মুহাম্মাদ মোশাররফ হুসাইন - বাঁশখালী, চট্টগ্রাম

২৩৪৩. প্রশ্ন

বিয়ের পর খেজুর ছিটানো কি সুন্নত? মসজিদে বিয়ে হলে এক্ষেত্রে

কি হুকুম?


 

উত্তর

বিয়ের আকদের পর খেজুর বা মিষ্টান্ন বিতরণ করার কথা কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায় এবং তা ছিটিয়ে দেওয়ারও অবকাশ আছে। যদিও ছিটিয়ে দেওয়ার আলাদা কোনো ফযীলত বা ছওয়াব নেই।

বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বসরী রাহ. এবং প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত শাবী রাহ. বিয়ের আকদের মজলিসে খেজুর বা মিষ্টান্ন জাতীয় জিনিস ছিটানোর অনুমতি দিতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১১/৯৮-১০০)

উল্লেখ্য, এ সংক্রান্ত আরো কিছু রেওয়ায়েত আছে, যেগুলো মুনকার, যা দলিলযোগ্য নয়। আর মসজিদে বিয়ে হলে খেজুর ছিটিয়ে না দেওয়াই উচিত। কেননা, এতে ক্ষেত্র বিশেষে হৈ চৈ, কাড়াকাড়ির কারণে মসজিদের আদব ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং মসজিদ ময়লাও হয়ে যেতে পারে।

-শরহু মাআনিল আছার, তহাবী ২/৩০-১; মুসনাদে আহমদ ৪/৩৫, হাদীস : ১৮৯৭৬; ফাতাওয়া সিরাজিয়াহ ৭৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৫৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৫৬; আলআওসাত ৮/৭৫৫; রওযাতুত তালিবীন ৭/৩৪২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমজাদ হুসাইন - সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম

২৩৪২. প্রশ্ন

আবদুল করীমের মা মারা গেলে তার পিতা এক বিধবা মহিলাকে বিবাহ করে। ঐ মহিলাটির পূর্বের স্বামী থেকে একটি মেয়ে ছিল, সেও এখন থেকে মায়ের সাথে বাড়িতে থাকে, মেয়েটি বড় হলে আবদুল করীম তাকে বিবাহ করতে চায়। এলাকার সাধারণ জনগণ বলল, তুমি তাকে কিভাবে বিবাহ করবে? সে তো তোমার সৎ বোন। জনগণের বাধা দেওয়া সত্ত্বেও আবদুল করীম ঐ মেয়েটিকে বিবাহ করে ঘর সংসার করছে।

এখন আমার জানার বিষয় হল, আবদুল করীম ও তার সৎ বোনের (সৎ মায়ের পূর্বের স্বামীর মেয়ে) মাঝে বিবাহ সহীহ হয়েছে কি না এবং বর্তমান ঘর সংসার করার কারণে তারা গুনাহগার হচ্ছে কি না? উল্লেখ্য, আবদুল করীমও ঐ মেয়েটির মাঝে কোনো দুধ সম্পর্কও নেই।


উত্তর

 প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ মেয়েটির সাথে আবদুল কারীমের বিবাহ সহীহ হয়েছে। কারণ উভয়ের বাবা-মা ভিন্ন এবং তাদের মাঝে রক্তের সম্পর্ক নেই।

-সূরা নিসা : ২৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৩২; আলমুগনী ৯/৫২৫; তানকীহুল ফাতাওয়া হামীদিয়া ১/১৬; ইমদাদুল আহকাম ২/২৫১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদুল্লাহ - কাওরান বাজার, ঢাকা

২৩৪১. প্রশ্ন

 

সৎমায়ের আপন বোনকে (খালাকে) বিবাহ করা জায়েয আছে কি?


 

উত্তর

হ্যাঁ, সৎ মায়ের বোনকে বিবাহ করা জায়েয আছে। কেননা, তারা পরস্পর মাহরাম নয়।

-সূরা নিসা : ৩৪; তাফসীরে তাবারী ৪/১২; ইমদাদুল আহকাম ২/২৪৭; মাজমুআতুল ফাতাওয়া লাখনভী ২/২৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ উম্মে ইসতিয়াক - মিরপুর-১০, ঢাকা

২৩৪০. প্রশ্ন

 

আমি ইহরাম অবস্থায় এমন একটি কাজ করেছি, যার কারণে দম ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু তখন অর্থ সংকটের কারণে তা আদায় করতে পারিনি। এ অবস্থায় দেশে চলে এসেছি। দম না দিয়ে দেশে চলে আসার কারণে কি আমার গুনাহ হয়েছে? এখন আমি কী করতে পারি?


 

 

উত্তর

দম আদায় না করে দেশে এসে যাওয়ার কারণে গুনাহ হয়নি। কেননা, জরিমানা দম বিলম্বে আদায় করারও অবকাশ আছে। তবে কোনো ওজর না থাকলে দম আদায়ে বিলম্ব না করাই উত্তম।

স্মর্তব্য, হজ্ব ও উমরার দম হেরেমের এলাকায় যবেহ করা জরুরি। হেরেমের বাইরে যবাই করলে তা দ্বারা দম আদায় হবে না। তাই নিজে কিংবা অন্য কারো মাধ্যমে সেখানেই যবাই করার মাধ্যমে দম আদায় করতে হবে।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/৬৯১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৬৫; মানাসিক ৩৮৪, ৩৯২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৯৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - রামপুরা, ঢাকা

২৩৩৯. প্রশ্ন

জনৈক মহিলা তাওয়াফ করার পর তার ঋতুস্রাব শুরু হয়ে যায়। ফলে সে এ অবস্থায় সাঈ করে নেয়। জানার বিষয় হল, তার সাঈ কি আদায় হয়েছে? সাঈর জন্য কি হায়েয থেকে পবিত্র হওয়া শর্ত?


উত্তর

ঐ মহিলার সাঈ আদায় হয়ে গেছে। কেননা, সাঈর জন্য হায়েয থেকে পবিত্র হওয়া শর্ত নয়। নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এসেছে, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. ও উম্মে সালামা রা. বলতেন, কোনো মহিলার বাইতুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ এবং তৎপরবর্তী দু রাকাত নামায আদায় করার পর ঋতুস্রাব শুরু হয়ে গেলে সে যেন সাফা-মারওয়া সাঈ করে নেয়। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/৪৪১)

বিশিষ্ট সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. এবং অনেক জলীলুল কদর তাবেয়ীগণ এই মত পোষণ করেছেন।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/৪৪১; মাবসূত, সারাখসী ৪/৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১৯

শেয়ার লিংক

ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান - সাতক্ষিরা

২৩৩৮. প্রশ্ন

আমরা জানি, তাওয়াফ অবস্থায় অযু চলে গেলে অযু করে এসে সাত চক্করের অবশিষ্ট চক্কর দিলেই তাওয়াফ পূর্ণ হয়ে যায়। পুনরায় পুরো সাত চক্কর দিতে হয় না। সেদিন একজন বললেন, তাওয়াফ শুরুর প্রথম তিন চক্করের মধ্যে অযু চলে গেলে অযু করে এসে পুরো সাত চক্কর দিতে হবে। মাসআলা কী জানাতে অনুরোধ করছি।


উত্তর

তাওয়াফের তিন চক্কর বা এর কম আদায়ের পর অযু নষ্ট হয়ে গেলে অযু করে এসে পুনরায় শুরু থেকে সাত চক্কর পূর্ণ করা মুস্তাহাব। তবে এক্ষেত্রে অযু করে আসার পর অবশিষ্ট চক্করগুলো করে নিলেও তাওয়াফ আদায় হয়ে যাবে।

আর তাওয়াফের চার চক্কর বা এর বেশি আদায়ের পর অযু নষ্ট হলে উত্তম হল, অযু করে এসে পুনরায় প্রথম থেকে চক্কর শুরু না করে শুধু অবশিষ্ট চক্করগুলো আদায় করা। তবে এক্ষেত্রেও কেউ যদি পুনরায় প্রথম থেকে সাত চক্করই পূর্ণ করে তাহলে সেটিও সহীহ হবে।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি যদি বিষয়টিকে মুস্তাহাব হিসেবে উল্লেখ করে থাকে তাহলে তার কথা ঠিক আছে।

-সহীহ বুখারী ১/২২০; ফাতহুল বারী ৩/৫৬৫; কিতাবুল আসল ২/৪০৩; মাবসূত, সারাখসী ৪/৪৮; ফাতহুল কাদীর ২/৩৮৯; আলবাহরুল আমীক ২/১১৫৭; গুনইয়াতুন নাসিক ১২৭

শেয়ার লিংক

হাফেয আসআদুদ্দীন - কানাইঘাট, সিলেট

২৩৩৭. প্রশ্ন

খালেদের বয়স ২৫ বছর। তার প্রয়োজন অতিরিক্ত কোনো সম্পদ নেই তার ওপর হজ্ব ফরয নয়। তার পিতা অনেক সম্পদশালী। বিগত বছর তিনি ছেলে খালেদকে নিয়ে হজ্বে যান এবং খালেদের হজ্ব বাবদ যত টাকা ব্যয় হয়েছে তা তিনি নিজ হাতেই খরচ করেন। ঐ টাকা খালেদের হাতে দিয়ে তাকে এর মালিক বানিয়ে দেননি।

এখন জানার বিষয় হল, এভাবে হজ্ব করার দ্বারা কি খালেদের ফরয হজ্ব আদায় হয়েছে? নাকি এক্ষেত্রে ফরয হজ্ব আদায় হওয়ার জন্য তাকে ঐ টাকার মালিক বানিয়ে দেওয়া জরুরি?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে খালেদ হজ্ব করার সময় নফল হজ্বের নিয়ত না করে থাকলে সেটি তার ফরয হজ্ব হিসেবেই আদায় হয়েছে। কেননা, ফরয আদায়ের জন্য হজ্বের খরচের মালিক হওয়া শর্ত নয়।

সুতরাং পরবর্তীতে সামর্থবান হলেও পুনরায় হজ্ব করা তার উপর ফরয হবে না।

-শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৪৯৮; ফাতহুল কাদীর ২/৩২৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৪; মানাসিক ৪১; গুনইয়াতুন নাসিক ৩০-৩২; ইমদাদুল আহকাম ২/১৫৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হামীদুল্লাহ - হবিগঞ্জ, সিলেট

২৩৩৬. প্রশ্ন

করীম সাহেবের ওপর হজ্ব ফরয। অনেক দিন থেকে তিনি খুব অসুস্থ। যার কারণে তিনি নিজে হজ্ব করতে পারছেন না। তাই তিনি আরেক ব্যক্তিকে নিজের পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করার জন্য পাঠান। তিনি ঐ ব্যক্তিকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, যেন সে ইফরাদ হজ্ব করে। এখন ঐ ব্যক্তির জন্য তামাত্তু হজ্ব করার কি অনুমতি আছে?


 

উত্তর

না। ঐ ব্যক্তির জন্য হজ্বে প্রেরণকারী ব্যক্তির নির্দেশ অমান্য করে তামাত্তু হজ্ব করার অনুমতি নেই। বরং তাকে ইফরাদ হজ্বই করতে হবে।

-কিতাবুল আসল ২/৫০৬; মাবসূত, সারাখসী ৪/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩১০; আলবাহরুল আমীক ৪/২৩২৯; মানাসিক ৪৪৫

শেয়ার লিংক

সিরাজুল ইসলাম - নাটোর

২৩৩৫. প্রশ্ন

কেউ যদি একটি গরুতে একভাগ আকীকা আর বাকি অংশ কুরবানীর নিয়তে কুরবানী করে তবে তার আকীকা ও কুরবানী আদায় হবে কি না?


উত্তর

হ্যাঁ, গরু, উট, মহিষে সাত ভাগের এক ভাগ আকীকা ও বাকি অংশ কুরবানীর নিয়ত করলে আকীকা ও কুরবানী দুটোই আদায় হয়ে যাবে।

-রদ্দুল মুহতার ২/৫৪৩, ৬/৩২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০৪; ইমদাদুল আহকাম ৪/২৮২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মা’সুম বিল্লাহ - মিরপুর

২৩৩৪. প্রশ্ন

 

কুরবানীর পশুর চামড়া বা এর টাকা পাওয়ার প্রকৃত হকদার কারা?

 

 

উত্তর

কুরবানীর পশুর চামড়ার মালিক কুরবানীদাতা। সে ইচ্ছা করলে তা ব্যবহারও করতে পারে। সে যদি চামড়াটি দান করে দিতে চায় তবে বিক্রি না করে আস্ত দান করাই উত্তম। বিক্রি করলে এর মূল্যের হকদার হয়ে যায় ফকীর-মিসকীন তথা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত লোকজন। আর এদের মধ্যে আত্মীয়-স্বজনও দ্বীনদারগণ অগ্রাধিকারযোগ্য।

-রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৮-৯; শরহুল কানয, বদরুদ্দীন আইনী ২/২০৬

শেয়ার লিংক

আবদুল মালেক - মোমেনশাহী

২৩৩২. প্রশ্ন

 

কুরবানীর গরু কিনতে গেলে দেখা যায়, লোকেরা গরুর দাঁত দেখে। যদি বিশেষ দুটি দাঁত উঠে তাহলে পছন্দ হলে কেনে, অন্যথায় ঐ গরু কেনে না। তারা মনে করে, বিশেষ দুই দাঁত না উঠলে সেই গরু দিয়ে কুরবানী করা যায় না।

এখন আমার জানার বিষয় হল, গরু কুরবানীর উপযুক্ত হওয়ার জন্য দুটি দাঁত উঠা কি জরুরি? আর যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায়, কোনো একটি গরুর দুই বছর হয়েছে, কিন্তু এখনও বিশেষ দুটি দাঁত উঠেনি তাহলে তা দিয়ে কুরবানী করলে সহীহ হবে কি না?


 

 

উত্তর

গরু কুরবানীর উপযুক্ত হওয়ার জন্য দুই বছর পূর্ণ হওয়া জরুরি। বিশেষ দাঁত উঠা জরুরি নয়। তবে যেহেতু বিশেষ দুটি দাঁত দুই বছর বয়স পূর্ণ হলেই উঠে থাকে তাই সাধারণত দুই দাঁত উঠাকে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আলামত মনে করা হয়। এ কারণেই মানুষ কুরবানীর পশু কিনতে গেলে তা পরীক্ষা করে। এতে আপত্তির কিছু নেই। তবে যদি কোনো গরুর ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, দুই বছর পূর্ণ হলেও এখনও বিশেষ দুটি দাঁত উঠেনি তাহলে সেই গরু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে।

-সহীহ মুসলিম ২/১৫৫; বাযলুল মাজহূদ ১৩/১৮; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/৬১১-১৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আরমান - তাতীবাজার

২৩৩১. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কিছু হিন্দু পড়শী আছে, যারা কুরবানীর গোশত নিতে চায়। তাদেরকে কুরবানীর গোশত দেওয়া যাবে কি না?


উত্তর

হ্যাঁ, হিন্দু বা অন্যান্য বিধর্মীকেও কুরবানীর গোশত দেওয়া জায়েয। হাসান বসরী রাহ. ও ফকীহ ইবরাহীম ইবনে খালেদ আবু ছাওর রাহ. বিধর্মীকে কুরবানীর গোশত দেওয়া জায়েয বলেছেন।

-ফিকহুল ইমাম আবু ছাওর ৪০২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০

শেয়ার লিংক

আমীনুল ইসলাম - নারায়ণগঞ্জ

২৩৩০. প্রশ্ন

শুনেছি, যিনি কুরবানী করবেন তার জন্য যিলহজ্বের ১লা তারিখ থেকে কুরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত নখ, চুল না কাটা মুস্তাহাব। কথাটি কি সঠিক? হাদীসে কি এ ধরনের কথা আছে?


উত্তর

হ্যাঁ, কুরবানীকারীর জন্য ১লা যিলহজ্ব থেকে পশু কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত নখ, চুল না কাটার কথা হাদীসে এসেছে।

হযরত উম্মে সালামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরবানী করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যেন যিলহজ্বের প্রথম দিন থেকে কুরবানী করার আগ পর্যন্ত নখ, চুল না কাটে। (সহীহ মুসলিম ২/১৬০; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৫২৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৭৯১)

উল্লেখ্য, এই বিধান তখনি প্রযোজ্য হবে যখন অবাঞ্ছিত পশম ও নখ না কাটার সময় ৪০ দিন থেকে বেশি না হয়। কেননা, সহীহ হাদীসে আছে, আনাস রা. বলেন, গোঁফ কর্তন করা, নখ কাটা, বগল পরিষ্কার করা ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করার বিষয়ে আমাদের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল যে, আমরা যেন ৪০ দিনের বেশি বিলম্ব না করি।

-সহীহ মুসলিম ১/১২৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ২৮৭; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৪৯৬

শেয়ার লিংক

ডা. মুহাম্মাদ আবদুল মান্নান - হবিগঞ্জ, মালঞ্চ

২৩২৯. প্রশ্ন

 

বাজারে কুরবানীর গরু কিনতে গেলে দেখা যায়, কোনো কোনো গরুর জন্মগতভাবেই শিং থাকে না, তবে কুরবানীর বয়স হয়েছে। কোনো কোনো গরুর শিং-এর অগ্রভাগ ভাঙ্গা থাকে। জানার বিষয় হল, এ দু ধরনের গরু দ্বারা কুরবানী করলে তা সহীহ হবে কি না?


 

উত্তর

যে পশুর শিং ওঠেনি সে পশু দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। কুরবানী সহীহ হওয়ার জন্য শিং থাকা জরুরি নয়। তদ্রূপ যে পশুর শিংয়ের অগ্রভাগ ভেঙ্গে গেছে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। হুজ্জিয়াহ ইবনে আদী বলেন, আমি আলী রা.কে জিজ্ঞাসা করলাম, শিং ভাঙ্গা পশু দ্বারা কুরবানী করার বিধান কী? তিনি বললেন, এতে অসুবিধা নেই।

-জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৫০৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ অহীদুর রহমান - সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা

২৩২৮. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি রোযা অবস্থায় চোখে ওষুধ লাগিয়েছে। এ কারণে তার রোযার কোনো ক্ষতি হয়েছে কি?


 

উত্তর

না, চোখে ওষুধ দিলে রোযার ক্ষতি হয় না। এক্ষেত্রে ওষুধের স্বাদ গলায় অনুভূত হলেও রোযা নষ্ট হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৪; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫

শেয়ার লিংক

মফীজুদ্দীন সরকার - শিয়ালবাড়ি, মিরপুর

২৩২৭. প্রশ্ন

 

কোনো কোনো এলাকায় দেখা যায়, রমযানের শেষ দশ দিনে এলাকাবাসী  কেউ এতেকাফ না করলে অন্য এলাকা থেকে কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে খানা ও পারিশ্রমিক দিয়ে এতেকাফ করানো হয়।

প্রশ্ন হল, ক) এরূপ করলে এলাকাবাসী সুন্নত তরকের গুনাহ থেকে বাঁচতে পারবে কি না?

খ) ঐ ব্যক্তির জন্য এতেকাফকালীন দিনগুলোর পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয হবে কি না?


 

 

উত্তর

ক) রমযান মাসের শেষ দশ দিন এতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়াহ। যদি কোনো মসজিদে এক জনও ইতেকাফে বসে তাহলে এলাকাবাসী সুন্নত তরকের গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে। আর যদি একজনও এতেকাফ না করে তাহলে ঐ এলাকার সকলেই গুনাহগার হবে।

খ) এতেকাফ একটি ইবাদত, যা বিনিময়যোগ্য নয়। তাই এতেকাফের জন্য পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয নয়। কাউকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এতেকাফ করালে সে এতেকাফ সহীহ হবে না। অতএব এ জাতীয় এতেকাফ দ্বারা এলাকাবাসী দায়িত্বমুক্ত হতে পারবে না।

-হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ২/৩০৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৭; ইলাউস সুনান ১৬/১৭২-৭৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৫

শেয়ার লিংক

হাফেয মুহাম্মাদ মোজাহিদ - আলমপুর, হবিগঞ্জ

২৩২৬. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কবরে লাশ রেখে প্রায় ২ হাত উঁচুতে বাঁশ দেওয়া হয়। লোকদের ধারণা, সওয়াল-জওয়াবের জন্য মুর্দাকে যখন বসানো হবে তখন বসতে গিয়ে যেন মাথা বাঁশে না লাগে। ভালোভাবে যেন বসতে পারে। আর গভীরতার ক্ষেত্রে কেউ বেশি গভীর করে কেউ কম। তাই জানতে চাই, ক) কবরের গভীরতার পরিমাণ কতটুকু হওয়া উচিত? খ) মুর্দা বসতে পারে এ পরিমাণ কবরে ফাঁকা রাখা ঠিক কি না?


উত্তর

ক) কবরের গভীরতা এ পরিমাণ হওয়া উচিত যেন লাশের দুর্গন্ধ না ছড়াং এবং হিংস্র পশুর আক্রমণ থেকেও লাশ হেফাযত থাকে। তাই অন্তত কোমর পরিমাণ গভীর করা উচিত। সম্ভব হলে পূর্ণ দেহ পরিমাণ গভীর করা উত্তম। খলীফাতুল মুসলিমীন উমর রা. ইন্তেকালের আগে তাঁর কবর একজন মানুষের দেহের দৈর্ঘ্য পরিমাণ গভীর করার অসিয়ত করেছিলেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৭/৩২৪)

খ) কবরে শায়িত ব্যক্তিকে বসানো, সওয়াল-জওয়াব করা এসব বরযখ নামক এক অদৃশ্য জগতে হবে। কাফন-দাফনের বিধানাবলির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই বরযখে মাইয়্যিত কিভাবে বসবে, ফেরেশতারা কোথায় থাকবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমাদের ভাবার প্রয়োজন নেই। আল্লাহর হুকুম ও কুদরতেই এসব কিছু হবে। সুতরাং কবরে বেশি ফাঁকা না রেখে বাঁশগুলো লাশের কাছাকাছি রাখা নিয়ম।

-শরহুল মুহাযযাব ৫/২৫১; আলমুগনী ৩/৪২৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৯০; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ৩৩; ইমদাদুল আহকাম ১/৮৩৯; খায়রুল ফাতাওয়া ৩/১৫৩

শেয়ার লিংক

ফাহিমা আক্তার - চাটখিল

২৩২৫. প্রশ্ন

 

আমাদের গ্রামের বাড়ির উঠান গোবর দ্বারা লেপ দেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে তাতে ভিজা কাপড় শুকাতে দেই। জানার বিষয় হল, এতে কি ভিজা কাপড় নাপাক হয়ে যাবে?


 

উত্তর

গোবরের লেপযুক্ত শুকনো উঠানে যদি ভিজা কাপড় দেওয়া হয় এবং তাতে নাপাকির কোনো আলামত অর্থাৎ রং বা গন্ধ এর কোনোটি প্রকাশ না পায় তবে ঐ কাপড় নাপাক হবে না। আর যদি নাপাকির কোনো আলামত প্রকাশ পায় তাহলে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫; ফাতওয়া হিন্দিয়া ১/৪৭; রদ্দুল মুহতার ১/৩৪৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইসমাইল - কাকরাইল

২৩২৪. প্রশ্ন

 

আমি একদিন পুকুরে গোসল করছিলাম। গোসল করার সময় লুঙ্গি সামান্য নিচু হলে শুধু নাভি দৃষ্টিগোচর হয়। এতে আমার পাশে থাকা এক চাচা বললেন, নাভি সতর, তা দেখলে হারামের গুনাহ হবে। আমি বললাম, আমি জানি নাভি সতর নয়। তার প্রতি দৃষ্টি পড়লে গুনাহ হবে না। সে বলল, সারা জীবন শুনে এলাম নাভির প্রতি দৃষ্টি পড়লে গুনাহ হয়। জানিয়ে বাধিত করবেন তার কথা কি সঠিক?


 

উত্তর

 

নাভি সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়। আপনার চাচার বক্তব্যটি সঠিক নয়। পুরুষের সতর হল নাভির নিচ থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। সুতরাং যদি কোনো পুরুষের শুধু নাভি খুলে যায় এবং নাভি সংলগ্ন নিচের অংশ ঢাকা থাকে তাহলে এতে সতর খোলার গুনাহ হবে না। 

হযরত আমর ইবনে শুআইব রাহ. তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো পুরুষ অপর পুরুষের সতরের দিকে তাকাবে না। পুরুষের সতর হল নাভির নিচ থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। (সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস : ৩২৩৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪৯৭; সুনানে দারা কুতনী ১/৩২০ 

প্রকাশ থাকে যে, নাভি সতর না হলেও তা ঢেকে থাকে এভাবে পোষাক পরিধান করা উচিত। কেননা, নাভি সংলগ্ন নিচের অংশ সতর। নাভি খুলে গেলে নিচের অংশও কিছুটা খুলে যাওয়া স্বাভাবিক।

হযরত আবুল আলা রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আলী রা. দেহের নিম্নাংশের পরিধেয় পোশাক নাভির উপর পরিধান করতেন।

 

-সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস : ৩২৪৯; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৫৩৪৯; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৬৭৫৬; হেদায়া ১/৯২; নসবুর রায়া ১/২৯৬-৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২২; ১৮/৯০; আলমুগনী ২/২৮৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৯; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৪, ৬/৩৬৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল হালীম - চাঁদপুর

২৩২৩. প্রশ্ন

শুনেছি, উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজা রা.-এর জন্য জান্নাতে একটি বাঁশের ঘর থাকবে। কথাটি কি সত্য? হাদীস শরীফে কি এমন কোনো বর্ণনা আছে? থাকলে সেই বাঁশ দ্বারা কি আমাদের পরিচিত বাঁশই উদ্দেশ্য, নাকি ভিন্ন কিছু? জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

সহীহ হাদীসে আছে, হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, একবার হযরত জিবরীল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই যে খাদীজা রা. আপনার কাছে আসছেন, তাঁর সাথে একটি পাত্র রয়েছে, যাতে তরকারি আছে বা (বর্ণনাকারী বলেন) খাবার অথবা পানীয়। তিনি আপনার কাছে এসে পৌঁছলে তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে সালাম বলবেন এবং তাঁকে জান্নাতে একটি বাঁশের ঘরের সুসংবাদ দিবেন, যেখানে কোনো শোরগোল এবং ক্লান্তি থাকবে না।-সহীহ বুখারী ৫৩৯; সহীহ মুসলিম ২/২৮৪

তবারানী শরীফের একটি রেওয়ায়েতে আছে, হযরত ফাতেমা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছেন যে, ঘরটি কি (দুনিয়ার) এই বাঁশের তৈরি হবে? উত্তরে তিনি বলেছেন, না; তা হবে মুক্তা ও ইয়াকূত পাথরে গাঁথা বাঁশের দ্বারা তৈরি। (তবারানী, কাবীর, ১/২৭৪; মাজমাউয যাওয়াইদ ৯/৩৫৮)

সুতরাং উক্ত হাদীসে বাঁশ দ্বারা দুনিয়ার সাধারণ বাঁশ উদ্দেশ্য নয়। হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. আল্লামা ইবনুত ত্বীনী রাহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, হাদীসে বাঁশ দ্বারা উদ্দেশ্য হল ফাঁপা প্রশস্ত মণি-মুক্তা।

-ফাতহুল বারী ৭/১৭১; শরহু মুসলিম, নববী ১৫/২০০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাজমুল হক - দড়াটানা, যশোর

২৩২২. প্রশ্ন

আমরা জানি, হাবশার বিখ্যাত বাদশা নাজাশী মুসলমানদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং তিনি ইসলাম কবুল করেছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কি তাঁর মুলাকাত হয়েছিল বা তিনি কি সাহাবী বলে গণ্য হবেন? জানতে চাই।


উত্তর

হাবশার বাদশা নাজাশী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি। তাই তিনি সাহাবী নন; বরং তাবেয়ী।

-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২৭২৭৬; রাফউ শানিল হাবশান পৃ. ১২০; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪/১১৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ কাউসার - কালিয়াকৈর, গাজিপুর

২৩২১. প্রশ্ন

রবিউল আউয়াল, রবিউস সানী, জুমাদাল উলা, জুমাদাল উখরা ও যিলকদ এ মাসগুলোতে বিশেষ কোনো রোযা-নামাযের কথা কুরআন-হাদীসে আছে কি?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত মাসগুলোতে বিশেষ কোনো নামায বা রোযার কথা কুরআন-হাদীসে নেই। তবে যিলকদ মাস যেহেতু আশহুরে হরম তথা চারটি সম্মানিত মাসের একটি তাই এ মাসে নফল রোযা রাখা মুস্তাহাব। কেননা, আশহূরে হুরুমে নফল রোযা রাখার কথা হাদীসে রয়েছে। একটি দীর্ঘ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাহাবীকে লক্ষ্য করে বলেন, (হাতের আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে) তুমি হরম মাসে ৩দিন রোযা রাখবে। এরপর তিন দিন রোযা রাখবে না। এরপর আবার তিন দিন রোযা রাখবে। এরপর তিন দিন রাখবে না। (এভাবে শেষ পর্যন্ত) (সূনানে আবু দাউদ ১/৩৩০)

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম - খিলগাও, ঢাকা

২৩২০. প্রশ্ন

আমরা জানি, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সপ্তম দিন চুল কাটা, আকীকা এবং নাম রাখতে হয়। আমার জানার বিষয় হল, এ তিনটির মধ্যে কোনটি আগে আর কোনটি পরে করতে হয়। এক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করার কোনো নিয়ম শরীয়তে আছে কি?


উত্তর

এই তিনটি কাজের মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি নয়। আগে পরে যেভাবেই করা হোক তা আদায় হয়ে যায়। তবে সন্তানের মাথার চুল কাটার আগে আকীকা করা মুস্তাহাব। হযরত ইবনে জুরাইজ রাহ. বলেন, বাচ্চার মাথার চুল কাটার পূর্বে যবাই করবে। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/৩৩০)

আর আকীকার আগে বা পরে এমনকি সপ্তম দিনের আগেও সন্তানের নাম রাখা যায়। তবে আকীকা করার আগেই নাম রেখে নেওয়া উত্তম।

তাবেয়ী কাতাদাহ রাহ. বলেন, প্রথমে বাচ্চার নাম রাখা হবে। অতপর সপ্তম দিন (পশু) যবাই করা হবে এবং এরপর মাথা মুন্ডানো হবে।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/৩৩৩; কিতাবুল মাজমূ’ ৪/৪০৭, ৮/৪১৫; আলমুফাসসাল ফী আহকামিল আকীকাহ; তুহফাতুল মাওদূদ বিআহকামিল মাওলূদ ৮৬, ৯৯; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ১৩/৩৯৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খলীলুর রহমান - জামেয়া মাদানিয়া বারিধারা

২৩১৯. প্রশ্ন

আমি জানতে চাই, الساكت عن الحق شيطان أخرى (সত্য গোপনকারী বোবা শয়তান।) এ বাক্যটি হাদীস কি না? হাদীস হলে কোন কিতাবে আছে এবং সনদের মান কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত উক্তিটি হাদীস হিসেবে প্রমাণিত নয়। আল্লামা কুশাইরী রাহ., ইমাম নববী রাহ. ও আবদুর রউফ

মুনাভী রাহ. একে প্রখ্যাত ফকীহ ও বুযুর্গ আবু আলী আদ্দাক্বাক রাহ. (মৃত্যু ৪০৬ হি.) এর উক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

-আররিসালাতুল কুশাইরিয়া পৃ. ১২০; শরহুন নববী ২/১৯; শাযারাতুয যাহাব ৩/১৮০

শেয়ার লিংক

জামিল আহমদ - মিরপুর-১৪, ঢাকা

২৩১৮. প্রশ্ন

শুনেছি, সূরা তাহরীমের ৮ নং আয়াতে তাওবাতান নাসূহা-এর نصوح  শব্দটি নাকি এক ব্যক্তির নাম এবং তাওবাতান নাসূহা দ্বারা ঐ ব্যক্তির তাওবার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। জানতে চাই, এ কথাটি কি সঠিক? আর উক্ত শব্দের মূল অর্থ কী?


উত্তর

আপনার শোনা কথাটি ঠিক নয়। উক্ত আয়াতে نصوح শব্দটি কোনো ব্যক্তির নাম নয়। বরং এটি তার পূর্বের শব্দ توبة এর বিশেষণ (সিফাত)। শব্দটি  نصحথেকে উদগত, যার অর্থ খাঁটি করা এবং এ অনুযায়ী তাওবাতান নাসূহা- এর অর্থ হল বিশুদ্ধ এবং খাঁটি তওবা।

হযরত নুমান বিন বশির রা. বলেন, আমি হযরত উমর রা.কে বলতে শুনেছি, তাওবাতান নাসূহা হল কোনো গুনাহ ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করা এবং এরপর কখনো সে কাজ না করা।

-শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস : ৭০৩৪; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৬১২; তাফসীরে তবারী ১২/১৫৯; মাজমূ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ১৬/৫৭, ৫৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আতাউল গণী - হাটহাজারী, চট্টগ্রাম

২৩১৭. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার মসজিদের অনেক ফলজগাছ আছে এবং এগুলোতে প্রচুর ফল হয়। এখন প্রশ্ন হল, মুসল্লীদের জন্য বিনামূল্যে মসজিদের গাছের ফল খাওয়া বৈধ হবে কি না?


উত্তর

মসজিদের জায়গার গাছের ফলমূল মসজিদের সম্পদ। তাই মুসল্লী বা অন্য কারো জন্য বিনামূল্যে তা খাওয়া বৈধ হবে না। এ সকল ফল বিক্রি করে তার মূল্য মসজিদ ফান্ডে জমা দিতে হবে।

-আলইসআফ ২২; আলবাহরুর রায়েক ৫/২০৪-২০৫; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩১০-৩১১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৭৫, ৪৭৭; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৪৩২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান - শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ

২৩১৬. প্রশ্ন

 

আমার এক চাচার ৫০ শতক জমি আছে। তিনি ইন্তিকালের আগে বাড়ির পাশের ৪ শতক জমি তার এক সন্তানের জন্য। আর ৩ শতক জমি তার এক মামার জন্য ওসীয়ত করেছেন। তার ইন্তেকালের পর তার ওয়ারিশরা জানতে চায়, পিতার ঐ ওসীয়ত কার্যকর  হবে কি না? তা পূরণ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জরুরি কি না?


 

উত্তর

কোনো ওয়ারিশের (অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির সম্পদে যারা এমনিতেই অংশ পায়) জন্য ওসীয়ত করা শরীয়তসম্মত নয়। ওসীয়ত করলেও তা কার্যকর হবে না। অবশ্য যেসব ব্যক্তি ওয়ারিশ নয় তাদের জন্য ওসীয়ত করা যাবে। কেউ করলে তা সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে কার্যকর করা জরুরি হবে। বিশিষ্ট সাহাবী আবু উমামা বাহিলী রা. বলেন, বিদায় হজ্বের ভাষণে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক হকদারকে তার হক দিয়েছেন। অতএব ওয়ারিশের জন্য ওসীয়ত করা যাবে না। (জামে তিরমিযী, হাদীস : ২১২৬; মুসনাদে আহমদ ৪/১৮৬)

অন্য বর্ণনায় আছে, ওয়ারিশের জন্য ওসীয়তের বিধান নেই। (জামে তিরমিযী, হাদীস : ২০২২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২০০৮)

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার চাচা তার মামার জন্য যে ওসীয়ত করেছেন তা সহীহ হয়েছে, কিন্তু সন্তানের জন্য ওসীয়ত করা শরীয়তসম্মত হয়নি। তাই তা কার্যকর হবে না।

প্রকাশ থাকে যে, সন্তান এবং অন্যান্য ওয়ারিশের জন্য ওসীয়ত করা যদিও সহীহ নয় তা সত্ত্বেও কেউ যদি করে এবং অন্যান্য সকল ওয়ারিশ যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং তারা সকলে সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঐ ওসীয়তকে কার্যকর করতে চায় তবে তাদের জন্য তা করা জায়েয হবে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ওয়ারিশের জন্য ওসীয়ত করা কার্যকর নয় তবে অন্যান্য ওয়ারিশরা যদি অনুমতি দেয় তবে তা বৈধ হবে। (সুনানে দারাকুতনী ৪/৯৮; সুনানে বায়হাকী ৬/২৬৩)

আরো প্রকাশ থাকে যে, ওয়ারিশের জন্য ওসীয়ত যেহেতু কার্যকর হয় না তাই সন্তানের জন্য ওসীয়তকৃত জমিটি সকল ওয়ারিশের উত্তরাধিকার সম্পত্তি বলে গণ্য হবে।

আর প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী মামার জন্য ওসীয়তকৃত জমিটি যেহেতু ওসীয়তকারীর সমুদয় সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের কম তাই ওসীয়ত অনুযায়ী তা তারই প্রাপ্য হবে। 

শেয়ার লিংক

সা’দ আহমদ - কুমিল্লা

২৩১৫. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু মান্নত করেছে, তার অমুক কাজ সমাধা হলে সে মাযারে একটি ছাগল দিবে। পরে কাজটি সমাধা হওয়ার পর সে জানতে চাচ্ছে, ঐ মান্নত আদায় করা তার জন্য জরুরি কি না? আর ছাগলটি মাযারে না দিয়ে অন্য কোথাও দেওয়া যাবে কি না?


উত্তর

মাযারের নামে মান্নত করলে মান্নত হয় না। মান্নত একটি ইবাদত, যা একমাত্র আল্লাহর নামেই করা যায়। আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কারো নামে, যেমন পীরের নামে, মাযারের নামে মান্নত করা হারাম। অতএব প্রশ্নোক্ত নিয়ত পূর্ণ করা যাবে না; বরং অবৈধ মান্নত করার জন্য তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১২৫৭৫; সুনানে আবু দাউদ ২/৪৬৯; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/৪৮৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৮; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ১৩/৬৪৩; রদ্দুল মুহতার ২/৪৩৯; ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ২৭/৭৭, ২৬/৩০৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবুল কাশেম - মুগদা পাড়া, ঢাকা

২৩১৪. প্রশ্ন

আমার উপর একটি কসমের কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে। শুনেছি, দশ জন ফকিরকে দু বেলা তৃপ্তি সহ খাবার খাওয়ালে কাফফারা আদায় হয়। আমি যদি দশজনকে দু বেলা খাওয়ানোর পরিবর্তে বিশজনকে এক বেলা খাওয়াই তাহলে কি কাফফারা আদায় হবে?


উত্তর

না, এভাবে কাফফারা আদায় হবে না। প্রত্যেককে দু বেলা খাবার খাওয়াতে হবে। এক বেলা খাওয়ানো যথেষ্ট নয়। কাফফারা আদায়ের জন্য শর্ত হল, দশজন মিসকীনকে দু বেলা খাবার খাওয়ানো। তদ্রূপ একজন মিসকীনকে দশ দিন দু বেলা করে খাবার খাওয়ালেও কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।

হারেস রাহ. বলেন, হযরত আলী রা. কুরআন মজীদের আয়াত (তরজমা) (কসমের কাফফারা এই যে, দশজন মিসকীনকে মধ্যমমানের খাবার দেবে, যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে খাইয়ে থাক।) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, দশ জনের প্রত্যেককে দিনে ও রাতে (দু বেলা) খাওয়াবে।-ইবনে কাসীর ২/১৪৩; জাসসাস ২/৪৫৭

বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত কাতাদা রাহ. বলেন, প্রত্যেক মিসকীনকে দিনে ও রাতে (দু বেলা) খাওয়াবে।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১২৩৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৬১; মাবসূত, সারাখসী ৭/১৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ঢাকা

২৩১৩. প্রশ্ন

ক) এক মহিলার ছেলের নামে মামলা হয়েছে। আদালত ঘোষণা করেছে, মঙ্গলবার এ মামলার ফয়সালা হবে। এ কথা শুনে মহিলা মান্নত করেছে যে, যদি তার ছেলের পক্ষে ফয়সালা হয় তাহলে তিনি সারা জীবন প্রতি মঙ্গলবার রোযা রাখবেন। মঙ্গলবার দিন আদালত তার ছেলের পক্ষেই ফয়সালা দিয়েছে। এখন কি সারা জীবন প্রতি মঙ্গলবার তাকে রোযা রাখতে হবে?

খ) কসম ভঙ্গের কারণে আমার উপর একটি কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে। আমরা জানি, দশজন মিসকীনের প্রত্যেককে এক সদকাতুল ফিতর পরিমাণ গম বা এর মূল্য দিলে কাফফারা আদায় হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমার জানার বিষয় হল, আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব প্রতি জুমআয় মসজিদের জেনারেটরের তেলের জন্য টাকা তোলেন। কাফফারার টাকা গরীবকে না দিয়ে জেনারেটরের তেলের জন্য দিয়ে দিলে আমার  কাফফারা আদায় হবে কি?


উত্তর

ক) হ্যাঁ, ঐ মহিলাকে সারা জীবন মঙ্গলবার দিন রোযা রাখতে হবে। ওজরের কারণে কোনো মঙ্গলবার রোযা রাখতে না পারলে অন্যদিন তা কাযা করতে হবে। আর ভবিষ্যতে বার্ধক্য বা অসুস্থতার কারণে রোযা রাখা সম্ভব না হলে প্রতি মঙ্গলবারের রোযার পরিবর্তে ফিদয়া দিতে হবে।-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৯

খ) মসজিদে দান করা অনেক সওয়াবের কাজ। তবে এতে কাফফারা আদায় হবে না। তা নফল সদকা বলেই গণ্য হবে। কেননা, কাফফারা আদায়ের জন্য শর্ত হল, দশজন গরীবের প্রত্যেককে নির্ধারিত সম্পদের মালিক বানিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ দশজন মিসকীনের প্রত্যেককে দুই বেলা পরিতৃপ্ত হয়ে খাবার খাওয়ানো বা এর মূল্য দিয়ে দেওয়া। কিংবা প্রত্যেককে জোড়া করে কাপড় দেওয়া অথবা একটি গোলাম আযাদ করা।

কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) কসমের কাফফারা হল দশজন মিসকীনকে মধ্যম ধরনের খাবার দিবে। যা তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গকে খাইয়ে থাক। অথবা তাদেরকে বস্ত্র দান করবে কিংবা একজন গোলাম আযাদ করবে। তরে কারো কাছে যদি (এসব জিনিসের মধ্য হতে) কিছুই না থাকে তবে সে তিন দিন রোযা রাখবে।-সূরা মায়েদা : ৮৯; কিতাবুল আছল, ইমাম মুহাম্মাদ ৪/২২০; আলমাবসূত, সারাখসী ৮/১৫৪; রদ্দুল মুহতার ২/৩৩৯

শেয়ার লিংক