মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম - সাউথ আফ্রিকা
৬৯৫৬. প্রশ্ন
যদি কোনো ক্রেতা দরদাম করে পণ্য কেনার পর বিক্রেতাকে বলে ভাউচার বা রশিদ বইয়ে ওই পণ্যের মূল্য ক্রয়কৃত মূল্যের চেয়ে বাড়িয়ে লিখতে এবং বিক্রেতাও সে অনুযায়ী রশিদ করে, তবে উক্ত ক্রয়-বিক্রয় কি হালাল হবে এবং এখান থেকে বিক্রেতার যে আয় হল, তা কি হালাল হবে?
উল্লেখ্য, এখানে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা বিদ্যমান। সুতরাং কোনো বিক্রেতাই তার ক্রেতা হারাতে চান না।
উত্তর
এভাবে বাস্তব মূল্য থেকে বাড়িয়ে ভাউচার করা সুস্পষ্ট মিথ্যা। এ মিথ্যার জন্য ক্রেতা ও দোকানদার উভয়ে গুনাহগার হবে। এছাড়া এ কাজ সাধারণত করে থাকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্রয়প্রতিনিধিরা। তারা এভাবে মিথ্যা ভাউচার দেখিয়ে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে (ভাউচারে উল্লিখিত মূল্য এবং প্রকৃত মূল্যের) মাঝের অর্থটা ভোগ করে থাকে। যা সুস্পষ্ট হারাম ও কবীরা গুনাহ; অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার শামিল।
কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে–
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوْا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ.
হে ঈমানদারগণ, তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। –সূরা নিসা (০৪) : ২৯
আর বিক্রেতার জন্য ক্রেতাকে এ ধরনের মিথ্যা ভাউচার তৈরি করে দেওয়া মানে ওই হারাম কাজে সরাসরি সহযোগিতা।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন–
وَتَعَاوَنُوْا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوٰى وَلَا تَعَاوَنُوْا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ.
তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা কর। গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। –সূরা মায়িদা (০৫) : ০২
তাই প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কথা বলে এ ধরনের মিথ্যা ভাউচার তৈরি করে দেওয়ার কোনোই সুযোগ নেই। এ ধরনের আবদার রক্ষা করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রকৃত মূল্যই মেমোতে লিখতে হবে।
উল্লেখ্য, বেচাকেনার শরীয়ত নির্দেশিত যাবতীয় শর্ত পাওয়া গেলে বিক্রীত পণ্যের মূল্য হালাল হয়ে যাবে।
–তাফসীরে তাবারী ৬/৫১০; আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ৩/১৬০, ২৪১; তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৭; আলহিদায়া ৩/৬৭; যাদুল ফুকাহা ১/৩৫৫; আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ১/২৬৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৪২৭