সফর ১৪৪৮ || আগস্ট ২০২৬

মুহাম্মাদ নূরে আলম - ওয়েস্ট কাফরুল, তালতলা, ঢাকা

৬৯৪৮. প্রশ্ন

আমি কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লোর ভাড়া দিয়ে থাকি এবং এর বিপরীতে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে জামানত গ্রহণ করি। জামানত হিসেবে জমাকৃত টাকার একটা অংশ ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে নির্ধারিত হারে কর্তন হয়। আর বাকি অংশ চুক্তির মেয়াদান্তে ভাড়াটিয়াকে ফেরত দিতে হয়। যেমন, তিন বছর মেয়াদে ভাড়া-চুক্তি করা হয়েছে। মাসিক ভাড়া ধার্য করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা এবং ভাড়া গ্রহণের সময় ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে জামানত নেওয়া হয়েছে ২০ লক্ষ টাকা।

চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এভাবে যে, ভাড়াটিয়া প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করবে। আর জামানতের টাকা থেকে প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ ২০ হাজার টাকা কর্তন হবে। এভাবে জামানতের টাকা থেকে তিন বছরে মোট ৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকা কর্তন হয়ে চুক্তির মেয়াদান্তে ভাড়াটিয়াকে ফেরত দেওয়া হবে ১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।

এখন আমার জিজ্ঞাসা হল

১. জামানতের এই ২০ লক্ষ টাকা কি আমি আমার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারব? জামানতের এই টাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী?

২. জামানত হিসাবে নেওয়া ২০ লক্ষ টাকার যাকাত আমাকে দিতে হবে, নাকি ভাড়াটিয়া দেবে? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণমতে ভাড়া গ্রহীতা থেকে জামানতের নামে আপনি এককালীন যে ২০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন, সেখানে দুই ধরনের টাকা রয়েছে।

১. অ্যাডভান্স বা অগ্রিম ভাড়া।

২. জামানত বা সিকিউরিটি মানি।

সুতরাং এ থেকে চুক্তি অনুযায়ী যেহেতু ২০ হাজার টাকা করে তিন বছরে মাসিক ভাড়া বাবদ কর্তন ধরা হবে, তাই ৩৬দ্ধ২০,০০০=৭,২০,০০০ টাকা অগ্রিম ভাড়া হিসেবে ধর্তব্য হবে। প্রথম দিন থেকেই আপনি অগ্রিম ভাড়া বাবদ গৃহীত ওই টাকার মালিক হয়ে যাবেন। ওই টাকা আপনি নিজের মালিকানাধীন সম্পদ হিসাবে বৈধ যে-কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবেন এবং এর যাকাতও আপনাকে আদায় করতে হবে।

কিন্তু বাকি ১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা জামানত বা সিকিউরিটি মানি হিসেবে আপনার কাছে জমা থাকবে, যা চুক্তি অনুযায়ী ভাড়ার মেয়াদ শেষে ভাড়া গ্রহীতাকে ফেরত দিতে হবে। এ টাকার মালিক ভাড়া গ্রহীতা; আপনি নন। আপনার কাছে এই টাকা বন্ধক হিসেবে থাকবে। তা ব্যবহার করা আপনার জন্য জায়েয হবে না। কেননা বন্ধক গ্রহীতার জন্য বন্ধকি বস্তু ব্যবহার করে উপকার গ্রহণ করা জায়েয নয়।

আপনার কর্তব্য হল, এই টাকা হেফাজত করে রাখা। আর আপনি যেহেতু এই টাকার মালিক নন, তাই এই টাকার যাকাতও আপনাকে দিতে হবে না।

মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ১৫০৬৯; কিতাবুল আছল ৩/১৭৩; আলজামিউল কাবীর, পৃ. ২৫; আলমাবসূত, সারাখসী ২১/১০৬, ১২২; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৬১; আলমুহীতুর রাযাবী ১/৫১৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২৪৮; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/৮৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৪৮২

এই সংখ্যার অন্যান্য প্রশ্ন-উত্তর পড়ুন