রজব ১৪৪৭ || জানুয়ারি ২০২৬

রিয়া - ঠিকানা নেই

৬৮৫১. প্রশ্ন

একজনের বাবা জীবিত আছেন, মা মারা গেছেন তারা এক ভাই এক বোন তার বাবা সরকারি চাকরি করেন মাসে মাসে ডিপিএস/পেনশন স্কিম বা এ জাতীয় কিছুতে টাকা জমাচ্ছেন

তার বাবা তাকে (ছেলেকে) বলেছেন, আমি মারা গেলে যেই টাকা (যেমন ধরেন, ২০ লাখ টাকা বা কিছু বেশি-কম) পাবে, সেখান থেকে ৫ লাখ তোমার বোনকে দেবে আর বাকি কিছু টাকা তোমার চলার মতো রেখে বাকিটা দিয়ে বাবার জায়গায় একটা বাড়ি করবে

এখন প্রশ্ন হল

১. বোন যদি বাবা জীবিত থাকাকালে বলে, আমি জায়গা-জমি কিছু নেব না আমাকে ৫ লাখ টাকা দিলেই হবে বা যদি একটু বেশি টাকা চায়, তাহলে কি তাকে তা দিলেই হবে?

২. তার বাবা জীবিত অবস্থায় বোন যদি ৫ লাখ টাকা নিতে বা একটু বেশি নিতে রাজি থাকে, তাহলে বাবা মারা গেলে উনার রেখে যাওয়া টাকা কি এইভাবে বণ্টন করা যাবে? মানে শুধু বোনকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে কিছু টাকা তার চলার মতো রেখে বাকি টাকা দিয়ে বাবার জায়গায় বাড়ি বানানো যাবে?

৩. তার মা কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন তার বোনের বিয়ের সময় তার মা-বাবা মিলে কিছু গহনা দিয়েছিলেন মেয়ে দূরে থাকে, গহনা নেওয়া রিস্ক, এজন্য মেয়ের গহনাগুলোও তার মায়ের কাছে রেখে দিয়েছিল এবং তাদের মায়েরও কিছু গহনা ছিল মায়ের অল্প গহনা এবং বোনের বেশি মায়ের নিজের এবং তার মেয়ের গহনা মায়ের কাছেই ছিল এখন মা মারা যাওয়ার আগে ছেলেকে বলেছেন, মায়ের শখ ছিল মায়ের গহনা তার ছেলের বিয়েতে তার ছেলের বউকে দেবে কিন্তু তা তো আর হবে না বোধ হয় তাই তার মা বলেছেন, মেয়ের গহনা তার মেয়েকে বুঝিয়ে দিতে এবং মায়ের গহনা এই বাড়িতেই রাখতে এই কথাটা ছেলেকে বলেছেন তখনো তার স্বামী (বাবা) বেঁচে আছেন

উক্ত মহিলার স্বামী, একটি ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে মেয়ে বড়, বিয়ে হয়ে গিয়েছে এবং ছেলে ছোট

প্রশ্ন হল, এই গহনাগুলোর মালিক এখন কে?

৪. বোন যদি বলে, আমাকে তো গহনা দিয়েছই আম্মুর অল্প গহনা ভাইয়ের বিয়েতে ভাইয়ের বউকে দিয়ে দিয়ো তাহলে এগুলো কীভাবে বণ্টিত হবে?

৫. আর যদি বোন নিতে চায়, তাহলে কীভাবে বণ্টন হবে?

৬. নাকি যেহেতু বোনকে তার বিয়ের সময় তারা গহনা দিয়েছেন এবং মায়ের ইচ্ছা ছিল ছেলের বউকে এই গহনা দেওয়া, এজন্য মায়ের গহনা বণ্টন করা লাগবে না?

দয়া করে জানাবেন আমি কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী সঠিক মাসআলা জানতে চাই জাযাকাল্লাহ

উত্তর

১. ও ২. বাবা মারা যাওয়ার আগে মেয়ে উক্ত কথা বলে থাকলেও এর কারণে বাবা মারা যাওয়ার পর তার মিরাসের হক বাতিল হয়ে যাবে না অবশ্য সে তার পিতার ইন্তেকালের পর আগের কথা অনুযায়ী পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে অবশিষ্ট সম্পদ থেকে দাবি ছেড়ে দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে এতে অসুবিধা নেই কিন্তু যদি সে আগের কথা থেকে সরে এসে পিতার সকল সম্পদ থেকে নিজের অংশ অনুযায়ী পুরো মিরাসই নিতে চায়, তাহলে তাকে তার অংশ দিয়ে দিতে হবে এক্ষেত্রে পিতা মারা যাওয়ার পূর্বের কথার ভিত্তিতে তার প্রাপ্য হিস্যা থেকে কম দেওয়ার সুযোগ নেই

৩. তার মায়ের রেখে যাওয়া গহনাগুলোর মালিক এখন তার ওয়ারিশগণ অর্থাৎ প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী তার স্বামী, ছেলে ও মেয়ে এবং যদি মৃত্যুর সময় তার পিতা-মাতার কেউ জীবিত থেকে থাকেন, তবে তারাও ওয়ারিশ হবেন তবে মেয়ের যে গহনা মায়ের কাছে রেখেছিল, এর মালিক মেয়ে, সেগুলো তাকে দিয়ে দিতে হবে

৪., ৫. ও ৬. মায়ের মৃত্যুর পর মেয়ে যদি তার ভাবির জন্য নিজের অংশ রেখে দিতে চায়, তাহলে তা রেখে দিতে পারবে সেক্ষেত্রে গহনাতে মেয়েটির অংশ তার ভাইয়ের স্ত্রী পাবে তবে যেহেতু এখানে মায়ের ওয়ারিশ শুধু মেয়েই নয়; বরং তার স্বামীও (অর্থাৎ মেয়েটির বাবাও) রয়েছেন, তাই তার এ গহনায় মায়্যেতের স্বামীর হিস্যাও আছে অতএব উক্ত গহনাতে তাদের অংশ হবে নিম্নরূপ

স্বামী পাবে ২৫%, মেয়ে পাবে ২৫%, ছেলে পাবে ৫০% তবে মহিলাটির পিতা-মাতার কেউ তখন জীবিত থেকে থাকলে এর বিবরণ দিয়ে তাদের প্রত্যেকের অংশের হিসাব পুনরায় জেনে নিতে হবে

অতএব ওই ব্যক্তির মায়ের রেখে যাওয়া গহনাতে যেহেতু তিনি ছাড়া শুধু মেয়েরই অংশ নয়; বরং তাতে অন্য ওয়ারিশদেরও অংশ আছে তাই উক্ত গহনা তার স্ত্রীর জন্য রেখে দিতে চাইলে তাদের সকলেরই স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি জরুরি নতুবা যে তার অংশ দাবি করবে, তাকে তার অংশ দিয়ে দিতে হবে

উল্লেখ্য, কোনো ব্যাংকে ডিপিএস বা অন্য কোনো সেভিংস একাউন্টে কিংবা সরকারি পেনশন স্কিমে টাকা জমানো সুদী চুক্তির অন্তর্ভুক্ত এবং সেখান থেকে ইন্টারেস্ট বা মুনাফার নামে প্রাপ্ত অতিরিক্ত টাকা সুদ, যার পুরোটাই সদকা করে দেওয়া জরুরি কেউ ডিপিএস বা পেনশন স্কিম রেখে মারা গেলেও তার জমাকৃত অর্থের অতিরিক্ত অংশে মিরাস জারি হবে না; বরং ওয়ারিশদের ওপর এর পুরোটাই সদকা করে দেওয়া জরুরি মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া তার মালিকানাধীন বৈধ সম্পদই কেবল ওয়ারিশগণ হিস্যা অনুযায়ী ভাগ করে নিতে পারে

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির পিতার উক্ত ডিপিএস বা পেনশন স্কিম থেকে প্রাপ্ত সুদের টাকা তাদের জন্য ভোগ করা বৈধ হবে না; বরং এর পুরোটাই সদকা করে দিয়ে তার জমানো মূল অর্থই কেবল তাদের মাঝে যার যার হিস্যা অনুযায়ী বণ্টিত হবে

* غمز عيون البصائر في شرح الأشباه والنظائر /৩৫৪ : (لو قال الوارث: تركت حقي لم يبطل حقه) ... كما لو مات عن ابنين، فقال أحدهما: تركت نصيبي من الميراث لم يبطل؛ لأنه لازم لا يترك بالترك، بل إن كان عينا فلا بد من التمليك، وإن كان دينا فلا بد من الإبراء.

সূরা নিসা (৪) : ১১; আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশায়িখ, পৃ. ৬৯৬; আলমাবসূত, সারাখসী ২০/১৩৪-১৩৫, ২৯/১৪০, ১৪৮; জামিউল ফুসূলাইন ২/৪০; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৪২, ৬/৭৭০, ৩৮৬ 

এই সংখ্যার অন্যান্য প্রশ্ন-উত্তর পড়ুন