আলী মুর্তজা - ছাতক, সুনামগঞ্জ

৩৭৩৫. প্রশ্ন

 

মসজিদের ভেতর টিভি, চ্যানেলযুক্ত মোবাইল দিয়ে ক্রিকেট খেলা দেখা ও খরব শোনা কি জায়েয বা সওয়াবের কাজ? নাকি জঘণ্যতম অপরাধের কাজ? যদি অপরাধ হয়ে থাকে তবে অপরাধীর করণীয় কী?

খ) যদি কেউ মসজিদের ভেতরে মাল্টিমিডিয়া মোবাইলে খেলা, খবর শোনা বা দেখা জায়েয বলেন তাহলে তার এ কথা কি সঠিক?

 

 

 

 

উত্তর

মসজিদ আল্লাহ তাআলার ঘর। এটি ইবাদত-বন্দেগীনামাযকুরআন তিলাওয়াতযিকির-আযকারের স্থান। খেলাধূলার স্থান নয়। মসজিদের আদাব ও সম্মান রক্ষা করা জরুরি। মসজিদের ভেতরে মোবাইল স্ক্রীনে ক্রিকেটফুটবল ইত্যাদি খেলা দেখা গুনাহর কাজ। মোবাইলের স্ক্রীনে খেলা দেখা আর টিভি স্ক্রীনে খেলা দেখার গুনাহ সমান। সর্ম্পূণ নাজায়েয। বর্তমানে টিভি ও মোবাইলে ক্রিকেট বা ফুটবল ইত্যাদি যে খেলা সম্প্রচার করা হয় এতে বহু গুনাহ ও শরীয়তবিরোধী কর্মকা- রয়েছে। মসজিদের বাইরেও কোনো মুসলমানের জন্য এগুলো দেখা বৈধ নয়। আর মসজিদে দেখা তো আরো মারাত্মক গুনাহ। আর  মসজিদে টিভি দেখা কতটা জঘন্য কাজ তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। 

প্রকাশ থাকে যেমসজিদ এমন এক পবিত্রতম জায়গাযেখানে দুনিয়াবী অনেক বৈধ কাজও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। যেমনব্যবসা-বাণিজ্যক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি। 

অনুরূপ মসজিদের বাইরে বৈধ দুনিয়াবী গল্প-গুজব ও আলাপচারিতা নাজায়েয নয়। কিন্তু মসজিদের ভেতরে গল্প-গুজবকারীর প্রতি কঠোর ধমকি এসেছে।

তাই যেখানে সাধারণ অবস্থার বৈধ কাজকর্মই নিষিদ্ধ সেখানে ক্রিকেট খেলা দেখা যাতে একাধিক গুনাহর কাজ রয়েছে তা কত বড় অন্যায় ও গুনাহর কাজ হবে তা সহজেই অনুমেয়। তাই কেউ মসজিদে খেলা দেখে থাকলে তার কর্তব্য হলআল্লাহ তাআলার নিকট খাঁটি মনে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে এমন অন্যায় ও গুনাহর কাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা।

আর কোনো ব্যক্তি যদি বাস্তবেই মোবাইল স্ক্রীনে এ ধরনের খেলা দেখাকে জায়েয বলে থাকেন তবে তার এ বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

 

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইউসুফ - বরিশাল

৩৭৩৪. প্রশ্ন

পুরুষের জন্য অলঙ্কার ব্যবহারের হুকুম কী? তারা কি যে কোনো ধাতবের অলঙ্কার এবং যে কোনো ধাতবের আংটি ব্যবহার করতে পারবে? মহিলারা কী সোনা-রূপা, তামা-পিতল, কাঁচ-হীরা এবং ইমিটেশনের আংটি ব্যবহার করতে পারবে? দয়া করে জানাবেন।

 

 


উত্তর

পুরুষের জন্য সকল প্রকার অলঙ্কার নিষিদ্ধ। আর আংটির মধ্যে কেবলমাত্র রূপার আংটি ব্যবহার করা জায়েয আছে। তবে তা এই শর্তে যেরূপার পরিমাণে এক মিসকালের চেয়ে কম অর্থাৎ সাড়ে চার মাশার চেয়ে কম হতে হবে। গ্রামের হিসাবে এক মিসকালের পরিমাণ হল ৪.৩৭৪ গ্রাম। রূপা ছাড়া অন্য কোনো ধাতব বা বস্তুর আংটি ব্যবহার করা পুরুষের জন্য নিষেধ। হাদীস শরীফে এসেছেআবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. বলেনরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে স্বর্ণের আংটি পরিহিত দেখে তার থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। লোকটি দেখে তা খুলে ফেলল। এরপর সে লোহার আংটি বানাল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনএটা তো আরো মন্দ,এটা জাহান্নামীদের অলঙ্কার। তখন ঐ ব্যক্তি তা খুলে ফেলল এবং একটি রূপার আংটি বানাল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন নিরব থাকলেন।Ñমুসনাদে আহমদহাদীস : ৬৫১৮

সুনানে আবু দাউদের এক বর্ণনায় আছেএক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তবে কিসের আংটি বানাবতিনি বললেনরূপার আংটি বানাও। তবে এক মিসকাল পূর্ণ করো না।

আর মহিলাদের জন্যও লোহাতামা ও পিতলের আংটি ব্যবহার করা নিষেধ। এসব ধাতবের আংটি ব্যতীত তাদের জন্য সোনা-রূপার আংটি ব্যবহার করা জায়েয। তদ্রƒপ পাথরহীরামাটিপুতিকাঁচ ও ইমিটেশনের আংটিও তারা ব্যবহার করতে পারবে। আর আংটি ছাড়া অন্যান্য অলঙ্কারের ক্ষেত্রে তারা যে কোনো ধাতব বা বস্তু ব্যবহার করতে পারবে।

Ñমুআত্তা ইমাম মুহাম্মাদ ৩/৩৭৬; কিতাবুল আসার ২/৭২৬; ফাতাওয়া কাযী খান ৩/৪১৩; হেদায়া ৪/৪৪১; ইমদাদুল আহকাম ৪/৩৫৮ ফাতাওয়া রহীমিয়া ১০/১৫৮

শেয়ার লিংক

মুহিব্বুল্লাহ - নীলফামারী

৩৭৩৩. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কিছু লোক নিম্নোক্ত হাদীসটির ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। তাই জনাবের সমীপে আকুল আবেদন যে, নিম্নোক্ত হাদীসটি তাহকীক করে তা আমলযোগ্য কি না তা জানানোর জন্য সুমর্জি কামনা করছি। হাদীসটি হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.কে বলেছেন, হে আলী! প্রত্যেক রাতে পাঁচ কাজ করে ঘুমাও। যথা : ১. চার হাজার দিনার সদকা করে ঘুমাও ২. এক খতম কুরআন পড়ে ঘুমাও ৩. জান্নাতের মূল্য আদায় করে ঘুমাও। ৪. দুজনের মাঝে বিবাদ মিটিয়ে ঘুমাও ও ৫. একটি হজ্ব আদায় করে ঘুমাও। আলী রা. বললেন, এটা তো অসম্ভব। কীভাবে আমি তা আদায় করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চার বার সূরা ফাতিহা পড়ে ঘুমাও তাহলে চার হাজার দিনার সদকার সওয়াব পাবে। তিন মর্তবা সূরা ইখলাস পড়ে ঘুমাও তাহলে একবার কুরআন খতম করার সওয়াব পাবে। তিন বার দুরূদ পড়ে ঘুমাও তাহলে জান্নাতের মূল্য আদায় হয়ে যাবে। দশবার ইস্তেগফার পড়ে ঘুমাও তাহলে দুজনের বিবাদ মিটানোর সওয়াব পাবে। চারবার কালিমায়ে তামজীদ পড়ে ঘুমাও তাহলে একটি হজ্বের সওয়াব পাবে। হযরত আলী রা. বলেন, আমি প্রত্যহ রাতে এ আমল করে ঘুমাব।

 

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত বর্ণনাটি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। হাদীসের নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে উক্ত বর্ণনা নেই। এ ধরনের জাল ও ভিত্তিহীন কথা বর্ণনা করা এবং মানুষের মাঝে তা প্রচার করা মারাত্মক গুনাহ। আর রাসূলের হাদীস হিসেবে প্রচার করার গুনাহ তো আরো ভয়াবহ। হাদীস শরীফে এসেছেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,নিঃসন্দেহে আমার উপর মিথ্যারোপ করা (এর ভয়াবহতা) অন্যের উপর মিথ্যারোপ করার মতো নয়। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত আমার উপর মিথ্যারোপ করল সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামকে বানিয়ে নেয়। Ñসহীহ বুখারীহাদীস ১২২৯

তাই মুসলমানের কর্তব্য হলএ ধরনের বর্ণনা প্রচার করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকা এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে তওবা-ইস্তিগফার করা।

প্রকাশ থাকে যেসূরা ফাতিহাসূরা ইখলাসদরূদইস্তেগফার ও কালিমার বিভিন্ন ফযীলত সহীহ হাদীস দ্বার প্রমাণিত আছে। সেসব ফযীলতসমূহই মানুষের মাঝে প্রচার করা কর্তব্য।

Ñফাতাওয়া লাজনায়ে দায়েমা ৩৭৮৯১; শায়েখ সালেহ আল উসাইমিন

শেয়ার লিংক

ইমরুল কায়েস - দিনাজপুর

৩৭৩২. প্রশ্ন

আমার আম্মার বয়স সত্তরের ঊর্ধ্বে। গত দুমাস আগে তিনি আমাকে অসিয়ত করেছিলেন, তিনি মারা গেলে তার নামে ছয় কাঠা জমি গ্রামের মাদরাসায় ওয়াকফ করতে। কিন্তু কিছুদিন আগে আমার ছোট বোন একটি বিপদে পড়ে, যা সারতে অনেক টাকার প্রয়োজন। এখন আম্মা চাচ্ছেন, সেই ছয় কাঠা জমির দুই কাঠা বিক্রি করে টাকাটা বোনকে দিতে। জানতে চাই, তার জন্য ঐ জমি বিক্রি করা জায়েয হবে কি না?

 


উত্তর

কেউ কোনো ওসিয়ত করলে তা কার্যকর হয় ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর। সুতরাং জীবদ্দশায় সে চাইলে তার কৃত ওসিয়ত বাতিল করতে পারে। অতএব প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার আম্মার জন্য জমির ঐ অংশ বিক্রি করে আপনার বোনকে টাকা দেওয়া জায়েয হবে। 

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩১৪৪৯; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৪৯৩; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ৯/৩৬৪; রদ্দুল মুখতার ৬/৬৫৮; মাবসূত, সারাখসী ২৭/১৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৯২

শেয়ার লিংক

মাহদী হাসান - গাজীপুর

৩৭৩১. প্রশ্ন

আমার আব্বা যৌবনে একবার আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। তখন একজন দয়ার্দ্র ব্যক্তি আব্বাজানকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন। এখন সে ব্যক্তি দুনিয়াতে নেই। তার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আব্বাজান প্রতি বছর তার নামে একটি কুরবানী দিয়ে থাকেন। প্রশ্ন হল, ঐ ব্যক্তির নামে আব্বাজান যে কুরবানী দিয়ে থাকেন তা থেকে আমরা খেতে পারবো, না পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে?

 


উত্তর

ঐ মৃত ব্যক্তির সওয়াবের উদ্দেশ্যে আপনার পিতা যে কুরবানী করেন তা থেকে আপনার পিতা এবং আপনারা সকলেই খেতে পারবেন। এবং অন্যকেও দিতে পারবেন। কেননা অন্যের ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে নিজ অর্থ দ্বারা কুরবানী করলে এই গোশতের হুকুম সাধারণ কুরবানীর মতোই। তা নিজে খেতে পারবে এবং অন্যকে দিতে পারবে।

Ñফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩২২; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ৩/২০১

শেয়ার লিংক

এহতেশামুল হক - চন্দ্রঘোনা

৩৭৩০. প্রশ্ন

আমার এক ভাই সৌদী আরব থাকে। গত কুরবানীর সময় সে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার জন্য ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। আমরা আমাদের কুরবানী প্রথম দিনেই করে ফেলি। কিন্তু  তার কুরবানীটা করেছি তৃতীয় দিনে। প্রশ্ন হল, আমাদের তৃতীয় দিনে তো সৌদী আরবে কুরবানীর সময় ছিল না। এ অবস্থায় আমার ভাইয়ের কুরবানী আদায় হয়েছে কি?

 


উত্তর

যেখানে কুরবানী দেওয়া হয় মূলত ঐ স্থানের সময়ই ধর্তব্য হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যেহেতু কুরবানীর সময়েই হয়েছে তাই ঐ কুরবানী সহীহ হয়েছে। অবশ্য যার পক্ষ থেকে কুরবানী করা হচ্ছে তার ওখানেও কুরবানীর সময় থাকে- এটা লক্ষ রেখে কুরবানী করা ভালো।

Ñফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৬; ফাতাওয়া শরইয়্যাহ ১১/১৫৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ - মুন্সিগঞ্জ

৩৭২৯. প্রশ্ন

আমাদের কিছু দোকান আছে। আমরা সেগুলো একবছর বা তার চেয়ে বেশি সময়ের জন্য ভাড়া দিয়ে থাকি। ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াগ্রহীতা থেকে দোকানের সাইজ হিসাবে দুই-তিন লক্ষ টাকা সিকিউরিটি মানি নিয়ে থাকি। শুনেছি, এ টাকা নাকি ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে এক আলেমের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সিকিউরিটির টাকা অগ্রিম ভাড়া না ধরেও ব্যবহার করা যায়। তাই জানতে চাই, সিকিউরিটি বাবৎ ভাড়াগ্রহীতা থেকে যে টাকা নেওয়া হয় তা ব্যবহারের কোনো বৈধ পদ্ধতি আছে কি? একজন পরামর্শ দিয়েছেন, সিকিউরিটি মানি না নিয়ে ভাড়াগ্রহীতা থেকে ঐ টাকা করয হিসাবে নিলে তা ব্যবহার করা যাবে। এ কাজ বৈধ হবে কি না? যদি বৈধ না হয় তাহলে অতীতে কেউ এ টাকা ব্যবহার করে থাকলে তার করণীয় কী? বিষয়গুলো দলীল-প্রমাণসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

ভাড়াগ্রহীতা থেকে ভাড়া চুক্তির সময় অগ্রিম কিছু অর্থ গ্রহণের দুটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে।

১. ভাড়াদাতা জামানত হিসেবে ভাড়াগ্রহীতা থেকে একটি অংকের অর্থ গ্রহণ করে থাকে। ভাড়া-চুক্তি শেষে তা আবার ভাড়াগ্রহীতাকে ফেরত দিয়ে দিতে হয়। যাকে সিকিউরিটি মানি বলে। ২. ভাড়ার অগ্রিম হিসেবে ভাড়াগ্রহীতা থেকে এককালীন কিছু অর্থ গ্রহণ করা হয় এবং প্রতি মাসেই এর থেকে কিছু কিছু করে ভাড়া কাটা হয়। যাকে এ্যাডভান্স বলে।

সিকিউরিটি মানি তথা জামানত হিসেবে যে অর্থ ভাড়াদাতার নিকট জমা রাখা হয় তা বন্ধক হিসেবে থাকে। আর বন্ধকী বস্তু ব্যবহার করা জায়েয নয়। তা ব্যবহার করা সুদের অন্তর্ভুক্ত। মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন রহ. থেকে বর্ণিত আছেতিনি বলেনআবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললআমার নিকট এক ব্যক্তি একটি ঘোড়া বন্ধক রেখেছে। আমি এতে আরোহন করেছি। (এর কী হুকুম?) তখন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেনতুমি এর পিঠ থেকে (আরোহন করে) যে উপকৃত হয়েছ তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। ( মুসান্নাফে আবদুর রাযযাকহাদীস ১৫০৭১)

সুতরাং ভাড়াদাতার জন্য সিকিউরিটি মানি ব্যবহার করা কোনোভাবেই জায়েয নয়। অতীতে এ টাকা ব্যবহার করে থাকলে এজন্য আল্লাহ তাআলার নিকট তওবা-ইসতিগফার করতে হবে এবং এ টাকা দ্বারা কোনো লাভ অর্জন করে থাকলে তা সদকা করে দিতে হবে।

আর এক্ষেত্রে সিকিউরিটির টাকা ভাড়াগ্রহীতা থেকে ঋণ হিসেবে নিলে তা ব্যবহার করা যাবে বলে যে কথা প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে তা ঠিক নয়। কেননা সিকিউরিটি মানির টাকাকে ঋণ ধরা হলে যেক্ষেত্রে সিকিউরিটি মানির কারণে ভাড়া কম নেওয়া হবে সেক্ষেত্রে ঋণের কারণে ভাড়া কম নেওয়া হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। আর ঋণের কারণে কোনো সুবিধা ভোগ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত।

তাছাড়া এভাবে একটি চুক্তির সাথে আরেকটি চুক্তি শর্তযুক্ত করে কারবার করাও নাজায়েয। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তাই সিকিউরিটির টাকা ভাড়াগ্রহীতা থেকে করয হিসাবে নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। বরং ভাড়াদাতা নিজে ব্যবহারের জন্য ভাড়াগ্রহীতা থেকে এককালীন কিছু অর্থ নিতে চাইলে তা এ্যাডভান্স তথা অগ্রিম ভাড়া হিসাবে নিতে পারবে। যা চুক্তি অনুযায়ী ভাড়া হিসেবে কর্তিত হবে।

উল্লেখ্যপ্রথম পদ্ধতি অর্থাৎ সিকিউরিটি মানি নিয়ে যেহেতু অনেকেই নাজায়েযভাবে তা ব্যবহার করে গুনাহে পড়েন তাই আমরা এক্ষেত্রে এ্যাডভান্স তথা অগ্রিম ভাড়ার পদ্ধতিটি গ্রহণ করার প্রতি উৎসাহিত করে থাকি। এতে করে দোকান বা বাড়ির মালিক একত্রে বেশি টাকাও নিতে পারে এবং তা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধও বটে।

Ñমুসনাদে আহমদ, হাদীস ৬৬২৮; শরহুল মাজাল্লা, খালিদ আতাসী ৩/১৪৫, ১৯৬; মাবসূত, সারাখসী ১৪/৩৫, ২১/১০৮; কিতাবুল আসল ৩/১৬৩; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়া, মাদ্দাহ : ৪৬৮

শেয়ার লিংক

মুনীরুল ইসলাম - মুন্সিগঞ্জ

৩৭২৮. প্রশ্ন

আমাদের মহল্লায় একটি নতুন মসজিদ নির্মিত হয়েছে। আমি তাতে কিছু পাখা ওয়াকফ করতে চাচ্ছি। কেউ কেউ বলছে, পাখা যেহেতু স্থানান্তরযোগ্য জিনিস তাই তা ওয়াকফ হবে না; বরং সাধারণ দান বলেই বিবেচ্য হবে। দয়া করে শরীয়তের আলোকে বিষয়টির সমাধান জানাবেন।

 


উত্তর

আপনি যািদ মসজিদে পাখা দান করেন তাহলে সেগুলো ওয়াকফের মতোই স্থায়ীভাবে মসজিদের মালিকানায় চলে যাবে। এবং আপনিও স্থায়ীভাবে এগুলোর সওয়াব পেতে থাকবেন। সুতরাং এগুলো ওয়াকফ না সাধারণ দান এই প্রশ্ন করা অর্থহীন।

Ñআলমাবসূত সারাখসী ১২/৪৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৫০২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/২৬৪; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ৫/৪৩১

শেয়ার লিংক

ইবরাহীম খলিল - আশুগঞ্জ, বি. বাড়িয়া

৩৭২৭. প্রশ্ন

আমার চাচাত ভাই নাবালেগ বয়সে টেলিভিশন না দেখার কসম করেছিল। আবার নাবালেগ অবস্থায়ই টেলিভিশন দেখে ফেলে। এখন তার উপর কসমের কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে কি না। জানিয়ে বাধিত করবেন।

 


উত্তর

আপনার চাচাত ভাই যেহেতু নাবালেগ অবস্থায় কসম করেছে তাই তার উপর ঐ কসম ভঙ্গের কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না। কিন্তু নাবালেগদের জন্যও নিজেদের অঙ্গিকার পুরা করা কাম্য। বিশেষ কসম করুক বা না করুক গুনাহের কাজ থেকে তো বেঁচে থাকা এমনিতেই জরুরী। 

Ñমুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯৪০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৪০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৫১

শেয়ার লিংক

জুনাইদ হুসাইন - ফরিদপুর

৩৭২৬. প্রশ্ন

আমি দীর্ঘদিন যাবৎ চাকুরী তালাশ করছিলাম। কিন্তু কোথাও মনমত চাকুরী খুঁজে পাচ্ছিলাম না। একবার একটা ভাল চাকুরির ইন্টারভিউয়ে উত্তীর্ণ হই। কিন্তু চাকুরী হবে কি না তা নিয়ে অনেকটা অনিশ্চয়তায় ভুগছিলাম। তখন আমি এই বলে মান্নত করি যে, যদি আমার এই চাকুরিটা হয়ে যায় তাহলে আমি প্রতি জুমার দিন রোযা রাখবো। ঘটনাক্রমে আমার ঐ চাকুরিটা হয়ে যায়। তাই আমি প্রত্যেক জুমার দিন রোযা রেখে যাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে আমার সাংসারিক ঝামেলা অনেক বেড়ে গেছে। তাই মাঝেমধ্যে জুমআর দিনে রোযা রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। হুযুরের নিকট আমার জানার বিষয় হলো, রোযা না রাখতে পারলে আমার করণীয় কী? যে দিনগুরোর রোযা ছুটেছে সেগুলোর জন্য কী করতে হবে? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো।  

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত মান্নতের কারণে আপনার উপর প্রতি জুমাবার রোযা রাখা ওয়াজিব। কোনো কারণে জুমাবারে রোযা রাখা সম্ভব না হলে পরবর্তীতে অন্য কোনোদিন তা কাযা করে নিতে হবে। আর বিগত যে কয়দিনের রোযা ছুটেছে সেগুলোও কাযা করতে হবে। অবশ্য ভবিষ্যতে বার্ধক্য বা জটিল কোনো অসুস্থতার কারণে রোযা রাখা সম্ভব না হলে এবং পরবর্তীতে কাযা করার সামর্থ্যও ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তখন প্রত্যেক রোযার জন্য একটি করে ফিদয়া দিতে হবে। ফিদয়া হলোএকজন দরিদ্রকে তৃপ্তি সহকারে দুইবেলা খাওয়ানো বা এর মূল্য দিয়ে দেওয়া।

Ñআলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৩৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ লুকমান - বারহাট্টা, নেত্রকোনা

৩৭২৫. প্রশ্ন

আমি একবার কুরআনের কসম খেয়ে বলি, আমি ... একাজটা অবশ্যই করবো। কিন্তু পরে আমি আর ঐ কাজটা করতে পারিনি। এখন জানার বিষয় হলো, আমার ঐ কথার কারণে কি কসম হয়েছিল? এখন আমার করণীয় কি?


 


উত্তর

হাঁপ্রশ্নোক্ত কথার কারণে আপনার কসম সংঘটিত হয়েছে। পরবর্তীতে ঐ কাজটি না করার কারণে আপনার কসমটি ভঙ্গ হয়েছে। এখন আপনার কর্তব্য হলোকসম ভঙ্গের কাফ্ফারা আদায় করা। কসমের কাফ্ফারা হলোদশজন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুইবেলা তৃপ্তি সহকারে খানা খাওয়ানো বা এর মূল্য দিয়ে দেওয়া। অথবা দশজন দরিদ্র ব্যক্তিকে এক জোড়া করে পোশাক দেওয়া। তবে কেউ যদি এর কোনেটির সামর্থ্য না রাখে তাহলে সে লাগাতার তিনটি রোযা রাখবে। Ñসুরা মায়েদা : ৮৯ফাতহুল কাদীর ৪/৩৫৬;ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ২/৫৩২/৬১আলবাহরুর রায়েক ৪/২৮৬রদ্দুল মুহতার ৩/৭২৬

প্রকাশ থাকে যেআল্লাহ তাআলার নাম ব্যতীত কোনো কিছুর কসম করা নিষেধ। তাই কেউ কসম করতে চাইলে আল্লাহর নামেই কসম করা আবশ্যক।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাকসুদুর রহমান - চাঁদপুর

৩৭২৪. প্রশ্ন

আমার এক সহপাঠী কিছুদিন আগে একটি বিষয়ে কসম করে পরে তা ভঙ্গ করেছে। কিন্তু বর্তমানে টাকা দিয়ে বা খানা খাইয়ে কসমের কাফ্ফারা আদায় করার মত সামর্থ্য তার নেই। এখন কি সে রোযার মাধ্যমে কাফ্ফারা দিতে পারবে নাকি টাকা হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?

 


উত্তর

আপনার ঐ সহপাঠী বর্তমানে টাকা দিয়ে বা খানা খাইয়ে কাফ্ফারা আদায়ের সামর্থ্য না রাখলে সে রোযার মাধ্যমে কাফ্ফারা আদায় করতে পারবে। কেননা যখন কাফ্ফারা আদায় করছে তখন অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে কাফ্ফারা আদায়ের সামর্থ্য না থাকলেই রোযার মাধ্যমে কাফ্ফারা আদায় করা জায়েয। কাফ্ফারা আদায়ের জন্য টাকা হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা জরুরি নয়। তবে রোযা রেখে কাফ্ফারা আদায় করা অবস্থায় সামর্থ্যবান হয়ে গেলে রোযার কাফ্ফারা যথেষ্ট হবে না। সেক্ষেত্রে টাকা দিয়ে বা খানা খাইয়েই নতুন করে কাফ্ফারা আদায় করা জরুরি হবে।

Ñফাতহুল কাদীর ৪/৩৬৭; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯০; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭২৭; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬২

শেয়ার লিংক

শহীদুল ইসলাম - চাঁদপুর

৩৭২৩. প্রশ্ন

আমাদের দেশের বিবাহ-শাদীতে সাধারণত যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তা হল, প্রথমে কনে পক্ষের কোনো একজন মুরব্বী কনের কাছ থেকে ইয্ন (বিয়ের সম্মতি) নিয়ে আসে। এরপর (ভর মজলিসে) বরের কাছে তা পেশ করা হয় এবং বর কবুল করলে বিবাহ সম্পন্ন হয়। জানার বিষয় হল, কনের কাছ থেকে ইয্ন নেওয়ার সময় সাক্ষীদের উপস্থিতি জরুরী কি না?

 


উত্তর

পাত্রী থেকে বিবাহের সম্মতি নেওয়াকে ইযন (বিয়ের সম্মতি) বলে। এই ইযন তথা সম্মতি গ্রহণের জন্য সাক্ষী থাকা জরুরী নয়। তবে বিবাহের ইজাব-কবুলের সময় সাক্ষী থাকা জরুরি। সাক্ষী ছাড়া বিবাহ সহীহ হবে না। 

Ñবাদায়েউস সানায়ে ২/৫২৯; আলবাহরুর রায়েক ৩/৮৯; রদ্দুল মুহতার ৩/২১

শেয়ার লিংক

ইবরাহীম খলিল - আশুগঞ্জ, বি. বাড়িয়া

৩৭২২. প্রশ্ন

সালামবাদ জনাব, আমাদের গ্রামের এক মেয়ে তার পিতার সৎ চাচা অর্থাৎ সৎ দাদার সাথে বিবাহের কথাবার্তা চলছে। তাদের বয়সের পার্থক্যও খুব বেশি নয়। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তাদের বিবাহ সহীহ হবে কি না?

 


উত্তর

নাতাদের পরস্পরের বিবাহ সহীহ নয়। কেননা সৎ দাদা অর্থাৎ বৈমাত্রেয় দাদা হোক বা বৈপিত্রেয় দাদা উভয়ই মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। আর মাহরামের সাথে বিবাহ সম্পূর্ণ হারাম। কুরআন মাজীদের সূরা নিসার ২৩ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন : (তরজমা) তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতাতোমাদের কন্যাতোমাদের বোনতোমাদের ফুফুতোমাদের খালাভ্রাতৃকন্যাভগ্নি কন্যা...।

উক্ত মাহরামের আলোচনায় যে ভ্রাতৃকন্যা এসেছে তাতে ভাইয়ের ছেলের মেয়েমেয়ের মেয়েসহ তাদের অধস্তন সকলে অন্তর্ভুক্ত। এতে আপন ভাইয়ের মেয়ে এবং বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে এবং বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে এবং এদের অধস্তন সকল কন্যার হুকুম সমান।

Ñআহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১২৩; তাফসীরে মাযহারী ২/২৬৫; মাবসূত, সারাখসী ৪/১৯৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৬০; ফাতহুল কাদীর ৩/১১৮

শেয়ার লিংক

এম. ডি. ইবরাহীম - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৭২১. প্রশ্ন

এক মেয়ে ও এক ছেলের মাঝে সম্পর্ক ছিল। মা জানতে পেরে মেয়েকে বিবাহ দিয়েছে। জানার বিষয় হল,বাবা জীবিত থাকা সত্ত্বেও বাবার অনুমতি ছাড়া এই বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে কি না?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মেয়েটি বিবাহের সময় সাবালিকা হয়ে থাকলে তার ঐ বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে। কেননা সাবালিকা মেয়ের বিবাহ বাবার অনুমতি ছাড়াও হয়ে যায়। তবে বাবার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া অন্যায় হয়েছে। আর মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্কা না হলে বাবার সম্মতি ছাড়া বিবাহ সম্পন্ন হয় না।

প্রকাশ থাকে যেবেগানা নারী-পুরুষের পরস্পর সম্পর্ক সম্পূর্ণ অবৈধ ও গুনাহ। তাদের দেখা-সাক্ষাত ইত্যাদি সবই অবৈধ। বিবাহের উদ্দেশ্যেও কারো সাথে এমন সম্পর্ক গড়া বৈধ নয়। এটা দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য ক্ষতির কারণ আরো প্রকাশ থাকে যেসাবালিকা মেয়ের বিবাহ পিতার অনুমতি ছাড়া যদিও সহীহ হয়ে যায় তবে তা সঠিক পদ্ধতি নয়। এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা হলঅভিভাবকের অনুমতিক্রমেই বিবাহ করা এবং এব্যাপারে অভিভাবকের পরামর্শকে নিজের কল্যাণ মনে করে মেনে নেওয়া। আর অভিভাবকদেরও দায়িত্ব হলমেয়ের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি ছাড়া এককভাবে নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিবাহ না দিয়ে দেওয়া বরং এ ব্যাপারে মেয়ের মতামতের মূল্যায়ন করা।

Ñআলবাহরুর রায়েক ৩/১০৯; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ৩/১৫৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৫৬

শেয়ার লিংক

নেয়ামতুল্লাহ - কুমিল্লা

৩৭২০. প্রশ্ন

আমার আব্বার বদলি হজ্ব করার জন্য আমরা যাকে নির্ধারণ করেছি তিনি পূর্বে কখনো হজ্ব করেননি। এক লোক বলল, এমন ব্যক্তিকে দিয়ে বদলি হজ্ব করালে তা সহীহ হয় না। ঐ লোক কি ঠিক বলেছে?

 


উত্তর

যে ব্যক্তি নিজের হজ্ব আদায় করেনি তাকে দিয়ে বদলি হজ্ব করানো মাকরূহ। তবে এমন ব্যক্তিকে দিয়ে বদলি হজ্ব করালেও তা আদায় হয়ে যাবে। তাই প্রশ্নের ঐ কথা ঠিক নয়।

উল্লেখ্য যেবদলি হজ্ব এমন ব্যক্তিকে দিয়ে করানো উত্তম যে ইতিপূর্বে নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেছে এবং হজ্বের মাসাইল সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখে।

Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ১৫১৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৩৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৩৫৪৪; মাবসূত, সারাখসী ৪/১৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৬; ফাতহুল কাদীর ৩/৭৯; আলবাহরুর রায়েক ৩/৬৯; রদ্দুল মুহতার ২/৬০৩

শেয়ার লিংক

তাবাসসুম আক্তার - ঢাকা

৩৭১৯. প্রশ্ন

আমার বয়স ১৮ বছর। আমি আম্মা ও বড় বোন এবার আমাদের বড় দুলাভাইয়ের সঙ্গে হজ্ব আদায় করেছি। হজ্ব থেকে ফেরার পর জানতে পারলাম যে, দুলাভাইয়ের সঙ্গে হজ্বে যাওয়া আমার জন্য বৈধ হয়নি। তাহলে কি আমার হজ্ব সহীহ হয়নি?

উত্তর

মাহরাম ব্যতীত হজ্বের সফরে যাওয়া জায়েয নয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া হজ্বে না যায়। Ñসুনানে দারাকুতনী, হাদীস : ২৪৪০ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো পুরুষ যেন কোনো মহিলার সাথে নির্জনে অবস্থান না করে এবং কোনো মহিলা যেন মাহরাম ব্যতীত সফর না করে। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি আর আমার স্ত্রী হজ্বের জন্য বের হচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাও। তুমিও তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্ব কর। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ৩০০৬ সুতরাং মাহরাম ছাড়া হজ্বের সফরে যাওয়া আপনার জন্য নাজায়েয হয়েছে। এজন্য তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। তবে এভাবে যাওয়া নাজায়েয হলেও আপনার হজ্ব আদায় হয়ে গেছে।

Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৩৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৯; আললুবাব ১/১৬৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৫

শেয়ার লিংক

রমযান আলী - লাঙ্গলকোট

৩৭১৮. প্রশ্ন

যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তি কে? আত্মীয়কে কি যাকাত দেওয়া যায়? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

 


উত্তর

যে ব্যাক্তির নিকট প্রয়োজনীয় সামান্য অর্থ সম্পদ আছে অথবা কিছুই নেই তাকে যাকাত দেওয়া যাবে। তদ্রƒপভাবে যার কাছে ৫২.৫ তোলা রূপার মূল্য সমপরিমাণ প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ নেই তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে। অনুরূপভাবে যার কাছে এ পরিমান সম্পদ আছে কিন্তু সে এমন  ঋণগ্রস্থ যেঋণ পরিশোধ করে দিলে তার কাছে এ পরিমাণ সম্পদ থাকে না তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে। তবে শিল্পঋণের হুকুম এ থেকে ভিন্ন। অর্থাৎ কারো যদি ব্যক্তি মালিকানায় নেসাব পরিমাণ যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে এবং শিল্পঋণও থাকে তাহলে সে ব্যক্তিগত যাকাতযোগ্য সম্পদের যাকাত আদায় করবে। ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে শিল্পঋণ বাদ দিবে না।

আর ভাই বোন ভাতিজাভাগনেচাচামামাফুফুখালাশ্বশুড়-শাশুড়ী প্রমুখ আত্মীয় স্বজন গরীব অসহায় হলে তাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে। তবে নিজের পিতা-মাতা,দাদা-দাদীনানা-নানীপ্রমুখ ঊর্ধ্বতন আত্মীয় স্বজন এবং ছেলেমেয়েনাতিনাতনি প্রমুখ অধস্তন আত্মীয়-স্বজন গরীব হলেও তাদেরকে যাকাত দেওয়া জাযেয হবে না। তদ্রƒপ স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যাকাত দিতে পারবে না।

প্রকাশ থাকে যেযাকাত গ্রহণ করতে পারে এমন আত্মীয়স্বজনকে যাকাত দিলে যাকাত দেওয়ার সওয়াবের পাশাপাশি আত্মিয়তার সম্পর্কের হক আদায়ের সাওয়াবও হবে।

Ñআলমাবসূত, সারাখসী ৩/৮, ১১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪০-২৪৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৩৯,৩৪৩, ৩৪৬

শেয়ার লিংক

মোহাম্মদ ইয়াকুব - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৩৭১৭. প্রশ্ন

কী কী জিনিসের উপর যাকাত আসে? সবিস্তারে জানানোর অনুরোধ রইলো।

 


উত্তর

তিন ধরনের সম্পদ যাকাতযোগ্য সম্পদ। ১. দেশী বিদেশী মুদ্রা ও টাকা-পয়সা। তা নিজের কাছে জমা থাক কিংবা ব্যাংকের কোন একাউন্টে বা বন্ডসঞ্চয় পত্র ইত্যাদিতে থাকুক অথবা ব্যাংক গ্যারান্টি হিসাবে জমা থাক সবই যাকাতযোগ্য সম্পদ। এ ছাড়া ব্যবসার মূলধনপণ্যের বকেয়া মূল্য এবং কাউকে দেওয়া ঋণও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।

২. সোনা-রূপা। অলঙ্কার হোক বা অন্যান্য সামগ্রীব্যবহৃত হোক বা অব্যবহৃত সর্বাবস্থায় তা যাকাতযোগ্য সম্পদ।  (সোনা-রূপা ছাড়া অন্য কোন ধাতুর অলঙ্কার বা মূল্যবান পাথর ইত্যাদি ব্যবসার পণ্য না হলে তা যাকাতযোগ্য সম্পদ নয়।)

৩. ব্যবসার সম্পদ।  ব্যবসার মালামাল ও পণ্য। ব্যবহারের নিয়ত ছাড়া কেবল বিক্রির নিয়তে কোন কিছু ক্রয় করলে তা ব্যবসার পণ্য হিসেবে গণ্য হবেচাই তা স্থাবর সম্পত্তি হোক বা অস্থাবর কোন পণ্য এবং তা যাকাতযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। যেমনকেউ একটি জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রয় করলো। তা ব্যবসা পণ্যের অন্তর্ভুক্ত হবে। এমনিভাবে দোকান বা কারখানার বিক্রির মালামাল এবং মজুদকৃত কাঁচামাল সবই যাকাতযোগ্য সম্পদ। অবশ্য ব্যবসার উপকরণ সামগ্রী যাকাতযোগ্য সম্পদ নয়। যেমনঅফিস,কারখানামেশিনারিজঅফিস ও কারখানার কাজে ব্যবহৃত গাড়ী ও আসবাব পত্র। এছাড়া ভাড়ার জন্য বাড়ীগাড়ী ও এ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৯৯৭৪, ১০৫৫৭, ১০৫৬০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৫৪-৭০৬১; কিতাবুল আসল ২/৯২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৭, ২৬২, ৩০০

শেয়ার লিংক

মাহদি হাসান - নওগাঁ

৩৭১৬. প্রশ্ন

আমি একজন ইয়াতিম ছেলের লেখা-পড়ার খরচ বহন করি। সে এখন এক হেফয খানায় পড়ে। অনেক সময় আমার সাথী সঙ্গীরা তার জন্য আমাকে যাকাতের টাকা দিয়ে থাকে। এখন জানার বিষয় হলো, আমি তো তার খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছি, এ অবস্থায় তার খরচের জন্য অন্য কারো থেকে যাকাত নেওয়া জায়েয হবে কি না? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছেলেটি যেহেতু যাকাত গ্রহণের যোগ্য আর তার দেখাশোনার দায়িত্ব আপনি নিয়েছেন। তাই তার জন্য নিজের যাকাত থেকে খরচ করা কিংবা অন্য থেকে যাকাত নিয়ে তার জন্য খরচ করা উভয়টিই জায়েয। আর তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে যাকাত থেকে খরচ করা যাবে নাÑ এ ধারণা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে অন্য কেউ যাকাত দিলে ছেলেটির পক্ষ থেকে আপনি তা গ্রহণ করলেই যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তাই এ ক্ষেত্রে আপনার দায়িত্ব হলো ঐ টাকা ছেলেটির জন্যই ব্যয় করা। আর ছেলেটিকে নিজের যাকাত দিতে চাইলে তাকে যাকাতের মালিক বানিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ যাকাতের টাকা বা তা দ্বারা ক্রয়কৃত আসবাব পত্র তার মালিকানায় দিয়ে দিতে হবে। নিজ ঘরে খানা খাওয়ালে তা দ্বারা যাকাত আদায় হবে না। অবশ্য যাকাত থেকে তার খানার টাকা বা মাদ্রাসার অন্যান্য ফি আদায় করতে পারবেন।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ১/১৭৭-১৭৯; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭

শেয়ার লিংক

মাকসুদুর রহমান - ঢাকা

৩৭১৫. প্রশ্ন

 আমার কয়েকটি গাড়ি আছে। যেগুলো একটি ‘‘রেন্ট এ কার’’-এর মাধ্যমে ভাড়ায় চালিত হয়। প্রতি মাসে এগুলোর ভাড়া বাবৎ আমার যে আয় হয় পরিবারের ব্যয় নির্বাহের পরও তার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমা থাকে। এভাবে অনেক টাকা জমা হলে তা দিয়ে আমি আরেকটি গাড়ি ক্রয় করি। এছাড়া কোনো গাড়ি পুরোনো হয়ে গেলে তা বিক্রি করে দেই। জানার বিষয় হল, আমার এই গাড়িগুলোর মূল্য ধরে যাকাত দিতে হবে কি না? আর নতুন গাড়ি ক্রয়ের জন্য যে টাকা জমা করি সেগুলোর ক্ষেত্রে কী বিধান?

 


উত্তর

রেন্ট এ কার বা ভাড়ায় চালিত গাড়ি যাকাতযোগ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত নয়।  তাই আপনার ঐ গাড়িগুলোর মূল্যের উপর যাকাত দিতে হবে না। তবে সেগুলো থেকে ভাড়া বাবৎ অর্জিত আয়ের যে অংশ প্রয়োজনীয় খরচ নির্বাহের পর অতিরিক্ত থাকবে তা যাকাতযোগ্য সম্পদের মধ্যে গণ্য হবে। সুতরাং যাকাত-বর্ষ পূর্ণ হওয়ার সময় আপনার মালিকানায় প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ বা তার বেশি যত টাকা থাকবে সবগুলোর যাকাত দিতে হবে। এমনকি গাড়ি ক্রয়ের নিয়তে জমাকৃত টাকারও বছরান্তে যাকাত দিতে হবে।

অবশ্য যাকাত-বর্ষ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই যদি গাড়ি কিনে ফেলেন তাহলে সে টাকার যাকাত দিতে হবে না। 

Ñকিতাবুল আসল ২/৯৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭০৬১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৬৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭৩

শেয়ার লিংক

আবদুল কুদ্দুস - ঢাকা

৩৭১৪. প্রশ্ন

আমি একজন চাকুরিজীবী। পাশাপাশি আমার একটি ব্যবসাও আছে। বিগত জুন মাস থেকে আমার যাকাত-বর্ষ শুরু হয়েছে। তখন ব্যবসার পণ্য-মূল্য ও নগদ টাকা মিলিয়ে আমার কাছে সর্বমোট চার লক্ষ টাকা ছিল। ধীরে ধীরে আামর ব্যবসায় উন্নতি হয়েছে। বেতনের টাকা থেকেও কিছু কিছু জমা হয়েছে। এখন যাকাত-বর্ষ পূর্ণ হওয়ার সময় ক্যাশ টাকা ও পণ্য মূল্য মিলিয়ে প্রায় আট লক্ষ টাকার সম্পদ আমার মালিকানায় আছে। জানার বিষয় হল, বছরের মাঝখানে আমার যে আয় হয়েছে সেগুলোর হিসাব কীভাবে করব?

 


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে পূর্ণ আট লক্ষ টাকারই যাকাত দিতে হবে। কেননা যাকাত বর্ষের মাঝেও যা আয় হয় সব মিলে বছরের শেষ দিনে যা থাকে সবটার উপর যাকাত ফরয হয়।

Ñমুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭০৪১; মাবসূত, সারাখসী ২/১৬৫; কিতাবুল আসল ২/৮৯; কিতাবুল হুজ্জাহ ১/৩০৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯৬; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৩১৯-৩২৩; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ২/১৪৭-১৪৮; ইলাউস সুনান ৯/৪৮-৫০

শেয়ার লিংক

মনিরুল ইসলাম - মাগুড়া

৩৭১৩. প্রশ্ন

রোযা রাখাবস্থায় মুখ ভরে বমি হলে কী রোযা নষ্ট হয়?

 


উত্তর

নারোযা অবস্থায় মুখ ভরে বমি হলেও রোযা ভাঙ্গবে না। তবে ইচ্ছকৃত মুখ ভরে বমি করলে রোযা  ভেঙ্গে যাবে। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছেÑ অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তির বমি হলে তাকে সে রোযা কাযা করতে হবে না (অর্থাৎ তার রোযা ভাঙ্গবে না)। আর যে ইচ্ছাকৃত বমি করবে সে যেন রোযার কাযা করে। 

-জামে তিরমিযী, হাদীস ৭২০) -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৬/১৮০; আল বাহরুর রায়েক ২/২৪৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৬

শেয়ার লিংক

মাহমুদ - যশোর

৩৭১২. প্রশ্ন

রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে কি?

 


উত্তর

জীরোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে। এতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। এমনকি ঔষধের স্বাদ বা তিক্ততা গলায় অনুভূত হলেও অসুবিধা নেই। হাদীস শরীফে এসেছে যেহযরত আনাস রা. রোযা অবস্থায় চোখে সুরমা ব্যবহার করতেন।

Ñসুনানে আবুদাউদ, হাদীস ২৩৭৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৯৩৮৭; কিতাবুল আসল ২/১৭১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৪

শেয়ার লিংক

রাইসুল হাসান - সোনারগাঁ

৩৭১১. প্রশ্ন

আগরবাতি ও কয়েলের ধোঁয়া নাকে গেলে রোযার কোন ক্ষতি হবে কি?

 Ñকিতাবুল আসল ২/১৭২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৮; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬১

 


উত্তর

আগরবাতি বা কয়েলের ধোঁয়া অনিচ্ছাকৃত নাকে বা গলার ভিতর চলে গেলে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। তবে আগরবাতি বা কয়েলের ধোঁয়া ইচ্ছাকৃত নাক দিয়ে টেনে ভিতরে নিলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু আগরবাতি বা কয়েলের ধোঁয়া ছাড়া শুধু ঘ্রাণ নিলে রোযা নষ্ট হবে না।

উল্লেখ্য যেরোযার দিনে আগরবাতি না জ্বালানোই উচিত।

শেয়ার লিংক

নুমান ফরিদ - কিশোরগঞ্জ

৩৭১০. প্রশ্ন

ধুমপান করলে রোযা নষ্ট হবে কী না?

 


উত্তর

জী হাঁরোযা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত ধুপমান করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। এবং কাযা ও কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে। 

- ইমদাদুল ফাত্তাহ পৃ. ৩৮১; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৪৫০

শেয়ার লিংক

কাওসার - বাংলাবাজার, ঢাকা

৩৭০৯. প্রশ্ন

গীবত করলে রোযা নষ্ট হয়ে যায় কথাটি কি সঠিক?

 


উত্তর

রোযা অবস্থায় গীবত করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে না। তবে রোযার সাওয়াব ও গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যাবে। গীবত কবীরা গুনাহ। কুরআন মাজীদ এবং হাদীস শরীফে এর ঘৃণ্যতা ও ভয়াবহতার কথা এসেছে। সাধারণ সময়ই এটি খুবই নিকৃষ্টতম কাজ।  আর রমযান মাসে রোযা অবস্থায় এর ভয়াবহতা আরো বেশি। হাদীস শরীফে এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনÑ রোযা হল (জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার) ঢালযে পর্যন্ত না তাকে বিদীর্ণ করা হয়। জিজ্ঞাসা করা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হল কীভাবে রোযা বিদীর্ণ হয়ে যায়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনমিথ্যা বলার দ্বারা অথবা গীবত করার দ্বারা। (আলমুজামুল আওসাততাবারানী,হাদীস ৭৮১০সানানে নাসায়ীহাদীস ২২৩৫)

মুজাহিদ রহ. বলেনদুটি অভ্যাস এমন রয়েছেএ দুটি থেকে যে বেঁচে থাকবে তার রোযা নিরাপদ থাকবে: গীবত ও মিথ্যা।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৮৯৮০; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৬৭৪; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬০

শেয়ার লিংক

মুনির - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৩৭০৮. প্রশ্ন

গোসলের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে নাকে পানি গেলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে?

 


উত্তর

রোযার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় অযু-গোসলের সময় অনিচ্ছাকৃতও যদি গলার ভিতর পানি চলে যায় তবে রোযা ভেঙ্গে যায়। তাই নাকের ভিতর পানি প্রবেশ করার পর যদি তা গলায় চলে যায় তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং তা কাযা করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কাফফারা লাগবে না।

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেনরোযা অবস্থায় কুলি করার সময় অথবা নাকে পানি দেওয়ার সময় যদি পানি ভেতরে প্রবেশ করে এবং তা গলায় চলে যায় তবে সে ঐ দিনের রোযা পূর্ণ করবে এবং পরে তা কাযা করে নিবে। Ñকিতাবুল আসারহাদীস : ২৮৭

আর যদি শুধু নাকে পানি প্রবেশ করেগলায় না পৌঁছে তবে রোযা ভাঙ্গবে না।

Ñকিতাবুল আসল ২/১৫০, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১৮২৫৩; মাবসূত সারাখসী ৩/৬৬

শেয়ার লিংক

রিয়াজ শিব্বির - মানিকগঞ্জ

৩৭০৭. প্রশ্ন

 

রোযা অবস্থায় রক্ত দিলে কি রোযা নষ্ট হয়ে যাবে?

 


 

উত্তর

নারোযা অবস্থায় রক্ত দিলে রোযা ভাঙ্গে না। তাই টেস্ট বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া যাবে। তবে এ পরিমাণ রক্ত দেওয়া মাকরুহ যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোযা রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে। তাই দুর্বল লোকদের জন্য রোযা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত দেওয়া ঠিক নয়। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোযা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোযা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোন অসুবিধা নেই।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৩৬, ১৯৪০, আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; কিতাবুল আসল ২/১৬৮; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬০

শেয়ার লিংক

ফেরদাউস - নেত্রকোণা

৩৭০৬. প্রশ্ন

শাবান মাসের ২৯ তারিখ অথবা মাস যদি ৩০ শে হয় তাহলে ৩০ তারিখে রোযা রাখতে কোন সমস্যা আছে কী?

 


উত্তর

হাদীস শরীফে এসেছেÑ আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিতনবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনতোমাদের কেউ যেন রমযান মাসে একদিন বা দুই দিন পূর্ব তেকে রোযা না রাখে। তবে কারো যদি আগে থেকে কোন নির্দিষ্ট দিন রোযা রাখার অভ্যাস থাকে এবং (ঘটনাক্রমে) সে দিনটি ২৯ বা ৩০ শে শাবান হয় তাহলে সে ঐ দিন রোযা রাখতে পারবে। (সহীহ বুখারীহাদীস:১৯১৪জামে তিরমিযীহাদীস: ৬৮৪)

সুতরাং বিশেষভাবে শুধু ২৯ বা ৩০ শে শাবান রোযা রাখা মাকরুহ। তবে যে ব্যক্তি পূর্ব থেকে কোন নির্দিষ্ট দিন রোযা রেখে আসছে ঘটনাক্রমে তার ঐ দিন যদি ২৯ ও ৩০ শে শাবান হয় তাহলে তার জন্য এ দিন রোযা রাখতে কোন অসুবিধা নেই।

-হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৪৪৪, এলাউস সুনান ৯/১২৪-১২৭

শেয়ার লিংক