মুহাম্মাদ সুমন - জকিগঞ্জ, সিলেট

২০৭০. প্রশ্ন

যোহরের নামায কোনো কারণবশত একাকী আদায় করছিলাম। দ্বিতীয় রাকাতে ভুলবশত সূরা ফাতেহার পর অন্য সূরা মিলাইনি। তাই তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর অন্য  সূরা পড়ে নিয়েছি। যেহেতু আমি দ্বিতীয় রাকাতের ক্ষতি তৃতীয় রাকাতে পূরণ করে নিয়েছি তাই সিজদায়ে সাহু করিনি। কাজটি কি সঠিক হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দ্বিতীয় রাকাতে সূরা না পড়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। তৃতীয় রাকাতে সূরা পড়ার দ্বারা ঐ ক্ষতি পূর্ণ হয়নি। ক্ষতিপূরণের জন্য সাহু সিজদা জরুরি ছিল। যেহেতু আপনি সাহু সিজদা করেননি তাই ঐ নামায পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি।

মারাকিল ফালাহ ১৩৫; শরহুল মুনইয়াহ ২৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৫৯

শেয়ার লিংক

সেনপাড়া, মিরপুর - ২০৬৯

২০৬৯ . প্রশ্ন

 

এই কুরবানীর ঈদের নামাযে ইমাম সাহেব রুকুর আগে দাড়িয়ে তিনটি তাকবীর দেন এরপর ভুলে রুকুর তাকবীর না বলে রুকুতে চলে যান। ইমামের মতো মুক্তাদিগণও তিন তাকবীর দাড়িয়ে বলেন। এরপর রুকুতে চলে যান। নামাযের পর মুসল্লীদের মধ্যে হট্টগোল লেগে যায়। এরপর ইমাম সাহেব পুনরায় নামায আদায়ের এলান করেন। মুসল্লীদের একজন দ্বিতীয় জামাতের ইমামতী করেন। আমাদের নামায কি হয়েছে? দ্বিতীয় জামাত করা কি ঠিক হয়েছে? 

 

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী ইমাম সাহেব যেহেতু রুকুতে যাওয়ার আগেই দাড়িয়ে তিন তাকবীর সমাপ্ত করেছেন তাই ঈদের নামযের  অতিরিক্ত ওয়াজিব তাকবীরগুলো আদায় হয়ে গেছে। শুধু রুকুর তাকবীর ছুটেছে। রুকুর তাকবীর বলা সুন্নত। এটা ছুটে গেলে সাহু সিজদাও আসে নানামাযও নষ্ট হয় না। তাই প্রথম জামাতের নামাযই শুদ্ধ হয়েছে। দ্বিতীয় জামাত করা ঠিক হয়নি। এরকম পরিসি'তিতে কোনো বিজ্ঞ আলেম/মুফতী থেকে মাসআলা জেনে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭২; শরহুল মুনইয়াহ ১৩, ৩৮২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৮৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৮৩; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৭৬, ৪৭৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলাউদ্দীন - সোনারগাঁ

২০৬৮. প্রশ্ন

নামাযের মধ্য আমার প্রায়ই হাই আসে। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী, জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

হাদীস শরীফে আছে, ‘হাই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।’ (সহীহ বুখারী ১/৬৪৬) তাই নামাযে হাই আসলে যথাসাধ্য তা দমন করার চেষ্টা করবে। একান্তই দমন করা সম্ভব না হলে হাত বাঁধা অবস্থায় হাই এলে ডান হাতের পিঠ মুখের উপর রাখবে। এছাড়া অন্য অবস্থায় বাম হাত রাখবে।

আলবাহরুর রায়েক ২/২৫;শরহুল মুনইয়া ৩৪৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ১৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৭৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শহীদ - বগুড়া

২০৬৭. প্রশ্ন

একবার মুসাফির অবস্থায় আমি আসরের নামায আদায় করছিলাম। নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহহুদের পর ভুলবশত দাঁড়িয়ে যাই। তৃতীয় রাকাতে দাঁড়ানো অবস্থায় ভুল বুঝতে পেরেও নামায চার রাকাতই পূর্ণ করি। প্রশ্ন হল, আমার নামায কি  আদায় হয়েছে, না পুনরায় পড়তে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু  দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠক করেছেন তাই নামাযটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। প্রথম দুরাকাত ফরয আর শেষ দুরাকাত নফল হয়েছে। তবে তৃতীয় রাকাতে ভুল বোঝার পরও না বসে চার রাকাত পূর্ণ করা মাকরূহ হয়েছে।

প্রকাশ থাকে যে, মুসাফিরের জন্য চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায দুরাকাত পড়া জরুরি। দুরাকাত না পড়ে ইচ্ছাকৃত চার রাকাত পূর্ণ করলে ওয়াজিব তরকের গুনাহ হয়। তাই মুসাফির দুরাকাত পর ভুলে দাড়িয়ে গেলে স্মরণ হওয়ামাত্র বসে যাবে এবং সাহু সিজদা করে যথানিয়মে নামায শেষ করবে।

আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩০; ফাতহুল কাদীর ২/৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫১১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মামুন - হবিগঞ্জ

২০৬৬. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় মাগরিবের পর থেকে পরদিন সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত স্বপ্ন বলা ও ব্যাখ্যা দেওয়া কুলক্ষণ বা দোষ মনে করা হয়। শরীয়তের এর কোনো ভিত্তি আছে কি?

উত্তর

 

নাএসময় স্বপ্ন বলতে এবং এর ব্যাখ্যা করতে শরীয়তের দৃষ্টিতে দোষের কিছু নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পর পর সাহাবায়ে কেরাম থেকে স্বপ্ন শুনতেন এবং তার তাবীর বর্ণনা করতেন।

কেউ স্বপ্নের ব্যাখ্যা বা তাবীর জানতে চাইলে তার জন্য স্বপ্ন বলার উত্তম সময় এটিই। কেননাএতে স্বপ্ন দেখা ও বলার মাঝে সময়ের ব্যবধান কম থাকে। ফলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।


 

উমদাতুল কারী ২৪/১৭১;ইরশাদুস সারী ১৪/৪৯০; ফাতহুল বারী ১২/৪৫৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - ফেনী

২০৬৫. প্রশ্ন

 

কোনো ব্যক্তি রমযানের দিনে সফর করার ইচ্ছা করেছে। রোযা রাখা কষ্টকর হবে ভেবে এবং সফরকালে রোযা না রাখার সুযোগ আছে বলে সে ঐ দিনের রোযার নিয়ত না করে সকাল বেলা পানাহার করে সফরে বের হয়। এভাবে সফর শুরুর পূর্ব থেকে রোযা না রাখা বৈধ হয়েছে কি না? আর এ অবস্থায় তার নাকি শুধু কাযা করা ওয়াজিব হবে?

 

উত্তর

এভাবে সফর শুরুর আগে থেকেই রোযা না রাখাটা বৈধ হয়নি। এজন্য তাকে ইস্তিগফার করতে হবে। কেননা সফরের কারণে রোযা না রাখার সুযোগ তখন প্রযোজ্য হবে যখন দিনের শুরু অর্থাৎ সুবহে সাদিকের সময়ই মুসাফির থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে তার উপর কাফফারা আসবে না। ঐ দিনের জন্য শুধু একটি রোযা কাযা করতে হবে।

আলবাহরুর রায়েক ২/২৯১; আননাহরুল ফায়েক ২/২৭; ফাতহুল কাদীর ২/২৮৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নুমান আহমদ - ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

২০৬৪. প্রশ্ন

মহিলারা যদি রমযান মাসে কোনো ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ঋতুস্রাব বন্ধ রাখে তাহলে ওই দিনগুলোতে রোযা রাখতে পারবে কি না এবং এতে রোযার কোনো ক্ষতি হবে কি না?

উত্তর

রমযান মাসে কোনো মহিলা ওষুধ সেবন করে স্রাব বন্ধ রাখলে তাকে রোযা রাখতে হবে। এ রোযাগুলো ত্রুটিযুক্ত হবে না; বরং পূর্ণ সহীহ বলেই গণ্য হবে। উল্লেখ্য, ঋতুস্রাব মহিলাদের একটি স্বাভাবিক বিষয়। তাই শরীয়ত এ অবস্থায় রোযা না রাখার হুকুম দিয়েছে এবং এর পরিবর্তে অন্য সময় রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সুতরাং রমযানে স্রাববন্ধকারী ওষুধ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। কারণ এতে শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

-জামিউ আহকামিন নিসা ১/১৯৮; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/৪০৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সামছুল আলম - টাঙ্গাইল

২০৬২. প্রশ্ন

আমাদের পরিবারের পূর্বপুরুষ (আমার মার ফুফা আমাদের নানা) ৮০ বছর পূর্বে একটি মসজিদের জন্য মৌখিকভাবে জায়গা দান করেন, সে জায়গায় একটি মসজিদ স্থাপন করা হয়। মসজিদঘরের দক্ষিণ পাশে মসজিদের জায়গার একটি অংশে দাতার মেয়ে, নাতনি ও আমার দাদির কবর হয়। পরবর্তীকালে তার ওয়ারিশ যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন (আমার বাবা) তিনি মসজিদের নামে একটি দলিল করে দেন। এরপর মসজিদ বড় করার প্রয়োজন হলে কবরগুলো ঠিক রেখে দক্ষিণে একতলা বিল্ডিং করা হয় এবং পূর্বের জায়গায় একটি হিফযখানা তৈরি করা হয়। হিফযখানার একটি অংশের নিচে কবরগুলো চলে আসে। স্থানীয় আলেমরা বলেছিলেন, হেফযখানা কবরের উপর হলে কেনো অসুবিধা নেই। বর্তমানে মসজিদকমিটি সেই হিফযখানা উঠিয়ে দিয়ে সেখানে মসজিদ সম্প্রসারণ করছেন। তাদের কাছে মাসআলা হল ২৫ বছরের পুরনো কবরের উপর মসজিদ করা যাবে।

আসলে কুরআন্তহাদীসের আলাকে কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি না এবং সেখানে নামায পড়া ঠিক হবে কি না জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের  বিবরণ এবং প্রশ্নকারীর মৌখিক বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু ওই ১৫ শতাংশ জায়গার পুরোটাই মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত এবং এতে বিদ্যমান কবরগুলো বেশ পুরনো তাই বর্তমানে ওই জায়গায় মসজিদ সমপ্রসারণ করা জায়েয হবে। এক্ষেত্রে যদি সেখানে কবরের কোনো চিহ্ন থাকে তাহলে তা সমান করে দিতে হবে। মসজিদের ভিতরে কবরের কোনো চিহ্ন রাখা যাবে না। আর কবরবাসীদের আত্মীয়-স্বজনের কর্তব্য হবে এতে বাধা না দেওয়া।

ফাতহুল কাদীর ৫/৪৩২; মাজমাউল আনহুর ২/৫৮১;আলবাহরুর রায়েক ৫/২০৫, ২/১৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৫০; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৫১-৩৫২,২/২৩৮; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ৩৩৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল বারী - কনিয়া, নেত্রকোণা

২০৬১. প্রশ্ন

চার ব্যক্তি সমান হারে অর্থ দিয়ে মাছ শিকার করার জন্য একটি জাল ক্রয় করেছে। তারা এভাবে চুক্তি করেছে যে, এ জাল দিয়ে বিল ও নদী থেকে মাছ শিকার করবে এবং সমানভাবে বণ্টন করে নিবে। তবে মাছ শিকার করার জন্য সকলকে থাকতে হবে না। দুজন মিলে শিকার করলেও চার জন ভাগ করে নিবে। প্রশ্ন হল, মাছ শিকারের উক্ত চুক্তিটি সহীহ কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চারজন একসাথে মাছ শিকার করে সমানভাবে বণ্টন করে নেওয়া জায়েয হবে। কিন্তুমাছ শিকারে কেউ অনুপস্থিত থাকলে সে মাছের ভাগ পাবে না। এক্ষেত্রে অন্যদের মতো মাছের সমান অংশ নেওয়া জায়েয হবে না। হ্যাঁউক্ত জালে তার যে অংশ রয়েছে সেটার ন্যায্য ভাড়া সে পাবে। অথবা ভাড়া হিসেবে ইনসাফ করে মাছও নিতে পারবে।

- হেদায়া ২/৬৩৪; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৬২৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২২৭; ফাতহুল কাদীর ৫/৪০৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৮৪; রদ্দুল মুহতার ৪/৩২৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলমগীর - গাজীপুর

২০৬০. প্রশ্ন

এক ব্যক্তির একটি গরু আছে। সে মান্নত করেছে যে, আমি আল্লাহর ওয়াস্তে এ বছর গরুটি কুরবানী করব। লোকটি গরীব। বর্তমানে সে চাচ্ছে উক্ত গরুর পরিবর্তে আরেকটি গরু কিনে কুরবানী করবে। তার জন্য কি ওই গরুটির পরিবর্তে অন্য গরু কুরবানী করা জায়েয হবে?

উত্তর

তাকে ওই গরুটিই কুরবানী করতে হবে। এটা রেখে অন্য গরু কুরবানী করা জাযেয় হবে না।

বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২; মাজমাউল আনহুর ৪/১৭০; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুশাররফ হুসাইন - মানিকগঞ্জ

২০৫৯. প্রশ্ন

এক চাচাত ভাইয়ের ছেলের ছেলে অপর চাচাত ভাইয়ের মেয়েকে বিয়ে করেছে। কুরআন, হাদীস ও ফিকহে ইসলামীর আলোকে এ বিয়ে কি শুদ্ধ হয়েছে?


উত্তর

হ্যাঁতাদের বিবাহ সহীহ হয়েছে। কারণ তারা পরস্পর মাহরাম নয়।

সূরা নিসা : ২৪; তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৭১৫; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১৩৯; তাফসীরে রুহুল মাআনী ৫/৪; সূরাতুল আহযাব : ৫০;সুনানে নাসাঈ ২/৫৮; বাদায়েউ স সানায়ে ২/৫৩১; ফাতহুল কাদীর ৩/১১৭; তাফসীরে মাযহারী ২/৫৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান - ধানমণ্ডি, ঢাকা

২০৫৮. প্রশ্ন

গুলশানে হিন্দুদের পরিচালিত একটি ফ্যাক্টরি আছে। সেখানে তারা শুধু হিন্দুদেরকেই চাকুরি দেয়। একজন মুসলমান সেখানে চাকুরি নেওয়ার জন্য নিজেকে হিন্দু বলে প্রকাশ করেছে। নিজের ও পিতার নাম হিন্দু নাম রেখেছে। ইন্টারভিউতে জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়েছে এবং সুস্পষ্টভাবে বলেছে যে, আমি মুসলমান না, হিন্দু।

জানতে চাই, এর কারণে তার ঈমানের ক্ষতি হয়েছে কি না? এভাবে বলা কতটুকু অপরাধ হয়েছে? লোকটি বিবাহিত।  

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আমি মুসলমান নইহিন্দু’ এভাবে বলা এবং হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেওয়া কুফরী কাজ হয়েছে। এভাবে বলার দ্বারা ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। তাই লোকটির জন্য এক্ষুণি তওবা করত পুনরায় কালিমা শাহাদত পড়ে ঈমান আনা জরুরি এবং ঐ প্রতিষ্ঠানের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চাকরি নেওয়া জরুরিযেখানে নিজের ঈমান-আকীদা সংরক্ষণের স্বাধীনতা রয়েছে। ঈমান আনার পর স্ত্রীর সাথে বিবাহ দোহরিয়ে নিতে হবে। অর্থাৎ দুজন স্বাক্ষীর সামনে নতুন মহর ধার্য করে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/২৭৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/১২৩; জামিউল ফুসুলাইন ২/৩০১; ফাতাওয়া উসমানী ১/৮৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন - চাঁদপুর

২০৫৭. প্রশ্ন

শ্বশুর-শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলা যাবে কি? যদি বলা যায় তাহলে ওই হাদীসের ব্যাখ্যা কী হবে, যে হাদীসে অন্যকে পিতা বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করা হয়েছে? 

উত্তর

হাদীসে যে অন্যকে পিতা বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করা হয়েছে এর অর্থ বংশপরিচয় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আসল পরিচয় গোপন রেখে নিজের পিতার নাম উল্লেখ না করেঅন্যের নাম প্রকাশ করা। যেমন-আইডি কার্ডপাসপোর্টজন্মনিবন্ধন অথবা এমন কোনো দলিল বা স্থান যেখানে কোনো ব্যক্তির জন্মদাতা পিতার নাম প্রকাশ করা জরুরি হয়। আর স্বামী বা স্ত্রীর পিতা-মাতাকে সম্মানার্থে আব্বা-আম্মা বলে সম্বোধন করার দ্বারা বংশপরিচয় গোপন হয় না। তাই শ্বশুর-শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলা হাদীসের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয় এবং তা জায়েয।

আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৫৪; সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৭৬৬; ৬৭৬৮, ৪৩২৬, ৪৩২৭,৩৫০৮; উমদাতুল কারী ১৬/৭৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১২-১১৫; ইকমালুল মুলিম ১/৩১৯; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৯/২১০; তাফসীরে কুরতুবী ১২/৬৭; ফাতহুল মুলহিম ১/২৩৬; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৯/৪৯-৫২; মুসনাদে আহমদ ১/১৭৪, ৩/৮৯; ফয়যুল কাদীর ৬/৪৬; কেফায়াতুল মুফতী ৯/১১৮

শেয়ার লিংক

মাওলানা আবদুল হামীদ - বরিশাল

২০৫৬. প্রশ্ন

দ্বীনী আলোচনার পূর্বে বিসমিল্লাহ এবং জুমার খুতবার পূর্বে আউযুবিল্লাহ পড়া কেমন?

উত্তর

যেকোনো ভালো কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা যায়। তবে দুএক জায়গা এর ব্যতিক্রম। যেমন-দ্বীনী আলোচনা এবং খুতবার পূর্বে আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়াটা হাদীস শরীফ এবং সাহাবাতাবেয়ীদের আমল দ্বারা প্রমাণিত নয়বরং এক্ষেত্রে সুন্নত নিয়ম হলহামদ ও সালাতের মাধ্যমে শুরু করা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম দ্বীনী আলোচনা হামদ ও সালাতের মাধ্যমে শুরু করতেন। তাই ভালো কাজ বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করতে হয় এই মূলনীতি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়বরং ওয়াজ আল্লাহর হামদ দ্বারা শুরু করাআযান এবং নামায আল্লাহু আকবার বলে শুরু করাই নিয়ম। এক্ষেত্রেও ব্যাপক নিয়ম অনুসরণ করে আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়া ঠিক হবে না। ফকীহ ইবনে নুজায়েম রাহ. আলবাহরুর রায়েক কিতাবে (২/১৪৯) ইমাম আবু ইউসুফ রাহ.-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেনখুতবার পূর্বে আস্তে করে আউযুবিল্লাহ পড়া উচিত। তবে এ বিষয়ে হাদীসের দলীল পাওয়া যায়নি। তাই এক্ষেত্রে হামদ ও সালাত দ্বারা শুরু করা উচিত।

সুনানে ইবনে মাজাহ ১/১৩৬; সহীহ ইবনে হিব্বান ১/১৭৩; মুসনাদে আহমদ ২/৩৫৯;সুনানে নাসাঈ পৃ. ৪৯৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪৮৪৯; ইতহাফুস সাদাত ৩/৪৬৭; মুসলিম ১/২৮৩;যাদুল ১/৪৩১; দালাইলুন নবুওয়াহ ২/৫২৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৪৮;আততারগীব ওয়াততারহীব ৩/২৩৩; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/১৭৮; ইলাউস সুনান ৮/৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪৬; আলমুহাল্লা ৩/২৬২; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৩/৭৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইয়ার উদ্দীন - বসিলা, ঢাকা

২০৫৫. প্রশ্ন

জনৈক বক্তা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, হাদীসে আছে হাশরের দিন সর্বপ্রথম আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর থেকে উঠবেন।উক্ত কথাটি কি হাদীসে আছে? থাকলে সেই হাদীসটি উদ্ধৃতিসহ জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

হ্যাঁকথাটি হাদীসে আছে। হযরত আবু হুরায়রা রা.-এর সূত্রে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘কেয়ামতের দিন আমি হব সকল আদম-সন্তানের সরদার এবং আমিই প্রথম কবর থেকে উঠব। আল্লাহর নিকট আমিই প্রথম সুপারিশ করব এবং আমার সুপারিশই প্রথম কবুল হবে।

সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২২৭৮

শেয়ার লিংক

মাদীহা তারীন - গলগণ্ডা, ময়মনসিংহ

২০৫৪. প্রশ্ন

ক) নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর কোনো মেয়ের হায়েয শুরু হলে তাকে ঐ ওয়াক্তের নামায কাযা করতে হবে কি?

খ) আরেক মেয়ে ইশার শুধু ফরয ও সুন্নত নামায আদায় করেছে। আর বিতরের নামায শেষ রাতে উঠে পড়বে মনে করে ঘুমিয়ে যায়, কিন্তু ফজরের আযানে তার ঘুম ভাঙ্গে। উঠে দেখে তার হায়েয শুরু হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হল, ঐ বিতরের নামায কাযা করতে হবে কি না?


উত্তর

ক) নাযে ওয়াক্তে মাসিক শুরু হয়েছে ঐ ওয়াক্তের কাযা করতে হবে না। 

খ) হ্যাঁপবিত্র হওয়ার পর ঐ রাতের বিতর কাযা করে নিতে হবে।


মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, আছার : ১২৯০; উসূলুস সারাখসী ১/৩৩; রদ্দুল মুহতার ১/১৯১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইহসানুল্লাহ - শরীয়তপুর

২০৫৩. প্রশ্ন

আমরা জানি, সফরে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমের নিয়তে নিজ আবাদী ত্যাগ করার পর থেকে সফরের আহকাম শুরু হয়। প্রশ্ন হল, নিজ গ্রাম বা শহরের বাড়ি-ঘর যদি অনেক দূর পর্যন্ত লাগালাগি থাকে তাহলে সফরের আহকাম প্রযোজ্য হওয়ার জন্য কতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে? আবাদী অতিক্রম করার অর্থ কী?

উত্তর

আবাদী অতিক্রমের অর্থ হলনিজ গ্রাম বা শহর সম্পূর্ণরূপে অতিক্রম করা। নিজ গ্রাম বা শহরের ঘর-বাড়ি অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হলে সেগুলোও অতিক্রম করতে হবে। এর আগে সফরের হুকুম কার্যকর  হবে না।

মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২০৪; ইলাউস সুনান ৭/৩১০; কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনা ১/১২১;আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম - মাদারীপুর

২০৫২. প্রশ্ন

কাকরাইল থেকে ১৫ জনের একটি জামাত এক চিল্লার জন্য তাবলীগে বের হয়। মারকায থেকে তাদের প্রথম রোখ হয় চট্টগ্রাম শহরে। সেখানে ২০ দিন অবস্থানের পর তাদের দ্বিতীয় রোখ হয় শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামে। গ্রামটিতে তারা ১০ দিন অবস্থান করবেন। সেখান থেকে অন্য এলাকায় যাবেন। চট্টগ্রাম শহরে আর ফিরে আসবেন না। জানার বিষয় হল, দ্বিতীয় স্থান তথা গ্রামটিতে তারা মুকীম থাকবেন, না মুসাফির?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি তারা পূর্ব থেকে একনাগাড়ে ২০ দিন (অথবা ন্যূনতম ১৫ দিন) অবস্থানের নিয়তে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করে থাকেন তবে তারা শহরটিতে মুকীম ছিলেন। পরে সেখান থেকে তারা যেহেতু সফরসম দূরত্ব অতিক্রম করেননি তাই দ্বিতীয় গ্রামটিতেও তারা মুকীম থাকবেন  এবং পূর্ণ নামায আদায় করবেন। কিন্তু যদি একনাগাড়ে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত ছাড়া কিছু দিন কিছু দিন করে চট্টগ্রাম শহরে তাদের ২০ দিন থাকা হয় তবে তারা সেখানে মুসাফির ছিলেন। তাই পরবর্তী গ্রামেও তারা মুসাফির থাকবেন এবং নামায কসর করবেন।

ফাতহুল কাদীর ২/১৬; আলইনায়াহ ২/১৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮১; রদ্দুল মুহতার ২/৩২১; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ২৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০২;ফাতাওয়া দারুল উলূম ৪/৪৮২; মাজমূআতুল ফাতাওয়া ১/৩১৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইমদাদুল্লাহ - জামিআ মাদানিয়া, ফেনী

২০৫১. প্রশ্ন

ক) শীতকালে কিছু মুসল্লীকে দেখা যায়, নামাযের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায় গায়ের চাদর পড়ে গেলে এমনভাবে চাদর পরেন যে, সিনা কেবলার দিক থেকে ফিরে যায়। তাদের নামাযের হুকুম কী? কতুটুকু ফিরার কারণে নামা ভেঙ্গে যাবে? প্রমাণসহ জানতে চাই।

খ) একজন মুসল্লী দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন। হঠাৎ তার পায়ে একটি মশা কামড় দেয়। সহ্য করতে না পেরে তিনি দাঁড়ানো থেকে ঝুঁকে মশাটি মেরেছেন। এতে কি তার নামায ভেঙ্গে গেছে? অনুগ্রহ করে দলিলসহ সঠিক সমাধান দিয়ে চিন্তামুক্ত করবেন। 

উত্তর

ক) নামাযের হালতে সিনা কিবলার দিক থেকে সামান্য ফিরে গেলে নামায ফাসেদ হয় না। আর নামাযী ব্যক্তি যদি সঠিকভাবে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে চাদর ঠিক করতে গিয়ে সীনা যে পরিমাণ ঘুরে তা সাধারণত খুব সামান্য হয়ে থাকে। এর দ্বারা নামায ফাসেদ হবে না।

কিন্তু যদি চাদর ঠিক করতে গিয়ে সীনা কিবলা থেকে এত বেশি ঘুরে যায় যেসীনা কিবলা থেকে ৪৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশি উত্তর বা দক্ষিণ দিকে চলে আসে তাহলে এ অবস্থায় তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় অতিবাহিত হলে নামায ফাসেদ হয়ে যাবে। এর চেয়ে কম সময় হলে নামায নষ্ট হবে না।

উল্লেখ্য যেনামায শুরু করার পূর্বেই গায়ের চাদর এমনভাবে পরে নেওয়া উচিত যেন তা নামাযের মধ্যে পড়ে না যায়।-রদ্দুল মুহতার ১/৬২৬শরহুল মুনইয়াহ ৩৫১হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ১৭৭;আলফাতাওয়াল খাইরিয়্যাহ ১/১৮

খ) প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ লোকাটির নামায নষ্ট হয়নি। তবে দাঁড়ানো থেকে এভাবে ঝুঁকে পড়া ঠিক নয়। ইচ্ছা করলে অন্যভাবেও মশাটি তাড়ানো যেত।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/১৫৩আলমুহীতুল বুরহানী ২/২১৪আলবাহরুর রায়েক ২/৩১রদ্দুল মুহতার ১/৬৫২হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ১৯৫ইলাউস সুনান ৫/১৫১-১৫২

শেয়ার লিংক

আবু জাফর মুহাম্মাদ হুসাইন - উত্তরা, ঢাকা

২০৫০. প্রশ্ন

 

ক) রমযান মাসে দেখা যায় অনেকে কিয়ামুল লায়ল (তাহাজ্জুদ) নামায জামাতের সাথে আদায় করেন। এমনকি মসজিদে হারামেও এই নামায জামাতের সাথে আদায় করা হয়। এ বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী?

খ) তারাবীর নামায ২০ রাকাত, না ৮ রাকাত? সহীহ হাদীস অনুসারে কোনটা ঠিক? রমযান মাসে তারাবীর নামায পড়লে তাহাজ্জুদ নামায পড়ার দরকার আছে কী? বা তাহাজ্জুদ নামায পড়লে তারাবী পড়তে হবে কি? উল্লেখিত বিষয়ে সহীহ মাসআলা হাদীস শরীফের বাংলা তরজমাসহ জানালে   খুশি হব। 

 

উত্তর

(ক) পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযজুমআ ও দুই ঈদের নামায জামাতে আদায় করা হল ইসলামের শিআর। এছাড়া তারাবীরমযানের বিতরইস্তিসকা ও সূর্যগ্রহণের নামায জামাতে আদায় করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত ও সুন্নত। কিন্তু তাহাজ্জুদসহ অন্যান্য সুন্নত ও নফল নামায শরীয়তের দৃষ্টিতে একাকী ও ঘরে আদায় করার মতো নামায। যে কারণে এগুলোতে আযান-ইকামত এবং জামাতের আয়োজনের বিধান নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামখোলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরামের সাধারণ আমল এমনই ছিল। তারা তাহাজ্জুদ ও নফল ঘরে একাকী আদায় করতেন। আমাদের জানামতে হাদীস ও সীরাতের বর্ণনানুযায়ী গোটা নবী-যুগে একটি অথবা দুটি ঘটনাই এমন পাওয়া যায় যেনবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের নামায শুরু করার পরকোনো সাহাবী এসে ইক্তিদা করেছেন। এ জাতীয় এক দুটি ঘটনা ছাড়া, (জামাত যেখানে ঘটনাচক্রে হয়ে গিয়েছিল। উপরনতা ছিল মাত্র এক দুই জনের।) তাহাজ্জুদের জামাতের অন্য কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না।

তাই ফিকহে হানাফীর ফাতাওয়া হলতাহাজ্জুদের নামাযতা রোযার মাসে পড়া হোক কিংবা অন্য মাসে,একাকী পড়া উচিত। এতে জামাতর পাবন্দি করা ঠিক নয়। তবে কেউ যদি তাহাজ্জুদ নামাযে রত কোনো ব্যক্তির ইক্তিদা করে ফেলে তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু এটাকে নিয়মে পরিণত করা        খেলাফে সুন্নত।

আর হারামাইন শরীফাইনে তাহাজ্জুদের নামায জামাতে পড়া হয় হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী। কেননাহাম্বলী মাযহাবে যেকোনো নফল নামায জামাতে        পড়া যায়।

মোটকথাএ প্রসঙ্গে হানাফী মাযহাবের ফাতাওয়া এই যেনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরীকা এবং খোলাফায়ে রাশেদীনসাহাবায়ে কেরাম ও খাইরুল কুরূনের সাধারণ নিয়ম থেকে সরে তাহাজ্জুদ নামাযে জামাতের প্রচলন করাবিশেষত কোনো মসজিদে,    সঠিক নয়।

নিম্নে নফল নামায জামাতবিহীন একাকী ঘরে পড়া সম্পর্কে কিছু হাদীস পেশ   করা হল।

১. হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর রা. বলেননবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা ঘরে নামায আদায় করঘরকে কবর বানিও না।’-সহীহ মুসলিম ১/২৬৫

২. হযরত যায়েদ ইবনে ছাবিত রা. বলেননবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা ঘরে নামায আদায় কর। কেননামানুষের সর্বোত্তম নামায হল ঘরের নামায। তবে ফরয             নামায ব্যতিত।

৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সাআদ রা. বলেনআমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘরে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনআমার ঘর মসজিদের কত নিকটে তারপরও আমি ঘরে নামায পড়তে ভালবাসি। তবে ফরয        নামায মসজিদে পড়ি।’ (শামায়েলে তিরমিযী ২০)

খ) তারাবী বিশ রাকাত। এটাই সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। চার মাযহাবের ইমামগণ এ বিষয়ে একমত। সাহাবা-যুগ থেকে আজ পর্যন্ত হারামাইন শরীফাইনে এভাবেই তারাবী পড়া হয়েছে। বিশ রাকাতের কম কখনো পড়া হয়নি। বর্তমানে যারা তারাবীর নামায আট রাকাত বলে দাবি করে তারা কিছু মুনকাররেওয়ায়েত দ্বারা দলিল দিয়ে থাকেকিংবা তাহাজ্জুদের হাদীসকে তারাবীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে। মারকাযুদ দাওয়াহর দারুত তাসনীফ থেকে এ বিষয়ে একটি পুসি-কা প্রকাশিত হয়েছে। যাতে বিস্তারিত দালিলিক          আলোচনা রয়েছে। 

তারাবীর নামাযে দীর্ঘ কিরাত পড়ার কারণে তাহাজ্জুদের সময় হয়ে গেলে ভিন্নভাবে তাহাজ্জুদ পড়ার প্রয়োজন নেই। তখন তারাবীহ এর স'লাভিষিক্ত হয়ে যাবে। এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হল।

১. হযরত নোমান ইবনে বাশীর রা. বলেনআমরা তেইশ রোযার দিবাগত রাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অর্ধ রাত পর্যন্ত নামায পড়ি। অতপর সাতাইশ রোযার দিবাগত রাতে এত দীর্ঘ নামায পড়ি যেআমাদের সাহরী ছুটে যাওয়ার আশংকা হল।’ (কিয়ামুল লাইলশায়খ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে নসর ১৯৬)

২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর রা. বলেনআমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছিআমরা রোযার মাসে রাতের নামায থেকে এমন সময় ফিরতাম যেসুবহে সাদিক উদিত হওয়ার আশংকায় খাদেমকে দ্রুত খানা আনতে বলতাম।

৩. হযরত ওমর রা.তাঁর খেলাফত আমলে উবাই ইবনে কাব রা. ও তামীম দারী রা.কে রমযানের রাতের নামায পড়াতে আদেশ করলেন। কারীগণ এত লম্বা কিরাত পড়তেন যেদীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আমরা লাঠির উপর ভর করে দাঁড়াতাম। আর আমরা বাড়ি ফিরতাম সুবহে সাদিকের কিছু পূর্বে। (কিয়ামুল লাইল ২০৩)

যদি তারাবী ইশার পর প্রথম রাতে পড়া হয় তাহলে শেষ রাতে অন্যদিনের মতো তাহাজ্জুদ পড়া উচিত। তাহাজ্জুদ পুরো বছরের নামায এবং তারাবী থেকে ভিন্ন নামায।

রশীদ আহমদ গঙ্গুহী রাহ.-এ বিষয়ে স্বতন্ত্র একটি রিসালাহ লিখেছেন। বিষয়টি দীর্ঘ আলোচনার দাবি রাখে। আগামী কোনো সংখ্যায় এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখা হবে ইনশাআল্লাহ।

একটি রেওয়ায়েতে আছেহযরত ওমর রা.-এর যুগে একদিন মুসল্লীরা তারাবী শেষ করে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন তখন হযরত ওমর রা. বললেনরাতের যে অংশ বাকি রয়ে গেছে তা অধিক উত্তম। অর্থাৎ শেষ রাতেও ইবাদত করা উচিত। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৩১)

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ যাকারিয়া - ফরিদপুর

২০৪৯. প্রশ্ন

আমরা অনেক সময় বাজার থেকে নতুন কাপড় কিনে এনে না ধুয়ে পরিধান করি এবং তা পরে নামাযও পড়ি। অথচ নতুন কাপড় সুতা থেকে শুরু করে পূর্ণ কাপড় হওয়া পর্যন্ত অনেকগুলো পর্যায় অতিক্রম করতে হয়। যেখানে পবিত্রতা-অপবিত্রতার প্রতি খেয়াল রাখা হয় না। জানার বিষয় হল, নতুন কাপড় না ধুয়ে তা পরিধান করে নামায পড়া সহীহ হবে কি? 

উত্তর

এ ধরনের পরিধেয় বস্ত্র নতুন হলেও নাপাক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত না হলে তা পাক ধরা হবে। নিছক সন্দেহ বা মনের ধারণার ভিত্তিতে তা নাপাক বলা যাবে না। নতুন কাপড়ে যেহেতু নাপাক লাগার কোনো আলামত পাওয়া যায় না তাই মূলত তা পবিত্র। হ্যাঁকোনো কাপড়ে নাপাকি লাগা নিশ্চিত হলে কিংবা প্রবল ধারণা হলে সেটি অপবিত্র বলে গণ্য হবে। অতএব নতুন কাপড় না ধুয়ে পরিধান করা ও তা গায়ে দিয়ে নামায পড়া জায়েয। তবে ধুয়ে পরাই ভালো।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/৩৬২

শেয়ার লিংক

মাওলানা মুস্তফা - ময়মনসিংহ

২০৪৮. প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি হজ্বে যাচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী ইতিপূর্বে নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেছেন। এখন আমি কি আমার পিতার বদলী হজ্ব ঐ মহিলাকে দিয়ে করাত পরব? কোনো মহিলা কি পুরুষের বদলী হজ্ব করতে পারে? 

উত্তর

হ্যাঁমাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকলে মহিলাকে দিয়েও বদলী হজ্ব করানো যায়। এতে বদলী হজ্ব আদায় হয়ে যাবে।

সহীহ বুখারী ১/২০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭; রদ্দুল মুহতার ২/৬০৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ তামীম - ঢাকা

২০৪৭. প্রশ্ন

তাওয়াফের সময় হাজরে আসওয়াদ চুমু দেওয়ার সময় বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবারবলার প্রচলন আছে। এটা কি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? ফিকহ-ফাতাওয়ার কিতাবে কী আছে? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর

হ্যাঁপ্রতি চক্করে হাজরে আসওয়াদ বরারব এসে সরাসরি বা ইশারায় চুমু খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলা প্রমাণিত। সহীহ বুখারীসহ অন্যান্য কিতাবে আছেরাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফের মধ্যে যখনই হাজরে আসওয়াদে আসতেন তাকবীর অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলে চুমু দিতেনকিংবা লাঠি ইত্যাদি দিয়ে ইশারা করতেন। কিন্তু বিসমিল্লাহ বলাটা মারফূ হাদীসে নেই। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যেতিনি বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে হাজরে আসওয়াদে চুমু দিতেন।

সহীহ বুখারী ১/২১৯; মুসনাদে আহমদ ৫/৭২; মুসান্নাফ আবদুর রাযযযাক ৫/৩৩;সুনানে বায়হাকী ৫/৭৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইমরান হুসাইন - ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

২০৪৬. প্রশ্ন

 

বদলী হজ্বকারীর জন্য কি ইফরাদ হজ্ব করা জরুরি? অনেকে বলেন, ইফরাদ করা জরুরি। প্রেরক তামাত্তু বা কিরান হজ্বের অনুমতি দিলেও আদায় হবে না। ইফরাদ হজ্বই করতে হবে। মুআল্লিমুল হুজ্জাজ কিতাবেও এমনই বলা হয়েছে। আবার কোনো কোনো আলেমকে জায়েয বলতে শোনা যায়। এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান বরাতসহ জানতে চাই।

 

উত্তর

প্রেরক অনুমতি দিলে বদলীকারী তামাত্তু ও  কিরান হজ্বও করতে পারবেন। অনুমতি থাকলেও ইফরাদ করা জরুরিতামাত্তু বা কিরান জায়েয নয়-এই কথা ঠিক নয়। মুআল্লিমুল হুজ্জাজফাতাওয়া খলীলিয়্যাহসহ কিছু কিতাবে সর্বাবস্থায় ইফরাদ জরুরি বলা হলেও উপমহাদেশের অনেক মুফতী প্রেরকের অনুমতিসাপেক্ষে তামাত্তু ও কিরান করাকে জায়েয বলে ফাতওয়া দিয়েছেন। যেমনমুফতী কেফায়াতুল্লাহ দেহলভী রাহ.মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ. এবং মুফতী যফর আহমদ উছমানী রাহ.মুফতী রশীদ আহমদ লুধিয়ানভী রাহ. প্রমুখ। আর জায়েয হওয়ার পক্ষে হানাফী ফকীহদের থেকেও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত রয়েছে। যেমন,ফাতাওয়া খানিয়াআল্লামা সিন্ধির লুবাবআল্লামা সাঈদ আবদুল গণী রাহ.-এর ইরশাদুস সারী এবং আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী ফাতাওয়া শামীতে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যেঅনুমতি থাকলে বদলীকারী কিরানতামাত্তু যেকোনোটি করতে পারেন। ইফরাদ হজ্ব করা জরুরি নয়।  এছাড়া কিরান জায়েয হওয়ার কথা মাবসূতে সারাখসী ও হেদায়াতেও আছে।

লুবাবুল মানাসিক ৪৫৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩০৭; মাবসূত সারাখসী ৪/১৫৫-১৫৬; হেদায়া ১/২৯৮; রদ্দুল মুহতার ২/৬১১; ইমদাদুল আহকাম ২/১৮৩; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৫২৩; কেফায়াতুল মুফতী ৪/৪৫; জাওয়াহিরুল ফিকহ ১/৫০৮-৫১৬; ফাতাওয়া উছমানী ২/২২২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান - মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

২০৪৫. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি হজ্বের তাওয়াফ মারওয়া থেকে শুরু করেছে শেষ করেছে সাফাতে। তার করণীয় কী? পরে পৃথকভাবে একটি চক্কর করে নিলে কি চলবে?

উত্তর

হ্যাঁআরেকটি চক্কর করে নিলেই চলবে। আর এক্ষেত্রে কোনো জরিমানা আসবে না। কিন্তু যদি আরেকটি চক্কর করা না হয় তাহলে জরিমানা হিসেবে দম ওয়াজিব হবে।

গুনইয়াতুন নাসিক ১৩১-১৩২;মানাসিক, ১৭৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫১৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু জাবের - কুষ্টিয়া

২০৪৪. প্রশ্ন

কুরবানীর গরুতে আকীকার জন্য অংশ দেওয়া যাবে কি? আমরা স্বামী-স্ত্রীর পক্ষ থেকে কুরবানীর দুই অংশ, মৃত বাবা-মার দুই অংশ এবং মেয়ে ও ছেলের আকীকার তিন অংশ-এভাবে এক গরুতে কুরবানী ও আকীকা করতে চাই। এটা জায়েয হবে কি?

উত্তর

হ্যাঁকুরবানীর গরুর সাত ভাগে আকীকার অংশ দেওয়া জায়েয। এতে কুরবানী ও আকীকা দুটোই আদায় হবে। আপনি  প্রশ্নে যেভাবে বলেছেন সেভাবে কুরবানী ও আকীকা করতে পারবেন।

ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৮/২৪৪; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/৩৩১-৩৩৩; শরহুল মুহাযযাব ৮/৪০৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রুহুল আমীন - বিরুনিয়া, ভালুকা

২০৪৩. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি প্রথম হজ্ব-ফ্লাইটে করে হজ্বে যান। তিনি একজনের বদলী হজ্বে গেছেন। তিনি মক্কায় গিয়ে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারেন  যে, বদলীকারী প্রেরকের অনুমতিক্রমে তামাত্তু হজ্বও করতে পারে। এখন তিনি উমরা করে হালাল হয়ে যেতে চান। হাদীসে নাকি এমন এজাযত আছে। জানতে চাই, তার জন্য কি এমনটি করা বৈধ হবে?

উত্তর

প্রেরণকারীর অনুমতি সাপেক্ষে বদলীকারীর জন্য তামাত্তু হজ্ব করা জায়েয হলেও প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির জন্য তামাত্তু করার সুযোগ নেই। কারণ তিনি হজ্বের ইহরাম করে মক্কায় পৌঁছে গেছেন। আর হজ্বের ইহরাম বাঁধার পর হজ্ব না করে হালাল হওয়ার সুযোগ নেই। শুধু বদলীকারীর জন্য নয়নিজের হজ্বে গেলেও একই হুকুম।

বিদায় হজ্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে উমরা করে হজ্বের ইহরাম ত্যাগ করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা শুধু ঐ বছরের জন্য ছিল। ঐ হুকুম পরবর্তীতে প্রযোজ্য হবে না। হাদীস শরীফে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করেছিলেন যেএই সুযোগ কি এবছরের জন্যনা পরেও থাকবেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনএটা তোমাদের জন্য বিশেষ হুকুম।

সুনানে আবু দাউদ ১/২৫২; সুনানে ইবনে মাজাহ ২১৪; সুনানে নাসাঈ ২/১৭; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৫/২৫৩; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ১৯৭; ইলাউস সুনান ১০/২৬৬-২৭০; যুবদাহ ৩৪১; রদ্দুল মুহতার ২/৫০২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আরমান - ময়মনসিংহ

২০৪২. প্রশ্ন

আজকাল ভিড়ের কারণে অনেক মহিলার পক্ষ থেকে মাহরাম পুরুষরাই কংকর মারার কাজ সেরে নেন। এটা কি সহীহ? আবার অনেক মহিলা ভিড়ের কারণে মুযদালিফার মাঠে না থেকে সরাসরি মিনার তাঁবুতে এসে রাত যাপন করেন। সাথে মাহরাম পুরুষও এসে পড়েন। জানতে চাই এমন করা কি জায়েয হবে? এতে কি কোনো দম ওয়াজিব হবে? 

উত্তর

ভিড়ের ওজরে অন্যকে দিয়ে রমী করানো (কংকর মারানো) বৈধ নয়। এর দ্বারা তাদের এই ওয়াজিব আদায় হবে না। দিনের বেলায় ভিড় থাকলেও রাতে তেমন ভিড় থাকে না। রাতে মহিলা ও দুর্বলদের জন্য রমীর উপযুক্ত সময়। প্রকাশ থাকে যেঅন্যকে দিয়ে রমী করানো কেবল তখনই জায়েয যখন হাজ্বী অসুস্থতার কারণে জামরাতে পৌঁছতে এবং রমী করতে সক্ষম না হন। যে অসুখে তার জন্য বসে নামায পড়া বৈধ এমন অবস্থায় অন্যকে দিয়ে রমী করাতে পারবেনঅন্যথায় নয়। আর ভিড়ের ওজরে মহিলাদের জন্য উকূফে মুযদালিফা না করে আরাফা থেকে সরাসরি মিনায় চলে যাওয়ার অনুমতি আছে। এতে তাদের উপর দম ওয়াজিব হবে না। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশী হাজ্বীদের মিনার তাঁবুগুলো যেহেতু মূলত মুযদালিফার সীমানাতেই পড়ে তাই আরাফা থেকে সরাসরি মিনার ঐ তাঁবুতে চলে গেলেও সকলের উকূফে মুযদালিফা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু সক্ষমদের জন্য উত্তম হবে মসজিদে মাশআরে হারামের নিকটে খোলা আকাশের নিচে উকূফ করা।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালেম - গাজীপুর

২০৪১. প্রশ্ন

 

ক) এক ব্যক্তি এক গরীব লোককে হজ্বের জন্য তিন লাখ টাকা দিয়ে বলেছে, এটা তোমাকে দিলাম। বদলী হজ্ব নয়। লোকটি হঠাৎ হজ্বের ব্যবস্থা হওয়ায় ভীষণ খুশি হল। কিন্তু তাকে এক মুআল্লিম বলল, তোমার এ হজ্ব দ্বারা ফরয হজ্ব আদায় হবে না। তাই সামর্থ্যবান হলে তখন তোমাকে নিজের টাকা দিয়ে আবার হজ্ব করতে হবে। একথা কি সঠিক?

খ) আমাদের অফিস থেকে এ বছর দুজনকে হজ্বে পাঠানো হচ্ছে। তারা প্রতিবছর পাঠায়। এটা কর্মচারীদের জন্য একটা সুযোগ। জানতে চাই, কোনো কর্মচারী যদি একেবারে গরীব হয়, যার উপর হজ্ব ফরয হয়নি সে এভাবে হজ্ব করলে তা কি ফরয হজ্ব হবে? তেমনিভাবে যাদের টাকা আছে তারা নিজ খরচে না গিয়ে এভাবে গেলে ফরয হজ্ব আদায় হবে কি?

 

উত্তর

ঐ মুআল্লিমের কথা ঠিক নয়। প্রশ্নোক্ত উভয় ক্ষেত্রেই তাদের ফরয হজ্ব আদায় হবে। ফরয হজ্ব আদায়ের জন্য নিজের পূর্ব মালিকানাধীন টাকা খরচ করা কিংবা পূর্ব থেকে স্বচ্ছল থাকা শর্ত নয়কোনো গরীব ব্যক্তির উপর পূর্ব থেকে হজ্ব ফরয না থাকলেও  কারো অনুদানের অর্থ দিয়ে হজ্ব করলেও ফরয হজ্ব আদায় হবে। এরূপ ব্যক্তি যখন হজ্বের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তখন তার উপর হজ্ব ফরয হয়ে যায়।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৩৭; ফাতওয়া হিন্দিয়া ১/২১৭

শেয়ার লিংক

নূর মুহাম্মাদ - শাহরাস্তি, চাঁদপুর

২০৪০. প্রশ্ন

মাওলানা ওমর আলী রাহ. সম্পর্কে মাওলানা ইসহাক ওবায়দীর অভিব্যক্তিটি পড়ে বেশ উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাআলা তাঁকে জাযায়ে খায়ের দান করুন আমীন। কিন্তু এই প্রবন্ধে ইসলামী বিশ্বকোষকে বেশ গুরুত্ব  দেওয়া হয়েছে। অথচ আমি আগে এটিকে এতটা গুরুত্ব দিতাম না। তাই প্রশ্ন জাগে, বাস্তবিকই কি এটি নির্ভরযোগ্য? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

 সার্বিক বিবেচনায় এই বিশ্বকোষটিকে নির্ভরযোগ্য বলা মুশকিল। তবে এটাও ঠিক যেকিছু বিষয়ের উত্তম ও নির্ভরযোগ্য কিছু প্রবন্ধ এতে রয়েছে। বিশেষত সঠিক           চিন্তা-চেতনার অধিকারী মুহাক্কিক আলেম কর্তৃক যেসব প্রবন্ধ রচিত হয়েছে তা নিঃসন্দেহে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যেএর অধিকাংশই হচ্ছে প্রাচ্যবিদদের রচিত বিভিন্ন প্রবন্ধের হুবহু অনুবাদ।  আর কিছু প্রবন্ধ এমনও আছেযা অপরিপক্ক আলেম কর্তৃক রচিতযাদের সরাসরি ইসলামী মাসাদির থেকে জ্ঞান অর্জনের যোগ্যতা নেই। যারা বিভিন্ন অনুবাদ ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কিতাবগুলো সামনে রেখে লিখে থাকেন। এ জাতীয় রচনা তথ্যের দিক থেকেও গ্রহণযোগ্য নয়দ্বীন শিখা তো পরের কথা।

মাওলানা ওমর আলী রাহ.-এর একটি  বিশেষ কীর্তি এই যেযখন তিনি মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভীসহ অন্যান্য মুহাক্কিক আলেমের সোহবত লাভ করেন আর তাঁর কাছে প্রাচ্যবিদদের ইসলাম-বিদ্বেষ স্পষ্ট হয় সাথে এই রচনার অন্যান্য ত্রুটি-বিচ্যুতির প্রতিও তার দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় তখন তিনি অনেক মেহনত করে এই মর্মে রেজুলেশন পাশ করিয়ে নেন যেরচনাটি নতুনভাবে সংশোধন করা হবে। এর জন্য একটিসম্পাদনা বোর্ডও গঠন করা হয়।

আমার জানা মতেএই বোর্ড এখনও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। যদি তাঁরা গভীরভাবে পুনঃসম্পাদনা করেন এবং সে অনুযায়ী সংকলনটি পুনঃপ্রকাশ করা হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ রচনাটির অবস্থাআগের চেয়ে ভালো হবে বলে আশা করা যায়।

মাওলানা ইসহাক ওবায়দী সাহেবও এই রচনাটিকে নির্ভরযোগ্য বলেননিবরং তাঁর উদ্দেশ্য হল বাংলা ভাষা-যার রচনা-ভাণ্ডার ইলমী’ কাজ থেকে প্রায় শূন্য-সে ভাষায় এই বিরাট সংকলন তৈরি হওয়াও কম কথা নয়

শেয়ার লিংক