মুহাম্মাদ মুরশিদুল আলম - তারাগঞ্জ, রংপুর

প্রশ্ন

 

আমি প্রায় এক বছর ধরে একটি কিতাবের তালাশে থেকে ব্যর্থ হয়ে গেছি। পরিশেষে আপনাদের শরণাপন্ন হলাম। কিতাবটির নাম হচ্ছে কিতাবুল অসিয়ত আমি জামাতে কাফিয়ায়  পড়ার  সময়  উক্ত  কিতাবের নাম এবং গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত হয়েছি। অর্থাৎ দরসের কিতাব তালীমুল মুতাআল্লিম-এর মধ্যে পড়েছি। সেখানে বলা হয়েছে যে, হযরত ইমামে আযম আবু হানীফা রাহ.-এর একটি কিতাব আছে উপদেশমূলক কিছু বাণী সম্পর্কে। আবার সেখানে বলা হয়েছে, কিতাবটি যে খুজবে সে পাবে। এখন আপনাদের কাছে আছে কি না তা জানাবেন। যদি না থাকে তাহলে কোথায় পাওয়া যেতে পারে তা জানাবেন। আর যদি থাকে তাহলে তাঁর মূল্য কত তাও জানাবেন। পরবর্তীতে আমি আপনাদের কাছে ফোন করে ডাকযোগে নিব ইনশাআল্লাহ।


 

উত্তর

 

কিতাব তালাশের আগ্রহের জন্য আপনাকে  মোবারকবাদ। 

আলওয়াসিয়্যাহ নামে ইমাম আবু হানীফা রাহ. থেকে একাধিক রিসালা বর্ণিত রয়েছে। এসব ওয়াসিয়্যাতের মধ্যে একটি হলো, ইউসুফ ইবনু খালিদ আস-সামতী এর উদ্দেশ্যে আবু হানীফা রাহ. এর ওয়াসিয়্যাত। এটির কথাই তালীমুল মুতাআল্লিম কিতাবের উদ্ধৃত স্থানে বলা হয়েছে। এওয়াসিয়্যাতটির পূর্ণ পাঠ অনেক মুসান্নিফ তাঁদের কিতাবে নকল করেছেন। যেমন: মুয়াফ্ফাক ইবনু আহমদ আলমক্কী (মৃত্যু ৫৬৮হি:) তাঁর কিতাব মানাকিবুল ইমাম আজম -এ (২/১০৭-১০৭, ২৫তম অধ্যায়) এবং ইবনুল বাযযাযী আল কারদারী (মৃত্যু ৮২৭ হি.) তাঁর কিতাব মানাকিবুল ইমাম আজম-এ (২/৮৯-৯১ প্রথম অধ্যায়, সপ্তম পরিচ্ছেদ)। এ ওয়াসিয়্যাতটি এবং আবু হানিফা রাহ. থেকে বর্ণিত ভিন্ন আরো চারটি ওয়াসিয়্যাত একত্রে মাওলানা মুহাম্মাদ আশেক ইলাহী বুলন্দশহরী রাহ. এর উর্দূ তরজমা ও তারতীব সহকারে মাকতাবাতুন নূর হিন্দুস্তান থেকে ওয়াসায়া ইমাম আজম নামে ছেপেছে। আপনি এর একটি নুসখা সংগ্রহ করতে পারেন।  

 

শেয়ার লিংক

উসমান গণী - মধুপুর, টাঙ্গাইল

প্রশ্ন

(ক) হুযুর আলমাদখাল ইলা উলূমিল হাদীসিশ শারীফ কিতাবের ১৯০ নং পৃষ্ঠায় ইমাম ফকীহ মুহাম্মাদ যাহেদ বিন হাসান কাউসারী রাহ. এর মাকালার টীকায় আপনি লিখেছেন-

ويلاحظ هنا أن الكوثري رحمه الله تعالى أوصى بتدريس الأصول الستة ونحوها بطريق السرد على طبق الرواية، وهو أحد الطرق الثلاثة المتعارفة لتدريس الحديث ... 

এখানে বর্ণিত তিনটি তরিকার ব্যাখ্যা একটু বিস্তারিতভাবে জানতে চাই।

(খ) কিতাবসমূহের হাশিয়ায় দেখা যায় আলোচনা শেষ হলে ١٢ চিহ্ন দিতে। এ চিহ্নের অর্থ কী?


উত্তর

(ক) হাদীসের কিতাবসমূহ দরসদানের উপরোক্ত তিনটি পদ্ধতি সম্পর্কে ইতোপূর্বে প্রশ্নোত্তর বিভাগে লেখা হয়েছে। তালিবানে ইলম: পথ ও পাথেয় বইয়ের ৩৭৮ পৃষ্ঠার ৪২ নং প্রশ্নের উত্তর দ্রষ্টব্য। তারপরও কিছু কথা সংক্ষেপে এখানে পেশ করছি।

طريق السرد -এর মৌলিক উদ্দেশ্য হচ্ছে দুটি যথা, কিতাবের বিশুদ্ধ পাঠ অর্জন করা এবং কিতাবের মুসান্নিফ পর্যন্ত মুত্তাসিল সনদ হাসিল করা। এজন্য কিতাবটি পড়া ও শোনা হবে এমন কোনো উস্তাযুল হাদীসের কাছে যিনি কিতাবের আমানত গ্রহণ করেছেন স্বীকৃত কোনো পদ্ধতিতে এবং মুসান্নিফ পর্যন্ত মুত্তাসিল সনদের মাধ্যমে। আর এই পড়া হতে হবে কিতাবের সহীহ কোনো নুসখা থেকে। উস্তায নুসখার ইখতেলাফ বর্ণনা করবেন, নাসিখ এবং মুদ্রণের ভুল-ত্রুটির ব্যাপারে সতর্ক করবেন। এ পদ্ধতিতে হাদীসের সনদ সংক্রান্ত বিশদ আলোচনা, হাদীসের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং ফিকহী আলোচনা ও পর্যালোচনা উদ্দেশ্য নয়। তবে কঠিন শব্দ ও বাক্যের অর্থ বলা যেতে পারে। প্রয়োজনে পুরো হাদীসের অর্থ বলা যায়। পাশাপাশি পঠিত হাদীসে উম্মতের প্রতি যে শিক্ষা ও নির্দেশনা রয়েছে তা আলোচনা করা যায়।

طريق البحث والحل -এ উপরোক্ত বিষয় দুটির পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় যোগ করতে হয় যথা : প্রয়োজনের সময় সনদ সম্পর্কে আলোচনা করা, মুশকীলুল হাদীসের শরাহ পেশ করা এবং মুখতালিফুল হাদীসের সমাধান পেশ করা। এই আলোচনাগুলো করতে হবে ফন্নী উসূল ও আদব অনুসারে প্রয়োজন পরিমাণ। সুদীর্ঘ ও লাগামহীন আলোচনা কাম্য নয়।

طريق التعمق والإمعان হলো হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে প্রয়োজনাতিরিক্ত দীর্ঘ ও অড়ম্বরপূর্ণ আলোচনা। যেমন, প্রয়োজন ছাড়াই সনদের প্রত্যেক রাবীর জীবনী আলোচনা। মতনের কোনো শব্দের দীর্ঘ লুগাবী তাহকীক ও ইশতেকাক বয়ান করা। সংশ্লিষ্ট ফিকহী মাসআলা আলোচনা করতে গিয়ে মাসআলার বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার দীর্ঘ ফিরিস্তি পেশ করা। প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে বিভন্ন নুকতা, কিসসা-কাহীনি ও ঘটনা বর্ণনা করা। হাদীসের কিতাবকে সামনে রেখে অতি দূরবর্তী সম্পর্কের ভিত্তিতে এ ধরণের অপ্রাসঙ্গিক ও অপ্রয়োজনীয় তাকরীর সমীচীন নয়।

হাদীসের কিতাব রেওয়ায়াত ও দরস দানের ক্ষেত্রে তরীকুস সরদ হলো উত্তম পদ্ধতি। এই পদ্ধতিকে অনুসরণ করেছেন মাশায়েখে হাদীস ও মুহাদ্দিসীন। মুসনিদুল হিনদ হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ রাহ. এই পদ্ধতিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে আমাদের উপমহাদেশের নেসাব ও নেজামের কিছু দুর্বলতার কারণে পরবর্তী আকাবিরগণ অর্থাৎ আকাবিরে দেওবন্দ তরীকুল বাহছ-এর রীতিকে অনুসরণ করেছেন। কিন্তু তরীকুত তাআম্মুক আকাবিরদের অনুসৃত রীতি কখনো ছিলো না। যা হোক, হাদীসের দরসের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতিই অবলম্বন করা হোক না কেন সবক্ষেত্রে যা বলা হবে তা ইতকানের সঙ্গে বলতে হবে এবং সঠিক কিনা তা নিশ্চিতভাবে জেনে বলতে হবে।

দরসে হাদীসের আলোচিত তিনটি পদ্ধতির ব্যাখ্যা ও মূল্যায়ন সম্পর্কে শাহওয়ালিউল্লাহ রাহ. তাঁর একাধিক কিতাবে আলোচনা করেছেন। যেমন-

১. ইনসানুল আইন ফী মাশায়িখিল হারামাইন পৃষ্ঠা ১৯৪-১৯৫

২. আনফাসুল আরিফীন পৃ. ১৮৬-১৮৭ ৩. ইতহাফুন নবীহ ফীমা ইয়াহতাজু ইলাইহিল মুহাদ্দিসু ওয়াল ফকীহ। এছাড়া দেখতে পারেন মাওলানা মানাযের আহসান গীলানীর : বররে সগীর পাক ও হিন্দ মে মোসলমানোকা নেযামে তালীম ওয়া তারবীয়ত (১/২৪০-২৪৬ অধ্যায় : দরসে হাদীস কী ইসলাহ)

(খ) কোনো কোনো উস্তাযের মুখে শুনেছি হাশিয়ার শেষে (١٢) সংখ্যাটি লেখা হয় হাশিয়ার শেষ সীমারেখা বুঝানোর জন্য। এটি حد শব্দের গাণিতিক মান। অর্থাৎ এটি হা এর গানিতিক মান :৮ এবং দাল এর গাণিতিক মান : ৪ এভাবে ৮+৪= ১২ হয়।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কামরুল হাসান - জামিয়া রাহমানিয় আরাবিয়া মুহাম্মাদপুর, ঢাকা-১২০৭

প্রশ্ন

মুহতারাম আমীনুত তালীম সাহেব (হাফিযাহুল্লাহ) আমি উলূমুল হাদীস ২য় বর্ষের একজন তালিবে ইলম। উলূমুল হাদীসে ফন্নী ইসতিদাদ পয়দা হওয়ার জন্য একজন তালিবে ইলম কোন উসলূবে মেহনত করবে? এই ফনের ইসতিদাদ পয়দা হচ্ছে এর আলামাত-ই বা কি? এই বিষয়ে হযরতের মাশওয়ারা কামনা করছি।


 

উত্তর

যে কোনো বিষয়ে ফন্নী ইস্তেদাদ ও ইখতেসাস অর্জনের জন্য কয়েকটি বিষয় জরুরী যথা : ১. ফনের মাহের কোনো উস্তাযের বিশেষ ও দীর্ঘ সোহবত। ২. সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুহাক্কিক ও মুতকিন আহলে ফনের তাসনিফ মুতালাআ অব্যাহত রাখা। বিশেষত মুতাকাদ্দিমীন আহলে ফনের তাসনীফ মুতালাআ করা (এই মুতালাআ হতে হবে তামযীয, নাবাহাত এবং বসীরতের সাথে) অন্যথায় কেবল মালুমাত বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু ফনের ফাকাহাত পয়দা হবে না। ৩. উপরোক্ত বিষয়দুটি ছিলো কাসবী তথা  চেষ্টা ও মেহনতের মাধ্যমে অর্জিতব্য বিষয়। এর সাথে যোগ হতে হবে ওহাবী ইলম। এর জন্য প্রয়োজন তাকওয়া-তাহারাত এবং রুজু ইলাল্লাহ।

মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া থেকে প্রকাশিত আল মাদখাল ইলা উলূমিল হাদীসিশ শরীফ-এ উলূমুল হাদীসের মুতালাআ ও তামরীন সংক্রান্ত উসূলী কথা আলোচান করা হয়েছে। আপনি তা মুতালাআ করে থাকলেও পুনঃবার দেখে নিতে পারেন।

স্মরণ রাখতে হবে, ফন্নী ইস্তেদাদ ও ইখতেসাসের বিভিন্ন মরতবা ও স্তর রয়েছে। এর একটি স্তর হচ্ছে আহলে ফনের আলোচনা-পর্যালোচনা শরহে সদরের সাথে বুঝতে পারা। ফন্নী ইখতেসাসের বড় একটি আলামত হচ্ছে, ফনের কোনো বিষয়ে শক, শুবাহ এবং ইশকাল দেখা দিলে তার কাবেলে ইতমিনান ও প্রশান্তিদায়ক জবাব দিতে পারা। এছাড়াও এ বিষয়ে আহলে ফন আলেমদের শাহাদাতও বড় প্রমাণ ও সনদ হিসেবে বিবেচ্য।

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - সিলেট

প্রশ্ন

তালীমী মুরববী কি সকল ছাত্রের জন্য প্রয়োজন? আমাদের জামিআয় এ বিষয়ে তেমন আলোচনা হয় না। জামিআয় পাক্ষিক তালীমী নসীহত হয়, ছাত্রাবাসেও আমাদেরকে জমা করে তালীমী নসীহত করা হয়, কিন্তু এ ব্যাপারে বিশেষ কিছু শুনি না। আসলেই কি বিষয়টি এ রকম? নাকি আমার বুঝার ভুল? জানিয়ে বাধিত করবেন। তালিবে ইলম হিসেবে বেআদবী হলে ক্ষমা করবেন।


উত্তর

আসাতিযায়ে কেরামের সঙ্গে স্থায়ী ও দৃঢ় সম্পর্ক রাখা এবং তাঁদের দীর্ঘ ও বিশেষ সোহবত গ্রহণ করা ইলমের গুরুত্বপূর্ণ আদব। উস্তাযের সঙ্গে কেবল দরসের সম্পর্ক বা সাময়িক ও নিয়মসর্বস্ব সম্পর্ক যথেষ্ট নয়। দৃঢ় সম্পর্ক অর্থ হল, সম্পর্কটি কেবল দরসগাহের সম্পর্ক না হওয়া, দরসের বাইরে এবং উস্তাযের নিকট থেকে চলে আসার পর কর্মজীবনেও তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, নির্দেশনা গ্রহণ করা, ইলমী সমস্যাবলির সমাধানের জন্য তাঁর শরণাপন্ন হওয়া এবং দুআ লাভ করা ইত্যাদি বিষয়ে একজন তালিবে ইলমকে সবসময়ই সজাগ-সচেতন থাকা উচিত।

তালীমী মুরববী গ্রহণ করা ভিন্ন কোনো বিষয় নয়; বরং এটি ইলমের উপরোক্ত আদবেরই অংশ। অর্থাৎ উস্তায ও মুরববীর সাথে পরামর্শ ও নির্দেশনা গ্রহণের সম্পর্ক রাখা। উস্তাযকে মুশীরে হায়াত হিসেবে গ্রহণ করা। নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে না করা; বরং নিজেকে উস্তাযের হাতে সোপর্দ করা। এটা হচ্ছে খোদরায়ী থেকে নিরাপদ থাকার সহজ উপায়। আমাদের পূর্বসূরী আকাবির এই রীতির উপর নিষ্ঠার সাথে যত্নবান ছিলেন। আদাবুল ইলম বিষয়ক কিতাবসমূহে এই আদবটির গুরুত্ব। প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

যাহোক আপনার সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে সম্ভবত আপনার মাদরাসার তালীমী ও তারবিয়াতী মজলিসে তালীমী মুরববী শব্দটি ব্যবহার না হওয়ার কারণে। অন্যথায় উস্তাযদের সঙ্গে নিজেদেরকে যুক্ত রাখা, আসাতিযায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে কাজ করা এবং তাঁদের ছায়া ত্যাগ না করার ব্যাপারে তো অবশ্যই বলা হয়ে থাকে। তাহলে তো এটা কেবল শব্দের পার্থক্য।

আর যদি আপনার সংশয়ের কারণ হয় সুনির্দিষ্টভাবে কোনো একজন উস্তায ও মুরববীকে মূল মুশীর ও তালীমী মুরববী হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে তাহলে বলব, এই নির্দিষ্টকরণ তো কেবল সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমল করার সুবিধার্থে। অন্যথায় সকল উস্তায ও মুরববীর সাথে মুহাববত ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক রাখবে এবং সকল উস্তাযের থেকেই

ইস্তেফাদাহ অব্যাহত রাখবে। এ তো নির্দিষ্ট কোনো শায়খে কামেল ও পীরকে নিজের ইসলাহী মুরববী হিসেবে গ্রহণ করা বা নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের মতো।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইলয়াস - শরহে বেকায়া মাদানীনগর মাদরাসা

প্রশ্ন

 

উসূলে ফিকহের কিতাব তো পড়েছি, পড়ছি। তবে এখনো জানি না, উসূলুশ শাশী, নূরুল আনওয়ার ইত্যাদি কিতাবগুলো কোন স্তরের? বর্তমানে এ ফন দ্বারা কীভাবে উপকৃত হওয়া সম্ভব? যেভাবে পড়ছি এবং যে কিতাবগুলো পড়ছি বাস্তবতার দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো কী পরিমাণ উপকারী? আর এ ফনে দক্ষতা অর্জনের জন্য কীভাবে অগ্রসর হওয়া দরকার? মেহেরবানী করে জানিয়ে বাধিত করবেন। জাযাকুমুল্লাহ।


 

উত্তর

উসূলুল ফিকহ হল দেরায়াতের মানদন্ড। এর অন্যতম আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, ফাহমে নুসূস ও তাফসীরে নূসুরের উসূল ও কাওয়াইদ এবং নুসূস দ্বারা

ইস্তিদলালের সঠিক ও ভুল পন্থার বিবরণ পেশ করা। ফিকহে মুদাল্লাল ও ফিকহে মুকারান-এর সফল অধ্যয়নের জন্য উসূলে ফিকহের ইলম অপরিহার্য। কারণ দালায়েল ও তালীল, উজূহে ইস্তিদলাল এবং দালায়েলের নকদ ও তাবসেরা যথাযথ বুঝার জন্য এবং ফন্নীভাবে বুঝার জন্য উসূলে ফিকহের কাওয়াইদ ও নীতিমালা জানা থাকতে হয়।

আর উসূলে ফিকহের কিতাবুস সুন্নাহ অধ্যায়ে তো হাদীসের সহীহ-যয়ীফ নির্ণয়ের এবং রাবীর জরহ-তাদীল সংক্রান্ত ফুকাহায়ে কেরামের উসূল ও কাওয়ায়েদ উল্লেখিত হয়েছে। এ অধ্যায়ে উসূলে হাদীস সংক্রান্ত এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনাও রয়েছে, যা উসূলে হাদীসের কিতাবে উল্লেখ নেই বা থাকলেও তা নেওয়া হয়েছে উসূলে ফিকহের কিতাব থেকে।

উপরের আলোচনার মাধ্যমে আশা করি ইলমু উসূলিল ফিকহের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতার বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। বাকি থাকল উসূলুশ শাশী, নূরুল আনওয়ার প্রসঙ্গ। তো এ দুটি হচ্ছে মুতাআখখিরীন আহলে ইলমের রচিত এ ফনের মাঝারি মানের কিতাব। প্রথমটির উসলূব বেশ কঠিন। আর এ জন্য হেদায়ার ফন্নী শরাহ ফাতহুল কাদীর-এর সহযোগিতা নেওয়া যায়। আর দ্বিতীয়টি তুলনামূলক সহজ। উভয় কিতাব সম্পর্কে কিছু প্রশ্নের উত্তর ইতোপূর্বে একাধিকবার লেখা হয়েছে, যা আপনি তালেবানে ইলম : পথ ও পাথেয় কিতাবে পেয়ে যাবেন।

কিতাব দুটি যদি দরসে ভালোভাবে বুঝেশুনে পড়া হয় এবং পঠিত উসূলগুলো পরবর্তীতে হেদায়া পড়ার সময় যত্নের সাথে ইজরা করা হয় তবে ইনশাআল্লাহ উসূলে ফিকহের সাথে এক ধরনের মুমারাসাত ও সম্পর্ক সৃষ্টি হবে।

এরপর বাকি থাকবে উসূলে ফিকহের আরো বিস্তারিত ইলম, তাহকীক-তানকীহ এবং তুলনামূলক মুতালাআর পর্যায়। সে জন্য তো সামনে সুযোগ রয়েছে। তখন এ বিষয়ে আবার পরামর্শ করতে পারবেন।

শেয়ার লিংক

বুরহানুদ্দীন জারীফ - ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ

প্রশ্ন

 

আমি এ বছর ঢাকা ফরিদাবাদ মাদরাসায় মিশকাত জামাতে নতুন ভর্তি হয়েছি। মাদরাসায় পড়ালেখার জীবনে এই প্রথম শহরের একটি বড় প্রতিষ্ঠানে আমার ভর্তি হওয়া। এর আগে গ্রামে ছোটখাটো প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করেছি। এজন্য নিজের ইসতিদাদ নিয়ে খুবই শঙ্কিত।

প্রিয় উস্তায! অনুগ্রহ করে জানাবেন, মিশকাত জামাতের কিতাবগুলো কীভাবে পড়লে আমার বিশেষ ফায়েদা হবে এবং কোন কিতাবের জন্য কী কী শরাহ সংগ্রহ করতে পারি। এখানে একটি কথা বলতে লজ্জা নেই। আমি আরবীতে যথেষ্ট দুর্বল। উর্দু পারি মোটামুটি। এ যাবত বাংলা শরাহসমূহ দেখে-পড়েই এতদূর এসেছি। আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করুন।  


 

উত্তর

 

আপনার জন্য জরুরি হল, অতি সত্বর আপনার মাদরাসার কোনো অভিজ্ঞ উস্তাযকে তালীমী মুরববী হিসেবে গ্রহণ করা এবং তাঁর পরামর্শ অনুসারে মেহনত করা। মনে রাখতে হবে, কিতাবী 

ইস্তিদাদ অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। এর জন্য আপনাকে মেহনত জারি রাখতে হবে। নিরাশ হবেন না। মেহনত করতে থাকুন ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা আপনাকে সাহায্য করবেন। 

কিতাবগুলো উস্তাযগণের কাছ থেকেই বুঝে নিতে হবে এবং প্রয়োজনে দরসের বাইরেও উস্তাযের শরণাপন্ন হতে হবে। এরপর নিজ জামাতের বা উপরের জামাতের কোনো সমঝদার সাথীরও সহযোগিতা নিতে পারেন। এরপরও প্রয়োজন হলে আপাতত কিতাবের কোনো উর্দু শরাহ দেখতে পারেন। তবে আপনাকে অবশ্যই আস্তে আস্তে কিতাবের আরবী হাশিয়া ও শরাহ মুতালাআর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফীক নসীব করুন।

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাজমুল হক - মোমেনশাহী

প্রশ্ন

 

ক) লেখাপড়ার দিকে আমার ঝোঁকটা একটু বেশি। অর্থাৎ রোযনামচা, রচনা লেখা এবং মন চায় বিভিন্ন মাসিক ইসলামী পত্রিকায় লেখার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে। আর লেখা শিখতে বিভিন্ন সময় অনেকেই উৎসাহও দিয়ে থাকেন। আর লেখতে হলে শেখার প্রয়োজন অবশ্যই আছে। যার ফলে আগে আমি প্রতি মাসে চার-পাঁচটা মাসিক ইসলামী পত্রিকা কিংবা বিভিন্ন ম্যাগাজিন পড়তাম। আর এখনকার অবস্থা হচ্ছে প্রায় সময় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা কিনি ও বড় বড় লেখকদের লেখাগুলো পড়ি এবং তা থেকে লেখা শিখার উপকরণ খুঁজে নিজের লেখা সুন্দর করার চেষ্টা করি।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এ কাজগুলো করতে গেলে দরসের কিতাব পড়া কিংবা বুঝার মধ্যে সাধারণত কিছু ক্ষতি হয়েই থাকে। বড় কথা হচ্ছে একাগ্রতা থাকে না। এ অবস্থায় আমার করণীয় কি? এবং আমি একজন তালিবে ইলম হিসেবে রোযনামচা লেখা শিক্ষা করা কতটুকু প্রয়োজন এবং এর জন্য কতটুকু সময় দিতে পারি বা দেওয়া উচিত।  

প্রশ্ন : খ) আল্লামা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর আত্মজীবনীমূলক কী বইপত্র আছে আমি জানতে আগ্রহী। পড়ে উপকৃত হতে চাই। 

প্রশ্ন : গ) সব বিষয়ে কিছু কিছু বাংলা বইপুস্তক পড়েছি। এখন থেকে আরবী কিতাবাদী পড়তে চাই (অর্থাৎ দরসের ফাঁকে বা বন্ধের মধ্যে)। তো হেদায়া-মেশকাত জামাতের ছাত্রদের জন্য কী ধরনের কিতাব পড়া দরকার।   


 

উত্তর

 

উত্তর : ক) এ সময় আপনার জন্য দরসী কিতাবাদীর পিছনে সময় ও মনোযোগ নিবদ্ধ রাখাই হলো সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কারণ এখন কিতাবী ইস্তিদাদ তৈরি করার সময়। এজন্য আগামী সবক মুতালাআ, তাকরার, সবক ইয়াদ করা ইত্যাদির ব্যাপারে সামান্যতম অমনোযোগিতাও সমর্থনযোগ্য নয়। এ সময় বাইরের পড়াশোনা একদম সীমিত হওয়া উচিত। দরসী পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে কিছু পড়তে চাইলে তাতে বাধা নেই, কিন্তু মনে রাখতে হবে, যা করবেন আপনার তালীমী মুরববীর সাথে পরামর্শক্রমে করবেন এবং নিজেকে তার নির্দেশনার অনুগত রাখবেন। 

ভাষা ও সাহিত্য চর্চা সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের উত্তর ইতোপূর্বে দেওয়া হয়েছে। ‘‘তালেবানে ইলম : পথ ও পাথেয়’’ বইটিতে সংশ্লিষ্ট পরামর্শগুলো দেখতে পারেন। আর রোজনামচা লেখার জন্য তো খুব বেশি সময় খরচ হওয়ার কথা নয়। তাই অল্প অল্প করে নিয়মিত  রোযনামচা লিখতে পারেন। 

উত্তর : খ) আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর আত্মজীবনীগ্রন্থ কারওয়ানে যিন্দেগী নামে মোট সাত খন্ডে ছেপেছে। সমসাময়িক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে তাঁর স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ পুরানে চেরাগনামে ছেপেছে।

এছাড়া তাঁর লিখিত চিঠিপত্রের একটি সংকলনও তৈরি হয়েছে। যা মাকতূবাতে মুফাককিরে ইসলাম নামে মজলিসে নশরিয়াতে ইসলাম করাচি, পাকিস্তান ছেপেছে।

উত্তর : গ) মুকাদ্দিমাতুল ইলম ও মুকাদ্দিমাতুল কিতাব সম্পর্কে অনেক কিছু পড়ার আছে। আপনি এ বিষয়ে তালেবানে ইলম : পথ ও পাথেয় বইটিতে সংশ্লিষ্ট প্রবন্ধ ও প্রশ্নোত্তরগুলো দেখতে পারেন। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সীরাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সীরাতুস সালাফের নির্বাচিত কিতাবসমূহ মুতালাআ করা। 

 

শেয়ার লিংক

মহাম্মাদ কামরুল হাসান - জামিয়া রাহমানিয় আরাবিয়া মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

প্রশ্ন

মুহতারাম আমীনুত তালীম ছাহেব (হাফিযাহুলাহ) আমি উলূমুল হাদীস ২য় বর্ষের একজন তালিবে ইলম। উলূমুল হাদীসে ফন্নী ইসতিদাদ পয়দা হওয়ার জন্যে একজন তালিবে ইলম কোন উসলূবে মেহনত করবে? এই ফনের ইসতিদাদ পয়দা হচ্ছে এর আলামাত-ই বা কী? এই বিষয়ে হযরতের মাশওয়ারা কামনা করছি।


উত্তর

যে কোনো বিষয়ে ফন্নী ইস্তেদাদ ও ইখতেসাস অর্জনের জন্য কয়েকটি বিষয় জরুরী যথা : ১. ফনের মাহের কোনো উস্তাযের বিশেষ ও দীর্ঘ সোহবত। ২. সংশিষ্ট বিষয়ে মুহাক্কিক ও মুতকিন আহলে ফনের তাসনিফ মুতালাআ অব্যাহত রাখা। বিশেষত মুতাকাদ্দিমীন আহলে ফনের তাসনীফ মুতালাআ করা (এই মুতালাআ হতে হবে তামযীয, নাবাহাত এবং বসীরতের সাথে) অন্যথায় কেবল মালুমাত বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু ফনের ফাকাহাত পয়দা হবে না। ৩. উপরোক্ত বিষয়দুটি ছিলো কাসবী তথা  চেষ্টা ও মেহনতের মাধ্যমে অর্জিতব্য বিষয়। এর সাথে যোগ হতে হবে ওহাবী এলম। এর জন্য প্রয়োজন তাকওয়া-তাহারাত এবং রুজু ইলালাহ।

মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া থেকে প্রকাশিত আল মাদখাল ইলা উলূমিল হাদীসিশ শরীফ-এ উলূমুল হাদীসের মুতালাআ ও তামরীন সংক্রান্ত উসূলী কথা আলোচান করা হয়েছে। আপনি তা মুতালাআ করে থাকলেও পুনঃবার দেখে নিতে পারেন।

স্মরণ রাখতে হবে, ফন্নী ইস্তেদাদ ও ইখতেসাসের বিভিন্ন মরতবা ও স্তর রয়েছে। এর একটি স্তর হচ্ছে আহলে ফনের আলোচনা-পর্যালোচনা শরহে সদরের সাথে বুঝতে পারা। ফন্নী ইখতেসাসের বড় একটি আলামত হচ্ছে, ফনের কোনো বিষয়ে শক, শুবাহ এবং ইশকাল দেখা দিলে তার কাবেলে ইতমিনান ও প্রশান্তিদায়ক জবাব দিতে পারা। এছাড়াও এ বিষয়ে আহলে ফন আলেমদের শাহাদাতও বড় প্রমাণ ও সনদ হিসেবে বিবেচ্য।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ যোবায়ের - জামিআতুল আবরার

প্রশ্ন

ক) নূরুল আনওয়ার কিতাবের ১৯২ পৃষ্ঠায় طعن  -এর আলোচনায় হাদাসাতুস সিন-এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একটি মেছাল দিয়েছেন যে, সুফিয়ান ছাওরী আবু হানীফা রাহ. সম্পর্কে বলছেন, এই ছোট্ট ছেলে আমার নিকট কী বলছে? এই মেছালটা তো কখনো সঠিক হতে পারে না। কারণ সুফিয়ান ছাওরী রাহ. হল আবু হানীফা রাহ.-এর একজন অন্যতম শাগরিদ। আর শাগরিদ উস্তায সম্পর্কে এমন কথা বলার তো প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া তিনি আবু হানীফা রাহ. থেকে বয়সেও ছোট। তাহলে মুসান্নিফ কোন ভিত্তিতে এই মেছাল দিয়েছেন বা এই মেছালের কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আছে কি না?

খ) কিতাবের ২০৩ পৃষ্ঠায় বয়ানে তাগয়ির-এর আলোচনায় হানাফীদের উপর যে তিনটি ইশকাল আসে তার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পৃষ্ঠার শেষে তিনি লিখেছেন, ...।


উত্তর

ক) নূরুল আনওয়ার কিতাবের উদ্ধৃত স্থানে সুফিয়ান ছাওরী রাহ.-এর সাথে সম্বন্ধ করে যে মন্তব্যটি উল্লেখ করা হয়েছে তা আমার জানামতে তারীখ, তারাজিম এবং জারহ-তাদীলের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রসিদ্ধ কিতাবে উল্লেখ নেই। উসূলে ফিকহের অন্য কোনো প্রসিদ্ধ কিতাবে বা মানারের অন্য কোনো শরহেও এর কোনো অস্তিত্ব নেই। আলোচ্য মাসআলায় উসূলে ফিকহের অন্যান্য কিতাবে ভিন্ন উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। কথাটি সম্ভবত কোনো নাদের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, সেখান থেকে মুসান্নিফ তা নকল করেছেন। কিন্তু এটিকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা মুসান্নিফের যাল্লাত ও তাসামুহ হিসেবে গণ্য। কারণ মন্তব্যটি মুনকার বা আপত্তিকর ও অবাস্তব হওয়াই এ কথার জন্য যথেষ্ট যে, ইমাম সুফিয়ান ছাওরী থেকে এটি প্রমাণিত নয়; বরং মানাকিবের কোনো কোনো কিতাবে সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বর্ণনা করা হয়েছে যে, সুফিয়ান ছাওরী রাহ.-এর একটি ফতোয়ার প্রেক্ষিতে তাঁর সম্পর্কে ইমাম আবু হানীফা রাহ. এ ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। দ্রষ্টব্য : মানাকিবুল কারদারী ২/১০-১১

ইমাম আবু হানীফা রাহ. থেকে বর্ণিত এ কথাটি (যদি তা প্রমাণিত হয়) হাদীস সংক্রান্ত নয়, ফিকহ ও ফতোয়া সংক্রান্ত।

যাহোক, আবু হানীফা রাহ. থেকে এ ধরনের কথা প্রমাণিত কি না তা তাহকীক করতে হবে।

উল্লেখ্য, সুফিয়ান ছাওরী রাহ. (জন্ম : ৯৭, মৃত্যু : ১৬১ হি.) আবু হানীফা রাহ. (জন্ম : ৮০ হি., মৃত্যু : ১৫০ হি.)-এর নিয়মতান্ত্রিক শাগরিদ নন। তবে তাঁরা উভয়ে পরস্পর থেকে কিছু হাদীস ও রেওয়ায়েত শুনেছেন। (দ্রষ্টব্য : উকুদুল জুমান, সালেহী ১১৫)

সুফিয়ান ছাওরী রাহ. আবু হানীফা রাহ.-এর ফিকহ ও ফতোয়ার অনেক প্রশংসা করতেন এবং তা থেকে অনেক সময় ইস্তেফাদাও করতেন-এ কথা একাধিক সূত্রে মানাকিবের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। অনুরূপভাবে আবু হানীফা রাহ. সুফিয়ান ছাওরী রাহ.-এর ফাকাহাতের প্রশংসা করতেন। (দ্রষ্টব্য : আলইনতেকা, ইবনু আবদিল বার ১৯৭-১৯৮; মানাকিবুল কারদারী ২/৯-১৪; আখবারু আবী হানীফা, হাফেয সয়মারী)

সুফিয়ান ছাওরী রাহ. বলতেন-

كان أبو حنيفة شديد الأخذ للعلم، ذابًّا عن حرام الله عز وجل عن أن يستحل، يأخذ بما صح عنده من الأحاديث التي تحملها الثقات وبالآخر من فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم، وما أدرك عليه علماء الكوفة، ثم شنع عليه قوم نستغفر الله، نستغفر الله.

 (দ্রষ্টব্য : ফাযায়িলু আবী হানীফা, ইবনু আবীল আওয়াম, ৯৯)

খ) আপনার প্রশ্নোক্ত বিষয়টির সম্পর্ক কুরআনে কারীমের সূরা হুদ-এর ৪০-৪৭ আয়াতে বর্ণিত হযরত নূহ আ. ও তাঁর পুত্রের ঘটনার সাথে। উক্ত আয়াতসমূহের একাধিক তাফসীর রয়েছে। তার মধ্য থেকে কেবল একটি নূরুল আনওয়ার কিতাবের আলোচ্য স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। সংক্ষেপে উক্ত আয়াতসমূহের তাফসীর বুঝার জন্য তাফসীরের কিতাবসমূহ দেখা যেতে পারে, বিশেষত নিম্নোক্ত সংক্ষিপ্ত ও নির্ভরযোগ্য কোনো একটি তাফসীরের কিতাব দেখা যেতে পারে।

১. তাফসীরে উসমানী (তরজমায়ে শায়খুল হিন্দের হাশিয়া)

২. বয়ানুল কুরআন

৩. তাফসীরে মাজেদী

৪. সদ্য প্রকাশিত আসান তরজমায়ে কুরআন।

শেয়ার লিংক

মাহফুজ মুসলিহ - যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

প্রশ্ন

ক) শহীদ সাইয়্যেদ কুতুবের আগলাতগুলো কী কী? এক আলেমের নিকট থেকে শুনেছি, তিনি নাকি মারা যাওয়ার পূর্বে তাঁর আগলাতগুলো থেকে রুজু করেছিলেন। আসলে কি তাই?

খ) মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাবকে কি আহলে হক ধরা যায়?

গ) শহীদ হাসানুল বান্না রাহ.-এর ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি কী? আমি তাঁর রচনায় কয়েক জায়গায় এমন পেয়েছি যে, তিনি সর্বপ্রথম হানাফী মাযহাবকে প্রাধান্য দেন। যেমন জিহাদের বিধান বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি সর্বপ্রথম হানাফী মাযহাবের বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তারপর মালেকী মাযহাবের, তারপর শাফেয়ী মাযহাবের, তারপর হাম্বলী মাযহাবের।

আমাদের আকাবিরে দেওবন্দ তাঁকে কেমন মূল্যায়ন করেছেন এবং আপনার মূল্যায়নটা কেমন?

সবশেষে হযরত! এই বিষয়গুলো মূল উৎস থেকে জানতে পারি দয়া করে এমন কিছু কিতাবের নাম বলবেন।


উত্তর

ক) সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ-এর ফিকরি বিষয়াবলি সংক্রান্ত পর্যালোচনা জানার জন্য নিম্নোক্ত কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে।

১. দুআতুল কুযাত, শায়খ হাসান ইসমাঈল আল হুসাইমী। যিনি শায়খ হাসানুল বান্না রাহ.-এর শাহাদতের পর ইখওয়ানুল মুসলিমীনের প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন সর্বসম্মতিক্রমে।

২. মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. রচিত التفسير السياسي الإسلامي, যার উর্দু হচ্ছে عصر حاضر مين دين كى تفہيم وتشريح আর তাঁর আরেকটি কিতাব : পুরানে চেরাগ (৩/২৩-৩৮)

৩. يتيمة اليمان في شيء علوم القرآن

মাওলানা ইউসুফ বানূরী রাহ.

৪. مطاعن سيد قطب في أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم, শায়খ রবী ইবনু হাদী আল মাদখালী।

৫.  المورد الزلال في التنبيه على أخطاء تفسير الظلال, শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আদদরবেশ।

উল্লেখ্য, শেষ দুটি কিতাব আমার পড়ার সুযোগ হয়নি।

খ) শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব নজদী রাহ. সম্পর্কে জানার জন্য দেখা যেতে পারে :

১। মাওলানা মনযূর নুমানী রাহ. রচিত শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবকে খেলাফ প্রপেগান্ডে আওর হিন্দুস্তান কে উলামায়ে হক পর উসকে আছারাত অথবা এর আরবী অনুবাদ

دعايات مكتفة ضد الشيخ محمد بن عبد الوهاب

২। মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর তারীখে দাওয়াত ওয়া আযীমত ৫/৩৯৪-৩৯৭

৩। মাওলানা মাসউদ আলম নদভী-এর মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব এক মজলুম আওর বদনাম মুসলেহ।

গ) শায়খ হাসানুল বান্না শহীদ রাহ. সম্পর্কে জানার জন্য নিম্নোক্ত কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে।

১. روح وريحان من حياة داع ودعوة

শায়খ আহমদ আনাস হাজ্জাজী।

২. আলআলাম, খায়রুদ্দীন যিরিকলী ২/১৮৩-১৮৪

৩. مذكرة سائح في الشرق العربي বা এর উর্দু شرق اوسط كى ڈائرى, মাওলানা আবুল হাসান আল নদভী

৪. পুরানে চেরাগ, আলী নদভী ৩/১৩-২২

৫. হাসানুল বান্না, আনওয়ার আলজুনদী, দারুল কলম, দিমাশক।

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক -

প্রশ্ন

হুজুর, আমি একজন তাখাসসুস ফী উলূমিল হাদিস-এর ছাত্র। আমি বিদআত সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াশোনা করতে চাই। যাতে আমি বিদআতের মিইয়ার (মানদন্ড) সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে পারি। সাথে সাথে উসূল এবং ফুরু এর মাঝে সমন্বয় করতে পারি। তাই এ বিষয়ে কোন কোন কিতাব মুতালাআ করতে পারি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা জানালে কৃতজ্ঞ হব। আল্লাহ হুজুরকে উত্তম জাযা দান করুন।


উত্তর

বিদআত সম্পর্কে উসূলী বিষয়গুলো অর্থাৎ বিদআতের অর্থ, প্রকারভেদ, মারাতিব ও স্তর, বিদআতের বিস্তারিত হুকুম এবং বিদআত নির্ণয়ের উপায় ইত্যাদি জানার জন্য ইমাম আবু ইসহাক শাতিবী রাহ. (মৃত্যু : ৭৯০ হি.)-এর আল ইতিসাম একটি বিশ্লেষণধর্মী কিতাব।

আমাদের হিন্দুস্তানের হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ রাহ.-এর ঈযাহুল হককিস সরীহ ফী আহকামিল মাওতা ওয়াদ দরীহ পুস্তিকাটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও অতি মূল্যবান ও তত্ত্বপূর্ণ।

হযরত রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী রাহ.-এর নির্দেশে মাওলানা খলীল আহমদ সাহারানপুরী রাহ. লিখিতবারাহেনে কাতেয়া কিতাবে বিদআতের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও হুকুম ইত্যাদি সম্পর্কে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে। আর বিভিন্ন বিষয় ও অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিদআতী আমল ও রসম-রেওয়াজ অর্থাৎ বিদআতের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিশদ আলোচনার জন্য ইবনুল হাজ্জ আলফাসী (মৃত্যু ৭৩৭ হি.) রাহ.-এর আলমাদখাল নির্ভরযোগ্য একটি উৎস। আর সংক্ষিপ্ত কিতাবসমূহের মধ্যে মাওলানা ইউসুফ লুধিয়ানুবী রাহ.-এর ইখতেলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুস্তাকীম অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ কিতাব।

তো বিদআত সংক্রান্ত অধ্যয়নের সূচনা উপরোক্ত কিতাবগুলো দ্বারা হতে পারে। এরপর যেসকল মুসলিহীনে উম্মত সমাজে প্রচলিত বিদআত, রসম-রেওয়াজ এবং মুনকার কাজকর্মের ইসলাহের মহান কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন তাঁদের ইসলাহী কার্যক্রমের ইতিহাস এবং তাঁদের রচনাবলী মনোযোগ সহকারে মুতালাআ করতে হবে। যেমন পরবর্তী প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে হাফেজ ইবনু তাইমিয়া, হাফেজ ইবনুল কায়্যিম, ইবনু রজব হাম্বলী প্রমুখ। হিন্দুস্তানের ব্যক্তিদের মধ্যে খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া, হযরত আহমদ সেরহেন্দী, সায়্যেদ আহমদ বেরলবী, শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবী এবং নিকট অতীতের আকাবিরদের মধ্যে হযরত গাঙ্গুহী, হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী, মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী প্রমুখের ফাতওয়া-রাসায়েল, খুতুবাত, মালফুজাত ইত্যাদির অধ্যয়ন অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

মনে রাখতে হবে, বিদআতকে সঠিকভাবে নির্ণয়ের জন্য সুন্নাহর অর্থ ও মর্ম, সুন্নাহ প্রমাণিত হওয়ার পদ্ধতি, সুন্নাহর প্রকার ও স্তর এবং সুন্নাহর উপর আমলের সঠিক পন্থা এবং সুন্নাহর বিরোধিতার অর্থ ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকাও জরুরি। আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সুন্নাহ ও বিদআত সম্পর্কে বিশদ এবং তাহকীকী ইলম লাভের জন্যে উসূলে শরীয়ত, মাকাসেদে শরীয়ত, উসূলে ফিকহের রাসেখ ইলম এবং তাফাক্কুহ ফিদ্দীন থাকা একান্ত প্রয়োজন। 

শেয়ার লিংক

শহীদুল ইসলাম - ফেনী

প্রশ্ন

বর্তমান যুগে অনেকে বলে যে, তালিবানে ইলমের জন্য ইশরাক আওয়াবীন ও তাহাজ্জুদের নামায এবং অন্যান্য নফল ইবাদতসমূহের মধ্যে সময় ব্যয় করার চেয়ে ইলমের জন্য সময় ব্যয় করা উত্তম এবং ছাত্র যামানায় নফল ইবাদতসমূহের জরুরত নেই। কিছু কিছু কিতাবেও দেখা যায় যে

الاشتغال بالعلم    কে الاشتغال بالعبادة من النوافل এর চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে। যেমন আল্লামা ইবনু আব্দিল বার রাহ.-এর জামিউ বায়ানিল ইলম। এ ধরনের আলোচনা আল্লামা হাছকাফী রাহ.-এর কিতাব আদ দুররুল মুখতার ও আল্লামা হারিছ মুহাসিবী রাহ.-এর কিতাব রিসালাতুল মুসতারশিদীন ইত্যাদিতেও রয়েছে। অতএব হুযুরের কাছে বিনীত আর তা এই যে, এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে আমাদের সকলকে উপকৃত করবেন। আল্লাহ তাআলা হুযুরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।


উত্তর

একজন তালিবে ইলমের জন্য ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আদায়ের পর প্রধান কাজ ও মাশগালা হচ্ছে ইলমের চর্চা অর্থাৎ দরস, মুতালাআ, তাকরার ও তামরীনে নিমগ্ন থাকা। এতে কোনো বিঘ্ন ঘটানো উচিত নয়। সুতরাং তলবে ইলমের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এত অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত বন্দেগী যিকির ও ওয়াযিফায় মশগুল হওয়া তালিবে ইলমের জন্য মুনাসিব নয়।

কিন্তু একথার অর্থ এই নয় যে, তালিবে ইলম কোনো নফল ইবাদতই করবে না। বরং কিছু কিছু নফল আমল তাকেও করতে হবে। যেমন, নিয়মিত কুরআনে কারীমের তেলাওয়াত ও আদইয়ায়ে মাছুরাহ-এর ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার সাথে সাথে শেষ রাতে জাগা সম্ভব হলে কয়েক রাকাত তাহাজ্জুদ পড়বে আর কোনো ওজরের কারণে শেষ রাতে জাগা সম্ভব না হলে শোয়ার আগে কিয়ামুল লাইলের নিয়তে দুই চার রাকাত নামায পড়বে। দিনের শুরুতে দুই রাকাত করে চার রাকাত চাশত ও ইশরাকের নামায এবং মাগরিবের পরে দুই-চার রাকাত যা সম্ভব হয় আদায় করবে।

এই সামান্য পরিমাণ নফল এবং সাথে অল্প পরিমাণে সহজ কিছু যিকিরের আমল এমন কিছু বেশি কাজ নয়, যা তলবে ইলমের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। বরং তেলাওয়াত, নাওয়াফেল, আযকার ও আদইয়ায়ে মাছুরাহ এর মাধ্যমে অন্তরের পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয়। যা ইলমী ও আমলী উভয় ধরনের উন্নতি ও অগ্রগতির পক্ষেই সহায়ক। উল্লেখ্য, কোনো তালিবে ইলমের বিশেষ অবস্থার বিবেচনায় যদি তাকে তার তালীমী মুরুববী নাওয়াফেল থেকে বিরত থেকে পুরো সময় ইলমের চর্চায় মগ্ন থাকতে বলেন তবে তা ভিন্ন কথা।

এ তো হল নফল ইবাদত-বন্দেগীর কথা। আর গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা এবং তাকওয়া ও তাহারাত অর্জনে সচেষ্ট হওয়া তো সবার জন্য সর্ব অবস্থায় জরুরি। সুতরাং নফল ইবাদতবন্দেগীর তুলনায় ইলম চর্চায় মশগুল থাকা উত্তম যে কথাটি আপনি উল্লেখিত কিতাবগুলোর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন তা মূলত অধিক পরিমাণে নাওয়াফেল ও আযকারে মশগুল থাকার ব্যাপারে। অর্থাৎ ইবাদত-বন্দেগীকে জীবনের একমাত্র লক্ষবস্ত্ত বানিয়ে সারা দিনরাত এই এক কাজেই ব্যস্ত থাকা।

এ বিষয়ে আপনি খুব সহজেই উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা মুহাম্মাদ তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম -এর ইসলাহী মাজালিস তৃতীয় খন্ডে সংশ্লিষ্ট আলোচনা পড়তে পারেন। হাফেজ শামসুদ্দীন আযযাহাবী রাহ. (মৃত্যু ৭৪৮ হি.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ সিয়ারু আলামিন নুবালায় মিসআর ইবনু কিদাম আল কূফী রাহ.-এর জীবনীতে প্রসঙ্গক্রমে এ ব্যাপারে একটি ব্যাখ্যামূলক মন্তব্য করেছেন, যা পড়ে দেখার মতো। তিনি বলেন

قلت: هذه مسألة مختلف فيها: هل طلب العلم أفضل، أو صلاة النافلة والتلاوة والذكر ؟ فأما من كان مخلصا لله في طلب العلم، وذهنه جيد، فالعلم أولى، ولكن مع حظ من صلاة وتعبد، فإن رأيته مجدا في طلب العلم، لا حظ له في القربات، فهذا كسلان مهين، وليس هو بصادق في حسن نيته.

وأما من كان طلبه الحديث والفقه غية ومحبة نفسانية، فالعبادة في حقه أفضل، بل ما بينهما أفعل تفضيل، وهذا تقسيم في الجملة، فقل - والله - من رأيته مخلصا في طلب العلم، دعنا من هذ كله. انتهى من سير أعلام النبلاء ٧⁄١٦٧طبعة مؤسسة الرسالة

এরপর যাহাবী রাহ. ইলম ও আমলের অধঃপতনের চিত্র তুলে ধরেছেন। আগ্রহী পাঠক তা পড়ে দেখতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান - জামিয়া দ্বীনিয়া ইসলামিয়া কল্যাণপুর, ঢাকা

প্রশ্ন

মুহতারাম, আমি মীযান জামাতে পড়ছি। সায়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর তালেবে ইলমের পথ ও পাথেয় বইটি পড়ে আমার প্রবল আগ্রহ জন্মেছে বাংলা সাহিত্য চর্চা করার।

হযরতের নিকট আকুল আবেদন, আমি কি মীযান জামাতে পড়া অবস্থায় সাহিত্য চর্চা করতে পারব? নাকি ফারেগ হওয়ার পর? সাহিত্য চর্চা করতে হলে কোন কিতাবে কতটুকু সময় দেওয়ার পর পারব? এজন্য কোন কোন লেখকের বই আমাকে সংগ্রহ করতে হবে? জানালে হযরতের জন্য আমরণ আল্লাহ তাআলার কাছে নেক হায়াতের দুআ করব।


উত্তর

বাংলা সাহিত্য চর্চার আগ্রহের জন্য আপনাকে মোবারকবাদ। তবে মনে রাখতে হবে, এখন আপনার মূল কাজ হচ্ছে আরবী সীগাহ ও ইবারত সহীহভাবে পড়া ও বুঝার যোগ্যতা অর্জন করা এবং সকল ইলমী কিতাব পড়া ও বুঝার যোগ্যতা অর্জনে সচেষ্ট থাকা। হাঁ, এর পাশাপাশি কিছু সময় আপনি বাংলা সাহিত্য চর্চায় ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু এজন্য আপনি কী পড়বেন এবং কী পরিমাণ সময় ব্যয় করবেন তা আপনার নিকটস্থ কোনো অভিজ্ঞ উস্তায আপনার অবস্থানুযায়ী নির্ধারণ করে দিবেন। আপনি যাই করুন না কেন তা আপনাকে নিজ তালীমী মুরুববীর পরামর্শ অনুসারেই করতে হবে। আপনার তালীমী মুরুববীর অনুমতিক্রমে আপনি মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ দামাত বারাকাতুহুম-এর পুষ্পসমগ্রের মাধ্যমে সাহিত্য চর্চা শুরু করতে পারেন। আর এজন্য আপনি প্রতিদিন বিশ মিনিট বা আধা ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মো: আলআমীন - জামিয়া ফারুকিয়া কওমিয়া মাদরাসা

প্রশ্ন

মুহতারাম, আশা করি ভাল আছেন। নিম্ন-লিখিত প্রশ্নের সমাধান দেওয়ার আবেদন রইল।

(ক) আমি নাহু-ছরফ বিষয়ে দুর্বল। এখন সহজে নাহু-ছরফ শিক্ষার জন্য কোন কিতাবটি পড়লে ভাল হয়?

(খ) আরবীতে কথা শিখার জন্য, আরবীতে দরখাস্ত শিখার জন্য, আরবীতে চিঠি লিখার জন্য কোন কিতাব সবচাইতে উপকারী?

 

উত্তর

(ক) (খ) আপনি কোন জামাতে পড়ছেন তা উল্লেখ করলে পরামর্শ দেয়া সহজ হতো। এসব বিষয়ে তো অবশ্যই আপনার মাদরাসায় কিছু কিতাবাদী পড়ানো হয়। তো এর বাইরেও যদি আরো কিছু মেহনত করতে চান তবে আপনার উস্তায ও মুরুবিবর অনুমতিক্রমে মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ দামাত বারাকাতুহুম -এর আরবী শেখার কিতাবগুলো পড়তে পারেন। যথা ১. আততরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ, ২. আততামরীনুল কিতাবী আলাত তরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ, ৩. আততরীক ইলাস ছরফ ও ৪. আততরিক ইলান নাহব কিতাবগুলো যদি ইতোপূর্বে পড়ে থাকেন তবে পুনরায় সেগুলো বুঝে বুঝে পড়তে হবে। আর আরবীতে চিঠিপত্র লেখার জন্য আপনি ইনশার কিতাবগুলো দেখতে পারেন। আর সুযোগ হলে আহলে ইলম ও আরবীভাষী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠিপত্রের নমুনাও দেখতে পারেন।

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - বাইতুল উলূম ঢালকানগর মাদরাসা

প্রশ্ন

আসবাবুল ইলম যথা কিতাব, কাগজ, কলম, টেবিল, দরসগাহ ইত্যাদির এহতেমাম করার সাথে ইলমের সম্পর্ক কতটুকু এবং বড় আলেম হওয়ার জন্য আসবাবুল ইলমের সম্মান করার প্রয়োজন কতটুকু। আমাদের সম্মুখে বহু যোগ্যতাসম্পন্ন ছাত্র রয়েছে যারা কিতাব খুব ভালো বুঝে এবং পরীক্ষায়ও সিরিয়ালে যায় কিন্তু তারা আসবাবুল ইলমের বিলকুল সম্মান করে না। যথা সাধারণত সব সময়ই কুরআন ও হাদীসের দরসে ওযু ব্যতিত বসে এবং কুরআন তরজমা ওযু ব্যতিত কুরআন শরিফ স্পর্শ করে এবং হাদীস, উসূলে ফিকহের মত কিতাবসমূহের উপর পা উঠিয়ে দেয়। এমনকি এ সকল কিতাবের উপর দিয়ে অতিক্রম করতেও দেখা গেছে। এখন আমার মত গবীদের কী করণীয়? এ ব্যাপারে হুজুরের বিশেষ দিক নির্দেশনার প্রতি এ বান্দা মোহতাজ।

(খ) আমাদের আকাবীরগন তাদের নিকট আসবাবুল ইলম একেবারেই কম ছিল, পড়ালেখার সুন্দর সুবিধা ছিল না এবং অর্থ সম্পদের অবস্থা ও ছিল নগন্য। কিন্তু তাঁরা এত ইলম অর্জন করছেন এবং দ্বীনের এতা বড় বড় খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন যা আমাদের তাছাউর করতেও ভয় হয়। পক্ষান্তরে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমানের থেকেও অধিক আসবাবুল ইলম, সর্বপ্রকার সুবিধা ও ওয়াসাআত থাকা সত্ত্বেও আকাবীরদের মত বড় মুহাক্কীক ও মুত্তাকী আলেম তৈরি হচ্ছে না এবং দ্বীনের অতটা উন্নতি হচ্ছে না এর কারণ কী? বর্তমান জামানায় আকাবিরদের মত আলেম হওয়া ও তাদের মত দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দেওয়া কি সম্ভব? এ ব্যাপারে জানার জন্য হুজুরের নিকট বিশেষ বিনীত নিবেদন রইল।

(গ) হযরত আমি একজন গবিউল আগবিয়া ছাত্র। এক পড়া শতবার পড়লেও মনে থাকে না। কিতাব বুঝিনা তথাপিও আমার অন্তরে বড় আশা আকাবীরদের মত হওয়ার এবং তাদের ন্যয় দ্বীনের বড় খেদমত করার। আর এ জন্য আমি যাবতীয় কষ্ট ও মেহনত করতে তৈরি আছি। এমনকি এজন্য যদি আমার জীবনও বিলীন করতে হয় তথাপি আমি প্রস্ত্তত।

সুতরাং হুজুরের নিকট আমার জানার বিষয় হল আমার এ নাজুক ও করুন অবস্থায় আমার এ বিশাল ও আশাতিত আশা করা কি সম্ভব? যদি সম্ভব হয় তাহলে আমার এখন এ জন্য কী করণীয়?

 

উত্তর

ইসলামী শরীয়তে আদবের মর্যাদা অনেক এবং তার গুরুত্বও ইসলামে অনেক বেশি। শুধু আসবাবুল ইলম কেন, মানব জীবনের কোন দিকটা এমন আছে যেখানে মানুষের জীবন সফলকাম, সুখ-স্বাচ্ছন্দময় ও সুচারু হওয়ার জন্য আদবের প্রয়োজন নেই? এজন্যই হাদীসের কিতাবগুলোতে যেখানে আল-আদব নামে দীর্ঘ কলেবরের একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় আছে সেখানে ইলম অধ্যায়ে ইলম সংক্রান্ত আদব এবং অধ্যায়গুলোতে সংশ্লিষ্ট আদবের শিক্ষা বিদ্যমান রয়েছে। এভাবে আম আদাব সম্পর্কে অনেক স্বতন্ত্র কিতাব রচিত হয়েছে। তেমনি খাস আদাবুল ইলম সম্পর্কেও স্বতন্ত্র অনেক কিতাব ও রিসালা রচিত হয়েছে। আদাবুল ইলম বিষয়ক কিতাবগুলোতে আসবাবুল ইলমের আদাব গুরুত্বের সাথে উল্লেখিত হয়েছে। এ বিষয়ে নিম্নোক্ত কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে। ১। আল জামে লি আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামি, হাফেজ আবু বকর খতীব আলবাগদাদী (৪৬৩ হি.) ২। জামেউ বায়ানিল ইলম ওয়া ফাযলিহী ওয়া মা-ইয়ামবাগী ফী রিওয়াতিহি ওয়া হামলিহি, ইমাম ইবনু আব্দিল বার (৪৬৩ হি.) ৩। তাযকিরাতুস সামে ওয়াল মুতাকাল্লিম ফী আদাবিল আলিমি ওয়াল মুতাআল্লিম ইমাম বদরুদ্দীন আল-জামায়া (৭৩৩ হি.)

আল্লাহ তাআলার পানাহ, আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। আজকাল আদব বিষয়টাই অত্যন্ত অবহেলার শিকার। অথচ সলফে সালেহীনের অবস্থা ছিল, তাঁরা ইলমের আগে আদব শিখতেন ও শিখাতেন। এ বিষয়ে সালফের হেদায়াত ও ঘটনাবলীর তালিকা অনেক দীর্ঘ। শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা দামাত বারাকাতুহুম আদাবুল ইখতিলাফ ফী মাসায়িলিল ইলমি ওয়াদ্দীন কিতাবে এর কিছু নমুনা পেশ করেছেন। যা সকলের জন্যই পড়ে নেওয়ার মতো।

মনে রাখতে হবে, শুধু ইমতেহানে প্রথম বা দ্বিতীয় হওয়া অথবা মোটামুটি কিতাব বুঝার ইস্তেদাদ থাকা ভালো ছাত্র হওয়ার মাপকাঠি নয়। ভালো ছাত্র হওয়ার জন্য আদব রক্ষা করা এবং আখলাক ভালো হওয়া অপরিহার্য। সুস্থ রুচি ও উন্নত চিন্তা শক্তির প্রয়োজন।

মনে রাখবেন ইলমে নাফে বা উপকারী হওয়ার জন্য মৌলিক কিছু শর্ত রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তাফাক্কুহ ফিদ্দীন তথা ইলমের গভীরতা, রুসূখ ফিল ইলম তথা ইলমের দৃঢ়তা অর্জন এবং তাকওয়া-তাহারাত সহনশীলতা, আকলে সালীম ও আদব অবলম্বন করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করতেন-

اللهم إني أسألك علما نافعا ورزقا طيبا وعملا متقبلا.

(খ) ও (গ) আমাদের মাদরাসগুলোতে ইলমের অধঃপতনের অনেক কারণ রয়েছে। যেমন, ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে অল্পেতুষ্টির প্রবণতা, ইলমের জন্য বিলীন হওয়ার মানসিকতা লোপ পাওয়া, তালিবে ইলমের প্রতি উস্তাযের মুহাববাত এবং উস্তাযের সঙ্গে তালিবে ইলমের দৃঢ় ও স্থায়ী সম্পর্কের অভাব। তাকওয়া-তাহারাত ও আদাবের ব্যাপারে যত্নবান না হওযা। আহলে ফন-শাস্ত্র ব্যক্তিদের সোহবত গ্রহণ না করা। আহলে বুযুর্গদের সোহবত গ্রহণ না করা এবং আরো অন্যান্য বিষয়।

এসব বিষয়ের প্রতিকার ও আমাদের করণীয় কী তা বুঝার জন্য পুর্বোক্ত কিতাবগুরোর পাশাপাশি নিম্নোক্ত কিতাবগুলি আমলের নিয়তে বারবার মুতালাআ করা উচিত।

১। মাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নোমানী রাহ.-এর বক্তৃতা আপ কোন হ্যায় আওর কিয়া হ্যায় আপ কী মানযিল কেয়া হ্যায় বা এর অনুবাদ তালেবানে ইলমের রাহে মনযিল

২। মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর পাজা সুরাগে যিন্দেগী বা অনুবাদ জীবন পথের পাথেয়

৩। মায়ালিমু ইরশাদিয়্যাহ লিসিনায়াতি তালিবিল ইলম, শাইখ মুহাম্মাদ আওয়ামাহ

বলাবাহুল্য, ইলমী, আমলী, ফিকরী এবং ঈমানী তারাক্কী ও উৎকর্ষের জন্য পার্থিব আসবাবের আধিক্য যথেষ্ট নয়। বরং এর জন্য প্রয়োজন আওসাফ ও গুনাবলী অর্জন করা। সালাফের উলামায়ে কেরামের জীবন চরিতের মুতালাআ এ ক্ষেত্রে অনেক ফলপ্রসূ হবে ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মো: আল আমীন - জামিয়া ফারুকিয়া কওমিয়া মাদরাসা সোনার গাঁ, নারায়নগঞ্জ

প্রশ্ন

মুহতারাম, আশা করি ভাল আছেন। নিম্নে লিখিত প্রশ্নের সমাধান দেওয়ার আবেদন রইল।

(ক) আমি নাহু-ছরফ বিষয়ে দুর্বল। এখন সহজে নাহু-ছরফ শিক্ষার জন্য কোন কিতাবটি পড়লে ভাল হয়?

(খ) আরবীতে কথা শিখার জন্য, আরবিতে দরখাস্ত শিখার জন্য, আরবিতে চিঠি লিখার জন্য কোন কিতাব সবচাইতে উপকারী?

(গ) পাঁচ-ছয় বৎসরের শিশুদেরকে ইলমে দ্বীন শিখানোর জন্য সবচাইতে উপকারি কিতাব কী কী?

  

উত্তর

(ক) (খ) আপনি কোন জামাতে পড়ছেন তা উল্লেখ করলে পরামর্শ দেয়া সহজ হতো। এসব বিষয়ে তো অবশ্যই আপনার মাদরাসায় কিছু কিতাবাদী পড়ানো হয়। তো এর বাইরেও যদি আরো কিছু মেহনত করতে চান তবে আপনার উস্তায ও মুরুবিবর অনুমতিক্রমে মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ দামাত বারাকাতুহুম -এর আরবী শেখার কিতাবগুলো পড়তে পারেন। যথা ১. আততরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ, ২. আততামরীনুল কিতাবী আলাত তরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ, ৩. আততরীক ইলাস ছরফ ও ৪. আততরিক ইলান নাহব

কিতাবগুলো যদি ইতোপূর্বে পড়ে থাকেন তবে পুনরায় সেগুলো বুঝে বুঝে পড়তে হবে। আর আরবীতে চিঠিপত্র লেখার জন্য আপনি ইনশার কিতাবগুলো দেখতে পারেন। আর সুযোগ হলে আপনি আহলে ইলম ও আরবীভাষী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠিপত্রের নমুনাও দেখতে পারেন।

(গ) শিশু-কিশোরদের প্রাথমিক দ্বীনি জ্ঞান শেখানোর জন্য মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ দামাত বারাকাতুহুম রচিত শিশু আকিদা সিরিজগুলো খুবই উপযোগী। এ পর্যন্ত আকীদা সিরিজ, সীরাত সিরিজ ও ফাযায়েল সিরিজ নামে তাঁর মোট ১৬ টি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে।

শেয়ার লিংক

মাহফুজ - রংপুর

প্রশ্ন

হেদায়া কিতাবের হাশিয়াসমূহের শেষে বিভিন্ন আলামত দেখা যায়। যেমন د، ت، ب | এসব আলামাতের অর্থ কী? অনেক হাশিয়ায় الهداد (হাদ্দাদ) এবং আব্দুল গফূর-এর হাওয়ালা দেয়া হয়েছে। এ দুজনের পরিচয় জানতে চাই। উল্লেখ্য الهداد শব্দটি কি সঠিক নাকি الحداد হবে। কারণ الهداد নামে তো মুখতাসারুল কুদুরীর একজন শারেহ রয়েছেন। উপরোক্ত বিষয়গুলোর সমাধান দানের জন্য হুজুরের কাছে আবেদন করছি।


উত্তর

হেদায়া কিতাবের হিন্দুস্তানী নুসখার ২য় খন্ডের শেষে প্রকাশকের পক্ষ থেকে একটি পরিশিষ্ট যোগ করা হয়েছে। এতে মুহাশশীর সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং হাশিয়ার মাসাদির ও মারাজের বিবরণ উল্লেখ রয়েছে। এখান থেকে আপনি হাশিয়ায় ব্যবহৃত রুযূগুলোর অর্থও জানতে পারবেন।

প্রশ্নোক্ত (الهداد) আল হাদ্দাদ এটি নামের ভুল উচ্চারণ, সঠিক উচ্চারণ (اله دادইলাহ দাদ। এটি ফার্সী নাম, যার শাব্দিক অর্থ: আল্লাহর দান।

শাইখ ইলাহদাদ ইবনু আব্দিল্লাহ আল জৌনপুরী রাহ. হিজরী দ্বাদশ শতকের হিন্দুস্তানের একজন প্রসিদ্ধ আলেম ও সূফী। ৯২৩ হিজরী সনে তিনি ইন্তিকাল করেন। বিভিন্ন কিতাবের উপর তাঁর শরাহ ও হাশিয়া রয়েছে। কাফিয়া, হেদায়া, উসূলুল বযদবী, উসূলুশশাশী ও মাদারিকুততানযীল ইত্যাদি কিতাবের উপর তাঁর হাশিয়া রয়েছে। তাঁর জীবনী জানার জন্য নিম্নোক্ত গ্রন্থগুলো দেখা যেতে পারে।

১. আখবারুল আখইয়ার, শায়খ আব্দুল হক দেহলবী, ২. আল ইলাম (নুযহাতুল খাওয়াতির) আব্দুল হাই হাসানী ৪/৩৭-৩৯, ৩. আবজাদুল উলূম, সিদ্দীক হাসান খান ৩/৮৯৪-৮৯৫, ৪. হাদায়িকুল হানাফিয়্যাহ, মওলবী ফকীর মুহাম্মাদ জিহলামী (মৃত্যু ১৩৩৪ হি.) পৃষ্ঠা ৩৮৮-৩৮৯

আর প্রশ্নে উল্লেখিত আব্দুল গফুর কে তাঁর পূর্ণ পরিচয় এ মুহুর্তে জানার সুযোগ আমার হয়নি। এর জন্য আরো অনুসন্ধান ও তাহকীক প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন। আমীন। 

 

শেয়ার লিংক

মাহফুজ - রংপুর

প্রশ্ন

হেদায়া গ্রন্থের হাদীস সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি। হাদীসটি হলো الثيب تشاور في نفسها  (২য় খন্ড ৩১০ পৃষ্ঠা)। হাফেয যায়লায়ী রাহ. হাদীসটি সম্পর্কে ‘নসবুর রায়া’ গ্রন্থে বলেছেন।  غريب بهذا اللفظ আর হাফেয ইবনে হাজার রাহ. বলেছেন لم أره بهذا اللفظ । কাসেম ইবনে কুতলুবুগা রাহ.-এর ‘মুনইয়াতুল আলমায়ীতে হাদীসটি তালাশ করে পাইনি। মূল হাদীসটি তো ভিন্ন শব্দে কুতুবে সিত্তাহসহ অনেক কিতাবেই রয়েছে। কিন্তু হেদায়াগ্রন্থকার হাদীসটি যে শব্দে উল্লেখ করেছেন তা কোনো হাদীসের কিতাবে আছে কি? নাকি এটি তার ‘রিওয়ায়াত বিল মা‘না’। যদি রিওয়ায়াত বিল মা‘না হয়ে থাকে তবে তো খাস এই শব্দ দ্বারা দলীল পেশ করা সহীহ হবে না।

উত্তর

হেদায়া কিতাবে উল্লেখিত হাদীস সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ইতোপূর্বে লেখা হয়েছে যে, হেদায়া ও অনুরূপ অন্যান্য ফিকহী কিতাবে যে হাদীস ও আছার উল্লেখিত হয়েছে তা পূর্ববর্তী হানাফী ইমামদের রচনাবলী থেকে গৃহীত। হাফেয যাইলায়ী ও হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী হেদায়ার কতক হাদীস কেন পেলেন না বা তিনি যে শব্দে উল্লেখ করেছেন সে শব্দে কেন পেলেন না এসবের একটি কারণ হলো, ছাহিবে হেদায়া যেসব উৎস থেকে হাদীস গ্রহণ করেছন অর্থাৎ আইম্মায়ে মাযহাব এবং মুতাকাদ্দিমীন ফুকাহা-মুহাদ্দিসীনের হাদীস। ফিকহুল হাদীস ও আলফিকহুল মুদাল্লাল বিষয়ক কিতাবসমূহে তারা হাদীসগুলো অনুসন্ধান করেননি বরং পরবর্তী মুহাদ্দিসীনের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে কেবল অনুসন্ধান করেছেন। এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে প্রশ্নোক্ত হাদীসটি। কারণ ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. হাদীসটি তাঁর ‘কিতাবুল আছল-এ (১০/১৯৭ নতুন সংস্করণ ১৪৩৩ হি.) এভাবে উল্লেখ করেছেন بلغنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال : الثيب تشاور في نفسها  হাদীসটি উপরোক্ত শব্দে আবু বকর জাসসাস রাযী (৪৭০ হি.) ‘শরহু মুখতাসারিত তাহাবী’তে এবং ইমাম সারাখসী (৪৯০ হি.) ‘আল মাবসুত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আপনি আরো অবাক হবেন যে, ছাহিবে হেদায়া যে শব্দে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন হুবহু সে শব্দে ইমাম আহমদ রাহ. সহীহ সনদে তাঁর প্রসিদ্ধ ‘মুসনাদ’ -এও রেওয়ায়াত করেছেন। (দেখুন ‘মুসনাদে আহমদ’ ১২/৩৩ হাদীস নং ৭১৩১, আরো দেখুন : আল আওসাত ; ইবনুল মুনযির ৮/২৭১ হাদীস ৭১৮৯; ‘সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর’ ১/১৮১ (৫৫৪)

আর হাফেয কাসেম ইবনে কুতলুবুগা রাহ. ‘মুনইয়াতুল আলমায়ী’ কিতাবে হাদীসটি যদিও তাখরীজ করেননি। কিন্তু হাফেয ইবনে হাজার রাহ.-এর ‘আদ-দিরাফ’-এর উপর যে হাশিয়া রয়েছে সেখানে তিনি হাদীসটি ইমাম হারেসীর সংকলিত ‘মুসনাদুল ইমাম আজম আবী হানীফা’-এর বরাতে উল্লেখ করেছেন।

 

বাকী থাকল হাদীসের উপরোক্ত শব্দ দ্বারা আলোচ্য মাসআলায় দলীল পেশ করা। তো ওজহে ইস্তেদলাল এবং দলীলে নকদ ও তাবসেরার জন্য ইবনুল হুমাম রাহ.-এর ‘ফাতহুল কাদীর’ দেখতে পারেন। 

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - মারকাযুল বুহূস আলইসলামিয়া, ঢাকা

প্রশ্ন

(ক) হযরত ওয়ালা দামাত বারাকাতুহুম-এর কাছে জানতে আগ্রহী যে, আমরা জানি ইমাম আবু যোহরা রাহ. একজন অনেক বড় আলেম ছিলেন। তিনি স্বীয় কিতাব উসূলুল ফিকহ-এর বহসুল মানদুব-এর ৪১ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘দাড়ি লম্বা করা এটা সুনানে আদিয়ার অন্তর্ভুক্ত। যে এটাকে দ্বীনের অংশ বা আবশ্যকীয় কোনো বিষয় মনে করবে তাহলে সে দ্বীনের মাঝে এমন বিষয় উদ্ভাবন করল যা তাতে নেই।’ এখানে হযরত ওয়ালা দামাত বারাকাতুহুম-এর কাছে জানার বিষয় হল ইমাম আবু যোহরা রাহ.-এর তাহকীক বা রচনাকৃত এ কিতাবের মান কী? তিনি কোন পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব ছিলেন? তিনি কোন কোন দলিলের ভিত্তিতে দাড়িকে সুন্নতে আদিয়া লিখেছেন এবং আহলে হক্বের পক্ষ থেকে সেগুলোর উত্তর কী?

(খ) হযরত ওয়ালা দামাত বারাতুহুম-এর কাছে জানতে আগ্রহী যে, শায়খুল ইসলাম তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর উসূলুল ইফতা ওয়া আদাবুহু কিতাবের নতুন নুসখার ৯৩ নং পৃষ্ঠায় ২নং হাশিয়ার ৭ নম্বর লাইনের وجامعه موجود حتى اليوم في قازان وزرته...  -এ ইবারত থেকে হযরত ওয়ালা দামাত বারাকাতুহুম-এর কাছে জানার বিষয় হল; যেই جامع -এর সাথে তাকী উসমানী ছাহেব দামাত বারাকাতুহুম সাক্ষাৎ করেছেন সেই جامع দ্বারা স্বয়ং নাযুরাতুল হক-এর মুসান্নিফ উদ্দেশ্য, নাকি অন্য কোনো  সংকলক উদ্দেশ্য? যদি ناظورة الحق -এর মুসান্নিফ উদ্দেশ্য হয় তাহলে তিনি কত বসর হায়াত পেয়েছেন? আর যদি অন্য কোনো সংকলক উদ্দেশ্য হন তাহলে তাঁর পরিচয় কী? মেহেরবানি করে তা জানাবার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা গেল। জাযাকুমুললস্নাহু খাইরান।

উত্তর

(ক) শায়খ মুহাম্মাদ আবু যাহরা রাহ. (১৩১৬-১৩৯৪ হি.) গত শতকে মিসরের হানাফী মাযহাবের অনুসারী একজন মুহাক্কিক আলেম ও মুসান্নিফ। তাঁর লিখিত ‘উসূলুল ফিকহ’ কিতাবটি সহজবোধ্য এবং মুফীদ। এ কিতাব থেকে ইস্তেফাদার সময় কোনো বিষয় শায বা গরীব মনে হলে সে ক্ষেত্রে স্থানীয় মুহাক্কিক আহলে ইলমদের শরণাপন্ন হতে হবে এবং তাঁদের রায়কে প্রাধান্য দিতে হবে।

দাড়ি সম্পর্কে উপরোক্ত কিতাবে উল্লিখিত রায়টি মুনকার। মাসনূন তরীকায় দাড়ি রাখা একটি ওয়াজিব আমল এবং সুন্নতে হুদার গুরুত্বপূর্ণ শাখা। দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ সম্বলিত হাদীসসমূহের ব্যাখ্যা শরহে হাদীসের নির্ভরযোগ্য কিতাবে পাঠ করলেও বিষয়টি বুঝতে পারবেন। এ ব্যাপারে শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রাহ. রচিত ‘ডারহীকা উজুব’ নামক পুস্তিকা দ্রষ্টব্য।

 

(খ) উক্ত ইবারত একটু খেয়াল করে পড়লে বুঝতে পারবেন, এখানে جامع  অর্থ সংকলক নয়, বরং মসজিদ। ‘নাযুরাতুল হক ফী ফরযিয়্যাতিল ইশা ওয়া ইনলাম ইয়াগিবিশ শাফাক’ কিতাবের মুসান্নিফ হলেন, হিজরী তের শতকের হানাফী ফকীহ হারুন ইবনে বাহাউদ্দিন আল মারজানী (১২৩৩-১৩০৬ হি.) রাহ.। তিনি বর্তমান রাশিয়ার কাযান শহরের অধিবাসী ছিলেন। এই কাযান শহরের যে মসজিদে তিনি থাকতেন এবং দরস দিতেন সেটি তাঁর নামের সাথে সম্বন্ধ করে মসজিদে মারজানী নামে এখনো পরিচিত। এই মসজিদের কথাই উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা মুহাম্মাদ তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম উক্ত ইবারতে বলেছেন। রাশিয়া সফরকালে তিনি পরিদর্শন করেছেন। এ সম্পর্কে তিনি তাঁর সফরনামা ‘সফর দর সফর’ -এ বিস্তারিত লিখেছেন, আপনি তা দেখতে পারেন।

শেয়ার লিংক

মোহাম্মাদ নাসিমুদ্দিন - লালমাটিয়া

প্রশ্ন

পরসমাচার, আশা করি ভালো আছেন এবং নিয়মিত আলকাউসার প্রকাশ করায় ব্যস্ত আছেন।

আপনার কাছে আমার দুটি আরজ। (ক) আমি জালালাইন জামাতের ছাত্র। ইনশাআল্লাহ আগামী বছর মিশকাত পড়ব এবং হাদীসের কিতাব পড়ব। রাবীদের জীবনী সম্বলিত কয়েকটি আরবী ও বাংলা কিতাবের নাম জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।

(খ) অনেকদিন থেকে ‘চুপ থাকা ও নীরবতা পালন করা’ এবং ‘কম হাসা ও বেশি কাঁদা’ সম্পর্কে কয়েকটি বাংলা বা আরবী কিতাব খুঁজছিলাম। কিন্তু আজো পাইনি। তাই এ সম্পর্কে কয়েকটি আরবী বা বাংলা কিতাবের নাম জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।

উত্তর

(ক) মেশকাত কিতাবের শেষে সংযুক্ত মুসান্নিফের নিজের লিখিত ‘আলইকমাল ফী আসমাইর রিজাল’ নামক কিতাবটি তো মেশকাত জামাতের প্রত্যেক তালিবে ইলমের পড়া উচিত।

      রাবীদের জীবনী জানার জন্য তো কুতুবু আসমায়ির রিজাল-এর বিশাল সম্ভার রয়েছে। বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত বিভিন্ন ধরন ও কলেবরের কিতাব রয়েছে। আরবী কিতাবপত্র পাওয়া যায় এমন কোনো লাইব্রেরীতে খোঁজ নিতে পারেন তাহলে সহজেই বেশ কিছু কিতাব সম্পর্কে জানতে পারবেন।

(খ) এসব বিষয়ে হাদীসের কিতাবসমূহের যুহদ ও রকায়েক অধ্যায়ে হাদীস ও আছার সন্নিবেশিত হয়েছে। মেশকাতের যুহদ ও রকায়েক অধ্যায়ের সংশ্লিষ্ট হাদীসগুলো শরাহসহ পড়া যেতে পারে। মেশকাতের এই অধ্যায়ের হাদীসগুলোর স্বতন্ত্র একটি উর্দূ শরাহ লিখেছেন মাওলানা হাবীবুল্লাহ মুখতার রাহ.। এর একটি বাংলা অনুবাদ ‘যে কথায় পাথর গলে’ নামে মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে ছেপেছে।

২. হাফেজ আব্দুল আজীম মুনযিরী (মৃত্যু ৬৫৬ হি.)-এর ‘আততারগীব ওয়াততারহীব’ কিতাবে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের হাদীসগুলো পাঠ করতে পারেন। মাওলানা মুহাম্মাদ উসমান (মুকীমে মদীনা) দামাত বারাকাতুহুম ‘আলবাশীর ওয়ান নযীর’ নামে ওই কিতাবের একটি উর্দূ তরজমা ও শরাহ লিখেছেন।

 

৩. كتاب الرقة والبكاء  এবং الصمت وآداب اللسان ইমাম ইবনু আবীদ দুনইয়া (২৮১ হি.)। এ দুটি রিসালা ভিন্নভাবে ছেপেছে এবং ‘মওসুআতু ইবনে আবীদ দুনইয়া’ নামে তাঁর যে রেসালা ও আজযা-এর সমগ্র বের হয়েছে তাতেও রিসালা দুটি পাওয়া যাবে।

শেয়ার লিংক

নাদিম - ডেমরা, ঢাকা

প্রশ্ন

(ক) উসূলে বযদবী এবং উসূলে সারাখসীর সবচে’ ভাল তা’লীক ও তাহকীক কোনটি এবং তা কোন লাইব্রেরীর?

(খ) কিছু আমল জানতে চাই যার মাধ্যমে মেধা বাড়বে।

(গ) সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ -এ সীরাত গ্রন্থটি কোন মানের? সবচেয়ে ভাল সংস্করণ কোনটি (তা’লীক ও তাহকীকসহ) জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

(ক) ইমাম আবু বকর আস-সারাখসী রাহ. (৪৯০ হি.) রচিত ‘উসূলুস সারাখসী’-এর যে নুসখাটি শায়খ আবুল ওফা আফগানী রাহ.-এর তাহকীকসহ লাজনাতু ইহইয়ায়িল মায়ারিফিন নু’মানিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তা একটি ভালো নুসখা। আর ইমাম ফখরুল ইসলাম বযদবী রাহ. (মৃত্যু ৪৮২ হি.) রচিত উসূলে ফিকহের কিতাব যা উসূলুল বাযদাবী নামে পরিচিত-এর একটি নুসখা মীর মুহাম্মাদ কুতুবখানা করাচী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই নুসখাটির হাশিয়ায় ছাপা হয়েছে হাফেয কাসেম ইবনে কুতলুবুগা হানাফী (৮৭৯ হি.) রাহ. কৃত কিতাবে উল্লেখিত হাদীস ও আছারের তাখরীজ এবং এর শেষে রয়েছে মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ নুমানী রাহ. লিখিত ইমাম বযদবী রাহ.-এর জীবনী। এই কিতাব দুটির নতুন আরো ভালো ও মুহাক্কাক কোনো নুসখা ছেপেছে কি না তা আমার জানা নেই।

      আলাউদ্দিন আবদুল আযীয বুখারী (মৃত্যু ৭৩০ হি.) ‘কাশফুল আসরার’ নামে উসূলুল বাযদাবীর যে শরাহ লিখেছেন তা এই কিতাবের একটি উত্তম শরাহ। এতে তিনি ইমাম সারাখসীসহ উসূলে ফিকহের অন্যান্য অনেক মুসান্নিফের রায় ও ইবারত নকল করে শরাহ করে থাকেন। আর আমীরে কাতেব আল ইতকানী (৭৫৮ হি.) রাহ. রচিত ‘আশ শামিল’ শারহু উসূলিল বাযদাবী তো একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ। কিন্তু তা এখনো অমুদ্রিত পাণ্ডুলিপি বা মাখতুতা আকারে রয়েছে।

(খ) এ বিষয়ে ইমাম বুখারী রাহ.-এর উক্তি বিশেষভাবে স্মরণীয়। মুহাম্মাদ ইবনু আবী হাতেম আল অররাক (যিনি ইমাম বুখারী রাহ.-এর শাগরিদ ও লিপিকার) বলেন, আমি শুনতে পেলাম যে, আবু আব্দিল্লাহ বুখারী নাকি হিফয  ও স্মরণশক্তি বর্ধক কোনো দাওয়াই পান করেছেন। তাই আমি তাঁকে একামেত্ম জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, হিফয ও স্মরণশক্তির পক্ষে ফলদায়ক কোনো দাওয়াই আছে কি না? তিনি তখন উত্তরে বলেছিলেন, لا أعلم شيئا أنفع للحفظ من نهمة الرجل ومداومة النظر অর্থাৎ অদম্য স্পৃহা এবং অবিরাম অধ্যয়নের তুলনায় হিফয ও স্মরণশক্তির জন্য অধিক ফলদায়ক আর কোনো কিছু আছে বলে আমার জানা নেই।

      মনে রাখতে হবে, ওহীর ইলম (কুরআন ও হাদীস) পড়ে নেওয়া যদিও মানুষের সাধ্যের অধীন কিন্তু ‘তাফাক্কুহ ফিদ্দীন’-এর নেয়ামত লাভ করা নির্ভর করে আল্লাহ তাআলার দানের উপর। এ বিষয়টি পরিষ্কার বুঝে আসে নিমেণাক্ত হাদীস থেকে-

 من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين، وإنما أنا قاسم والله يعطي -সহীহ বুখারী, হাদীস ৭১। এজন্য এই নেআমত অর্জন করতে হলে সেই পথই অবলম্বন করতে হবে যে পথে আল্লাহ তাআলা তা দান করেন। আর তা হল, আহলে ফন ও আহলে দিলের সান্নিধ্য। যথাযথ মেহনত ও মুজাহাদা এবং তাকওয়া ও তাহারাত।

(গ) মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ ইবনু ইউসূফ আস সালেহী আশ শামী (মৃত্যু ৯৪২) রচিত ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সীরাতি খাইরিল ইবাদ’ বৃহৎকলেবরের একটি সুসংহত সীরাত গ্রন্থ যা অন্যান্য সীরাত গ্রন্থের তুলনায় নির্ভরযোগ্য। তবে কোনো কিতাব নির্ভরযোগ্য হওয়ার অর্থ এই নয় যে, এ কিতাবে উল্লেখিত প্রত্যেক কথাই সঠিক ও নির্ভরযোগ্য; বরং অর্থ এই যে, সার্বিক বিবেচনায় কিতাবটি নির্ভরযোগ্য। এজন্য আকাইদ ও আহকামের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো বিষয় সেখানে আসলে বা কোনো রেওয়ায়েত কিংবা যে কোনো বিষয় সম্পর্কে সংশয় হলে অত্যন্তসতর্কতার সঙ্গে তাহকীক করা জরুরি। দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বায়রুত থেকে ১৪১৪ হিজরী সনে এর একটি সংস্করণ তাহকীক ও তালীকসহ বেরিয়েছে। এছাড়া অন্য কোনো নুসখার কথা আমার জানা নেই। 

শেয়ার লিংক

আব্দুল হালীম - শরহে বেকায়া সিলেট

প্রশ্ন

(ক)حروف تحضيض   হলো মোট পাঁচটি যথা : ألا - هلا - لولا - لوما - ألَّا  এভাবেই ‘মাওসুআতুন নাহব ওয়াস সারফ’ এবং ‘জামিউদ দুরূসিল আরাবিয়্যাহ’ এবং আরো অনেক কিতাবে বলা হয়েছে। কিন্তু ‘মুখতাসারুল মাআনী’-এর ২০৮ নং পৃষ্ঠার তিন নম্বর হাশিয়ায় ‘তাজরীদ’-এর হাওয়ালায় ব্যক্ত করা হয়েছে যে حروف تحضيض ছয়টি। ছয় নাম্বার হরফ হল لو এখন প্রশ্ন হল لو  কি তাহদ্বীদ্ব-এর জন্য আসে? যদি তা ব্যবহার হয় তাহলে তার ‘শাহেদ’সহ জানালে উপকৃত হব আর যদি ব্যবহার না হয় তাহলে এ হাশিয়ার ব্যাখ্যা কী?

(খ)عشر  ও عشرة  -এর শীন হরফের হরকতের ব্যাপারে ‘মাওসুআতুন নাহব ওয়াস সারফ’-এ বলা হয়েছে عشرة -এর শীন যবর বিশিষ্ট হবে যদি তা মুফরাদ হয়। আর যদি মুরাক্কাব হয় তাহলে কখনও সাকীন হবে বা মাফতূহ হবে বা মাকসূর হবে। আর عشر -এর শীন সাকীন হবে মুফরাদ-এর সুরতে। আর মুরাক্কাবের মধ্যে মাফতুহ হবে। অথচ আলকাউসারের নভেম্বর ২০১০ সংখ্যায় ‘জামিউদ দুরূসিল আরাবিয়্যাহ’-এর হাওয়ালায় বলা হয়েছে যে, যদি মা’দূদটি মুযাক্কার হয় তাহলে উভয়টির শীন মাফতুহ হবে। আর যদি মা’দূদটি মুআন্নাস হয় তাহলে শীনের হরকত সাকীন হবে। হুযুরের কাছে আকুল আবেদন এই যে, দয়া করে উভয়ের মধ্যে কোন কায়দাটি সঠিক তা জানিয়ে আমাদেরকে উপকৃত করবেন।

উত্তর

(ক) প্রসিদ্ধ হল ‘হুরূফুত তাহদ্বীদ্ব’ চারটি। যথা :

 هلَّا - لولا - لوما - ألَّا মুখতাসারুল মাআনীতে এই চারটির কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী কোনো কোনো আরবী ভাষাবিদ لو এবং ألا এ দুটিকেও হুরূফে তাহদ্বীদ্ব এর মধ্যে গণ্য করেছেন। মুখতাসারুল মাআনীর হাশিয়ায় যে ‘আত তাজরীদ’-এর হাওয়ালা দেয়া হয়েছে তা মুখতাসারুল মাআনীরই একটি হাশিয়া। এটি তৈরি করেছেন তের শতকের মিসরের আদীব শায়খ মুসত্মফা ইবনু মুহাম্মাদ আল-বান্নানী। তিনি এর অধিকাংশই মূলত তালখীস করেছেন নিজ শায়খ মিসরের আদীব ও ভাষাবিদ মুহাম্মাদ ইবনে আলী আস-সাববান (মৃত্যু ১২০৬ হি.) লিখিত মুখতাসারুল মাআনীর হাশিয়া থেকে।

      যাহোক لو এবং ألا কখনো কখনো তাহদ্বীদ্ব তথা উৎসাহ ও উদ্দীপনার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু এই অর্থটি কি এই হরফ দুটির স্বতন্ত্র অর্থ নাকি এ দুটির العرض و الطلب -এর অর্থ থেকেই উৎপন্ন বা এরই অংশ- এ বিষয়ে আরবী ভাষাতাত্ত্বিক বিশেস্নষণে মতানৈক্যের অবকাশ রয়েছে। لو  এই হরফটি ‘তাহদ্বীদ্ব’-এর অর্থে ব্যবহার হওয়ার পক্ষে শায়খ বান্নানী ‘আত তাজরীদ’-এ কোনো শাহেদ বা উদাহরণ পেশ করেননি। তবে ড. আববাস হাসান রচিত ‘আন-নাহবুল ওয়াফী’ কিতাবে এই অর্থে দুটি উদাহরণ পেশ করা হয়েছে- لو تحترم القانون فتأمن العقوبة এবং কোনো হাসপাতালে কোনো কৃপণ ব্যক্তিকে দেখে কেউ বলল  لو تتبرع لهذا المستشفى فتنال خير الجزاء দ্রষ্টব্য, আন নাহবুল ওয়াফী ৪/৩৬৯ এবং ৫০৩।

(খ)عشر  ও عشرة   এর শীন হরফের হরকত সম্পর্কে আরবী লোগাতে বিভিন্নতা রয়েছে। আলকাউসারে এ সম্পর্কে যে যাবেতাটি উল্লেখ করা হয়েছে তা এ বিষয়ের সুপ্রসিদ্ধ একটি যাবেতা, যা লুগাতের নির্ভরযোগ্য কিতাবের উদ্ধৃতিতে লেখা হয়েছে। আর আপনি ‘মাওসুআতুন নাহব’-এর বরাতে যা উল্লেখ করেছেন সেটিও  হয়ত এ বিষয়ের একটি ভিন্ন যাবেতা। কিন্তু মাশহুর লোগাত অনুসারে, عشر  ও عشرة  মুফরাদ হোক বা মুরাক্কাব হোক উভয় অবস্থায় মা’দূদটি মুযাক্কার হলে শীন মাফতুহ হবে। আর মা’দূদটি মুআন্নাস হলে শীনের হরকত সাকীন হবে। (‘আননাহবুল ওয়াফী, খ- ৪ পৃষ্ঠা ৫২০-৫২২) ‘মাওসুআতুন নাহব’ কিতাবটি এ মুহূর্তে আমার সামনে নেই। তবে আপনি যেভাবে উল্লেখ করেছেন তাতে তা মাশহুর লোগাতের সাথে কোথাও কোথাও সাংঘর্ষিক হবে। কিন্তু আপনার উল্লেখিত এই যাবেতার সাথে যদি একটি কয়েদ যোগ করা হয় তবে তখন আর তেমন কোনো তাআরুয বাকি থাকে না। সেটি হলো যা ড. মুহাম্মাদ আব্দুল আযীয আন-নাজ্জার উল্লেখ করেছেন। তিনি ‘যিয়ায়ুস সালিক ইলা আউযাহিল মাসালিক’ ৪/১২৪ -এ লিখেছেন-

الأفصح في شين عشرة الفتح مع التاء والتسكين بدونها إذا كانت مفردة، والعكس إذا كانت مركبة

অর্থাৎ মুফরাদ অবস্থায় শেষে যদি ‘তা’ (আলামাতে তানীছ) যুক্ত হয় তবে শীনে ফাতাহ হবে। আর যদি শেষে ‘তা’ যুক্ত না হয় তবে শীনে সাকিন হবে। কিন্তু মুরাক্কাব অবস্থায় এর বিপরীত হবে অর্থাৎ আলামাতে তানীছ ‘তা’ যুক্ত হলে শীনে সাকিন হবে এবং শেষে ‘তা’ যুক্ত না হলে শীনে ফাতাহ হবে’।

এখন চিন্তা করলেই দেখবেন যে যাবেতার এই তাবীর এবং আলকাউসারে বর্ণিত তাবীরের মাঝে প্রকৃতপক্ষে কোনো সংঘর্ষ নেই বরং কেবল ইবারতের পার্থক্য। 

শেয়ার লিংক

হামিদুল্লাহ শরীয়তপুরী - নূরে রাহমানিয়া, ফেনী

প্রশ্ন

আমি একজন জামাতে হেদায়াতুন্নাহব-এর ছাত্র। আমার আগ্রহ হল হাদীস শরীফ মুখস্থ করা। তবে সহজে ও প্রাথমিক পর্যায়ে হাদীসের কোন কিতাব পড়তে পারি ও তরজমাতুল কুরআনের উর্দূ জাদীদ অর্থের জন্য কোনটি অধ্যয়ন করতে পারি  উক্ত বিষয়দ্বয় জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

 

উত্তর

প্রাথমিক পর্যায়ে হাদীসের হিফয ও মুতালাআর জন্য শায়খ মুহিউদ্দিন আওয়ামাহ রচিত ‘মিন সিহাহিল আহাদিসিল কিসার’ রাখতে পারেন। এর বাংলা অনুবাদ হয়েছে। সেটিও সামনে রাখতে পারেন। এরপর ইমাম মুহিউদ্দীন আননববী (৬৩১-৬৭৬ হি.) রাহ.-এর রিয়াযুস সালেহীন মুতালাআ করতে পারেন। আর জাদীদ উর্দূভাষায় রচিত এবং সম্প্রতি প্রকাশিত তরজমাতুল কুরআনের জন্য শায়খুল ইসলাম মুফতী তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম রচিত আসান তরজমায়ে কুরআন দেখতে পারেন।

শেয়ার লিংক

ইবনে আব্দুল কুদ্দুস বাহুবলী - দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

শুনেছি, আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর লিখিত আরবী কিতাবের সংখ্যা নাকি প্রায় দু’শ! আমি শরহে বেকায়া জামাতের একজন ছাত্র। আরবী কিতাবাদি মোটামুটি বুঝি। প্রিয় হযরত! দয়া করে এই জামাতের তালিবে ইলমের উপযোগী তাঁর কয়েকটি আরবী কিতাবের নাম বলে দিলে এগুলো থেকে ইস্তেফাদা করতে পারব। আল্লাহ তাআলা আপনার মঙ্গল করুন। আমীন।

উত্তর

মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর (মৃত্যু ১৪২০ হি.)-এর আরবী ও উর্দূ ভাষায় বিভিন্ন ধরনের কিতাবপত্র, রিসালা ও পুস্তিকা এবং মাকালা ও প্রবন্ধ রয়েছে। দাওয়াতী, ফিকরী, ইসলাহী, আদবী, তারীখী, ইলমী রচনাবলী, সফরনামা, বক্তৃতা ও ভাষণের সংকলন, চিঠিপত্রের সংকলন, সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন কিতাবের উপর তাঁর লিখিত মুকাদ্দিমা ও ভূমিকা। তাঁর রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে শরহে বেকায়া জামাতের তালিবে ইলমদের জন্য নিমেণাক্ত কিতাবগুলো উপযোগী হবে বলে আশা করি। আরবী আদব ও সাহিত্য সম্পর্কে: ১.  قصص النبيين (৩-৫ খ-) ২.القراءة الراشدة  (৩য় খ-) ৩. مختارات من أدب العرب (১-২ খ-) সীরাত ও শামায়েল বিষয়ে :  السيرة النبوية দাওয়াত বিষয়ে : روائع من أدب الدعوة في القرآن والسيرة । এসব ছাড়াও আরো কিতাব রয়েছে। 

শেয়ার লিংক

আহমদ শাহ - কুমিল্লা

প্রশ্ন

আশা করি ভাল আছেন। আমি অধম আপনার জন্য দুআ করি। আল্লাহ যেন আপনাকে উভয় জগতের সমসত্ম কল্যাণ দান করেন এবং আপনার নেক হায়াত বাড়িয়ে দেন। আজ কিছু হতাশা নিয়ে আমি আপনার কাছে চিঠি লিখতে বসেছি। আমি মীযান জামাতের একজন ছাত্র। ক্লাশে মধ্যম ধরনের ছাত্র। আমার একজন উস্তায বলেছেন যারা তাকরার করায় তারাই ভাল আলেম হয়। কিন্তু আমি মাঝে মাঝে সহজ কিতাব তাকরার করাই। কিন্তু কঠিন কিতাব তাকরার করাই না। তাই আমি কি ভাল আলেম হতে পারব না? আমি সাধারণত একটি কিতাব কোন রকম একবার পড়ে রেখে দেই। তাই একটি কিতাব কতবার পড়লে পড়া হয়েছে বুঝব। আবার মাঝে মাঝে অলসতা জাগে যে সামনের বছর থেকে ভাল করে পড়ব। এমন করে প্রথম জামাত থেকে এ পর্যন্ত এসেছি। আবার মাঝে মাঝে পড়া না পারলে মনে মনে ভাবি কোনো রকম দাওরা পর্যন্ত যেতে পারলেই হল। কিন্তু আমার এবং আমার বাবা-মা তাদের অনেক  আশা, আমি একজন বড় আলেম হব। তাদের এ আশা আমার অলসতার কারণে কি শেষ হয়ে যাবে? আমার আরবীতে কথা বলার অনেক ইচ্ছে। কিন্তু আরবীতে তেমন কথা বলতে পারি না। তাই অনেকে বলে মাদানী নেসাবে ভর্তি হওয়ার জন্য। তাই এ বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দিয়ে বাধিত করবেন। আমি ছোট মানুষ তাই লেখার মধ্যে ভুল থাকলে ক্ষমা করে দিবেন বলে আশা রাখি। 

উত্তর

আপনি আমার জন্য দুআ করেছেন, আমীন, জাযাকাল্লাহু খায়রান। আমিও আপনার জন্য দুআ করি। আল্লাহ আপনাকে রুসূখ ফীল ইলম এবং তাফাককুহ ফিদ্দীন নসীব করুন। হতাশার কোনো কারণ নেই। নিজের মধ্যে ইলমের মহববত ও তৃষ্ণা তৈরি করুন। নিজের কোনো অভিজ্ঞ ও মেহেরবান উস্তাযকে তালীমী মুরুববী হিসেবে গ্রহণ করুন। তাঁর পরামর্শ অনুসারে ইলমী সফর জারী রাখুন। প্রত্যেক জামাতের কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা কতটুকু অর্জিত হয়েছে এবং কিতাবাদি আপনি কতটুকু বুঝেছেন এবং আত্মস্থ করতে পেরেছেন তা নিজ উস্তাযকে দিয়ে পরীক্ষা করুন। আপনি মাদানী নেসাবের মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার কথা জিজ্ঞেস করেছেন। এ বিষয়ে আপনার তালীমী মুরুববীই আপনার হালত অনুসারে মুনাসিব পরামর্শ দিতে পারবেন। কারণ,  কেবল নেসাব পরিবর্তন করাই একমাত্র সমাধান নয়।

শেয়ার লিংক

আমানুল্লাহ আল মাহমুদ - হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

বাদ তাসলীম আরয এই যে, হাদীস শরীফ অধ্যয়নের পরও যে আমাদের ফিকহ ও ফুকাহার শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন এবং ফিকহে ইসলামের যথেষ্ট গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের আলোকে এবং সালাফে সালিহীনের উক্তিসহ বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত্বসহ জানতে কোন কোন কিতাব মুতালাআ করতে পারি? এই বিষয়ে একক কোনো প্রবন্ধ-নিবন্ধ আছে কি না? এ ব্যাপারে সুপরামর্শ দিয়ে উপকৃত করতে হুযুরের একান্ত মর্জি কামনা করছি।

আল্লাহ হুযুরকে যুগোপযোগী খেদমতের ওছিলায় কবুল করুন। আমীন।

উত্তর

এ বিষয়ে মৌলিক কিছু কথা ও নির্দেশনা নিম্নোক্ত লেখাগুলোতে দেখতে পারেন।

১. মাযহাব ও তাকলীদ কি ও কেন (অনুবাদ : মাওলানা যয়নুল আবেদীন)-এর ভূমিকা, যা মাকতাবাতুল আশরাফ, বাংলাবাজার থেকে প্রকাশিত। ২.‘নবীজীর নামায’ (অনুবাদ : মাওলানা যাকারিয়া আব্দুল্লাহ, মাকতাবাতুল আশরাফ কর্তৃক প্রকাশিত)-এর ভূমিকা। ৩. উম্মাহর ঐক্য : পথ ও পন্থা, যা মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা থেকে প্রকাশিত।

 

৪. শায়খ মুহাম্মদ আওয়ামা কতৃক রচিত ‘আছারুল হাদীসীশ শরীফ’ ও ‘আদাবুল ইখতিলাফ ফি মাসায়িলিল ইলমি ওয়াদদ্বীন’।

শেয়ার লিংক

তালেবে নাজাত, - সিলেট

প্রশ্ন

দীর্ঘ একটি চিঠি

উত্তর

কোনো মন্দ স্বভাব থেকে বেঁচে থাকার জন্য অথবা কোনো জরুরী আমলের অভ্যাস গড়ার জন্য হিম্মতের কোনো বিকল্প নেই। শুধু দুআর দ্বারা সব ঠিক হয়ে যাবে -এটা আল্লাহ তাআলার সাধারণ নিয়ম নয়। হিম্মত ও মুজাহাদার ভিত্তিতেই আল্লাহর রহমত লাভ হয়।

 

এখনই কারো বায়আত হলেন না, কিন্তু কারো সাথে ইসলাহী তাআল্লুক অবশ্যই রাখা চাই। প্রতিদিন একশতবার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর যিকির করুন, ইনশা আল্লাহ ফায়দা হবে। 

শেয়ার লিংক

ইমদাদুল্লাহ - জামিয়া মাদানিয়া, ফেনী

প্রশ্ন

প্রশ্ন : আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ,  হুজুরের নিকট নিমেণাক্ত সমস্যাগুলোর সমাধান কামনা করছি।

   ১। মুহাম্মাদ আওওয়ামাহ, মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ এ ধরনের নামের মধ্যে মুহাম্মাদ শব্দের ইরাব কী হবে এবং এটা মুরাক্কাবের কোন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।

   ২। حيث  -এর পরে জুমলা না হয়ে মুফরাদ হলে সেই মুফরাদের ইরাব রফা না জর হবে? বিভিন্ন কিতাবে বিশেষত হুযুরের কিতাব যেমন আল-মাদখাল, আল-ওয়াজিয এবং শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ. ও শায়খ মুহাম্মাদ আউওয়ামাহ হাফিযাহুল্লাহ-এর কিতাবসমূহেও স্পষ্টভাবে حيث -এর পরে রফা দেখা যায়। কিন্তু হিদায়াতুন্নাহু-তে اما ترى حيث سهيل ساطع উক্ত পংক্তিতে সুহাইল শব্দকে আমরা মাজরুর পড়েছি এবং বিভিন্ন শুরুহাতেও এমন দেখেছি, এখন সঠিক কী হবে? বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক। আল্লাহ হুযুরকে বাবরকত হায়াতে তায়্যিবাহ দান করুন। আমীন


 

উত্তর

উত্তর : (ক) এ ধরনের নামগুলি মূলত মুরাক্কাবে বয়ানী। দ্বিতীয় অংশটি প্রথম অংশের সিফাত কিংবা বদল কিংবা আতফে বয়ান কিংবা তাকীদে লফযী। মুহাম্মাদ আওয়ামাহ-এর মধ্যে আওয়ামাহ নিসবত বা লকব হিসেবে মুহাম্মাদ নামের সিফাত। মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ-এর মধ্যে আব্দুল্লাহ হল মুহাম্মাদ শব্দ থেকে বদল বা আতফে বয়ান কিংবা তাকীদে লফযী। সুতরাং প্রথমাংশের ইরাব হবে পূর্বোক্ত আমেল হিসেবে এবং দ্বিতীয় অংশের ইরাব হবে তাবে হিসেবে। কিন্তু ইরাবে হিকায়ী হিসেবে উভয় অংশকে সর্বাবস্থায় অপরিবর্তিত রাখারও অবকাশ রয়েছে। এ তো হল ইরাবের কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক আরবী ভাষার প্রচলিত রীতি হচ্ছে, এ ধরনের মুরাক্কাব নামের প্রত্যেক অংশের শেষে সাকিন পড়া। এখানে আরো দুটি বিষয় মনে রাখতে হবে ১. এ ধরনের মুরাক্কাব নামের মধ্যে কিছু এমনও রয়েছে যে, পরস্পরের সম্পর্ক হল পিতা-পুত্রের। এ ক্ষেত্রে অংশ দুটির মাঝখানে ইবনু শব্দ মাহযূফ থাকে। যেমন : محمد على حسن । মুজাম্মাউল লুগাতিল রাআবিয়্যাহ কাহেরা (কায়রো আরবী ভাষা একাডেমী)-এর সিদ্ধান্ত মতে এ ধরনের নাম দুভাবে পড়া যায়। এক. প্রথমাংশকে পূর্বোক্ত আমেল হিসেবে এবং পরবর্তী অংশকে মুযাফ ইলাই হিসেবে মাজরম্নর পড়া। দুই. সব অংশের শেষে সাকিন পড়া। এটি হয়ে থাকে إجراء للوصل مجرى الوقف । দ্রষ্টব্য : মাজমূআতুল কারারাতিল ইলমিয়্যাহ পৃ. ৩৬-৩৭, উসূলুল লুগাহ ৩/১৭০-১৭১

২. মুরাক্কাব নাম কখনো কখনো بعلبك  ও حضرموت -এর মতো মুরাক্কাবে মাযজী হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অংশের শেষে গায়রে মুনসারিফ হিসেবে ইরাব হবে এবং প্রথমাংশের ইরাব অপরিবর্তিত থাকবে। আলামে বা নামের প্রকারভেদ ও হুকুম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আন-নাহবুল ওয়াফী (১/২৯২-৩২০) দেখা যেতে পারে।

উত্তর : (খ)حيث সাধারণত পরবর্তী একটি জুমলার দিকে মুযাফ হয়ে থাকে। পরবর্তী কোনো মুফরাদ শব্দের দিকে মুযাফ হওয়ার দৃষ্টান্ত খুবই কম। অধিকাংশ নাহুবিদের মতে حيث কোনো মুফরাদের দিকে মুযাফ হওয়া শায। তাই এর উপরে কিয়াস করা ঠিক হবে না। সুতরাং যেখানে حيث -এর পরে লফযে মুফরাদ উল্লেখ থাকবে সেখানে আরেকটি শব্দ মুকাদ্দার মেনে মুফরাদকে জুমলায় পরিণত করতে হবে। পক্ষান্তরে কোনো কোনো নাহুবিদ মনে করেন যে, حيث মুফরাদের দিকে মুযাফ হতে পারে এবং সেই মুফরাদ শব্দটি মুযাফ ইলাইহি হিসেবে মাজরম্নর হতে পারে। এর পক্ষে তারা প্রশ্নোক্ত কবিতার পংক্তিসহ এক দুটি শাহেদ পেশ করেছেন।

   কিন্তু পৃথক রায়টি অধিক শক্তিশালী ও অধিক ফসীহ। তাই حيث -এর পরে বাহ্যত মুফরাদ উলেস্নখ থাকলেও সেটিকে জুমলার প্রথমাংশ মুবতাদা হিসেবে রফা দিতে হবে। তবে দ্বিতীয় রায় অনুসারে মাজরম্নর পড়াও জায়েয রয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রশ্নোক্ত কবিতায় سهيل শব্দটিকে অনেকে মারফু হিসেবেও যবত করেছেন। দ্রষ্টব্য- মুগনিল লাবীব পৃ. ১৪৮; শরহু শাওয়াহিদে ইবনে আকীল, পৃ. ১৬০

   حيث সম্পর্কে বিসত্মারিত জানার জন্য উপরোক্ত কিতাবদুটিসহ নিমেণাক্ত কিতাবসমূহ দ্রষ্টব্য। (লিসানুল আরব (হাইছু মাদ্দা) তাজুল আরূস ৫/২২৮-২৩১, আওযাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়াতি ইবনে মালেক ৩/১০৬ আন নাহবুল ওয়াফী ২/২৯০, ৩/৭৮-৮০ 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ - হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

(ক) মুহতারাম! আমি শরহে জামী জামাতে পড়ি। কানযুদ্দাক্বায়েকের শরহ হিসেবে আল-বাহরুর রায়েক কিনেছি। এছাড়া কানযের সাথে হাশিয়া কুনূযুল হাকায়েক সংযুক্ত আছে। প্রসঙ্গত, আমি ড. সা-ইদ বাকদাশের তাহক্বীককৃত নুসখাটি ক্রয় করেছি। কিন্তু আমাদেরকে প্রতিদিন যে পরিমাণ সবক দেওয়া হয় তাতে আল-বাহরুর রায়েক-এর (জাকারিয়া বুক ডিপো) অন্তত ২০-৩০ পৃষ্ঠা হয়, যা কুনূযুল হাকায়েকসহ নুসখায় প্রায় দেড় পৃষ্ঠা। এমতাবস্থায় অন্যান্য বিষয়সমূহসহ আলবাহরুর রায়েক (পূর্ণ) পড়া সম্ভব হয় না। আর হাশিয়া ‘কুনূযুল হাকায়েক’ (পূর্ণ সবক) পড়তে গেলে আল বাহরুর রায়েক পড়ার ফুরসত পাওয়া যায় না। অতএব কোনটিকে গুরুতব দেব ও কোনটি রেখে কোনটি পড়ব সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি। আশা করি, দ্রুত কোনো সমাধান পাব।

(খ) উসূলুশ শাশীর শরহ হিসেবে ‘ফুসূলুল হাওয়াশী’ মুতালাআ করি। এর লেখক কে? এতে কয়েকটি স্থানে ‘শাইখুল উস্তায’ ইত্যাদি  (যেমন মাকতাবাতুল হারাম, লাহোর থেকে প্রকাশিত নুসখার ৬৯ পৃষ্ঠায়) বলে কাকে বোঝানো হয়েছে। জানালে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।


উত্তর

(ক) এর একটি সমাধান এই হতে পারে যে, এখন দরস চলাকালীন কিতাব হল করার জন্য ‘কুনূযুল হাকায়েক’ হাশিয়াটি নিয়মিত মুতালাআয় রাখবেন। আর ফিকহী মাসায়েলের তাফসীলাত জানার জন্য প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ আলবাহরুর রায়েক মুরাজাআত করবেন। কিতাব হল করার জন্য কুনূযুল হাকায়েক-এর পরিবর্তে আইনী রাহ.-এর সংক্ষিপ্ত হাশিয়া ‘লামযুল হাকায়িক’ মুতালাআয় রাখতে পারেন।

(খ) আমার সামনে ফুসূলুল হাওয়াশীর যে নুসখাটি আছে তাতে শুরুতে বা শেষে মুসান্নিফের নাম আমি খুঁজে পাইনি। তবে কিতাবটি যে শায়খ ইলাহদাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল জৌনপুরী রাহ. (মৃত্যু ৯২৩ হি.)-এর তাসনীফ তা একাধিক সূত্রে প্রমাণ পাওয়া যায়। এক. আরবী-ফারসী রিসার্চ ইন্সটিটিউট, রাজস্থান, টৌঙ্ক থেকে প্রকাশিত ‘খযীনাতুল মাখতুতাত’ ৪/৪০-৪২ সংকলক মাওলানা মুহাম্মাদ ইমরান খান। এতে রিসার্চ ইন্সটিটিউটে সংরক্ষিত (ফুসূলুল হাওয়াশী’-এর একাধিক পাণ্ডুলিপির বিবরণ পেশ করা হয়েছে। এসব পাণ্ডুলিপিতে শায়খ ইলাহদাদের নাম উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও সংকলক এখানে কিতাব ও মুসান্নিফের পরিচয়ের ক্ষেত্রে আরো দুটি সূত্রের বরাত দিয়েছেন। যথা, ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরী লন্ডন-এর ক্যাটালগ (২/২৫০) এবং খোদা বখশ ওরিয়েন্টাল পাবলিক লাইব্রেরী, বানকীপুর, পাটনা-এর ক্যাটালগ পৃ. ১৪৯৪

দুই. মুজামু মাতবুআতিল আরাবিয়্যাহ ফী শিবহিল কাররাতিল হিন্দিয়া আল বাকিস্তানিয়া পৃ. ৪১-এ দুটি নুসখার বিবরণ দেয়া হয়েছে। এতেও শায়খ ইলাহদাদের নাম উল্লেখ রয়েছে।

তিন. শায়খ ইলাহদাদ-এর জীবনীতে উসূলুশ শাশীর শরহের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বিস্তারিত জীবনী জানার জন্য দ্রষ্টব্য ১. আখবারুল আখইয়ার, আব্দুল হক দেহলবী পৃ. ২৭৫-২৭৬ (উর্দূ অনুবাদ) ২. আল ইলাম (নুযহাতুল খাওয়াতির, ৪/৩৭-৩৯, ৩. আবজাদুল উলূম, সিদ্দিক হাসান খান পৃ. ৩/৮৯৪-৮৯৫ ৪. হাদায়িকুল হানাফিয়্যাহ, মৌলবী ফকীর মুহাম্মাদ জিহলামী (মৃত্যু ১৪৩৫ হি.) পৃ. ৩৮৮-৩৮৯

   ফুসূলুল হাওয়াশী কিতাবে মুসান্নিফ কয়েক জায়গায় নিজের কোনো এক উস্তাযের হাওয়ালা দিয়েছেন এভাবে- "كذا سمعت من فوائد شيخي وأستاذي نفع الله المقتبسين بطول بقائه" এবং  وقال شيخي وأستاذي متع الله المقتبسين بطول بقائه.

এই উস্তায দ্বারা মুসান্নিফের কোন উস্তায উদ্দেশ্য তা সুনির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। এর জন্য আরো তাহকীক প্রয়োজন তবে তার একজন খাস উস্তায হলেন শায়খ আব্দুল মালেক জৌনপুরী। তিনি হলেন কাযীল কুযাত শিহাবুদ্দীন আহমদ দৌলতাবাদী (মৃত্যু ৮৪৯ হি.)-এর শাগরিদ। দ্রষ্টব্য. আল ইলাম (নুযহাতুল খাওয়াতির)

   উল্লখ্য, প্রাচ্যবিদ কার্ল বুরুক্লম্যান-এর তারীখুল আদাবিল আরাবি (আরবী অনুবাদ, মূল জার্মানী ভাষা থেকে) ২/২৮-এ ফুসূলুল হাওয়াশী শরহু উসূলিশ শাশীকে মওলবী আইনুল্লাহ-এর দিকে নিসবত করা হয়েছে। এই নিসবতটি ভুল। মওলবী আইনুল্লাহ মূলত ফুসূলুল হাওয়াশির উপর হাশিয়া লিখেছেন, যা আমার সামনের মতবুয়া নুসখাটিতেও উলেস্নখ রয়েছে। আরো দ্রষ্টব্য : মুজামু মাতবুআতিল আরাবিয়্যাহ ফী শিবহিল কাররাতিল হিনদিয়্যাহ পৃ. ৪১

শেয়ার লিংক

আবু সালেহ মুহাম্মাদ মূসা - জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মালনী, নেত্রকোনা

প্রশ্ন

(ক) মুহতারাম আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আমি مِثْلٌ এবং مَثَلٌ শব্দদুটোর পার্থক্য ও ব্যবহারবিধি জানতে চাই। সুদ সম্পর্কিত বিখ্যাত হাদীস

الذهب بالذهب والفضة بالفضة ... مثلا بمثل...

এখানে   مثلا بمثل শব্দ দুটি কীভাবে পড়া সহীহ    مِثْلا بمِثْل নাকি  مََثَلا بمَثَل? আর যদি দুটোই শুদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে কোনটা অধিক শুদ্ধ?

(খ) আমরা পরীক্ষার উত্তরপত্রে কেউ কেউ الجواب عن السؤال... লিখি, আর কেউ কেউ  الإجابة عن السؤال... লিখি। الجوابالإجابة শব্দ দুটোর পার্থক্য জানতে চাই এবং উত্তরপত্রে কোনটা লেখা অধিক বিশুদ্ধ হবে তা জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

(ক) ‘মিছলুন’ ও ‘মাছালুন’ শব্দদ্বয়ের মাঝে মাদ্দা ও ‘মোশাবাহাত’-এই মূল অর্থে মিল রয়েছে। কিন্তু এ দুয়ের মাঝে ব্যবহারগত পার্থক্য রয়েছে। যেমন ইমাম খলীল ইবনে আহমদ রাহ. কিতাবুল আইন (৪/১১৮)-এ লিখেছেন-

المَثَل : الشيء يضرب للشيء فيجعل مثله

والمَثَل : الحديث نفسه والمِثْل : شبه الشيء في المثال والقدر ونحوه حتى في المعنى . انتهى

সারকথা, মাছালুন হলো কোনো কিছুর দৃষ্টান্ত ও উপমা। যার একটি প্রকার হল প্রবাদ-প্রবচন। আর মিছলুন অর্থ হল, সাদৃশ ও অনুরূপ। তবে মনে রাখতে হবে, মাছালুন শব্দটি কখনো কখনো মিছলুন অর্থেও ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়াও ‘মাছালুন’ শব্দটির আরো একাধিক শাখাগত অর্থ রয়েছে। কিন্তু মিছলুন শব্দটি সর্বদা ‘শিবহুন’ বা সাদৃশ ও অনুরূপ অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে। দ্রষ্টব্য : লিসানুল আরব ১৪/১৭-২০; তাজুল আরূস ৩০/৩৭৯-৩৯০; আলমুজামুল ওয়াসীত

   যাহোক, প্রশ্নোক্ত হাদীসের শব্দটি مِثْلا بمِثْل  হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কারণ এখানে ‘শিবহুন’ বা সাদৃশ অর্থটি উদ্দেশ্য। আর এ অর্থে ‘মাছালুন’ নয় বরং ‘মিছলুন’ শব্দটিই অধিক ব্যবহৃত এবং স্পষ্ট। মুহাক্কিক ও মুতকিন আহলে ইলম ও মাশায়েখগন এটিকে مِثْلا بمِثْل পড়ে থাকেন। তাঁদের অনেকেই এটিকে এভাবেই যবত বিল হারাকাত করেছেনহযরত সাঈদ আহমদ পালনপুরী দামাত বারাকাতুহুম তো مََثَلا بمَثَل পড়াকে ভুল বলেছেন। দেখুন : তুহফাতুল আলমায়ী ৪/১৫৪

(খ) ‘জাওয়াবুন’ হল ইসমে মাসদার। যার অর্থ হল ما يجاب به المرأ অর্থাৎ যে কথা দ্বারা উত্তর দেয়া হয়। আর ‘ইজাবাতুন’ হচ্ছে মাসদার। যেমন  عطاء হল ইসমে মাসদার আর إعطاء হল মাসদার। কোনো কিছুর উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে উভয় শব্দের ব্যবহার সহীহ।

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement