মুহাররম ১৪৪৮ || জুলাই ২০২৬

মুফতী আব্দুর সবুর - চরভদ্রাসন, ফরিদপুর

৬৯৩৬. প্রশ্ন

আমরা যেখানে জুমার নামায আদায় করি, সে মসজিদটি এলাকার এবং সেখানে আমাদের একটি মাদরাসাও রয়েছে। সকল ছাত্র-উস্তায তাতে জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করেন। সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে জুমার নামায সহীহ হওয়া না হওয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ঘটনাটি হল

এলাকার একজন দাগি চোর, যে এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে বিভিন্ন সময় চুরি করে থাকে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ও বিভিন্ন সময় হাতেনাতেও তাকে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাদরাসার মোটর চুরি ও অন্যের ছাগল চুরি করে এনে মাদরাসায় বিক্রি করা এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে অন্যের স্ত্রীকে এনে ব্যভিচারসহ নানা রকমের নিন্দিত ও নিষিদ্ধ কাজের সাথে জড়িত রয়েছে।

তাই এলাকাবাসী সবাই মিলে চোরের পরিবার ও বাবার কাছে বিচার দিলে বাবা বলে, আমি এই ছেলেকে ত্যাজ্য করে দিয়েছি। অতএব তার কোনো সমাধান আমার কাছে নেই। তোমরা যা পার তা কর।

এরপর এলাকাবাসী ধরে তাকে ভালোভাবে মেরে হাসপাতালে ভর্তি করে। (এবং তার চিকিৎসা বাবদ যাবতীয় খরচ এলাকাবাসী বহন করে) কিছুদিন পরে চোর এবং চোরের বাবা মিলে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। এতে এলাকার যুবসমাজ চোর ও চোরের বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো এক জুমার দিন সকলের উপস্থিতে এক যুবক ঘোষণা করে, চোর ও চোরের বাবা যদি মসজিদে আসে, তাহলে আমরা আর মসজিদে আসব না। সুতরাং তারা আর আমাদের মসজিদে আসতে পারবে না।

তারপর থেকে চোর ও চোরের বাবা আর মসজিদে আসে না।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসাতিযায়ে কেরামের মধ্যে উক্ত মসজিদে জুমার নামায সহীহ হওয়া ও না হওয়া নিয়ে মতানৈক্য দেখা দেয়। কেউ কেউ বলেন, ‘ইযনে আম’ বাতিল হয়ে গেছে; তাই তাতে জুমা সহীহ হবে না। কেউ কেউ বলেন, না, বাতিল হয়নি; তাতে জুমা সহীহ হবে।

এক্ষেত্রে সঠিক সমাধান জানতে চাই।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনামতে যেসব কারণে ওই দুই ব্যক্তিকে মসজিদে জুমায় আসতে বারণ করা হয়েছে, সে কারণে ওই মসজিদের ‘ইযনে আম’ বাতিল হয়নি। কারণ প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়েছে ভিন্ন কারণে; নামায সংশ্লিষ্ট কারণে নয়। তাই সেখানে জুমা সহীহ হতে কোনো অসুবিধা নেই।

আর বাস্তবেই যদি এ উদ্দেশ্যে তাদেরকে এ মসজিদে আসতে বারণ করা হয় যে, এ কারণে অন্যরা ভয় পাবে এবং তা একটি দৃষ্টান্ত হবে, তাহলে এই উদ্যোগটি শরীয়ত পরিপন্থিও নয়। তবে তারা যদি তওবা করে এহেন কাজ ভবিষ্যতে না করার অঙ্গীকার করে এবং বাস্তবেই নিজেদের শুধরে নেয়, তাহলে তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত।

* >عمدة القاري< ৬/১৪৬ : وألحق بالحديث: كل من آذى الناس بلسانه في المسجد، وبه أفتى ابن عمر رضي الله تعالى عنهما، وهو أصل في نفي كل ما يتأذى به.

* >منحة الخالق< ২/১৫১ : لا يضر غلق باب القلعة لعدو أو لعادة قديمة؛ لأن الإذن العام مقرر لأهله.

মাজমাউল আনহুর ১/২৪৬; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ২৭৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৬১; রদ্দুল মুহতার ২/১৫২

এই সংখ্যার অন্যান্য প্রশ্ন-উত্তর পড়ুন