হাবীবুর রহমান - চরশাহারাস্তি, বরিশাল

৩৬১০. প্রশ্ন

মোবাইলের ভেতর কুরআন মজীদ রাখা বা পড়া এবং এটা সাথে নিয়ে টয়লেটে যাওয়া কি জায়েয আছে?


উত্তর

মোবাইলে বা এর মেমোরিতে কুরআন মজীদ সংরক্ষণ করা এবং এখান থেকে দেখে তিলাওয়াত করা জায়েয। এতে অসুবিধা নেই।

তবে মোবাইলের স্ক্রীনে কুরআন মাজীদের আয়াত বা কোনো পৃষ্ঠা খুললে তার যথাযথ মর্যাদা বজায় রাখতে হবে এবং লিখিত অংশ বিনা অযুতে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

আর মোবাইল স্ক্রীণে কুরআন মাজীদের আয়াত দৃশ্যমান না থাকলে তা নিয়ে টয়লেটে যাওয়া যাবে। কিন্তু স্ক্রীণে কোনো আয়াত দৃশ্যমান থাকলে তা খোলা অবস্থায় টয়লেটে নিয়ে যাওয়া জায়েয হবে না।

-আদ্দুররুল মুখতার ১/১৭৮

শেয়ার লিংক

আবদুর রব - নলছিটি, ঝালকাঠি

৩৬০৯. প্রশ্ন

খালেদ ফাতেমার মায়ের দুধ পান করেছে। এখন প্রশ্ন হল, খালেদের জন্মদাতা পিতার সাথে কি ফাতেমা দেখা দিতে পারবে?


উত্তর

নাখালেদের পিতার সাথে ফাতেমা দেখা দিতে পারবে না। তাদের পর্দা করা জরুরি। কেননা খালেদের দুধ পান করার দ্বারা দুগ্ধদানকারীনির সাথে শুধু তারই দুধ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ কারনে খালেদের ভাই-বোনপিতা বা তার অন্য কোনো আত্মীয়ের সাথে দুধ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়নি।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৫/১৩৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৪১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৪৩; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪০০

শেয়ার লিংক

সায়্যেদ তাজুল ইসলাম - আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা

৩৬০৮. প্রশ্ন

 আমাদের বাসায় প্রতি ৬ মাসের জন্য একজন কর্মচারী রাখা হয়। তার খাওয়ার খরচ সম্পূর্ণ আমাদের। যার কারণে তার বেতন কিছুটা কম হয়ে থাকে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সে কি আমাদের কুরবানীর গোশত খেতে পারবে? কেননা তাকে খাওয়ানো হলে তো কুরবানীর গোশত বিনিময় হিসেবে দেওয়া হয়ে গেল? দয়া করে হাওয়ালাসহ জবাব দিয়ে উপকার করবেন।


উত্তর

পারিশ্রমিকের উদ্দেশ্য ছাড়া কর্মচারীকে কুরবানীর গোশত খাওয়ালে তা পারিশ্রমিক হিসেবে গণ্য হবে না। 

-ইমদাদুল মুফতীন পৃ. ৮০২

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ আননাঈম - রাজবাড়ী

৩৬০৭. প্রশ্ন

যদি কুরবানীর গরুর সাথে আকীকার নিয়ত করে তাহলে সে মাংস বণ্টনের নিয়ম কী? যদি কুরবানী আর আকীকার উভয় ভাগ এক সাথে মিলিয়ে পরে তা তিন ভাগ করে কুরবানীর গোশতের নিয়মে বণ্টন করি তাহলে হবে কি?


উত্তর

আকীকার গোশত বণ্টনের হুকুম কুরবানীর মতোই।

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আকীকা সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ হাদীসে এসেছে, ... অতপর (আকীকার গোশত থেকে) নিজে খাবেঅন্যকে খাওয়াবে এবং সদকা করবে। -মুসতাদরাকে হাকেমহাদীস ৭৬৬৯

তাই কুরবানী ও আকীকা একই ব্যক্তির হলে গোশত পৃথক করার প্রয়োজন নেইবরং চাইলে উভয় গোশত একত্রে মিলিয়ে তিনভাগে বণ্টন করতে পারবে।

-ইলাউস সুনান ১৭/১১৮, ১৭/১২৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৭; আলমুগনী ইবনে কুদামা ১৩/৩৯৩

শেয়ার লিংক

ইবরাহীম খলীল - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৬০৬. প্রশ্ন

আমার একটি ঘর লিজ দিয়েছিলাম এভাবে যে, লিজগ্রহীতা আমাকে ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা এডভান্স দিবে এবং আমার ঘর সে ব্যবহার করবে। এজন্য আমাকে তার কোনো ভাড়া দিতে হবে না। আলকাউসারের মাধ্যমে জানতে পারলাম, এ পদ্ধতি নাজায়েয। এখন আমার জানার বিষয় হল, ক) এখন আমার কী করণীয়? খ) এ সকল ক্ষেত্রে বৈধ পন্থা কী? কারণ অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন কারণে এ রকম লেনদেনের প্রয়োজন হয়। আশা করি শরয়ী সিদ্ধান্ত জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

এখন আপনাদের উভয়ের কর্তব্য উক্ত চুক্তি বাতিল করে দেওয়া। আর সামনে থেকে ঐ ঘর ব্যবহার করতে চাইলে শরীয়তসম্মতভাবে ভাড়া চুক্তি করতে হবে  ঋণের চুক্তি করা যাবে না। যেমনআপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার বাড়িটি যত বছর ভাড়া দিতে হবে একসাথে তত বছরের জন্য বাড়িটি ভাড়া দিয়ে দিবেন এবং তত বছরের ভাড়ার টাকা ভাড়া গ্রহীতা থেকে অগ্রিম নিয়ে নিবেন। যেমনআপনার বাড়ির মাসিক ভাড়া যদি ২০,০০০/- টাকা হয় তাহলে এক বছরের ভাড়া আসে ২,৪০,০০০/- টাকা। এ হিসেবে যত বছর ভাড়া দিলে আপনার প্রয়োজন পূরণ হবে তত বছরের জন্য বাড়িটি একসাথে ভাড়া দিয়ে দিবেন এবং  তত বছরের সমুদয় ভাড়া একত্রে অগ্রিম নিয়ে নিবেন। এক্ষেত্রে ভাড়ার পরিমাণ স্বাভাবিক ভাড়া থেকে প্রয়োজনে কিছুটা কমও নির্ধারণ করা যাবে। আর এটি যেহেতু ভাড়া চুক্তি তাই ভাড়ার মেয়াদ শেষে ভাড়াগ্রহীতা ঐ টাকা আর ফেরত পাবে না। অবশ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই যদি উভয়ে ভাড়া চুক্তি বাতিল করে দিতে চার তাহলে অবশিষ্ট মাসের ভাড়ার টাকা ভাড়াগ্রহীতাকে ফেরত দিতে হবে। আর এ লেনদেনে বাড়িওয়ালা সিকিউরিটি মানি বা ঋণের নামে কোনো কিছু নিতে পারবে না।

শেয়ার লিংক

মুজাহিদ - ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত

৩৬০৫. প্রশ্ন

মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত উপলক্ষ্যে দুআ অনুষ্ঠান করার পর এর বিনিময়ে টাকা গ্রহণ করা জায়েয আছে কি না?


উত্তর

দুআ স্বতন্ত্র ইবাদত। নুমান ইবনে বশীর রা. বলেনরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেননিশ্চয়ই দুআই হল ইবাদত। -মুসনাদে আহমদহাদীস ১৮৩৫২সুনানে তিরমিযীহাদীস ২৯৬৯

আর ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয নেই। সুতরাং মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করে কোনো ধরনের বিনিময় গ্রহণ করা যাবে না।

প্রকাশ থাকে যেমৃতদের জন্য দুআ করা সওয়াবের কাজ। তবে এটি হতে হবে স্বতঃস্ফূর্ত ও বিনিময়হীনভাবে।

-ফাতহুল বারী ১১/৯৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৫; তানকীহুল ফাতাওয়াল হামীদিয়া ২/১৩৭-১৩৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলী - মাদরাসায়ে উলূমে দ্বীনিয়া, কাকরাইল

৩৬০৪. প্রশ্ন

একজন ক্রেতা পণ্য বাকিতে ক্রয় করেছে। কিন্তু ভুলবশত মেমো করা হয়নি। লম্বা সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে টাকার পরিমাণ ভুলে গেছে। এ অবস্থায় করণীয় কী?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে আলোচনা করে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে সমঝোতামূলক একটি মূল্য নির্ধারণ করে নিবে। অতপর তা পরিশোধ করে দিবে আর তা যেহেতু বাস্তবমূল্য থেকে কম বা বেশি হতে পারে তাই একে অপরকে দায়ী করে রাখবে নাবরং মাফ করে দিবে।

শেয়ার লিংক

রেজাউল হক - শরীয়তপুর

৩৬০৩. প্রশ্ন

মসজিদের জায়গায় মসজিদের উন্নয়নের জন্য নিচ তলায় মার্কেট রেখে ২য় তলা থেকে মসজিদ বানানো যাবে কি না? আমাদের দেশে প্রায় জায়গায় এমন দেখা যায়। এ বিষয়ে শরীয়তের হুকুম কী?


উত্তর

মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত স্থানে নিচ তলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করা হলে পরবর্তীতে বহুতল ভবন করার সময় নিচতলা বা অন্য কোনো ফ্লোরে দোকান-পাট করা জায়েয হবে না।

তবে জায়গাটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের আগেই যদি নিচের দুই এক তলায় দোকান করার সিদ্ধান্ত থাকে কিংবা ওয়াকফ দলিলেই এমন লেখা থাকে তাহলে তা জায়েয আছে। তদ্রƒপ মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত স্থানে মসজিদ নির্মাণের আগে প্রথম থেকেই যদি নিচ তলায় মার্কেট বানানো হয় তবে জায়েয হবে। তবে এসব ক্ষেত্রে জায়েয থাকলেও মসজিদের নিচে দোকান-পাট না করাই উচিত। কেননামসজিদ হল সর্বোৎকৃষ্ট স্থান আর বাজার হল নিকৃষ্টতম স্থান। তাই মসজিদ ভবনে শপিং মলদোকান-পাট থাকলে মসজিদের পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়। তাই মসজিদের আয়ের জন্যও মসজিদের নিচ তলায় দোকান-পাট করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

উল্লেখ্য যেমসজিদের ব্যয় নির্বাহের জন্য মসজিদের জমিতে শপিং মলদোকানপাট ইত্যাদি করতে চাইলে মসজিদের জন্য বেশি জমি ওয়াকফ করে মসজিদর ভবন থেকে দূরে পৃথক ভবন নির্মাণ করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে মসজিদের পরিবেশও বজায় থাকবে এবং মসজিদের আয়েরও একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এছাড়া মসজিদের নিয়মিত জরুরি ব্যয় মুসল্লি ও সাধারণ মুসলমানের স্বতঃস্ফূর্ত দান থেকে নির্বাহ করা হবে। 

-সূরা জিন (৭২) : ১৮; আলমুহাররারুল ওয়াজিয ১৫/১৪৫; হাশিয়াতুশ শিলবী আলাত তাবয়ীন ৪/২৭১; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৮/১৬২; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৫৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান নুমান - গোপালগঞ্জ

৩৬০২. প্রশ্ন

ক) মসজিদে কোনো ফ্যান, মাইক, বদনা ইত্যাদি দান করলেই কি তা ওয়াকফ হয়ে যাবে, নাকি মুখেও পৃথকভাবে ওয়াকফের কথা উচ্চারণ করা ওয়াকফের জন্য শর্ত?

প্রশ্ন : খ) মসজিদের চাঁদার দ্বারা যে ফ্যান, মাইক ইত্যাদি ক্রয় করা হয় তা কি ওয়াকফ হয়ে যাবে?

প্রশ্ন : গ) মসজিদের নারিকেল, আম ইত্যাদি যা অন্যদের কাছে বিক্রি করা হয় তা কি ইমাম-মুয়াযযিনের জন্য বিনামূল্যে খাওয়া জায়েয হবে?

অনুগ্রহপূর্বক উপরের মাসআলাগুলোর সমাধান শরীয়তের বিধান মোতাবেক দিয়ে আমাদের বিবাদ নিরসনে হযরতের সুমর্জি কামনা করছি।


উত্তর

ক) মসজিদে ফ্যানমাইক ইত্যাদি কোনো জিনিস দান করলে তা মসজিদের ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত। এজন্য ওয়াকফ শব্দ উচ্চারণ করা জরুরি নয়।

উত্তর : খ) মসজিদের চাঁদা দিয়ে ফ্যানমাইক ইত্যাদি ক্রয় করলে তা-ও মসজিদের নিজস্ব মালিকানা হিসেবে ধর্তব্য হবে এবং এর উপরও ওয়াকফের হুকুম আরোপিত হবে।

উত্তর : গ) মসজিদের গাছের ফল মসজিদের মালিকানাধীন সম্পদ। যথাসম্ভব এগুলো বিক্রি করে এর মূল্য মসজিদের প্রয়োজনে ব্যয় করতে হবে। এগুলো ইমাম-মুয়াযযিন বা অন্য কারো জন্য মুতাওয়াল্লির অনুমোদন ছাড়া বিনামূল্যে খাওয়া বৈধ হবে না।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪১৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১৩০-১৩১, ৯/১৩৮; রদ্দুল মুহতার ৪/৩৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪১৭; আলইসআফ পৃ. ২২,৫৬

শেয়ার লিংক

সায়েম - হবিগঞ্জ, সিলেট

৩৬০১. প্রশ্ন

 এক ব্যক্তি কসমের কাফফারা আদায় করবে। সে খাবারের মূল্য দিয়ে কাফফারা আদায় করতে চায়। তার নিকটস্থ একজন গরীব ব্যক্তি আছে। তার ইচ্ছা, এই কাফফারার টাকাগুলো দশজনকে না দিয়ে শুধু ঐ গরীব ব্যক্তিকে দিয়ে দিবে। যদি এমনটি করে তবে কি তার কাফফারা আদায় হবে?


উত্তর

কসমের কাফফারার নিয়ম হলদশজন মিসকিনের প্রত্যেককে পূর্ণ তৃপ্তি সহকারে দু’ বেলা খানা খাওয়ানো অথবা প্রত্যেককে এর মূল্য দেওয়া। কাফফারার পুরো টাকা একত্রে এক ব্যক্তিকে দিয়ে দিলে তা আদায় হবে নাবরং পুরো টাকা একজনকে দিতে চাইলে প্রত্যেকের টাকা ভিন্নভাবে দশ দিনে দিতে হবে। একদিনেই কাফফারার পুরো টাকা একজনকে দিয়ে দিলে তা একদিনের বলে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে বাকি নয়দিনের টাকা ভিন্নভাবে আবার আদায় করতে হবে। মোটকথাপুরো টাকা একজনকে দিলে দশ দিনে দিতে হবে। আর দশজনকে দিলে একদিনেই দেওয়া যাবে।

-কিতাবুল আছল ২/২৪৭; আলমাসূত, সারাখসী ৮/১৫৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৭২৫

শেয়ার লিংক

হাবীবুল্লাহ - সিলেট

৩৬০০. প্রশ্ন

বোনের ছেলে খালার দুধ পান করেছে এবং ঐ খালার মেয়ের সাথে দুধ পানকারীর বিবাহ হয়েছে। তাদের বিবাহ বৈধ হয়েছে কি না?


উত্তর

খালার মেয়ের সাথে ঐ ছেলেটির বিবাহ সহীহ হয়নি। কেননা ছেলেটি ঐ খালার দুধ পান করার দ্বারা তার সকল সন্তানাদি এই ছেলের দুধ ভাই-বোন হয়ে গেছে। তাই ঐ খালার কোনো মেয়ের সাথে ছেলেটির বিবাহ জায়েয হবে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,

وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ مِنَ الرَّضَاعَةِ.

(তরজমা) তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে ঐ সকল মাতাগণযারা তোমাদের দুধ পান করিয়েছে এবং (হারাম করা হয়েছে) তোমাদের দুধবোনদের। -সূরা নিসা (৪) : ২৩

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তাদের এখনই পৃথক হয়ে যাওয়া জরুরি এবং এতদিন অবৈধভাবে একসাথে থাকার কারণে উভয়কেই আল্লাহ তাআলার নিকট তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে।

প্রকাশ থাকে যেদুধ ভাই-বোনদের মাঝে বিবাহ যে হারাম তা সুস্পষ্ট বিষয়। শরীয়তের কোনো হুকুম অজানা থাকলে বিজ্ঞ আলেম থেকে জেনে নেওয়া আবশ্যক। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে না জেনেই তাদের বিবাহ-শাদি দিয়ে দেওয়া অন্যায় হয়েছে।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪৪৪; সহীহ বুখারী, হাদীস ২৬৪৬; শরহুল মুসলিম, নববী ১/৪৬৬; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩৯৬; আলবাহরুর রায়েক ৩/২২২; রদ্দুল মুহতার ৩/২১৩

শেয়ার লিংক

অতুল - বাবুনগর, চট্টগ্রাম

৩৫৯৯. প্রশ্ন

বাবার মৃত্যুর পর আমার মা ইদ্দত পালন করছেন না। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে বাসার বাইরে চলে যান। তাকে বললে তিনি শোনেন না। তাই ইদ্দত পালন না করলে কী আযাব এবং জাহান্নামের ভয়াবহতা রয়েছে তা জানতে চাই। যাতে করে আমার মাকে জানালে তিনি সঠিকভাবে ইদ্দত পালন করতে পারেন।


উত্তর

স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে চার মাস দশ দিন স্ত্রীর জন্য নিজ গৃহে ইদ্দত পালন করা শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব বিধান। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদেরকে রেখে যায়উক্ত স্ত্রীগণ নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় রাখবে (ইদ্দত পালন করবে) -সূরা বাকারা (২) : ২৩৪

খুসাইফ রাহ. থেকে বর্ণিততিনি বলেনআমি সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম,যে মহিলার স্বামী মারা গেছে সে (ইদ্দত অবস্থায়) কি ঘর থেকে বের হতে পারবেতিনি বললেন,না। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহাদীস ১৯১৯৮

সুতরাং বিনা ওজরে ঘর থেকে বাইরে যাওয়া জায়েয হবে না। আর শরীয়তের হুকুমের লঙ্ঘন করাই পাপ। আর পাপ বলতেই ঈমানের উন্নতির পথে বাধা এবং আখেরাত ও কবরের যিন্দেগী সুখময় হতে বাধা। মুমিনের জন্য শুধু এতটুকু কথাই কোনো ফরয-ওয়াজিব বিধান পালনের জন্য যথেষ্ট।

অবশ্য জীবিকা কিংবা অন্য কোনো মানবিক প্রয়োজনে দিনের বেলা বাইরে যাওয়ার অবকাশ আছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন শেষ হওয়ার পর আবার বাড়িতে ফিরে আসা জরুরি। আর দিনে কোনো বিশেষ ওজরে বের হলেও রাতে অবশ্যই নিজ গৃহেই অবস্থান করতে হবে।

-ফাতহুল কাদীর ৪/১৬৬-১৬৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২২৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩৬

শেয়ার লিংক

খাদিজা আক্তার - মিরপুর-১৪, ঢাকা

৩৫৯৮. প্রশ্ন

আমার একজন ছোট বোন আছে। এক দেড় বছর আগে তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। ফলে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। অনেক দিন পর তারা আবার একসঙ্গে থাকতে আগ্রহী হয়। তখন আমার স্বামী আমার বোনকে বিয়ে করে এবং তার সঙ্গে রাত যাপন করে। এরপর তাকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। এখন ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আমার বোন তার প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে আর কোনো বাধা আছে কি?


উত্তর

স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিবাহ করা বৈধ নয়। করলেও সে বিবাহ শুদ্ধ হয় না। তাই আপনার স্বামীর সাথে আপনার বোনের বিবাহটি শুদ্ধ হয়নি এবং তার সাথে একত্রে থাকাও হারাম হয়েছে। সুতরাং এগুলোর উপর ভিত্তি করে আপনার বোনের জন্য তার পূর্বের স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াও বৈধ হবে না।

উল্লেখ্যঅত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যেবর্তমানে উম্মতের একটা বড় অংশের মাঝে ইসলামী শিক্ষার চর্চা এতটাই কমে এসেছে যেইসলামের মৌলিক বিধানাবলির জ্ঞানটুকুও অনেক মানুষের থাকে না।

হালাল-হারাম বিষয়ক বিধানাবলি তো ঐসব জরুরিয়াত (অপরিহার্য জ্ঞান)-এর অন্তর্ভুক্তযা অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরয। আর এক বোন বিবাহে থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিবাহ করা যে হারাম তা তো এতই স্পষ্ট মাসআলা যেসকলেরই তা জানা।

মোটকথাএই মারাত্মক গুনাহের কারণে এর সাথে সম্পৃক্ত সকলকেই খাঁটি মনে তাওবা-ইস্তেগফার করা উচিত। এবং দ্বীনী ইলম অর্জন করা ও তা আমলে বাস্তবায়নের জন্য সবাইকেই পুরোপুরি সচেষ্ট হওয়া উচিত। 

- সূরা নিসা (৪) : ২৩; সহীহ বুখারী, হাদীস ৫১০৭; মুখতাসারুত তহাবী ৪/৩৩০; আলমাবসূত, সারাখসী ৬/৯; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৯৬;

শেয়ার লিংক

খুবাইব আহমদ - বোর্ডবাজার, টঙ্গী

৩৫৯৭. প্রশ্ন

কেউ যদি হজ্বের সায়ী ১২ যিলহজ্বের ভিতর আংশিক বা পুরোই আদায় না করে তাহলে তার কী করণীয়? ১২ যিলহজের পর যদি সে তা আদায় করে নেয় তবে কি তার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হবে?


উত্তর

নাহজ্বের সায়ী আংশিক বা পুরোটা ১২ যিলহজ্বের পর আদায় করলেও কোনো জরিমানা আসবে না। কেননা হজ্বের সায়ী ১২ যিলহজ্বের ভেতর করা জরুরি নয়। তবে হজ্বের সায়ীর ক্ষেত্রে সুন্নত হল,তাওয়াফে যিয়ারতের পরপরই তা আদায় করে নেওয়া এবং পুরো সায়ী একসাথে আদায় করা। তাই কোনো ওজর ছাড়া তাওয়াফে যিয়ারতের পর সায়ী করতে বিলম্ব করা অনুত্তম।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৫২; মানাসিক, মুল্লা আলি কারী পৃ. ১৭০, ১৭৯, ৩৫৬

শেয়ার লিংক

আবু তাহমীদ - কুণিপাড়া, ঢাকা

৩৫৯৬. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি রমযানে রোযা রাখার পর বিনা ওজরে একটি রোযা ভেঙ্গে ফেলে। এখন সে বৃদ্ধ। লাগাতার দুই মাস রোযা রেখে কাফফারা আদায় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সে কি টাকা দিয়ে কাফফারা আদায় করতে পারবে? সে ক্ষেত্রে কি লাগাতার ৬০ দিন টাকা দিতে হবে? যদি সপ্তাহে দুজন-তিনজন করে দেয় তাহলে কী হবে?

সম্ভাব্য দ্রুত সময়ে জানানোর অনুরোধ রইল।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির যদি পরবর্তীতেও লাগাতার দু মাস রোযা রাখার সামর্থ্য ফিরে পাওয়ার আশা না থাকে তাহলে সে অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে কাফফারা আদায় করতে পারবে। এজন্য ৬০ জন দরিদ্রকে দু বেলা তৃপ্তি সহকারে আহার করাবে। অথবা ৬০জনের প্রত্যেককে দু বেলা আহারের মূল্য দিয়ে দিবে। (বর্তমানে জনপ্রতি দু বেলা খাবারের মূল্য হিসেবে ১০০/- টাকা করে দেওয়া যেতে পারে।)

এক্ষেত্রে ৬০ জনের টাকা বা ৬০ জনের খাবার ৬০ জনকে যেমন দেওয়া যায় তদ্রূপ ৬০ জনেরটা একজন দুজনকে দেওয়াও বৈধ। তবে শর্ত হলএকদিনে একজনকে একদিনের টাকাই দেওয়া যাবে। দুই তিন দিনের টাকা বা খাবার একসাথে দেওয়া যাবে না। দিলেও সেটা একদিনের জন্যই বিবেচিত হবে।

আর পুরো কাফফারার টাকা একজন দুইজনকে একদিন একদিন করে দেওয়া হোক অথবা ৬০ জনকেই তা দেওয়া হোক সেটা একসাথে বা লাগাতার হওয়া জরুরি নয়। সুতরাং সপ্তাহে দুজন তিনজন করে দিয়ে ৬০ জন পূর্ণ করলেও তা সহীহ হবে। 

-কিতাবুল আছল ২/১৬০-১৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৬, ৪/১০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৭৮-৪৮০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলী আকবর - হেমায়েতপুর, সাভার

৩৫৯৫. প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পাশে ১৯৬৮ সালে আমার দাদিকে কবর দেওয়া হয়। বর্তমানে যথাযথভাবে সুরক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। এখন কবরটিকে ভেঙে তার উপর বসবাসের উদ্দেশ্যে কোনো ঘর নির্মাণ করা বৈধ হবে কি না? দয়া করে জানাবেন।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কবরটি অনেক পুরনো হয়ে যাওয়ার কারণে লাশ মাটি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই যেহেতু প্রবল এবং প্রশ্নের বর্ণনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যেকবরটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় অবস্থিত তাই কবরটিকে সমান করে দিয়ে তার উপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করা এবং সেখানে বসবাস করা জায়েয হবে।

তবে কবরটি যদি ওয়াকফিয়া জায়গায় হত তাহলে পুরাতন হলেও তাতে অন্য কিছু করা জায়েয হত না।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৮৯; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৩; খানিয়া ৩/৩১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৭০-৪৭১

শেয়ার লিংক

আবু আহমাদ - খিলগাঁও, ঢাকা

৩৫৯৪. প্রশ্ন

জানাযার নামাযে তিন কাতার করার হুকুম কী? এটা কি সুন্নত-মুস্তাহাব কিছু বা এতে কি বিশেষ কোনো ফযীলত আছে?


উত্তর

হাদীস শরীফে এসেছেমালেক ইবনে হুবায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেনরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনকোনো মুসলমান মারা যাওয়ার পর তার জানাযায় যদি তিন কাতার মুসলমান শরিক হয় তাহলে তার জন্য (জান্নাত) অবধারিত। সুনানে তিরমিযীসুনানে আবু দাউদসহ বহু হাদীস গ্রন্থে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

রেওয়াতে এটাও আছে যেবর্ণনাকারী মালেক ইবনে হুবায়রা রা. যখন দেখতেন লোক সংখ্যা অল্প তখন তাদেরকে (উপস্থিত লোকদেরকে) তিন কাতার করে দিতেন।

ফকীহগণ এ সংক্রান্ত হাদীসের আলোকে জানাযার নামাযে মুসল্লি সংখ্যা কম হলেও যথাসম্ভব তাদেরকে তিন কাতারে বিভক্ত করে দাঁড় করানো উত্তম বলেছেন। তবে মুসল্লি সংখ্যা অধিক হলে তিনের অধিক কাতারও করা যাবে। এবং এতে সেই ফযীলতও পাওয়া যাবে।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১৫৮; জামে তিরমিযী, হাদীস ১০২৮; শরহুল মুসলিম নববী ৭/১৭; শরহুল মুনইয়াহ ৫৮৮; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৬১৩; আলহাদিয়্যাতুল আলাইয়্যাহ ১২৩

শেয়ার লিংক

খাইরুল বাশার - ঝালকাঠী

৩৫৯৩ . প্রশ্ন

আমি আসরের নামাযে ইমাম সাহেবকে রুকু অবস্থায় পেলাম। তাই তাড়াতাড়ি করে তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাই। রুকুর জন্য ভিন্ন তাকবীর বলিনি। আমার তাকবীরে তাহরীমা কি আদায় হয়েছে? নাকি ঐ নামায পুণরায় পড়তে হবে?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যদি দাঁড়ানো অবস্থায় তাকবীর শেষ করে থাকেন তাহলে ঐ তাকবীরটি তাকবীরে তাহরীমা হিসেবে ধর্তব্য হবে। সেক্ষেত্রে আপনার নামাযও সহীহ গণ্য হবে। আর প্রশ্নোক্ত পরিস্থিতিতে রুকুর তাকবীর না বললেও অসুবিধা নেই। কেননা রুকুর জন্য ভিন্ন তাকবীর বলা জরুরি নয়।

পক্ষান্তরে আপনার তাকবীর যদি রুকুতে গিয়ে শেষ হয় কিংবা রুকুর নিকটবর্তী গিয়ে শেষ হয় তাহলে আপনার ঐ নামায সহীহ হয়নি। কেননা এক্ষেত্রে তাকবীরে তাহরীমা আদায় হয়নি। আর তাকবীরে তাহরীমা ফরয। এটা ছাড়া নামায শুরুই হয় না।

-ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৩৮; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৮০-৪৮১; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ১১৯; আননারুহল ফায়েক ১/১৯৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক - সদর রোড, বরিশাল

৩৫৯২. প্রশ্ন

শেষ বৈঠকে মুকতাদীর দরূদ শরীফ বা দুআ মাসূর শেষ হওয়ার আগেই যদি ইমাম সাহেব সালাম ফিরায় তাহলে মুকতাদীর করণীয় কী? দুআ-দরূদ শেষ করে সালাম ফিরাবে নাকি শেষ করার পূর্বেই ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মুকতাদীর দরূদ শরীফ ও দুআ মাসূর শেষ না হলেও ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরাবে। কেননাদরূদ শরীফ ও দুআ মাসূর পড়া সুন্নত আর ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব। তবে ইমাম সাহেবের উচিত একটু ধীর গতিতে পড়া যাতে মুসল্লিরা দরূদ শরীফ ও দুআ মাসূর শেষ করতে পারে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৫৯; শরহুল মুনইয়াহ ৫২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০

শেয়ার লিংক

সাইফুল ইসলাম - বাগেরহাট

৩৫৯১ . প্রশ্ন

 

ফজরের নামাযের পর কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করছিলাম। তিলাওয়াতের মাঝে সিজদার আয়াত এলে সঙ্গে সঙ্গে সিজদা দেইনি। তিলাওয়াত শেষ করে সিজদা আদায় করি। পরে ক্যালেন্ডার দেখে জানতে পারি যে, তেলাওয়াতটি সূর্যোদয়ের আগে হলেও সিজদাটি সূর্যোদয়ের সময় আদায় হয়েছে। আমার প্রশ্ন হল, আমার সিজদাটি কি আদায় হয়েছে নাকি পরে আবার তা আদায় করতে হবে?


 

উত্তর

মাকরূহ ওয়াক্তের আগে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে মাকরূহ ওয়াক্তে সিজদা দিলে তা সহীহ হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত সিজদাটি আদায় হয়নি। তা পুণরায় আদায় করে নিতে হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ১/২৫০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ১০০; শরহুল মুনইয়াহ ২৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৭৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৫৭

শেয়ার লিংক

সফিউল্লাহ - বি.বাড়িয়া

৩৫৯০. প্রশ্ন

দুই ব্যক্তি যখন জামাতে নামায আদায় করে তখন মুকতাদি ইমামের ডান পাশে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে যদি মুকতাদি লম্বা হওয়ার কারণে মুক্তাদির সিজদা ইমামের আগে চলে যায় তাহলে কি মুকতাদির নামায ফাসেদ হয়ে যাবে?


উত্তর

মুকতাদির পায়ের গোড়ালি ইমামের পায়ের গোড়ালির আগে বেড়ে না গেলে মুকতাদির নামায ফাসেদ হবে না। অতএব দাঁড়ানো অবস্থায় পা ঠিক থাকলে মুকতাদি লম্বা হওয়ার কারণে সিজদায় তার মাথা ইমামের আগে চলে গেলেও কোনো সমস্যা হবে না।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১/৪৩; শরহুল মুনইয়াহ ৫২০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৯১

শেয়ার লিংক

আবদুল আলীম - নেত্রকোণা

৩৫৮৯. প্রশ্ন

আমরা কয়েকজন মিলে একটি মেসে ভাড়া থাকি। একদিন আমাদের ঘুম থেকে উঠতে বিলম্ব হয়। ফলে সকলেরই ফজরের নামায কাযা হয়ে যায়। তখন আমরা ঐ নামায জামাতের সাথে আদায় করি। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের জন্য কাযা নামায জামাতের সাথে পড়া কি ঠিক হয়েছে? এবং এক্ষেত্রে কিরাত জোরে পড়তে হবে কি?


উত্তর

জী হাঁ। জামাতের সাথে কাযা পড়া ঠিক হয়েছে। একসাথে একাধিক ব্যক্তির নামায কাযা হয়ে গেলে জামাতের সাথেই কাযা পড়া উচিত। আর কাযা নামায জামাতের সাথে আদায় করলে উচ্চস্বরে কিরাতবিশিষ্ট নামাযে ইমামকে উচ্চস্বরেই কিরাত পড়তে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে যে,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে নিয়ে সূর্যোদয়ের পর ফজরের কাযা আদায় করেছেন এবং তাতে উচ্চস্বরে কিরাত পড়েছেন। -কিতাবুল আছারইমাম মুহাম্মাদ রহ. হাদীস ১৬৮

উল্লেখ্য যেকাযা নামাযের জামাত করলে তা নির্জন স্থানে করা উচিত। যেন অন্য লোকজন নামায কাযা হওয়ার বিষয়টি জানতে না পারে।

-ফাতহুল কাদীর ১/১৮৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৩৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলী - গেণ্ডারিয়া, ঢাকা

৩৫৮৮. প্রশ্ন

অন্ধ ব্যক্তিকে মসজিদের মুয়াযযিন বানানো যাবে কি না?


উত্তর

অন্ধ ব্যক্তি যদি সহীহ-শুদ্ধভাবে ও যথাসময়ে আযান দিতে পারে অর্থাৎ তাকে নামাযের সময় বলে দেওয়ার মতো লোকের ব্যবস্থা থাকে তাহলে এমন লোককে মুয়াযযিন বানাতে কোনো সমস্যা নেই।

হাদীস শরীফে এসেছে যেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুইজন মুয়াযযিন ছিলেন। বেলাল রা. ও আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম রা. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম রা. ছিলেন দৃষ্টিহীন। 

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩৮০; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৯২

শেয়ার লিংক

যোবায়ের আহমদ - নওগাঁ

৩৫৮৭. প্রশ্ন

ইমাম সাহেব ফজরের নামায শুরু করেছেন। আমি গিয়ে মসজিদের বারান্দায় সুন্নত পড়া আরম্ভ করি। একপর্যায়ে ইমাম সাহেব সিজদার আয়াত পাঠ করেন এবং সিজদা দিয়ে দেন। এরপর আমি ইমাম সাহেবের সাথে প্রথম রাকাতের রুকুতে শরিক হই। আমার প্রশ্ন হল, আমি তো সিজদার আয়াত শুনেছি। কিন্তু ইমাম সাহেবের সাথে সিজদায় শরিক হতে পারিনি। এখন আমার করণীয় কী? আলাদাভাবে ঐ সিজদা আদায় করা কি আমার উপর ওয়াজিব?


উত্তর

নাপ্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনাকে আলাদাভাবে ঐ সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করতে হবে না। কেননা যে রাকাতে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে সে রাকাতের রুকুতে শরিক হওয়ার কারণে ইমামের কেরাত এবং সিজদা সবই পেয়েছেন বলে ধর্তব্য হবে। তবে যে রাকাতে সিজদার আয়াত পাঠ করা হয়েছে এবং সিজদা দেওয়া হয়েছে ঐ রাকাতের রুকুতে যদি শরিক না হতেন তাহলে নামাযের পর আপনাকে পৃথকভাবে ঐ সিজদা আদায় করে নিতে হত। 

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৭৫; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ১/৪৬৯; শরহুল মুনইয়াহ ৫০১

শেয়ার লিংক

শহীদুল ইসলাম - নদ্দা, ঢাকা

৩৫৮৬. প্রশ্ন

নামাযের সময় চোখ খোলা রাখলে আমার দৃষ্টি এদিক-ওদিক চলে যায়। যখন যেখানে দৃষ্টি থাকা দরকার সেখানে থাকে না। এজন্য অনেক সময় চোখ বন্ধ করে রাখি। এটা আমার মনোযোগ বৃদ্ধিতেও সহায়ক হয়। এ অবস্থায় চোখ বন্ধ রাখাটাই কি আমার জন্য উত্তম? নাকি এর পরও চোখ খোলাই রাখব?


উত্তর

নামাযে চোখ খোলা রাখা এবং দাঁড়ানো অবস্থায় সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা সুন্নত। নামাযে অধিকাংশ সময় চোখ বন্ধ রাখা সুন্নতের খেলাফ। হাদীস শরীফে এসেছেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দাঁড়ানো অবস্থায়) সিজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখতেন। (দেখুন : তাফসীরে তবারী ৯/১৯৭)

অন্য বর্ণনায় এসেছেতোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায় সে যেন চোখ বন্ধ না রাখে।-আলমুজামুল কাবীবহাদীস ১০৯৫৬ইলাউস সুনান ৫/১২১

সুতরাং চোখ খুলেই নামায পড়তে হবে এবং দৃষ্টিকে সিজদার স্থানে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

অবশ্য কারো অবস্থা যদি এমন হয় যেনামাযে তার দৃষ্টি খুব বেশি এদিক সেদিক চলে যায় তাহলে সে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা পর্যন্ত মাঝেমধ্যে চোখ বন্ধ রাখতে পারবে। প্রখ্যাত তাবেয়ী ইবনে সিরীন রাহ. বলেননামাযে যার চোখ বেশি এদিক-সেদিক চলে যায় তাকে চোখ বন্ধ রাখার অনুমতি দেওয়া হত। -মুসান্নাফ আবদুর রাযযাকহাদীস ৩৩৩০

তবে ধীরে ধীরে চোখ খোলা রেখে একাগ্রতার সঙ্গে নামায পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪১১; হালবাতুল মুজাল্লী ২/২৫৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহমুদুল হাসান ইমারত - নবাবগঞ্জ, ঢাকা

৩৫৮৫. প্রশ্ন

এ রমযানে আমরা তিনজন মিলে তারাবীর নামায পড়েছি। প্রতিদিন পাঁচ-ছয় পারা তিলাওয়াত করা হত। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর বিধায় কিছুক্ষণ এক পায়ে আবার কিছুক্ষণ অন্য পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতাম। জানার বিষয় হল, নামাযে এভাবে দাঁড়ানো কি মাকরূহ?


উত্তর

স্বাভাবিক অবস্থায় নামাযে উভয় পায়ের উপর সমান ভর দিয়ে দাঁড়ানোই সুন্নত। বিশেষত ফরয ওয়াজিব নামাযে এর গুরুত্ব আরো বেশি। তবে অনেক দীর্ঘ কেরাত পড়া হলে কিংবা মাজুর হওয়ার কারণে উভয় পায়ের উপর সমান ভর দিয়ে দাঁড়ানো কষ্টকর হলে এক পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ানো যাবে।

তবে নামাযে একবার ডান দিকে আবার বাম দিকে ঢুলতে থাকা বা লাগাতার পা পরিবর্তন করতে থাকা মাকরূহ। কেননা তা একাগ্রতা ও স্থীরতা পরিপন্থী। তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেনতোমরা নামাযে স্থীর থাক। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাকহাদীস ৩৩০৫

হযরত আতা রাহ. বলেনআমি এটাই পছন্দ করি যেনামাযে নড়াচড়া কম করা হবে এবং উভয় পায়ে সমান ভর দিয়ে দাঁড়ানো হবে। তবে যদি কেউ বয়োঃবৃদ্ধ হয় এবং উভয় পায়ে সমান ভর দিতে না পারে (তবে তার হুকুম ভিন্ন) আর কিয়াম দীর্ঘ হলে তো কিছুক্ষণ এক পায়ে আবার কিছুক্ষণ অন্য পায়ে ভর দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৩৩০১; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ১৪৩; ইলাউস সুনান ৫/১৪৯; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ২/৩৯০-৩৯১; শরহু মাআনিল আছার ১/১৬৬; হালবাতুল মুজাল্লী ২/২৭৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন - কালিদহ, লস্করহাট, ফেনী

৩৫৮৪ . প্রশ্ন

আমাদের ইমাম সাহেব কেরাত শেষ করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর রুকু করেন। একদিন ইমাম সাহেব কেরাত শেষ করার সাথে সাথে আমি রুকুতে চলে যাই। তবে ইমামের সাথেই রুকু আদায় করেছি। এখন আমার জানার বিষয় হল, ইমামের আগে রুকুতে চলে যাওয়ার কারণে আমার নামাযের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি? আমার ঐ নামায আদায় হয়েছে কি?


উত্তর

ইমামের আগে রুকুতে চলে যাওয়ার কারণে মাকরূহ তাহরীমী হয়েছে।

তবে ইমামের আগে রুকুতে চলে গেলেও ইমামের সাথে যেহেতু রুকু আদায় করেছেন তাই আপনার নামায আদায় হয়ে গেছে।

প্রকাশ থাকে যেইমামের আগে রুকু-সিজদা করা বা রুকু সিজদা থেকে উঠা গুনাহ। এ ব্যাপারে হাদীসে অনেক বড় ধমকি এসেছে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিততিনি বলেননবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনতোমাদের কেউ যখন তার মাথাকে ইমামের আগে (সিজদা থেকে) উঠিয়ে নেয় তখন সে কী ভয় করে না যেআল্লাহ তাআলা তার মাথাকে গাধার মাথার ন্যায় করে দিবেন! অথবা তিনি বলেছেনতার আকৃতিকে গাধার আকৃতির ন্যায় করে দিবেন? -সহীহ বুখারীহাদীস ৬৯১

আবু হুরায়রা রা. বলেনযে ব্যক্তি ইমামের আগে রুকু-সিজদা করে বা রুকু-সিজদা থেকে মাথা উঠায় তার কপাল শয়তানের হাতে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাকহাদীস ৩৭৫৩

অতএব এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা কর্তব্য। মুকতাদীগণ সর্বদা ইমামের তাকবীরের অনুসরণ করবে। তাহলেই এ ধরনের ভুল থেকে বিরত থাকা সম্ভব হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৭; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২৪৮

শেয়ার লিংক

আবু হুরায়রা - মা-া, ঢাকা

৩৫৮৩. প্রশ্ন

সফর থেকে বাড়িতে আসি। যোহরের সময় তখনও আধা ঘণ্টার মতো বাকি ছিল। ক্লান্তির দরুণ নামাযের কথা ভুলে যাই। হঠাৎ আসরের আযান শুনি। প্রশ্ন হল, উক্ত যোহরের কাযা কি আমাকে চার রাকাত পড়তে হবে, নাকি দুই রাকাত? জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত যোহর নামাযের কাযা চার রাকাতই আদায় করতে হবে। কেননা ওয়াক্তের শেষে আপনি মুকীম ছিলেন। তখন পুরো চার রাকাতই পড়া জরুরি ছিল। তাই আদায় করতে হবে পুরো চার রাকাতই।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৭; অদদুররুল মুখতার ২/১৩১; শরহুল মুনইয়াহ ৫৪৪

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - মিরপুর, ঢাকা

৩৫৮২. প্রশ্ন

আমি বর্তমানে অসুস্থ। দাঁড়িয়ে রুকু সিজদা করে নামায পড়তে পারি না। বসে ইশারায় নামায পড়ি। সুস্থতার সময় আমার কিছু নামায কাযা হয়ে গিয়েছিল। আমি জানতে চাচ্ছি যে, ঐ নামাযগুলো এখন এ অবস্থায় কাযা করলে তা আদায় হবে? জানালে উপকৃত হব।


উত্তর

জীসুস্থ অবস্থার কাযা নামায অসুস্থ অবস্থায়ও আদায় করা যায়। তাই এখন যেভাবে সম্ভব সেভাবে আদায় করতে পারবেন। এতেই কাযা আদায় হয়ে যাবে। 

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫১৯; মারাকিল ফালাহ ২৩৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩৫

শেয়ার লিংক

ওযায়ের - উলুপাড়া, কুমিল্লা

৩৫৮১. প্রশ্ন

আমরা জানি যে, ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পর ফজরের সুন্নত ব্যতীত অন্য নফল নামায পড়া যায় না। আমি জানতে চাচ্ছি যে, পিছনের জীবনের কাযা নামায তখন পড়া যাবে কি না?


উত্তর

জীফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পর ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ব্যতীত কোনো নফল নামায পড়া মাকরূহ। তবে এ সময়ে কাযা নামায পড়া যাবে।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭২৩; কিতাবুল আছল ১/১২৬; হালবাতুল মুজাল্লী ১/৬৫২-৬৫৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৫; শরহুল মুনইয়াহ ২৩৮

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement