আবদুল বারী - কাউনিয়া, রংপুর
৬৮৫৭. প্রশ্ন
একদিন আমাদের মসজিদে তাবলীগ জামাতের দুই ভাই তাদের আসবাবপত্র হেফাজতের জন্য শুধু তারা দুজনেই জামাতের সর্বশেষ কাতার থেকে প্রায় দুই-তিন কাতার ফাঁকা রেখে ইমাম সাহেবের সাথে ইক্তিদা করে।
হযরতের নিকট জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় তাদের নামায সহীহ হয়েছে কি?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওই দুই ব্যক্তি দুই-তিন কাতার ফাঁকা রেখে পিছনে দাঁড়ালেও মসজিদের ভেতর হওয়ার কারণে তাদের নামায আদায় হয়ে গেছে। তবে সামনে কাতার ফাঁকা রেখে এভাবে পেছনে দাঁড়িয়ে ইক্তিদা করা মাকরূহে তাহরীমী তথা নাজায়েয। হাদীস শরীফে এ থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন–
أَقِيمُوْا الصُّفُوْفَ، وَحَاذُوْا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ، وَسُدُّوْا الْخَلَلَ، وَلِيْنُوْا بِأَيْدِيْ إِخْوَانِكُمْ، وَلَا تَذَرُوْا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ، وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللهُ، وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللهُ.
তোমরা কাতারগুলো সোজা করে দাঁড়াও, পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও, ফাঁকা জায়গাগুলো পূর্ণ কর। তোমাদের ভাইদের হাতে নরম হয়ে যাও, শয়তানের জন্য জায়গা ফাঁকা রেখো না। যে ব্যক্তি কাতার মিলিয়ে দাঁড়াবে আল্লাহ তাআলা তাকে স্বীয় রহমতে শামিল করবেন। আর যে ব্যক্তি কাতার ফাঁকা রাখবে, আল্লাহ তাআলা তাকে রহমত থেকে বঞ্চিত করবেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৬৬৬)
সুতরাং ভবিষ্যতে এ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং আসবাবপত্র হেফাজতের জন্য ভিন্ন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
* >المحيط البرهاني< ২/১৪৫ : وكذلك يكره للمقتدى أن يقوم خلف الصفوف وحده، إذا وجد فرجة في الصفوف.
–তুহফাতুল ফুকাহা ১/১৪৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৫৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ১৬০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭০