মুহাম্মাদ আবু তাহের খান - রামপুরা, ঢাকা

৪৫৬৩. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর উক্ত গ্রামের স্থায়ী ইমাম  তার জানাযার নামায পড়িয়েছিলেন। এবং এতে মহল্লাবাসী ও দূরবর্তী ওলিগণ উপস্থিত ছিল। কিন্তু সে জানাযায় নিকটবর্তী ওলি উপস্থিত ছিল না এবং তার অনুমতিও ছিল না। এ অবস্থায় নিকটবর্তী ওলি দ্বিতীয়বার জানাযা পড়তে পারবে কি?

পুনশ্চ : উক্ত নিকটবর্তী ওলি মহল্লার ইমামের চেয়ে (যিনি জানাযা পড়িয়েছেন) যোগ্যতর বা তার সমমানেরও নন। সঠিক মাসআলা প্রামাণাদিসহ জানিয়ে উপকৃত করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন- আমীন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নিকটবর্তী ওলি দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়ার অধিকারী হবেন না। কারণ নামাযের সময় তিনি উপস্থিত না থাকায় দূরবর্তী ওলীরা জানাযার নামায পড়ানোর হকদার ছিল। তাছাড়া মহল্লার মসজিদের ইমাম নিজেও জানাযা পড়ানোর একজন হকদার। অতএব মসজিদের ইমাম যেহেতু তাদের উপস্থিতিতেই জানাযা পড়িয়েছেন তাই যথা নিয়মেই ঐ মায়্যিতের জানাযা আদায় হয়ে গেছে। তাই দ্বিতীয়বার আর জানাযার নামায পড়ার সুযোগ নেই।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২২; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/২৬৩, ২৬৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/২২০, ২২২

শেয়ার লিংক

মুহিউস সুন্নাহ - জৈরতপুর, কেরাণীগঞ্জ

৪৫৬২. প্রশ্ন

সফর অবস্থায় আমরা দুই সাথী একদিন মসজিদে জামাত না পেয়ে নিজেরা জামাত করি। সফরে সবসময় কসর করলেও যেহেতু মসজিদে জামাতে নামায পড়লে পূর্ণ চার রাকাতই পড়া হয় এ হিসাবে আমিও চার রাকাত নামায পড়াই। ঘটনাক্রমে ভুলবশত প্রথম বৈঠক করিনি। তাই সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করি। নামায শেষে আমার সাথীটি বলল, নামায সহীহ হয়নি। কেননা, মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাত পড়ার ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠক না করলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি আমার বোধগম্য হয়নি। কেননা আমি তো সাহু-সিজদা করেছি। তাই সে পুনরায় নামাযটি পড়লেও আমি পড়িনি। জানার বিষয় হল, তার কথাটি কি ঠিক? আমাদের ঐ দিনের যোহরের নামায সহীহ হয়েছে কি না?

উত্তর

আপনার সাথীর কথা সঠিক। আপনাদের ঐ দিনের যোহরের নামায সহীহ হয়নি। কেননা মুসাফিরের জন্য যোহর দুই রাকাত পড়া আবশ্যক এবং দুই রাকাতের পর যে বৈঠক করা হয় সেটাই শেষ বৈঠক। সুতরাং দুই রাকাত পর বসা আপনার জন্য ফরয ছিল। আর ফরয ছুটে গেলে সাহু সিজদা করলেও নামায শুদ্ধ হয় না। তাই আপনাকে ঐ দিনের যোহরের নামায কাযা করে নিতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২০০; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩০; মাজমাউল আনহুর ১/২৪০

শেয়ার লিংক

ফয়জুল হাসান - সিলেট

৪৫৬১. প্রশ্ন

একদিন আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব তারাবীর নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেও কোনো সিজদা করেননি। নামায শেষে আমি ইমাম সাহেবকে বিষয়টি বললাম। তিনি বললেন, রুকুতে  সিজদা আদায় করা হয়েছে। তার কথাটি আমার বোধগম্য হয়নি। তাই জানার বিষয় হল, রুকুতে সিজদা আদায় হবে কি না?

উত্তর

নামাযে সিজদার আয়াত পাঠ করলে পৃথক সিজদার মাধ্যমেই তা আদায় করা উচিত। তবে সিজদার আয়াত পড়ার পর সাথে সাথে রুকুতে চলে গেলে অথবা আয়াতে সিজদা তিলাওয়াতের পর অনুর্ধ্ব দুই আয়াত পড়ে রুকুতে চলে গেলে এবং রুকুতে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায়ের নিয়ত করে নিলে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় হয়ে যায়। মুজাহিদ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি নামাযে সূরা বনী ইসরাঈলের  (শেষে) সিজদার আয়াত ও তার পরবর্তী দুই আয়াত পড়ে রুকুতে চলে যেতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, বর্ণনা ৪৪০২)

-কিতাবুল আছল ১/১৭৪; আল মাবসূত, সারাখসী ২/৮; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/১৩১; রদ্দুল মুহতার ২/১১২

শেয়ার লিংক

কামরুজ্জামান - সিলেট

৪৫৬০. প্রশ্ন

আমার এক বুঝমান নাবালেগ ভাগিনা কিছু দিন আগে সৌদি আরব থেকে এসেছে। সে আরবীভাষী হওয়ার কারণে একদিন ইমাম সাহেব তাকে জুমার খুতবা দেওয়ার কথা বলেন। সে রাজি হয়ে যায়। তাই এদিন সে খুতবা দেয়। আর ইমাম সাহেব নামায পড়ান। জানার বিষয় হল, বুঝমান এ নাবালেগের খুতবা পাঠ জায়েয হয়েছে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছেলেটি নাবালেগ হলেও যেহেতু সে বুঝমান তাই উক্ত খুতবা আদায় হয়েছে। তবে জুমার খুতবা এবং  নামায পড়ানো একই ব্যক্তি দ্বারা হওয়া উত্তম।

উল্লেখ্য, জুমার খুতবা গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। তা বালেগ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারাই হওয়া উচিত।

আরো উল্লেখ্য, বুঝমান নাবালেগের খুতবা সহীহ হয়ে গেলেও তার ইমামতি কোনোক্রমেই সহীহ নয়। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা আবশ্যক।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১/৪৫৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২০৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৪৭; রদ্দুল মুহতার ২/১৪১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল কুদ্দুস - সুনামগঞ্জ

৪৫৫৯. প্রশ্ন

এক মহিলা জি¦নের আছর ও যাদু-টোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সর্বদা তেত্রিশ আয়াতের আমল করে থাকে। এখন জানার বিষয় হল, তার জন্য ঋতুশ্রাবকালে এই তেত্রিশ আয়াতের মানযিল পাঠ করার বিধান কী?

উত্তর

মাসিক শ্রাব চলা অবস্থায় তেত্রিশ আয়াতের মানযিল পাঠ করা যাবে না। কেননা এ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত নিষিদ্ধ। তবে অন্য কেউ তেত্রিশ আয়াত পড়ে ঐ মহিলার উপর দম করতে পারবে। এছাড়া ঐ মহিলা হাদীসে বর্ণিত মাসনূন দুআগুলোও পড়তে পারবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১/৪০২; আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১৫২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৮০; আলবাহরুর রায়েক ১/১৯৯

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement