রায়হান মাহমুদ - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৪৩৫৯. প্রশ্ন

আমরা ৭ জন ছাত্র একটি ফ্ল্যাটে দুইটি রুম নিয়ে থাকি। এক রুমে তিনজন মুসলমান। অন্যরুমে ৪ জন হিন্দু ছাত্র থাকে। মেসে সবাইকে বাজার করতে হয়।

জানতে চাই, এক্ষেত্রে তাদের সাথে আমাদের চলাফেরা ও খাওয়ার কী হুকুম হবে? তা জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

মুসলামানদের কর্তব্য হল, সৎ ও নেককার মুসলমানদের সাথেই চলাফেরা করা। কুরআন ও হাদীসে এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে পড়াশুনা, চাকরী ও ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি প্রয়োজনে অমুসলিমদের সাথে একত্রে অবস্থানের প্রয়োজন হলে তাদের সাথে প্রতিবেশী সুলভ সাধারণ সৌজন্য সম্পর্ক রাখবে। এবং একত্রে অবস্থানের ক্ষেত্রে নি¤েœাক্ত বিষয়াদির প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখবে :

ক. তাদের সাথে বেশি ঘনিষ্ঠতা ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক করা যাবে না।

খ. সবসময় নিজের ঈমান ও ইসলামের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তার প্রতি পূর্ণ যত্নবান থাকবে।

গ. তাদের ধর্মীয় কোনো উৎসবে কিংবা তাদের বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে না।

ঘ. জীবনাচারের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বেশভূষা ও কৃষ্টিকালচারের অনুসরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

আর তাদের কেনা হালাল খাবার খেতে অসুবিধা নেই। তবে তাদের জবাইকৃত কোনো প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না। এমনিভাবে তাদের প্রস্তুতকৃত কোনো খাবারে নাপাকির আশঙ্কা থাকলে তা খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।

-সূরা মায়েদা (৫): ৫৭; সূরা আলে ইমরান (৩) : ১১৮; আলজামে লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ৪/১২২; শরহুস সিয়ারিল কাবীর ১/১০৩; ফাতাওয়া সিরাজিয়্যা পৃ. ৭৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৪৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাসান - উত্তরখান, ঢাকা

৪৩৫৮. প্রশ্ন

হুযূর! আমি ও আমার ছেলেমেয়েরা পাখি পছন্দ করি। তাই লালন পালন করে পোষ মানানোর জন্য ও কথা শেখানোর জন্য একটি পাখি ক্রয় করেছি। এটাকে আমি খাঁচায় বন্দি করে রাখি এবং নিয়মিত খাবার দেই। একজন এটা দেখে বললেন, কোনো প্রাণীকে এভাবে খাচায় বন্দি করে রাখা উচিত নয়। এতে প্রাণীর কষ্ট হয়। তাই জানতে চাচ্ছি, এভাবে খাচাবন্দি করে পাখি লালন-পালন করার বিধান কী? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
 

উত্তর

যেসব পাখি খাচাতেই জন্মায় এবং এখানেই বড় হয় অর্থাৎ (উড়া পাখি নিয়ে এসে বন্দি করা হয়েছে এমন নয়) এসব পালিত পাখিকে নিয়মিত খাবার পানি ও চিকিৎসা দিয়ে সুন্দরভাবে পরিচর্যা করতে পারলে খাচায় রেখে লালন-পালন করা জায়েয হবে। কিছু সাহাবী থেকে খাচায় পাখি লালন-পালন করা প্রমাণিত রয়েছে। হযরত হিশাম ইবনে উরওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ ابْنُ الزّبَيْرِ بِمَكّةَ وَأَصْحَابُ النّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَحْمِلُونَ الطّيْرَ فِي الْأَقْفَاصِ.

আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. মক্কায় ছিলেন। তখন সাহাবীগণ খাচায় পাখি রাখতেন। (আল আদাবুল মুফরাদ, হাদীস ৩৮৩)

কিন্তু এক্ষেত্রে যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে। পরিচর্যা করতে না পারলে অথবা বন্দি করে রাখার কারণে কষ্ট পেলে খাচায় আটকে রাখা জায়েয হবে না। বরং ছেড়ে দিতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে, বাইরে উড়ে বেড়ায় এমন পাখিকে খাঁচায় বন্দী করলে তাদের কষ্ট হতে পারে। তাই এ ধরনের পাখি খাঁচায় বন্দী না করাই উচিত।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৬২০৩; ফাতহুল বারী ১০/৬০১; ফাতাওয়া কারিইল হেদায়া পৃ. ২০০; রদ্দুল মুহতার ৬/৪০১

শেয়ার লিংক

আলী মুরতাযা - তালুক দুলালী, লালমনিরহাট

৪৩৫৭. প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয়ের একটি রাইসমিল আছে। তাতে নতুন কিছু মেশিনারিজ কেনার জন্য ১,৩০,০০০/- টাকার প্রয়োজন। সে আমার সাথে এভাবে চুক্তি করতে চাচ্ছে যে, আমি তাকে ঐ টাকা দিলে সে প্রতি মাসে আমাকে ১৭০০/- টাকা লাভ দিবে। এর পর বাকি লাভ যা থাকবে ছয়মাস পর পর হিসাব করে বণ্টন হবে। তখন লাভের পরিমাণ দেখে ইনসাফের ভিত্তিতে শতকরা হারে একটি পরিমাণ নির্ধারণ করে বাকি লাভ নেওয়া হবে।

একজন বললেন, এভাবে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট আকারে লাভ নেওয়া হলে বাকি বিনিয়োগটি জায়েয হবে না। কিন্তু আমার আত্মীয়ের কথা হল প্রতি মাসে একটি অংক নিলেও ৬ মাস পর বাকি লাভ যেহেতু শতকরা হারে বণ্টিত হচ্ছে তাই কোনো সমস্যা নেই।

মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, উপরে বর্ণিত নিয়মে কি আমি  বিনিয়োগটি করতে পারব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী মাসে ১৭০০ টাকা নির্দিষ্ট করে নিবে এ শর্ত করলে উক্ত চুক্তি নাজায়েয হয়ে যাবে। পরবর্তীতে বাকি লাভ শতকরা হারে বণ্টিত হলেও তা জায়েয হবে না। কারণ লাভের একটা অংক কোনো পক্ষের জন্য নির্দিষ্ট করা হলেই সেই লেনদেন নাজায়েয হয়ে যায়।

অতএব বিনিয়োগটি সহীহভাবে করতে চাইলে কারো জন্য কোনো অংক নির্ধারণ না করে শুরু থেকেই চুক্তির সময়ই লভ্যাংশের হার নির্ধারণ করে নিতে হবে। যেমন বিনিয়োগকারী ৬০% মিলমালিকের ৪০%। অথবা এ ধরনের অন্য কোনো পরিমাণ।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত সহীহ পন্থায় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যবসার চূড়ান্ত হিসাব হওয়ার পূর্বে অন্তর্বর্তিকালীন কিছু টাকা অগ্রিম লভ্যাংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীকে দেয়া যাবে। যা চূড়ান্ত হিসাবের পর সমন্বয় করে নিতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১৮/১২৬; মাজাল্লতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দা : ১৪১১; আলমাবসূত, সারাখসী ২২/২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/২৮৭; আলমাআয়ীরুশ শারইয়্যাহ পৃ. ২৪০

শেয়ার লিংক

ইসমাঈল হক - লালমনিরহাট

৪৩৫৬. প্রশ্ন

বাজারে আমার মুদী ও কাপড়ের ব্যবসা আছে। আমার এক আত্মীয় গত এক মাস আগে বিদেশ যাওয়ার সময় আমাকে দুই লাখ টাকা দেয়- আমার ব্যবসাতে লাভ-লস সমান অংশীদারীর ভিত্তিতে খাটানোর জন্য।

কিন্তু আমার উক্ত ব্যবসাদুটির বর্তমান অবস্থার ভিত্তিতে আরো পুঁজি বিনিয়োগ করা উচিত হবে বলে মনে হয় না। তাই আমি চাচ্ছিলাম আমার ঐ আত্মীয়কে না জানিয়ে তার টাকা দিয়ে জমি ভাড়া নিয়ে চাষাবাদ করার জন্য। অতপর ফসল মাড়াই করে বিক্রি করে লাভ-লস বণ্টন করার জন্য। আর সে তো লাভের জন্যই দিয়েছে।

জানতে চাচ্ছি, এভাবে টাকা খাটানোতে কোনো সমস্যা আছে কি?

 

উত্তর

না, মালিককে না জানিয়ে ঐ টাকা ভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা জায়েয হবে না। কারণ প্রশ্নের বর্ণনামতে তিনি টাকা দিয়েছেন আপনার বর্তমান মুদী ও কাপড়ের ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য। জমি ভাড়া নিয়ে চাষাবাদ করার জন্য নয়। তবে লোকটি অনুমতি দিলে তার টাকা দিয়ে জমি ভাড়া নিয়ে উক্ত ব্যবসা করতে পারবেন। অতপর যা লাভ হবে তা উভয়ের মাঝে চুক্তি অনুযায়ী বণ্টিত হবে।

-শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ৪/৩৪৩; কুররাতু উয়ূনিল আখয়ার ৮/২৮৯

শেয়ার লিংক

ফাহীম সিদ্দীক - বাড্ডা, ঢাকা

৪৩৫৫. প্রশ্ন

আমাদের বাড়িতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য একটি জেনারেটর ভাড়ায় আনা হয়। কথা ছিল, দুপুর থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত জেনারেটর চলবে। কিন্তু সন্ধ্যার একটু পরে জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে যায়। তখন আমরা তাড়াহুড়া করে বেশি ভাড়া দিয়ে অন্য একটি জেনারেটর ভাড়া নেই। এখন পূর্বের জেনারেটরের মালিক বলছে, তাকে পূর্ণ ভাড়ার চেয়ে সামান্য কম দিতে। জানতে চাই, শরীয়তের দৃষ্টিতে এক্ষেত্রে তার ভাড়ার হিসাব কীভাবে করতে হবে?

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পূর্বের জেনারেটরটি যতটুকু সময় ব্যবহার উপযোগী ছিল ততটুকু সময়েরই ভাড়া তার প্রাপ্য। এর অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা তার জন্য বৈধ হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১১/২২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪১৩; শরহুল মাজাল্লাহ ২/৫৫৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জুবায়ের - যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

৪৩৫৪. প্রশ্ন

আমার চাচাতো ভাইয়ের একটি কাপড়ের দোকান আছে। বছর খানেক আগে সেখানে বিনিয়োগের জন্য তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলাম। সে বলেছিল, প্রতি মাসে দুই-আড়াই হাজার টাকা করে দিবে। আর বছর শেষে যখন হিসাব হবে তখন চূড়ান্ত হিসাব করে লভ্যাংশ উভয়ে বণ্টন করে নেব। তবে কোনো অংশ উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে। এভাবে চুক্তি করা বৈধ হল কি না। আর আমি যে লাভ গ্রহণ করছি তা গ্রহণ করা জায়েয হচ্ছে কি না? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লভ্যাংশের হার নির্ধারণ করা জরুরি ছিল। এখন আপনাদের কর্তব্য, বিগত দিনের জন্য আপনার বিনিয়োগকৃত টাকার লভ্যাংশ অর্ধার্ধি (অর্থাৎ ৫০% হারে) ভাগ করে নেয়া। আর সামনের জন্য লভ্যাংশের হার আলোচনা করে ঠিক করে নেবেন। সেটা ৫০% করেও হতে পারে অথবা কম-বেশিও হতে পারে। আর বিনিয়োগকারীকে প্রতি মাসে লভ্যাংশ থেকে কিছু কিছু করে দেওয়া অতপর মেয়াদ শেষে হিসাব করে তা সমন্বয় করে নেওয়া জায়েয আছে। এতে অসুবিধা নেই।

-বাদায়েউস সনায়ে ৫/১১১; আলমুহীতুল বুরহানী ১৮/১৪০; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দা : ১৪১১; শরহুল মাজাল্লাহ ৪/৩৩২

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - নোয়াখালী

৪৩৫৩. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের দেয়ালে ‘মসজিদে দুনিয়াবী কথা হারাম’ বাক্যটি টাইলসে খোদাই করে লাগানো। এখন প্রশ্ন হল, নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়ার পর কখনো দুনিয়াবী কথাবার্তাও হয়ে যায়। তখনো কি হারাম হবে?
 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি ব্যাপকভাবে বলা ঠিক নয়। নামায বা ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশের পর অন্যের ইবাদতে অসুবিধা না হলে প্রয়োজনে দুনিয়াবী বৈধ কথাবার্তা বলা জায়েয আছে। তবে স্মরণ রাখতে হবে যে, মসজিদ আল্লাহর ঘর। এটি ইবাদতের স্থান। এর প্রতিষ্ঠাই হয়েছে ইবাদতের উদ্দেশ্যে। সুতরাং মসজিদে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও কাজকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রকাশ থাকে যে, দুনিয়াবী কোন কাজকর্ম বা কথাবার্তাকে উদ্দেশ্য করে মসজিদে গমন করা কিংবা মসজিদে এর আয়োজন করা নাজায়েয। 

 

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫৭; উমদাতুল কারী ৪/২২৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬; রদ্দুল মুহতার ১/৬৬২

শেয়ার লিংক

মনির হোসেন - কুমিল্লা

৪৩৫২. প্রশ্ন

আমাদের ঈদগাহ ঈদের নামাযের পূর্বে ধোয়ামোছা করে নামাযের জন্য প্রস্তুত করা হয়। বাকি পুরো বছর সেখানে মানুষের চলাফেরা, খেলাধুলা, এমনকি কখনো গবাদি পশু বিচরণ করতেও দেখা যায়। এখন প্রশ্ন হল, দাতা কর্তৃক ঈদের নামাযের জন্য ওয়াকফ করার পরও সেখানে বর্ণিত কাজগুলো করার অবকাশ আছে কি না?


 

উত্তর

ঈদগাহ সম্মানিত ও পবিত্র স্থান। ঈদগাহের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গা খেলাধুলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তবে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ঈদগাহের উপর দিয়ে চলাচল করা জায়েয আছে। আর ঈদগাহ যেহেতু পবিত্র স্থান তাই এর ভেতর কোনো গবাদি পশু চরতে দেওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য যে, ঈদগাহের পবিত্রতা নিশ্চিত করার জন্য এলাকাবাসীর উচিত তা সীমানাদেয়াল ইত্যাদির মাধ্যমে ঘেরাও করে হেফাযত করা।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬; শরহুল মুনয়া পৃ. ৬১৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৭; রদ্দুল মুহতার ১/৬৫৭

শেয়ার লিংক

এনামুল হাসান - উত্তরখান, ঢাকা

৪৩৫১. প্রশ্ন

হুযূর, আমি একটি মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। মসজিদ ফান্ডের লাখ লাখ টাকা আমার কাছে থাকে। আমিই এ টাকাগুলো মসজিদের নামেই ব্যাংকের একটি কারেন্ট একাউন্টে জমা করি এবং প্রয়োজনের সময় উত্তলোন করে খরচ করি। গত কয়েকদিন আগে আমার একটি ব্যক্তিগত কাজে লাখ দেড়েক টাকার প্রয়োজন হয়। তখন আমি শীঘ্রই ফিরিয়ে  দেওয়ার নিয়তে দেড় লাখ টাকা মসজিদের একাউন্ট থেকে উত্তোলন করে খরচ করে ফেলি। জানতে চাচ্ছি, আমার এ কাজটি কি ঠিক হয়েছে? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।
 

উত্তর

না, পরবর্তীতে ফেরত দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও মসজিদের টাকা নিজ প্রয়োজনে খরচ করা অন্যায় ও  খেয়ানত হয়েছে। কেননা মসজিদের টাকা আপনার নিকট আমানত। আর আমানতের টাকা থেকে নিজ প্রয়োজনে খরচ করা বা ঋণ নেওয়া জায়েয নয়।

সুতরাং এখন আপনার কর্তব্য হল, যত দ্রুত সম্ভব ঐ টাকা মসজিদ ফান্ডে ফেরত দেওয়া এবং এর জন্য আল্লাহর নিকট তাওবা-এস্তেগফার করা এবং ভবিষ্যতে এমনটি করা থেকে বিরত থাকা।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৯৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫১; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৮২

শেয়ার লিংক

টিপু সুলতান - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৪৩৫০. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমার এক কলিগ তার স্ত্রীর সাথে অনেকদিন আগে একবার এভাবে কসম করেছিল যে, ‘যাও! মক্কা মদীনার কসম করে বলছি, আমি আর কখনো ইচ্ছা করে নামায ছাড়ব না। সর্বদা নামায পড়ব।’ কিন্তু সে এর পরও অনেকবার নামায ছেড়ে দিয়েছে।

এখন তার করণীয় কী? তাকে কি এর কাফফরা আদায় করতে হবে? কীভাবে আদায় করবে? বিষয়গুলো জানানোর অনুরোধ রইলো।

উত্তর

প্রশ্নের ঐ কথা দ্বারা কসম সংঘটিত হয়নি। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর কসম করা জায়েয নয়। হাদীস শরীফে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللّهِ فَقَدْ أَشْرَكَ

‘যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর কসম করল সে (যেন) আল্লাহর সাথে শিরক করল’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩২৫১)

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির এভাবে কসম করা জায়েয হয়নি। এজন্য তাকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আর তার উক্ত কথার দ্বারা যেহেতু কসম সংঘটিত হয়নি তাই এর কারণে তাকে কোনো কাফফারাও আদায় করতে হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত নামায ছেড়ে দেওয়ার কারণে মারাত্মক কবীরা গুনাহ হয়েছে। এজন্য তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে এবং উক্ত নামাযগুলোর কাযা পড়ে নিতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে, নামায ইসলামের অন্যতম রুকন। ইচ্ছাকৃত নামায ছেড়ে দেওয়াকে হাদীসে কুফুরী গুনাহ বলা হয়েছে। অতএব, প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য নামাযের ব্যাপারে পরিপূর্ণ যত্মবান হওয়া।

-বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৬; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৫৬; রদ্দুল মুহতার ৩/৭১২

শেয়ার লিংক

উম্মে আবদুল্লাহ - আকুয়া, মোমেনশাহী

৪৩৪৯. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে আমার সন্তান খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তখন আমি মান্নত করেছিলাম, যদি আমার সন্তান সুস্থ হয় তবে আমি ফকীরদেরকে খানা খাওয়াবো। এখন আল্লাহর রহমতে আমার সন্তান সুস্থ হয়েছে। আমি জানতে চাচ্ছি যে, আমাকে কয়জন ফকীরকে খানা খাওয়াতে হবে?

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার মান্নত আদায়ের জন্য অন্তত দশজন ফকীর মিসকীনকে দুই বেলা খানা খাওয়াতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১২৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৩; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬

শেয়ার লিংক

ফারুক আসলাম - বরুরা, কুমিল্লা

৪৩৪৮. প্রশ্ন

মুহতারাম, হানিফ ছোটবেলায় যে মহিলার দুধ পান করেছিল তার স্বামীর ছোট বোন অর্থাৎ সে মহিলার ননদ ফারজানার সাথে হানিফের বিবাহের আলোচনা চলছে। গ্রামের এক মুরুব্বী বললেন, এ বিবাহ শুদ্ধ হবে না। কারণ এ মেয়ে তো হানিফের মাহরাম। আবার অন্য এক মুরুব্বী বললেন, এত দূরের সম্পর্কে বিবাহ হতে কোনো সমস্যা নেই। শরীয়তের দৃষ্টিতে এ বিবাহের হুকুম কী? দুধ মা’র ননদের সাথে বিবাহ কি শুদ্ধ হবে?
 

উত্তর

ফারজানার সাথে হানিফের বিবাহ বৈধ হবে না। কারণ, ফারজানা হানিফের দুধ সম্পর্কীয় ফুফু। আর আপন ফুফুর মত দুধ ফুফুর সাথেও বিবাহ হারাম। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

يَحْرُمُ مِنَ الرّضَاعَةِ مَا يَحْرُمُ مِنَ الْوِلَادَةِ

অর্থাৎ জন্মসূত্রের কারণে যাদের সাথে বিবাহ হারাম, দুধ সম্পর্কের কারণেও তাদের সাথে বিবাহ হারাম। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪৪৪)

-শরহে মুসলিম, ইমাম নববী ১০/১৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৯৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২২৬

শেয়ার লিংক

মাহমুদল হাসান - ওয়েব থেকে

৪৩৪৭. প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম। পিতা-মাতার চাচা ও মামা কি মেয়ের জন্য মাহরাম না গায়রে মাহরাম?

এমনিভাবে পিতা-মাতার খালা ও ফুফু কি ছেলের জন্য মাহরাম না গায়রে মাহরাম?

 

উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পিতা-মাতার চাচা ও মামা মাহরাম। এমনিভাবে পিতা-মাতার খালা ও ফুফুও মাহরামের অন্তর্ভুক্ত।

-কিতাবুল আছল ৪/৩৫৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৬০; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭৩

শেয়ার লিংক

হায়বাতুল্লাহ - মোমেনশাহী

৪৩৪৬. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি তার পুরাতন অভ্যাসের কারণে এহরাম অবস্থায়ও নাকের দুই-তিনটি পশম উপড়ে ফেলেছে। জানতে চাচ্ছি, এহরাম অবস্থায় তার এ কাজটি জায়েয হয়েছে কি? নাজায়েয হলে তার জরিমানা কী হবে?

 

উত্তর

এহরাম অবস্থায় শরীরের যে কোনো পশম কাটা বা উপড়ানো নাজায়েয। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি দুই-তিনটি পশম উঠানো অন্যায় হয়েছে। এ কারণে সামান্য কিছু যেমন কয়েকটি রিয়াল সদকা করে দিলেই হবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৯; রদ্দুল মুহতার ২/৪৮৯; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী পৃ. ৩২৮; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ২৫৬

শেয়ার লিংক

আবদুর রহীম - রাজশাহী

৪৩৪৫. প্রশ্ন

একদিন এহরাম অবস্থায় রাত্রে ঘুমানোর সময় ঠাণ্ডার কারণে কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। প্রথমদিকে মুখ খোলা রেখেই ঘুমিয়ে ছিলাম। কিন্তু ঘুমে আমার অজান্তেই মাথা ঢেকে ফেলি। দেশে আসার পর এ বিষয়ে এক হাজ্বী সাহেবের সাথে কথা বললে তিনি বললেন, আপনাকে দম দিতে হবে। অবশ্য আমি রাত ১১ টায় ঘুমিয়েছি তিনটায় উঠে পড়েছি। এখন আমি এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানতে চাই।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার উপর দম ওয়াজিব হয়নি। কারণ ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় মুখ ঢেকে রাখলে দম ওয়াজিব হয়। এর কম হলে দম ওয়াজিব হয় না। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে এক সদকয়ে ফিতর পরিমাণ খেজুর বা তার মূল্য সদকা করে দিতে হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১২৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৩০; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ২৫৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৮০; মানিসক, মোল্লা আলী আলকারী পৃ. ৩০৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান - মিরপুর, ঢাকা

৪৩৪৪. প্রশ্ন

আমার মরহুম পিতার ক্রয়কৃত কিছু শেয়ার আমার তত্ত্বাবধানে আছে। আমি যাকাত হিসাব করার সময় ঐ শেয়ারগুলোর তাৎক্ষণিক বাজারমূল্য ধরে যাকাত দেই। বর্ণিত পদ্ধতিতে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবে কি না?  উল্লেখ্য, শেয়ারগুলো ক্রয়-বিক্রয় করা হয় না ; বরং কোম্পানী কর্তৃক প্রদত্ত বাৎসরিক ডিভিডেন্ড গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে বর্ণিত শেয়ারগুলো এজমালী অবস্থায় আছে। এজমালী অবস্থায় শেয়ারগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২,৯০,৬৮০ টাকা। কিন্তু প্রত্যেক অংশীদারকে যদি অংশ দেওয়া হয় তাহলে-

প্রত্যেক ভাই পাবে- ৫০৮৬৯.০০

প্রত্যেক বোন পাবে- ২৫৪৩৪.৫০

মাতা পাবে- ৩৬৩৩৫.০০

উল্লেখ্য, আমরা ৪ ভাই, ২ বোন এবং মাতা জীবিত আছেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনারা যেভাবে যাকাত দিচ্ছেন তা দ্বারা আপনাদের যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে আপনারা যেহেতু ক্যাপিটাল গেইন তথা শেয়ারের ব্যবসা করেন না; বরং কোম্পানী থেকে ডিভিডেন্ড গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে তা আপনারা রেখেছেন। তাই যাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে আপনাদেরকে শেয়ারগুলোর বাজারমূল্য বিবেচনায় নিতে হবে না; বরং আপনারা যাকাত দিবেন কোম্পানীর ব্যালেন্সশীট দেখে। এক্ষেত্রে ফিক্সড্ এসেটস (Fixed Assets) অর্থাৎ বিল্ডিং, মেশিনারিজ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি, যা যাকাতযোগ্য নয় সেগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সম্পদ (যেমন, কাঁচামাল, বিক্রিয়যোগ্য পণ্য, নগদ টাকা ইত্যাদি) যাকাতযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এবং সে টাকা ও সম্পদ থেকে আপনাদের শেয়ারের আনুপাতিক হারে যত হয় তার ২.৫% আপনারা যাকাত দিবেন।

উল্লেখ্য, এজমালী সম্পদের উপর সমষ্টিগতভাবে যাকাত ফরয হয় না; বরং মীরাছনীতি অনুযায়ী যে যতটুকু অংশ পাবে ততটুকুর যাকাত (যদি সে নেসাবের মালিক হয়) তাকে আদায় করতে হয়। তবে ওয়ারিশগণের সম্মতি থাকলে যৌথভাবেও যাকাত আদায় করা যাবে।

-মাআরিফুস সুনান ৫/১৮৮; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা ৪, ১/৮৮১; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/২০১; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/২১

শেয়ার লিংক

মামুন বিন শাফায়েত - চাটখিল, নোয়াখালী

৪৩৪৩. প্রশ্ন

আমার বেশ কিছু টাকার উপর এ বছর যাকাত ওয়াজিব হয়েছে। ব্যবসার সম্পদও আছে প্রায় ৬ লাখ টাকার। তাই চিন্তা করেছি এলাকার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাপড়ের মাধ্যমে আদায় করব। করা  যাবে কি এটা?

 

উত্তর

নগদ টাকার মাধ্যমেই যাকাত আদায় করা উত্তম। যেন যাকাতগ্রহীতা নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যয় করতে পারে। গ্রহীতার প্রয়োজন বিবেচনা না করে ঢালাওভাবে শাড়ি-কাপড় ইত্যাদি দ্বারা যাকাত আদায়ের প্রচলনটি ঠিক নয়। এতে কখনও এমন হয় যে, এক গরীব একাধিক কাপড় পায় অথচ তার চাল-ডাল বা অন্য কিছুর প্রয়োজন। ফলে সে তার কাপড়টি অল্পমূল্যে বিক্রি করে। এতে করে প্রকৃত অর্থে গরীব পুরো টাকাটা পায় না। অবশ্য কেউ যদি যাকাতের টাকা দ্বারা কাপড় কিনে তা গরীবদেরকে দিয়ে দেয় তবে তাতেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে কাপড় বা যে জিনিসই দেওয়া হোক এক্ষেত্রে গ্রহীতার কী ধরনের জিনিস প্রয়োজন সে বিষয়টি দৃষ্টিতে রাখা উচিত।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৫৩৯; কিতাবুল আছল ২/১০৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২২১; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৫

শেয়ার লিংক

ওয়ালী উল্লাহ - কুইন্স, নিউইয়র্ক

৪৩৪২. প্রশ্ন

রমযান মাসে জুমার নামাযের পর আমাদের মসজিদে একটি জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হল। তো জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব তিন তাকবির বলে ভুলে সালাম ফিরিয়ে দেন। পরে মুসল্লীগণ তাঁকে তা জানালে তিনি বললেন, ভাই! নামায তো হয়ে যাবে, তারপরও আমরা নামায আবার পড়ে নিই। জানার বিষয় হল, এভাবে জানাযার নামাযে এক তাকবীর ছুটে গেলে নামায কি হয়ে যাবে?

 

উত্তর

বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, জানাযার তাকবীর চারটি। ফকীহগণ বলেন, এই চার তাকবীরই জানাযার রুকন ও ফরয। একটি তাকবীর ছুটে গেলেও জানাযা সহীহ হবে না। অবশ্য ভুলবশত তিন তাকবীর দিয়ে সালাম ফিরিয়ে দিলে নামায পরিপন্থী কোন কাজ করার আগেই যদি চতুর্থ তাকবীর দিয়ে দেয় অতপর আবার সালাম ফেরায় তাহলে জানাযা সহীহ হয়ে যাবে।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৩৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৫২; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮০; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫২; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫৭৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২

শেয়ার লিংক

আবদুল কাইয়ূম - সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা

৪৩৪১. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় একদিন জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব ভুলবশত পঞ্চম তাকবীর দিয়ে ফেলেন। নামাযের পর মানুষ হৈচৈ শুরু করে দিলে উপস্থিত একজন আলেম বলেন, নামায হয়ে গেছে। আমার জানার বিষয় হল, ঐ নামাযটি কি আদায় হয়েছিল? আর এ ধরনের ক্ষেত্রে মুক্তাদির করণীয় কী হবে?

 

উত্তর

হ্যাঁ, আপনাদের উক্ত জানাযার নামায আদায় হয়েছে। জানাযার চার তাকবীরের অতিরিক্ত বলা ভুল। তবে এ ভুলের কারণে নামায নষ্ট হয়ে যায় না। তাই ইমাম পঞ্চম তাকবীর দিলে মুক্তাদি ইমামের অনুসরণ করবে না। বরং অপেক্ষায় থাকবে এরপর ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে।

-ফাতহুল কাদীর ২/৮৭; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ১/১৫৫; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২

শেয়ার লিংক

সায়েম জাওয়াদ - সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা

৪৩৪০. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে, লাশ দাফন শেষে কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া হয়। আমার জানার বিষয় হল, এ কাজটি কি শরীয়তসম্মত? এ সংক্রান্ত সঠিক মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।

 

উত্তর

কবরের মাটি ভালোভাবে জমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নতুন কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া জায়েয। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত আছে। তিনি নিজ সন্তান ইবরাহীমের কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দিয়েছিলেন। (মারাসিলে আবূ দাউদ, হাদীস ৩৮৭) তবে এটাকে প্রথায় পরিণত করা বা জরুরি মনে করা যাবে না।

-কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা : ২৫৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৯৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৬৫; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/৮০; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৬২৭

শেয়ার লিংক

মূসা আহমদ - সিলেট

৪৩৩৯. প্রশ্ন

মুহতারাম মুফতী সাহেব, আমার অনেকগুলো সিজদায়ে তিলাওয়াত একত্রিত হয়ে গেছে, যা আদায় করিনি। এখন এগুলো আদায়ের সঠিক পদ্ধতি কী? প্রত্যেক সিজদার জন্য আলাদা দাঁড়ানো লাগবে কি না?- জানিয়ে বাধিত করবেন।
 

উত্তর

সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায়ের ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হল, দাঁড়ানো অবস্থায় তাকবীর বলে সিজদায় যাওয়া। এভাবে প্রত্যেক সিজদার জন্য দাঁড়ানো মুস্তাহাব। তবে না দাঁড়িয়ে বসা থেকে সিজদায় গেলেও তা আদায় হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, আয়াতে সিজদা পড়ার পর সম্ভব হলে তখনি সিজদা করা উচিত। বিনা কারণে তা আদায়ে বিলম্ব না করাই ভালো।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫০৫; ফাতহুল কাদীর ১/৪৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৫; রদ্দুল মুহতার ২/১০৭

শেয়ার লিংক

মাহবুব হোসেন - কানাডা

৪৩৩৮. প্রশ্ন

একদিন আমি একাকী নামায পড়ছি, আর আমার পাশে এক ব্যক্তি বসা ছিলেন, তো আমি ঠোঁট নাড়িয়ে আস্তে আস্তে কেরাত পড়ছি। নামায শেষে ঐ ব্যক্তি আমাকে বললেন, নামাযে আস্তে আস্তে পড়ার সর্বনিম্ন স্তর হল নিজের কানে শোনা, শুধু ঠোঁট নাড়ালে হবে না। এখন জানার বিষয় হল ঐ ব্যক্তির কথা কি ঠিক?

 

উত্তর

নামাযে নিম্নস্বরে তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে এমনভাবে পড়তে হবে, যেন হরফগুলো ভালোভাবে উচ্চারিত হয়। এতেই নামায সহীহ হয়ে যাবে। কানে শোনা আবশ্যক নয়।

-কিতাবুল আছল ১/৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৯৭; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৩৬; ইলাউস সুনান ৪/১৩

শেয়ার লিংক

আবদুস সামাদ - জকিগঞ্জ, সিলেট

৪৩৩৭. প্রশ্ন

আমি একদিন ভুলে নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা না দিয়ে নামায শেষ করে ফেলি। এমতাবস্থায় আমার নামায কি সহীহ হয়েছে? এবং ঐ সিজদা পরে কিভাবে আদায় করব?
 

উত্তর

হ্যাঁ, উক্ত নামায সহীহ হয়েছে। তবে সিজদায়ে তিলাওয়াত না করার কারণে অনুত্তম হয়েছে।  আর ঐ সিজদা যেহেতু নামাযে আদায় করা হয়নি তাই তা আর আদায় করতে হবে না। কেননা নামাযের সিজদায়ে তিলাওয়াত নামাযের বাইরে আদায় করার বিধান নেই।

প্রকাশ থাকে যে, কেউ যদি নামাযে ভুলে সিজদায়ে তিলাওয়াত না করে সালাম ফিরিয়ে ফেলে, অতঃপর নামায পরিপন্থী কোনো কাজ করার আগে তা স্মরণ হয় তাহলে তৎক্ষণাৎ তা আদায় করে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করবে।

-কিতাবুল আছল ১/২৭৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৩৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪১০; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৬১

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - নোয়াখালী

৪৩৩৬. প্রশ্ন

আমরা দেখি যে, বিশিষ্টজনদের জানাযার নামায কিংবা ঐতিহাসিক কোনো ঈদগাহে ঈদের নামাযের দৃশ্য কাভারেজ করতে ফটোসাংবাদিকদের ফটোসেশনের হিড়িক পড়ে। এতে অজ্ঞতাবশত কিংবা অবচেতনে কোনো কোনো মুসল্লি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এখন প্রশ্ন হল তাদের নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি না?
 

 

উত্তর

নামাযরত অবস্থায় এভাবে কোনো জিনিসের দিকে তাকিয়ে থাকা মাকরূহ। এটি নামাযের খুশু-খুযু পরিপন্থী। আর ঘাড় বাঁকিয়ে এদিক ওদিক তাকালে তো নামায মাকরূহে তাহরীমী হবে।

উল্লেখ্য, ছবি উঠানো ও ভিডিও করার প্রচলিত এ রেওয়াজ অত্যন্ত গর্হিত ও বর্জনীয়। এতে অন্যান্য ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের ইবাদতে বিঘœ ঘটে থাকে।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৫১; জামে তিরমিযী, হাদীস ৫৮৭; উমদাতুল কারী ৫/৩১০; আলবাহরুর রায়েক ২/২১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৬৩; মাআরিফুস সুনান ৫/১১৭

শেয়ার লিংক

মামুন - নোয়াখালী

৪৩৩৫. প্রশ্ন

মাসবুক হওয়ার ক্ষেত্রে কখনো কখনো ভুলে যাই- ইমামের সাথে কত রাকাত পেলাম। তখন আমার সাথেই নামাযে দাখেল হয়েছে এমন কোনো মাসবুকের প্রতি লক্ষ্য করে অবশিষ্ট নামায পড়ার  দ্বারা নামায সহীহ হবে কি?

 

 

উত্তর

মাসবুক তার পাশের লোকের প্রতি খেয়াল করে ছুটে যাওয়া রাকাতের কথা স্মরণ করে নামায পড়লে তার নামায হয়ে যাবে। তবে নামাযে ভালোভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত। যেন এমন ভুল না হয়।

-শরহুল মুনয়া, পৃ. ৪৬৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৯৭

শেয়ার লিংক

তোফায়েল আহমদ - সিলেট

৪৩৩৪. প্রশ্ন

গত রমযানে আমাদের পাশের মসজিদে ইমাম সাহেব আসরের নামাযে তিন রাকাত পড়ে ভুলে সালাম ফিরিয়ে দেন। পিছন থেকে কিছু মুসল্লী বলে উঠে, নামায তিন রাকাত হয়েছে। তা শুনে ইমাম সাহেব সোজা দাঁড়িয়ে যান। অবশিষ্ট রাকাতটি পূর্ণ করে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরিয়ে দেন। জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেবের উক্ত নামাযটি সহীহ হয়েছে কি না?

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব এবং তার অনুসরণকারী মুসল্লীদের নামায সহীহভাবে আদায় হয়েছে। তবে যেসব মুসল্লী ইমাম ভুলে সালাম ফিরানোর পর কথা বলে ফেলেছেন তাদের নামায নষ্ট হয়ে গেছে। তারা নামাযটি পুনরায় আদায় করে নিবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা: ৪৪৮৭ ; কিতাবুল আছল ১/২১১; আলমাবসূত, সারাখসী ১/২১১; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ১/১০০; খিযানাতুল আকমাল ১/৪৭; ফাতাওয়া কাযীখান ১/৭৯

শেয়ার লিংক

রুহুল আলম - সিলেট

৪৩৩৩. প্রশ্ন

বিতর নামাযে দুআয়ে কুনূতের পর দরূদ শরীফ পড়লে সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে কি না?

 

উত্তর

না, বিতর নামাযে দুআয়ে কুনূতের পর দরূদ শরীফ পড়লে সাহু সিজদা আসবে না। বরং ফিকহের কিতাবাদীতে দুআয়ে কুনূতের সাথে দুরূদ শরীফ পড়া উত্তম বলা হয়েছে।

-খিযানাতুল আকমাল ১/১৭৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৪৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - সিলেট

৪৩৩২. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি ফজরের নামায অবস্থায় সূর্যোদয় হয়েছে কি না তা দেখার জন্য নিজের হাত ঘড়ির দিকে  দেখে এবং কয়টা বাজে তাও মোটামুটি বুঝে ফেলে। এখন জানার বিষয় হল, নামাযে এভাবে ঘড়ি দেখার কারণে নামায নষ্ট হয়েছে কি না?

 

উত্তর

নামায অবস্থায় ঘড়ি দেখার কারণে নামায মাকরূহ হয়েছে। নষ্ট হয়নি। ইচ্ছাকৃত এমনটি করা উচিত নয়।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৫৯; ফাতাওয়া সিরাজিয়্যা পৃ. ১২; মারাকিল ফালাহ পৃ. ১৮২; মাজমাউল আরহুর ১/১৮২

শেয়ার লিংক

ঈসা আবদুল্লাহ - কেরাণীগঞ্জ

৪৩৩১. প্রশ্ন

একদিন আমার এক বন্ধুর সাথে তাকবীরে তাশরীক নিয়ে কথা হয়। তখন সে বলল তাকবীরে তাশরীক নামাযের পর সাথে সাথেই বলতে হয়। নামাযের পর কোনো কথাবার্তা বলে ফেললে তখন আর তাকবীর বলা যায় না। জানার বিষয় হল, তার এ কথাটি কি ঠিক?

 

উত্তর

হ্যাঁ, তার কথা ঠিক। তাকবীর তাশরীক ফরয নামাযের পর সাথে সাথেই বলা নিয়ম। নামায শেষে কথাবার্তা বলে ফেললে কিংবা মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে তাকবীরে তাশরীক বলার সময় থাকে না। তাই এক্ষেত্রে ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার গুনাহ হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৬০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫১০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৬; ফাতহুল কাদীর ২/৫০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৫

শেয়ার লিংক

হুমায়ূন কবীর - সিলেট

৪৩৩০. প্রশ্ন

সিজদায়ে সাহুর কথা ভুলে গিয়ে দুরূদের কিছু অংশ পড়ে ফেলি। এ ছাড়া কখনো এমন হয় যে, এক নামাযে দুটি ওয়াজিব ছুটে যায়। এমতাবস্থায় সিজদায়ে  সাহুর কী হুকুম?
 

 

উত্তর

বিশুদ্ধ মতানুসারে তাশাহহুদের পর সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা করা নিয়ম। তবে কেউ যদি দুরূদ শরীফ পড়ে সাহু সিজদার সালাম ফিরায় তাহলে সেক্ষেত্রেও তা আদায় হয়ে যাবে।

আর নামাযে একাধিক ওয়াজিব ছুটে গেলে সাহু সিজদা একবারই করতে হয়। একাধিক নয়। কেননা নামাযে একাধিক ভুলের কারণে একটি সাহু সিজদাই যথেষ্ট হওয়ার কথা হাদীসে এসেছে।

-মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদীস ৪৫৭৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪১৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭২; কিতাবুল আছল ১/১৯৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৭

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement