মুহাম্মাদ মাহদী - মিরপুর,ঢাকা

৪০০৯. প্রশ্ন

আমার মা আমার ভাইয়ের জন্য এক লক্ষ টাকা এক মহিলার কাছে রেখেছেন। যখন রাখেন তখন আমাকে সাক্ষী করেছিলেন। মা কিছুদিন আগে মারা গেছেন। যার কাছে রেখেছিলেন সে মহিলা টাকা কাকে দিবে। টাকা আমার ভাইয়েরই প্রাপ্য? নাকি এটা মীরাস হিসেবে গণ্য হবে এবং সকল ওয়ারিস তাদের হিস্যা অনুযায়ী পাবে?

এখানে উল্লেখ্য যে, আমার ভাই এই টাকার ব্যাপারে কিছুই জানত না।


উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার মা এই টাকা যেহেতু সরাসরি আপনার ভাইকে দেননি তাই  টাকাআপনার ভাই একা পাবে না।  টাকা মীরাস হিসেবে গণ্য হবে।

-শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ৩/৩৪৪; আলইখতিয়ার ২/৫৩৪; রদ্দুল মুহতার ৫/৫৯০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কৌশিক - রাজশাহী

৪০০৮. প্রশ্ন

 আমি এক লোককে একটি অটো রিকশা কিনে দিয়েছি। তার সাথে এভাবে চুক্তি হয়েছে যে, এই রিকশা চালিয়ে তার যা আয় হবে তার অর্ধেক আমি আর অর্ধেক সে পাবে।

তার সাথে এভাবে চুক্তি করা আমার জন্য কি ঠিক হয়েছে?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত চুক্তি বৈধ হয়নি। অটো রিকশা চালিয়ে  লোক যে ভাড়া পাবে তার একক মালিক সেনিজেই। আর আপনি রিকশার ন্যায্য ভাড়া পাবেন।

এছাড়া আপনি চালকের সাথে এভাবেও চুক্তি করতে পারেন যেসে নির্দিষ্ট সময় রিক্সা চালাবে।বিনিময়ে সে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পাবে। এক্ষেত্রে রিক্সার যাবতীয় আয় আপনার হবে। কিন্তু এই দুইপদ্ধতি ব্যতীত উভয়ের মাঝে আয়ের অংশিদারিত্বের চুক্তি করা সহীহ হবে না। 

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৩৭৭৫; কিতাবুল আসল ৪/১৪০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/১১৬; আল মুহীতুল বুরহানী ১১/৩৩৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাফীন - কুড়িগ্রাম

৪০০৭ . প্রশ্ন

আমি এক মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে একটি এন্ড্রয়েড সেট সার্ভিসের জন্য দেই। দোকানদার নিজেই মেরামত করে। সে মোবাইলটা খুলতে গিয়ে একটি সূক্ষ্ম যন্ত্র নষ্ট করে ফেলে। যার মূল্য দেড় হাজার টাকা। আমি তার কাছে এর জরিমানা চাইলে সে বলল, আমি তো ইচ্ছা করে নষ্ট করিনি। হঠাৎ হয়ে গেছে।

আমার প্রশ্ন হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে এর ক্ষতিপূরণ নেওয়া আমার জন্য বৈধ হবে কি?

 


উত্তর

মেরামতকারীর হাতেই যেহেতু নষ্ট হয়েছে তাই আপনি তার থেকে এর ক্ষতিপূরণ নিতে পারবেন।এক্ষেত্রে মেরামতকারী ইচ্ছাকৃত নষ্ট করেছে কি না তা দেখার বিষয় নয়। 

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২১৪৫৮; কিতাবুল আসার ২/৬৬১; কিতাবুল আছল ৩/৫৬১; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দাহ ৬১১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬৬

শেয়ার লিংক

ফাতিমা তাজনিন শিফা - উপশহর, যশোর

৪০০৬ . প্রশ্ন

আমার ছোট ছেলে যখন গর্ভে তখন আমি মানত করেছিলাম, যদি আমার গর্ভস্থ সন্তান ছেলে হয় তাহলে ওকে সিলেটের নির্দিষ্ট একটি মাদারাসায় পড়াব। পরবর্তীতে দেখা যায়, আমার ছেলে সন্তানই হয়েছে। কিন্তু ওর জন্মের মাস পরেই ওর আবক্ষু সরকারি চাকরির সুবাদে যশোর বদলি হয়ে যায়। যার কারণে আমরা সপরিবারে যশোরে এসে বসবাস শুরু করি। জানতে চাচ্ছি, আমার ছেলেকে কি এখন যশোরের কোনো মাদরাসায়ও পড়াতে পারব, নাকি যে মাদরাসার নামে মানত করেছিলাম সেখানেই পড়াতে হবে? বিষয়টি নিয়ে আমরা পরিবারের সবাই ভীষণ পেরেশানিতে ভুগছি। তাছাড়া লেখাপড়ার জন্য ছেলেকে একাকী সিলেট পাঠানোও আমাদের জন্য অসম্ভবপ্রায়। তাই আমাদের এখন কী করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ছেলেকে যশোরে বা অন্য কোথাও পড়াতে পারবেন। নির্দিষ্ট মাদরাসাতে পড়ানো জরুরি নয়। 

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৮; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ বশির উদ্দিন - ঝালকাঠি, বরিশাল

৪০০৫. প্রশ্ন

) এক ব্যক্তির ছেলে খুব অসুস্থ ছিল। এক পর্যায়ে সে মানত করল যে, আমার সন্তান সুস্থ হলে একটা কুরবানী করব। এখন সে একটা গরুতে মানতের একভাগ দিতে চাচ্ছে। গরুতে অন্যদের কুরবানীর অংশ আছে। এভাবে কুরবানী করা কি জায়েয হবে?

) আর মানতের কুরবানী করার পর ব্যক্তিকে নিজ কুরবানীও কি আদায় করতে হবে? নাকি মানতের দ্বারাই তার নিজের কুরবানীও আদায় হয়ে যাবে?

 


উত্তর

হাঁকুরবানীর গরুতে মানতের অংশ দেওয়া জায়েয হবে এবং এর দ্বারা কুরবানী  মানতসবই আদায় হবে।

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মানতের জন্য আপনাকে একটি কুরবানী দিতে হবে। আর আপনার উপরকুরবানী ওয়াজিব হলে আপনাকে ভিন্ন করে আরেকটি কুরবানীও দিতে হবে।

-বাদায়উেস সনায়ে ৪/২০৯, ১৯৪; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬০

শেয়ার লিংক

মানযুরুল কারিম - মিরপুর, ঢাকা

৪০০৪. প্রশ্ন

. কসমের কাফফারার রোযা কি লাগাতার ধারাবাহিকভাবে রাখতে হয়, নাকি মাঝে বিরতি দিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখা যায়।

) একাধিক কসমের জন্য কি একাধিক কাফফারাই লাগবে, নাকি একটি কাফফারাই যথেষ্ট হবে?



উত্তর

কসমের কাফফারা দরিদ্রদের  খাবার বা কাপড় প্রদানের মাধ্যমে আদায় করার সামর্থ্য নাথাকলে তিনটি রোযা ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে। কোনো কারণে ধারাবাহিকতা ছুটে গেলে তাকাফফারার রোযা হিসেবে আদায় হবে না। সেক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে তিনটি রোযা পূর্ণ করতেহবে।

প্রতিটি কসমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাফফারা আদায় করতে হবে। একাধিক কসমের জন্য একটিকাফফারা যথেষ্ট নয়। -ফাতহুল কাদীর /৩৬৬তাবয়ীনুল হাকায়েক /৪৩২ফাতাওয়াহিন্দিয়া /৬৮আলইখতিয়ার /৩৮৪আদ্দুররুল মুখতার /৭১৪বেহেশতী জেওর /৫৩;ইমদাদুল ফাতাওয়া /৫৪৬

 

শেয়ার লিংক

আবরার মাসুম - বারিধারা, ঢাকা

৪০০৩. প্রশ্ন

 

বছর আমি আমার স্ত্রী হজ্ব করেছি। হজ্বের সময় ১০ যিলহজ্ব মীনা থেকে কংকর নিক্ষেপ করে এসে ক্লান্ত থাকায় দিন তাওয়াফে যিয়ারত করিনি। ইচ্ছা ছিল পরের দিন আমরা তাওয়াফ করব। কিন্তু সেদিন রাতেই আমার স্ত্রীর স্রাব শুরু হয়ে যায়। প্রতিমাসের ন্যায় আট দিন তার স্রাব চলে। তার স্রাবের সময় শেষ হওয়ার পূর্বেই আমরা মদীনায় চলে যাই। মদীনায় অবস্থান করার পর ফ্লাইট বিড়ম্বনার কারণে মক্কায় এসে মাত্র চারদিন অবস্থান করি। সময় আমার স্ত্রী পবিত্র ছিল। তাই সে তাওয়াফে যিয়ারত করে নেয়। এরপর আর কোনো তাওয়াফ করিনি। দেশে আসার পর একজন আলেম বললেন, আপনার স্ত্রীর দম দিতে হবে।

প্রশ্ন হল, আমার স্ত্রীর হজ্ব হয়েছে কি না? এবং তার উপর দম ওয়াজিব হয়েছে কি না? যদি দম ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে এখন আমাদের কী করণীয়?

 


 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার স্ত্রীর তাওয়াফে যিয়ারত যথাযথভাবেই আদায় হয়েছে। তবে তার হজ্বেরএকটি ওয়াজিব কাজ তাওয়াফে বিদা বাকি থেকে গেছে। আপনার স্ত্রী যেহেতু ওজর ছাড়াই এইওয়াজিব ছেড়ে দিয়েছেন তাই তার উপর একটি জরিমানা দম ওয়াজিব হয়েছে।

সুতরাং এখন কর্তব্য হলহেরেমে অবস্থানকারী অথবা গমনকারী কারো মাধ্যমে হেরেমেরএলাকায় একটি দম আদায় করে দেওয়া। 

-গুনইয়াতুন নাসিক ২৭৪; রদ্দুল মুহতার ২/৫১৯, ৫২৩; মানাসিকে মোল্লা আলী কারী ২৫০, ৩৪৯, ৩৯৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আল আমিন - বাকেরগঞ্জ, বরিশাল

৪০০২. প্রশ্ন

আমাদের কাফেলার কয়েকজন মুযদালিফা থেকে মিনায় না গিয়ে সরাসরি মক্কায় চলে গেছে। মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত করেছে। অথচ তারা কংকর মারেনি, হালালও হয়নি। কারণে তাদের কি দম দিতে হবে? তাদের তাওয়াফে যিয়ারত কি আদায় হয়েছে?

 


উত্তর

হাঁতাদের তাওয়াফে যিয়ারত আদায় হয়েছে। তবে কংকরকুরবানী  হলক করার আগেতাওয়াফ করার কারণে মাকরূহ হয়েছে। সুন্নত হলমুযদালিফা থেকে এসে আগে কংকর মারাএরপর কুরবানী করে হলক করে তাওয়াফে যিয়ারত করা। 

-মানাসিক, মোল্লা আলি আলকারি পৃ. ২৩৩; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ১৭৮; রদ্দুল মুহতার ২/৫১৭

শেয়ার লিংক

আবু মুআয - মোমেনশাহী

৪০০১. প্রশ্ন

একদিন নফল তাওয়াফ করার পর তাড়াহুড়োর কারণে তাওয়াফের দুই রাকাত ওয়াজিব নামায পড়া হয়নি। মক্কায় থাকা অবস্থায় আর নামাযের কথা স্মরণ হয়নি। পরবর্তীতে দেশে আসার পর স্মরণ হয়। এখন কি নামাযের কাযা আদায় করতে হবে? আর কারণে কোনো জরিমানা বা কাফফারা দিতে হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব। মসজিদে হারামে কিংবা হেরেমের এলাকায়পড়া মুস্তাহাব। কোনো কারণে হেরেমের এলাকায় পড়তে না পারলে অন্যত্র হলেও পড়ে নিতে হবে।তাই আপনি দেশেই  দুই রাকাত নামায পড়ে নিতে পারবেন।  কারণে কোনো জরিমানা দিতেহবে না।

আতা রাহথেকে বর্ণিততিনি বলেন,

عَنْ عَطَاءٍ ؛ فِي رَجُلٍ طَافَ بِالْبَيْتِ وَنَسِيَ أَنْ يُصَلِّيَ الرَّكْعَتَيْنِ حَتَّى مَضَى ، قَالَ : يُصَلِّيهِمَا إِذَا ذَكَرَ ، وَلَيْسَ عَلَيْهِ شَيْءٌ.

যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করার পর (তাওয়াফেরদুই রাকাত নামাযের কথা ভুলে গিয়ে চলেযায় সে পরবর্তীতে স্মরণ হওয়ামাত্র  দুই রাকাত নামায পড়ে নিবে। আর  কারণে তার উপরকোনো জরিমানা আসবে না।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৪৭৭৯; গুনইয়াতুন নাসিক ১১১; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ১৫৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৯২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৯৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৬

শেয়ার লিংক

দেওয়ান সিরাজী - চকবাজার, ঢাকা

৪০০০. প্রশ্ন

আল্লাহর রহমতে আমার ছোটখাটো একটা ব্যবসা আছে। প্রতি রমযানের শেষের দিকে আমি ব্যবসার বাৎসরিক হিসাব সম্পন্ন করি। কিন্তু রমযানের শুরু থেকে যাকাত দেওয়া শুরু করে দেই। বছর ঈদের আগের দিন হিসাব শেষে দেখলাম, আমার যে পরিমাণ যাকাত ওয়াজিব হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি আদায় করা হয়েছে।

আমি জানতে চাই, যাকাত হিসেবে অতিরিক্ত যে অংশ আমি আদায় করেছি তা কি আমি আগামী বছরের যাকাত হিসেবে গণ্য করতে পারব?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে  বছর যে পরিমাণ যাকাত ফরয ছিল তার অতিরিক্ত যা যাকাত হিসেবে দিয়েছেনতা আপনি আগামী বছরের যাকাতের মধ্যে গণ্য করতে পারবেন।

-কিতাবুত তাজনীস ২/৩৩১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫২; রদ্দুল মুহতার ২/২৯২

শেয়ার লিংক

হাবীবুল্লাহ - কুড়িগ্রাম

৩৯৯৯ . প্রশ্ন

প্রতি বছর আমি লুঙ্গি, শাড়ি ইত্যাদির মাধ্যমে যাকাত আদায় করি। বছরও যাকাতের নিয়তে ঢাকা ইসলামপুর থেকে ৪০০টি লুঙ্গি ৩০০টি শাড়ি ক্রয় করে কুড়িগ্রামগামী একটি বাসের ছাদে এগুলো উঠিয়ে দেই। বাস কর্তৃপক্ষ কুড়িগ্রাম জেলা বাস টার্মিনালে এগুলো নামিয়ে দেয়। কিন্তু সেখানে আমার পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়ে যায়। গিয়ে দেখি, কাপড়ের গাঁটরিটি খুলে পড়ে আছে। তাতে ৬০/৭০টি লুঙ্গি, শাড়িও নেই।

প্রশ্ন হল, আমাকে এখন আবার নতুন করে ক্রয় করে যাকাত দিতে হবে, নাকি প্রথমবার যাকাতের নিয়তে ক্রয় করার দ্বারাই যাকাত আদায় হয়ে গেছে? 

 


উত্তর

যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধির নিকট যাকাতের মাল পৌঁছে দেওয়ার আগেযাকাত আদায় হয় না। এক্ষেত্রে যাকাতের নিয়তে ক্রয় করা বা কোনো স্থানে পৃথক করে রাখাযাকাত আদায়ের জন্য যথেষ্ট নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া কাপড়গুলো যাকাতহিসেবে কর্তন হবে না।  পরিমাণ যাকাত আপনাকে আদায় করতে হবে। 

-আলবাহরুর রায়েক ২/২১১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ৩৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭০

শেয়ার লিংক

জুয়েল - বরুড়া, কুমিল্লা

৩৯৯৮. প্রশ্ন

আমার দোকানে পণ্য আছে মোট লক্ষ ৮০ হাজার টাকার। সাথে মানুষের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য ছোট-বড় মিলে ১৫টি সাইকেলও আছে। প্রশ্ন হল, এখন আমি কীভাবে যাকাত আদায় করব? দোকানের মোট পুঁজির সাথে সাইকেলগুলোর মূল্য যোগ করে, নাকি পৃথক পৃথকভাবে আদায় করব? দ্রম্নত জানালে উপকৃত হব।

 


উত্তর

ভাড়ার বস্ত্তর মূল্যের উপর যাকাত আসে না। বরং তা থেকে অর্জিত আয় উদ্বৃত্ত থাকলে তারযাকাত দিতে হয়। তাই আপনাকে  তিন লক্ষ ৮০ হাজার টাকার সাথে শুধু সাইকেলগুলো থেকেভাড়া বাবদ প্রাপ্ত আয়ের যা জমা আছে তার যাকাত দিতে হবে। 

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫০; আলফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ ১/১৮২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮০

শেয়ার লিংক

মেহবুবা আইরিন - উত্তরা, ঢাকা

৩৯৯৭ . প্রশ্ন

আমার বাবার ইন্তেকালের পর একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে বেশ কিছু সম্পদ আমার মালিকানায় আসে। যার সবই প্রায় বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার। আমার স্বামী আর্থিকভাবে ততটা স্বচ্ছল নন। আমি চাচ্ছি, ব্যবসা করার জন্য তাকে মোটামুটি বড় একটা মূলধনের মালিক বানিয়ে দিতে। কিন্তু কোম্পানি থেকে আমার যে লাভ আসে তার অধিকাংশই আমার অলঙ্কারাদি অন্যান্য সম্পদের যাকাত হিসেবে আদায় করে দিতে হয়।

জানার বিষয় হল, আমি যাকাতের অংশসহ পুরো লভ্যাংশের টাকা আমার স্বামীকে দিতে পারব কি? না যাকাতের অংশ তাকে দেওয়া যাবে না?

 


উত্তর

স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। তাই আপনার স্বামী অসচ্ছল হলেও তাকেআপনি যাকাতের টাকা দিতে পারবেন না। 

-শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৩৯৫; মুখতাসারুল কুদূরী ১২৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৮

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ সরকার - ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর

৩৯৯৬. প্রশ্ন

 গত রমযানের পনের তারিখে আমাদের বাড়ির অনেকগুলো গাছ কাটা হয়। সকাল ৭টা থেকে কাজ শুরু করি। যোহর পর্যন্ত একটানা কাজ করি। আর রোদের তেজও ছিল প্রখর। ৩টার দিকে হঠাৎ মাথা ঘোরানো শুরু হয়। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। ফলে রোযা ভেঙ্গে ফেলি।

আমার প্রশ্ন হল, এখন আমার কী করণীয়? শুধু কাযা করলেই হবে, নাকি কাফফারাও আদায় করতে হবে? অনুগ্রহ করে জানালে উপকৃত হব।

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু অসুস্থতার ওজরেই রোযা ভেঙ্গেছেন তাই উক্ত রোযার শুধু কাযাকরতে হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না।

প্রকাশ থাকে যেরমযানে রোযা রেখে এমন কাজ করা উচিত নয়যা রোযাদারকে বেশি দুর্বলকরে দেয়। আর রোযা থেকে এমন কাজ করা মাকরূহে তাহরীমীযার কারণে রোযা ভাঙ্গার মতোপরিস্থিতি হয়ে যায়।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২০-৪২১

শেয়ার লিংক

বিনতে তাহমীদ - সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

৩৯৯৫ . প্রশ্ন

সাধারণত প্রতি ২৭ দিন পরপর আমার স্রাব শুরু হয়। এটা আমার অনেক দিনের অভ্যাস। নিয়ম অনুযায়ী ১৪ রমযান আমার স্রাব শুরু হওয়ার দিন ছিল। তাই ১৩ রমযান দিবাগত রাতে আমি সাহরী খাইনি এবং পরের দিন রোযার নিয়তও করিনি। ফলে ১৪ রমযান সকাল থেকে আমি স্বাভাবিকভাবেই পানাহার করতে থাকি। কিন্তু সেদিন আমার স্রাব শুরু হয় রাত থেকে।

এখন জানার বিষয় হল, আমার উক্ত রোযার কী হুকুম? শুধু কাযা করলেই হবে, নাকি কাফফারাও আদায় করতে হবে? অনুগ্রহ করে জানালে উপকৃত হব।

 


উত্তর

অভ্যাস অনুযায়ী দিনের যে কোন সময় স্রাব শুরু হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় রোযার নিয়তথেকে বিরত থাকা জায়েয নয়। তাই আপনার কাজটি মারাত্মক ভুল হয়েছে।  জন্য আল্লাহতাআলার নিকট তওবা ইসতেগফার করতে হবে। তবে প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু  দিনরোযার নিয়তই করেননি তাই আপনাকে উক্ত রোযার শুধু কাযা করতে হবে। কাফফারা আদায়করতে হবে না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইমরান - রায়পুর, লক্ষ্মীপুর

৩৯৯৪ . প্রশ্ন

এক ব্যক্তি নফল রোযা রেখেছিল। পরে রোযার কথা ভুলে গিয়ে খানা খেয়ে ফেলেছিল। স্মরণ হওয়ার পর আর খায়নি। তার রোযা কি হবে? একজন বলছে, ফরয রোযায় ভুলে খেলে রোযা নষ্ট হয় না। কিন্তু নফল রোযায় ভুলে খেয়ে নিলে রোযা হয় না। কথা কি সহীহ?

 


উত্তর

রোযা নফল হোক বা ফরয ভুলে খেয়ে নিলে রোযা ভাঙ্গে না। নফল রোযায় ভুলে খেলে রোযা ভেঙ্গেযায় প্রশ্নের  কথা ঠিক নয়। তাই  ব্যক্তির রোযাটি সহীহ হয়েছে। 

-মাবসূত, সারাখসী ৩/৬৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৪, ৪০০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ বিন আবদুর রাযযাক - সাভার, ঢাকা

৩৯৯৩. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার নানা ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন। তবে তার গ্রামের বাড়ি ছিল পাবনা। সেখানে তার ঘরবাড়ি এবং জায়গা-সম্পত্তি আছে। গ্রামে তিনি একটি মসজিদ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেগুলোর মুতাওয়াল্লি তিনিই ছিলেন। তাই কিছুদিন পরপরই সেখানে যেতেন। কয়েক দিন করে থাকতেন। মাদরাসাই ছিল তার সারা জীবনের স্বপ্ন এবং তার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। তার খুব তামান্না ছিল, উক্ত মাদরাসা-মসজিদের কাছেই তার কবর হবে। সন্তানদেরকে কথা বলেছেনও বিভিন্ন সময়। কিছুদিন আগে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তখন তার দাফনের বিষয় নিয়ে মতভেদ হয়। গ্রামের লোকদের দ্বীনী মুরুবিক্ষ হওয়ায় তাদের চাওয়া ছিল তাকে গ্রামে দাফন করা হোক। ছাড়া বাবার কবর সেখানে থাকলে স্বভাবতই সন্তানদের মাদরাসার প্রতি বিশেষ মনোযোগ থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় আনেন কেউ কেউ। আর তার নিজের তামান্না উপেক্ষা করাটাও সন্তানদের কাছে কষ্টকর হয়। তাই তাকে পাবনাতে নিয়েই দাফন করা হয়। কিন্তু আমি জানতাম, লাশ এত দূর নিয়ে দাফন করা মাকরূহে তাহরীমী নাজায়েয। এখন জানার বিষয় হল, উপরোক্ত অবস্থায় তাকে গ্রামে নিয়ে দাফন করাটা শরীয়তের দৃষ্টিতে উচিত ছিল কি না? আর এটি মাকরূহে তাহরীমী বা নাজায়েয কাজ হয়েছে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

মৃত ব্যক্তি যেখানে ইন্তেকাল করে তাকে সে এলাকার নিকটবর্তী কবরস্থানে দাফন করা উত্তম। বিনাকারণে বেশি দূরে নিয়ে দাফন করা অনুত্তম। দূরে নিয়ে যাওয়ার ফলে যদি দাফনে অধিক বিলম্ব নাহয় এবং লাশ বিকৃত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে তাহলে দূরে নিয়ে দাফন করা নাজায়েয হবেনা।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লাশ স্থানান্তরের কারণে যদি উপরোক্ত সমস্যা না হয়ে থাকে তাহলেস্থানান্তর নাজায়েয হয়নি। 

-মুয়াত্তা, ইমাম মালেক, ৮০; আততাজনীস ২/২৮১-২৮২; শরহু সিয়ারিল কাবীর, সারাখসী ১/১৬৪; মারাকিল ফালাহ ৩৩৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৬; আলইসতিযকার ২/৫৮৩-৫৮৫

শেয়ার লিংক

আবুল কালাম আজাদ - মংলিপাড়া, সিলেট

৩৯৯২ . প্রশ্ন

আমার বড় ভাইজান ভালো আলেম বুযুর্গ ছিলেন। সমাজে তার বেশ সুনাম-সুখ্যাতি ছিল। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে তিনি বাতিলের বিরুদ্ধে সাহসী বয়ান করতেন। এভাবে তার কিছু শত্রুও গড়ে ওঠেছিল। ভাইজান সিলেট শহরেই থাকতেন। একবার তিনি সীমান্ত পার্শ্ববর্তী গোয়াইঘাটে একটি দ্বীনী প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য সফর করছিলেন। গাড়ি কোম্পানিগঞ্জ পার হয়ে সামনে এগুলে এক জনমানবহীন সড়কে পৌঁছলে একদল দুর্বৃত্ত ভাইজানের ওপর সশস্ত্র হামলা করে বসে। তারা বুলেটের আঘাতে ভাইজানের দেহ ঝাঁজরা করে দেয়। এম্বুলেন্সে করে লাশ এলাকায় আনা হলে ভাইজানকে গোসল দেওয়া হবে কি না নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক মতানৈক্য দেখা দেয়। অবশেষে ইমাম সাহেবের ফয়সালাক্রমে গোসল করিয়ে ভাইজানকে আলাদা কাফন পরানো হয়। এরপর জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়। কিন্তু তারপরও গোসলের বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে কানাঘুষা চলতে থাকে। তাদের বক্তব্য, শহীদকে গোসল দেওয়ার কোনো বিধান নেই। তাকে তার রক্ত মাখা কাপড়ই দাফন করা নিয়ম। এখন মাননীয় মুফতী সাহেবের কাছে বিষয়টির প্রকৃত সমাধান জানতে চাচ্ছি। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

 


উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার ভাই শহীদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা ডাকাত  দুর্বৃত্তদের হাতে নিহতব্যক্তি শহীদের হুকুমে। তাকে গোসল দিতে হয় না। তাই তাকে গোসল না দিয়ে পরিহিত পোশাকেদাফন করাই উচিত ছিল। ভুল হলেও যেহেতু দাফন হয়ে গেছে তাই এখন বিষয়টি নিয়ে বিতর্কেলিপ্ত হওয়া ঠিক হবে না।

عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ قَتَلَهُ اللُّصُوصُ فَقَالَ: لَا يُغَسَّلُ

শাবী রাহ.-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলযে চোরদের হাতে নিহত হয়েছে। তিনিবললেনতাকে গোসল দেওয়া হবে না। 

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৬৬৪৮, ৯৫৯৪; কিতাবুল আছল ১/৩৩৯; আলজামিউস সগীর ১১৮-১১৯; শরহুয যিয়াদাত ১/১৮৬-১৮৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৪৭-২৫০

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - সুজানগর, পাবনা

৩৯৯১. প্রশ্ন

কয়েক দিন আগে আমার বড় মামা মারা গিয়েছেন। গোসল দেওয়ার পর জানাযার নামাযের বেশ আগেই তার লাশ মসজিদের সামনে রাখা হয়। আমার এক মামাতো ভাই মাদরাসার কয়েকজন ছাত্রকে নিয়ে এলেন। কফিনের কাছে তাদেরকে তিলাওয়াত করতে বসালেন। আমার মনে একটু খটকা লাগল। কোথায় যেন শুনেছি, মৃত ব্যক্তির পাশে বসে তিলাওয়াত করা উচিত নয়। তবে স্পষ্ট কিছু মনে নেই। তাই সঠিক বিষয়টি জানতে চাই।

 


উত্তর

গোসল দেওয়ার পর লাশের কাছে কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েয। কিন্তু গোসল দেওয়ার আগেমৃত ব্যক্তির নিকটে কুরআন তিলাওয়াত করা মাকরূহ। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মাইয়্যেতের গোসলের পরেযেহেতু তার কাছে তিলাওয়াত করা হয়েছে তাই এতে দোষের কিছু হয়নি।

প্রকাশ থাকে যেমাইয়্যেতের গোসলের আগে দূরে কোথাও যেমন অন্য ঘরে মৃতের ঈসালেসওয়াবের নিয়তে কুরআন তিলাওয়াত করতে কোনো অসুবিধা নেই।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৬৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭১; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৯৭; রদ্দুল মুহতার ২/১৯৪

শেয়ার লিংক

ইবরাহীম হাবীব - ডেমরা, ঢাকা

৩৯৯০. প্রশ্ন

সেদিন বিতর নামায পড়ছিলাম। ৩য় রাকাতে দুআয়ে কুনূত না পড়েই রুকুর জন্য ঝুঁকে যাই। হাঁটুতে হাত লাগে না এত সামান্য ঝুঁকেছিমাত্র তখনই দুআর কথা স্মরণ হয়। তাই দাঁড়িয়ে দুআয়ে কুনূত পড়ি। এরপর সিজদায়ে সাহু ছাড়াই নামায শেষ করি। জানতে চাই, আমার নামায কি সহীহ হয়েছে?

 


উত্তর

জী হাঁআপনার নামায সহীহ হয়েছে। কারণ আপনি যেহেতু রুকুতে চলে যাননিবরং সামান্যঝুঁকেই উঠে গেছেন তাই আপনার দাঁড়িয়ে যাওয়া নিয়মসম্মতই হয়েছে। আর এক্ষেত্রে সিজদায়েসাহুও ওয়াজিব হয়নি। সুতরাং স্বাভাবিক নিয়মে নামায শেষ করা ঠিক হয়েছে। 

-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৮৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১২৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৪৭

শেয়ার লিংক

রশীদুযযামান - আসাদগেইট, ঢাকা

৩৯৮৯ . প্রশ্ন

 

আমার মাঝেমধ্যে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যায়। মসজিদে গিয়ে দেখি ফজরের জামাত বেশ আগেই শুরু হয়ে গেছে। তখন জামাতে শরিক হয়ে যাই। সুন্নত আর পড়ার সুযোগ হয় না। জানতে চাই, আমাকে কি পরে সুন্নত কাযা করতে হবে?

 


 

উত্তর

ফজরের সুন্নত অন্যান্য সুন্নতে মুআক্কাদা থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই চেষ্টা করতে হবে যেনজামাত 

শুরু হওয়ার আগেই তা আদায় করা যায়। কখনো ছুটে গেলে ঐদিন সূর্য ভালোভাবে উদিতহওয়ার পর

তা পড়ে নেওয়া উত্তম।

হাদীস শরীফে এসেছেআবু হুরায়রা রাথেকে বর্ণিততিনি বলেন,

أَنَّ النَّبِيَّ _ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ _ نَامَ عَنْ رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ، فَقَضَاهُمَا بَعْدَ مَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ

একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমের কারণে ফজরের দু রাকাত সুন্নত পড়তেপারেননি। ফলে সূর্যোদয়ের পর তিনি তা আদায় করেছেন। -সুনানে ইবনে মাজাহহাদীস  ১১৫৫

যদি  দিন যোহরের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে পড়া না হয় তাহলে এরপর আর তা পড়ার নিয়ম নেই।

-হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫১৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৫৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৩৪-২৩৫

শেয়ার লিংক

সোহেল আহমদ - কলাবাগান, ঢাকা

৩৯৮৮. প্রশ্ন

 

আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। রাত ৮টা পর্যন্ত ডিউটি করে বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায় দশটা বেজে যায়। এরপর খাবার-দাবার অন্যান্য কাজ শেষ করে ইশার নামায পড়তে পড়তে প্রায় বারোটা, সাড়ে বারোটা বেজে যায়। এর আগে পড়াটা একটু কঠিন হয়। জানতে চাই, আমার জন্য এত দেরি করে নামায আদায় করায় কোনো সমস্যা আছে কি?

 


 

উত্তর

বিনা ওজরে ইশার নামায আদায়ে এত বিলম্ব করা মাকরূহ। ইশার নামায রাতের প্রথম একতৃতীয়াংশের মধ্যে আদায় করে নেওয়া উত্তম। অবশ্য মধ্যরাত পর্যন্ত পড়ে নিলে মাকরূহ হবে না।আমাদের দেশে মওসুমভেদে মধ্যরাত শুরু হয় কখনো এগারোটা থেকেকখনো সাড়ে এগারোটাথেকে বা এর কয়েক মিনিট আগে-পরে (ঢাকার সময়ানুযায়ী) তাই ওজর ছাড়া এর চেয়ে বিলম্বকরা মাকরূহে তানযীহী। সময়মতো নামায আদায়ের ব্যাপারে আরো যত্নশীল হওয়া কর্তব্য।

উল্লেখ্যযে সকল দপ্তরে মুসলমান কর্মচারীগণ কাজ করে সেখানের কর্তৃপক্ষের উচিত নামাযেরনির্ধারিত সময়ে কর্মচারীদেরকে জামাতের সাথে নামায আদায়ের সুযোগ করে দেওয়া। তবেসেখানে যদি জামাতের সুযোগ নাও থাকে তবে ছুটির পর অফিসে কিংবা বাইরে কোথাও নামাযপড়ে নেওয়াই বাঞ্ছনীয় হবে। 

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২২৬; মাবসূত, সারাখসী ১/১৪৭; শরহুল মুনইয়াহ ২৩৪; হালবাতুল মুজাল্লী ১/৬৪৬; রদ্দুল মুহতার ১/৩৬৮; কিতাবুল আছল ১/১২৩; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ১/৫২২

শেয়ার লিংক

লাবীদ - বাসাবো, ঢাকা

৩৯৮৭ . প্রশ্ন

মাঝেমধ্যে বিতর নামাযের তৃতীয় রাকাতে আমি দুআ কুনূত না পড়ে ভুলে রুকু করে ফেলি। এখন আমি জানতে চাই, এমন হলে আমার কী করণীয়?


উত্তর

বিতর নামাযে দুআ কুনূত না পড়ে ভুলে রুকুতে চলে গেলে দুআ কুনূতের জন্য ফিরে আসবে না।বরং বাকি নামায স্বাভাবিকভাবে পড়ে সাহু সিজদা করবে। অবশ্য কেউ যদি রুকু থেকে ফিরে এসেদুআ কুনূত পড়ে তাহলে নামায নষ্ট হবে না। যদিও এমনটি করা অনিয়ম। এক্ষেত্রে তাকে পুনরায়রুকু করতে হবে না। আর পুনরায় দুআ কুনূত পড়া হোক বা না হোক উভয় অবস্থায় সাহু সিজদাকরতে হবে। কেননা বিতর নামাযে রুকুর পূর্বে দুআ কুনূত পড়া ওয়াজিব। আর দুআ কুনূত না পড়েরুকুতে চলে গেলে কুনূত পড়ার সময় শেষ হয়ে যায় এবং ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার কারণে সাহুসিজদা করা আবশ্যক হয়ে যায়। তাই রুকু থেকে ফিরে এসে কুনূত পড়া নিয়মসম্মতনয়।

-কিতাবুল আসল ১/২২০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৯-১০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১১; আলবাহরুর রায়েক ২/৪২;

শেয়ার লিংক

সাঈদ - বাসাবো, ঢাকা

৩৯৮৬. প্রশ্ন

মাঝেমধ্যে আমি নামাযের কোনো রাকাতে একটি সিজদা করে অপর সিজদাটি করতে ভুলে যাই। এখন জানতে চাই, এমন হলে আমার কী করণীয়?

 


উত্তর

নামাযের কোনো রাকাত থেকে যদি একটি সিজদা ছুটে যায় তাহলে নামাযের মধ্যে যখনই স্মরণ হবেসিজদাটি আদায় করে নিবেন এবং নামায শেষে সাহু সিজদা করবেন। 

-শরহুল মুনইয়াহ ২৯৭; কিতাবুল আছল ১/২০৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০১; রদ্দুল মুহতার ১/৪৬২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - হবিগঞ্জ

৩৯৮৫. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে একদিন ইশার জামাতে ইমাম সাহেব চার রাকাত পর না বসে দাঁড়িয়ে যান। মুসল্লিরা লোকমা দিলেও তিনি ফিরে আসেননি। অতপর পঞ্চম রাকাতের সিজদা করে বৈঠক করেন এবং সাহু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করেন। সাহু সিজদার সাথে নামায শেষ করার কারণে মুসল্লিরা মনে করেছে নামায হয়ে গেছে। কিন্তু আমার মনে সন্দেহ ছিল। সময় কাউকে জিজ্ঞাসা করার মতো পাইনি। পরে জানতে পারলাম যে, আমাদের নামায হয়নি। আসলেই কি আমাদের নামায হয়নি? কিন্তু আমাদের ইমাম সাহেবকে বললে তিনি বললেন, সাহু সিজদার কারণে নামায সহীহ হয়ে গেছে। কথা কি ঠিক? যদি না হয়ে থাকে তবে দিনের ইশা, সুন্নত বিতর সবাইকে কি কাযা করতে হবে?

 


উত্তর

আপনাদের উক্ত ইশার নামায আদায় হয়নি। চার রাকাতের পর না বসে পঞ্চম রাকাত পূর্ণ করারদ্বারা অর্থাৎ  রাকাতের সিজদা করার দ্বারাই  ইশার নামায বাতিল হয়ে গেছে। তাই পরবর্তীতেসাহু সিজদা করলেও উক্ত ইশার নামায আদায় হয়নি। কারণ নামাযের মধ্যে কোনো ওয়াজিবেত্রুটি হলে সাহু সিজদা করে নিলে  নামায সহীহ হয়ে যায়। কিন্তু ফরয ছুটে গেলে সাহু সিজদাদ্বারা সে ক্ষতি পূরণ হয় না। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চার রাকাত পর শেষ বৈঠক করা ফরয ছিল তা করাহয়নি। সুতরাং  ভুল সাহু সিজদা দ্বারা পূর্ণ হবে না। অতএব  দিনের ইশার নামায আবারপড়তে হবে। তবে সুন্নত  বিতর পড়তে হবে না। কেননা সুন্নতের কাযা নেই। আর বিতর নামাযসহীহ হয়েছে। তাই তা আর পড়তে হবে না। 

-শরহুল মুনইয়াহ ২৮৯-২৯০; মুখতাসারুল কুদূরী ৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫১; রদ্দুল মুহতার ১/৩৬১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ - ঢাকা

৩৯৮৪. প্রশ্ন

আলকাউসারের বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, নামাযের জন্য মৌখিক নিয়্যত করা জরুরি নয়। মনে মনে নিয়ত করলেই যথেষ্ট। কিন্তু ফরয ওয়াজিব সুন্নত নফল এগুলোর ক্ষেত্রে কীভাবে নিয়ত করতে হবে তা কোনো প্রশ্নোত্তরে পাইনি। সব ক্ষেত্রে শুধু নামায পড়ছি এমন নিয়ত করা কি যথেষ্ট না কি ফরয-ওয়াজিব নিয়ত করতে হবে। আর কাযা নামায আদায়ের সময় কাযা কথা কি উল্লেখ করতে হবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

নিয়ত দিলে দিলে করাই যথেষ্ট। মৌখিক নিয়ত করা আবশ্যক নয়। তবে কোন নামায পড়ছেন তানির্দিষ্ট করে নিয়ত করতে হবে। যেমনফজরের ফরয নামায পড়ছিযোহরের ফরয নামাযপড়ছি। এভাবে কোন ফরয নামায তা নির্দিষ্টভাবে নিয়ত করতে হবে।

আর বিতর নামায পড়ছি এমন বললেই হবে। তদ্রূপ ফজরযোহরমাগরিব  ইশার সুন্নতেওনির্দিষ্ট নিয়ত করা ভালো। আর হাদীসে বর্ণিত নির্দিষ্ট নফল নামাযগুলোর ক্ষেত্রেও  নামাযেরনিয়ত করা উত্তম। যদিও শুধু নামায পড়ছি এমন নিয়ত করলেও তা আদায় হয়ে যাবে। এছাড়াঅন্যান্য নফলের ক্ষেত্রে শুধু নামায পড়ছি বা নফল নামায পড়ছি এমন নিয়ত করবে।

আর কাযা আদায়ের ক্ষেত্রেও অমুক দিনের যোহর পড়ছিঅমুক দিনের আসর পড়ছিএভাবেনিয়ত করলেও চলবে।

-আলইখতিয়ার ১/১৫৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২০৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিক আহমেদ - ঝালকাঠী

৩৯৮৩ . প্রশ্ন

মহিলাদের মাসিকের সময় আইয়ামে তাশরীকে তাকবীরে তাশরীক কীভাবে পড়বে? নামায না থাকলেও তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে কি?

 


উত্তর

মাসিকের সময় যেহেতু নামায নেই তাই  সময় তাদেরকে তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে না।তাকবীরে তাশরীকটা মূলত নামাযের সাথে সম্পৃক্ত।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৫; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২৯৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম - রাজাপুর, ঝালকাঠি।

৩৯৮২. প্রশ্ন

আমার পিতার উভয় কিডনী নষ্ট হয়ে গেছে। সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডায়ালাইসিসের জন্য অনেক সময় লাগে। সিরিয়াল লেগে থাকে। ডাক্তার যে সময় দেয় সে সময়ই করতে হয়। কোনো কোনো সময় মাগরিবের কিছু আগে শুরু হয়। একেবারে ইশার সময় শেষ হয়। কিংবা আসরের আগে শুরু হয় মাগরিবে শেষ হয়। জানার বিষয় হল, ডায়ালাইসিস চলাকালীন তিনি নামায পড়বেন, নাকি পরে কাযা করে নিবেন। ডায়ালাইসিস চলাকালীন শুয়ে থাকতে হয়। কেবলা ঠিক থাকে না। অযু করাও সম্ভব নয়। তবে তায়াম্মুম করা যায়। এক দিক দিয়ে শরীরের রক্ত বের করা হয়। আর অন্য দিক দিয়ে রক্ত প্রবেশ হয়। তার নামাযের হুকুম সবিস্তারে জানাবেন।

 


উত্তর

ডায়ালাইসিস চলা অবস্থায় নামায কাযা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হলে তায়াম্মুম করে শুয়ে যেদিকেফিরে সম্ভব নামায পড়ে নিবে। অসুস্থ অবস্থায় যেভাবে সম্ভব নামায পড়ে নিলে তা আদায় হয়েযায়। পরবর্তীতে তার কাযা করতে হবে না। 

-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৪, ২৮৭; মাবসূত, সারাখসী ১/২১২-২১৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৩৩, ২/৯৯-১০০

শেয়ার লিংক

আফীফ মিহসান - বাগেরহাট

৩৯৮১ . প্রশ্ন

কিছুদিন আগে বিশেষ এক প্রয়োজনে আমরা কয়েকজন খুলনা থেকে ঢাকায় আসি। এখানে আমার ভগ্নিপতির মাদরাসা আছে। জুমআর দিন তিনি উপস্থিত না থাকায় আমাদের সাথে আসা একজন জুমার নামায পড়িয়ে দেন। পরে আমার মনে হল, তিনি তো মুসাফির। তার নিজের উপরই যখন জুমা ওয়াজিব নয় তখন তিনি মুকীমদের ইমাম হবেন কীভাবে? তাই জানতে চাই, মুসাফিরের জন্য জুমার ইমামতি করার বিধান কী?

 


উত্তর

মুসাফির ব্যক্তির উপর জুমা ফরয নয়। তবে সে জুমা আদায় করলে তা জুমা হিসেবেই সহীহ হবে।তাই সফর অবস্থায় তার জুমা আদায় করাও জায়েয এবং জুমার ইমামতি করাও জায়েয। সুতরাং ব্যক্তির জুমার ইমামতি করা যথাযথ হয়েছে।

-আলজামিউস সগীর ১১২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৮৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৪৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৫৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫২; শরহুল মুনইয়াহ ৫৫৭

শেয়ার লিংক

আরিফ রেদওয়ান আমীন - বাইতুস সালাম মাদরাসা উত্তরা, ঢাকা

৩৯৮০. প্রশ্ন

গত রমযানে আমি একদিন জামাতের সাথে তারাবীতে নামায শেষ করে জরুরতে মসজিদের বাইরে যাই। ফিরে এসে ইমাম সাহেবকে বিতিরের তৃতীয় রাকাতে পাই। আমি তখন জামাতে শরিক হই। ইমাম সাহেব যখন তাকবীর বলে দুআ কুনূত পড়েন তখন আমিও তার সাথে দুআ কুনূত পড়ি। এরপর ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাত শেষ করে সালাম ফিরালে আমি দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট দু রাকাত পূর্ণ করি। তাতে পুনরায় আর দুআ কুনূত পড়িনি। নামায শেষে একজন মুসল্লি আমাকে বলেন, আপনার নামায আদায় হয়নি। কেননা প্রথমবার আপনি যখন ইমামের সাথে দুআ কুনূত পড়েছেন তা ছিল আপনার প্রথম রাকাত। ইমামের অনুসরণে তখন মূলত তা পড়েছেন। এরপর আপনার তৃতীয় রাকাত যেটা ছিল তাতে দুআ কুনূত পড়া তো আপনার জন্য ওয়াজিব ছিল। ইচ্ছাকৃত ওয়াজিব ত্যাগ করার কারণে আপনার নামায নষ্ট হয়ে গেছে। হুজুরের কাছে বিষয়টির প্রকৃত সমাধান জানতে চাচ্ছি।

 


উত্তর

উক্ত মুসল্লির কথা ঠিক নয়। কেননা মাসবুক ইমাম সাহেবের সাথে দুআ কুনূত পড়লে কিংবা তৃতীয়রাকাত পেলে মাসবুকের দুআ কুনূতের ওয়াজিব আদায় হয়ে যায় এবং এটা তার জন্য তৃতীয়রাকাত হিসেবেই গণ্য হয়। তাই ইমামের সালামের পর পূর্বের দু রাকাত আদায় করতে হয়।সুতরাং আপনার বিতর নামায যথাযথভাবেই আদায় হয়েছে। 

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭১; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৮৫; শরহুল মুনইয়াহ ৪২১; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২১১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১০-১১

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement