সফর ১৪৪৮ || আগস্ট ২০২৬

এম এ লতিফ - হালিশহর, চট্টগ্রাম

৬৯৫৫. প্রশ্ন

আমি একটি অয়েল ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে চাকরি করি। কোম্পানির প্রধান ব্যবসা হল, লুব অয়েল, এলপিজি পেট্রোলিয়াম অয়েল (ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ইত্যাদি) বিক্রয়। কোম্পানির লাভ তেল বিক্রয়, সুদ-ভিত্তিক ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (FDR)-এর সুদ এবং অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে আসে।

প্রতি বছর কোম্পানিটি বার্ষিক করপূর্ব মুনাফা থেকে প্রত্যেক কর্মচারীকে ওয়ার্কার প্রফিট পার্টিসিপেশন (WPPF) হিসেবে ৫% প্রফিট বোনাস দেয়। প্রত্যেক কর্মচারী নিয়মিত বেতন-ভাতা ছাড়াই একই পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকে। বাৎসরিক প্রফিট বোনাস দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও শ্রমিক ৫%-এ বাৎসরিক কত টাকা পাবে, তা নির্ধারিত নয়; বরং কোম্পানির নিট প্রফিট হলেই প্রফিট বোনাস পাবে। কিন্তু লোকসান হলে কিছু পাবে না।

জানার বিষয় হল, এরকম মিশ্র মুনাফার ক্ষেত্রে একজন কর্মচারীর জন্য ৫% প্রফিট বোনাস গ্রহণের কী হুকুম? পুরো ৫% বোনাস কি হালাল আয় হিসেবে গণ্য হবে, নাকি সুদের আয় থেকে আসা বোনাসের অংশ হারাম হিসেবে বিবেচিত হবে? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী কোম্পানিটির প্রফিটে যেহেতু নিশ্চিতভাবে ব্যাংকের স্থায়ী আমানত তথা FDR এর সুদের টাকাও অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই উক্ত প্রফিট থেকে কোম্পানি কর্মচারীদের ‘ওয়ারকার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড’ (WPPF) নামে যে ৫% প্রফিট বোনাস দেয়, তাতে সুদের একটি অংশ থাকা নিশ্চিত বিষয়। তাই প্রফিট বোনাস হিসেবে প্রাপ্ত ৫% এর পুরোটা কর্মচারীদের জন্য বৈধ গণ্য হবে না; বরং উক্ত টাকা থেকে সুদের অংশ পরিমাণ দরিদ্রদের সদকা করে দিতে হবে। আর কর্মচারীর নিজের অংশে FDR থেকে কত টাকা সুদ এল, তা নির্ধারণের জন্য কোম্পানির ব্যালেন্স শিটের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে অনুমান করে একটি অংশ সদকা করবে।

ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪০০; আয্যাখীরাতুল বুরহানিয়া ৭/৩২৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৬০; আলআশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ৩৪৪; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৮৫; রদ্দুল মুহতার ৫/৯৮, ৬/৩৮৫

এই সংখ্যার অন্যান্য প্রশ্ন-উত্তর পড়ুন