আমীর হামজা - রংপুর সদর, রংপুর
৬৮৬৫. প্রশ্ন
বিক্রেতা কোনো পণ্য নগদে কম মূল্যে আর বাকিতে অধিকমূল্যে প্রস্তাব করলে যদি ক্রেতা মজলিস ত্যাগের আগেই বাকিতে অধিকমূল্যে কবুল করে এবং মূল্য আদায়ের সময়ও নির্ধারণ করে নেয়, তাহলে কি উক্ত ক্রয়বিক্রয় জায়েয হবে?
যদি জায়েয হয়, তাহলে নিম্নের এই নসগুলোর নির্দেশনা ও হুকুম কী হবে–
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ ﷺ عَنْ بَيْعَتَيْنِ فِى بَيْعَةٍ، رَوَاهُ مَالِكٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ.
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একই বিক্রির মধ্যে দুই রকমের বিক্রি থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১২৩১)
আবার আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন–
مَنْ بَاعَ بَيْعَتَيْنِ فِى بَيْعَةٍ فَلَهُ أَوْكَسُهُمَا أَوِ الرِّبَا.
যে ব্যক্তি একই দ্রব্য বিক্রয়ে দুইরকম নিয়ম রাখে, তাকে দুই মূল্যের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যই গ্রহণ করতে হবে, নতুবা তা হবে সুদ। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৫৫)
عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ: حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: لَا رِبًا إِلَّا فِي النَّسِيئَةِ.
উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুদ কেবল বাকি লেনদেনেই হয়ে থাকে। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৫৮০)
আশা করি কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে বিশুদ্ধ মতের আলোচনায় যথাযথ উত্তর প্রদান করে সংশয় দূর করবেন ইনশাআল্লাহ। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
উত্তর
হাদীস শরীফে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম بيعتان في بيعة থেকে নিষেধ করেছেন। তবে প্রশ্নে ক্রয়বিক্রয়ের যে পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে, তা بيعتان في بيعة -এর অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং সেটি জায়েয আছে।
ইমাম তিরমিযী রাহ. بيعتان في بيعة
-এর হাদীস বর্ণনার পর এর ব্যাখ্যায় বলেন–
وقد فسر بعض أهل العلم قالوا: بيعتين في بيعة أن يقول: أبيعك هذا الثوب بنقد بعشرة، وبنسيئة بعشرين ولا يفارقه على أحد البيعين، فإذا فارقه على أحدهما فلا بأس، إذا كانت العقدة على أحد منهما.
আহলে ইলম এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, بيعتان في بيعة অর্থ হল, বিক্রেতা ক্রেতাকে বলবে, এই কাপড় নগদে কিনলে দশ দিরহাম আর বাকিতে কিনলে বিশ দিরহাম। এরপর তারা উভয়ে কোনো একটি মূল্য চূড়ান্ত না করেই ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন করে ফেলে এবং ক্রেতা পণ্য নিয়ে চলে যায়। তাহলে তা নিষেধ। (হাদীসে এ পদ্ধতিকে নিষেধ করা হয়েছে।) কিন্তু যদি কোনো একটি মূল্যের (নগদ অথবা বাকি) ওপর বিক্রি চূড়ান্ত করে নেয় এবং এরপর ক্রেতা পণ্য নিয়ে যায়, তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। (জামে তিরমিযী ২/৫১৪)
তাবেয়ীগণ থেকেও এমন বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে।
শুবা রাহ. বলেন–
سَأَلْتُ الْحَكَمَ، وَحَمَّادًا عَنِ الرَّجُلِ يَشْتَرِي مِنَ الرَّجُلِ الشَّيْءَ فَيَقُولُ: إِنْ كَانَ بِنَقْدٍ فَبِكَذَا وَإِنْ كَانَ إلَى أَجَلٍ فَبِكَذَا، قَالَ: لاَ بَأْسَ إذَا انْصَرَفَ عَلَى أَحَدِهِمَا، قَالَ شُعْبَةُ: فَذَكَرْت ذَلِكَ لَمُغِيرَةَ، فَقَالَ: كَانَ إبْرَاهِيمُ لاَ يَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا إذَا تَفَرَّقَ عَلَى أَحَدِهِمَا.
আমি হাকাম ও হাম্মাদ রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, বিক্রেতা থেকে কোনো কিছু ক্রয় করতে গেলে বিক্রেতা যদি বলে, নগদে হলে এত টাকা আর বাকিতে হলে এত টাকা, তাহলে এর কী হুকুম?
তারা বললেন, কোনো একটি প্রস্তাব নির্ধারণ করে যদি মজলিস ত্যাগ করে, তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই।
শুবা রাহ. বলেন, আমি বিষয়টি মুগীরা রাহ.-এর সাথে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.-এর মতও এমন।
অর্থাৎ মজলিস ত্যাগ করার পূর্বে যদি কোনো একটি প্রস্তাব নির্ধারণ করে নেয়, তাহলে অসুবিধা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৮৩৬)
এছাড়াও আতা, তাঊস, কাতাদাহ ও সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব রাহ. প্রমুখ তাবেয়ীগণ থেকেও এমন বক্তব্য বর্ণিত আছে।
দ্রষ্টব্য : মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৮৩১, ২০৮৩২; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১৪৬২৬, ১৪৬৩০
সুতরাং بيعتان في بيعة -এর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত প্রথম যে দুটি হাদীস প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আর তিন নম্বরে لا ربا إلا في النسيئة -এর রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রয়বিক্রয়ের প্রশ্নোক্ত পদ্ধতির সাথে এরও কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এ হাদীসটি أموال ربوية -এর পরস্পর বাকিতে ক্রয়বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা রিবার একটি প্রকার। টাকার বিনিময়ে কোনো পণ্য বাকিতে ক্রয়বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উক্ত নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
* >المبسوط< للسرخسي ১৩/ ৭-৮ : وإذا عقد العقد على أنه إلى أجل كذا بكذا وبالنقد بكذا، أو قال: إلى شهر بكذا أو إلى شهرين بكذا، فهو فاسد؛ لأنه لم يعاطه على ثمن معلوم، ولنهي النبي ﷺ عن شرطين في بيع، وهذا هو تفسير الشرطين في بيع، ومطلق النهي يوجب الفساد في العقود الشرعية، وهذا إذا افترقا على هذا، فإن كان يتراضيان بينهما، ولم يتفرقا حتى قاطعه على ثمن معلوم، وأتما العقد عليه، فهو جائز؛ لأنهما ما افترقا إلا بعد تمام شرط صحة العقد.
–সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৬; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১১২; ফাতহুল বারী ৪/৪৪৭; ফাতহুল কাদীর ৬/১৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫৩১; রদ্দুল মুহতার ৫/১৭২