যুবায়ের হাসান - ঢাকা
৬৯১৮. প্রশ্ন
তাকবীরে তাশরীক নিয়ে আমাদের মাঝে একটি গোলযোগ সৃষ্টি হয়। একজন বলেন, প্রত্যেক নামাযের পরে তিনবার তাকবীর পড়া সুন্নত; একবার ওয়াজিব। এখন জানার বিষয় হল, তিনবার পড়া সুন্নত– এ কথা কি প্রমাণিত?
উত্তর
নয় যিলহজ্ব ফজর থেকে তেরো যিলহজ্ব আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর একবার তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব। কিন্তু তা তিনবার বলা সুন্নত-মুস্তাহাব নয়। এক্ষেত্রে পুরো তাকবীরে তাশরীক তিনবার পড়া সুন্নত হওয়ার কথা কেউ বলেননি। কোনো কোনো কিতাবে এক্ষেত্রে ‘তাকবীর’ তিনবার বলার কথা আছে এবং এর সপক্ষে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর আছার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেখানে ‘তাকবীর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, শুধু اَللهُ أَكْبَرُ বলা। অর্থাৎ তাকবীরে তাশরীকের শুরুতে সাধারণত আমরা اَللهُ أَكْبَرُ দুইবার বলে থাকি। সেখানে اَللهُ أَكْبَرُ শব্দটি তিনবার বলার কথা এসেছে; পুরো তাকবীরে তাশরীকই তিনবার বলা উদ্দেশ্য নয়।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর আছারটি নিম্নরূপ–
নাফে‘ রাহ. আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সম্পর্কে বর্ণনা করেন–
أَنَّه كَانَ يُكَبِّرُ مِنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ يَوْمَ النَّحْرِ إِلَى صَلَاةِ الْفَجْرِ مِنْ آخِرِ أَيَّامِ التَّشْرِيْقِ، يَقُوْلُ: اللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ.
অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ইয়াউমুন্ নাহ্রের দিন যোহর থেকে আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিন ফজর পর্যন্ত তাকবীর বলতেন। তিনি বলতেন–
اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَه، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ.
–আলআওসাত, ইবনুল মুনযির, বর্ণনা ২২০২
স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে যে, এখানে শুধু প্রথমে اَللهُ أَكْبَرُ তিনবার বলা হয়েছে। এর পরে তাকবীরে তাশরীকের ভিন্ন একটি পাঠের বর্ণনা করা হয়েছে।
অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামও এই দিনগুলোতে কীভাবে তাকবীরে তাশরীক বলতেন, তা হাদীসের কিতাবগুলোতে বর্ণিত হয়েছে। সেখানেও একাধিকবার তাকবীরে তাশরীক পড়ার কথা নেই।
প্রখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন–
كَانُوْا يُكَبِّرُوْنَ يَوْمَ عَرَفَةَ وَأَحَدُهُمْ مُسْتَقْبِلٌ الْقِبْلَةَ فِيْ دُبُرِ الصَّلاَةِ : اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الْحَمْدُ.
অর্থাৎ আরাফার দিন সাহাবায়ে কেরাম রা. নামাযের পর কিবলামুখী থাকাবস্থায় তাকবীরে তাশরীক পড়তেন। আর তা এভাবে যে–
اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الْحَمْدُ.
–মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৬৯৬
শারীক রাহ. বলেন–
قُلْتُ لأَبِيْ إِسْحَاقَ : كَيْفَ كَانَ تَكْبِيْرُ عَلِيٍّ وَعَبْدِ اللهِ؟ فَقَالَ : كَانَا يَقُوْلاَنِ : اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الْحَمْدُ.
আমি আবু ইসহাক রাহ.-এর কাছে আলী রা. ও আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. কীভাবে তাকবীরে তাশরীক পড়তেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, তারা এভাবে তাকবীরে তাশরীক পড়তেন–
اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الْحَمْدُ.
–মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৫৬৯৯
অতএব এই দিনগুলোতে ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক একবার পড়াই শরীয়তের বিধান। তবে কেউ যদি তিনবার পড়াকে সুন্নত মনে না করে একবার পড়ার পর যিকির হিসেবে আরও কয়েকবার পড়ে, তাহলে সেটি দূষণীয় হবে না। কোনো কোনো ফকীহ সুন্নত মনে করে একবারের বেশি তাকবীরে তাশরীক পড়াকে খেলাফে সুন্নত বলেছেন।
* >الجامع الصغير< ص ১১৪: وهو أن يقول >الله أكبر الله أكبر لا إله الا الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد< مرة واحدة.
* >حاشية الطحطاوي على المراقي< ص ২৯৪: (ويأتي به مرة) وما زاد فهو مستحب، قاله البدر العيني في شرح التحفة، وأقره في الدر، وفي الحموي عن القراحصاري: الإتيان به مرتين خلاف السنة، وفي مجمع الأنهر: إن زاد فقد خالف السنة اهـ ولعل محله ما إذا أتى به على أنه سنة، وأما إذا أتى به على أنه ذكر مطلق فلا.
–তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৪৪; ফাতহুল কাদীর ২/৪৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৫; মাজমাউল আনহুর ১/২৬০; রদ্দুল মুহতার ২/১৭৭; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/২৯০; আলমাজমূ ৫/৪৭