সফর ১৪৪৮ || আগস্ট ২০২৬

সাইফুল ইসলাম - শনির আখড়া, ঢাকা

৬৯৫৩. প্রশ্ন

ঢাকা শহরের অনেক এলাকায় এভাবে বাসা ভাড়া চুক্তি করা হয় যে, বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়। যা বাবদ বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার নির্দিষ্ট কয়েক বছরের ভাড়া মওকুফ করে দেয়। শুধু সার্ভিস চার্জ দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকে। যেমন, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল ইত্যাদি। বাড়িওয়ালা এই টাকা ব্যবসায় খাটায় এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ পার হওয়ার পর টাকা ফেরত দিলে বাসা ভাড়া প্রযোজ্য হয়।

এখন আমার প্রশ্ন হল, এভাবে বাসা ভাড়া চুক্তি করা জায়েয আছে কি না? দয়া করে জানালে উপকৃত হতাম।

উত্তর

বাসা ভাড়ার উক্ত পদ্ধতিটি বৈধ নয়। এটি মূলত বাসা ভাড়া নয়; বরং সুদি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। কেননা এ টাকাগুলো যেহেতু নির্ধারিত মেয়াদের পর পুরো টাকাই প্রদানকারীকে ফেরত দেবে, তাই এটি বাসার ভাড়া নয়; ঋণের অন্তর্ভুক্ত। তাই এক্ষেত্রে টাকা প্রদানকারী ঋণদাতা আর বাসার মালিক ঋণগ্রহীতা। এই ঋণের বিনিময়ে বাসার মালিক ঋণদাতাকে তার বাসায় বিনা ভাড়ায় থাকতে দিচ্ছে। সুতরাং এটি ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান। যা সুদের অন্তর্ভুক্ত।

মনে রাখা দরকার, ঋণের বিনিময়ে সুদ অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের মাধ্যমেও হতে পারে, আবার অতিরিক্ত না দিয়ে এভাবে অতিরিক্ত সার্ভিস প্রদানের মাধ্যমেও হতে পারে। সবই সুদের অন্তর্ভুক্ত ও হারাম।

মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন রাহ. বর্ণনা করেন

 ذُكِرَ لاِبْنِ مَسْعُودٍ أن رَجُلاً أَقْرَضَ رَجُلاً دَرَاهِم، وَاشْتَرَطَ ظَهْرَ فَرَسِهِ، قَالَ: مَا أَصَابَ مِنْ ظَهْرِ فَرَسِهِ، فَهُوَ رِبًا.

এক লোক একজনকে ঋণ দিয়ে এ শর্ত আরোপ করে যে, সে ঋণগ্রহীতার ঘোড়ায় আরোহণ করবে। এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা.-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এর জবাবে বলেন, ঋণের বিনিময়ে সে যে ঋণগ্রহীতার ঘোড়ায় আরোহণ করেছে, তা সুদ হয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২১০৬৮)

অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, হাকাম রাহ. বর্ণনা করেন, ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেছেন

كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً فَهُوَ رِبًا.

ঋণ দিয়ে এর বিনিময়ে ঋণগ্রহীতা থেকে কোনো সুবিধা গ্রহণ করাই সুদ। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২১০৭৮)

সুতরাং প্রশ্নোক্ত পদ্ধতি থেকে বিরত থাকা জরুরি।

উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে বাড়িওয়ালা যদি ভাড়াটিয়া থেকে এক মুঠে মোটা অঙ্কের অর্থ বৈধ পন্থায় নিতে চায়, তাহলে এ পন্থা অবলম্বন করতে পারে যে, বাড়িওয়ালা তার বাসা বা ফ্ল্যাট দীর্ঘ মেয়াদের জন্য যেমন ৫/১০ বছরের জন্য ভাড়া দেবে এবং পূর্ণ মেয়াদের অগ্রিম ভাড়া ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে অগ্রিম এককালীন নিয়ে নেবে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে কোনো কারণে যদি মধ্য মেয়াদে এ চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, তাহলে বাকি মেয়াদের অগ্রিম ভাড়ার টাকা ভাড়াটিয়াকে ফেরত দিয়ে দেবে।

কিতাবুল আছল ৩/২৫; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২১০; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬৬; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দাহ ৪৬৮

এই সংখ্যার অন্যান্য প্রশ্ন-উত্তর পড়ুন