিবে ইলমকে প্রচলিত সংবাদপত্র দেখতে আকাবির সবসময় নিষেধ করেছেন।

এরপর কর্মজীবনে যখন কারও পত্র-পত্রিকা দেখার প্রয়োজন হবে তখন যথাযথ উসূল ও আদব রক্ষা করেই পত্রিকা দেখা উচিত। কারণ প্রচলিত সংবাদপত্র তো শরয়ী উসূল অনুসরণ করে ছাপা হয় না এবং এতে পরিবেশিত সবকিছু প্রয়োজনের আওতায় পড়ে না।

(খ) মাসিক আলকাউসার একটি দ্বীনী এবং ইলমী পত্রিকা। এতে তালিবে ইলমদের খোরাক রয়েছে। এটা তালিবে ইলমদের জন্য ইযাফী মুতালাআর আওতায় আসতে পারে। তবে ইযাফী মুতালাআর বিষয় তালিমী মুরুব্বীর ইজাযত ও মশওয়ারার মধ্যে থাকা উচিত। আমাদের কাছে বিভিন্ন মাদরাসা থেকে এ ধরনের খবর এসেছে যে, আমরা তালিবে ইলমদেরকে সাধারণ পত্র-পত্রিকা থেকে বারণ করে থাকি। কিন্তু মাসিক আলকাউসারে তালিবে ইলমদের খোরাক রয়েছে। এটি তাদের ইলমী উন্নতির প্রতিবন্ধক নয়; সহায়তাদানকারী। আল্লাহ তাআলা তাঁদের বদ্ধমূল সুধারণা কবুল করুন এবং আমাদের তাওফীক দান করুন।

(গ) শায়খ মুসলিহুদ্দীন সাদী রাহ. (মৃত্যু ৬৯১ হি.)-এর গুলিস্তাঁ-বোস্তাঁ ফার্সি ভাষায় রচিত

 (فن الأخلاق والتصوف وأدب الدنيا و الدين ) বিষয়ের মকবূল ও নির্ভরযোগ্য কিতাব। কোনো কিতাবকে নির্ভরযোগ্য বলার অর্থ হয় কিতাবটি মৌলিকভাবে এবং সমষ্টিগত বিচারে নির্ভরযোগ্য। কোনো একটি গ্রন্থ নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হওয়ার অর্থ কখনই এই হয় না যে, ঐ গ্রন্থে কোনো ইলমী ত্রুটি নেই। "أبى الله العصمة لكتاب غير كتابه" -নীতিটি সর্বজন স্বীকৃত ও সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুতরাং কোনো কিতাবের নির্দিষ্ট কোনো বিষয় দলিলসম্মত না হওয়া স্বত্তে¡ও শুধু একারণে গ্রহণ করা যায় না যে, তা কোনো একটি নির্ভরযোগ্য কিতাবে উল্লেখ আছে।

বাকি থাকল বোস্তাঁ-কিতাবে উল্লেখিত পঙ্ক্তিতে বর্ণিত কোহেকাফ ও তার সেমোরগ-এর কথাতো এ বিষয় দুটি যে এখানে হাকীকী ও আক্ষরিক অর্থেই বলা হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কারণ,  কোহেকাফ সেমোরগ এ দুটি বস্তু ফার্সি-উর্দু ভাষায় রচিত সাহিত্যের কিতাবাদিতে প্রকৃত অর্থে নয় বরং প্রতীকী ও রূপক অর্থে ব্যবহার হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। ফার্সি-উর্দু সাহিত্যে এ দুটি কাল্পনিক বস্তু হিসেবে এবং মুবালাগা ও অতিশয়োক্তি হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। ফার্সির সেমোরগ  তো অনেকের মতেই আরবী সাহিত্যে ব্যবহৃত আনকা পাখিরই সমার্থক। পারসিক কবি আবুল কাসেম ফেরদাউসী (৪১১ হি.) রচিত ইরানী ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাহিত্যের কাব্যগ্রন্থ শাহনামা-এ ইরানে প্রচলিত যেসব রূপকথা ও গল্প-কাহিনী সন্নিবেশিত সেমোরগের গল্প সেসবের অন্যতম। ফার্সী সাহিত্যে এই কাল্পনিক কিংবদন্তীকে রূপক উপমা হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করেছেন। যেমন আল্লামা জালালুদ্দীন রূমী রহ. (৬৭২ হি.) মছনবী গ্রন্থে এবং শায়েখ ফরীদুদ্দীন আত্তার রহ. মানতেকুত তইর গ্রন্থে। দ্রষ্টব্য : ফীরুযুল লুগাত (পৃ. ৮২৯)    গীয়াছুল লুগাত: (পৃ. ২৮২) ক্লাসিকী আদব কী ফরহাঙ্গ, রশীদ হাসান খান, পৃ. ৫২০ আঞ্জুমানে তারাক্কী উর্দু (হিন্দ), উর্দু দায়েরায়ে মাআরিফে ইসলামিয়া ১১/৫৩২, ১৬/১/৪৮-৫২, ১৫/২৩৫-২৪১; বোস্তাঁ- উর্দু হাশিয়াসহ কাযী সাজ্জাদ হুসাইন, পৃ. ২; মছনবী- উর্দু তরজমা ও টীকা, কাযী সাজ্জাদ হুসাইন, ১/৩১৫

যাহোক বাস্তবিক অর্থে পৃথিবী পরিবেষ্টনকারী কোহেকাফ এবং তাতে অবস্থিত সেমোরগের কোনো অস্তিত্ব প্রমাণিত নয়। দলিলে নকলী দ্বারাও নয় দলিলে আকলী দ্বারাও নয়। প্রাচীন ইরানে এধরনের অমূলক কিংবদন্তী, প্রচলিত ছিল, কিন্তু তার বাস্তব অস্তিত্ব কখনই প্রমাণিত ছিল না। বরং তা  কেবল কল্পনা-প্রসূত এবং অতিকথন জাতীয়।

কোনো কোনো কিতাবে সূরা কাফ প্রসঙ্গে জাবালে কাফ সংক্রান্ত যেসব রেওয়ায়েত উল্লেখ আছে সেগুলো ভিত্তিহীন ও অবাস্তব, তা অনেক আগেই মুহাদ্দিসীনে কেরাম ও মুহাক্কিক আহলে ইলমগণ বলেছেন। দ্রষ্টব্য : তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে রুহুল মাআনী- আল ইসরাইলিয়্যাত ওয়াল মাওযূআত ফী কুতুবিত তাফাসীর, ড. মুহাম্মাদ আবু শাহবাহ পৃ. ২৯২-২৯৫

প্রাচীন ভুগোল ও বিশ্ব সৃষ্টিতত্তে¡র আলোচনায় কোনো কোনো কিতাবে জাবালে-কাফ-এর কথা উল্লেখ রযেছে। কিন্তু তার পক্ষে কোনো চাক্ষুস প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্য কোনো দলিল পেশ করা হয়নি। সম্ভবত প্রচলিত কিংবদন্তীই তার উৎস। আধুনিক বিজ্ঞান ও ভুগোলতত্তে¡ পৃথিবী পরিবেষ্টনকারী কোহেকাফের কোনো অস্তিত্বই যে প্রমাণিত নয়, তা আর বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নেই। দ্রষ্টব্য : উর্দু দায়েরায়ে মাআরেফে ইসলামিয়া, পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি ১৬/১/৪৮-৫২; ইসলামী বিশ্বকোষ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭/৫৭-৬০

উল্লেখ্য, কোনো কোনো কিতাবে জাবালে কাফ নামে উত্তর এশীয় পর্বতমালাকে বুঝানো হয়েছে। বিশেষত ককেশাস পর্বতমালা যা ইরান ও তুরস্ক থেকে উত্তরে কাস্পিয়ান ও কৃষ্ণসাগরের মাঝে আর্মেনিয়ার অঞ্চলে অবস্থিত। এই পর্বতের মাধ্যমে রাশিয়ার এশীয় ও ইউরোপীয় অংশ আলাদা হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার। দেখুন, জামে উর্দু ইনসাইক্লোপিডিয়া (ইন্ডিয়া) ৪/৩৭৯; উর্দু দায়েরায়ে মাআরেফে ইসলামিয়া,পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি, ১৬/১/৪৮-৫২; আলমুনজিদ (কিসমুল আলাম), আল মওসূআতুল আরাবিয়্যাহ আল আলামিয়্যাহ, ১৮/৪২৪

এই ককেশাস পর্বতমালার সাথেও জড়িয়ে আছে নানা ঘটনা,জনশ্রুতি ও রূপকথা।

এই পর্বতমালাই নাকি অলীক ও কাল্পনিক সেমোরগের আবাস- একথা কেউ কেউ বলেছেন। ফার্সি-উর্দু সাহিত্যের গল্প-কাহিনীর বইপত্রে এই ককেশাস পর্বতমালা ও সেখানে অবস্থিত কাল্পনিক সেমোরগের কথা উল্লেখ রয়েছে। এই ককেশাস অঞ্চলই নাকি গল্পের কিংবদন্তী শিরিন-ফরহাদের আবাসভূমি। দ্রষ্টব্য: প্রাগুক্ত কিতাবসমূহ এবং ক্লাসিকী আদব কী ফরহাঙ্গ, পৃ.৫৪০,৫৪১; ফাসানায়ে আজায়েব, রজব আলী বেগ সরওয়ার পৃ. ২৮০

 


শেয়ার লিংক

মোঃ মোস্তফা কামাল - জামেয়া ওসমানিয়া চাটখিল, নোয়াখালী

প্রশ্ন

মুহতারাম,আমি শরহে বেকায়া জামাতের ছাত্র। নূরুল আনওয়ারের কিছু বিষয় আমার বোধগম্য হচ্ছে না। সেগুলোকে হযরতের সমীপে পেশ করলাম। সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

১. কিতাবের মুকাদ্দিমাতেই আছে যে, সিরাতে মুস্তাকীম-এর মিসদাক তিনটি হতে পারে। (ক) শরীয়তে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খ) আক্বায়েদে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (গ) ত্বরীকে সুলূক

মনে হচ্ছে যে এ তিনটি বিষয় পরস্পর সম্পৃক্ত; এর একটি ছাড়াও সিরাতে মুসতাকীম-এর ওপর থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু কিতাবের বর্ণনামতে তিনটির যে কোনো একটিই হল সীরাতে মুসতাকীম। আসলে বিষয়টা কী?

২. অন্যত্র আছে কিতাবুল্লাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হল পাঁচশত আয়াত, আর সুন্নাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হল তিন হাজার হাদীস, এই নির্দিষ্টতা কীভাবে সম্ভব?


উত্তর

১. নূরুল আনওয়ার কিতাবের মুকাদ্দিমার আলোচ্য স্থানে প্রথমে সীরাতে মুস্তাকীমের হাকীকত ও স্বরূপ বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে-

 هو الصراط الذي يكون على الشارع العام، ويسلكه كل واحد من غير أن يكون فيه التفات إلى شعب اليمين والشمال وهو الذي يكون معتدلا بين الإفراط والتفريط.

 এরপর সীরাতে মুস্তাকীমের উক্ত হাকীকত কোথায় প্রতিফলিত হয়েছে সে কথা বলা হয়েছে এভাবে-

وهذا صادق على شريعة محمد... وعلى عقائد أهل السنة والجماعة... وعلى طريق سلوك جامع بين المحبة والعقول...

একটু খেয়াল করে পড়লে বুঝতে পারবেন উপরোক্ত ইবারতের মতলব কখনো কোনোক্রমে এমন হতে পারে না যে,উল্লেখিত তিনটি বিষয়ের মধ্যে কেবল একটিই সীরাতে মুস্তাকীমের মিসদাক। কারণ এখানে তো হরফে আতফ ব্যবহার করা হয়েছেযা পূর্বোক্ত হুকুমের ক্ষেত্রে মাতূফ ও মাতূফ আলাইহি একইসঙ্গে শরীক হওয়া বুঝায়। সুতরাং উপরোক্ত ইবারতের সহীহ মতলব এটাই যেউল্লেখিত তিনটি বিষয় একইসঙ্গে সীরাতে মুস্তাকীমের মিসদাক।

২. আহকাম সংক্রান্ত আয়াত সংখ্যা পাঁচশত- একথা ইমাম গাযালী রাহ. (মৃত্যু ৫০৫ হি.) আল-মুস্তাসফাগ্রন্থে এবং মালিকী মাযহাবের ফকীহ ইমাম আবু বকর ইবনুল আরাবী রাহ. (মৃত্যু ৫৪৩ হি.) উসূলে ফিকহ বিষয়ে রচিত আল-মাহসূল নামক কিতাবে বলেছেন। তাঁদের একথার উদ্দেশ্য আক্ষরিক অর্থে উপরোক্ত সংখ্যার মাঝে তাহদীদ ও সীমাবদ্ধকরণ নয়। এর দ্বারা সম্ভবত তাঁদের উদ্দেশ্য হল আহকাম সংক্রান্ত এমন সব সরীহ আয়াতের সংখ্যা বয়ান করাযেগুলোর ইবারাতুন নস থেকে কোনো হুকুম সুস্পষ্টভাবে বুঝে আসে। অধিকন্তু এটি হচ্ছে তাঁদের নিজ অনুসন্ধান। তাঁদের উক্ত কথার এমন ব্যাখ্যাই কোনো কোনো আহলে ইলম পেশ করেছেন। অন্যথায় ইশারাতুন নাস,দালালাতুন নাসইকতিযাউন নাস এবং দালালাতুল কালামের অন্যান্য পদ্ধতিতে যেসব আয়াত থেকে আহকাম আহরণ করা হয় এমন আয়াতের সংখ্যা উপরোক্ত সংখ্যার কয়েকগুণ। এছাড়া আহলে ফিকহ ও আহলে ইখতেসাস উলামায়ে কেরাম তো কাসাস ও আমছাল সংক্রান্ত আয়াতের ইশারা থেকেও কোনো কোনো বিধান আহরণ করে থাকেন। দ্রষ্টব্য : ইরশাদুল ফুহূলশাওকানী ২/২৯৭-২৯৮

আর আহকাম সংক্রান্ত হাদীসের সংখ্যা তিন হাজার- একথা আবু বকর ইবনুল আরাবী রাহ.আল মাহসূল-এ বলেছেন। কিন্তু তাঁর পূর্ববর্তী অনেক আইম্মায়ে হাদীস ও আইম্মায়ে ফিকহ থেকে আরো কম সংখ্যাও বর্ণিত হয়েছে। যেমনআব্দুর রহমান ইবনু মাহদী ও ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তান রাহ. থেকে বর্ণিত- আটশত। ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রাহ. থেকে বর্ণিত- নয়শত। ইমাম কাযী আবু ইউসুফ রাহ. থেকে বর্ণিত- এগারশত।

উল্লেখ্যএ সংখ্যাগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য হল আহকাম সংক্রান্ত সরীহ ও সুস্পষ্ট কওলী হাদীসের মতনের সংখ্যা। ইবনুল আরাবী রাহ. সম্ভবত কওলী ও ফেয়েলী উভয় ধরনের হাদীসকে হিসেব করে বলেছেন। আর এ সংখ্যাগুলো তাঁরা বলেছেন নিজ নিজ অনুসন্ধান ও জানাশুনার ভিত্তিতেযে কারণে তাদের সংখ্যার গণনায় তারতম্য হয়েছে। দ্রষ্টব্য: রিসালাতুল ইমাম আবী দাউদ ইলা আহলি মক্কাহ- শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর টীকাসহ ৩৫-৩৭;ইবনে মাজাহ আওর ইলমে হাদীসমাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নুমানী রাহ. ১৬৪

এখানে বিশেষভাবে মনে রাখতে হবেউপরোক্ত সংখ্যাগুলো মূলত আহকাম সংক্রান্ত সরীহ ও মারফ হাদীসের মতনের সংখ্যা। সুতরাং গায়রে সরীহ মারফু হাদীসহাদীসে মওকফ ও আছারে সাহাবা এবং একই হাদীসের বিভিন্ন সনদ ও রেওয়ায়েতকেও যদি হিসেব করা হয় তবে সেই সংখ্যা অনেকগুণ বেড়ে যাবে। একারণে হাসান ইবনু যিয়াদ রাহ. বলেছেন-

كتبت عن ابن جريح اثني عشر ألف حديث كلها يحتاج إليها الفقهاء.

(দ্রষ্টব্য: সিয়ারু আলামিন নুবালা ৯/৫৪৪)

ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু সামিয়া রাহ. বলেছেন-

إن أبا حنيفة رحمه الله ذكر نيفا وسبعين ألف حديث وانتخب الآثار من أربعين ألف حديث.

মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফাহমোল্লা আলী কারী- আছারুল হাদীসিশ শরীফ পৃ. ১৭৪

শেয়ার লিংক

ইবনে আব্দুল কুদ্দুস বাহুবলী - দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজরী, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

মুহতারাম হযরত! আমি নিম্নোক্ত প্রশ্ন দুটির উত্তর জানতে আগ্রহী। আশা করি জানাবেন।

(ক) হেদায়া ১ম খণ্ডের ৩৫নং পৃষ্ঠায় আলমাউল জারী-এর বিষয়ে ২৩ নং হাশিয়ায় যে হাউযুল হাম্মাম-এর কথা বলা হয়েছে, এর দ্বারা কি আমাদের দেশে প্রচলিত পানির ট্যাংক যা ছাদের উপর বসানো হয় তা উদ্দেশ্য?

(খ) অনেক মাসআলায় আইম্মায়ে আহনাফের মুখতালিফ ক্বওল থাকে। তন্মধ্যে একটি হয় মুফতাবিহী। এখন প্রশ্ন হল, মুফতাবিহী ক্বওল ছাড়া অন্য ক্বওলের উপর কি আমল করা যাবে না?


উত্তর

(ক) হেদায়ার হাশিয়ায় যে হাউযুল হাম্মাম-এর কথা বলা হয়েছে তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলআগের যামানার হাম্মামের হাউজ বা চৌবাচ্চা। বিস্তারিত জানার জন্য মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.-এর রিসালা খয়রুল কালাম ফী হাওযিল হাম্মাম দেখা যেতে পারে।

(খ) যে মতটি গায়রে মুফতাবিহী সেটি যদি সকল আসহাবুত তারজীহ এবং মুহাক্কিক ফকীহগণের নিকট যাল্লাত ও শায তথা ভুল ও পদস্খলনের শামিল হয়তবে তা কোনোক্রমেই আমলযোগ্য নয়।

ইমাম কাসেম ইবনে কুতলুবুগা রাহ. বলেছেন-

"إن الحكم و الفتيا بما هو مرجوح خلاف الإجماع، و إن المرجوح في مقابلات الراجح بمنـزلة العدم، والترجيح بغير مرجح في المتقابلات ممنوع، وإن من يكتفي بأن يكون فتواه أو عمله موافقا لقول أو وجه في المسألة، ويعمل بما شاء من الأقوال والوجوه من غير نظر في الترجيح فقد جهل وخرق الإجماع" انتهى.

তবে কোনো মারজূহ মত যদি যাল্লাত ও পদস্খলন পর্যায়ের না হয় তাহলে বিশেষ কিছু ওজরের অবস্থায় শর্ত সাপেক্ষে আমল করা যেতে পারে-এ কথা কেউ কেউ বলেছেন। বিস্তারিত জানার জন্য আল্লামা ইবনে আবেদীন রাহ.-এর শরহু উকদি রসমিল মুফতী এবং মুফতী তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর উসূলুল ইফতা ওয়া আদাবুহু দেখা যেতে পারে। 

শেয়ার লিংক

আব্দুর রহমান - সদর, মোমেনশাহী

প্রশ্ন

(ক) মুহতারাম, আশা করি ভালো আছেন। আমি জালালাইন জামাতে পড়ছি। আমি যখন মাদরাসার পরিবেশে থাকি তখন আমার হালাত আলহামদু লিল্লাহ অনেকাংশ ভালোই থাকে। যেমন নামাযের গুরুত্ব, মুতালাআয় মনোযোগ ও আগ্রহ, ভালো কাজে উৎসাহ এককথায় সকল কাজ-কর্ম পুরোপুরি না হলেও অনেকাংশে আলহামদু লিল্লাহ ভালোভাবেই চলে। কিন্তু সমস্যা হল মাদরাসা ছুটি হওয়ার পর যখন বাড়িতে যাই তখন এলাকা ও সমাজের প্রভাবে আস্তে আস্তে সব কিছুর মধ্যে খলল পয়দা হতে থাকে। যদিও প্রথম প্রথম কিছুদিন ভালো থাকে। কিন্তু তা বেশি দিন স্থায়ী হয় না। বরং খললের মাত্রা একসময় খুব ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে। আর সামনে সালানা পরীক্ষার পর দীর্ঘ ছুটির মধ্যে এক পেরেশানী হচ্ছে যে, এলাকার পরিবেশে ছুটির এ দীর্ঘ সময়টা কীভাবে অতিবাহিত করব। সুতরাং পূর্বে যা হয়েছে তার জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করছি। আর ভবিষ্যতে কীভাবে চললে খলল ও গোমরাহী থেকে বেঁচে থাকতে পারব সে ব্যাপারে হযরতের সুপরামর্শ কামনা করছি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে যামানার ফেতনা-ফাসাদ থেকে হেফাযত করুন ও তাঁর দ্বীনের উপর অটল থাকার তাওফীক দান করুন।

(খ) অনেককে দেখা বা তাঁর কথা শুনার পর মনে এই খেয়াল জাগে যে, তাঁকে আমার মুশীরে হায়াত বা তালীমী মুরব্বী হিসেবে গ্রহণ করব। কিন্তু যখন তাঁর থেকে খেলাফে শরা কোনো কাজ হতে দেখি তখন তাঁর প্রতি যে ভক্তি থাকে স্বভাবতই তাতে খলল পয়দা হয়। এখন হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল মুশীরে হায়াত ও তালীমী মুরব্বী কেমন হওয়া জরুরি? তাছাড়া আরেকটি বিষয় হল প্রত্যেক ফন ও জীবনের যে কোনো বিষয়ের জন্য কি একজন তালীমী মুরব্বী ও একজন মুশীরই যথেষ্ট না ভিন্ন ভিন্ন হওয়া জরুরি?

 

 

 

উত্তর

(ক) আপনার উক্ত সমস্যার সমাধানের জন্য আপনাকে বিরতিতে যাওয়ার আগে নিজ মুরব্বীর পরামর্শক্রমে বিরতির দিনগুলোর জন্য আলাদা নেযামুল আওকাত তৈরি করে নেয়া উচিত। এরপর বিরতিতে সেই নেযামুল আওকাতের পাবন্দী করা এবং বিরতির দিনগুলির দৈনিক কার্য-বিবরণী বা রিপোর্ট তেরি করে বিরতির পর মুরুব্বীর সামনে পেশ করে পরামর্শ নেয়া চাই। আর বিরতির দিনগুলির নেযামুল আওকাতের মধ্যে বিশ্রাম ও তাফরীহ, (যার জন্য অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সময় বরাদ্দ রাখতে অসুবিধা নেই) পিতামাতার খেদমত এবং অন্যান্য জরুরি কাজকর্মের পাশাপাশি এই কাজগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা। যথা : (১) তাদাব্বুর তথা চিন্তাভাবনার সাথে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা চাই। (২) নিজ এলাকায় কিছু সময় দাওয়াতের কাজের জন্য বরাদ্দ রাখা। যেমন নামাযের পর মসজিদে এবং দিন-রাতের কোনো একসময় নিজের ঘরে আযানইকামতনামায ও সুন্নতসমূহ মশক করানোকুরআন তিলাওয়াত বিশুদ্ধ করানো ইত্যাদি। (৩) সম্ভব হলে অল্প হলেও কিছু সময় রিসালা ও কিতাব মুতালাআর জন্য বরাদ্দ রাখা। তা হতে পারে সীরাত ও শামায়েলের কোনো কিতাব বা সালাফ ও আকাবিরের জীবনী কিংবা ইলমী ও ফিকরী কোনো রিসালা।

বিরতির দিনগুলোতে তালিবে ইলমের আমল-আখলাক তথা সুন্নতের ইহতেমামজামাতের সাথে নামায আদায় ইত্যাদি বিষয় তেমনি থাকা চাই যেমন মাদরাসার পরিবেশে থাকেবরং তার চেয়েও উন্নত রাখার চেষ্টা করা উচিত। একজন তালিবে ইলম তো দ্বীনের দাঈ সুতরাং তাকে আমল-আখলাকের দিক থেকে অন্যের জন্য আদর্শ হতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন দুআমুজাহাদা এবং মুহাসাবা। আল্লাহ তাআলা তাওফীক নসীব করুন।

(খ) একজন তালীমী মুরুব্বীর জন্য আমানতদারদায়িত্বশীলহিতাকাঙ্ক্ষী এবং সমঝদার ও অভিজ্ঞ হওয়া জরুরি। তালিমী মুরুব্বী তো কোনো একজন মানুষই হবেন,ফেরেশতা হবেন না। সুতরাং সামগ্রিক বিচারে শরীয়তের পাবন্দ ও আমানতদার হওয়াই যথেষ্ট। আমাদের বড় একটি দুর্বলতাভক্তি-ভালোবাসার পাত্রকে আমরা ফেরেশতার আসনে দেখতে চাই। তাই সহজেই এবং সামান্য কারণেই ভক্তি ও শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলি। যাকে শ্রদ্ধা করি আমরা ভুলে যাইতিনি মাটির মানুষ। তার গুনাহ যেমন আছে তেমনি ইস্তিগফার আছে এবং নির্জন রাতের মোনাজাত ও রোনাযারি আছে। তো আমরা যাকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করি মাটির মানুষ হিসেবেই যেন করতে পারি।

অবশ্য মনে রাখতে হবেঅধিকাংশ ক্ষেত্রে উস্তাযের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবঞ্চিত হওয়ার আসল কারণ হচ্ছে ভুল চিন্তা এবং অমূলক ধারণা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এ ধরনের ভুল ধারণা থেকে হেফাযত করুন।

আপনি জিজ্ঞাসা করেছেন মুশীরে হায়াত হিসেবে তালীমী মুরুব্বী একজন নাকি একাধিকজনকে গ্রহণ করবেনশৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে মুশীরে হায়াত ও তালীমী মুরুব্বী একজন হওয়াই বাঞ্ছনীয়। তিনিই প্রয়োজনবোধে অন্যান্য মুরুব্বীর সঙ্গে মশোয়ারা করে সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।

শেয়ার লিংক

আবু উবাইদা সাইফী - জামিয়া কুরআনিয়া,যশোর

প্রশ্ন

বাদ সালাম,মুহতারাম উস্তায! আমি শরহে বেকায়া জামাতে পড়ি। আমি যেহেতু হানাফী মাযহাবের অনুসরণ করি এবং আমাদের জামাতের ফিকহে হানাফী-এর কিতাব পড়ানো হয়,তাই আমাদের ইমাম আবু হানিফা রাহ. সম্পর্কে জানার ব্যাপারে খুব আগ্রহ জাগে এবং এ জন্য আলহামদু লিল্লাহ মুতালাআ শুরু করেছি। কিন্তু আমার জানার বিষয় হল, ইমাম আযম রাহ.-কে কেন আবু হানিফা উপাধিতে ভষিত করা হল? এবং তার কোনো কন্যা সন্তান ছিল কি? থাকলে তার নাম কী? এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট সমাধান পাচ্ছি না। দয়া করে সমাধান দিয়ে বাধিত করবেন। এবং তাঁর সম্পর্কে বলা হয় যে, ইমামকে জিজ্ঞাসা করা হল, ১জন মহিলা ৪জন স্বামী রাখতে পারে না কেন? অথচ ১জন পুরুষ ৪জন স্ত্রী রাখতে পারে। তখন তার হানিফা নাম্নী কন্যা প্রশ্নের সুন্দর উত্তর দেওয়ায় ইমামে আযমের সাথে তার নাম যুক্ত করে তাঁকে আবু হানিফা ডাকা হয়। কথাটি সঠিক কি না?

 

উত্তর

একথা সুনিশ্চিত যেইমামে আযম নুমান ইবনু ছাবিত রাহ.-এর কুনিয়াত তথা উপনাম আবু হানিফা। কিন্তু এই উপনামের কারণ কী তা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল। তাঁর সন্তানাদির মধ্যে কেবল হাম্মাদ-ই হলেন প্রসিদ্ধযিনি নিজ পিতার কাছেই ইলম অর্জন করেন। এই হাম্মাদ ছাড়া তাঁর অন্য কোনো সন্তান ছিল কি না এবং তাদের নাম ও জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না।

তবে কেউ কেউ বলেছেন যেহানীফা নামে ইমাম ছাহেব রাহ.-এর একজন কন্যা সন্তান ছিলেনসে হিসেবে তাঁর উপনাম আবু হানিফা হয়েছে। কিন্তু এ মতের পক্ষে শক্তিশালী কোনো দলীল পেশ করা হয়নি। এছাড়াও অন্যরা ভিন্ন কারণও উল্লেখ করেছেন।  (দেখুন : উকদুল জুমানমুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ সালেহী পৃ. ৪১)

তবে এগুলোর কোনো একটিকে সুনির্দিষ্টভাবে সঠিক বলা যায় না। আর আপনি প্রশ্নে এ প্রসঙ্গে যে ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন তা একটি মুনকার ও উদ্ভট কথাযা কোনো নির্ভরযোগ্য কিতাবে নেই। 

শেয়ার লিংক

নাদিম মাহমুদ - শরীয়তপুর

প্রশ্ন

হুযুর, যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক পূর্ণ আদবের সহিত জানাচ্ছি যে, ইনশাআল্লাহ আমি এই রমযানের পর শরহে বেকায়া জামাতে উন্নীত হতে যাচ্ছি। এযাবৎ যত কিতাবাদি পড়েছি শত কষ্ট করে হলেও নিজে ক্রয় করেই পড়েছি। শরহে বেকায়া জামাতের কিতাব ও তার সংশ্লিষ্ট শরাহগুলোও আমি ব্যক্তিগত কিতাব দিয়েই পড়তে ইচ্ছুক। অথচ আমার আর্থিক অবস্থা এতটাই দুর্বল যে, এতগুলো কিতাব ক্রয় করা আমার পক্ষে অসম্ভব। এ নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠায় আছি। উপরন্তু পড়া-লেখার প্রতি আমার অধীর আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু যখনই আর্থিক অবস্থার দিকে তাকাই আমার সব আগ্রহ অনাগ্রহে পরিণত হয়। পড়া-লেখা থেকে মন উঠে যায়। মাঝে মাঝে ভাবনাও আসে যে, এত কষ্ট করে পড়া-লেখা করে লাভ কী? হেলায়-খেলায় জীবন কাটিয়ে দিলেও তো অনেক ভালো। এরকম আরো অনেক ভাবনাই জেগে বসে মনে। আর আমার সবচে বড় সমস্যা হল- আমার কোনো তালীমী মুরুব্বী নেই। যাকে সব কিছু খুলে বলব। যার থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাবো। হুযুরের কাছে জানতে চাই তালীমী মুরুব্বী প্রাতিষ্ঠানিক কোনো উস্তায হওয়া জরুরি কি না? যদি জরুরি হয় তাহলে আমি কেমন উস্তাযকে তালীমী মুরুব্বী হিসেবে নির্ধারণ করব? আর যদি জরুরি না হয় তাহলে বলি- গত বৎসর থেকে আমি একজন বিজ্ঞ আলেমকে তালীমী মুরুব্বী হিসেবে পছন্দ করে আসছি। এস্তেখারা করেও তার প্রতি ইঙ্গিত পেয়েছি। তবে কেন যেন তাকে বলার সাহস পাচ্ছি না। এখন আমার দিকনির্দেশনাহীন ভয়ঙ্কর জীবনটা যেন উদ্দেশ্যহীন পথের যাত্রী। আমি পত্রোক্ত সবগুলো বিষয় নিয়ে খুব পেরেশানীতে আছি। মেহেরবানী করে সঠিক পরামর্শ দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।

 

উত্তর

ইলম ও জ্ঞান সাধনার পথে তালিবে ইলম ও আহলে ইলমদের দারিদ্র ও অভাব-অনটনের কষাঘাতে জর্জরিত হওয়ার তিক্তমধুর অভিজ্ঞতা সম্পর্কিত অধ্যায়টি বেশ বড়। এটা সবার ক্ষেত্রে না হলেও অনেকের ক্ষেত্রে তো বটে। সালাফের ইলম অন্বেষণের অতীত ইতিহাস তারই সাক্ষ্য বহন করে।

এসকল পরিস্থিতিতে করণীয় হলআল্লাহ তাআলার কাছে বেশি বেশি দুআ করা ও সাহায্য চাওয়া,সবর ও ধৈর্যের সওয়াব লাভের আশা রাখা এবং ইলমের মনযিলে মকসুদে পৌঁছানোর তীব্র বাসনা নিয়ে সকল দুঃখ-কষ্টকে তুচ্ছ জ্ঞান করে সামনে অগ্রসর হতে থাকা। আপনি এত পেরেশনা হচ্ছেন কেনতালীমী মুরুব্বী গ্রহণ করুন। আল্লাহ আপনার নুসরত করবেন। দুআ ও মুজাহাদা সকল সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। কিতাব সংগ্রহের ব্যাপারে দুআ ও রোনাযারীকে মূল অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করুন। আর সহযোগী উপায় হিসেবে খরচে মিতব্যয়িতা।

হযরত মাওলানা আমীন ছফদর ছাহেব রাহ. অত্যন্ত গরীব মানুষ ছিলেন। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত কুতুবখানা ছিল বেশ বড়। এ কুতুবখানা তৈরিতে দুআ ও রোনাযারী ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় সহায়। একবার তাঁর আদ্দুররুল মানছূর কিতাবের প্রয়োজন ছিল। রাতভর তাহাজ্জুদের নামাযে কেঁদে কেঁদে দুআ করলেন। এর মধ্যে কিছুটা তন্দ্রা এল। স্বপ্নে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যেয়ারত হয়ে গেল। ইরশাদ হলকিতাবের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। শেষে সেই কিতাবের তো ব্যবস্থা হলই পরবর্তীতে প্রয়োজন মাফিক অন্যান্য কিতাবেরও ব্যবস্থা হতে থাকল। শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ রাহ. কিতাবের জন্য নফল নামাযের মান্নত করতেন। অমুক কিতাব পেলে এত রাকাত নফল পড়ব। কিতাবও সংগ্রহ হত আর নফল নামাযের মাধ্যমে তাকাররুব ইলাল্লাহও হাসিল হত।

আপনি তালীমী মুরুব্বীর কথা জিজ্ঞাসা করেছেন। তো নিজের কোনো অভিজ্ঞ মেহেরবান উস্তাযকে তালীমী মুরুব্বী হিসেবে গ্রহণ করা উত্তম। কারণতিনি আপনার বিস্তারিত হালত সম্পর্কে জেনে পরামর্শ দিতে পারবেন।

শেয়ার লিংক

হুযাইফা কাবীর - শনিরআখড়া, ঢাকা

প্রশ্ন

মুআযযায হযরত, আল্লাহ আপনাকে সিহহাতে কামেলা ও আফিয়াত নসীব করুন। আমি মাদানী নেসাবের একজন তালিবে ইলম। আমি এখন চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়ন করছি। আমি তাফসীরুল কুরআনের উপর তাখাস্সুস করতে আগ্রহী। সুতরাং আমাকে এই ফন্নের ইবতেদায়ী কিতাব সম্পর্কে এবং তা মুতালাআর তরিকা বাতলে দিয়ে উপকৃত করবেন।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন। আমীন।

 

উত্তর

আপনি এ বিষয়ে মাদানী নেসাবের মুআসসিস মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম-এর পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - ঢাকা

প্রশ্ন

মুহতারাম, আল্লাহ তাআলা আপনার বরকতময় ছায়াকে দীর্ঘায়িত করুন। কয়েকটি বিষয় অনেক চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারিনি।

(ক) মানুষ মাত্রই ভুলের শিকার হয়। তাই যাঁর কাছে ছবক পড়েছি তিনি যদি কখনো তাকরীরে বা ইবারতে ভুল করেন সেক্ষেত্রে কী করণীয়?

(খ) ইমাম আবু হানিফা রাহ. আল্লাহকে স্বপ্নে দেখেছেন বলে শোনা যায়। কথাটা কতটুকু দলীল সম্বলিত? আর দুনিয়াতে কি কোনো মানুষ আল্লাহকে দেখার যোগ্যতা রাখে

(গ) শরহে বেকায়ার মুকাদ্দামাতে (যা মুসান্নিফ লিখেছেন) আছে

فكتبت في هذا الشرح العبارة التي تقرر عليها المتن لتغير النسخ

জানার বিষয় হল لتغير  শব্দটি কি এখানে তাফাউল-এর মাছদার নাকি তাফয়ীলের মাজহুলের ছীগা। বিভিন্ন জন থেকে বিভিন্ন রকম শুনেছি। অতএব অর্থগত দিক থেকে এবং মুসান্নিফের উদ্দেশ্য প্রকাশে কোনটি সঠিক?

আশা করি নতুন বছর শুরু হওয়ার আগেই বিষয়গুলোর সমাধান দিবেন।

 

উত্তর

(ক) দরস গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব হলদরসের কোনো বিষয়ে উস্তাযের কোনো ভুল হয়ে গেলে (যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়) আর তালিবে ইলমের এ সম্পর্কে অবগতি থাকলে দরস বা আম মজমায় তা প্রকাশ করবে নাবরং নির্জনে গিয়ে যথাযথ আদব ও বিনয়ের সাথে উস্তাযের নিকট পেশ করবে। ইস্তেফহাম ও পরামর্শ প্রার্থনার পদ্ধতিতে তাঁকে অবহিত করবে। আরেকটি আদব হল,ইস্তেফহাম পেশ করার আগে অনুমতি গ্রহণ করা এবং ইস্তেফহামের ক্ষেত্রে কখনো তর্কের ভাব প্রকাশ না পাওয়া। কেননা এটা মারাত্মক বেআদবী। এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য মাসিক আলকাউসার ফেব্রুয়ারি১৪ সংখ্যায় শিক্ষার্থীর পাতার ইলমের সাথে ইলমের আদব শেখাও অপরিহার্য শিরোনামের লেখাটি পড়তে পারেন।

(খ) এধরনের কথা কোনো কোনো কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। ইমাম আবূ হানীফা রাহ. থেকে এ কথা সহীহ সনদে প্রমাণতি কি না তা আমার জানা নেই। যদি সহীহ সনদে প্রমাণতি থাকে তবে তো সেটি খাব ও স্বপ্নমাত্র। ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নে কোনো কিছু দর্শন করা আর জাগ্রত অবস্থায় বাস্তবে কিছু দর্শন করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কারণ স্বপ্নে মানুষ যা দেখেশুনে কিংবা অনুভব করে তা মূলত সে পঞ্চেন্দ্রিয় দ্বারা করে না। হাদীসের ভাষায় যে স্বপ্নগুলো الرؤيا الصالحة    الرؤيا الصادقة(ভালো ও সত্য স্বপ্ন) সেগুলোতেও দৃষ্ট ও শ্রুত বিষয়াবলী সাধারণত স্থুল হাকীকত ও প্রকৃত বিষয় হয় নাবরং উদ্দীষ্ট বিষয়ের সূ² কোনো মিছাল ও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকেএ কারণে ভালো স্বপ্নও তাবীর ও তাবীল সাপেক্ষ।

এছাড়া আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম ছাড়া অন্যদের কোনো স্বপ্ন তো শরীয়ত ও আকলের দৃষ্টিতে হুজ্জত নয় একথা সর্বজন স্বীকৃত।

সুতরাং কেউ স্বপ্নে আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভ করে থাকলে সেটি যে প্রকৃত দর্শন নয় এবং চর্মচক্ষু দ্বারা দর্শন নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ধরনের দর্শন মূলত উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত স্বরূপ কোনো ভালো গুণ বা অবস্থার দর্শন। স্বপ্নদ্রষ্টার অবস্থাভেদে সেই উদাহরণ ও দৃষ্টান্তের বিভিন্নতা হতে পারে। অন্যথায় কুরআনুল কারীমের অকাট্য ঘোষণা হল,

لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ

(তরজমা) কোনও জিনিস নয় তার অনুরূপ। তিনিই সব কথা শোনেন ও সবকিছু দেখেন। -সূরা শূরাআয়াত ১১

আর পরীক্ষার ইহজগতে কেউ আল্লাহ তায়ালাকে দেখবে নাএকথা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-

لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ

এবং হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে

تعلموا أنه لن يرى أحد منكم ربه عز وجل حتى يموت

 (সহীহ মুসলিমহাদীস নং ২৯৩০) তবে আল্লাহর মুমিন ও নেক বান্দাগণ আখেরাতে জান্নাতে আল্লাহ তাআলার দিদার লাভে ধন্য হবেসে কথা কুরআন-হাদীস দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণীত।

(اللهم اجعلنا منهم وأسعدنا به)

 বাকী থাকল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেরাজের রজনীতে আল্লাহর দিদার লাভের ঘটনা। তো সেটা এই জড় জগতে ঘটেনিবরং উর্ধ্ব জগতে ঘটেছে। এছাড়া এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একক বৈশিষ্ট্য। এ ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্যশরহে হাদীসের কিতাব দেখা যেতে পারে।

স্বপ্নে আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনু সিদ্দিক আল গুমারী রাহ. (মৃত্যু ১৪১২ হি.) যথার্থই বলেছেন-

"يستدل بعض غلاة أهل السنة بحديث رؤيا الله في المنام على إمكان رؤيته تعالى في اليقظة، وهو خطأ، لأن الله لا يرى في المنام حقيقة، وإنما المرئي مثال يتعرف الله به إلى عبده ويريه ما يريد أن يبينه له من بشارة أو انذار، والمثال غير المثل." انتهى من كتاب "مدى حجية الرؤيا عند الأصوليين" للدكتور علي جمعة ص৫৪ نقلا عن كتاب الرؤيا في القرآن والسنة للشيخ عبد الله الغماري ص৬৭.

এ বিষয়ে আরো জানার জন্য দেখা যেতে পারেআরিযাতুল আহওয়াযী-শরহু সুনানিত তিরমিযী,ইবনুল আরাবী ১২/১১০-১১১মিরকাত শরহুল মিশকাত২/২০৯মজমূউল ফাতাওয়াশায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়া ৫/২৫১-২৫৫৩/৩৮৯-৩৯২আত তাকাশশুফহযরত থানবী পৃ ২৮৭;বাওয়াদিরুন নাওয়াদিরহযরত থানবী ৪১১-৪১৬

তাতীরুল আনাম ফি তাফসীরলি মানামআব্দুল গণী নাবলূসী

(গ) প্রশ্নোক্ত শব্দটি বাবে তাফয়ীল থেকে মাজহুলের সীগাহ হওয়াই মুনাসিব বলে মনে হয়। কারণ,এখানে উদ্দেশ্য হল মতনের লেখক মাহমূদ ইবনু সদরুশ শরীয়াহ কর্তৃক সর্বশেষ সম্পাদিত ও সংশোধিত নুসখা অনুসারে যেন অন্যরা তাদের পূর্ববর্তী নুসখাগুলোকে সংশোধন করে নেয়একথা ব্যক্ত করা। আর এই উদ্দেশ্যটি এখানে ফেয়েলের সীগাহ থেকেই সাবলীলভাবে বুঝে আসে। কিতাবে فكتبت শব্দের উপরে যে হাশিয়াটি রয়েছে তা মনোযোগ দিয়ে পড়লেও বিষয়টি বুঝতে পাড়বেন বলে আশা করি। 

শেয়ার লিংক

আখতার কামাল - চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

 

قال ابن عابدين في مقدمة رد المحتار (ص   : ৭০) [دار الكتب العلمية] ...ضما إلى ذلك ما حرره العلامة الحلبي والعلامة الطحاوي وغيرهما من محشي هذا الكتاب  ...

وفي الصفحة : ৭১ ... ثم قرأته عليه ثانيا مع حاشيته للشيخ إبراهيم الحلبي ...

আমরা সাধারণত ইবরাহীম হালাবী বলতে الحلبي الكبيريÑএর মুসান্নিফ ইবরাহীম হালাবীকে বুঝি। যার ওফাত ৯৫৬ হিজরীতে। আর আল্লামা শামী রাহ.-এর ওফাত ১২৫২ হিজরী সনে। সুতরাং ইবারতে উল্লেখিত ইবরাহীম হালাবী প্রসিদ্ধ ইবরাহীম হালাবী না হওয়াটাই স্বাভাবিক।

হুযুরের কাছে বিনীত আরয, আল্লামা শামী রাহ.-এর উল্লিখিত এই ইবরাহীম হালাবী কে? এবং এখানে উল্লিখিত তার হাশিয়াটির নাম কী?

(খ) আর একই ইবারতের পরবর্তী ব্যক্তি লেখা হয়েছে العلامة الطحاوي আমরা সাধারণত الطحاوي বলতে ফুকাহায়ে হানাফিয়্যার প্রসিদ্ধ ফকীহ ইমাম ত্বহাবীকে বুঝি। যার ওফাত ৩০৩ হিজরী সনে। সুতরাং এখানে যে প্রসিদ্ধ الطحاوي হবে না, এটা বলাই বাহুল্য।

হুযুরের কাছে আরয, এখানে উল্লেখিত العلامة الطحاوي বলতে কাকে বুঝানো হয়েছে? নাকি বিষয়টা এমন যে, এখানে আল্লামা শামী রাহ.-এর উস্তায আল্লামা أحمد بن أحمد الطحطاوي المتوفى ১২৩১ هـ  উদ্দেশ্য; যা মুদ্রণজনিত  ভুল। হুযুরের কাছে তার সমাধান পেশ করার বিনীত দরখাস্ত করছি।

(গ) ফাতাওয়া শামীতে كذا في الحلية দ্বারা কোন কিতাব উদ্দেশ্য?

 السعاية لعبد الحي اللكنوي المتوفى ১৩০৪ [سهيل اكيدمي لاهور ]

-এর ১ম খÐ ১৮৯ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে وفي حلية المحلي شرح منية المصلى এখানে শামীতে الحلية দ্বারা হাশিয়াতে উল্লেখিত কিতাবটি উদ্দেশ্য কি না? আর কিতাবটির সঠিক উচ্চারণ হুলয়া...কি না?

কাশফুয যুনূনে আছে (আমাদের মাকতাবায় সংরক্ষিত কাশফুয যুনূনটি হল, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা [১৪১৩/১৯৯২] প্রকাশিত)।

وأما شرح الإمام الشهير بابن أمير الحاج محمد بن محمد بن أحمد [محمد] الحنفي المتوفى سنة تسع وسبعين وثمان مائة أكبر حجما، رسم حرف الميم بالمشروح وحرف الشين بالشرح، وسماه حلبة المجلي وبغية المهتدي في شرح منية المصلي...

এখানে حلبة المجلي উল্লেখ আছে। আসলে এর সঠিক উচ্চারণ কী? হুযুরের কাছে তার সমাধান কামনা করছি।

(ঘ) আল্লামা শামী রাহ. ফাতাওয়া শামীতে বিভিন্ন জায়গায় খুব গুরুত্বের সাথে একজন ব্যক্তির নাম নেন। যেমন,  في رد المحتار (১/৫৩৭) [دار الكتب العلمية] وقد ذكر سيدي عبد الغني كلاما حسنا হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি তিনি কে? এবং তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উল্লেখ করার দরখাস্ত করছি।

(ঙ)منية المصلي للكاشغري المتوفى ৭০৫ هـ -এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ

 الحلبي الكبيري لإبراهيم الحلبي المتوفى ৯৫২هـ 

আমাদের মাকতাবায় সংরক্ষিত একটি নুসখায় তার নাম লেখা আছে غنية المستمليআমাদের একজন হুযুর বলেছেন এটি ভুল। শুদ্ধ হল غنية المتملي পরে আমি كشف الظنون-এ দেখি মূল মতনে غنية المتملي লেখা আছে। তার নিচে المتملي শব্দটির হাশিয়া টেনে লেখা হয়েছে [ : المستملي -৩. ৯৯৮-৬ غلط] কাশফুয যুনূনের এই সাংকেতিক চিহ্নের মর্ম কী? হুযুরের কাছে তার সমাধান পেশ করার বিনীত দরখাস্ত করছি।

আল্লাহ তাআলা হুযুরকে সর্বোত্তম জাযা দান করেন। দীর্ঘ হায়াতে তায়্যিবা দান করেন।


 

উত্তর

 

(ক) রদ্দুল মুহতার কিতাবের উপরোক্ত ইবারতে ইবরাহিম ইবনু মুহাম্মাদ আল হালাবী (মৃত্যু ৯৫৬ হি.) উদ্দেশ্য নন। বরং ইনি হলেন ইবরাহিম ইবনু মুস্তফা আলহালাবী,যিনি শাহ ওয়ালী উল্লাহ রাহ. (মৃত্যু ১১৭৬ হি.)-এর সমসাময়িক। ওফাত ১১৯০ হিজরী সনে। আদ্দুররুল মুখতার কিতাবের উপর তাঁর একটি হাশিয়া রয়েছে। হাশিয়াটির নাম تحفة الأخيار على الدر المختار  । এই হাশিয়াটির একাধিক পাণ্ডুলিপি বিভিন্ন লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত রয়েছে। সম্ভবত এটিই আদ্দুররুল মুখতার কিতাবের প্রথম হাশিয়া। এছাড়া আরবী আদবের উপর তার রচিত একাধিক কিতাব রয়েছে।

তিনি ইবনু আবিদীন রাহ.-এর দাদা উস্তাযদের একজন। ইবনু আবিদীন-এর খাস উস্তায মুহাম্মাদ শাকের আলআক্কাদ রাহ. (মৃত্যু ১২২২ হি) এই ইবরাহীম হালাবী থেকে পত্র মারফতে ইজাযত লাভ করেছেন। শায়খ আব্দুল গনী নাবুলুসী রাহ. (মৃত্যু ১১৪৩ হি.) ছিলেন এই ইবরাহীম হালাবীর তাসাওউফের শায়খ। তিনি শায়খ আবু তাহির আল কুরানী এবং শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনু সালেম আল মক্কীসহ আরো অনেকের থেকে হাদীস ও ফিকহের দরস গ্রহণ করেছেন। তাঁর জন্মস্থান শামের হলব’ হলেও পরবর্তীতে তুরস্কের কুস্তুনতুনিয়ায় অবস্থান করেছেন এবং সেখানে বিভিন্ন ইলম ও ফনের দরস দিয়েছেন। সেখানে তিনি আয়াসুফিয়া-এর জামে মসজিদে মাশইখাতুল হাদীস পদে অধিষ্ঠিত হন এবং হাদীসের দরস প্রদান করেন। তাঁর জীবনী সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য দেখুনসিলকুতদদুরার,মুহাম্মাদ খলীল মুরাদী ১/৪৬-৪৮উকুদুল লাআলি ফিল আসানিদিল আওয়ালীইবনু আবিদীন শামী পৃ. ১৪৭-১৫১ইযাহুল মাকনূন ১/২৪০আল আলামযিরিকলী ১/৭৪

(খ) আপনার ধারণাই ঠিক। উক্ত ইবারতে তাহাবী’ শব্দটি নুসখার মুদ্রণজনিত ভুল। মূলত হবে, ‘আত-তাহতাবী’ অর্থাৎ আহমদ ইবনু আহমদ আত তাহতাবী রাহ. (মৃত্যু ১২৩১ হি.) যিনি আদ্দুররুল মুখতার কিতাবের উপরে হাশিয়া লিখেছেন।

(গ) কিতাবটির সঠিক নাম তাই যা কাশফুয যুনূন কিতাবের উদ্ধৃতিতে আপনি উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ حَلْبَةُ المُجَلّي وبغية المهتدي في شرح منية المصلي وغنية المبتدي । এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য দেখতে পারেন শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ.-এর হাশিয়াযা তিনি আব্দুল হাই লখনবী রাহ.-এর কিতাব আলআজইবাতুল ফাদিলাহ লিল আসইলাতিল আশারাতিল কামিলা-এর উপর লিখেছেন। দ্রষ্টব্য : পৃ. ১৯৭-২০১

(ঘ) তিনি হলেন শায়খ আব্দুল গনী ইবনু ইসমাঈল আন নাবুলুসী আদদিমাশকী। তিনি দ্বাদশ শতকে শামের বিখ্যাত আলেমসূফীআদীব এবং মুসান্নিফ। ১০৫০ হিজরী সনে জন্ম এবং ১১৪৩ হিজরী সনে ওফাত। বিভিন্ন বিষয়ে ছোট-বড় প্রায় দুই শতাধিক কিতাব ও রিসালা তাসনিফ করেছেন।

 ذخائر المواريث في الدلالة على مواضع الأحاديث - الحديقة الندية شرح الطريقة المحمدية- ربع الإفادات في ربع العبادات -    تعطير الأنام في تعبير المنام

ইত্যাদি তাঁর প্রসিদ্ধ তাসনীফ।

তিনি ইবনু আবিদীন শামী রাহ.-এর দাদা উস্তাযদের উস্তায। যেমন ইবরাহীম ইবনু মুস্তফা হালাবী এবং মুহাম্মাদ ইবনু সালেম নাবুলুসী তাঁর শাগরিদ। আর এরা উভয়ই ইবনু আবিদীন রাহ.-এর দাদা উস্তায। তবে ইবনু আবেদীন রাহ. শায়খ আব্দুল গনী নাবুলুসী রাহ.-এর দুই নাতী শায়খ ইবরাহীম ও তার সহোদর ভাই শায়খ আব্দুল কাদের নাবুলুসী থেকে ইজাযত লাভ করেছেন। এ হিসাবে আব্দুল গনী নাবুলুসী রাহ. ইবনু আবিদীন রাহ.-এর দাদা উস্তাযগণের অন্তর্ভুক্ত। আরো বিস্তারিত জানার জন্য দেখতে পারেন সিলকুদ দুরারমুহাম্মাদ খলীল মুরাদী ৩/৩৬-৪৪তারীখু আজায়িবুল আছারআল জাবারতী ১/১৬৫ফিহরিসুল ফাহারিসআব্দুল হাই কাত্তানী ২/৭৫৬-৭৫৮তরবুল আমাছিলআব্দুল হাঈ লাখনবী পৃ . ২৮৪ আলআলামযিরিকলী ৪/৩২-৩৩উকদুল লায়ালী মাআ যায়লিহিইবনু আবিদীন পৃ. ১৪৭১৭২৫৬২

(ঙ) আপনার উস্তাযের কথাই ঠিক কিতাবটির সহীহ নাম غنية المتملي । আর غنية المستملي হল তাহরীফ ও ভুল। আপনি কাশফুয যুনূন কিতাবের যে নুসখাটিতে غنية المتملي লেখা দেখেছেন সেটি মূলত কুল্লিয়াতু ইস্তাম্বুলের শিক্ষক মুহাম্মাদ শরফুদ্দীনের তাহকীককৃত নুসখা। যা তিনি কিতাবের মুসান্নিফ হাজী খলীফা রাহ.-এর স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির সাথে মোকাবেলা করে ছেপেছেন। আর এই নুসখাটির হাশিয়ায় যে কথাটি বলা হয়েছে [ঋ : المستملي ৩. ৯৯৮-৬]- এর অর্থ হলজার্মানীর প্রাচ্যবিদ গোস্টাভ ফ্লুগেল (এটঝঞঅঠটঝ ঋখটএঊখ) কর্তৃক ১৮৩৫-১৮৫৮ সালে কাশফুয যুনূন’ ল্যাটিন অনুবাদসহ জার্মানির লিপজিক শহর থেকে ছাপা হয়েছিল। মুদ্রিত এই নুসখাটির ৩নং খণ্ডের ৯৯৮ নং পৃষ্ঠার    ৬নং লাইনে المتملي  স্থলে ছাপার অক্ষরে المستملي লেখা হয়েছে। যা ভুল ও তাহরীফ। এই নুসখাটির বিবরণ তো শায়খ মুহাম্মাদ শরফুদ্দীনের তাহকীককৃত নুসখাটির মুকাদ্দিমাতুত তাহকীকে উল্লেখ রয়েছে। 

 

শেয়ার লিংক

মুহা. আবু হানিফ - মুগদাপাড়া মাদরাসা,মুগদা,ঢাকা

প্রশ্ন

(ক) বাদ তাসলীম। আমি একজন হেদায়াতুন্নাহু জামাতের ছাত্র। বয়স বিশ বছর। নাহু-সরফ ও আরবী কিতাবাদী মোটামুটি বুঝি। ইলমে ফিকহ ও আরবী ও বাংলা সাহিত্য এবং ইংরেজি শেখার প্রতি আমার সহজাত অনুরাগ। এ বিষয়গুলো থেকে কোনটি আমার জন্য মুনাসিব এবং কীভাবে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করব?

(খ) চার ভাইবোন-এর মধ্যে আমি বড়। বাবা একজন কৃষক। তাই আর্থিক চাপ ভোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী?

(গ) গতবছর পরিবারের চাপে আলিয়ায় ৮ম শ্রেণীতে পরীক্ষা দিয়েছি। ফলাফল ভালোই হয়েছে। বর্তমানে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি করানো হয়েছে। নিয়ত করেছি আলিয়াতে আর পড়ব না। এ ব্যাপারেও আপনার পরামর্শ চাই।

(ঘ) তালীমি মুরুব্বী নির্বাচনে দ্বিধা-দ্বন্দে আছি। কখনও আমার গাফলতি আবার অনেক সময় যাকে নির্বাচন করব তার মানুষরূপপ্রকাশ পাওয়ায় এই মোবারক সম্পর্ক থেকে এখন পর্যন্ত বঞ্চিত রয়েছি। হুযুর! উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর সমাধান ও প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

(ক) (ঘ) এ প্রসঙ্গে পরামর্শ আপনার তালীমী মুরুব্বীর কাছ থেকেই নিতে হবে। তিনি যেহেতু আপনার বিস্তারিত অবস্থা জানবেন তাই তিনিই আপনাকে বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিতে পারবেন। আমানতদারমেহেরবান ও অভিজ্ঞ কোনো উস্তাযকে তালীমী মুরুব্বী হিসেবে গ্রহণ করুন এবং তাঁর পরামর্শেই মেহনত করতে থাকুন। তালীমী মুরুব্বী কোনো মানুষই হবেনফেরেশতা হবেন না। সুতরাং মানবিক ভুল-ত্রæটিকে উপেক্ষা করে এবং দ্বিধা-দ্বন্দকে ঝেড়ে ফেলে উপরোক্ত গুণাবলীর বিবেচনায় কোনো উস্তাযকে তালীমী মুরুব্বী হিসেবে গ্রহণ করুন। তিনিই আপনাকে বাতলে দিবেন যেআপনি কোন বিষয়ে কীভাবে অগ্রসর হবেন। আর আপনি আলকাউসারের শিক্ষার্থীদের পাতার প্রবন্ধ ও প্রশ্নোত্তরের সংকলন তালেবানে ইলম : পথ ও পাথেয়’ বইটিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তরসমূহ দেখে নিতে পারেন।

(খ) দুআ জারি রাখুন এবং নিয়মিত সালাতুল হাজত পড়ন। সবর ও ধৈর্যের সাথে মেহনত করতে থাকুন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফীক নসীব করেন এবং কামিয়াব করেন। আমীন।

(গ) এ সময়টা আপনার কিতাবী ইস্তেদাদ অর্জন করার সময়। সুতরাং আলিয়ায় পরীক্ষা দিতে গিয়ে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে যেন আপনার মূল পড়াশুনা ও কিতাবী ইস্তেদাদ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ বিষয়ে আপনার করণীয় কী তা আপনার তালীমী মুরুব্বীর থেকে জেনে নিন। তিনি আপনার পরিবারকে বুঝিয়ে বলতে পারবেন। 

শেয়ার লিংক

মো: শরিফুল ইসলাম - জামিল মাদরাসা, বগুড়া

প্রশ্ন

(ক) আমি জামাতে শরহে বেকায়াতে পড়ি। আমার শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আফসোস পরিতাপ আর কান্নায় কেটেছে, কাটছে এবং ভয় হচ্ছে যে সামনের দিনগুলোও এরকমই কাটবে।

আমার মাতা-পিতার বড় আশা যে, আমি বড় আলেম হব এবং আল্লাহ তাআলার খাছ ও নেকবান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হব। এবং আমারও তাই আশা ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল যে, যখনই আমি কিতাব পড়ার জন্য টুলের সামনে বসি অথবা তাকরারের জন্য এবং দরসের জন্য; মোটকথা যখনই অমি পড়ার জন্য কিতাব খুলি চাই তা দরসী হোক আর গায়রে দরসী। তখন আমার মনটা অন্যান্য দুনিয়াবী চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই অন্যান্য ফিকির থেকে আমি আমার মনকে পড়ার দিকে ফিরাতে পারি না এবং পড়তেও পারি না।

(খ) আমি শরহে বেকায়াতে পড়া সত্তে¡ও ইবারতে ইরাব দিতে পারি না এবং আরবীতে কোনো প্রবন্ধ লিখতে পারি না। আমি কুরআনের কোনো আয়াতের সুন্দর ও সহীহ-শুদ্ধ অনুবাদ করতে পারি না। তাই মাঝে মাঝে মনে হয়, পড়া-শুনা বাদ দিয়ে বাড়িতে চলে যাই এবং পিতা-মাতার খেদমত করি।

হুযুরের কাছে আমার আশা, আপনি আমাকে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়ে আনন্দিত করবেন। এবং আমার জন্য বিশেষভাবে দুআ করবেন। আল্লাহ আপনাকে হায়াতে তায়্যিবাহ নসীব করুন এবং আপনার ইলমী খেদমতকে কবুল করুন। -আমীন


উত্তর

(ক) : আপনাকে এজন্য চিন্তা-ভাবনা কমানোর পন্থা অবলম্বন করতে হবে। এর সাধারণ কৌশল হল সকল অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে দূরে থাকা এবং যথাসম্ভব নিজেকে ইলম ছাড়া অন্য কোনো ঝামেলা ও ব্যস্ততা থেকে মুক্ত রাখা। আর এর রুহানী চিকিৎসা হলঅন্তরকে আল্লাহর মহব্বতে পরপিূর্ণ করা এবং দিলের মধ্যে ইলমের মুহব্বত পয়দা করার চেষ্টা করা। দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা দূর করার জন্য মাছর কিছু দুআ অযীফা আকারে পাঠ করুন। সকাল-সন্ধ্যা নিম্নোক্ত মাছর দুআ পাঠ করুন-

 اللهم إِنيِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ والحُزْنِِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ العَجزِ وَالكَسَلِ وَأعُوذُ بِكَ مِنَ الجُبْنِ والبُخْلِ وأَعُوذُ بِكَ مِنَ غَلَبةِ الدَّيْنِ وقَهْرِ الرجَال .

একাগ্রতার পথে সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় গুনাহ। তাই গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার এবং তওবা ইস্তেগফারের পাবন্দী করার চেষ্টা করুন। জামাতের মুত্তাকী ও মেহনতী সাথীর সংশ্রব গ্রহণ করুন।

(ঘ) ঘাবড়াবেন না। আল্লাহ তাআলা আপনার যেহেন খুলে দিন। মেহনত করতে থাকুন,ইনশাআল্লাহ কামিয়াব হবেন। আপনি অবশ্যই কোনো মুশফিক ও অভিজ্ঞ উস্তাযকে নিজের মুরুব্বী হিসেবে গ্রহণ করুন এবং তাঁকে কিছু সবক শুনিয়ে নির্ধারন করে নিন আপনার দুর্বলতা ঠিক কোন জায়গায় এরপর সেই দুর্বলতা দূর করতে চেষ্টা করুন। তাহলে মেহনতটা ফলপ্রসূ হবে। 

শেয়ার লিংক

নূর মুহাম্মাদ - মাদরাসাতু বাক্কা আলইসলামিয়া মেরাজনগর, ঢাকা

প্রশ্ন

প্রথমে হুযুরের সিহহত ও আফিয়াত কামনা করছি। তারপর জানাচ্ছি, আমি এ বছরেই একটি নতুন মাদরাসায় খেদমতে নিযুক্ত হয়েছি। দরসিয়াতের ব্যস্ততা কম থাকায় সে সময়টুকু কুরআন ও উলূমুল কুরআনের মুতালাআয় কাটানোর চেষ্টা করছি। তাই আমার তালিমী মুরুব্বী আমাকে একটি কাজ দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে আপনার সাথে পরামর্শ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কাজটি হল, আমি যেন প্রাথমিক তালিবে ইলমদের জন্য উলূমুল কুরআন বিষয়ে সহজ সাবলিলভাবে কিছু লিখি। এজন্যে আমি আল ইতকান ফী উলূমিল কুরআন’, মাবাহিস ফী উলূমিল কুরআন;, তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম)-এর উলূমিল কুরআন’, আত তাফসীর ওয়াল মুফাসসিরুনকিতাবগুলো মুতালাআয় রেখে কাজ আরম্ভও করেছি। তো হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আরো কোন কোন কিতাব সামনে রেখে কোন উসলূবে কাজটি সমাধা করলে উপকারী হবে জানিয়ে বাধিত করবেন। আল্লাহ আপনাকে কবুল করুন।


উত্তর

আপনি এ বিষয়ে الطريق إلى القرآن  এবং الطريق إلى تفسير القرآن الكريم -এর মুসান্নিফ মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম-এর সাথে সাক্ষাৎ করে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলী - দারুল উলূম, হাটহাজারী

প্রশ্ন

 বাদ সালামে মাসনূন। আমি হাটহাজারী দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার হেদায়া ১ম বর্ষের একজন তালিবে ইলম। হেদায়াতুন নাহব কিতাবটি যখন পড়া শুরু করি, অর্থাৎ আরবী কিতাবাদী পড়া যখন শুরু হল তখন থেকেই কিছু সমস্যার সম্মুখিন হয়ে আসছি।

সমস্যাগুলো নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। এমন অবস্থায় আপনার লিখিত এবং মাকতাবাতুল আশরাফ, বাংলাবাজার হতে প্রকাশিত তালিবানে ইলম : পথ ও পাথেয়নামক কিতাব হাতে পাই। কিতাবে উল্লেখিত ২২৭ নং প্রশ্ন: ইবারত বুঝি আলোচনা উদ্ধার করতে পারি না”-এ বর্ণিত সমস্যাগুলোই হল আমার সমস্যা। এরপর আমি আপনার পরামর্শটি ভালোভাবে পড়ি এবং বুঝার চেষ্টা করি। কিন্তু কিছু বিষয় আমার নিকট অস্পষ্ট হওয়ার কারণে আমল করতে পারছি না। হযরতের কাছে বিনীত নিবেদন, যেন তিনি এ ব্যাপারে আমাকে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দান করেন। নিম্নে আমি বিষয়গুলো উল্লেখ করছি।

ক) পরামর্শে বলা হয়েছে, “শুধু ইবারাত সহীহ পড়তে পারা যায়Ñ এ পরিমাণ নাহবী জ্ঞান সঠিকভাবে তারকীব বুঝার জন্য যথেষ্ট নয়। এ জন্য নাহবের সঙ্গে আরো মুনাসাবাত প্রয়োজন।প্রশ্ন হল, এটি কোন্ কিতাব দিয়ে মেহনত করে অর্জন করব। দরসে নেযামীতে যে কিতাবগুলো সাধারণত পড়ানো হয় এবং আমরা পড়েছি সেগুলোর বাইরে যদি হয় তাহলে কীভাবে পড়ব? বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি।

খ) লুগাতের আরবী কিতাবসমূহের সাহায্যে লফয ও তাবীরের উদ্দিষ্ট অর্থ নির্ণয় করার অভ্যাস করারও প্রয়োজনপ্রশ্ন হল, আমি এ পর্যন্ত  যা কিতাব পড়েছি তার আলফাযের অর্থ বোঝার জন্য শুধু দুটি লোগাত ব্যবহার করেছি একটি আল-কামূসুল ওয়াহীদ (আরবী-উর্দূ) আরেকটি আল-কামূসুল ওয়াফী (আরবী-বাংলা) এ অবস্থায় আমার জন্য তাবীর এবং আলফাযের উদ্দিষ্ট অর্থ নির্ণয়ের ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা আছে কি না। আরবী লোগাতের মধ্যে সহজবোধ্য এবং নির্ভরযোগ্য কিছু লোগাতের নাম জানতে চাচ্ছি, যা সর্বদা আমরা কিতাব হল করতে কাছে রাখতে পারব এবং কিতাব হল করতে বেশি উপযোগী হবে ।

গ) আরবী আদব বা আরাবিয়্যাতের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ইবারতের ভাবার্থ বোঝার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক বিষয়।আমি এ সমস্যায় সবচেয়ে বেশি জর্জরিত। অধিকাংশ সময় দেখা যায় আমি তারকীব, লুগাবী অর্থ সব বুঝেছি কিন্তু অর্থ মিলাতে পারছি না। কিন্তু যখন উস্তায বক্তব্যের ধারা বুঝিয়ে দিচ্ছেন তখন ঠিকই বুঝতে পারছি। প্রশ্ন হল, এটার জন্য কী করতে পরি? সেখানে এসো আরবী শিখির ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ কিতাবটি একজন ছাত্র, যে আগে কখনো দরসে পড়েনি, সে কীভাবে পড়বে। মেহনতের পুরো খাকাসামনে এসে গেলে খুবই উপকার হত।

ঘ) কিতাবে উল্লেখিত ১৭৭ নং প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, “ভাল হয় যদি উসুলুত তারজামা সম্পর্কে কিছু ধারণা থাকে।এটাও আমার বড় এক সমস্যা। অনেক সময় বুঝেতে পারছি যে, এটা হাল, এটা তমীয, কিন্তু মাকাম অনুসারে তরজমা তুলতে পারছি না। এগুলোর তরজমা কতভাবে তোলা যায় তাও জানি না। হরফে জর যখন ইবারতে বেশি হয়ে যায় তখনও সমস্যা হয়ে যায়, তরজমা করতে পারি না। প্রশ্ন হল, এ ফনের কোনো কিতাব আছে কি না? না থাকলে এ ব্যাপারে ধারণা কীভাবে অর্জন করব?

উত্তর

(ক) নাহবের সঙ্গে মুনাসাবাত কম হওয়া এবং নাহবী তারকীব অসম্পূর্ণ বোঝার একাধিক কারণ রয়েছে। যথা: ১. নাহবের আমলী ইজরা তথা প্রায়োগিক জ্ঞান পর্যাপ্ত না থাকা। নাহবের কাওয়ায়েদ ও মাসায়েল কেবল তাত্তি¡কভাবে বুঝে নেয়া যথেষ্ঠ নয়। বরং শুরু থেকেই নাহবের আমলী ইজরা ও বাস্তব প্রয়োগের ব্যাপারে যত্মবান হতে হবে। এজন্য কিতাবে যখনই কোনো নাহবী কায়েদা ও মাসাইল পড়া হয় তখনই তার একাধিক মিছাল ও উদাহরণ চিন্তা ভাবনা করে খুঁজে বের করতে হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ কালামে-আরব ও কথা-বার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং কুরআন-হাদীসের ইবারত থেকে  বেশি উদাহরণ বের করার মশ্ক করবে। নাহবের প্রায়োগিক জ্ঞানকে পরিপক্ক করার জন্য উস্তাযের নেগরানীতে  নাহবী কাওয়েদ ও মাসায়েলের মৌখিক ও লিখিত অনুশীলন করা প্রয়োজন। এ জন্যআননাহবুল ওয়াযিহ’ বা আতত্বরীক ইলান নাহব’ তামরীনসহ পড়া যেতে পারে। কিতাবে যেভাবে তামরীন করতে বলা হয়েছে সেভাবে করতে থাকতে হবে যেন তা এমনভাবে আত্মস্থ হয়ে যায় যে,কিতাবের বাইরের মিছালসমূহেও তা প্রয়োগ করা যায়।

২. আরবী ইবারতের নাহবী তারকীব ও ইরাবের বিশ্লেষণ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা না থাকা। এ বিষয়ে পরিপক্ক জ্ঞান লাভের জন্য নাহবী রুচির অধিকারী উস্তাযের তত্ত্বাবধানে নাহবী তারকীবের মশক করা প্রয়োজন। এছাড়া ইরাবুল কুরআনইরাবুল হাদীসের কোনো কিতাবের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ দামাত বারাকাতুহুম রচিত আততরীক ইলাল কুরআনিল কারীমকিতাবে বয়ানুল ইরাব অংশের নাহবী তারকীবের নমুনা দেখা যেতে পারে।

৩. নাহবের তাফসীলী মাসায়েলের জ্ঞান অসম্পূর্ণ থাকা। নাহবে মীর ও হেদায়াতুন নাহব কিতাব দুটি পড়ার পর কাফিয়া কিতাবটি পাঠদানের বড় মাকসাদ হচ্ছেনাহবের বুনিয়াদী মাসায়েলসমূহ আত্মস্থ করার পর তাফসীলী মাসায়েলের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নাহবের সঙ্গে অধিক মুনাসাবাত তৈরি করা। কিন্তু আজকাল অনেক ক্ষেত্রে এ মাকসাদটি হাসিল  হয় না। এ জন্য জরুরি হলঅপ্রাসঙ্গিক ইতেরায ও জওয়াব এবং অপ্রয়োজনীয় চুল-চেরা বিশ্লেষণ পরিহার করে কিতাবের মূল মাসআলাগুলো সঠিকভাবে বোঝার উপর গুরুত্ব দেয়া। ব্যাখ্যা সাপেক্ষ বিষয়গুলো যথাযথভাবে বুঝে নেয়া এবং কাবেলে ইযাফা বিষয়সমূহ জেনে নেয়া। কাফিয়ার সংক্ষিপ্ত হাশিয়াগুলোর মধ্যে আমার মতে যীনী যাদাহ’ উপকারী হবে। তবে রফীউদ্দীন ইস্তারাবাদী কৃত শরাহটিযা শরহুর রযী’ নামে পরিচিত কাফিয়ার ফন্নী শরাহযা বিস্তারিত ও প্রামাণিক আলোচনা সমৃদ্ধ। আসাতিযায়ে কেরাম নাহবী মালুমাত বৃদ্ধি ও ফনের পরিপক্কতার জন্য শরহুর রযী এবং কাফিয়ার মূল সূত্রÑ আল মুফাসসাল ও তার শুরুহ অধ্যয়ন করতে পারেন। এছাড়া প্রচীন উৎসগ্রন্থগুলোর সারনির্যাস রূপে রচিতকুরআন-হাদীস ও কালামে আরবের প্রচীন ও সমকালীন শাওয়াহিদ ও উদাহরণ সম্বলিত এবং অনুশীলন ভিত্তিক বিশদগ্রন্থআননাহবুল ওয়াফী’ কিতাবটি বেশ উপকারী। কাফিয়া কিতাবের উস্তাযগণ এই কিতাবটি নিয়মিত মুতালাআয় রাখতে পারেন।

(খ) লফজ ও ইবারতের উদ্দিষ্ট অর্থ বোঝার জন্য যেমন লুগাতের কিতাবের সহযোগিতা নিতে হয়তেমনি বাক্যের পূর্বাপর অবস্থা খেয়াল করতে হয়। কারণ এতে এমন কিছু কারাইন’ বা আলামত ও অনুষঙ্গ পাওয়া যায় যা বাক্যস্থ শব্দের উদ্দিষ্ট অর্থ প্রমাণ করে। লুগাতের কিতাবে দেখতে হবেশব্দটি কীভাবে ব্যবহার হয়শব্দটির মূল অর্থ কীশব্দটির ব্যবহারক্ষেত্র কী এবং অনুষঙ্গ ও ক্ষেত্রভেদে তার অর্থভেদ কীভাবে ঘটে। আর এ উদ্দেশ্যে তালিবে ইলমদের জন্য জরুরি হল সরাসরি আরবী-আরবী কোনো নির্ভরযোগ্য লোগাত দেখার অভ্যাস গড়ে তোলা। ভিন্ন ভাষায় অনুদিত লোগাতের উপর নির্ভরশীল হলে আরাবিয়্যাতের যওক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে আরবী লোগাতের সাহায্যে উদ্দিষ্ট অর্থ নির্ণয় করার পর ভিন্ন ভাষায় তার সমার্থক শব্দ ও তাবীর কী তা জানার জন্য ভিন্ন ভাষায় অনূদিত কোনো নির্ভরযোগ্য অভিধান দেখা যেতে পারে। সংক্ষিপ্ত  ও সহজ আরবী লোগাতসমূহের মধ্যে আল-মুজামুল ওয়াসিত নিয়মিত মুরাজাআত করা যেতে পারে। যা সমকালীন বিজ্ঞ আরবী ভাষাবিদ দ্বারা সংকলিত। আর বিশেষ প্রয়োজনে কখনো কখনো বিশদ বিস্তারিত কোনো আরবী অভিধান দেখা যেতে পারে। যেমন লিসানুল আরবতাজুল আরুস ইত্যাদিযেগুলোতে লুগাতের উৎসগ্রন্থসমূহের এবং আইয়াম্মায়ে লুগাতের উদ্ধৃতি সংকলিত হয়েছে।

(গ) এসো আরবী শিখি’ কিতাবটি কোনো উস্তাযের কাছে তামরীনসহ পড়ুন। অর্থাৎ কিতাবে যেভাবে তামরীন করতে বলা হয়েছে সেভাবে করতে থাকুন যেন তা আত্মস্থ হয়ে যায়। এর সাথে আত-তামরীনুল কিতাবীও রাখুন।

 

(ঘ) তরজমা ও অনুবাদ শেখার জন্য এ বিষয়ে অভিজ্ঞ কোনো উস্তাযের কাছে অনুশীলন করা বেশি প্রয়োজন। শুধু কিছু তাত্তি¡ক নিয়মকানুন জেনে নেয়া যথেষ্ঠ নয়।

শেয়ার লিংক

হাবিবুল্লাহ - জামিয়া কুরআনীয়া এমদাদুল উলুম ফুলছোয়া, চাঁদপুর

প্রশ্ন

বাদ সালাম। হুযুর আমি আগামী বছর ইনশাআল্লাহ, হেদায়া ও জালালাইন পড়বো। সে হিসেবে হুযুরের পরামর্শ অনুযায়ী প্রস্তুতিমূলক মুতালাআ শুরু করেছি। যেমন, فتح القدير   ও ما ينبغي به العناية لمن يطالع الهداية  ইত্যাদি। বর্তমানে আমার দুটি বিষয় জানার ইচ্ছা।

ক) হুযুরের কিতাব তালিবানে ইলম : পথ ও পাথেয়’-হেদায়া : সহায়ক গ্রন্থ ও মুতালাআ পদ্ধতিশিরোনামের অধীনে বলা হয়েছে, “মাসায়েল ও আহকাম ছাড়াও অতিরিক্ত বেশ কিছু ইলম ও ফন এতে (হেদায়া গ্রন্থে) সন্নিবেশিত হয়েছে।সে অতিরিক্ত ইলম ও ফনগুলো কী কী তার কিছু বিবরণ জানতে চাই।

 

খ) তাতে আরও বলা হয়েছে, আর দলীল ও ইস্তেদলালের পরস্পর নকদ ও তাফসীল বুঝতে হবে উসূলে ফিকহ ও ইলমে জাদালের কাওয়ায়েদের আলোকে। বিষয়টি এক দুটি উদাহরণের মাধ্যমে সবিস্তাতের বুঝিয়ে দিলে উপকৃত হতাম।

উত্তর

(ক) হেদায়া গ্রন্থে মাসায়েল ও আহকাম ছাড়াও অতিরিক্ত বেশ কিছু ইলম ও ফন সন্নিবেশিত হয়েছে। যথা :

১. أصول الشريعة .

২. قواعد الفقه وضوابطه.

৩. قواعد أصول الفقه.

৪. علم الجدل.

৫. الأشباه والنظائر.

৬. علم الخلاف/ اختلاف العلماء.

৭. علم الأسرار.

৮. دفع تعارض الأدلة.

৯. الناسخ والمنسوخ.

১০. اختلاف الحديث.

১১. أحكام القرآن.

১২. أحاديث الأحكام وفقهها.

১৩.منهج نقد الأخبار عند الفقهاء السلف.

১৪. أسباب اختلاف الفقهاء.

 

 (খ) হেদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল কাদীর’-এ ইবনুল হুমাম রাহ. উসূলে ফিকহ ও ইলমে জাদালের কাওয়ায়েদের আলোকেই দলীল ও ইস্তেদলালের পরস্পর নকদ ও তাফসীল পেশ করেছেন। এ ধরনের স্থানে অনেক ক্ষেত্রেই তিনি উসূলে ফিকহ ও ইলমে জাদালের পরিভাষাও ব্যবহার করেছেন। সুতরাং খেয়াল করে মুতালাআ করলে আপনি নিজেই এ ধরনের অনেক উদাহরণ ফাতহুল কাদীরথেকে বের করতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কাউসার আহমাদ - মাশিকান্দা, উজিরপুর, বরিশাল

প্রশ্ন

মুহতারাম, বর্তমানে আমি ফযিলত ২য় বর্ষের একজন তালিবুল ইলম। আজ থেকে তিন বছর পূর্বে যখন আমি কুরআন তরজমা পড়া শুরু করি তখন থেকেই এই ফনটি আমার প্রিয় ফন হয়ে ওঠে। সে হিসেবে তখন থেকে নিয়ে অদ্যবধি আমি আল-কাউসারে বর্ণিত এ ব্যাপারে দিক-নির্দেশনাসমূহ পরিপূর্ণ না হলেও যথাসাধ্য মেনে চলার চেষ্টা করেছি আলহামদু লিল্লাহ। আর মানসিকভাবে আমি তখন থেকেই তাখাস্সুসের জন্য এ বিষয়টি নির্বাচন করে রেখেছি এবং আমার উস্তাযের সাথে তখন মাশওয়ারাও করেছি। কিন্তু বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত ও মর্মাহত তা হল, আমার উস্তায ও অন্যান্য দুই একজন উস্তায ছাড়া প্রায় সকলেই যখন আমার এই মনোবাঞ্ছার কথা শুনেন তখনই বিভিন্ন বাক্যবাণে আমাকে জর্জরিত করেন। যেমন, কেউ বলেন, তাফসীর নিয়ে পড়ে জায়্যিদ তবকার ছাত্ররা। কেউ বলেন, বর্তমানে যুগের চাহিদা হচ্ছে ফিকহ ও হাদীস। অনেকে তো এর স্বপক্ষে প্রমাণস্বরূপ মারকাযুদ দাওয়াহকে পেশ করে থাকেন। এমন আরো অনেক কথা, যা এই স্বল্প পরিসরে আমি বলতে অপারগ। এই প্রেক্ষিতে হুযুরের নিকট নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয়ে আমি জানতে একান্ত আগ্রহী। দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

ক) আলিম গায়রে আলিম নির্বিশেষে অধিকাংশের ফিকহ, হাদীস ও তাফসীরের ব্যাপারে উপরোক্ত মনোভাবের বাস্তবতা কতটুকু? বাস্তবেই কি বর্তমানে তাফসীরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নেই?

খ) মারকাযুদ দাওয়াহতে উলূমুত তাফসীর বিভাগ খোলার চিন্তা-ভাবনা কি মুহতারাম কর্তৃপক্ষের আছে? থাকলে তা কখন?

উত্তর

(ক) তাফসীরহাদীস ও ফিকহ এই তিনটি শাস্ত্রই জরুরি। তাই প্রতিটি শাস্ত্রেই বিশেষজ্ঞদের একটি করে জামাত থাকা অপরিহার্য। প্রাকৃতিকভাবেই মানুষের ইস্তেদাদের মধ্যে যেমন তারতম্য রয়েছে তেমনি যওক ও রুচির বিভিন্নতাও রয়েছে। সুতরাং প্রত্যেকে তার ইস্তেদাদ ও যওক অনুসারে কোনো একটি ফনের ইখতেসাস লাভের জন্য মেহনত করবে। সুতরাং এ নিয়ে তর্ক-বির্তক অবান্তর। এ প্রসঙ্গে একটি জরুরি হেদায়েত আপনি শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবূ গুদ্দাহ রাহ.-এর কিতাব আলউলামাউল উযযাব’-এ ইমাম নববী রাহ.-এর জীবনীতে পাবেন। শায়খ এ বিষয়ে ইয়াকূত হামাবী রাহ.-এর মুজামুল উদাবা’ গ্রন্থের মুকাদ্দিমা থেকে একটি ইবারত নকল করেছেনযা তিনি ইলমে আদব বিষয়ে তাসনীফের সমালোচনা কারীদের জওয়াবে বলেছেনÑ 

"وإني لجِدّ عالمٍ ببغيض يندّد ويزري عليّ، ويقبل بوجه اللائمة إلي ممن قد أشرب الجهل قلبه، واستعصى على كرم السجية لبّه، يزعم أن الإشتغال بأمر الدين أهم ونفعه في الدنيا والآخرة أعم، أما علم أن النفوس مختلفة الطبائع متلونة النزائع، ولو اشتغل الناس كلهم بنوع من العلم واحد لضاع باقيه ودرس الذي يليه، وأن الله جل وعز جعل لكل علم من يحفظ جملته وينظم جوهرته، والمرء ميسر لما خلق له  "

যেকোনো প্রয়োজনীয় ইলম ও ফনের মাহারাত ও ইখতেসাস হাসিলের উদ্দেশ্যে মেহনত করা প্রসঙ্গে ইমাম ইবনু আতিয়্যাহ রাহ. তার রচিত আল মুহাররারুল ওয়াজিয’ তাফসীর গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় বলেছেন Ñ

رأيت أن من الواجب على من احتبى وتخير من العلوم، واجتبى أن يعتمد على علم من علوم الشرع، يستنفد فيه غاية الوسع، يجوب آفاقه، ويتتبع أعماقه، ويضبط أصوله، ويحكم فصوله، ويلخص ما هو منه، أو يؤول إليه، ويعني بدفع الاعتراضات عليه، حتى يكون لأهل ذلك العلم كالحصن المشيد، والذخر العتيد، يستندون فيه إلى أقواله، ويحتذون على مثاله.

এরপরই ইবনু আতিয়্যাহ রাহ. ইলমুল কুরআনের ফযীলতও বয়ান করেছেন। আশা করি উপরোক্ত উদ্ধৃতি দুটি পড়ার পর আপনার পূর্ণ প্রশান্তি লাভ হবে ইনশাআল্লাহ।

(খ) ভাইপ্রয়োজনীয় ইলম ও ফন তো অনেক। কিন্তু প্রতিটি ফনের জন্য স্বতন্ত্র বিভাগ খোলা এক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সহজসাধ্য নয়। সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখে না যেকোনো একটি ফন প্রয়োজনীয় হওয়া সত্তে¡ও যদি কোনো কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানে ঐ ফনের পাঠদানের ব্যবস্থা না থাকে তবে তা ঐ প্রতিষ্ঠানের যিম্মাদারদের কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ হওয়া প্রমাণ করে না।

 

মারকাযুদ দাওয়াহ-এর অনেক পরিকল্পনার মধ্যে একটি পরিকল্পনা হল, ‘কিসমুত তাখাসসুস ফী উলূমিল কুরআন’ নামে স্বতন্ত্র একটি বিভাগ খোলা। আপনি দুআ করুন উপায় উপকরণের ব্যবস্থা হয়ে গেলে এই বিভাগটি খোলা হবে ইনশাআল্লাহ। 

শেয়ার লিংক

মানযুর হাসান - ছায়া বিতান, কুমিল্লা

প্রশ্ন

মুহতারাম! দীর্ঘদিন ধরে আমি একটি পেরেশানীতে ভুগছি। সেটি হল, الحديث و علومه -এর সাথে সংশ্লিষ্ট ফনের কিতাবের তাআররুফ তো আমরা الوجيز في تعريف كتب الحديث و الرسالة المستطرفة، المدخل বা এজাতীয় কিতাব থেকে জানতে পারি। এ ছাড়া এখন তো উলূমুল হাদীসের অধিকাংশ কিতাবের শেষে المصادر و المراجع থেকেও অনেক কিতাবের তাআররুফ জানা যায়। এখন আমার জানার বিষয় হল, নিচের ফনগুলোর تعرف  على الكتب -এর জন্য الرسالة المستطرفة-এর তরযে কোনো কিতাব লেখা হয়েছে কি না? (كشف الظنون বা এজাতীয় কিতাব থেকে যদিও এ বিষয়ে অনেক কিছুই জানতে পারি, কিন্তু তা তো ছড়ানো-ছিটানো।)

১. الفقه الإسلامي و أصوله))  যেমন চার মাযহাবের ফিকহ তাদবীনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, প্রতি মাযহাবের মূল মতন ও উসূলের কিতাব কয়টি এবং এগুলোর উপর কী কী কাজ হয়েছে?

২. (تفسير القرآن مع علومه) খাইরুল কুরূন থেকে এ পর্যন্ত কী কী তাফসীর  লেখা হয়েছে, কোন তাফসীরের মান কেমন, উসূলুত তাফসীরের উপর কে কে খেদমত করেছেন, তবাকাতুল মুফাসসিরীন জানার জন্য কোন কিতাব পড়ব?

৩. (نحو/صرف/لغة/بلاغة) এ চার ফনে কে কে কোন কিতাবের মাধ্যমে খেদমত করেছেন, কোনটি أصل কোনটি فرع- (بيغة الوعاة)  থেকে অনেকটাই জানতে পারি। কিন্তু একটু ভিন্ন তরযে চাচ্ছিলাম।

মুহতারাম! আশা করি বিরক্ত হবেন না। বুঝতে পারছি এতে আপনার অনেক সময় যাবে। কিন্তু এটাও সত্য এ উত্তর পেয়ে অনেকে কৃতজ্ঞ থাকবে। বেশ কিছুদিন এ বিষয়ে পেরেশানীতে ছিলাম। ভাবলাম হুযুরের কাছে লিখি, উত্তম কোনো দিক-নির্দেশনা পেয়ে যাবো।

আল্লাহ আপনার সকল স্বপ্ন বাস্তবায়ন করুন এ দুআ করি।

 

 


উত্তর

আররিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ’ কিতাবে হাদীস ও উলূমুল হাদীসের বিভিন্ন ফন ও শাখা-প্রশাখার সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট কিতাবাদীর পরিচয় সুবিন্যস্ত আকারে সন্নিবেশিত হয়েছে। সুতরাং এটি হাদীস ও ফন্নে হাদীসের উৎসগ্রন্থসমূহের বিশেষায়িতমুখতাসার এবং জামে একটি গ্রন্থপঞ্জি। উলূমুল ফিকহউলূমুল কুরআন এবং উলূমুল লুগাহ বিষয়েও এ ধরনের বিশেষায়িত গ্র্রন্থপঞ্জি প্রয়োজন। কিন্তু এ সকল বিষয়ে আমার জানামতে এ ধরনের কোনো বিশেষায়িত ও জামে গ্রন্থপঞ্জি এখনো তৈরি হয়নি। তবে কিতাবাদির পরিচিতি বিষয়ে আধুনিককালে রচিত আরবী বিবিলিওগ্রাফি বা গ্রন্থপঞ্জিসমূহের মধ্যে জার্মান প্রাচ্যবিদ কার্ল ব্রæকলম্যান রচিত তারিখুল আদাবিল আরাবি’ এবং তুর্কী আলেম ড. ফুয়াদ সিযকীন-এর তারিখুত তুরাসিল আরাবি’ থেকে ইস্তেফাদা করা যায়। এগুলোতে উলٍম ও ফুনুনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং যামানা ও ফনভিত্তিক সংশ্লিষ্ট বিষয়ের  কিতাবাদীর আলোচনা স্থান পেয়েছে। কিন্তু এ দুটিতে বেশ কিছু স্থানে ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে। ঐসব ভুলত্রæটির সংশোধনের জন্য স্বতন্ত্র কিছু কিতাব ও রিসালা রচিত হয়েছে। সুতরাং তাহকীকী ধারণার জন্য অন্যান্য নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের সাহায্য নিতে হবে। সম্প্রতি বায়রুতের দারুল বাশায়িরিল ইসলামিয়্যাহ থেকে

 خزانة العلوم في تصنيف الفنون الإسلامية ومصادرها নামে একটি মুখতাসার কিতাব ছেপেছে। এটি মূলত শায়খুল ইসলাম যাকারিয়া আনসারী (মৃত্যু ৯২৫ হি)-এর

 اللؤلؤ النظيم في روم التعلم والتعليم -এর উপর ড. নযীর আহমদের শরাহ ও হাশিয়া। এ থেকে আপনি ফন-ভিত্তিক অনেক কিতাব ও মুসান্নিফের নাম জানতে পারবেন।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুহাক্কিক আলেমদের সম্পাদিত কিতাবসমূহের শুরু বা শেষে সম্পাদক ও প্রকাশকের ভমিকা ও পরিশিষ্ট থেকেও এ বিষয়ক অনেক তথ্য লাভ করা যায়।

বিশেষ কিছু কিতাব :

ক. সংক্ষেপে সকল ফিকহী মাযহাবের ইতিহাস জানার জন্য শায়েখ আবু  যাহরাহ রাহ.-এর তারীখুল মাযাহিবিল ফিকহিয়্যাহ’ দেখা যেতে পারে। আর বিশেষভাবে ফিকহে হানাফীর ইতিহাস ও কিতাবাদীর পরিচিতির জন্যে নিম্নোক্ত কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে-

১. النافع الكبير لمن يطالع الجامع الصغير، لعبد الحي اللكهنوي.

২. فقه أهل العراق وحديثهم للكوثري

৩.المذهب الحنفي (مراحله و طبقاته، ضوابطه و مصطلحاته، خصائصه و مؤلفاته) أحمد بن محمد نصير الدين النقيب

৪. مقدمة الدكتور محمد  بوينوكالن على كتاب الأصل للإمام محمد.

৫. دراسة على الجامع الصغير، للدكتور محمد بوينوكالن.

৬. دراسة عن اللباب ومختصر القدوري، للدكتور سائد بغداش.

ফিকহে শাফিয়ীর জন্য ইমামুল হারামাইনের  নিহায়াতুল মাতলাব’-এর শুরুতে মুহাক্কিকের মুকাদ্দিমা এবং ইমাম দামীরির আন নাজমুল ওহহাজ’-এর শুরতে মুহাক্কিকের মুকাদ্দিমা দেখা  যেতে পারে।  ফিকহে হাম্বলীর জন্য

مسائل أحمد بن حنبل وإسحاق بن راهوية

(রেওয়াতুল কাউসাজ)- এর শুরুতে মুহাক্কিকের মুকাদ্দিমা দেখা যেতে পারে।

 আর সংক্ষেপে একসাথে চার মাযহাবের ফিকহের বুনিয়াদী কিতাবসমূহের পরিচয় জানার জন্যে দেখা যেতে পারে ড. ইসমাইল সালেম রচিত মুখতাসার কিতাব-

البحث الفقهي (طبيعيته، خصائصه، أصوله، مصادره) مع المصطلحات الفقهية في المذاهب الأربعة

ফিকহে মালেকীর জন্য শায়েখ আবু আছেম বাশীর আলজাযায়েরী-এর مصادر الفقه المالكي দেখা যেতে পারেযা দারু ইবনে হাযম থেকে ছেপেছে। 

খ. (تفسير القرآن مع علومه) সব বিষয়ের আলোচনা তো একই কিতাবে পাওয়া যাবে না। ইলমুত তাফসীরের ক্রমবিকাশের ইতিহাস এবং তাফসীরের বিভিন্ন কিতাব সম্পর্কে পর্যালোচনার জন্য ড. মুহাম্মাদ হুসাইন আযযাহাবীর التفسير والمفسرون দেখা যেতে পারে। হযরত ইউসুফ বিন্নুরী বাকি রাহ.-এর ইয়াতিমাতুল বয়ান’ এবং মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দা. বা.-এর উলূমুল কুরআন-এ বিভিন্ন তাফসীর সম্পর্কে পর্যালোচনা পাওয়া যাবে।

এছাড়া উলূমুল কুরআনের বুনিয়াদী কিতাবসমূহের মধ্যে বদরুদ্দীন যারকাশী রাহ.-এর البرهان في علوم القرآن এবং জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ.-এর الإتقان في علوم القرآن এই কিতাব দুটির প্রতিটি অধ্যায়ে উলূমুল কুরআনের বিভিন্ন ফন ও শাখা-প্রশাখার পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো কিতাব থাকলে তার আলোচনা স্থান পেয়েছে। সম্প্রতি

فهرست مصنفات تفسير القرآن الكريم  নামে তিন খণ্ডের কিতাব সৌদির মারকাযুদ দিরাসাতিল কুরআনিয়্যাহ থেকে ছেপেছেযা বর্ণনাক্রমে বিন্যস্ত একটি নির্ঘণ্ট।

আর তাবাকাতুল মুফাসসিরীন বিষয়ে তো এই নামেই জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ.-এর সংক্ষিপ্ত কলেবরের একটি কিতাব রয়েছে।

গ. (علوم اللغة) জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ. উলূমুল হাদীসের অনুকরণে উলূমুল লুগাহ বিষয়ে المزهر في علوم اللغة وأنواعها নামে কিতাব লিখেছেন। এতে ইলমুল লুগাহ-এর বিভিন্ন শাখা প্রশাখার পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কিতাবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং এ কিতাব থেকে আপনি ইলমুল লুগাতের অনেক কিতাব এবং আইম্মায়ে লুগাতের সংক্ষিপ্ত পরিচয় জানতে পারবেন। ড. শাওকী যায়ফ রচিত البلاغة تطور و تاريخ বালাগাতের ক্রম বিবর্তনের ইতিহাস সম্বলিত মূল্যবান গ্রন্থ। এই কিতাব থেকে আপনি আইম্মায়ে বালাগাত সম্পর্কে এবং বালাগাত বিষয়ক অনেক কিতাব সম্পর্কে জানতে পারবেন। ইমাম আবু মনসুর মুহাম্মদ আল আযহারী রাহ. (মৃ.৩৭০)তাহযীবুল লুগাহ’ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় কিতাবের মাসাদির এবং তাঁর যামানা পর্যন্ত আইম্মায়ে লুগাহ ও তাঁদের তাসনীফ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। দারু ইহইয়ায়িত তুরাসিল আরাবি বায়রুত থেকে তাহযীবুল লুগাহ-এর যে সংস্করণটি বের হয়েছে সেটির শুরুতে ড. আব্দুস সালাম হারুন এবং ড. ফাতেমা মুহাম্মদ আসলান এর মুকাদ্দিমা রয়েছে। এতে অনেকগুলো আরবী অভিধানের পরিচয় পেশ করা হয়েছে। আর মিসরের মাজাল্লাতু মুজাম্মায়িল লুগাতিল আরাবিয়া ৬০নং জিলদে আরবী অভিধান বিষয়ক একটি প্রবন্ধ রয়েছে। সেটিও দেখা যেতে পারে। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইয়াসিন হামিদ - লক্ষীপুর

প্রশ্ন

মুহতারাম, আল্লাহ তাআলা আপনার বরকতময় ছায়াকে দীর্ঘায়িত করুন। আমি মাদরাসা দারুর রাশাদের ২য় বর্ষের একজন তালিবুল ইলম।

একটি বিষয় ভালোভাবে বুঝার চেষ্টা করছি।

* উসূলুশ্ শাশী কিতাবের মুসান্নিফ ইমামে আযমের নামের পর রাহ. না বলে রা. বললেন কেন?

* ‘রাযিআল্লাহু আনহুকি সাহাবাদের জন্য নির্দিষ্ট?

* যদি সাহাবাদের জন্য নির্দিষ্ট হয় তাহলে সমাধান কী?

হযরত যদি আমাকে এই বিষয়ে সমাধান দিতেন তাহলে আমি ভীষণ উপকৃত হতাম। আল্লাহ তাআলা আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন। আমীন।

 

উত্তর

 كلمة الترضي সাধারণত সাহাবীদের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং كلمة الترحم ব্যবহার করা হয় আল্লাহ তাআলার অন্যান্য নেক বান্দা ও আহলে ইলমদের জন্য। কিন্তু শব্দ দুটি কোনো একটির জন্য খাস নয়। উভয়টি দুআর শব্দ। তাই كلمة الترضي সাহাবী ছাড়া অন্যদের জন্যও ব্যবহার হয়ে থাকে। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আব্দুল আযীয - হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

হযুর! আশা করি ভালো আছেন, আল্লাহ আপনার হায়াতে বরকত দান করুন।

আমি এ বছর দাওরায়ে হাদীস পড়ি। হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে একটি চিহ্ন দেখতে পাই যা অন্য কিতাবেও মাঝে মাঝে দেখা যায়। তা হল ( نــ   ) চিহ্ন । এখন আমার জানার বিষয় হল,

(ক) এই চিহ্ন দিয়ে যেই টীকা লেখা হয় তা কার লেখা, কিতাবের মূল হাশিয়া যিনি লিখেছেন তাঁর লেখা না অন্য কারো?

(খ) এ চিহ্ন দ্বারা কি নুসখাউদ্দেশ্য না অন্য কিছু?

(গ) মূল ইবারতে যা আছে তা অধিক শুদ্ধ নাকি টীকায় যা আছে তা অধিক শুদ্ধ? কোনো কোনো কিতাবে তো উভয়টির মাঝে অধিক তফাত দেখা যায়। যেমন কোথাও মূল ইবারতে আছে এক বচন আর টীকায় বহুবচন। আবার কোথাও ইবারতে আছে মুযাককার আর টীকায় আছে মুআন্নাছ। কোনো কোনো জায়গায় শব্দেরও পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন, বুখারী শরীফ ২য় খণ্ড পৃ. ৬৫৭-এ মূল ইবারতে আছে- فجلس يمسح النوم  আর টীকায় আছে  فجعل

(ঘ) আমরা হাদীস পড়তে, লিখতে বা মুখস্থ করতে কোনটার দিকে লক্ষ্য রাখবো?

(ঙ) এ টীকা যিনি লিখেছেন তা নিজের থেকে সংশোধন করেছেন নাকি অন্য কোনো নুসখা থেকে? জানালে খুবই উপকৃত হব।

(চ) আবু দাউদ শরীফের হাশিয়া কে লিখেছেন? তিনি কোন মাযহাবের ছিলেন? তার সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।


 


উত্তর

(ক-খ) সহীহ বুখারীর যে নুসখাটি হিন্দুস্তানে প্রচলিত তা মাওলানা আহমদ আলী সাহারানপুরী রাহ. (১২৯৭ হি.) কর্তৃক তাসহীহকৃতযিনি কিতাবের উপর হাশিয়াও লিখেছেন। এর মতন ও হাশিয়ায় (نــ) চিহ্ন রয়েছে সেটি نسخة শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলচিহ্নিত শব্দের ক্ষেত্রে নুসখার ইখতেলাফ ও বিভিন্নতা নির্দেশ করা।

(গ-ঘ) নুসখার ইখতিলাফের ক্ষেত্রে কোনটি বেশি সহীহ ও অগ্রগণ্য তা সংশ্লিষ্ট উসূলের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। যেমনযেটি অধিকাংশ নুসখায় থাকে বা অধিক মুতকান ও নির্ভরযোগ্য নুসখায় থাকবে সেটি অগ্রগণ্য হবে। কিংবা যেটি আরাবিয়্যাতের বিচারে সহীহ বা অধিক ফসীহ সেটি বেশি অগ্রগণ্য। কিংবা যে শব্দটিকে গ্রহণ করলে সিয়াক ও সিবাকের বিবেচনায় মতনের অর্থ সঠিক থাকে সেটি অগ্রগণ্য। যা হোক এ ধরনের ক্ষেত্রে শুরুহাতের শরণাপন্ন হতে হয়। এক্ষেত্রে ফাতহুল বারী,উমদাতুল কারী এবং ইরশাদুসসারী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

(ঙ) আহমদ আলী সাহারানপুরী রাহ. সহীহ বুখারীর নুসখা তাসহীহ করার সময় দশটি নুসখাকে সামনে রেখেছেন। একথা তিনি নিজে কিতাবের এক জায়গায় নুসখার ইখতেলাফ বয়ান করার প্রসঙ্গে বায়নাস সুতুরে (দুই লাইনের মাঝখানে) উল্লেখ করেছেন। দেখুন ১ম জিলদ পৃ. ১৭-এর সাত ও আট নম্বর লাইনের মাঝখানে। এছাড়াও তিনি কিতাবের শুরুহাতকে সামনে রেখেছেন। বিশেষত পূর্বোক্ত তিনটি শরহকে। তিনি কিতাবের শুরুতে তার মুকাদ্দিমার চতুর্থ ফছলে নুসখার ইখতেলাফ বর্ণনার জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য রুমুয ও চিহ্নসমূহেরও উদ্দিষ্ট অর্থ বয়ান করেছেন।

(চ) আমাদের দেশে মাদরাসাগুলোতে সুনানে আবু দাউদের যে দুটি নুসখা প্রচলিত তার একটি মাওলানা ফখরুল হাসান গাঙ্গুহী রাহ.-এর التعليق المحمود নামক হাশিয়া সম্বলিত। এ নামটি নুসখার শুরুতে ও প্রত্যেক পৃষ্ঠার হাশিয়ার শেষে উল্লেখ রয়েছে।

আর অপর নুসখাটি হল মুহাম্মাদ হায়াতসাম্বলী রাহ.-এর হাশিয়া সম্বলিত। তার এই নাম কিতাবের সর্বশেষ হাশিয়ার শেষে উল্লেখ রয়েছে। তিনি মাওলানা খলীল আহমদ সাহারানপুরী রাহ. এবং মাওলানা ইয়াহইয়া কান্দলবী রাহ.-এর শাগরেদতার জীবনী জানার জন্য দেখুনআশেক ইলাহী রাহ.-এর العناقيد الغالية من الأسانيد العالية পৃ. ৬৬। আর মাওলানা ফখরুল হাসান রাহ. হলেন শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান রাহ.-এর সহপাঠী এবং নানুতুবী ও গাঙ্গুহী রাহ.-এর শাগরেদ। তাঁর ওফাত ১৮৯৮ হিজরী সনে। তাঁর জীবনী জানার জন্য দ্রষ্টব্য : নুযহাতুল খাওয়াতির ৮/২৫৪আলইমাম ইবনু মাযাহ ওয়া কিতাবুহুস সুনানমাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নুমানী রাহ. পৃ. ২৮০

শেয়ার লিংক

ইবনে আবু বকর - ভবানীপুর মাদরাসা, গোপালগঞ্জ

প্রশ্ন

সালামে মাসনূন বাদ হযরতওয়ালা দামাত বারাকতুহুম-এর কাছে জানতে আগ্রহী, إن  বা أن  তথা  الحرف المشبه بالفعل -এর  اسم থাকা জরুরি। অথচ হিদায়া কিতাবের অনেক স্থানে বিশেষ করে দ্বিতীয় খণ্ডের ৩৪৭ পৃষ্ঠায় ব্যবহৃত হয়েছে,

ولنا أن مع التباين حقيقة وحكما لا ينتطم ... الخ

তদ্রƒ হাদীসের মধ্যেও এসেছে,

 فإن بالمعصية حل سخط الله ফলে ব্যাপারে কোনো নাহবী কিতাবের উদ্ধৃতিতে সমাধান দিতে হুযুরের সুমর্জি কামনা করছি।

() বায়যাবী শরীফে وبالآخرة هم يوقنون আয়াতের ব্যাখ্যায়  উল্লেখ হয়েছে,

 لا يوصف باليقين علم الباري تعالى ولا العلوم الضرورية  অথচ نخبة الفكر  গ্রন্থের ১০ নং পৃষ্ঠায় হযরত মুসান্নেফ রাহ. উল্লেখ করেছেন,

 المتواتر وهو المفيد للعلم اليقيني আর এখানে উদ্দেশ্য علم ضروري তাহলে এর সমন্বয় কীভাবে? আল্লাহ তাআলা আপনাকে সিহ্হাত কামিয়াবী দান করুন।


 

উত্তর

হাদীস থেকে এবং হিদায়া কিতাব থেকে যে উদাহরণ দুটি উল্লেখ করেছেন তাতে ইন্না’-এর ইসমটি মাহযুফ বা উহ্য রয়েছে, যা মূলত একটি যমীরে শান। নাহবের কিতাবে এধরনের আরো শাওয়াহেদ উল্লেখ রয়েছে। যেমন, إن بك زيد مأخوذ এবং إن في الدار يجلس أخوك (দ্রষ্টব্য শরহুর রযী আলাল কাফিয়া /৩৬১-৩৬২; খিযানাতুল আদব, আব্দুল কাদের বাগদাদী ১০/৪৪৪-৪৪৫)

() ইয়াকীনশব্দটি দ্বিধা সন্দেহমুক্ত ইলমে ইস্তেদলালীর জন্য খাস নাকি স্বতঃসিদ্ধ ইলমে ইজতেরারীর জন্যও প্রয়োগ করা হবে- ব্যাপারে ফালসাফা ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের মাঝে ইখতেলাফ রয়েছে। কারো কারো মত হল, ইয়াকীন শব্দটি ইলমে ইস্তেদলালীর জন্য খাস। বায়যাবী রাহ. এখানে এই মতটিকেই গ্রহণ করেছেন। অন্যথায় অধিকাংশের মত হল, ‘ইয়াকীনশব্দটি যে কোনো সন্দেহাতীত ইলম বিশ্বাসের জন্য প্রয়োগ করা যাবে। এতে ইলমে ইস্তেদলালী ইলমে ইজতেরারীর মাঝে কোনো ফারাক নেই। নুখবাতুল ফিকার কিতাবে অধিকাংশের এই মতটিকে গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রষ্টব্য : হাশিয়াতুত শিহাব আলাল বায়যাবী /২৩৯; হাশিয়া মুহিউদ্দীন শায়েখ যাদাহ /২০২

যাহোক উপরোক্ত ইখতেলাফ আমার জানামতে কেবল ইলমুল কালাম ফালসাফার ইস্তেলাহের ইখতেলাফ। অন্যথায় আরবী ভাষায় মূলত যে কোনো সন্দেহাতীত ইলম বিশ্বাসের জন্য ইয়াকীন শব্দটি প্রয়োগ হয়। আরবী ভাষার নির্ভরযোগ্য বিশদ অভিধানসমূহ দেখলে একথাই বুঝে আসে। তবে একথা ঠিক যে, আল্লাহ তাআলার সিফাতে ইলমের জন্য ইয়াকীন শব্দটি ব্যবহার হয় না। কারণ, আল্লাহ তাআলার ইলম তো ইলমে যাতী। অথচ ইয়াকীন শব্দটি ইলমে কাসবীর জন্য নির্দিষ্ট।

শেয়ার লিংক

রহমতুল্লাহ - ভবানীপুর মাদরাসা, গোপালগঞ্জ

প্রশ্ন

হুযুর,  আমি মেশকাত জামাতের একজন তালিবুল ইলম। দুআ চাই যেন আল্লাহ হাক্বীকী তালিবুল ইলম হিসেবে কবুল করেন। হুযুর, আমি আপনার কাছে জানতে আগ্রহী যে, ‘ইসমুল মাওসূল’-এর সিলা’-এর মধ্যে একটি عائد إلى الموصول  থাকা জরুরি। আর ইসমুল মাওসুলটা গায়েবহওয়ার সুবাদে আয়েদটাও গায়েব হওয়া উচিত। তাছাড়া আদীব ছাহেব হুযুর দামাত বারাকাতুহুমের এসো কুরআন শিখি প্রথম খণ্ডের কোথাও পড়েছি আয়েদটা সর্বদা গায়েব-এর যমীর হবে। অথচ নুফহাতুল আরব কিতাবে একটি ইবারত হল- أنت الغريب الذي تبكى عليه তদ্রূপ মিশকাত শরীফের ২০ নং হাদীসের মধ্যে এসেছে-وأنا الأحد الصمد الذي لم ألد ولم أولد ফলে জাতীয় ব্যবহার কোনো নাহবী কিতাবের উদ্ধৃতিতে জানানোর জন্য একান্তভাবে অনুরোধ করছি।


উত্তর

ইসমে মওসুলের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য সিলাহ’-এর মধ্যে এমন কোনো যমীর থাকতে হয় যার মারযে হবে ইসমে মওসূল। ক্ষেত্রে যমীরটি গায়েবের যমীর হয়ে থাকে। এটিই সাধারণ নিয়ম। কিন্তু কোথাও কোথাও এর ব্যতিক্রমও ঘটে থাকে। যেমন, ইসমে মওসুলটি যদি তারকীবে খবর হয় বা খবরের সিফাত হয় এবং খবরের মুবতাদাটি হয় যমীরে হাযের। ধরনের ক্ষেত্রে যমীরে আয়েদটি ইসমে মওসুলের বিবেচনায় যেমন যমীরে গায়েব হতে পারে তেমনি মুবতাদা-যমীরের বিবেচনায় যমীরে মুতাকাল্লিম বা যমীরে হাযের হতে পারে। এই দ্বিতীয় সুরতে যমীরে আয়েদের মারজে ইসমে মওসুল নয়; বরং বাক্যের শুরুতে অবস্থিত যমীরে মুতাকাল্লিম বা যমীরে হাযের, যা তরকীবে মুবতাদা হয়েছে। যেমন, أنا الذي حضرتُ  বা أنا الذي حضر বা  أنت الذي برعت في الفن  বা  أنت الذي برع في الفن বা أنا الرجل الذي   عاونت الضعيف  বা  أنا الرجل الذي عاون الضعيف

উল্লেখ্য, আলোচ্য ক্ষেত্রগুলোতে যমীরে আয়েদকে মুবতাদার যমীরের সাথে মিলিয়ে যমীরে মুতাকাল্লিম বা যমীরে হাযের ব্যবহার করাই অগ্রগণ্য। কারণ এতে উদ্দিষ্ট অর্থ অধিকতর সুস্পষ্ট হয়।(وزيادة الإيضاح غرض لغوي هام، لا يعدل عنه إلا لداع آخر أهم)

দ্রষ্টব্য : আন-নাহবুল ওয়াফী /৩৮০-৩৮৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাসীব আশরাফ - পিরোজপুর

প্রশ্ন

 

আমি একজন শরহে বেকায়ার তালিবুল ইলম। আপনার কাছে কয়েকটি বিষয় জানতে চাই।

১. আমাকে এমন কিছু আরবী আদব সংক্রান্ত কিতাবের নাম বলে দিবেন যা আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য মুফীদ হবে এবং সাথে সাথে তা মুতালাআ করার তরীকাও বলে দিবেন মেহেরবানী করে।  

২. মুতালাআর মৌলিক উসূল কয়টি ও কী কী?

৩. তরজমাতুল কুরআনিল কারীমের ক্ষেত্রে কয়টি জিনিসের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে?


 

উত্তর

 

(ক) আদবের যেসব কিতাব নেসাবের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেসবের মুতালাআর পদ্ধতি সম্পর্কে একাধিকবার আলকাউসারের শিক্ষার্থীদের পাতায় লেখা হয়েছে এবং এ বিষয়ের কিছু কথা তালিবানে ইলম : পথ ও পাথেয়নামক বইটিতেও এসেছে। এছাড়া আরবী আদবের মৌলিক উৎসগ্রন্থ সম্পর্কে জানার জন্য ওয়াযেহ রশীদ নদভী-এর مصادر الأدب العربي   নামক রিসালাটি দেখতে পারেন। আর বর্তমানে ইযাফী মুতালাআর জন্য নিজ উস্তাযের পরামর্শে শায়েখ আলী তানতাবী রাহ.-এর কিছু আদবী ও দাওয়াতী রিসালা মুতালাআ করতে পারেন। আর আলকাউসারের (রবিউল আউয়াল-রবিউস সানি/ জানুয়ারি ২০১৬) সংখ্যায় আরবী সাহিত্যচর্চা সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে। সেখান থেকেও আপনার উস্তাযের পরামর্শে কোনো কিতাব নির্বাচন করা যেতে পারে।

(খ) মুতলাআর অনেক প্রকার ও ধরন রয়েছে। এক. দরসী মুতালাআ দুই. দরসী কিতাবের প্রয়োজনে উস্তায দরসে যেসব কিতাব মুতালাআর জন্য বলেন সেসবের মুতালাআ। তিন. ইযাফী মুতালাআ। এরপর রয়েছে দায়েমী মুতালাআ ও মওসুমী মুতালাআ এবং যেসব বিষয় দরসের অন্তর্ভুক্ত নয় অথচ তা প্রয়োজনীয় সেসবের মুতালাআ ইত্যাদি। সুতরাং কোন্ ধরনের মুতালাআ সম্পর্কে আপনার প্রশ্ন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানালে সে সম্পর্কে আলোচনা করা যাবে। আর মুতালাআ বিষয়ে কিছু জরুরি বিষয় আলকাউসারের পেছনের একাধিক  সংখ্যায় লেখা হয়েছে সেসব লেখাও তালাশ করে পড়তে পারেন।

() তরজমাতুল কুরআনিল কারীমের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হয়েÑ

. بيان اللغة শব্দ বিশ্লেষণ। এর জন্য লুগাতুল কুরআনের কিতাব দেখতে হবে। যেমন রাগেব আসফাহানীর المفردات في غريب القرآن এবং উর্দু ভাষায় মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নুমানী রাহ.-এর لغات القرآن

. بيان الإعراب-এর জন্য দেখতে হবে إعراب القرآن বিষয়ক কিতাবাদি।

. ترجمة معاني القرآن বিষয়ক আরবী বা ভিন্ন ভাষায় যেসব কিতাব রয়েছে সেসবের কোনোটা মুতালাআ করা। যেমন আরবী কিতাবগুলোর মধ্যে صفوة التفاسير দেখতে পারেন এবং বাংলাভাষায় রচিত মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দা. বা.-এর الطريق إلى القرآن الكريم থেকে ইস্তেফাদা করতে পারেন। . আকাবির উলামায়ে কেরাম কর্তৃক রচিত কুরআনে কারীমের কোনো নির্ভরযোগ্য অনুবাদ মুতালাআ করা। যেমন তরজমাতু শায়খিল হিন্দ, বয়ানুল কুরআন এবং বাংলা ভাষায় ইমদাদিয়া লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত কুরআনের বঙ্গানুবাদ

 

শেয়ার লিংক

মুহা. আবু বকর সিদ্দীক - জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা

প্রশ্ন

নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে হযরতের দিকনির্দেশনা কামনা করছি।

১. আরবী কামূসগুলোর মধ্যে আমি সাধারণত আলমুজামুল ওয়াসীত, আলমুনজিদ ও আররায়েদ ব্যবহার করে থাকি। এছাড়াও আমাদের মাকতাবা কিংবা ছাত্রভাইদের কাছে

 الصحاح للجوهري  (৩৯৩)، لسان العرب لابن منظور (৭১১)، تاج العروس للزبيدي (১২০৫)، مختار الصحاح لمحمد بن أبي بكر الرازي (৬৬৬)، القاموس المحيط للفيروزآبادي (৮১৭)، مقاييس اللغة لابن فارس (৩৯৫)

Ñইত্যাদি অভিধান রয়েছে। সেগুলোও মাঝে মাঝে দেখা হয়। এগুলোর মধ্যে ব্যবহারের জন্য কোন্ অভিধানটা সব সময় কাছে রাখতে পারি?

. এগুলোর ضبط بالحركات -এর উপর কতটুকু নির্ভর করা যায়? ضبط بالحركات কি মুসান্নিফদের পক্ষ থেকে দেয়া, নাকি মুহাক্কিক-প্রকাশকের পক্ষ থেকে দেওয়া?

৩. ক্বামূসগুলোর মধ্যে কোন্ ক্বামূসটি সার্বিক বিচারে جامع متقن 

. লিসানুল আরবের দুটি নোসখা আমাদের মাকতাবায় আছে। একটার মধ্যে বাব শুরু করা হয়েছে মাদ্দা-এর শেষ অক্ষর দিয়ে আরেকটির মধ্যে মাদ্দা-এর প্রথম অক্ষর দিয়ে। এই পার্থক্যের কারণ কী?

.  تهذيب اللغة للأزهري (৩৭০) كتاب العين للخليل (১৭০) جمهرة اللغة لابن دريد (৩২১)

Ñলোগাতগুলো বর্তমানে ছাপা হয়েছে কি না?

আল্লাহ তাআলা হযরতকে সালামত আফিয়াতের সাথে দ্বীন এবং ইলমের খেদমত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।


উত্তর

() নিয়মিত দেখার জন্য সাধারণ অভিধানগুলোর মধ্যে আধুনিককালে রচিত সহজ সংক্ষিপ্ত অভিধান আলমুজামুল ওয়াসীত এবং আগের অভিধানগুলোর মধ্যে আল্লামা মাজদুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াকুব ফিরোযাবাদী রাহ. (৮১৭ হি.)-এর আলক্বামুসুল মুহীতকাছে রাখা যেতে পারে। আর কুরআনে কারীমের আলফাযের জন্য রাগেব আসফাহানী (৪২৫ হি.) রাহ.-এর المفردات في غريب القرآن হাদীসের আলফাযের জন্য ইবনুল আছীর রাহ.-এর النهاية في غريب الحديث والأثر ফিকহের আলফাযের জন্য নাসির ইবনু আব্দিস সায়্যেদ আল মুতাররিযী (৬১০ হি.) রাহ.-এর المغرب في ترتيب المعرب এবং আহমদ ইবনু মুহাম্মাদ ফাইয়ুমী (৭৭০ হি.)-এর المصباح المنير في غريب الشرح الكبير দেখতে পারেন। আর অতিরিক্ত তাহকীক তাফসীলের জন্য প্রয়োজনের মুহূর্তে লুগাতের অন্যান্য উৎসগ্রন্থগুলোর শরণাপন্ন হতে হবে।

() আগের যামানায় রচিত সংকলিত কোনো আরবী কিতাবের পাণ্ডুলিপি বর্তমান যামানায় যখন সম্পাদনার প্রকাশনার আধুনিক রীতি অনুসারে ছাপা হয় তখন তার ইবারতে যে ইরাব হরকত লাগানো তা সাধারণত মুহাক্কিক প্রকাশকের পক্ষ থেকেই লাগানো হয়। তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে কখনো কখনো মুসান্নিফ, লিপিকর বা অন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকেও ইবারতের কিছু কিছু ইরাব হরকত লাগানো থাকে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, যবতুন নুসূস-এর ক্ষেত্রে আসল কর্তব্য হল, নাহবী, ছরফী লুগাবী উসুল কাওয়ায়েদ অনুসরণ করা, মুহাক্কিক মুতকিন আহলে ইলম মাশায়েখদের রেওয়ায়াত এবং তালাফফুয উচ্চারণ অনুসরণ করা এবং যব্ত বিষয়ক লুগাবী অন্যান্য কিতাবের মুরাজাআত করা। যাহোক, আধুনিককালে মুদ্রিত কোনো কিতাবের ইবারতের ইরাব হরকতের বিশুদ্ধতা নির্ভর করে মুহাক্কিকের উপর। মুহাক্কিক যদি বিষয়ে মুতকিন দক্ষ হয়ে থাকেন তবে তার তাকলীদ করা যেতে পারে। তবে আসল করণীয় সেটাই, যা একটু আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

() নির্ভরযোগ্য আরবী অভিধান একাধিক রয়েছে। বিভিন্ন মাকসাদে বিভিন্ন আঙ্গিকে এসব অভিধান রচিত হয়েছে। এগুলোর একেকটার একেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন

. মুতাকাদ্দিমীন আইম্মায়ে লুগাত কর্তৃক রচিত লুগাতের মৌলিক উৎসগ্রন্থসমূহের সারনির্যাসরূপে সংকলিত معاجم الألفاط (শব্দের মাদ্দা ভিত্তিক শব্দকোষ) সমূহের মধ্যে লিসানুল আরব এবং تاج العروس من جواهر القاموس সর্বাধিক জামে সমৃদ্ধ। দুটির মধ্যে তাজুল আরূসেরএকটি বৈশিষ্ট্য হল, এতে বহুসংখ্যক ব্যক্তি স্থানের নামের যব্ত পরিচয় সংকলিত হয়েছে।

. معاجم المعاني অর্থাৎ বিষয়ভিত্তিক সমার্থক শব্দাবলীর অভিধান হিসেবে আলী ইবনু ইসমাঈল ইবনু সীদাহ রাহ. (৪৫৮ হি.)-এর আলমুখাস্সিস এবং আবু মানসুর আব্দুল মালিক ছায়ালিবী রাহ. (৪২৯ হি.)-এর فقه اللغة وسر العربية কিতাব। আলমুখাস্সিস সর্বাধিক সুন্দর, তবে বেশ দীর্ঘ কিতাব তাই الإفصاح في فقه اللغة নামে সম্প্রতি এর একটি তালখীস তাহযীব বেরিয়েছে।

. শব্দের ইশতেকাক বুৎপত্তি এবং একই মাদ্দার বিভিন্ন শব্দের পারস্পরিক অর্থগত সাদৃশ্য যোগসূত্র পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আহমদ ইবনু ফারিস রাহ. (৩৯৫ হি.)-এর مقايس اللغة তথ্যবহুল চমৎকার কিতাব।

. معاجم الأسلوب তথা আরবী বাকরীতি বিষয়ক অভিধানগুলোর মধ্যে কুদামাহ ইবনু জাফর (৩৩৭ হি.)-এর جواهر الألفاظ এবং আব্দুর রহমান ইবন ঈসা হামযানী (৩২০ হি.)-এর الألفاظ الكتابية সুন্দর কিতাব।

৫. كتاب المعربات-এর পুরাতন কিতাবগুলোর মধ্যে আবু মানসূর মাওহুব জাওয়ালীকী (৪৬৫ হি.)-এর المعرب এবং আহমদ খফাজী (১০৬৯ হি.)-এর

 شفاء الغليل فيما في كلام العرب من الدخيل

() লিসানুল আরবের মূল তারতীব হল, মাদ্দার শেষ হরফ দ্বারা বাবএবং বাবে অন্তর্ভুক্ত শব্দগুলোকে মাদ্দার প্রথম হরফের ভিত্তিতে ফছলআকারে ভাগ করা। কিন্তু সম্প্রতি মিশরের এক ব্যক্তি বর্তমান যামানার লোকদের সহজার্থে মূল তারতিবের পরিবর্তে পুরো কিতাবকে মাদ্দার প্রথম অক্ষর অনুসারে সাজিয়েছেন। 

() হাঁ, উল্লেখিত কিতাবগুলো সম্প্রতি একাধিক মাকতাবা থেকে ছেপেছে।

সর্বশেষ একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, আপনি আপনার প্রশ্নে অভিধান শব্দকোষ অর্থে আল-কামূসশব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটি মুনাসিব ব্যবহার নয়। কারণ আল-কামূস শব্দের অর্থ সাগর বা সমুদ্র। মাজদুদ্দীন ফিরূযাবাদী রহ. তার রচিত অভিধানকে আল-কামূসুল মুহীতনাম করেছিলেন এজন্য যে এটি একটি জামে সমৃদ্ধ কিতাব; এজন্য নয় যে আল-কামূসঅর্থই হল অভিধান। কিন্তু কেউ কেউ এখান থেকে ধারণা করেছে যে, আল-কামূস অর্থ অভিধান। ধারণা ঠিক নয়। শব্দকোষ অভিধান অর্থে আরবীতে المعجم শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. تصحيح الكتب وصنع الفهارس المعجمة রিসালায় তামবীহ করেছেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জামীল আশরাফ - ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা

প্রশ্ন

 

হুযুর যেসকল মেয়েরা স্কুলে ৮ম শ্রেণী অথবা তার চেয়ে কম বেশি পড়েছে, যাদের কুরআন শরীফ অশুদ্ধ। এমন মেয়েদের বিবাহ হলে (আলেমের সাথে হউক অথবা গায়রে আলেমের সাথে হউক) তাদের জন্য ঘরোয়াভাবে দ্বীন শিক্ষার পদ্ধতি কেমন হবে। কীভাবে কী করলে তারা দ্বীনের জন্য ফেদা হতে প্রস্তুত হয়ে যাবে। এদের মানহাজ বা নেসাবে-তালীম কী হবে, কেমন হবে? কী কী কিতাব কীভাবে পড়ানো হবে? কোন কিতাব আগে হবে, কোন কিতাব পরে হবে? স্বামী আলেম হলে তাদের জন্য কী করতে পারে? হুযুর! মেহেরবানী করে বিস্তারিত জানালে আশা করি আমার পরিবার এবং বাংলাদেশের হাজার হাজার পরিবার উপকৃত হবে। দুআ করি আল্লাহ যেন আপনাকে এবং আপনার পরিবারের সবাইকে কবুল করেন। আমীন।


 

উত্তর

আপনার প্রশ্নটি অনেক ব্যাপক। যার উত্তর লেখার জন্য দীর্ঘ আলোচনা প্রয়েজন। এখন স্বল্প পরিসরে সে সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্টভাবে ব্যক্তিগত অবস্থা সুযোগ সুবিধার কথা বিস্তারিত অবহিত করলে পরামর্শ দেওয়া সহজ হবে। আর ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ বিষয়ে আলকাউসারের পর্দানশীনপাতায় কোনো লেখা ছাপানোর চেষ্টা করা হবে।

শেয়ার লিংক

মুনীরুল ইসলাম - যশোর

প্রশ্ন

আল্লাহ পাক হযরতকে নেক হায়াত দান করুন এবং ইলম অনুপাতে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমি ফেকাহ ২য় বর্ষের ছাত্র। হযরতের কাছে কয়েকটি বিষয় জানার আবেদন করছি।

. কুরআন শরীফের তরজমা বাংলায় শেখার জন্য কীভাবে মেহনত করতে পারি।  

. তাদাব্বুরে কুরআন কীভাবে অর্জন করতে পারি।  

. কুরআনুল কারীমের হেদায়েতগুলো বের করার পদ্ধতি কী হতে পারে?

 

 


উত্তর

গত ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় কুরআন তরজমা সংক্রান্ত যে প্রশ্নোত্তর ছাপা হয়েছে তা দেখুন। আর তাদাব্বুরে কুরআন এবং কুরআন থেকে হেদায়েতসমূহ বের করার পদ্ধতি সম্পর্কে কয়েকবছর আগে আলকাউসারের শিক্ষার্থীদের পাতায় রমযান মাসে কুরআন তিলাওয়াত : তালিবানে ইলমের অবলম্বনযোগ্য পদ্ধতিশিরোনামে একটি প্রবন্ধ ছাপা হয়েছিল। এখন তা আপনি তালিবানে ইলম : পথ পাথেয়কিতাবেও পাবেন।

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement