সজিব - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৮৭৪. প্রশ্ন

আমার এক বোন কুরআন মাজীদ পড়ান। আর্থিক সংকটে তাকে বিভিন্ন বাসায় গিয়ে পড়াতে হয়। আবার সপ্তাহের ছয়দিনই পড়াতে হয়। তথা পুরো মাস তার এটাই কাজ। প্রশ্ন হল, এভাবে অসহায় মহিলার জন্য পর্দার সাথে বাইরে গিয়ে পড়ানো ঠিক কি না?

আর ঋতুর হালতেও কুরআনের সবক শোনা ও দেওয়ার জায়েয কোনো সুরত আছে কি? কারণ এই হালতেও তার বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকে না। কেউ কেউ বলে থাকে, এই হালতে পুরা আয়াত না পড়ে শব্দ শব্দ তাসবীহের নিয়তে পড়লে জায়েয। কথাটা সঠিক কি না? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

 

 

উত্তর

বাস্তবেই যদি ঐ মহিলার জন্য নিজের উপার্জন করা ছাড়া জীবিকার কোনো ব্যবস্থা না থাকে এবং ঘরে বসে জীবিকার ব্যবস্থা না হয় তাহলে পর্দার সাথে আশপাশের বাসায় গিয়ে নারী ও ছোট ছেলেদেরকে পড়াতে পারবে। বালেগ বা বালেগের কাছাকাছি বয়সের কোনো ছেলেকে পড়াতে পারবে না। আর কুরআন শিক্ষাদানকারীনী মহিলা ঋতুমতী থাকা অবস্থায়ও পড়া শুনতে পারবে। কিন্তু এ অবস্থায় আয়াত বা আয়াতের অংশবিশেষ বলে দেওয়া জায়েয হবে না। প্রয়োজন হলে এক দু শব্দ করে বলে দিতে পারবে। প্রকাশ থাকে যেশিক্ষিকাগণ মাসের নির্ধারিত ঐ দিনগুলোতে ছাত্রীদেরকে শুধু মাসআলা-মাসায়িলদুআ-নামায ইত্যাদি শিক্ষা দিতে পারেন।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/১১৭; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫৫; আলবাহরুর রায়েক ১/২০০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮, ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু বকর - আমতলি, ফেনী

৩৮৭৩. প্রশ্ন

আমি ফুটপাতের দোকান থেকে বিভিন্ন জিনিস ক্রয় করি। অনেক সময় দোকানির সাথে দরকষাকষি হয়। আমি একটি দাম বলি। সে আমার কাক্সিক্ষত দামে না দেওয়ায় সেখান থেকে আমি চলে আসি। কিন্তু দূরে আসার পর ঐ দামেই পণ্যটি কেনার জন্য দোকানি আমাকে ডাকতে থাকে। আমার প্রশ্ন হল, এরূপ ক্ষেত্রে শরীয়তের দৃষ্টিতে ঐ পণ্যটি কেনা কি আমার জন্য জরুরি?

 


উত্তর

ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এক পক্ষ পণ্যের মূল্য প্রস্তাব করার পর অপর পক্ষ তাতে রাজি না হলে ঐ প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। তদ্রূপ এক পক্ষ মূল্য প্রস্তাবের পর অপর পক্ষ রাজি হওয়ার আগে দুজনের কেউ ঐ জায়গা থেকে চলে গেলেও ঐ প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু আপনি মূল্য প্রস্তাব করার পর দোকানি অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং আপনিও সেখান থেকে চলে এসেছেন তাই আপনার আগের প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেছে। অতএব এক্ষেত্রে আপনার প্রস্তাবিত মূল্যে দিতে চাইলেও আপনার না নেওয়ার সুযোগ আছে। তাই না নেওয়াতে আপনার কোনো ত্রুটি হয়নি। বরং এক্ষেত্রে বিক্রেতা ঐ মূল্যে দিতে চাইলে তা নতুন প্রস্তাব হিসেবে ধর্তব্য হবে। সুতরাং পণ্যটি ক্রয় করা বা না করা উভয় এখতিয়ার আপনার থাকবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩২৪; ফাতহুল কাদীর ৫/৪৬০-৪৬১, ৪৬৩; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৭২

শেয়ার লিংক

মেহেদী হাসান - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৮৭২. প্রশ্ন

আমি একজনের সাথে এভাবে চুক্তি করি যে, আমরা একটি ব্যবসা করব। ব্যবসার সমস্ত টাকা আমি দিব। আর সে ব্যবসা পরিচালনা করবে। দুজনের ভাগ হবে ৫০%। সাথে এ চুক্তিও রয়েছে যে, যদি কোনো কারণে ব্যবসার কোনো ক্ষতি হয় তাহলে সব ক্ষতিপূরণ সে (যাকে আমি ব্যবসার জন্য টাকা দিয়েছি) বহন করবে। আমাদের এ চুক্তি সহীহ হয়েছে কি না? যদি সহীহ না হয় তাহলে আমরা চুক্তিটা কীভাবে করতে পারি? দয়া করে জানাবেন।

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত চুক্তিতে ব্যবসায় কোনো ক্ষতি হলে তা ব্যবসায়ী বহন করবেএ শর্তটি বৈধ হয়নি। কেননা আপনারা যে চুক্তি করেছেন ফিকহের পরিভাষায় তা হল মুদারাবা। আর মুদারাবার ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হলব্যবসায় কোনো ক্ষতি হলে প্রথমত লভ্যাংশ থেকে ধরা হবে। তাতেও না হলে বাকিটুকু মূলধন থেকে পূরণ করা হবে। মুদারিব তথা ব্যবসা পরিচালনাকারী বহন করবে না। তাই উক্ত শর্ত বাতিলযোগ্য।

-বাদায়েউস সানায়ে ৫/১১৯; আল ইখতিয়ার ২/৪৬১, তাবয়ীনুল হাকায়েক ৫/৫২১; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৪৮

শেয়ার লিংক

মাসুম বিল্লাহ - মুন্সিগঞ্জ

৩৮৭১ . প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় একটি বড় পুকুর আছে। কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর এক দু বার তাতে মাছ শিকারের জন্য নির্দিষ্ট মূল্যে টিকেট ছেড়ে থাকে। টিকেট সংগ্রহকারীগণ নির্ধারিত দিনে বড়শি দিয়ে ঐ পুকুর থেকে মাছ শিকার করেন। যে যা শিকার করতে পারে সেটা তার। জানার বিষয় হল, এই পদ্ধতিটি কি শরীয়তসম্মত?

 


উত্তর

মাছ শিকারের প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটি শরীয়তসম্মত নয়। কেননা এতে কে কতটুকু মাছ পাবে তা সম্পূর্ণ অস্পষ্ট। বরং একেবারে না পাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। যা ধোঁকা ও শরীয়ত নিষিদ্ধ আলগারারের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া জুয়ার সাথেও এর সাদৃশ্য রয়েছে। কারণ এতে কে কী পরিমাণ মাছ ধরতে পারবে তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। কেউ হয়ত পাবেই না। অথচ টাকা দিয়েছে সবাই। এই টাকা হয়ত পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। আবার এমনও হতে পারে যেকেউ অনেক বেশি মাছ পেয়ে যাবে। যেহেতু এই অনিশ্চয়তা মূল লেনদেনের সাথেই জড়িত তাই তা নাজায়েয। মুসলমানদের জন্য তা পরিহার করা কর্তব্য।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫১৩; মাবসূত, সারাখসী ১২/১৯৪; আদায়েউস সানায়ে ৪/১৭; আননাহরুল ফায়েক ৩/৪১৯; রদ্দুল মুহতার ৬/৬৬

শেয়ার লিংক

আবু বকর সিদ্দীক - তারাব, রূপগঞ্জ

৩৮৭০. প্রশ্ন

একজন ইমাম সাহেব আমাকে সাথে নিয়ে পাইকারী দোকান থেকে ১ লক্ষ টাকার ফ্যান কিনে ইমাম সাহেবের নামেই ভাউচার করেন। অতপর ইমাম সাহেব ফ্যানগুলো নিজের আয়ত্তে দুই দিন রাখার পর উক্ত এক লক্ষ টাকার ঐ ফ্যানগুলো ছয় মাসের বাকি মেয়াদে ১ লক্ষ আঠারো হাজার টাকায় আমার কাছে বিক্রি করেন।

উক্ত বেচাকেনাতে সুদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।

 


উত্তর

আপনাদের লেনদেনটি যদি বাস্তবেই প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে হয়ে থাকে অর্থাৎ ইমাম সাহেব প্রথমে ফ্যানগুলো নিজের জন্য খরিদ করে থাকেন এবং সেগুলো নিজের আয়ত্তে নিয়ে থাকেন এরপর আপনার নিকট পৃথকভাবে নির্দিষ্ট মেয়াদে বা কিস্তিতে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে থাকেন তাহলে আপনাদের প্রশ্নোক্ত লেনদেনটি সহীহ হয়েছে। এতে সুদের সম্পৃক্ততা নেই। তবে এক্ষেত্রে আঠারো হাজার টাকার লাভের পরিমাণটা বেশি। তা আরো কম হওয়া উচিত ছিল। যদিও এ কারণে ঐ ক্রয়-বিক্রয় নাজায়েয হয়ে যায়নি। আর ভবিষ্যতেও যেন কারবারটি সুদের সম্পৃক্ততা থেকে মুক্ত থাকে সেজন্য নিম্নের বিষয়টি লক্ষ্য রাখা জরুরি।

নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আপনাকে টাকাগুলো পরিশোধ করে দিতে হবে। নির্ধারিত মেয়াদ থেকে বিলম্ব করা গুনাহ। তবে কোনো কারণে সময়মতো মূল্য পরিশোধ করা না হলে অতিরিক্ত প্রদানের শর্ত করা যাবে না এবং কোনো ধরনের জরিমানা আরোপ করা যাবে না। অতিরিক্ত নিলেই তা সুদ হয়ে যাবে।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ২২৮৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৯৮; জামে তিরমিযী, হাদীস ১২৩৪; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ৬/১২২; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩৯৪; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ ২৪৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুফিজুর রহমান - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৮৬৯. প্রশ্ন

আমি ও আমার বড় ভাই মিলে একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার পরিচালানায় আছি। আমাদের এখানে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন চাকরির আবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজে ভর্তি ইত্যাদি ফরম পূরণ করা হয়। আমার জানামতে, ব্যাংকে চাকরি করা জায়েয নয়। তবে আমাদের জন্য কি অনলাইনের মাধ্যমে কোনো ব্যাংকে চাকরির আবেদন ফরম পূরণ করা জায়েয হবে? নাকি নাজায়েয হবে? দয়া করে এর উত্তর দিয়ে আমাদের উপকৃত করবেন।


 


উত্তর

প্রচলিত ধারার ব্যাংকে চাকরি করা নাজায়েয। কেননা এ ব্যাংকগুলোর প্রধান ও মূল কাজই হল সুদের আদান-প্রদান। সুতরাং ব্যাংকের চাকরির জন্য আবেদন ফরম পূরণ করে দেওয়া নাজায়েয কাজে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন। ইরশাদ করেছেন-

وَ تَعَاوَنُوْا عَلَی الْبِرِّ وَ التَّقْوٰی ۪ وَ لَا تَعَاوَنُوْا عَلَی الْاِثْمِ وَ الْعُدْوَانِ ۪ .

এবং নেকি ও তাকওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর এবং গুনাহের কাজ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। -সূরা মায়েদা (৫) : ২

অতএব ব্যাংকের ফরম পূরণে সহযোগিতা করা বৈধ হবে না।

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - লালবাগ, ঢাকা

৩৮৬৮ . প্রশ্ন

আমি আমার বাড়ির ২টি ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে থাকি। কয়েকমাস থেকে তা খালি পড়ে আছে। গত সপ্তাহে এক ভাড়াটিয়ার সাথে কথা হয়েছে যে, সে একটি ভাড়া নিবে। এখন জানতে পারি যে, সে হিন্দু। আমার জানার বিষয় হল, হিন্দুকে ঘর ভাড়া দেওয়া কি জায়েয?

 


উত্তর

জ্বীঅমুসলিমকে ঘর ভাড়া দেওয়া জায়েয। এবং তার থেকে প্রাপ্ত ভাড়াও বৈধ। তবে এমন কাউকে ভাড়া দেওয়া যাবে না যার দ্বারা মুসলিম সমাজে বিধর্মীদের আচার-অনুষ্ঠান প্রচার পায় কিংবা যার দ্বারা মুসলমানদের দ্বীনী অনুভূতিতে আঘাত আসে। 

-আলমাবসূত, সারাখসী ১৫/১৩৪; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩৪৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১৫০

শেয়ার লিংক

বিলাল হুসাইন - আটিবাজার, কেরানীগঞ্জ

৩৮৬৭. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধুর কাপড় তৈরির মিল আছে। সে তার মিলের একটি মেশিন বিক্রি করতে চাচ্ছে। আমার ইচ্ছা হল, তার থেকে মেশিনটি কিনে তার কাছেই আবার ভাড়ায় দিয়ে দিব।

আমার জন্য এটা জায়েয হবে কি না?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি সাময়িক সময়ের জন্য টাকা দিয়ে অতিরিক্ত গ্রহণই উদ্দেশ্য হয় এবং এর ছূতা হিসেবে লেনদেনটি করা হয় অর্থাৎ মেশিনটি ক্রয় করা ও ভাড়া দেওয়া সবই যদি ছূতা হিসেবে অবলম্বন করা হয় তবে তা বৈধ হবে না।

কিন্তু যদি এক্ষেত্রে লেনদেনটি ছূতা হিসেবে গ্রহণ করা না হয়বরং প্রকৃত অর্থেই ক্রয়-বিক্রয় উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে তা করা যাবে-

১। ক্রয়ের সাথে ভাড়ার শর্ত করা যাবে না। অর্থাৎ ক্রয়ের সময় এ কথা বলা যাবে না যেমেশিনটি কিনব তবে শর্ত হলতোমার কারখানায় এটিকে ভাড়া হিসেবে রাখতে হবে।

২। ক্রয়ের পর মেশিনটি আগে আপনার দখলে বুঝে নিতে হবে।

ক্রয়ের পর যে কারো কাছে ভাড়া দেওয়ার স্বাধীনতা থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে যেমনিভাবে অন্যত্র ভাড়া দিতে পারবেন তদ্রূপ পূর্বের মালিকের নিকটও তা ভাড়া দিতে পারবেন। ক্রয়ের পর পূর্বের মালিকের কাছে ভাড়া দিতে চাইলে তার সাথে পৃথকভাবে ভাড়া চুক্তি করে নিতে হবে।

৩। কারখানার মালিক মেশিনটি ভাড়া না রাখতে চাইলে তাকে এর জন্য বাধ্য করা যাবে না।

৪। বাস্তবসম্মত মূল্যে বেচা-কেনা হতে হবে। নামমাত্র মূল্যে বিক্রি ও ভাড়া ধরা যাবে না।

-আলমাআইরুশ শরইয়াহ ১৪৫; রদ্দুল মুহতার ৫/১৪৭

শেয়ার লিংক

আব্দুল্লাহ - শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ

৩৮৬৬. প্রশ্ন

একটি মেয়ের বিবাহ হয়েছে তার মায়ের সৎ মামার সাথে। সৎ মামা অর্থাৎ এক নানার ঔরসে ভিন্ন নানির ঔরসজাত ছেলের সাথে বিবাহ বৈধ কি না? কুরআন-হাদীসের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

মায়ের আপন মামাসৎ মামা এবং বৈপিত্রেয় মামা সকলেই মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। কুরআন মাজীদের সূরা নিসার ২৩ নং আয়াতে যাদের সাথে বিবাহ হারাম তাদের আলোচনা রয়েছে।

উক্ত মাহরামের আলোচনায় যে ভগ্নিকন্যা এসেছে তাতে বোনের মেয়ের মেয়েসহ তাদের অধস্তন সকলে অন্তর্ভুক্ত। এতে আপন বোন ও সৎ বোনের মেয়ে এবং এদের অধস্তন সকল কন্যার হুকুম সমান।

তাই ঐ মেয়ের বিবাহ তার মায়ের সৎ মামার সাথে সম্পূর্ণ হারাম হয়েছে। তাদের জন্য অবিলম্বে পৃথক হয়ে যাওয়া জরুরি এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে কায়মনোবাক্যে তাওবা-ইস্তিগফার করা আবশ্যক। 

-সূরা নিসা (৪) : ২৩; মাবসূত, সারাখসী ৪/১৯৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৬০

শেয়ার লিংক

সাইফুদ্দীন - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৮৬৫ . প্রশ্ন

ইসলামী শরীয়তে শিশুর দুধপানের মেয়াদকাল কতটুকু? দয়া করে জানাবেন।

 


উত্তর

শিশুর দুধপানের সর্বোচ্চ সময় হল চান্দ্রমাসের হিসাবে দুই বছর। দুই বছরের অধিক দুধ পান করানো যাবে না। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,

وَ الْوَالِدٰتُ یُرْضِعْنَ اَوْلَادَهُنَّ حَوْلَیْنِ كَامِلَیْنِ لِمَنْ اَرَادَ اَنْ یُّتِمَّ الرَّضَاعَةَ .ؕ

মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু বছর দুধ পান করাবে। এ সময়কাল তাদের জন্যযারা দুধ পান করানোর মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়।

-সূরা বাকারা (২) : ২৩৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ১৩৯০০, ১৩৯০১; আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী ৭/৪৬২; ফাতহুল কাদীর ৩/৩০৭-৩০৯; আল বাহরুর রায়েক ৩/২২৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২০৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শরাফত করীম - সোনাইমুড়ি, নোয়াখালি

৩৮৬৪. প্রশ্ন

গত বছর হজ্বের সফরে একদিন তাওয়াফের পর তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে ভুলে যাই। বাসায় আসার পর স্মরণ হলে ঐ দুই রাকাত নামায পড়ে নিই। প্রশ্ন হল, তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে বিলম্ব হওয়ায় আমার উপর কোনো দম আবশ্যক হয়েছে কি না?

 


উত্তর

তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব। এই দুই রাকাত নামায মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে তাওয়াফের পরপরই পড়া সুন্নত। বিনা কারণে তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে দেরি করা ঠিক নয়। তবে ঐ দুই রাকাত নামায বিলম্বে পড়লেও কোনো দম ওয়াজিব হয়নি। এমনকি কেউ ঐ দু রাকাত না পড়লেও দম ওয়াজিব হবে না। তবে ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার গুনাহ হবে। অতএব আপনার উপর কোনো দম ওয়াজিব নয়। 

-গুনইয়াতুন নাসিক ১১৬; মানাসিক, মুল্লা আলী আলক্বারী ১৫৫; ইলাউস সুনান ১০/৮০; রদ্দুল মুহতার ২/৪৭০

শেয়ার লিংক

আবদুস সবুর - বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ি

৩৮৬৩. প্রশ্ন

আমাদের কাফেলায় সকলেই তামাত্তু হজ্বকারী। একজন বদলি আদায়কারী ছিল। আপনাদের কাছে হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা জানতে চাই তা হল, হাজ্বীগণ বড় জামরায় পাথর মারার পর কুরবানীর পূর্বেই কি মাথা মুণ্ডাতে পারবে? দু ধরনের কথাই শুনেছি। গতবার আমাদের সাথে এক ব্যক্তি বদলি হজ্ব করেছে সে হজ্বের কুরবানী দেয়নি। পাথর মারার পর আমাদের কুরবানীর আগেই সে মাথা মুণ্ডিয়ে নিল। তার এ কাজ কি ঠিক হয়েছে? সঠিক মাসআলা জানালে উপকৃত হব।

 


উত্তর

ইফরাদ হজ্বকারীর উপর দমে শোকর অর্থাৎ হজ্বের কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। বরং মুস্তাহাব। তাই ইফরাদ হজ্বকারী কুরবানী করলেও কুরবানীর পূর্বে তার জন্য চুল কাটা জায়েয। তবে কুরবানীর ইচ্ছা থাকলে তার জন্য কুরবানীর পরই চুল কাটা উত্তম। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বদলি আদায়কারী ইফরাদ হজ্বকারী  হয়ে থাকলে তার এ কাজ ঠিক হয়েছে। আর কিরান বা তামাত্তুকারী হাজ্বী সাহেবগণের উপর দমে শোকর আদায় করা ওয়াজিব। তাদের জন্য কুরবানীর আগে চুল কাটা জায়েয নয়। তাদের জন্য চুল কাটার পূর্বে কুরবানী করা ওয়াজিব। এই ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হলে দম দেওয়া জরুরি হবে।

-শরহু মাআনিল আছার ১/৪৪৮; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ২২৫; ফাতহুল কাদীর ২/৪৭২; মাজমাউল আনহুর ১/৪৩৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৫৫

শেয়ার লিংক

ইমরান হুসাইন - ঢাকা

৩৮৬২. প্রশ্ন

 

আমার পিতার ইন্তেকালের পর উত্তরাধিকার সূত্রে আমি নগদ পনের লক্ষ টাকা ও অন্যান্য সম্পত্তি লাভ করি। এই টাকা আমার নিকট চার বছর জমা ছিল। এরপর আমার বাড়ি নির্মাণ বাবদ তা ব্যয় হয়েছে। এখন সামান্য কিছু টাকাই আমার কাছে আছে। টাকাগুলো থাকা অবস্থায় আমি সেগুলোর কোনো যাকাত আদায় করিনি। জানার বিষয় হল, বাড়ি নির্মাণ বাবদ আমার যে টাকা খরচ হয়ে গেছে সেগুলোর বিগত বছরগুলোর যাকাত কি আদায় করতে হবে?

 


 

উত্তর

হাঁআপনাকে ঐ পনের লক্ষ টাকার বিগত চার বছরের যাকাত দিতে হবে। বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করার কারণে পিছনের বছরগুলোর যাকাত মাফ হয়ে যায়নি।

চার বছরের প্রথম বছরে আপনাকে পনের লক্ষ টাকারই যাকাত দিতে হবে। আর পরবর্তী বছরের ক্ষেত্রে পূর্বের বকেয়া যাকাত বাদ দিয়ে বাকি টাকার যাকাত দিতে হবে। সে হিসেবে প্রথম বছরের যাকাত হবে ৩৭,৫০০/- টাকা। দ্বিতীয় বছরের যাকাত হবে ৩৬,৫৬২.৫০/- টাকা। তৃতীয় বছরের যাকাত হবে ৩৫,৬৪৮.৪৩/- টাকা। চতূর্থ বছরের যাকাত হবে ৩৪,৭৫৭.২৫/-টাকা। সুতরাং ঐ চার বছরে আপনার যাকাত ওয়াজিব হয়েছে সর্বমোট ১,৪৪,৪৬৮.২৫/- টাকা। এটা এখনও আপনার উপর আবশ্যক রয়ে গেছে।

আর আপনার নিকট বর্তমানে যে টাকা আছে তা থেকে এই বকেয়া যাকাত বাদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা নেসাব পরিমাণ হলে যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পর সে টাকার বর্তমানের যাকাতও আপনাকে আদায় করতে হবে। আর যদি নেসাব পরিমাণ না থাকে তবে যাকাত ফরয হবে না। 

-আলজামিউল কাবীর ১৬; মাবসূত, সারাখসী ২/১৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/১১৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৮০-১৮১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬০

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৮৬১. প্রশ্ন

আমি একটি পুকুরে মাছ চাষ করি। পাঁচ-ছয় মাস পরপর মাছ বিক্রি করি। ঐ টাকা দিয়ে সংসার চালাই। এবং ঐ টাকা দিয়েই আবার পোনা কিনে পুকুরে ছাড়ি। যদি কিছু টাকা বেশি হয় তাহলে আরেকটা পুকুর নিই। প্রশ্ন হল, মাছ বিক্রি করার টাকাটা তো এক বছর পূর্ণ হয় না। বছর শেষ হওয়ার আগেই টাকা শেষ হয়ে যায়। তাহলে এই টাকার উপর যাকাত আসবে কীভাবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

 


উত্তর

টাকা যেমন যাকাতযোগ্য সম্পদ তদ্রূপ ব্যবসার মালও যাকাতযোগ্য সম্পদ। আপনার হাতে সারা বছর নেসাব পরিমাণ টাকা জমা না থাকলেও আপনার চাষের মাছ তো থাকে। চাষের মাছও যাকাতযোগ্য সম্পদ। অতএব বছর শেষে পুকুরে কী পরিমাণ মাছ আছে তা অনুমান করে নেসাবের সমমূল্যের হলে যাকাত দিতে হবে।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭১০৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১০১৬৮; কিতাবুল আছল ২/৯৭; কিতাবুল হুজ্জাহ ১/৩০০-৩০১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৮৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯৮

শেয়ার লিংক

আয়েশা খাতুন - বারিধারা, ঢাকা

৩৮৬০. প্রশ্ন

আমার বয়স যখন ১৭ বছর ছিল তখন রমযানের একটি রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেলেছিলাম। রোযা ভাঙ্গার শরীয়তসম্মত কোনো ওজর ছিল না। এখন আমি সে রোযার কাফফারা আদায় করতে চাচ্ছি। কিন্তু সমস্যা হল, আমাদের জন্য তো ধারাবাহিক ষাটটি রোযা রাখা সম্ভব নয়। কারণ প্রতিমাসেই ছয়-সাতদিন ঋতুস্রাব হয়। এখন আমার করণীয় কী?

 


উত্তর

কাফফারার রোযা আদায়ের ক্ষেত্রে মহিলারা তাদের ঋতুস্রাবের দিনগুলো বাদ দিয়ে ধারাবাহিকভাবে ষাটটি রোযা পূর্ণ করবে। মাসিকের দিনগুলোতে রোযা না রাখার কারণে ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হবে না। তবে কাফফারার রোযা শুরু করার পর ঋতুস্রাবের দিনগুলো ছাড়া ষাটদিন পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো দিন যদি রোযা ছুটে যায় তাহলে কাফফারা আদায় হবে না। সেক্ষেত্রে নতুন করে ধারাবাহিকভাবে আবার ষাটটি রোযা রাখতে হবে।

-কিতাবুল আছার, ইমাম আবু ইউসুফ, হাদীস ৭৯৮; কিতাবুল আছল ২/১৬০; মাবসূত, সারাখসী ৩/৮১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ফয়েয বিন ছফী - কোটবাড়ি, কুমিল্লা

৩৮৫৯. প্রশ্ন

আমি গত রযমানে সফর অবস্থায় একদিন রোযা রাখি। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই আবার তা ভেঙ্গে ফেলি। জানতে চাই, উক্ত কারণে আমাকে এই রোযার কাযা-কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে? নাকি শুধু কাযা করলেই হয়ে যাবে?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ রোযার শুধু কাযা করলেই হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না।

উল্লেখ্য যেসুবহে সাদিকের সময় থেকেই যে ব্যক্তি সফরে থাকেতার জন্য রোযা না রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে রোযা শুরু করার পর শরীয়তসম্মত ওজর ব্যতীত তা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে রোযা রেখে বিনা ওজরে ভেঙ্গে ফেলা ঠিক হয়নি।

-কিতাবুল আছল ২/১৫৩; ফাতহুল কাদীর ২/২৮৪; মাবসূত, সারাখসী ৩/৭৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯০; ইলাউস সুনান ৯/১৫২

শেয়ার লিংক

বোরহান আশরাফী - উত্তরা, ঢাকা

৩৮৫৮. প্রশ্ন

জনৈক ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে তিন তাকবীর বলে সালাম ফিরিয়েছেন। নামায শেষে এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে ইমাম সাহেব পুনরায় চার তাকবীরের সাথে নামায পড়ান। জানতে চাই, আমাদের প্রথম নামাযই বিশুদ্ধ ছিল কি না? নাকি দ্বিতীয়বার পড়া যথাযথ হয়েছে?

 


উত্তর

প্রথম জানাযায় তিন তাকবীর বলে সালাম ফিরানোর কারণে তা আদায় হয়নি। সুতরাং পরে আবার আদায় করা যথাযথ হয়েছে। প্রকাশ থাকে যেজানাযা নামাযে চার তাকবীর ফরয। একটি তাকবীর কম হলেও নামায আদায় হবে না। উল্লেখ থাকে যেজানাযা নামাযে তিন তাকবীরের পর ভুলে সালাম ফিরিয়ে নিলে কথাবার্তা না বলে থাকলে চতুর্থ তাকবীর বলে সালাম ফিরাবে। তাহলে নামায হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে পুনরায় তা আদায় করতে হবে না।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৮২; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩২২

শেয়ার লিংক

নাঈম রেজা - টাঙ্গাইল

৩৮৫৭. প্রশ্ন

গত বছর রযমানের ঈদের নামাযের শেষ খুতবার আগেই জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে ইমাম সাহেব খুতবা পাঠ করেন। জানার বিষয় হল, খুতবার আগে জানাযা আদায় করা কি ঠিক হয়েছে? নাকি খুতবার পরে জানাযা আদায় করা উচিত?

 


উত্তর

খুতবা ঈদের নামাযেরই অংশবিশেষ। তাই খুতবার পরেই জানাযার নামায আদায় করা উচিত। হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ.যফর আহমাদ উসমানী রাহ. বলেনবিশৃঙ্খলা ও ছত্রভঙ্গের কারণে যেমনিভাবে আগে ঈদ ও জুমআ পড়ে জানাযা পড়ার কথা ফকীহগণ বলেন। একই কারণে ঈদের খুতবার পরেই জানাযা পড়া উচিত। অন্যথায় অনেকেই খুতবা না শুনেই চলে যাবে। এছাড়া খুতবা তো ঈদের সাথেই সংশ্লিষ্ট। তবে খুতবার পূর্বে জানাযার নামায পড়া হলেও তা আদায় হয়ে যাবে।

-ইমদাদুল আহকাম ১/৮৩৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৫০৫

শেয়ার লিংক

আমীনুল ইসলাম - সিলেট

৩৮৫৬. প্রশ্ন

আমাদের এক আত্মীয় মারা যাওয়ার পর তার ঘরের লোকেরা তার  নখ কেটে দেয়। এভাবে তাদের জন্য মৃতব্যক্তির নখ কাটা জায়েয হয়েছে কি? এমনিভাবে মৃতব্যক্তির গোঁফ চুল ইত্যাদি কাটা জায়েয আছে কি?

 


উত্তর

মৃত ব্যক্তির গোঁফচুলনখ ইত্যাদি কাটা জায়েয নয়। ইবনে সিরীন রাহ. থেকে বর্ণিততিনি বলেন,لَا يُؤْخَذُ مِنْ شَعْرِ الْمَيِّتِ، وَلَا مِنْ أَظْفَارِهِ

মৃতব্যক্তির চুল ও নখ কাটা যাবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাকহাদীস ৬২২৮)

তাই মৃত লোকটির নখ টাকা ঠিক হয়নি।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৯

শেয়ার লিংক

নাজমুল হক - লালমনিরহাট

৩৮৫৫ . প্রশ্ন

কিছুদিন পূর্বে আমি ফজরের পূর্বের দুই রাকাত সুন্নতের বৈঠকে ভুলবশত সূরা ফাতিহা পড়া শুরু করি। সূরা ফাতিহা পড়ে শেষ করার পর মনে হয় আমি বৈঠকে আছি। তখন তাশাহহুদ পড়ি এবং সাহু সিজদা দেই। এখন আমি জানতে চাই, নামাযের শেষ বৈঠকে ভুলবশত সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে কি?

 


উত্তর

হাঁনামাযের প্রথম বা শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের স্থানে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেললে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। তাই আপনার সাহু সিজদা দেওয়া ঠিক হয়েছে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২১; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৪৪; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭

শেয়ার লিংক

তানভীর - মিরপুর-১২

৩৮৫৪. প্রশ্ন

তলহা নামায পড়ছিল। তখন সে সামনে একটি বোর্ডে কিছু লেখা দেখে নামাযের ভেতরেই মনে মনে সেই লেখাটি পড়ে ফেলে। এভাবে নামাযের ভেতরে কোনো লেখা দেখে সেটা মনে মনে পড়লে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে? তালহার নামায কি নষ্ট হয়ে গেছে? তাকে কি পুনরায় নামায পড়তে হবে?

 


উত্তর

তালহা যেহেতু বোর্ডের লেখাটি মনে মনে পড়েছে তাই তার নামায নষ্ট হয়নি। তবে মাকরূহ হয়েছে। ভবিষ্যতে এমনটি করা থেকে বিরত থাকবে। অবশ্য তার ঐ নামায আদায় হয়ে গেছে। তা পুনরায় পড়তে হবে না। 

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৫৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২২৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ বিন ছফী - কোটবাড়ি, কুমিল্লা

৩৮৫৩. প্রশ্ন

 

আমি যোহরের নামাযের চতুর্থ রাকাতে ইমামের সাথে শরিক হই। ইমাম সাহেব তার কোনো ভুলের জন্য নামায শেষে সাহু সিজদা আদায় করেন। কিন্তু আমি সাহু সিজদা না দিয়ে বসে থাকি। কারণ আমি এক ব্যক্তির কাছে শুনেছিলাম, মাসবুক সাহু সিজদা না দিয়ে বসে থাকবে। কিন্তু নামাযের পর পাশের এক মুসল্লি বলল, মাসবুক ব্যক্তিও ইমামের সাথে সাহু সিজদায় শরিক হবে। অন্যথায় তার নামায সহীহ হবে না।

এখানে কার কথাটি সঠিক? জানালে উপকৃত হব। 

 


 

উত্তর

 

মাসবুক ইমামের সাথে সাহু সিজদায় শরিক হবেএটাই সঠিক। তবে সাহু সিজদার পূর্বে ইমাম যখন সালাম ফিরান তখন সে সালাম না ফিরিয়ে চুপ করে বসে থাকবে। ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন,

إِذَا انْتَهَى إِلَى الْإِمَامِ وَقَدْ سَهَا قَبْلَ ذَلِكَ فَلْيَسْجُدْ مَعَ الْإِمَامِ، ثُمَّ لِيَقْضِ مَا سَبَقَ بِهِ  .

কেউ যদি ইমামের সাথে নামাযে শরিক হয় এমন অবস্থায় যেইমাম পূর্বে কোনো ভুল করেছেতাহলে মাসবুক যেন ইমামের সাথে সিজদায় শরিক হয়। অতপর তার ছুটে যাওয়া রাকাত আদায় করে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহাদীস ৪৫৯২

উল্লেখ্যমাসবুক যদি কোনো কারণে ইমামের সাথে সাহু সিজদা না করে তাহলে নিজের ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের পর সাহু সিজদা করলেও নামায হয়ে যাবে। কিন্তু তাও যদি না করে তবে ঐ নামায পুনরায় আদায় করতে হবে। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু পরেও সাহু সিজদা করেননি তাই ঐ নামায পুনরায় আদায় করতে হবে।

 

-কিতাবুল আছল ১/২০১, ২০২; মাবসূত, সারাখসী ১/২২৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২১; ৪২২ ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৮; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৬৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৮২

শেয়ার লিংক

আদনান - তেজগাঁও

৩৮৫২. প্রশ্ন

 

আমি মাঝে মাঝে ভুলে নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা নাস পড়ে ফেলি। এখন পরের রাকাতে আমি কোত্থেকে পড়ব? আমার নামায কি এ কারণে নষ্ট হয়ে যাবে?

 


 

উত্তর

এক্ষেত্রে দ্বিতীয় রাকাতেও সূরা নাসই পড়া ভালো। আর এ কারণে আপনার নামায নষ্ট হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত ফরয নামাযে একই সূরা বারবার পড়া মাকরূহ তানযিহী। অতএব বারবার এমনটি না হওয়া উচিত।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৭; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৮২

শেয়ার লিংক

জহির উদ্দীন - নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম

৩৮৫১ . প্রশ্ন

গতবার ঈদের নামাযে আমাদের ইমাম ছাহেব অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় হাত উঠাননি। নামায শেষে অনেক মুসল্লি বলেন, ঈদের তাকবীরে হাত না উঠালে নামায শুদ্ধ হয় না। আবার অনেকে বলেন, সাহু সিজদা করলে নামায শুদ্ধ হয়ে যেত।

জানতে চাই, ঈদের তাকবীরে হাত উঠানোর বিধান কী? না উঠালে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে? সিজদা না করার কারণে কি আমাদের নামায ভুল হয়েছে?

 


উত্তর

ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় হাত উঠানো সুন্নত। ওয়াজিব নয়। তাই কেউ হাত না উঠালেও তার নামায হয়ে যাবে। এ কারণে সাহু সিজদা করতে হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত এমনটি করা ঠিক নয়।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৮৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকি, ১৩৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৭৪

শেয়ার লিংক

ইমতিয়াজ হাবিব - চকরিয়া, কক্সবাজার

৩৮৫০. প্রশ্ন

আমি এক সেনা কর্মকর্তা। কখনো কখনো আমাদেরকে বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে ট্রান্সফার করা হয়। ১৪দিন পরপর আমাদের জন্য খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করা হয়। দেখা যায়, ১০-১২ দিন যেতেই খাওয়ার পানি ছাড়া আমাদের আর কোনো পানি অবশিষ্ট থাকে না। আশেপাশে কোনো জনবসতিও নেই। চতুর্দিকে মাইল দুয়েক খুঁজেও পানির সন্ধান পাই না। এ অবস্থায় আমরা কি তায়াম্মুম করে নামায পড়তে পারব?

 


উত্তর

হাঁপ্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি পানি দুই হাজার গজ অর্থাৎ প্রায় দুই কিলোমিটারের মতো দূরে থাকে তাহলে আপনারা তায়াম্মুম করে নামায পড়তে পারবেন।

-কিতাবুল আছল ১/৯১; মাবসূত, সাারাখসী ১/১১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৩৫; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৩/২৪২

শেয়ার লিংক

ইবনে আবদিস সালাম - লালমনিরহাট

৩৮৪৯ . প্রশ্ন

আমি সাইনোসাইটিস রোগে আক্রান্ত। ডাক্তার শরীরে ঠাণ্ডা লাগাতে নিষেধ করেছেন। আর বাস্তবতা হল, সামান্য ঠাণ্ডা লাগলেই মাথাব্যাথা আরম্ভ হয় এবং সর্দি লেগে যায়। এ অবস্থায় রাতে গোসল ফরয হলে আমি তায়াম্মুম করতে পারব কি না? যদি করা যায় তাহলে গোসলের তায়াম্মুমের নিয়মসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

উল্লেখিত অবস্থায় যদি গরম পানি ব্যবহারের সুযোগ থাকে কিংবা গরমের দিন স্বাভাবিক পানি দ্বারা গোসল করলে যদি তেমন সমস্যা না হয় তাহলে আপনাকে গোসলই করতে হবে। এক্ষেত্রে তায়াম্মুম জায়েয হবে না। তবে গোসল করলে যদি অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয় তখন গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে পারবেন। তদ্রূপ অসুস্থ অবস্থায় গোসল ফরয হলে তখন গোসল করলে অসুখ যদি আরো বেড়ে যাবে বলে মনে হয় তবেও তায়াম্মুম করা জায়েয। আর গোসলের তায়াম্মুম অযুর তায়াম্মুমের মতোই। উভয় তায়াম্মুম একই নিয়মে করতে হবে। আর ওজরের কারণে তায়াম্মুম করার পর যখন গোসল করার সামর্থ্য ফিরে পাবে তখন তাকে গোসল করতে হবে।

-কিতাবুল আছল ১/৮৬; মাবসূত, সারাখসী ১/১২২; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৭১; আলবাহরুর রায়েক ১/১৪১; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ১/৬২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সানাউল্লাহ - বরিশাল

৩৮৪৮. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব কুরআন শরীফ পুরোপুরি সহীহভাবে পড়তে পারেন না। বিশেষভাবে ع ح এর উচ্চারণ সঠিক হয় না। ع হামযার মতো এবং ح ه ـ এর মতো হয়ে যায়। তবে দায়িত্বশীলগণ চাইলে পুরোপুরি সহীহ পড়েন এমন ইমাম নিযুক্ত করতে পারেন। এ অবস্থায় বর্তমান ইমামের পেছনে আমাদের নামায সহীহ হবে কি না? আর এ ধরনের ব্যক্তিদের ইমামতির হুকুম কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

 


উত্তর

ع , ح সহীহ-শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করতে না পারলে নামায মাকরূহ হওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নামায নষ্ট হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। তাই যে এমন ভুল পড়ে তাকে ইমাম হিসেবে রাখা জায়েয হবে না। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববিশুদ্ধ তিলাওয়াত করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় মাসায়েল জানে এমন কাউকে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করা।

-শরহুল মুনয়াহ ৪৮২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৬৫; ফাতহুল কাদীর ১/২৮২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৯০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৮৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৯

শেয়ার লিংক

কোটবাড়ি, কুমিল্লা - আহমাদ বিন ছফী

৩৮৪৭ . প্রশ্ন

আমি নিয়মিত নামায পড়ি। কিছুদিন যাবৎ প্রায়ই নামাযের মধ্যে রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হয়। তিন রাকাত হল না চার রাকাত। এ অবস্থায় আমি কীভাবে নামায আদায় করব? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি প্রবল ধারণার উপর ভিত্তি করে বাকি নামায পূর্ণ করবেন।

আর যদি রাকাত সংখ্যার ব্যাপারে প্রবল ধারণা না হয় তাহলে কম সংখ্যাটা ধর্তব্য হবে এবং এ হিসেবে বাকি নামায পূর্ণ করবেন। এক্ষেত্রে প্রত্যেক রাকাতের পর বৈঠক করে তাশাহহুদ পড়বেন। আর শেষ বৈঠকে সাহু সিজদা দিবেন। হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. থেকে বর্ণিতরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

إِذَا سَهَا أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلَمْ يَدْرِ وَاحِدَةً صَلَّى أَوْ ثِنْتَيْنِ فَلْيَبْنِ عَلَى وَاحِدَةٍ، فَإِنْ لَمْ يَدْرِ ثِنْتَيْنِ صَلَّى أَوْ ثَلاَثًا فَلْيَبْنِ عَلَى ثِنْتَيْنِ، فَإِنْ لَمْ يَدْرِ ثَلاَثًا صَلَّى أَوْ أَرْبَعًا فَلْيَبْنِ عَلَى ثَلاَثٍ، وَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ

তোমাদের কারো যদি নামাযের মধ্যে সন্দেহ হয় ফলে সে জানে না যে এক রাকাত পড়ল না কি দুই রাকাত। তাহলে সে যেন এক রাকাত ধরে নিয়ে নামায পড়ে। আর যদি দুই রাকাত পড়ল না তিন রাকাততা না জানে তাহলে যেন দুই রাকাত ধরে নামায পড়ে এবং (এসব ক্ষেত্রে) সালাম ফেরানোর পূর্বে দুটি সিজদা আদায় করে। (অর্থাৎ সাহু সিজদা করে)

-জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৯৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৯৩-৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩০; কিতাবুল আছল ১/১৯৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১১১

শেয়ার লিংক

আবুল কালাম আজাদ - মংলীপার, সিলেট

৩৮৪৬. প্রশ্ন

 

আমাদের এলাকার বড় মাদরাসার মুহতামিম একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম। কিছুদিন আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এখনও তিনি আমাদের জামে মসজিদে জুমআ, ঈদ ও তারাবীহর নামায পড়ান। আমি শুনেছি, অন্ধ ব্যক্তির পেছনে নামায মাকরূহ হয়। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত ইমামের পেছনে নামায মাকরূহ হবে কি?

 


 

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত ইমাম যেহেতু বড় আলেম ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তি তাই তার ইমামতি করার সুযোগ আছে। পাক-নাপাকির খেয়াল না রাখতে পারলে কিংবা ইমাম অন্ধ হওয়ার কারণে মুসল্লিরা তার পেছনে নামায পড়তে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তখন অন্ধ ব্যক্তির ইমামতি মাকরূহ হয়। সকল অন্ধ ব্যক্তির ইমামতি মাকরূহ নয়।

এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছেআনাস রা. বলেনরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের ইমামতির জন্য আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রা.-কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। অথচ তিনি ছিলেন দৃষ্টিহীন। -মুসনাদে আহমাদহাদীস ১৩০০০মুসান্নাফে আবদুর রাযযাকহাদীস ৩৮২৮

আরেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছেইতবান ইবনে মালিক রা. তার সম্প্রদায়ের লোকদের ইমামতি করতেন। অথচ তিনি ছিলেন দৃষ্টিহীন।

-সুনানে বাইহাকী ৩/৮৭; আলইখতিয়ার ১/২০০-২০১; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৮৮; রদ্দুল মুহতার ১/৫৬০

শেয়ার লিংক

এইচ এম এস - ঢাকা

৩৮৪৫. প্রশ্ন

তারাবীহ নামাযে ১৭ নং রাকাতে হাফেয সাহেব সিজদার আয়াত না পড়েই সিজদা দেন। সিজদা থেকে উঠে সিজদার আয়াতের পর থেকে শুরু করে যথানিয়মে ১৭ রাকাত ও ১৮ রাকাত শেষ করেন। অর্থাৎ সিজদার আয়াতটুকু পড়া হয় নাই। নামায শেষে সিজদার আয়াত ছুটে গেছে জানানো হলে তিনি ১৯ নং রাকাতে প্রথমে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা দেন। অতপর ১৮ নং রাকাতের কিরাতের পর থেকে কিরাত পড়ে যথানিয়মে ১৯ ও ২০ নং রাকাত শেষ করেন।

এখন প্রশ্ন হল, ১৭ নং রাকাতে সিজদার আয়াত না পড়েই যেহেতু সিজদা দেওয়া হয়েছে তাই ঐ দুই রাকাত নামায সহীহ হয়েছে কি না? সহীহ না হলে আমাদের করণীয় কী?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু সিজদার আয়াত পড়া হয়নি তাই তিলাওয়াতে সিজদাও ওয়াজিব হয়নি। আর ওয়াজিব হওয়া ছাড়াই সিজদা দেওয়ার কারণে সিজদায়ে সাহু করা ওয়াজিব ছিল। ইমাম সাহেব যেহেতু সিজদায়ে সাহু করেননি তাই নামাযটি মাকরূহর সাথে আদায় হয়েছে। এক্ষেত্রে ঐ রাতেই এ দুই রাকাত নামায পুনরায় পড়ে নেওয়া উচিত ছিল। অবশ্য এখন আর এ ব্যাপারে কিছু করণীয় নেই। কারণ তারাবীহর নামাযের সময় সংশ্লিষ্ট রাত পর্যন্তই সীমিত। ঐ রাতের পর আর তারাবীহ কাযা করার নিয়ম নেই।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০১; মারাকিল ফালাহ ২৫০, ২২৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪, ৬৪

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement