মুহাম্মাদ ফাহিম আহমাদ - নরসিংদী
৬৯৭১. প্রশ্ন
আমাদের এক সাথি প্রবাসে থাকে। সে অনেকদিন আগে বাড়িতে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীকে মৌখিক এক তালাক দিয়েছিল। পাঁচ-ছয়দিন পর আবার একসাথে থাকে। এর প্রায় দুই বছর পর মৌখিক আরও এক তালাক দেয়। কিছুদিন পর আবার একসাথে থাকে। বর্তমানে সে প্রবাসে আছে। কোনো বিষয়ে মনোমালিন্যের কারণে এখন আবার তার স্ত্রীকে মেসেজে তালাক লিখে পাঠায়, মৌখিক এখন পর্যন্ত কিছু বলেনি। এখন তাদের দাম্পত্য জীবন ঠিক থাকবে, নাকি তালাক পতিত হয়ে যাবে? হলে সর্বমোট কত তালাক পতিত হবে। জানিয়ে বাধিত করবেন।
উল্লেখ্য, সে কারও থেকে শুনেছে, দীর্ঘদিন পরপর একটি করে তালাক দিলে পূর্বের তালাক বাতিল হয়ে যায়। এ কথার কোনো বাস্তবতা আছে কি না?
আজকে সে যে তালাকটা লিখেছে তার কপিটা নিম্নরূপ—
তোমাকে আমি সজ্ঞানে তালাক দিলাম। আমার সাথে যোগাযোগ করবা না।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির পূর্বের প্রদত্ত দুই তালাকের পর মোবাইল মেসেজে দেওয়া তৃতীয় তালাকটি কার্যকর হয়ে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তারা একে অপরের জন্য পরিপূর্ণ হারাম হয়ে গেছে।
অতএব, এ অবস্থায় তাদের আর ঘর-সংসার করার কোনোই সুযোগ নেই। এমনকি নতুন করে পুনরায় বিবাহ পড়িয়ে নিলেও তারা একে অন্যের জন্য হালাল হবে না।
তৃতীয় তালাকের দিন থেকে মহিলাটি ঋতুমতী হলে পূর্ণ তিনটি ঋতুস্রাব আর অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দত চলাকালীন তার ভরণ-পোষণ তালাকদাতার জিম্মায় থাকবে। মহর অনাদায়ি থাকলে তাও তাকে আদায় করে দিতে হবে।
ইদ্দত শেষ হওয়ার পর ওই মহিলা চাইলে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। কিন্তু তিন তালাক হয়ে যাওয়ার কারণে ইদ্দতের ভেতর কিংবা ইদ্দতের পরও তালাকদাতা স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অবশ্য ইদ্দত শেষ হওয়ার পর মহিলাটির যদি অন্যত্র বিবাহ হয় এবং সেখানে দাম্পত্য সম্পর্ক (স্বামী-স্ত্রী মিলন) হয় এরপর কখনও যদি ওই স্বামী মৃত্যুবরণ করে বা সে তাকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে ওই স্বামীর মৃত্যু বা তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তারা উভয়ে চাইলে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
উল্লেখ্য, তালাক হচ্ছে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্নকারী চূড়ান্ত পদক্ষেপ। দাম্পত্য জীবনের সমস্যা একেবারে জটিল হয়ে গেলে এবং সমস্যা নিরসনের আর কোনো উপায় না থাকলে তা থেকে নিষ্কৃতির সর্বশেষ পথমাত্র। তাই তালাকের ব্যাপারে অত্যন্ত ভেবে-চিন্তে, বিজ্ঞ আলেমের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। বিনা কারণে অথবা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালাক দেওয়া কিংবা একসাথে তিন তালাক দেওয়া— সবই অন্যায় ও গোনাহের কাজ। ক্ষেত্রবিশেষে তা স্ত্রী সন্তানদের ওপর জুলুমও বটে। তাই মুসলমানদের এসব থেকে বিরত থাকা উচিত।
আরও উল্লেখ্য, তালাক যতদিন আগেই দেওয়া হোক, কম দিনের ব্যবধানে দেওয়া হোক বা বেশি দিনের; উভয় ক্ষেত্রেই তা জমা থাকে। তালাক দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হওয়ার কারণে তা বাতিল হয়ে যায় না। তাই দীর্ঘদিন পরপর একটি করে তালাক দিলে পূর্বের তালাক বাতিল হয়ে যায়— এ কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল কথা।
—সূরা বাকারা (০২) : ২২৮, ২৩০; সহীহ বুখারী, হাদীস ৫২৬১; কিতাবুল আছল ৪/৩৯২, ৪০৩, ৫১৬; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৮২, ২৯৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৪৮৪; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৩৫