সাইফুল ইসলাম - সিলেট
৬৯৭০. প্রশ্ন
আমি আমার স্ত্রীকে আমার শালির বাসায় যেতে নিষেধ করেছি। কারণ আমার শালির স্বামীর চরিত্র খারাপ। তাদের বাসায় না যাওয়ার জন্য আমি তাকে শাসন করতে গিয়ে বলেছি, ‘তুমি যদি আমার অনুমতি ছাড়া তাদের বাসায় যাও, তাহলে বিনা তালাকে তুমি তালাক’। এভাবে দুইবার বলেছি। আমার স্ত্রী এখন পর্যন্ত তাদের বাসায় যায়নি। এখন সে তাদের বাসায় যেতে চাচ্ছে। তাই জানতে চাচ্ছি, এখন করণীয় কী?
উত্তর
আপনি যেহেতু তালাকের বিষয়টিকে বিনা অনুমতিতে যাওয়ার সাথে শর্তযুক্ত করেছেন, তাই আপনার অনুমতি না নিয়ে আপনার স্ত্রী তার বোনের বাসায় গেলে তালাক পতিত হবে। অবশ্য আপনার অনুমতি নিয়ে সেখানে গেলে তালাক পতিত হবে না।
এজন্য আপনি চাইলে ভবিষ্যতের জন্য তাকে এভাবে ব্যাপক অনুমতি দিয়ে দিতে পারেন যে, তোমাকে সব সময়ের জন্য সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে রাখলাম। এভাবে ব্যাপক অনুমতি দিয়ে দেওয়ার পর ওই বাসায় প্রত্যেকবার আপনার অনুমিত না নিয়ে গেলেও ওই কথার কারণে তার ওপর আর কোনো তালাক পতিত হবে না।
প্রকাশ থাকে যে, তালাক হচ্ছে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্নকারী চূড়ান্ত পদক্ষেপ। দাম্পত্য জীবনের সমস্যা একেবারে জটিল হয়ে পড়লে এবং সমস্যা নিরসনের কোনো উপায় না থাকলে তা থেকে নিষ্কৃতির সর্বশেষ পথ। তাই কোনো বিষয় বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালাক দেওয়া বা তালাকের শর্ত জুড়ে দেওয়া অন্যায় ও গোনাহের কাজ। মুসলমানদের এহেন কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
* كتاب >الأصل< للشيباني ৯/৪৭৮: قلت: أرأيت إن قال لها: إن دخلت دار أبيك إلا بإذني، فأذن لها، فدخلت، ثم دخلت مرة بغير إذنه، أيحنث؟ قال: نعم. قلت: فكيف الوجه في ذلك حتى تدخل الدار كلما شاءت، ولا تستأمر ولا يحنث؟ قال: يقول لها الزوج: قد أذنت لك في دخول هذه الدار كلما شئت، فتدخل كلما شاءت، ولا يحنث الزوج.
—তুহফাতুল ফুকাহা ২/৩০৭; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৭০; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/১০৩; আসসিরাজুল ওয়াহ্হাজ ১২/১৩৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৩৯