আলী আশরাফ - জয়পুরহাট
৬৯৪৬. প্রশ্ন
এক জায়গায় ইফতারের দাওয়াত ছিল। ইফতার শেষ হতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। মসজিদ দূরে হওয়ায় মসজিদে গিয়ে মাগরিবের নামাযের জামাত পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। তাই আমরা ঘরেই নামায পড়ার সিদ্ধান্ত নিই।
ঘরের মেঝেতে তোশক বিছানো ছিল। তোশকটি কিছুটা নরম ছিল। তখন একজন বলল, নরম তোশকের ওপর নামায পড়লে নামায হয় না; বরং সিজদা সহীহ হওয়ার জন্য সিজদার স্থান শক্ত হওয়া জরুরি। ফলে আমরা তোশক উঠিয়ে নামায আদায় করি।
মুফতী সাহেবের কাছে প্রশ্ন হল, ওই ব্যক্তির কথা কি ঠিক? নরম তোশকের ওপর নামায পড়লে কি আসলেই নামায হয় না? তাছাড়া ফোম, ম্যাট্রেস, জাজিমের ওপর নামায পড়ারই-বা কী হুকুম?
উত্তর
না, মাসআলাটি ঠিক এরকম নয়; বরং তোশক নরম হলেও তাতে নামায আদায় করা সহীহ আছে। এক্ষেত্রে মাসআলা হল, সিজদার জায়গাটি যদি এমন হয় যে, তাতে মাথা রাখলে মাথা স্থিরই হয় না; বরং মাথা নিচের দিকে যেতেই থাকে, তাহলে তাতে সিজদা আদায় হবে না এবং নামাযও সহীহ হবে না।
কিন্তু সিজদার জায়গা যদি এপর্যায়ের নরম না হয়; বরং কিছু নরম হলেও এবং তাতে মাথা শক্তভাবে রাখলে কিছুটা নিচে চলে গেলেও এরপর তাতে মাথা স্থির হয়ে যায়, তাহলে ওই বিছানায়ও সিজদা করা সহীহ হবে।
অতএব আমাদের দেশে সাধারণভাবে ব্যবহৃত তোশক, জাজিম ও ম্যাট্রেস নরম হলেও তাতে যেহেতু একটা পর্যায়ে মাথা স্থির হয়ে যায়, তাই এগুলোর ওপর নামায আদায় করতে সমস্যা নেই। আর ফোম যদি অনেক বেশি নরম এবং অনেক বেশি মোটা হয়, যাতে শক্তভাবে সিজদা করলে এর ভেতর চেহারা অদৃশ্য হয়ে যায় এবং এর পরও মাথা স্থির হয় না, তাহলে তাতে সিজদা করা সহীহ হবে না। কিন্তু যদি এ পর্যায়ের মোটা ও নরম না হয়, তাহলে তাতেও সিজদা সহীহ হবে।
* >المحيط الرضوي< ১/২৪৫ : ولو سجد على الحشيش أو القطن، إن وجد حجمه وتمكن منه جاز، وإلا فلا. ولو سجد على الثلج، إن لبده جاز؛ لأنه بمعنى الأرض؛ لأن الجبهة تجد قرارا عليه، وإن لم يلبده ولا يجد حجمه لا يجوز؛ لأنه بمنزلة السجود في الهواء. ولو سجد على الأرز والذرة والجاورس لا يجوز؛ لأن الجبهة لا تجد قرارا عليه، ولو سجد على الحنطة والشعير جاز؛ لأن الجبهة تجد قرارا عليهما.
–কিতাবুল আছল ১/১৭৯; আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশায়িখ, পৃ. ৭৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১২৩; আলগায়াহ শরহুল হিদায়াহ, সারুজী ৩/১৭৯; শরহুল মুনইয়াহ, পৃ. ২৮৯; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১৯; রদ্দুল মুহতার ১/৪৫৪