রিদওয়ান মাহমুদ - চাঁদপুর
৬৯৩২. প্রশ্ন
হিন্দুদের কোনো পূজায় যদি কোনো মুসলিম শুভেচ্ছা জানায়, তাহলে কি তার ঈমান থাকবে? সম্প্রতি পূজা চলাকালে কিছু মুসলিম নেতা এতে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ইসলাম এই ব্যাপারে কী হুকুম প্রদান করে?
আশা করছি, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করবেন।
উত্তর
ঈমান অতি সংবেদনশীল বিষয়। কুফর-শিরকের প্রতি অনুরাগ, উদারতা প্রদর্শন, বিধর্মীদের ধর্মীয় পর্ব-উৎসবে অংশগ্রহণ, শুভেচ্ছা-শুভকামনা জানানো– সবই ঈমান পরিপন্থি কাজ।
ঈমানের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হল, কুফর-শিরক থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ও সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেওয়া এবং অমুসলিমদের সকল ধর্মীয় পর্ব-উৎসব থেকে দূরে থাকা এবং তাদের ধর্মীয় নিদর্শনের প্রতি কোনো ধরনের সম্মান প্রদর্শন থেকে বিরত থাকা।
পূজায় শুভকামনা জানানো মানে শিরকের বিষয়ে শুভকামনা জানানো। এটি যে কত ভয়াবহ ব্যাপার, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সুতরাং কোনো মুমিনের জন্য পূজা ইত্যাদিতে শুভেচ্ছা-শুভকামনা জানানোর সুযোগ নেই।
আর বিধর্মীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে শিরকী কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত থেকেও অংশগ্রহণ করা নাজায়েয।
উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন–
اجْتَنِبُوا أَعْدَاءَ اللهِ فِي عِيدِهِمْ.
আল্লাহ্র দুশমন (কাফের-মুশরিক)-দের ধর্মীয় উৎসব থেকে দূরে থাক। (সুনানে কুবরা, বায়হাকী, বর্ণনা ১৮৮৬২)
তিনি আরও বলেন–
وَلَا تَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ فِي كَنَائِسِهِمْ يَوْمَ عِيْدِهِمْ، فَإِنَّ السَّخْطَةَ تَنْزِلُ عَلَيْهِمْ.
তোমরা মুশরিকদের ধর্মীয় উৎসবে তাদের উপাসনালয়ে যাবে না। কেননা (সে সময়) তাদের ওপর আল্লাহ্র ক্রোধ ও গযব নাযিল হতে থাকে। (মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ১৬০৯)
তাই প্রত্যেক ঈমানদার মুসলমানের ওপর আবশ্যক, এ ধরনের কাজ থেকে বেঁচে থাকা।
উল্লেখ্য, মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। তারা সে দায়িত্ব আদায় করবে। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য হোক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে– তাদের কুফর-শিরক ও পূজা-উৎসবের প্রতি শুভকামনা, শুভেচ্ছা প্রকাশ এবং তাদের ধর্মীয় আয়োজন ও উৎসবে অংশগ্রহণ করা কিছুতেই বৈধ হতে পারে না। মুসলমানদেরকে এসব থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা সকলকে হেদায়েত দান করুন।
* >المحيط البرهاني< ৭/৪২৯ : اجتمع المجوس يوم النيروز، فقال مسلم: خوب رسم نهاده اند أو قال: نيک اثر نهاده اند، يخاف عليه الكفر.
–খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৮৭; আয্যাখীরাতুল বুরহানিয়া ৭/১৪০; আহকামু আহলিয যিম্মা ১/১৫৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৭/৩৪৮; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৬/৩৩৩; মাজমূউ রাসায়িলিল মোল্লা আলী আলকারী ৭/১৭৪