সফওয়ান রাসেল - মির্জাপুর, টাঙ্গাইল

৫০৯৮. প্রশ্ন

আমি একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানীতে চাকরি করি। কোম্পানীটি প্রায়  ৩ একর জমিতে স্থাপিত। প্রবেশাধিকার কোম্পানীর স্টাফদের জন্য আইনগতভাবে সংরক্ষিত। ভিতরে একটি মসজিদ আছে, যাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা হয়। শুক্রবার ছুটি থাকায় জুমা হয় না। তবে অফিস টাইম ছাড়া অন্য সময় দায়িত্বরত পাহারাদারগণ নামায পড়েন। কিন্তু যখন কোম্পানীর প্রডাকশন বৃদ্ধি পায় তখন শুক্রবারেও কাজ করতে হয়।

জানার বিষয় হল, এখন শুক্রবারে আমাদের জন্য উক্ত মসজিদে জুমা আদায় করা কি সহীহ হবে?

উত্তর

হাঁ, উক্ত মসজিদে জুমার নামায আদায় করা সহীহ হবে। কারণ, কোম্পানীর এরিয়ায় প্রবেশাধিকারের সংরক্ষণ যেহেতু নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাগত কারণে; নামাযীদেরকে মসজিদে আসতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। তাই এই নিয়ন্ত্রণ জুমা আদায়ের জন্য প্রতিবন্ধক নয়।

-মাজমাউল আনহুর ১/২৪৬; মারাকিল ফালাহ পৃ. ৫১০; মিনহাতুল খালিক ২/১৫১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫২

শেয়ার লিংক

আব্দুল খালেক - মহেশখালী

৫০৯৭. প্রশ্ন

আমি মাছ ধরার একটি সামুদ্রিক জাহাজ চালিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, তীরবর্তী এলাকাগুলোতে মাছ ধরা যায় না। আমরা তখন গভীর সমুদ্র অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানা পর্যন্ত পৌঁছি, যা সফরের দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি এবং একাধারে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০-২৫ দিন থাকি। লক্ষ্য অর্জন হলে গন্তব্যে ফিরে আসি। হুযুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, উক্ত স্থানটিতে থাকাকালীন আমি এবং আমার অন্য সাথীরা কীভাবে নামায পড়ব? কসর না পূর্ণ নামায পড়ব?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনারা জাহাজে চলমান অবস্থায় এবং সমুদ্রে অবস্থানকালে নামায কসর পড়বেন। কারণ সমুদ্রে থাকা কালে মুকীম হওয়ার নিয়ত প্রযোজ্য নয়। তাই সমুদ্রের মাঝে নোঙর করা অবস্থায় ১৫ দিন বা তার বেশি থাকলেও মানুষ মুসাফিরই থাকে। শরীয়তের দৃষ্টিতে সে মুকীম গণ্য হবে না।

-কিতাবুল আছল ১/২৬৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৩২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫২৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫১৪; রদ্দুল মুহতার ২/৭২৯

শেয়ার লিংক

যারীফ হোসেন - পান্থপথ, ঢাকা

৫০৯৬. প্রশ্ন

অনেক সময় আমার জুমার জন্য প্রস্তুত হয়ে মসজিদে যেতে বেশ দেরি হয়ে যায়। গত শুক্রবার প্রস্তুত হয়ে মসজিদে গিয়ে দেখি খুতবা শেষ হয়ে গেছে। নামাযের ইকামত হচ্ছে। আমরা  তো জানি যে, জুমার জন্য খুতবা শর্ত। খুতবা ছাড়া জুমার নামায সহীহ হয় না।

তাই এখন আমার জানার বিষয় হল, খুতবা ছাড়া আমার উক্ত জুমার নামায কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

জুমার জামাত সহীহ হওয়ার জন্য খুতবা দেওয়া শর্ত। কোনো মুক্তাদী খুতবা শ্রবণ করতে না পারলে তার জুমার নামায সহীহ হবে না -এমন নয়। সুতরাং আপনার উক্ত জুমার নামায সহীহ হয়েছে।

উল্লেখ্য, জুমার দিন আগে আগে মসজিদে গমন করা উচিত। বিশেষত আযানের পর অন্য কোনো কাজে লিপ্ত না হয়ে সরাসরি নামাযের প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে চলে যাওয়া এবং খুতবা শ্রবণ করা কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ.

হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাযের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর যিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচা-কেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা বোঝ। (সূরা জুমুআ: ৯)

-ফাতহুল কাদীর ২/২৮; ইমদাদুল ফাততাহ পৃ. ৫৫৮; রদ্দুল মুহতার ২/১৪৭

শেয়ার লিংক

আরিফ আযাদ - চট্টগ্রাম

৫০৯৫. প্রশ্ন

আমি রমযান মাসে বিতিরের নামাযে মাঝে মাঝে এ সমস্যার সম্মুখীন হই যে, দুআয়ে কুনূত পুরোপুরি শেষ করার পূর্বে ইমাম সাহেব তাকবীর বলে রুকুতে চলে যান। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হব, না কুনূতের বাকি অংশ পূর্ণ করব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার জন্য কুনূতের বাকি অংশ পূর্ণ না করে ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব। কেননা দুআয়ে কুনূত আংশিক পড়া হলেও তা দ্বারা কুনূতের ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়। দুআয়ে কুনূত পূর্ণ করা মুস্তাহাব। অন্যদিকে ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব। সুতরাং মুক্তাদীর দুআয়ে কুনূত পড়া শেষ না হলেও  ইমামের সাথে রুকুতে চলে যাবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৪৩; ফাতহুল কাদীর ১/৩৭৫; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫২৮

শেয়ার লিংক

খাদেমুল ইসলাম - ত্রিশাল

৫০৯৪. প্রশ্ন

শীতকালে শেষ রাতে আমাদের এলাকায় প্রচণ্ড কুয়াশা পড়ে। একদিন ফজরের নামাযের সময় আমি ও আমার ভাই ঘর থেকে রুমাল দিয়ে নাক-মুখ পেঁচিয়ে বের হই। মসজিদে গিয়ে সে এভাবেই সুন্নত পড়তে দাঁড়িয়ে যায়। তখন এক লোক আমাকে বললেন, তোমার ভাইকে বলবে রুমাল দিয়ে নাক-মুখ পেঁচিয়ে নামায পড়া মাকরূহ। জানার বিষয় হল, ঐ লোকের কথা কি ঠিক?

উত্তর

হাঁ, লোকটি ঠিকই বলেছে। নামাযে কোনো ওজর ছাড়া মুখ ঢেকে রাখা মাকরূহ। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে মুখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৬৪৩)

তাই নামায অবস্থায় বিনা ওজরে রুমাল বা চাদর ইত্যাদি দিয়ে মুখ ঢেকে রাখবে না।

-কিতাবুল আছল ১/১৩; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৩১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪১১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৯৯; রদ্দুল মুহতার ১/৬৫২

শেয়ার লিংক

কামরুল - কুমিল্লা

৫০৯৩. প্রশ্ন

তারাবীর নামায সংক্রান্ত দুটো বিষয় জানতে চাচ্ছি-

১. তারাবীর নামাযে চার রাকাত পর পর মুসল্লীরা নিম্নোক্ত দুআ-

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزّةِ وَالْعَظمَةِ ...

পড়ে থাকেন। এ সময় আসলে কী করণীয়? এ দুআ পড়বে নাকি ভিন্ন কোনো দুআ পড়বে? এ দুআ পড়ার অবকাশ আছে কি?

২. মাঝে মাঝে এমন হয় যে, দেরি করে আসার কারণে ইশার নামায শেষ করে তারাবীতে শরীক হতে হতে ৪/৬ রাকাত হয়ে যায়। ২০ রাকাত পড়ানোর পর ইমাম সাহেব বিতিরের জন্য দাঁড়িয়ে যান। তখন আমার কী করণীয়? তারাবীর বাকি রাকাতগুলো পড়তে গেলে বিতির ছুটে যাওয়ার আশংকা হয়। জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

তারাবীর নামাযে চার রাকাত পর পর এবং বিশ রাকাত শেষ হওয়ার পর কিছু সময় বিরতি দেওয়া মুস্তাহাব। এ সময় কোনো নির্দিষ্ট দুআ পড়ার কথা হাদীস-আসারে নেই। মুসল্লীগণ এ সময় তাসবীহ-তাহলীল, বিভিন্ন দুআ-দরূদ পাঠ করতে পারেন কিংবা কোনো প্রয়োজনীয় কাজ করতে বা কথা বলতে পারবেন। আবার নীরবও থাকতে পারে। আর প্রশ্নে উল্লেখিত দুআটি এ সময়ে পড়ার কথা যেহেতু কোনো হাদীসে পাওয়া যায় না তাই এ সময় এ দুআ সুন্নত বা মুস্তাহাব মনে করে পড়া যাবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩১৮; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৬৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২;

২. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি জামাতের সাথে বিতির আদায় করে নেবেন। বিতিরের পর তারাবীর বাকি রাকাতগুলো পড়ে নেবেন। কেননা তারাবীহ বিতিরের পরও পড়া যায়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬৩; আলবাহরুর রায়েক ও মিনহাতুল খালিক ২/৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩২২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৬৬

শেয়ার লিংক