ইমেইল থেকে প্রাপ্ত - নাম-ঠিকানা নেই

প্রশ্ন

হুজুর! আমি কয়েক বছর আগে হিফয সম্পন্ন করেছি এবং গত বছর তাইসীর জামাত শেষ করে এ বছর মিযান জামাতে পড়ছি

কিছুদিন যাবৎ একটি চিন্তা আমার মনে বারবার আসছে বর্তমানে মুসলিম জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও জাগতিক বিষয়ে অনেক পিছিয়ে আছে তাছাড়া কখনো কখনো কোনো কোনো সাধারণ মানুষের মুখে এজাতীয় মন্তব্য শুনেছি, আলেমদের কর্ম-পরিধি কেবল মসজিদ-মাদরাসা পর্যন্ত এর বাইরে তাদের কিছু করার নেই তাই আমার ইচ্ছা, আমি জাগতিক বিষয়ে মুসলমানদের জন্য কিছু খেদমত করব এবং আলেমদের প্রতি মানুষের এই ধারণা দূর করে দেব সেই লক্ষ্যে আমি নিয়ত করেছি, আমার দ্বীনী অবস্থা ঠিক রাখার জন্য মাদরাসায় পড়াশোনা করব আর মাদরাসার পাশাপাশি চিকিৎসা শাস্ত্রে পড়ালেখা করব ইনশাআল্লাহ

বাড়িতে মা ও দুলাভাইকে আমার এই চিন্তার কথা জানিয়েছি তারা সম্মতি দিয়েছেন কিন্তু মাদরাসায় কোনো কোনো তালিবে ইলম ভাইকে বিষয়টি জানালে তারা কিছুতেই আমার এ চিন্তায় সায় দেয়নি তাই আমি দ্বিধায় পড়ে গেছি দয়া করে আমাকে উত্তম ও সঠিক পরামর্শ দিয়ে বাধিত করবেন

উত্তর

এই মুহূর্তে আপনার করণীয় হল, একাগ্রতা ও মেহনতের সঙ্গে দরসী বিষয়গুলো আত্মস্থ করা এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা না করা, যেন আপনি পাকা ইস্তে‘দাদসম্পন্ন আলেম হতে পারেন এখন যদি আপনি নানান চিন্তায় এদিক-সেদিক করেন, তাহলে অবশেষে আপনার কিছুই হবে না অতএব আপনি এখন সব চিন্তা মাথা থেকে দূর করে একাগ্রচিত্তে ইলমে দ্বীনের তলবে আত্মনিয়োগ করুন এবং আসাতিযায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে মেহনত করুন এই মারহালা শেষ হওয়ার পর যদি আপনার চিকিৎসা শাস্ত্রে অধ্যয়ন করার সুযোগ ও আগ্রহ থাকে, তাহলে উস্তাযের পরামর্শক্রমে সেটা করতে অসুবিধা নেই

সাধারণ মানুষদের কারও কারও যে চিন্তার কথা আপনি উল্লেখ করলেন, সেটা মূলত মাদারিসে কওমিয়ার তালীম, মাকসাদে তালীম ও উলামায়ে কেরামের খেদমতের অঙ্গনসমূহ সম্পর্কে তাদের না জানার কারণে তাই এ ধরনের কথায় পেরেশান হওয়ার  কিছু নেই

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রিফাত - মাদানীনগর

প্রশ্ন

কিছু ছাত্র অতিরিক্ত জোরে পড়ে, ফলে অন্যদের পড়তে সমস্যা হয় এ বিষয়ে কার কী করণীয়?

উত্তর

অন্যদের অসুবিধা হয় এমন জোরে পড়া ঠিক নয়

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে

اعْتَكَفَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ، فَسَمِعَهُمْ يَجْهَرُونَ بِالْقِرَاءَةِ، فَكَشَفَ السِّتْرَ، وَقَالَ: أَلَا إِنَّ كُلَّكُمْ مُنَاجٍ رَبَّه، فَلَا يُؤْذِيَنَّ بَعْضُكُمْ بَعْضًا، وَلَا يَرْفَعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِي الْقِرَاءَةِ، أَوْ قَالَ: فِي الصَّلَاةِ.

একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ইতিকাফ করাকালীন কিছু মানুষকে জোর আওয়াজে তিলাওয়াত করতে শুনলেন তখন তিনি পর্দা সরিয়ে বললেন, শোনো! তোমরা সবাই তোমাদের রবের সঙ্গে নিভৃত আলাপে রত আছ অতএব তোমরা একে অপরকে কষ্ট দিয়ো না এবং একে অন্যের চাইতে উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াত করো না সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৩৩২; সুনানে  কুবরা, নাসায়ী, হাদীস ৮০৩৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ১১৬২

ইজতেমায়ী যিন্দেগীতে এ ধরনের আদবের প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি নইলে দেখা যাবে, আমি অজান্তেই অনেকের কষ্টের কারণ হয়ে যাচ্ছি

শেয়ার লিংক

আবু রায়হান - ফরিদাবাদ, ঢাকা

প্রশ্ন

আমি এ বছর নাহবেমীর জামাতে পড়ি আমি আমার উদ্দেশ্য অর্জনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই ব্যর্থ হয়ে যাই উদাহরণস্বরূপ আমি একটা পড়া আত্মস্থ করতে আধা ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করি এবং উদ্যমের সঙ্গেই পড়া শুরু করি কিন্তু কিছুক্ষণ পড়ার পর উদ্যম হারিয়ে ফেলি অলসতা চলে আসে

অতএব আমি এর প্রতিকারের জন্য কী করতে পারি? জানালে অনেক উপকৃত হব ইনশাআল্লাহ আপনার নিকট দুআ চাই, যেন আমি একজন মুহাক্কিক আলেম হতে পারি

উত্তর

আপনার এই সমস্যার সমাধান একটাই

سُستی کا علاج چُستی

অর্থাৎ অলসতার চিকিৎসা হল কর্মচাঞ্চল্য

এ নামেই উস্তাযে মুহতারাম হযরত মাওলানা মুফতী আবদুর রউফ সাখ্খারবী দামাত বারাকাতুহুমের একটি বয়ান ছাপা হয়েছে সেখানে তিনি বলেন

سستی کا واحد علاج یہ ہے کہ اس کا مقابلہ کرو، اس کا علاج سوائے استعمال ہمت کے اور کچھ نہیں ہے۔ اگر ہماری زندگیوں میں صرف یہ بات بھی آجائے یعنی “سستی کا مقابلہ کرنا” تو سمجھ لو کہ آدھا کام ہو گیا، اور اس کے بعد بقیہ آدھے کام کے حصول کی کوشش کرے۔

অতএব দৃঢ় মনোবল নিয়ে মেহনত করতে থাকুন পাশাপাশি নিম্নোক্ত দুআটি বেশি বেশি করুন

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ، وَالْكَسَلِ، وَالْجُبْنِ، وَالْبُخْلِ، وَالْهَرَمِ، وَعَذَابِ الْقَبْرِ. اَللّٰهُمَّ آتِ نَفْسِيْ تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا.

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ، وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ، وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ، وَمِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا.

(সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭২২)

শেয়ার লিংক

হুসাইন - মতিঝিল, ঢাকা

প্রশ্ন

আমি কাফিয়া জামাতের ছাত্র আমি কুরআন কারীম ও কুরআন তাফসীর নিয়ে খুব আগ্রহী আমি চাচ্ছি, ‘তাফসীরে আবিস সাঊদ’ নিয়ে মেহনত করব এটা কি এ মুহূর্তে আমার জন্য উপকারী হবে?

উত্তর

‘তাফসীরে আবিস সুঊদ’ কিতাবটি মুখতাসারুল মাআনী পড়ার পরে মুতালাআ করলে ফায়দা হবে আপনি উস্তাযের পরামর্শে হযরত আদীব হুযুর দামাত বারাকাতুহুমের الطريق إلى القرآن الكريمالطريق إلى تفسير القرآن الكريم মুতালাআ করতে পারেন 

শেয়ার লিংক