মুহা. আব্দুল্লাহ - লক্ষীপুর

প্রশ্ন

ক. আমি এ বছর নাহভেমীর জামাতে পড়ি। জানতে চাচ্ছি, ‘রওযাতুল আদব’ নামক কিতাবটি কোন নিয়মে পড়লে বেশি উপকৃত হব।

 

খ. উক্ত প্রসঙ্গে আমার আরেকটি বেদনাদায়ক কথা হচ্ছে, আমাদেরকে কেউ কেউ বলে থাকেন, ‘রওযা’ হচ্ছে ভাষা শিখার কিতাব, সুতরাং ভাষা শিখার ক্ষেত্রে তারকীব বা শব্দের তাহকীক স্থগিত রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের কতক সাথী ভাইয়ের একথাটা বুঝে আসে না। তাঁরা বলে থাকেন ‘তারকীববিহীন পড়ে শুধু ইবারত মুখস্থ করে আমাদের কী ফায়দা হবে?’

এখন আমি বিভিন্ন ধরনের কথায় চিন্তিত হয়ে পড়েছি। আবেদন করছি, আমাকে এ বিষয়ে  সুপরামর্শ দিয়ে  আমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন।

উত্তর

(ক. খ.) ‘রওযাতুল আদব’ কিতাবের মুসান্নিফ মাওলানা মুশতাক আহমদ চরথালভী রহ. ভূমিকায় লিখেছেন যে, এই কিতাব নাহব-সরফ এর সাহায্য ছাড়া ভাষা শেখানোর উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে। যেহেতু এটা ছিল এ উপমহাদেশে এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রয়াস তাই কিতাবের উদ্দেশ্য পুরোপুরি হাসিল হয়নি। বিশেষত কিতাবের ‘আলবাবুল আওয়ালে’র শিরোনামগুলো থেকে অনুমিত হয় যে, তিনি এখানে কিছু নাহবী কায়েদার অনুশীলন করাতে চেয়েছেন। এজন্য এ অধ্যায় অনুশীলনের আঙ্গিকেই পড়া উচিত। অন্যান্য অধ্যায় ‘আতত্বরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ’ ‘আততামরীনুল কিতাবী আলাত ত্বরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ’, ‘আলকিরাআতুল ওয়াজিহা’, ‘আলকিরাআতুর রাশিদা’র মতো কিতাবগুলোর নিয়মেই পড়া উচিত। কেননা, এই কিতাবগুলো হচ্ছে প্রাথমিক ভাষা শিক্ষার জন্য মৌলিক ও আদর্শ কিতাব। এই নিয়ম যদি আপনি আপনার উস্তাদের নিকট থেকে সরাসরি বুঝে নিতে পারেন তবে তা-ই ভালো হবে।

ভাষা শিক্ষার প্রাথমিক কিতাবগুলোতে তারকীব এবং সরফী ও লুগাবী তাহকীকাতের চক্করে না পড়াই ভালো। এগুলোর জন্য ভিন্ন ক্ষেত্র ও ভিন্ন কিতাব রয়েছে।

আর ভাষা শিক্ষার কিতাবগুলো শুধু মুখস্থ করার জন্য নয়; বরং রীতি ও উপস্থাপনা অনুধাবন করে সকল বিষয় আত্মস্থ করার জন্য। এ কথাটা যদি আপনি ভালোভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হন তাহলে ‘তারকীব না বুঝে শুধু মুখস্থ করে কী লাভ’-এ প্রশ্ন আপনার মনে আর রেখাপাত করবে না।

শেয়ার লিংক

মুহা. ইহসানুল বারী - মাছনা মাদরাসা, যশোর

প্রশ্ন

ক. আমার জানার বিষয় মাফহুমে মুখালিফ সম্পর্কে। উসূলে ফিকহ থেকে আমরা জানি, হানাফী মাযহাবে ‘নুসূসে শরঈয়্যাহ’তে ‘মফহূমে মুখালিফ’কে হুজ্জত মনে করা হয় না।

কিন্তু আমরা হানাফী মাযহাবের অনেক কিতাবে অনেক ‘ইস্তিদলাল’ পাই যেগুলো থেকে বাহ্যত মনে হয় যে, ‘মফহূমে মুখালিফ’কে হুজ্জত বানানো হয়েছে।

যেমন : হিদায়াহ এর ৩১১ পৃষ্ঠায়-

 

 

 

এই আয়াত উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে

 

এবং ৩০৮ পৃষ্ঠায়

 

 

এই আয়াত উল্লেখের পর বলা হয়েছে

 

 

এবং ৩১৮ পৃষ্ঠায়

 

-এই ‘নস’কে ‘আসাবা’ ভিন্ন অন্যদের বিবাহ-দানের অধিকার ছাবিত না হওয়ার উপর দলীল পেশ করা হয়েছে। এখন জানার বিষয় হল এ সমস্ত আলোচনা দ্বারা বাস্তবে ‘মফহুমে মুখালিফ’কে দলীল বানানো হয়েছে কি না। আর বানানো হলে আমাদের মাযহাবের দৃষ্টিতে এর সমাধান কী?

 

খ. হিদায়াগ্রন্থকার অনেক হাদীসকে দলীল হিসাবে উল্লেখ করেছেন অথচ তার অনেকগুলো হাদীস নয়। আবার অনেক হাদীস ঐ লফজে পাওয়া যায় না। তাহলে এভাবে ইসতিলাল করা সহীহ হবে কি না? এবং তাঁর মতো একজন বড় ফকীহ থেকে এভাবে ইসতিদলাল করার ব্যাপারে আমরা কী জওয়াব দিতে পারি?

 

গ. আমরা এ বছর হিদায়া পড়ছি। হিদায়া এর মাসআলা ভালোভাবে অনুধাবন করার জন্য আমরা বিভিন্ন কিতাব দেখি। যেমন ‘ফাতহুল কাদীর’, ‘নাসবুর রায়াহ’, ‘হাশিয়ায়ে ইবনে আবেদীন’ ইত্যাদি। তাফসীরের ক্ষেত্রে ‘তাফসীরে ইবনে কাসীর’, ‘তাফসীরে কুরতুবী’ ইত্যাদি।

এভাবে বিভিন্ন কিতাব দেখা আমাদের জন্য লাভজনক হবে কি না। হলে এর লাভ সম্পর্কে আমরা কিছু জানতে ইচ্ছুক।

উত্তর

ক. উসূলে ফিকহের বিশদ ও শক্তিশালী গ্রন্থসমূহ মনোযোগের সঙ্গে অধ্যয়নের পাশাপাশি ওই গ্রন্থগুলোর ‘মাসাদির’ ও ‘মাআখিয’-এর দিকেও যদি লক্ষ করা হয় তাহলে প্রতীয়মান হয় যে, ‘নুসূসে শরঈয়্যাহ’এর ‘মফহূম’ কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য হবে না-এটা হানাফী মাযহাবের উসূল নয়। যদি ‘কারাইনে খারিজিয়্যাহ’ বা ‘কারাইনে দাখিলিয়্যাহ’ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আলোচ্য ‘কয়েদ’টি ‘ইহতিরাযী’, এছাড়া এর অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা হিকমত নেই তাহলে ‘মফহূম’ হুজ্জত হিসেবে গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমে দলীল দেওয়া যাবে। ‘কারাইনে খারিজিয়্যাহ’তে ‘ইজমা’ এবং ‘ফাহমে মুতাওয়ারাছ’ও অন্তর্ভুক্ত। আর যেখানে ‘কারাইন’ দ্বারা এ ‘কয়েদ’ আরোপের অন্য কোনো হিকমত প্রমাণিত হয় সেখানে তা হুজ্জত হিসেবে গণ্য হবে না।

এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা মনে রাখা উচিত যে, ‘মফহূমে মুখালিফ’ হুজ্জত না হওয়ার অর্থ হচ্ছে আলোচ্য নসে বিপরীত দিকটি ‘মাসকূত আনহু’ পর্যায়ে থাকবে। এ দিকের বিধান অন্যান্য ‘নসে’ কিংবা ‘কাওয়ায়েদে শরীয়তে’র মধ্যে অন্বেষণ করতে হবে।

যদি অন্যান্য ‘নস’ ও ‘কাওয়াইদে মুসাল্লামা’ দ্বারা ওই হুকুমই প্রমাণিত হয়, যা আলোচ্য নসের ‘মাফহূম’ থেকে পাওয়া যাচ্ছিল তাহলে এটাও এ বিষয়ের ‘করীনা’ হবে যে, এখানে ‘মাফহুমে মুখালিফ’ বিবেচিত ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশ্নোক্ত আয়াতটি উল্লেখ করা যেতে পারে। যদি ‘মফহূমে আদদ’ বিবেচনায় না আনা হয় তাহলে অর্থ এই হবে যে, এখানে চারের বেশি সংখ্যার কথা অনালোচিত, কিন্তু এই মূলনীতি সর্বজন স্বীকৃত যে,

 

 

অতএব চারের অধিক সংখ্যাগুলো ‘হুরমতে’র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাহলে আলোচ্য আয়াত থেকে উপরোক্ত বিষয়টি এভাবেও পেশ করা যায় যে, ‘বৈধতা ও হালাল হওয়ার বিধান চার পর্যন্ত পাওয়া গেল, এরপরে আর পাওয়া যায়নি।

 

খ. হিদায়া ও তার হাদীস সম্পর্কে আমি এ বিভাগেই একাধিকবার লিখেছি। অনুগ্রহপূর্বক ওই আলোচনাগুলো পড়ে নিন। এর সঙ্গে শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামাহ-এর কিতাব ‘আসারুল হাদীসিশ শরীফ ফিখতিলাফিল আয়িম্মিাতিল ফুকাহা’ কিংবা ‘নাসবুর রায়াহ’-এর দারুল কিবলা, জিদ্দা থেকে প্রকাশিত সংস্করণে তার লিখিত ‘মুকাদ্দিমা’ মুতালাআ করুন।

এ প্রসঙ্গে সারকথা হচ্ছে, তাহকীক করলে দেখা যায়, এমন রেওয়ায়েতের সংখ্যা বেশি নয়। আর যে রেওয়াতগুলো এ পর্যায়ের রয়েছে তা না সংশ্লিষ্ট বিধানে কোনোরূপ প্রভাব ফেলে আর না ছাহিবে হিদায়ার ইলম ও কামালকে প্রশ্নযুক্ত করে। কেননা, ওই বিষয়গুলোতে অন্যান্য দলীল রয়েছে আর ছাহিবে হিদায়ার সকল ‘মাসাদির’ আমাদের নিকটে নেই। এ বিষয়টি খুবই যুক্তিসঙ্গত; বরং বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকেও প্রমাণিত যে, আমরা যদি ওই মাসাদির পেয়ে যাই তাহলে এই রেওয়ায়াতগুলো যে শব্দে ছাহিবে হিদায়া উল্লেখ করেছেন সে শব্দেই অন্তত ‘কাবেলে ইস্তিশহাদ’ সনদে পেয়ে যাব।

গ. এক দু’টি কিতাব সবকের সঙ্গে নিয়মিত মুতালাআ করুন। যেমন ‘ফাতহুল কাদীর’, ‘আলইনায়া’, ‘নাসবুর রায়াহ’, (‘বুগয়াতুল আলমাঈ’ ও ‘মুনয়াতুল আলমাঈ’সহ)। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন্যান্য কিতাবের মুরাজাআত করুন।

যদি ভালো স্বাস্থ্য ও বুলন্দ হিম্মতের অধিকারী হয়ে থাকেন তাহলে প্রশ্নোক্ত সবগুলো কিতাবই মুতালাআ-যোগ্য। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দিন। সবকের সঙ্গে যে পরিমাণ সম্ভব হয় আলহামদুলিল্লাহ, অবশিষ্টটুকু অন্য সময় হতে পারবে।

আর এ কিতাবগুলোর বৈশিষ্ট্য, সেটা অধ্যয়ন অব্যাহত রাখলে সংক্ষিপ্তভাবে উপলব্ধিতে এসে যাবে। বিশদ আলোচনার ফুরসৎ এখন নেই। আল্লাহ তাআলা যদি তাওফীক দেন তাহলে অন্য কোনো সময় সে সম্পর্কে আরজ করব ইনশাআল্লাহ।

আরেকটি কথা, এক প্রশ্নে সাত-আট কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করে এক দু’টি কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দিতে সুবিধা হয়। আল্লাহ তাআলা আপনাকে ও আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - ঢাকা

প্রশ্ন

ক. আমাদের ফিকহের কিতাবে বিশেষত দরসী কিতাবে আমাদের সাথে কেবল ইমাম শাফেয়ী রহ. এর মাযহাবকে মুকারানা করা হয় কেন? অন্য দুই মাযহাবের ব্যাপারে তো এমন মুকারানা করা হয় না।

 

খ. ছাহিবে হিদায়া ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এর কিতাবসমূহের মধ্য থেকে ‘আল জামিউল সাগীর’-এর মতন নির্বাচন করার কোনো উদ্দেশ্যে আছে কি?

 

গ. আমরা বিগত মাসের ‘আলকাউসার’ পাঠ করে জানতে পারলাম- ছাহিবে হিদায়া তাঁর হিদায়াগ্রন্থে যেসব হাদীস উল্লেখ করেছেন, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সনদসহ বর্ণিত। কিন্তু মুতাকাদ্দিমীনের কিতাব বিলুপ্ত হওয়ার কারণে এর সনদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে বর্তমান তাখরীজকারগণ এসব হাদীসের ব্যাপারে ‘লাম আজিদ’ শব্দ ব্যবহার করেছেন।

এর থেকে আমাদের মনে যেসব সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে হুজুরের নিকট তা নিরসনের দরখাস্ত করছি- ১. আমরা জানি, আল্লাহর দ্বীন মাহফূজ। আর দ্বীন মাহফূজ হওয়ার অর্থ হল কুরআন-হাদীস মাহফুজ। আর হাদীস মাহফূজ হলে তা সনদসহ মাহফূজ হবে। তাহলে সনদ বিলুপ্ত হবে কীভাবে। আর সনদ বিলুপ্ত হলে হাদীস সংরক্ষিত থাকার অর্থ কী?

২. আমরা জানি, সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হুবহু লফজে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একই হাদীস কয়েক সনদে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং একটা সনদ যদি বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে আর এক সনদে তো হুবহু হাদীসটি পাওয়া যাবে। কিন্তু যেসব হাদীসের ব্যাপারে ‘লাম আজিদ’ বলা হয় তা তো কোনো হাদীসের কিতাবে হুবহু লফজে পাওয়া যায় না। অন্যান্য হাদীসের কিতাবে এর সমার্থক হাদীস পাওয়া যায়। এর থেকে কেউ কেউ বলেন যে, তিনি ‘রিওয়ায়েত বিল মা’না’ করেছেন। এই দুই মতকে আমরা কীভাবে দেখব এবং প্রথম মতটি নিলে প্রশ্নগুলোর সমাধান কী হবে? আল্লাহ তাআলা হুজুরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

উত্তর

ক. অন্যান্য মাযহাবের তুলনায় এই দুই মাযহাবে লেখক-গ্রন্থকার বেশি হয়েছেন এবং ‘মানহাজে ইসতিদলালে’র ক্ষেত্রে অন্য দুই মাযহাবের তুলনায় শাফেয়ী মাযহাবের সঙ্গে পার্থক্য অধিক। তাছাড়া কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত বিভিন্ন ইলমী শহরে দুই মাযহাবের শীর্ষস্থানীয় আলিমগণ পাশাপাশি অবস্থান করেছেন, যারা মুনাযারা ও ইলমে জাদালে অধিক পারদর্শী ছিলেন। এ ধরনের আরো অনেক বিষয় আছে, যা উপরোক্ত বিষয়ের কারণ হয়েছে। কিন্তু ‘ফিকহে মুকারানের’ বিশদ গ্রন্থসমূহে এই মুকারানা ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ না শাফেয়ী মাযহাবের সঙ্গে সীমাবদ্ধ, আর না তার সঙ্গে বেশি।

 

খ. ‘জাহিরুর রিওয়ায়াহ’-এর কিতাবের মধ্যে ‘আলজামিউস সাগীর’ তিন বিষয়ে স্বাতন্ত্রের অধিকারী। ১. এ কিতাবের উপস্থাপনা রচনামূলক এবং সহজবোধ্য। ২. এতে ফিকহের অধিকাংশ মৌলিক শিরোনাম সন্নিবেশিত রয়েছে। ৩. এতে প্রত্যেক শিরোনামের বুনিয়াদী মাসাইল উল্লেখিত হয়েছে, ‘ফুরূয়ে মুখাররাজা’ এ কিতাবের বিষয়বস্ত্ত নয়।

‘কিতাবুল আসল’-এ মাসাইল অনেক, কিন্তু উপস্থাপনা সম্বোধনধর্মী। ‘আলজামিউল কাবীর’ ও ‘আযযিয়াদাত’-এর বিষয়বস্ত্ত হল ‘ফুরূয়ে মুখাররাজা’। আর ‘আসসিয়ার’ গ্রন্থে শুধু ‘কিতাবুল জিহাদ’ ও আলকানূনুদ দুয়ালী’ সংক্রান্ত মাসাইল রয়েছে।

‘বিদায়াতুল মুবতাদী’ গ্রন্থের উদ্দেশ্যে হল, সালাফের সহজবোধ্য ভাষায় ফিকহী অধ্যায়গুলোর বুনিয়াদী মাসাইল সংকলিত করা। তো এ উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য ‘আলজামিউস সাগীর’ ও ‘মুখতাসারুল কুদূরী’র চেয়ে উপযোগী গ্রন্থ আর কী হতে পারত?

গ. হাদীস  ও  সুন্নাহ  বর্ণনার  ক্ষেত্রে  সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীন থেকে ‘রিওয়ায়েত বিল মা’না’র প্রমাণ রয়েছে। (আল-কিফায়া ফী ইলমির রিওয়ায়াহ, লিল খতীব পৃ. ২৩৯-২৪৭ আলমুহাদ্দিসুল ফাসিল, রামাহুরমুযী পৃ. ৫৩৩-৫৩৭; আলফুসূল ফিল উসূল লিল জাসসাস খ. ৩ পৃ. ২১১)

হাদীসের ইমামগণের মধ্যে ইমাম বুখারী রহ. এ বিষয়ে অগ্রগণ্য। ছাহিবে হিদায়াও সম্ভবত করে থাকেন। কিন্তু তাঁর রেওয়ায়াতকৃত যে হাদীসগুলোতে ‘রিওয়ায়েত বিল মা’না’ বিদ্যমান রয়েছে, অপরিহার্য নয় যে, সবক্ষেত্রে তিনিই তা করেছেন; বরং অনেক ক্ষেত্রে এমনও হয় যে, ছাহিবে হিদায়া যে ‘মাসাদির’ থেকে হাদীসগুলো গ্রহণ করেছেন সেখানে তা এভাবেই রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো শিক্ষা ‘বিল মা’না’ সংরক্ষিত হলে তাতেও উদ্দেশ্যে হাসিল হয়ে যায়। আর ‘জাওয়ামিউল কালিম’ ছাড়া অন্যান্য হাদীসের উদ্দেশ্যেই হচ্ছে বিষয়বস্ত্তর নির্দেশনা প্রদান। অন্যথায় কুরআনের মতো হাদীসও ‘শব্দ’ ও ‘মর্মে’র সমষ্টির নাম হত। বলাবাহুল্য, বিষয়টি এমন নয়।

এরপর ‘যায়লায়ী’ ও ‘ইবনে হাজার’-এর মতো দুই ইমামের অনেক ‘লাম আজিদ’ (পেলাম না) এক ‘ইবনে কুতলুবুগা’ই যখন ‘ওয়াজাদতুহু’ (পেয়েছি)  বানিয়ে দিয়েছেন তখন শুধু কারো না-পাওয়ার ভিত্তিতে আপনি কীভাবে বলতে পারেন যে, উক্ত হাদীসটি সংরক্ষিত থাকেনি। হাদীসের সংরক্ষণ-পদ্ধতি তো কুরআনের সংরক্ষণ-পদ্ধতির মতো নয় যে, মকতব-হিফযখানার প্রত্যেক তালিবে ইলম এবং সকল মাদরাসার সকল ছাত্র-শিক্ষকেরই তা জানা থাকবে। এটা তো কুরআনের বৈশিষ্ট্য। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে-

শেয়ার লিংক