হাসিনা আক্তার - আরামবাগ, ঢাকা

১৭১৫. প্রশ্ন

একজন বলল, রমযান মাসে রোযা অবস'ায় মাসিক শুরু হলে বাকি দিন অনাহার থাকা জরুরি। একথা কি ঠিক?

উত্তর

না, ঐ কথা ঠিক নয়। রোযা অবস'ায় মাসিক শুরু হলে বাকি দিন পানাহার করতে পারবে। তদ্রূপ যতদিন মাসিক চলবে ততদিন রমযানের দিনের বেলায় পানাহার করা জায়েয। তবে অন্যদের সামনে খাবে না। অবশ্য রমযান মাসে দিনের বেলায় মাসিক বন্ধ হলে বাকি দিন পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরি।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/২২০; আলজাওয়াহারা ১/১৮৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইসমাঈল আবরার - মিরপুর, ঢাকা

১৭১৪. প্রশ্ন

খতম তারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা হাদিয়া নেওয়া জায়েয কি না? এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন দিলে জায়েয হবে কি না? কেউ কেউ বলেন, ফরয নামাযের ইমামতির বিনিময় যখন জায়েয তখন খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণও জায়েয হবে। এছাড়া হাফেজ সাহেবকে যদি দু’এক ওয়াক্ত ফরয নামাযের দায়িত্ব দেওয়া হয় তবে তো নাজায়েয হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের একথা ঠিক কি না? ইমামতির হীলা হোক বা অন্য কোনো উপায়ে তারাবীর বিনিময় বৈধ কি না?

উত্তর

খতম তারাবীর বিনিময় দেওয়া-নেওয়া দুটোই নাজায়েয। হাদিয়ার নামে দিলেও জায়েয হবে না। এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন হিসাবে দিলেও জায়েয নয়। কারণ এক্ষেত্রেও প্রদেয় বেতন তারাবীহ এবং খতমের বিনিময় হওয়া স্বীকৃত। মোটকথা, খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণের জন্য হিলা অবলম্বন করলেও তা জায়েয হবে না। কারণ খতমে তারাবীহ খালেস একটি ইবাদত, যা নামায ও রোযার মতো ‘ইবাদতে মাকসূদা’-এর অন্তর্ভুক্ত। আর এ ধরনের ইবাদতের বিনিময় বা বেতন দেওয়া-নেওয়া উম্মতে মুসলিমার ঐকমত্যের ভিত্তিতে নাজায়েয। এতে না কোনো মাযহাবের মতপার্থক্য আছে, না পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণের মাঝে কোনো মতভেদ আছে।

ইমামতির বেতন ঠিক করা এবং তা আদায় করা যদিও পরবর্তী ফকীহগণের দৃষ্টিতে জায়েয, কিন্তু খতম তারাবীর বিনিময়টা ইমামতির জন্য হয় না; বরং তা মূলত খতমের বিনিময়ে হয়ে থাকে। আর তেলাওয়াতের বিনিময় গ্রহণ করা সকল ফকীহ্র নিকট হারাম। অধিকন্তু পরবর্তী ফকীহ্গণ যে ইমামতির বেতন জায়েয বলেছেন সেটা হল ফরযের ইমামতি। সুন্নাত জামাতের ইমামতি এর অন-র্ভুক্ত নয়।

আর হাফেযদের দেওয়া বিনিময়কে জায়েয করার জন্য এই হিলা অবলম্বন করা যে, শুধু রমযান মাসের জন্য তার উপর দু-এক ওয়াক্ত নামাযের দায়িত্ব দেওয়া হবে-এটা একটা বাহানামাত্র; যা পরিহার করা জরুরি। কারণ এই হিলার যে বিমিনয়টা তাকে ফরযের ইমাতির জন্য দেওয়া হচ্ছে আর তারাবীর খতম সে বিনিময়হীনভাবেই করে দিচ্ছে। কিন' আপনার মনকে একটু প্রশ্ন করে দেখুন, যদি ওই হাফেয সাহেব তার দায়িত্বে অর্পিত ফরয নামাযের ইমামতি যথাযথ গুরুত্বের সাথেও আদায় করেন আর খতম তারাবীতে অংশগ্রহণ না করেন তবে কি তাঁকে ওই বিনিময় দেওয়া হবে, যা খতম তারাবী পড়ালে দেওয়া হত? এ কথা সুস্পষ্ট যে, কখনো তা দেওয়া হবে না। বোঝা গেল, বিনিময়টা মূলত খতম তারাবীর, ফরযের ইমামতির নয়। এ জন্যই আকাবিরের অনেকে এই হিলা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর দলীলের ভিত্তিতেও তাঁদের ফতওয়াই সহীহ। দেখুন : ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২২; ইমদাদুল আহকাম ১/৬৬৪

সারকথা হল, কুরআন তেলাওয়াত, বিশেষত যখন তা নামাযে পড়া হয়, একটি খালেস ইবাদত, যা একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন'ষ্টির জন্যই হওয়া চাই। তাতে কোনো দুনিয়াবী উদ্দেশ্য শামিল করা গুনাহ। নিচে এ বিষয়ে কিছু হাদীস, আছারের অনুবাদ ও ফিকহের উদ্ধৃতি পেশ করা হল।

  • ১. হযরত আবদুর রহমান ইবনে শিবল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পড় তবে তাতে বাড়াবাড়ি করো না এবং তার প্রতি বিরূপ হয়ো না। কুরআনের বিনিময় ভক্ষণ করো না এবং এর দ্বারা সম্পদ কামনা করো না।’-মুসনাদে আহমদ ৩/৪২৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৪০; কিতাবুত তারাবীহ
  • ২. ‘ইমরান ইবনে হোসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পড় এবং আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা কর। তোমাদের পরে এমন জাতি আসবে, যারা কুরআন পড়ে মানুষের কাছে প্রার্থনা করবে।’-মুসনাদে আহমদ ৪/৪৩৭; জামে তিরমিযী ২/১১৯
  • ৩. ‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মা’কিল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এক রমযান মাসে লোকদের নিয়ে তারাবীহ পড়লেন। এরপর ঈদের দিন উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ রাহ. তাঁর কাছে এক জোড়া কাপড় এবং পাঁচশ দিরহাম পাঠালেন। তখন তিনি কাপড় জোড়া ও দিরহামগুলো এই বলে ফেরত দিলেন যে, আমরা কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করি না।’-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৩৭

আরো দেখুন : ফাতাওয়া শামী ৬/৫৭; তানকীহুল ফাতাওয়া হামীদিয়া ২/১৩৭-১৩৮; আলইখতিয়ার লিতা’লীলিল মুখতার ২/৬২; শিফাউল আলীল ওয়াবাল্লুল গালীল (রাসায়েলে ইবনে ইবনে আবেদীন) ১/১৫৪-১৫৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩১৫-৩১৯ ও ৩২২; রাফেউল ইশকালাত আনহুরমাতিল ইসি-জার আলাত্তাআত, মুফতিয়ে আযম হযরত মাওলানা মুফতী ফয়যুল্লাহ রাহ.।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আসগর আলী - নীলফামারী, রংপুর

১৬৯৯. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে স্বীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়েছে এবং এক পর্যায়ে সে স্বপ্নে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিয়েছে। জানতে চাই, এই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে স্বপ্নে তালাক দেওয়ার কারণে তালাক হয়েছে কি না?


উত্তর

ঘুমন্ত অবস্থায় বা স্বপ্নে স্ত্রীকে তালাক দিলে তা কার্যকর হয় না । অতএব প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির স্বপ্নে দেওযা তালাকও কার্যকর হয়নি। তাদের বিবাহ পূর্বের মতো যথারীতি বহাল রয়েছে।

-সুনানে নাসায়ী ৬/১৫৬; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৬/৪১১; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৩৯১; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ২/১১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৫৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালীমুদ্দীন ফেনবী - সিলোনিয়া, ফেনী

১৬৯৮. প্রশ্ন

কোনো কোনো লোককে দেখা যায়, সালাম দিলে উত্তরে শুধু মাথা নাড়ায়। মুখে জওয়াব দেয় না। প্রশ্ন হল, শুধু মাথা নাড়ালেই সালামের জওয়াব আদায় হবে কি না? জানাবেন।


উত্তর

সালামদাতাকে জওয়াব শুনিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। জওয়াব না শুনিয়ে নিম্ন স্বরে দেওয়া যথেষ্ট নয়। আর মৌখিক জওয়াব না দিয়ে শুধু মাথা নাড়ানোর দ্বারা সালামের উত্তর আদায় হয় না। উল্লেখ্য যে, যদি সালামদাতা বধির হয় কিংবা দূরে থাকে যেখানে আওয়াজ পৌঁছবে না। তাহলে মৌখিক জওয়াবের পাশাপাশি ইশারাও করবে। যেন সালামদাতা বুঝতে পারে যে, তার সালামের জওয়াব দেওয়া হয়েছে।

-সূরা নিসা : ৮৬; সহীহ বুখারী ২/৯২৪; জামে তিরমিযী ২/৯৯; উমদাতুল কারী ২২/২৩০; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/১৮; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪২৩; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/৩৫৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৩৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - সিলোনিয়া, ফেনী

১৬৯৭. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি বালেগ হওয়ার পর থেকে তিন বছর যাবৎ ঈদের নামায ব্যতিত অন্য কোনো নামায পড়েনি। এখন সে দ্বীনী বুঝ আসার পর নামায পড়া আরম্ভ করেছে। আর বিগত জীবনের নামাযগুলো কাযা করতে চায়। তবে কিভাবে পড়বে জানে না। অনুগ্রহ করে জানাবেন বিগত জীবনের নামায আদায় করার জন্য নিয়ত করবে কিভাবে?


উত্তর

ঐ ব্যক্তি বিগত দিনের কাযা নামাযগুলোর জন্য এভাবে নিয়ত করবে, আমার জীবনের অনাদায়ী প্রথম ফজর আদায় করছি। পরবর্তী ফজরও প্রথম অনাদায়ী ফজরের নিয়তে আদায় করবে। যোহর, আসর ইত্যাদি ওয়াক্তও একই নিয়মে পড়বে। অর্থাৎ অনাদায়ী প্রথম যোহর পড়ছি, অনাদায়ী প্রথম আসর পড়ছি ইত্যাদি।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১১০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯১; মাজমাউল আনহুর ১/২১৬; রদ্দুল মুহতার ২/৭৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মোস্তফা হোসাইন - দেবিদ্বার,কুমিল্লা

১৬৯৬. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে ইমাম সাহেব তারাবীর নামাযের শেষ বৈঠকে এ পরিমাণ বসার পর সালাম ফিরিয়ে দেন যে সময়ে  শুধু তাশাহহুদ পড়া যায়। দুরূদ ও দুআ পড়া যায় না। এখন আমার জানার বিষয় হল, তারাবীর নামাযে ইমামের জন্য দরূদ ও দুআ পড়ার কি হুকুম? পড়বে, না পড়বে না।


উত্তর

অন্য নামাযের মতো তারাবীতেও শেষ বৈঠকে দুরূদ ও দুআ পড়া সুন্নত। ইমাম-মুক্তাদী সকলের জন্যই সুন্নত। ইমামের উচিত শেষ বৈঠকে দুআ-দুরূদ এমন ধীর গতিতে পড়া যেন ঐ সময়ের মধ্যে মুক্তাদীদের দুরূদ ও দুআ পড়া সম্ভব হয়। তারাবীহ নামাযে এগুলো পড়তে হবে না এমন কোনো নিয়ম নেই। ইমাম-মুক্তাদী সকলের জন্য তা পড়া সুন্নত।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৬৯; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৪০৮-৪০৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৭৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রিয়াজুল ইসলাম - শাহরাস্তি, চাঁদপুর

১৬৯৫. প্রশ্ন

সাধারণত পুরুষদের লাশে সুগন্ধি লাগানো হয়। এখন জানার বিষয় হল, মহিলাদের লাশেও কি সুগন্ধি লাগানো যাবে?


উত্তর

হ্যাঁ, মহিলাদের লাশেও সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪১৬; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৫৭৯; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৬৭; আননাহরুল ফায়েক ১/৩৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - খিলগাও, ঢাকা

১৬৯৪. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু একটি  রোপার আংটি দিয়েছে যার উপর হীরার পাথর লাগানো আছে। আমর জানার বিষয় হল, পুরুষের জন্য কি হীরার ঐ আংটি ব্যবহার করা জায়েয আছে? দয়া করে জানিয়ে উপকার করবেন।


উত্তর

হ্যাঁ, হীরার পাথর বিশিষ্ট রোপার আংটি ব্যবহার করা পুরুষের জন্যও জায়েয।

-জামে তিরমিযী ৪/২১৮; আলজামিউস সগীর ৪৭৭; হিদায়া (ফাতহুল কাদীর) ৮/৪৫৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৫০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৩৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৬০

শেয়ার লিংক

শাফায়াত আহমদ - লাকসাম, কুমিল্লা

১৬৯২. প্রশ্ন

কুরআন শরীফ পড়ার সময় যখন সিজদার আয়াত আসে তখন মাঝে মাঝে আমি তা মনে মনে পড়ি। আমার জানার বিষয় হল, মনে মনে সিজদার আয়াত পড়ার দ্বারা সিজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হবে কি না?


উত্তর

আয়াতে সিজদা মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে জপলে সিজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হয় না। তাই যে সকল ক্ষেত্রে সিজদার আয়াত মনে মনে পড়েছেন ঐ সকল ক্ষেত্রে সিজদা ওয়াজিব হয়নি। উল্লেখ্য, তেলাওয়াতের মাঝে  সিজদার আয়াত আসলে তা স্বাভাবিকভাবে তিলাওয়াত না করে মনে মনে পড়ে নেওয়া ঠিক নয়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩২; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৩২২; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৫০০; রদ্দুল মুহতার ২/১০৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু হুরায়রা - নেত্রকোণা

১৬৯১. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি রমযানের প্রথম রোযার দিন এই নিয়ত করে যে, আমি পূর্ণ এক মাসের রোযা রাখার নিয়ত করলাম। জানার বিষয় হল, উক্ত ব্যক্তির এই নিয়তের দ্বারা পূর্ণ এক মাসের রোযা আদায় হবে কি না? রমযান মাসে আমরা সেহরী খাই কিন্তু রোযার নিয়ত করি না। সেহরী খাওয়ার দ্বারাই কি রোযার নিয়ত হয়ে যাবে?


উত্তর

রমযান মাসের প্রত্যেক রোযার জন্য প্রতিদিন পৃথক পৃথক নিয়ত করা শর্ত। এক সাথে পুরো মাসের নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। তবে রোযার উদ্দেশ্যে  সেহরী খাওয়াও রোযার নিয়তের অন্তর্ভুক্ত। মৌখিক নিয়ত করা জরুরি নয়।

-সহীহ বুখারী ১/২; ফাতাওয়া হিন্দিয় ১/১৯৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০০-২০১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৭৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - মালিবাগ, ঢাকা

১৬৯০. প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পাশে একটি বড় বাজার আছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এ বাজারে আসে। অনেকেই সাইকেলে করে বাজারে আসেন এবং এক ব্যক্তির দোকানে হেফাযতের জন্য রাখেন। দোকানের মালিক এর জন্য সময় অনুপাতে নির্ধারিত ফি নিয়ে থাকে। যেমন ঘন্টা প্রতি ১/২ টাকা। জানতে চাই, সাইকেল জমা রেখে এভাবে ফি গ্রহণ করা জায়েয হবে কি না?


উত্তর

হ্যাঁ, সাইকেল হেফাযতের জন্য ঘন্টা হিসাবে বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ হবে।

-মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ মাদ্দা : ৭৭৭; শরহুল মাজাল্লাহ খালিদ আতাসী ৩/২৪২; শরহুল মাজাল্লাহ, সীলম বায ১/৪৩১; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৬৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - কাফরুল, ঢাকা

১৬৮৯. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে তাবলীগ জামাতের গাস্তের দিন এক ব্যক্তি ঈমান-একিনের কথা শুনার জন্য এক হিন্দু ব্যক্তিকে মসজিদে নিয়ে আসে এবং সে দীর্ঘ সময় মসজিদে বসে দ্বীনী কথা শুনে। এখন আমার জানার বিষয় হল, অমুসলিম ব্যক্তির জন্য কি মসজিদে প্রবেশ করা জায়েয আছে? এবং উক্ত ব্যক্তি জেনেশুনে অমুসলিম ব্যক্তিকে মসজিদে এনে কি ঠিক কাজ করেছেন? জানিয়ে উপকৃত করবেন।


উত্তর

দ্বীনী উদ্দেশ্যে হিন্দু বা বিধর্মীকে মসজিদে নিয়ে আসা জায়েয। হাদীস শরীফে এসেছে,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু ছাকিফ গোত্রের কাফের প্রতিনিধি দলকে মসজিদে রেখেছিলেন, যাতে তারা কুরআন শুনে দ্বীনের দিকে ধাবিত হয়। অতএব ঐ হিন্দু লোকটিকে মসজিদে নিয়ে এসে সে কোনো অন্যায় করেনি।

-শরহুস সিয়ারুল কাবীর ১/৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৭; আলজামিউস সগীর ৪৮২; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৩; আহকামুল কুরআন জাসসাস ৩/৮৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আনাস - মিরপুর, ঢাকা

১৬৮৮. প্রশ্ন

 

কামাল সাহেব তিন পুত্র রেখে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তার মালিকানায় শুধুমাত্র ১টি সাবানের ফ্যাক্টরি ছিল। তার তিন ছেলে দীর্ঘ দিন যাবৎ ফ্যাক্টরির যা আয় হত তা সমানভাগে বন্টন করে নিত। বর্তমানে এক ছেলে পারিবারিক কলহে লিপ্ত হয়ে ফ্যাক্টরিটি বন্টন করতে চাচ্ছে। কিন্তু যদি তা বন্টন করা হয় তাহলে তা থেকে কোনো আয়ের সম্ভাবনা নেই। তাই অন্য ভাইরা বন্টনে সম্মত নয়। এ অবস্থায় এক ভাইয়ের দাবি অনুযায়ী ফ্যাক্টরিটি বন্টন করা জরুরি কি না? দয়া করে জানাবেন।


 

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু কারখানাটি উৎপাদন উপযোগী রেখে বন্টন করা সম্ভব নয় তাই এ পরিস্থিতিতে সকল মালিকের সম্মতি ছাড়া তা বন্টন করা যাবে না। শুধু একজনের দাবি মেনে তা বন্টন করা জরুরি নয়। কেউ অংশিদার না থাকতে চাইলে কারখানার ন্যায্য মূল্য হিসাব করে অন্য অংশিদারগণ তাকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিবে। কিংবা শরীকদের সম্মতিতে অন্য কারো কাছে তার শেয়ার বিক্রিও করে দিতে পারে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২০৪; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৪৬৬; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/১৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/২৫৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাহফুয - চাঁদপুর

১৬৮৭. প্রশ্ন

আমার এক খালাত ভাই মুদীব্যবসায়ী। সে কিছুদিন আগে দু লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করার সময় আমাকে বলে, তুমি আমার দোকানে টাকা বিনিয়োগ কর। তোমার টাকার যা লাভ হবে তার পুরোটাই তুমি পাবে এবং ব্যবসায় তোমাকে কোনো শ্রমও দিতে হবে না। আমি এ শর্তে তার ব্যবসায় এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসার এক তৃতীয়াংশের অংশীদার হয়ে যাই।

জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত চুক্তি বৈধ হয়েছে কি না? আর চুক্তি অনুযায়ী লাভের এক তৃতীয়াংশ আমি নিতে পারব কি না? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত চুক্তিটি বৈধ হয়েছে এবং চুক্তি অনুযায়ী পুরো ব্যবসার লাভের এক তৃতীয়াংশ আপনি নিতে পারবেন। আর ব্যবসায় লোকসান হলে আপনার মূলধন অনুযায়ী ক্ষতি বহন করতে হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩২০; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৮৩; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৭৭; মিনহাতুল খালেক ৫/১৭৫; রদ্দুল মুহতার ৪/৩১৩ ও ৫/৬৪৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম - ফরিদাবাদ মাদরাসা

১৬৮৬. প্রশ্ন

সৎ দাদী (তথা আপনা দাদী নয়) কে যাকাত ও ফেতরা দেওয়া জায়েয হবে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, সৎ দাদীকে যাকাত-ফেৎরা দেওয়া যাবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬২; ফাতহুল কাদীর ২/২০৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম - ফরিদাবাদ মাদরাসা

১৬৮৫. প্রশ্ন

আমাদের দেশে একটি কোম্পানি রয়েছে, যারা এম. এল. এল. পদ্ধতি অনুযায়ী লোক ভর্তি করার মাধ্যমে তাদের কোম্পানিকে পরিচালিত করে আসছে এবং তারা সদস্যদেরকে এই আশা দিয়ে থাকে যে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করলে প্রতি মাসে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা অর্জন করা যাবে।

আমাদের এলাকায় এর কার্যক্রম বেশ প্রচলিত। অনেকেই সদস্য হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমাকেও অনেকে এ কাজ করতে বলছে। আমারও মাসিক বেতন এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা হবে বলে আশা দিচ্ছে।

এখন আমার প্রশ্ন হল এই যে, উক্ত কোম্পানির সদস্য হয়ে তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা উপার্জন করা বৈধ হবে কি? বিস্তারিত দলীল-প্রমাণসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।




উত্তর

এম.এল.এল. পদ্ধতি বহু কারণে শরীয়তসম্মত নয়। এ পদ্ধতির ব্যবসা শরীয়ত সমর্থন করে না। সুতরাং এ পদ্ধতি অনুসৃত সকল কোম্পানির ব্যবসা নাজায়েয।

উল্লেখ্য. দেশের বিজ্ঞ মুফতীদের সমন্বয়ে গঠিত বেফাকুল মাদারিস মুফতী বোর্ড ঢাকা দীর্ঘ গবেষণা ও পর্যালোচনার পর উক্ত এম.এল.এল কারবারকে সম্পূর্ণ শরীয়ত বিরোধী ও নাজায়েয হওয়ার ফতওয়া প্রদান করেছে। উক্ত ফতওয়া দেশের নির্ভরযোগ্য ফতওয়া বিভাগ এবং বড় বড় মাদরাসার মুফতীদের স্বাক্ষরসহ পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়েছে। যাত্রাবাড়ির কাজলায় অবস্থিত বেফাক অফিস থেকে পুস্তিকাটি সংগ্রহ করে পড়লে এ সম্পর্কিত শরয়ী দলিলাদি সহজেই জানা সম্ভব।

শেয়ার লিংক

হাম্মাদ রবীউল আওয়াল - পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ

১৬৮৪. প্রশ্ন

 ...।


উত্তর

আপনার প্রশ্নের উত্তর সরাসরি কিংবা ফোনে জেনে নিন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রুহুল আমীন - দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর

১৬৮০. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হল, মসজিদে বসে ইজতিমায়ীভাবে উচ্চস্বরে যিকির করার নিয়ম আছে কি না। তিনি বললেন, আছে। কিন্তু তার কথায় কিছুটা জটিলতা অনুভব হল। আমার জানার বিষয় হল, এভাবে মসজিদে বসে সম্মিলিতভাবে উচ্চস্বরে যিকির করার নিয়ম কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

 

উত্তর

একাকী যিকির করা বা কয়েকজন একত্রিত হয়ে উঁচু আওয়াজে যিকির করা উভয়টিই শরীয়তে অনুমোদিত। তা মসজিদে হোক বা অন্য কোথাও।

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার প্রতি বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সাথে থাকি। সে যদি একাকী আমার যিকির করে তাহলে আমি গোপনে তাকে স্মরণ করি। সে কোনো মজলিসে আমার যিকির করলে আমি তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে তার আলোচনা করি।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৭৪০৫

ইমাম সুয়ূতী রাহ. বলেন, জামাতে যিকির করলে আওয়াজ তো হবেই।-আলহাবী লিলফাতাওয়া ২/১২৯

তবে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে কয়েকটি শর্ত পূরণ করা অত্যাবশ্যক। যথা :

১. লোক দেখানোর উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত হওয়া।

২. কোনো ব্যক্তির নামাযে বা অন্য কোনো ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটানো।

৩. কোনো ব্যক্তির বিশ্রামে সমস্যা না হওয়া।

৪. আওয়াজ স্বাভাবিক হওয়া, চিৎকার করে বা অতিরিক্ত উঁচু আওয়াজে না হওয়া এবং মাইক ব্যবহার না করা।

৫. সাধারণভাবে এবং সহীহ-শুদ্ধ করে যিকির করা। যিকিরের শব্দ উচ্চারণে লাহনে জলী থেকে বেঁচে থাকা। যদি উল্লেখিত শর্তাবলি পাওয়া যায় তবে ইজতিমায়ী যিকির করতে কোনো অসুবিধা নেই। আর যদি কোনো ক্ষেত্রে উল্লেখিত শর্তসমূহ বা তা থেকে কোনো একটি শর্ত না পাওয়া যায় তাহলে সেক্ষেত্রে কাজটি শরীয়তসম্মত হবে না। উল্লেখ্য, বর্তমানে অনেক যিকিরের মজলিসে উল্লেখিত শর্তগুলোর অনেক কিছুই লঙ্ঘিত হতে দেখা যায়, যা সংশোধনযোগ্য।

-রদ্দুল মুহতার ১/৬৬০; সিবাহাতুল ফিকরি ফিলজাহরি বিযযিকর, আবদুল হাই লাখনৌভী পৃ. ৩৮; নতীজাতুল ফিকরি ফিলজাহরি বিযযিকর, (আলহাবী লিল ফাতাওয়া ২/১২৮) ইমাম সুয়ূতী; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৫/১৫১

শেয়ার লিংক

আসাদুজ্জামান - আড়াইহাজার

১৬৭৯. প্রশ্ন

হাঁচি দেওয়ার পর হাঁচিদাতার জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলার হুকুম কী? এবং তা কি উচ্চস্বরে বলবে না নিম্নস্বরে?

উত্তর

হাঁচি দেওয়ার পর হাঁচিদাতার জন্য উচ্চ স্বরে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা মুস্তাহাব। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় তখন সে যেন আলহামদুলিল্লাহ বলে। এবং তার সাথী যেন উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে। যখন তার সাথী ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে তখন হাঁচিদাতা যেন উত্তরে ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’ বলে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬২২৪ অন্য হাদীসে এসেছে, ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাছির তার এক উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেন, হাঁচিদাতার জন্য উচিত হল উচ্চস্বরে আলহামদুলিল্লাহ বলা, যাতে করে আশপাশের লোকেরা তা শুনতে পায়। আর ঐ ব্যক্তির আলহামদুলিল্লাহ বলার পর শ্রোতাদের জন্য জরুরি হল ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১৯৬৮০; কিতাবুল আযকার পৃ. ৪৪১; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৪/২৪৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৮৭

শেয়ার লিংক

হুমায়ুন কবীর - মোমেনশাহী

১৬৭৮. প্রশ্ন

হুজুর শব্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাছ নাকি যে কারো সাথে ব্যবহার করা যাবে? বিস্তারিত প্রমাণাদিসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

বাংলা ভাষায় জনাব, মহাশয় যেমনভাবে সম্মানসূচক শব্দ অনুরূপভাবে হুজুর শব্দটিও ফার্সী, উর্দু ও বাংলাভাষায় একটি সম্মানসূচক শব্দ। যা সাধারণত আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তিন ভাষার অভিধান গ্রন্থগুলো দেখলেই এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন ফার্সী অভিধান গিয়াসুল লুগাতে (পৃ. ১৭৪) দেখুন : ‘‘হুজুর শব্দটির অর্থ হল, উপস্থিত হওয়া। তবে পরিভাষায় এটি বুযুর্গ ব্যক্তিদের সম্মানসূচক সম্বোধনের জন্য ব্যবহার করা হয়।’’ একই কথা উর্দু অভিধান ফীরুযুল লুগাত (পৃ. ৫৭১) এবং বাংলা অভিধান বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (পৃ. ১২১২) ও সংসদ বাংলা অভিধান (পৃ. ৭২৩) এ উল্লেখ করা হয়েছে। উপরোল্লেখিত অভিধানগুলোর আলোকে একথাই স্পষ্ট হয় যে, হুজুর শব্দটি ফার্সী, উর্দু ও বাংলা ভাষায় নিছক একটি সম্মানসূচক শব্দ। আর এ অর্থেই এই তিন ভাষার অনেক মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্যও এটি ব্যবহার করে থাকে। শরয়ী পরিভাষা হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয় না। শব্দটি যেহেতু ব্যাপক তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তা ব্যবহার করা হলে সাধারণত অধিক সম্মান বোঝানোর জন্য এর সাথে আকরাম শব্দ যোগ করে হুজুরে আকরাম বলা হয়। মোটকথা, হুজুর শব্দটি সম্মানসূচক বটে তবে এটি এমন কোনো শব্দ নয়, যা শুধু রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ব্যবহৃত হয়। বরং তা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি শব্দ।

-গিয়াসুল লুগাত ১৭৪; ফীরুযুল লুগাত ৫৭১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৩/৩৪২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মাসুম - দিনাজপুর

১৬৭৬. প্রশ্ন

প্রতি বছর আমরা ছয় ভাই একটি গরু কুরবানী করি। একটি গরুতে যেহেতু সাতজন শরিক হতে পারে তাই এবার আমরা পশুর ৭ম ভাগটি ইছালে ছওয়াবের উদ্দেশে মৃত পিতার পক্ষ থেকে কুরবানী দিতে চাচ্ছি। এভাবে মৃত পিতার পক্ষ থেকে কুরবানী করলে তা সহীহ হবে কি এবং ঐ অংশের গোশত কি আমরা খেতে পারব?

 

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় ৬ জন মিলে ৭ম অংশ পিতার পক্ষ থেকে কুরবানী করলে তা সহীহ হবে এবং আপনারা ঐ অংশের গোশত খেতে পারবেন। তবে এটি উত্তম পদ্ধতি নয়। এক্ষেত্রে উত্তম হল, সবাই মিলে এক অংশের টাকা এক ভাইকে মালিক বানিয়ে দিবে। আর ঐ ভাই পিতার পক্ষ থেকে কুরবানী করবে। এতে কাজটি নিয়মসম্মত হবে এবং সকলে সওয়াবও পেয়ে যাবে। আর এ অবস্থায়ও মৃত পিতার পক্ষ থেকে দেওয়া অংশের গোশত কুরবানীদাতার হবে। সে তা নিজেও খেতে পারবে, সদকাও করবে পারবে এবং অন্য শরিককে হাদিয়াও দিতে পারবে।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৮৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ যাকারিয়া - পাবনা

১৬৭৫. প্রশ্ন

 

প্রতি বছর আমরা নির্দিষ্ট পাঁচ শরিক মিলে কুরবানী করি। এ বছরও কুরবানীর এক সপ্তাহ আগে ৫জন মিলে একটি গরু ক্রয় করি। কুরবানীর আগের দিন আমাদের এক প্রতিবেশী তাতে শরিক হতে চাইলে আমরা তাকে শরিক করে নিই। জানার বিষয় হল, এভাবে শরিক করার কারণে আমাদের কুরবানী আদায়ে কোনো ত্রুটি হয়েছে কি না? জানালে উপকৃত হব।

উল্লেখ্য, কুরবানী দাতা প্রত্যেক শরিকই সচ্ছল এবং নেসাব পরিমাণ মালের মালিক।

 

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সকলের কুরবানী সহীহ হয়েছে। তবে পাঁচ জনে মিলে কুরবানী দেওয়ার নিয়তে পশু ক্রয়ের পর নতুন করে শরিক নেওয়া অনুত্তম হয়েছে। এক্ষেত্রে ঐ শরিক থেকে প্রাপ্য টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। অবশ্য সদকা না করলেও কোনো সমস্যা নেই।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪১৭; মাবসূত, সারাখসী ১২/১৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাজমুল হক - পিরোজপুর

১৬৭৪. প্রশ্ন

কুরবানী কার উপর ওয়াজিব? কী পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে একজনের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়?

 

উত্তর

প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রহমতুল্লাহ - কিশোরগঞ্জ

১৬৭৩. প্রশ্ন

আমার ভাই এক মহিলার দুধপান করেছে। ঐ ভাইয়ের বিবাহের বয়স হয়েছে। ভাইয়ের দুধ মা নিজ ননদের সাথে (অর্থাৎ ভাইয়ের দুধ সম্পর্কীয় ফুফু) ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। দুধ সম্পর্কীয় ফুফুর সাথে বিবাহ সহীহ হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

দুধ মাতার ননদের সাথে ঐ ছেলের বিবাহ বৈধ নয়। কেনন ঐ ননদ ছেলেটির দুধ সম্পর্কীয় ফুফু। আর রক্তের (বংশীয়) সম্পর্কের  ফুফুর সাথে যেমনিভাবে বিবাহ হারাম তদ্রূপ দুধ সম্পর্কের ফুফুর সাথেও বিবাহ হারাম।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৯৩, ৯৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু সায়েম - আদর্শনগর, ঢাকা

১৬৭২. প্রশ্ন

এক বছর পূর্বে জনৈক ব্যক্তি আমার থেকে নেসাব পরিমাণ টাকা ধার নেয়। এক বছর পর এক পঞ্চমাংশ টাকা পরিশোধ করেছে। এ টাকা ব্যতীত আমার কাছে অন্য কোনো টাকা জমা নেই। জানার বিষয় হল, এখন কি উক্ত টাকার যাকাত আদায় করা ফরয?

 

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার ঐ টাকার মেয়াদ এক বছর অতিক্রম হওয়ায় এর উপর যাকাত ফরয হয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলে এখনই পুরো ঋণের টাকার যাকাত আদায় করে দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে যতটুকু হস্তগত হয়েছে এখন শুধু সে অংশের যাকাত প্রদান করতে পারেন। এরপর অবশিষ্ট টাকা যখন হস্তগত হবে তখন সেগুলোর বিগত দিনের যাকাতও আদায় করতে হবে।

-মাবসূত, সারাখসী ২/১৯৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭০, ৩০৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ উবায়দুল হক - গোপালগঞ্জ

১৬৭০. প্রশ্ন

মাদরাসার একজন এতীম ছাত্রকে যাকাত প্রদানের নিয়তে আমি নিয়মিত তার টিফিন ক্যারিয়ারের বক্সে খানা দিয়ে আসছি। প্রশ্ন হল, এ পদ্ধতিতে আমার যাকাত প্রদান করা সহীহ কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

 

উত্তর

হ্যাঁ, এ পদ্ধতিতে আপনার যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে খাবারের মূল্য যথাযথভাবে হিসাব করতে হবে, বেশি ধরা যাবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৩; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ২৮

শেয়ার লিংক

মিসেস শাকিলা - টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ

১৬৬৯. প্রশ্ন

বিবাহে আমার মোহর ধার্য করা হয়েছিল দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। বিবাহ হয়েছে প্রায় ২ বছর আগে। মোহর বাবদ কোনো টাকা আমাকে আমার স্বামী দেয়নি। প্রশ্ন হল, মোহরের টাকা হাতে না আসলেও বছর অতিবাহিত হওয়ার কারণে ধার্যকৃত মোহরের উপর যাকাত ফরয হবে কি না? জানালে উপকৃত হব।

 

উত্তর

না, মোহর হস্তগত না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে এর যাকাত দিতে হবে না; বরং হস্তগত হওয়ার পরই তা যাকাতযোগ্য সম্পদ বলে গণ্য হবে।

-কিতাবুল আসল ২/৯০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫২; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৬; ফাতহুল কাদীর ২/১২৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রকিবুল ইসলাম - যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

১৬৬৮. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফে বসে। কয়েকদিন পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে ইতিকাফ ছেড়ে বাড়িতে চলে আসতে হয়েছে। যার কারণে পরবর্তী দিনগুলোতে ইতিকাফ করা সম্ভব হয়নি। জানার বিষয় হল, এখন তার কী করণীয়? ইতিকাফটি তাকে কাযা করতে হবে কি না?

 

উত্তর

ঐ ব্যক্তিকে নফল রোযাসহ একদিনের ইতিকাফ কাযা করে নিতে হবে। এজন্য সে কোনো একদিন সূর্যাস্ত থেকে পরের দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত মসজিদে ইতিকাফ করবে এবং দিনের বেলা রোযা রাখবে।

-রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৪; আহকামে ইতিকাফ পৃ. ৫০

শেয়ার লিংক

মেহেদী হাসান - ক্যান্টনমেন্ট, সিলেট

১৬৬৭. প্রশ্ন

আমার দাদার বয়স ষাট বছর। কয়েক বছর আগে হঠাৎ তিনি দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখনও তিনি ফরয হজ্ব আদায় করেননি। তাই তিনি হজ্ব নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। বলে উঠেন, আল্লাহ যদি আমাকে সুস্থতা দান করেন তাহলে আমি আগামী বছর হজ্ব করব। সুস্থ হয়ে পরের বছর তিনি হজ্ব করেছেন। এখন তার ফরয হজ্বটি কি আদায় হয়েছে, না তাকে আবার হজ্ব করতে হবে? বিষয়টি স্পষ্ট করে জানাবেন।

 

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার দাদা যদি ফরয হজ্ব ব্যতীত অন্য কোনো হজ্বের নিয়ত না করে থাকেন তাহলে তা ফরয হজ্বই আদায় হয়েছে। তাকে নতুন করে ফরয হজ্ব আদায় করতে হবে না।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৬৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৯৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৭

শেয়ার লিংক

শিহাবুদ্দীন - বরিশাল

১৬৬৫. প্রশ্ন

আমি একজন সরকারী চাকুরিজীবী। গত বছর আমি হজ্বে গিয়েছিলাম। হজ্বের বিভিন্ন আমল করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাই। এরপর ১০ই যিলহজ্ব কংকর নিক্ষেপ করতে গিয়ে প্রচন্ড ভিড় দেখে বাসায় ফিরে আসি। পরবর্তীতে অলসতা করে বাকি দিনগুলোতে আর কংকর নিক্ষেপ করতে যাইনি। এখন আমার করণীয় কী? দয়া করে জানাবেন।

 

উত্তর

যিলহজ্ব মাসের ১০, ১১  ও ১২ তারিখ নির্ধারিত সংখ্যক কংকর নিক্ষেপ করা হজ্বের অন্যতম ওয়াজিব। ভিড়ের কারণে বা অন্য কোনো ওজরে যদি কেউ দিনে নিক্ষেপ করতে না পারে তাহলে রাতে হলেও তা নিক্ষেপ করতে হবে, অন্যথায় দম ওয়াজিব হবে।

প্রশ্নোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী আপনার কর্তব্য ছিল ভিড় কমার পর জামারাতে গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করা। ইচ্ছাকৃতভাবে এ ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়াটা অন্যায় হয়েছে। এজন্য আপনাকে তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে এবং হেরেমের এলাকার মধ্যে একটি দম (একটি ছাগল, দুম্বা অথবা উট বা গরুর এক সপ্তমাংশ) দিতে হবে। যদি আপনি দেশে এসে গিয়ে থাকেন তবে কারো মাধ্যমে হেরেম এলাকায় দম আদায়ের ব্যবস্থা করবেন।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৩২৭; গুনইয়াতুন নাসিক ১৮২; মানাসিক ৩৫৮; রদ্দুল মুহতার ২/৫৫৪

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement