মোহাম্মদ আনোয়ার - কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
৬৯৪১. প্রশ্ন
আমি একজন গাড়ি চালক। আমার মালিক গাড়ি বিক্রি করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। তাই এর জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করি। গাড়িটি এক লোকের পছন্দ হয় এবং সে আমাকে বলে, আমাকে ১০ হাজার টাকা দেবে এবং আমি যার মাধ্যমে ক্রয়কারী ব্যক্তিকে পেয়েছি তাকেও ১০ হাজার টাকা দেবে। তবে এসবের প্রতি আমার কোনো আগ্রহ ছিল না। এবং সে বাস্তবেই যে টাকা দেবে তাও আমি বিশ্বাস করিনি।
ওই ভদ্রলোক গাড়ির দাম জিজ্ঞেস করলে আমি ২৫ লাখ টাকা চেয়েছিলাম। যদিও গাড়ির মালিক আমাকে আগেই বলেছিল ২৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিতে। তারপরও আমি ২৪ লাখের বেশিতে বিক্রি করার চেষ্টা করি। ভদ্রলোক ২৪ লাখ টাকা বলছিল। তখনও মালিক বলেছিল, দিয়ে দাও। আমি ভাবলাম, দেখি আরও কিছু বেশিতে বিক্রি করে দেওয়া যায় কি না। আমি নিজ থেকে উনাকে বললাম, ৩০ হাজার টাকা দেবেন। উনি রাজি হয়ে গেলেন।
আমি যে ৩০ হাজার টাকা বেশি চেয়েছি, এটা গাড়ির মালিককে বললে তিনি বলেন, তাহলে তোমারও লাভ হবে। মানে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি আমাকে কোনো টাকা দেবেন।
পরে ওই ভদ্রলোক ২৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে গেল। যাওয়ার সময় আমাকে ১০ হাজার টাকা দিল এবং যেই লোকের মাধ্যমে তাদেরকে পেয়েছিলাম সেই লোককেও ১০ হাজার টাকা দিল।
সম্মানিত মুফতী সাহেবের নিকট আমার জানার বিষয় হল–
১. আমার মালিক ২৪ লাখে গাড়ি বিক্রি করে দিত। তারপরও যে আমি ২৪ লাখের বেশিতে বিক্রি করার চেষ্টা করেছি, এতে কি আমি গাড়ি ক্রয়কারীর ওপর কোনো জুলুম করেছি?
২. গাড়ি ক্রয়কারী ব্যক্তি যে আমাকে ১০ হাজার টাকা দিলেন, তা গ্রহণ করার দ্বারা আমি গাড়ির মালিক অথবা গাড়ি ক্রয়কারী ব্যক্তির ওপর কি কোনো জুলুম করেছি?
৩. আমার গাড়ির মালিক গাড়ি বিক্রি শেষে আমাকে খুশি হয়ে কিছু টাকা দিয়েছে। এই টাকা গ্রহণ করা আমার জন্য কি বৈধ? এবং গাড়ির মালিক যে আমাকে টাকা দিয়েছে এই টাকা গ্রহণ করার দ্বারা গাড়ি ক্রয়কারী ব্যক্তির সাথে কি আমি কোনো প্রতারণা করেছি?
বিষয়গুলো জানানোর অনুরোধ রইল।
উত্তর
১. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মালিক ২৪ লাখে গাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার কথা বলার পর তা বেশি দামে বিক্রি করা দূষণীয় হয়নি। মালিকের বলে দেওয়া ২৪ লাখ আসলে সর্বনিম্ন মূল্য বোঝাচ্ছিল। এর চেয়ে বেশিতে বিক্রি করায় তার পক্ষ থেকে নিষেধ ছিল না।
আর আপনি গাড়িটি ২৪ লাখের বেশিতে বিক্রি করে ক্রেতার ওপর কোনো জুলুমও করেননি। কেননা ক্রেতা তো নিজে বুঝেশুনেই গাড়িটি ওই মূল্যে কিনে নিয়েছে। আপনি বেশি মূল্যে বিক্রির জন্য তার সাথে মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নেননি এবং এটি গাড়ির স্বাভাবিক মূল্য থেকে অনেক বেশিও নয়।
তাছাড়া অতিরিক্ত টাকা নিজে আত্মসাৎ করার জন্যও আপনি তা বিক্রি করে দেননি; বরং পূর্ণ মূল্য মালিককে দেওয়ার জন্যই করেছেন, তাই এতে অন্যায় কিছু হয়নি। আপনার জন্য এমনটি করা জায়েয হয়েছে।
২. যেহেতু আপনি নিজে গাড়ির মালিকের পক্ষেই কাজ করেছেন, ক্রেতাকে সুবিধা বা বাড়তি কোনো ছাড় দেননি, তাই গাড়ি ক্রয় শেষে ক্রেতা আপনাকে যে অর্থ প্রদান করেছে, তা-ও আপনার জন্য ভোগ করা জায়েয হবে।
৩. আপনি গাড়িটি বিক্রি করার পর গাড়ির মালিক খুশি হয়ে যে অর্থ আপনাকে দিয়েছেন সেটি গ্রহণ করা আপনার জন্য জায়েয। এতে সমস্যা নেই।
* >الفتاوى الخانية< ২/৩৬৩ : وإن طلب منه أن يسوي أمره، ولم يذكر له الرشوة، ثم أعطاه بعد ما سوى، اختلفوا فيه، قال بعضهم: لا يحل له أن يأخذه، وقال بعضهم: يحل، وهو الصحيح؛ لأنه بر ومجازاة الإحسان، فيحل.
–বাদায়েউস সানায়ে ৫/২৬; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ২/৪৭৭; ফাতহুল কাদীর ৬/৩৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৫২১; রদ্দুল মুহতার ৫/৩৬২