রবিউল আউয়াল ১৪২৯ || মার্চ ২০০৮

জহিরুল ইসলাম - প্যারিদাস রোড, ঢাকা

১২১৪. প্রশ্ন

আমি একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন অভিজ্ঞ ডাক্তারের সংস্পর্শে থেকে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি অনেক বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেছি। যার ফলে অনেক সাধারণ গ্রাম্য ব্যক্তি এসে আমার নিকট হতে ওষুধ নিয়ে যায়। বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির নিয়ম হল ওষুধের বিক্রি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ডাক্তারকে বিনামূল্যে অনেক ওষুধ বিতরণ করে। যে কোম্পানি যে ডাক্তারকে ওষুধ বেশি পরিমাণে প্রদান করে, সে ডাক্তার রোগীদের জন্য সে কোম্পানির ওষুধ লিখে দেয়। অন্যদিকে প্রত্যেক কোম্পানির পক্ষ থেকে তার প্রতিনিধিকে বলা হয়, প্রতিমাসে তোমাকে ওই স্থানে এত পরিমাণ টাকার ওষুধ বিক্রি করতেই হবে। না হলে বেতন কমে যাবে।

প্রশ্ন হল, এখন বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ বিক্রেতা যদি বিনামূল্যের ওষুধগুলো ওই সমস্ত ডাক্তারকে  দেয়, যারা ডাক্তারির পাশাপাশি ওষুধও বিক্রি করে, যাতে কোম্পানির ওষুধ বেশি বিক্রি হয় এবং তাদের লক্ষমাত্রাও পূর্ণ হয়, আমার জন্য এই বিনামূল্যের ওষুধ নেওয়া শরীয়ত সম্মত হবে কি না? যদি না হয়, তবে শরীয়তসম্মত অন্য কোনো পদ্ধতি আছে কি না?

উত্তর

ডাক্তারদের কর্তব্য হল, রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তার জন্য সর্বাধিক উপযোগী ওষুধ নির্বাচন করা। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের সর্বোচ্চ বুদ্ধি বিবেচনা অনুযায়ী রোগীর জন্য যে কোম্পানির ওষুধ অধিক উপযোগী মনে হবে তাই ব্যবস্থাপত্রে লিখবে। কিন্তু তা না করে কোন কোম্পানির ওষুধ রোগীর জন্য অনুপযোগী হওয়া সত্ত্বেও বা অধিক কার্যকর না হলেও তা প্রদান করা রোগীর সাথে চরম খেয়ানতের শামিল। আর কোন কিছুর বিনিময়ে কোনো নির্ধারিত কোম্পানির ওষুধ প্রেসক্রিপশনের চুক্তি করা না-জায়েয এবং এ ধরনের চুক্তি করে কোনো কিছু গ্রহণ করা ডাক্তারদের জন্য উৎকোচের শামিল। চাই তা ফিজিশিয়ান সেম্পলের নামেই হোক না কেন। অবশ্য ওষুধ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে ডাক্তারদেরকে দেওয়ার জন্য যে ফিজিশিয়ান সেম্পল রয়েছে, নির্ধারিত কোম্পানির ওষুধ বিক্রির বিনিময় বা উৎকোচ হিসাবে না হলে সেগুলো গ্রহণ করা ডাক্তারদের জন্য জায়েয। তবে ওইগুলো যেহেতু ফ্রি বিতরণ করে রোগীদের উপর প্রয়োগের মাধ্যমে ডাক্তারদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য দেওয়া হয় এবং তা বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে, তাই ডাক্তারের জন্য ফিজিশিয়ান সেম্পল বিক্রি করা জায়েয হবে না। বরং ডাক্তার যে রোগীর জন্য তা সমীচীন মনে করবে তাকে ফ্রি প্রদান করবে।

-মুসনাদে আহমাদ ২/১৬৪, শরহুল মাজাল্লাহ ৪/৪৫৭,  আদ্দুররুল মুখতার ৫/৫২১, আলমুগনী [ইবনে কুদামা] ৭/২৪৩

এই সংখ্যার অন্যান্য প্রশ্ন-উত্তর পড়ুন