মুহাম্মাদ আরেফীন সালেহ - মুহাম্মদপর, ঢাকা

২০১১. প্রশ্ন

আমার একটি লন্ড্রি দোকান আছে। পূর্বে বেতনভুক্ত একজন কর্মচারী রেখেছিলাম। দু’জন মিলে কাজ করতাম। কোনো কারণে সে চলে যায়। এখন এক ব্যক্তি আমাকে প্রস্তাব করেছে যে, সে আমার দোকানে আসবে। দু’জন মিলে মানুষ থেকে কাপড় গ্রহণ করব, ধোলাই ও ইস্ত্রি করব। যা উপার্জন হবে তা অর্ধাঅর্ধি হারে বণ্টিত হবে। জানার বিষয় এই যে, এই পদ্ধতিতে তাকে নেওয়া বৈধ হবে কি না? চাইলে তার সঙ্গে এভাবে চুক্তি করতে পারব কি না যে, যা উপার্জন হবে তার দুই ভাগ আমার, এক ভাগ তার? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দু’জনের মাঝে যা লাভ হবে তা নির্ধারিত হারে বণ্টনের চুক্তি করা জায়েয হবে। দু’জনের কে কত ভাগ পাবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করে নিবে। উভয়ের সম্মতিতে একজনের এক ভাগ ও অপরজনের দুই ভাগও হতে পারে। আবার অন্য কোনো হারেও হতে পারে।

-মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়াহ পৃ. ২৬৭, মাদ্দাহ : ১৩৮৫; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ৪/২৫৬; ফাতহুল কাদীর ৫/৪০৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/২৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৩১; রদ্দুল মুহতার ৪/৩২২

শেয়ার লিংক

এ.কে.এম আবদুল মালেক - পল্লবী, ঢাকা

২০১০. প্রশ্ন

আমরা লক্ষ্য করে আসছি যে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং পল্লবী এলাকার প্রায় শরয়ী মসজিদে মকতবের রেকর্ড করা হচ্ছে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, শিক্ষকগণ বিনিময় নিয়েই ছেলে-মেয়েদেরকে মসজিদে বসে ধর্মীয় শিক্ষা দিচ্ছেন। ছাত্র-ছাত্রীরা সবকের সময়ের ভিতর মসজিদের পাখা, বাতি ইত্যাদি জিনিসপত্রও ব্যবহার করছে। শোরগোল তো আছেই। এভাবে দীর্ঘকাল ধরে মকতব চললেও স্বতন্ত্রভাবে মকতবের জন্য কোনো ঘর তৈরির ভাবনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যে নেই বললেই চলে। বলতে গেলে এভাবে মসজিদগুলো সাময়িকভাবে নয়; বরং এক একটা অনুমোদিত স্থায়ী মাদরাসায় পরিণত হয়েছে। অবশ্য মুসলমানদের ছেলেমেয়েকে ধর্মীয় শিক্ষাদীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাবোধ প্রত্যেকের ভিতর থাকা উচিত। সেটা কীভাবে কোথায় হবে সেটাও নিরুপণ করে নেওয়া উচিত। বর্ণিত বিষয় আমাদের জিজ্ঞাস্য, এভাবে বিনিময় নিয়ে মসজিদের ভিতর কিংবা বারান্দায় বসে ছেলেমেয়েদের পড়ানো বৈধ কি না? যদি বৈধ না হয় তবে বৈধতার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রয়োজনীয় দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয। প্রত্যেক এলাকায় এ উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত দ্বীনী প্রতিষ্ঠান থাকা আবশ্যক। যেখানে সহীহশুদ্ধভাবে দ্বীনের জরুরি বিষয় শিক্ষা দেওয়া হবে। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে সেভাবে ভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। প্রত্যেক মসজিদের পাশে অথবা মহল্লায় মহল্লায় দ্বীনী মকতব চালু করা এজন্যই অপরিহার্য। আর সমাজের লোকজন এ বিষয়টি নিয়ে ভাবলে তা কঠিন ছিল না। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে অদ্যাবধি অনেক এলাকাতে এমন কোনো পৃথক ব্যবস্থা পড়ে উঠেনি, যার দ্বারা ঐ ফরয দায়িত্বটুকু পুরো হবে। এসব কারণেই প্রয়োজনের তাগিদেই মসজিদভিত্তিক মকতবগুলো চালু হয়ে গেছে। এছাড়া দ্বীনী তালীম মসজিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে দ্বীনী তালীমের গোড়াপত্তন করেছেন। অবশ্য মসজিদে বেতন ও পারিশ্রমিক নিয়ে দ্বীনী শিক্ষা চালু করতে ফিকহবিদগণ নিষেধ করেছেন। অতএব স্থায়ীভাবে মসজিদে বেতনভিত্তিক দ্বীনী শিক্ষা চালু করা যাবে না। হ্যাঁ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যতদিন প্রত্যেক এলাকায় দ্বীনী শিক্ষার জন্য পৃথক ব্যবস্থা না হবে ততদিন অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসাবে মসজিদে তা করা যাবে। উল্লেখ্য যে, ফকীহগণ জরুরতের সময় এবং অস্থায়ীভাবে মসজিদে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দ্বীনী তালীমকে বৈধ বলেছেন। তবে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হল : ক) উস্তাদ, তালিবে ইলম সকলেই মসজিদের আদাবের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখবে। আদাব ক্ষুণ্ন হয় এমন আচরণ থেকে বিরত থাকবে। খ) এলাকার সকল মুসলমানদের কর্তব্য হল, দ্বীনী শিক্ষার প্রয়োজন পূরণ হয় এমন পৃথক মকতব মাদরাসা নিজ নিজ এলাকায় গড়ে তুলবে এবং মসজিদের মকতব সেখানে স্থানান্তর করবে। গ) একেবারে অবুঝ শিশু, যারা মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করতে পারবে না তাদেরকে আসার সুযোগ দিবে না। তেমনিভাবে পর্দার বয়স হয়ে যায় এমন মেয়েদেরকেও মসজিদে আসতে দিবে না। তাদের জন্য নিজ বাড়িতে পর্দার সাথে শিক্ষার ব্যবস্থা করবে। ঘ) যেহেতু মসজিদভিত্তিক মকতব আমাদের দেশের বহুদিনের প্রচলন। এতে দাতা ও মুসল্লীদেরই সন্তানরা শিক্ষাগ্রহণ করে। তাই এই মকতবের জন্য মসজিদের চাটাই, বিদ্যুৎ ইত্যাদির প্রয়োজনীয় ব্যবহার দাতাদের মৌন সম্মতির দৃষ্টিতে বৈধ গণ্য হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১০, ৪/৪৫৭; ফাতহুল কাদীর ১/৩৬৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৫; আননাহরুল ফায়েক ১/২৯০; রদ্দুল মুহতার ৬/৪২৮

শেয়ার লিংক

ইবনে মুহাম্মাদ - আলীনগর, সিলেট

২০০৯. প্রশ্ন

আমদের এলাকায় প্রচলন রয়েছে যে, বিয়ে উপলক্ষে কনের ইজিন নেওয়ার সময় কনের দু’জন কফিল এবং বরের দু’জন কফিল উপস্থিত থাকতে হয়। তাদের উপসি'তিতে কোনো আলেম সাহেব খুতবা পড়ে নিয়মানুযায়ী ইজিন নেন। বরপক্ষে কফিলের উপস্থিতির কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, সাক্ষী স্বরূপ তাদের উপস্থিতি জরুরি। জানার বিষয় এই যে, কনের ইজিন নেওয়ার সময় বরপক্ষের উকিলের সাক্ষীস্বরূপ উপসি'তি শরীয়তসম্মত কি না? ইজিন নেওয়ার সময় বরপক্ষের সাক্ষীর থাকা জরুরি কি না।

উত্তর

মেয়ে থেকে বিয়ের ইজিন তথা অনুমতি নেওয়ার জন্য সাক্ষী থাকা অপরিহার্য নয়। একজন ব্যক্তিও মেয়ে থেকে অনুমতি নিয়ে এসে তার পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব বা কবুল করতে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে সাক্ষী রাখা জরুরি নয়, তবে সাক্ষী থাকা ভালো। গায়রে মাহরাম পুরুষদের জন্য সরাসরি মেয়ে থেকে অনুমতি (ইজিন) নিতে যাওয়া বৈধ হবে না। আর ইজনের জন্য পাত্র পক্ষ থাকতেই হবে এমন কোনে আবশ্যকতা নেই।

-আলবাহরুর রায়েক ৩/৮২; রদ্দুল মুহতার ৩/২১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ এহতেশামুল হক - জামিয়া এজাজিয়া রেলস্টেশন যশোর

২০০৮. প্রশ্ন

আমাদের দেশে বর্তমানে শুধু পেনশনভোগী অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারি-কর্মকর্তাদের জন্য মুনাফাভিত্তিক একটা সুবিধা চালু করা হয়েছে। তা হল, অবসরপ্রাপ্তির সময় জিপি ফাণ্ড ও গ্রাচুয়িটি থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে সঞ্চয়পত্র খরিদ করতে হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদ (৩ বা ৫ বছর)। এই সঞ্চয়কৃত টাকার বিনিময়ে প্রতি তিন মাস অন্তর নির্ধারিত একটি মুনাফা দেওয়া হয়। মেয়াদকাল শেষ হলে জমা রাখা মূল টাকা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হয়। এ সুবিধা শুধু সরকারী কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য। জানার বিষয় এই যে, এ মুনাফার সুবিধা গ্রহণ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব। প্রকাশ থাকে যে, মাসিক মদীনায় তা বৈধ বলা হয়েছে। নিম্নে মাসিক মদীনার এ সম্পর্কিত কয়েকটি উত্তর উল্লেখ করা হল : ১। সরকার কর্তৃক জিপিফাণ্ডে যে মুনাফা দেওয়া হয় সেটাকে কর্মচারীদের কল্যাণের জন্য অনুদান হিসাবে গণ্য করত ফেকাহবিদগণ হালাল সাব্যস্ত করেছেন। ইদানীং প্রবর্তিত পেনশনের সঞ্চয়পত্রকে জিপিফাণ্ডেরই একটি বর্ধিত ছুরত রূপে গণ্য করে এটাকেও হালাল বলে গণ্য করেন ফেকাহবিদগণ। (মাসিক মদীনা, জুন ২০০৭) ২। এ যুগের বিজ্ঞ আলেমগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, কর্মচারীগণের জন্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত প্রভিডেন্ট ফাণ্ড, পেনশন, প্রাচুয়িটি এবং সর্বশেষ সুযোগ পেনশনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ইত্যাদি হালাল। এসবের মুনাফা বাহ্যত সুদ বলে মনে হলেও শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সুদের মধ্যে গণ্য হয় না। (মাসিক মদীনা, জুলাই ২০০৭) ৩। যেহেতু এটা শুধুমাত্র সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি বিশেষ স্কীম, সে কারণে সরকারী পেনশন ভোগীদের জন্য এই স্কীম থেকে প্রাপ্ত মুনাফা নাজায়েয হবে না। (মাসিক মদীনা, ডিসেম্বর ২০০৪)

উত্তর

সরকারী কর্মচারী-কর্মকর্তার জন্য যে সরকারী সঞ্চয় ফাণ্ড করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ সুদী। এটি জিপি ফাণ্ডের মতো নয়। জিপি ফাণ্ডের সাথে এর অনেক পার্থক্য রয়েছে। এখানে দুটি মৌলিক পার্থক্য উল্লেখ করা হচ্ছে। ক) জিপি ফান্ড বাধ্যতামূলক, কিন্তু সঞ্চয় ফাণ্ড বাধ্যতামূলক নয়। একজন চাকরিজীবী এই সুবিধা গ্রহণ করতেও পারে আবার নাও করতে পারে। খ) বাধ্যতামূলক জিপি ফাণ্ডের টাকা চাকরিজীবীকে দেওয়া হয় না; বরং তা সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে ঐ খাতের জন্য কেটে রাখা হয়। ফলে এই সময় এ টাকার উপর চাকরিজীবীর নিরঙ্কুশ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না। অতএব এ কথা বলা যাবে না যে, অল্প জমা দিয়ে মেয়াদান্তে বেশি নিচ্ছে; বরং মূল ও অতিরিক্ত পুরোটাই সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমের বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে। যা চাকরি শেষে একত্রে গ্রাচুয়িটি, জিপি ফাণ্ড ইত্যাদি নামে চাকুরেকে দিয়ে দেওয়া হয়। কেবল তখনই তার মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সঞ্চয় ফাণ্ডের জমা এমন নয়। এ খাতে জমা টাকার উপর পূর্ব থেকেই জমাকারীর মালিকানা এসে যায়। অর্থাৎ সঞ্চয় ফাণ্ডে জমাকারী নিজ মালিকানাধীন টাকা জমা রেখে মেয়াদান্তে অতিরিক্ত নিচ্ছে, যা সুস্পষ্ট সুদ। মাসিক মদীনার এ সংক্রান্ত জবাবগুলো সহীহ নয়। সরকার কর্তৃক সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হলেই তা আর সুদী লেনদেন হয় না-একথা ভাবা ঠিক নয়।

-আহকামুল কুরআন, জাসসাস ১/৪৬৪-৪৬৫; আলবাহরুর রায়েক ৭/৩০০; রদ্দুল মুহতার ৫/১৬৯; ইমদাদুল আহকাম ৩/৪৮০; জাদীদ মাসায়েল কে শরয়ী আহকাম, মুফতী শফী রাহ. পৃ. ৬৬-৬৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাদিউজ্জামান - শরীয়তপুর

২০০৭. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে যে, ফরয নামাযের পর সুন্নত পড়া হয় এর পর জানাযা নামায আদায় করা হয। এই পদ্ধতি কি সঠিক? সঠিক সমাধান বরাতসহ জানতে চাই।

উত্তর

আপনাদের এলাকার ঐ নিয়মটি ঠিক আছে। বিশেষত যখন জানাযার নামায পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে হয় তখন সুন্নত পড়েই মসজিদ থেকে বের হয়ে জানাযা পড়া বাঞ্চনীয়। তবে সুন্নতের পূর্বে পড়াও জায়েয। এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যেন জানাযার পরে সুন্নতে মুআক্কাদা পড়ে নেওয়া হয়।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/২৩৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৭৮; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৫২; রদ্দুল মুহতার ২/১৬৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১০৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হুসাইন - শরীয়তপুর

২০০৬. প্রশ্ন

আড়তে যে সকল মালামাল বিক্রি করা হয় এর বিনিময়ে আড়তদার ক্রেতা বিক্রেতা উভয় থেকে কমিশন গ্রহণ করে থাকে। এটা বৈধ কি না জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আড়তের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আড়তদার কর্তৃক ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় থেকে কমিশন নেওয়া নাজায়েয নয়। কেননা তারা উভয়ই আড়ত ব্যবহার করছে। তবে কমিশনের পরিমাণ যুক্তিসঙ্গত হতে হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৫৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/১১,২৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল বারী - নেত্রকোণা

২০০৫. প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয় ভীষণ অসুস' হয়ে পড়েছেন। ডাক্তার পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তাই তিনি নিজের কাছে একটি মাটির টুকরা রেখেছেন। প্রত্যেকবার এটা দিয়ে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করেন। জানার বিষয় হল, এ পদ্ধতিতে তায়াম্মুম করা সহীহ হবে কি? প্রত্যেকবার তায়াম্মুমের জন্য নতুন মাটি নিতে হবে কি?

উত্তর

মাটির একটি টুকরা দ্বারা যতবার ইচ্ছা তায়াম্মুম করা যায়। প্রত্যেকবার তায়াম্মুমের জন্য নতুন মাটি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩১; আলমুহীতুল বুরহানী ১/৩১১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৬৩; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/১৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/২৪২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - নেত্রকোণা

২০০৪. প্রশ্ন

আমার নিজস্ব একটি লাইব্রেরী আছে। তাতে বই, খাতা-কলম ইত্যাদি বিক্রি করি। একদিন আমার এক বন্ধু এসে বলল, তার একটি ফটোস্ট্যাট মেশিন আছে। সেটি আমার দোকানে রাখবে। দু’জন মিলে ফটোস্ট্যাট করব। যা উপার্জন হবে তা উভয়ের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন হবে।জানতে চাই, চুক্তিটি শরীয়তসম্মত হবে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত চুক্তিটি সহীহ হয়েছে।

খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৩৪; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়াহ, মাদ্দাহ : ১৩৯৫; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ৪/৩১৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৬২৮; রদ্দুল মুহতার ৪/৩২২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলাউদ্দীন - নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা

২০০৩. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় অনেকে ছুরি বা দা দিয়ে রাতে মাছ শিকার করে। অর্থাৎ জমির পানিতে মাছ দেখলে ছুরি দিয়ে মাছের শরীরে আঘাত করে। অনেক সময় ছুরির কোপে মাছ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। এভাবে মাছ শিকার করা এবং তা খাওয়া জায়েয আছে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে মাছ শিকার করা জায়েয এবং তা খাওয়া বৈধ।

সুনানে আবু দাউদ ১/১৯; মুসনাদে আহমদ ২/২৩৭; আলমুগনী ১৩/২৯৯; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৪২৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল হাকীম - মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা

২০০২. প্রশ্ন

আমরা জানি, কোনো ব্যক্তি একাকী ফরয নামায আদায়কালে অন্য কেউ তার ইকতিদা করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল, জামাত শেষ হওয়ার পর কোনো মাসবুকের পেছনে ইকতিদা করা সহীহ হবে কি না?

উত্তর

না, মাসবুকের পেছনে ইকতিদা করা জায়েয নয়। অতএব তার ইকতিদা করলে ইকতিদাকারীর নামায সহীহ হবে না।-ছদহুল হামামা ফি শুরূতিল ইমামাহ, শায়খ আবদুল গনী নাবুলুসী পৃ. ৯২; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৬৮; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৬১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইসমাঈল আবরার - মিরপুর, ঢাকা

২০০১. প্রশ্ন

খতম তারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা হাদিয়া নেওয়া জায়েয কি না? এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন দিলে জায়েয হবে কি না? কেউ কেউ বলেন, ফরয নামাযের ইমামতির বিনিময় যখন জায়েয তখন খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণও জায়েয হবে। এছাড়া হাফেজ সাহেবকে যদি দু’এক ওয়াক্ত ফরয নামাযের দায়িত্ব দেওয়া হয় তবে তো নাজায়েয হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের একথা ঠিক কি না? ইমামতির হীলা হোক বা অন্য কোনো উপায়ে তারাবীর বিনিময় বৈধ কি না?

উত্তর

খতম তারাবীর বিনিময় দেওয়া-নেওয়া দুটোই নাজায়েয। হাদিয়ার নামে দিলেও জায়েয হবে না। এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন হিসাবে দিলেও জায়েয নয়। কারণ এক্ষেত্রেও প্রদেয় বেতন খতমের বিনিময় হওয়া স্বীকৃত। মোটকথা, খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণের জন্য হিলা অবলম্বন করলেও তা জায়েয হবে না। কারণ খতমে তারাবীহ খালেস একটি ইবাদত, যা নামায ও রোযার মতো ইবাদতে মাকসূদা’-এর অন্তর্ভুক্ত। আর এ ধরনের ইবাদতের বিনিময় বা বেতন দেওয়া-নেওয়া উম্মতে মুসলিমার ঐকমত্যের ভিত্তিতে নাজায়েয। এতে না কোনো মাযহাবের মতপার্থক্য আছে, না পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণের মাঝে কোনো মতভেদ আছে। ইমামতির বেতন ঠিক করা এবং তা আদায় করা যদিও পরবর্তী ফকীহগণের দৃষ্টিতে জায়েয, কিন্তু খতম তারাবীর বিনিময়টা ইমামতির জন্য হয় না; বরং তা মূলত খতমের বিনিময়ে হয়ে থাকে। আর তেলাওয়াতের বিনিময় গ্রহণ করা সকল ফকীহ্‌র নিকট হারাম। অধিকন্তু পরবর্তী ফকীহ্‌গণ যে ইমামতির বেতন জায়েয বলেছেন সেটা হল ফরযের ইমামতি। সুন্নাত জামাতের ইমামতি এর অন্তর্ভুক্ত নয়। আর হাফেযদের দেওয়া বিনিময়কে জায়েয করার জন্য এই হিলা অবলম্বন করা যে, শুধু রমযান মাসের জন্য তার উপর দু-এক ওয়াক্ত নামাযের দায়িত্ব দেওয়া হবে-এটা একটা বাহানামাত্র; যা পরিহার করা জরুরি। কারণ এই হিলার যে বিমিনয়টা তাকে ফরযের ইমাতির জন্য দেওয়া হচ্ছে আর তারাবীর খতম সে বিনিময়হীনভাবেই করে দিচ্ছে। কিন' আপনার মনকে একটু প্রশ্ন করে দেখুন, যদি ওই হাফেয সাহেব তার দায়িত্বে অর্পিত ফরয নামাযের ইমামতি যথাযথ গুরুত্বের সাথেও আদায় করেন আর খতম তারাবীতে অংশগ্রহণ না করেন তবে কি তাঁকে ওই বিনিময় দেওয়া হবে, যা খতম তারাবী পড়ালে দেওয়া হত? এ কথা সুস্পষ্ট যে, কখনো তা দেওয়া হবে না। বোঝা গেল, বিনিময়টা মূলত খতম তারাবীর, ফরযের ইমামতির নয়। এ জন্যই আকাবিরের অনেকে এই হিলা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর দলীলের ভিত্তিতেও তাঁদের ফতওয়াই সহীহ। দেখুন : ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২২; ইমদাদুল আহকাম ১/৬৬৪ নিচে এ বিষয়ে কিছু হাদীস, আছারের অনুবাদ ও ফিকহের উদ্ধৃতি পেশ করা হল। ১. হযরত আবদুর রহমান ইবনে শিবল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পড় তবে তাতে বাড়াবাড়ি করো না এবং তার প্রতি বিরূপ হয়ো না। কুরআনের বিনিময় ভক্ষণ করো না এবং এর দ্বারা সম্পদ কামনা করো না।’-মুসনাদে আহমদ ৩/৪২৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৪০; কিতাবুত তারাবীহ ২. ইমরান ইবনে হোসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পড় এবং আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা কর। তোমাদের পরে এমন জাতি আসবে, যারা কুরআন পড়ে মানুষের কাছে প্রার্থনা করবে।’-মুসনাদে আহমদ ৪/৪৩৭; জামে তিরমিযী ২/১১৯ ৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মা’কিল থেকে বর্ণিত, তিনি এক রমযান মাসে লোকদের নিয়ে তারাবীহ পড়লেন। এরপর ঈদের দিন উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ রাহ. তাঁর কাছে এক জোড়া কাপড় এবং পাঁচশ দিরহাম পাঠালেন। তখন তিনি কাপড় জোড়া ও দিরহামগুলো এই বলে ফেরত দিলেন যে, আমরা কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করি না।’-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৩৭ আরো দেখুন : ফাতাওয়া শামী ৬/৫৭; তানকীহুল ফাতাওয়া হামীদিয়া ২/১৩৭-১৩৮; আলইখতিয়ার লিতা’লীলিল মুখতার ২/৬২; শিফাউল আলীল ওয়াবাল্লুল গালীল (রাসায়েলে ইবনে ইবনে আবেদীন) ১/১৫৪-১৫৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩১৫-৩১৯ ও ৩২২; রাফেউল ইশকালাত আনহুরমাতিল ইস্তিজার আলাত্তাআত, মুফতিয়ে আযম হযরত মাওলানা মুফতী ফয়যুল্লাহ রাহ.।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান - ফরিদাবাদ, ঢাকা

২০০০. প্রশ্ন

সামনে রমযান মাস। এ মাসের পরিপূর্ণ বরকত, রহমত ও ফযীলত কীভাবে হাসিল করা যাবে সে ব্যাপারে জানতে চাই।

উত্তর

মাহে রমযান বছরের বাকি এগারো মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা কুরআন মজীদে ইরশাদ করেন, (তরজমা) রমযান মাসই হল সে মাস যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত।-সূরা বাকারা : ১৮৫ হাদীস শরীফে এসেছে, যখন রমযানের আগমন হয় তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। -সহীহ বুখারী হাদীস : ১৮৯৯ অন্য হাদীসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যহ ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।- মুসনাদে আহমদ হাদীস ২১৬৯৮ তাই এ মাস হচ্ছে হেদায়েত লাভের মাস, আল্লাহ তাআলার রহমত লাভের মাস এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত হাসিলের মাস। সুতরাং বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা এবং তাওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে মুক্তির সনদ লাভে সচেষ্ট হওয়া কর্তব্য। এ মাসের রোযাকে আল্লাহ তাআলা ফরয করেছেন। তাই প্রত্যেক সুস্থ ও বালিগ মুসলিম নর-নারীর জন্য রোযা রাখা অপরিহার্য। বলাবাহুল্য যে, ফরয ইবাদতের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহ তাআলার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জন করে। রমযানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে তারাবী। রমযানের বরকতময় রজনীতে বিশ রাকাত তারাবীর নামায আদায়ে যত্নবান হওয়া উচিত। রমযান মাস হচ্ছে কুরআন নাযিলের মাস। তাই কুরআন মজীদ শ্রবণের জন্য এবং এই পুণ্যময় রজনীতে আল্লাহর সান্নিধ্যে দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য তারাবী নামাযের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া কর্তব্য। অন্য সময়ও ব্যক্তিগতভাবে অধিক পরিমাণে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করা উচিত। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামায। এ মাসে যেহেতু সাহরী খাওয়ার সুবাদে সুবহে সাদিকের পূর্বেই সবাইকে উঠতে হয় তাই এ সুযোগে তাহাজ্জুদের ইহতিমাম করা সহজ। হাদীস শরীফে তাহাজ্জুদের অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। তদ্রূপ সাধ্যমতো দান-সদকা করা উচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে অনেক বেশি দান-সদকা করতেন। এসব নেক আমলের পাশাপাশি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করাও অপরিহার্য। রমযান মাস হচ্ছে তাকওয়া ও পরহেযগারী অর্জনের মাস। আল্লাহ তাআলা রোযাকে ফরয করেছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য। হাদীস শরীফ থেকে জানা যায় যে, গুনাহ থেকে সর্বোতভাবে বেঁচে থাকা ছাড়া রোযা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই রোযাকে নিখুঁতভাবে আদায়ের উদ্দেশ্যে মুমিন যখন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে তখন আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে তাকে তাকওয়া ও পরহেযগারীর শক্তি দান করেন। এজন্য সকল গুনাহ থেকে, বিশেষ করে গীবত, শেকায়েত, কুদৃষ্টি, কুচিন্তা, হারাম পানাহার ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলিমের একান্ত কর্তব্য।

শেয়ার লিংক

শাব্বীর আহমদ - নারায়ণগঞ্জ

১৯৯৯. প্রশ্ন

শবে বরাত ও শবে কদর উপলক্ষে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায আছে কি না-এ প্রশ্ন অনেকে করে থাকেন। এক ধরনের চটি বই পুস্তিকায় বিভিন্ন নিয়মের কথা লেখাও থাকে। বিশেষ বিশেষ সূরা দিয়ে নামায পড়া বা নির্ধারিত রাকাত নামায বিশেষ সূরা দ্বারা আদায় করা ইত্যাদি। প্রশ্ন এই যে, হাদীস শরীফে এ দুই রাতে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায আছে কি? থাকলে তা জানতে চাই। তদ্রূপ কেউ কেউ এ রাতগুলোতে জামাতের সঙ্গে নফল নামায পড়তে চায়। এ ব্যাপারে শরয়ী বিধান কী?

উত্তর

এ দু’রাতের জন্য বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায নেই। সব সময় যেভাবে নামায পড়া হয় সেভাবেই পড়বে অর্থাৎ দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব হয় আদায় করবে এবং যে সূরা দিয়ে সম্ভব হয় পড়বে। তদ্রূপ অন্যান্য আমলেরও বিশেষ কোনো পন্থা নেই। কুরআন তেলাওয়াত, যিকির-আযকার, দুআ-ইস্তেগফার ইত্যাদি নেক আমল যে পরিমাণ সম্ভব হয় আদায় করবে। তবে নফল নামায দীর্ঘ করা এবং সিজদায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা উচিত, যা কোনো কোনো হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয়। বিভিন্ন বই-পুস্তকে নামাযের যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানূন লেখা আছে অর্থাৎ এত রাকাত হতে হবে, প্রতি রাকাতে এই এই সূরা এতবার পড়তে হবে-এগুলো ঠিক নয়। হাদীস শরীফে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই, এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা। বলাবাহুল্য যে, যে কোনো বই-পুস্তিকায় কোনো কিছু লিখিত থাকলেই তা বিশ্বাস করা উচিত নয়। বিজ্ঞ আলিমদের নিকট থেকে জেনে আমল করা উচিত। শবে বরাত ও শবে কদরের নফল আমলসমূহ, বিশুদ্ধ মতানুসারে একাকী করণীয়। ফরয নামায তো অবশ্যই মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে। এরপর যা কিছু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বে। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার প্রমাণ হাদীস শরীফেও১ নেই আর সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না।-ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম ২/৬৩১-৬৪১; মারাকিল ফালাহ পৃ. ২১৯ তবে কোনো আহ্বান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায় তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলে ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হেলালুদ্দীন - ময়মনসিংহ

১৯৯৮. প্রশ্ন

অনেকে শবে বরাতের পরদিন রোযা রাখেন। এ বিষয়ে শরীয়তের হুকুম কী জানতে চাই।

উত্তর

শা’বানের এক তারিখ থেকে সাতাইশ তারিখ পর্যন্ত রোযা রাখার বিশেষ ফযীলতের কথা হাদীস শরীফে আছে। তাছাড়া আইয়ামে বীয তথা প্রতি মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোযা রাখার ব্যাপারে হাদীস শরীফে উৎসাহিত করা হয়েছে। সেই সাথে যয়ীফ সনদে বর্ণিত একটি হাদীসে বিশেষভাবে পনেরো তারিখের রোযা রাখার নির্দেশনাও পাওয়া যায়। (তরজমা) পনেরো শা’বানের রাত (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা তা ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাও এবং পরদিন রোযা রাখ।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৩৮৪ আগেই বলা হয়েছে যে, যেহেতু বিভিন্ন সহীহ হাদীসে শা’বান মাসের রোযার সাধারণ ফযীলত এবং আইয়ামে বীযের রোযার ফযীলত উল্লেখিত হয়েছে পাশাপাশি যয়ীফ সনদে উপরোক্ত হাদীসটিও বিদ্যমান রয়েছে তাই কেউ যদি এই সকল বিষয় বিবেচনায় রেখে পনেরো শা’বানের রোযা রাখেন তাহলে তিনি ছওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ লোকমান - যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

১৯৯৭. প্রশ্ন

লোকমুখে শোনা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন হযরত জিবরাঈল আ. এই বলে সামনে অগ্রসর হতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন যে, আমি আর এক কদম অথবা আর এক চুল পরিমাণ অগ্রসর হলে আমার ডানাসমূহ জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে-একথা সহীহ কি না?

উত্তর

: একথা ভিত্তিহীন। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবনে সিদ্দীক আলগুমারী রাহ. বলেন, ‘‘এরূপ ধারণা করা নিকৃষ্টতম বাড়াবাড়ি যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছলেন তখন জিবরাঈল আ. পিছনে সরে গেলেন এবং বললেন, যদি আমি আর এক পা অগ্রসর হই তাহলে জ্বলে যাব। এটি একটি মিথ্যা ও বাজে কথা। বস্তুত সে রাতে জিবরাঈল আ. এক মুহূর্তের জন্যও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ ত্যাগ করেননি। সিদরাতুল মুনতাহা এবং অন্যান্য স্থানেও তিনি তাঁর সাথেই ছিলেন। শরহুল মাওয়াহেবে এই বর্ণনা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এগুলো নিঃসন্দেহে মিথ্যা।

শরহুল মাওয়াহিব ৮/২০০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুনীর হুসাইন - শরীয়তপুর

১৯৯৬. প্রশ্ন

আমাদের দেশে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পরপরই তার জন্য দুআ করা হয়। কেউ কেউ তা বৈধ মনে করেন আবার কেউ অবৈধ তথা বেদআত মনে করেন। কোন মতটি সঠিক তা জানতে চাই। এর সপক্ষে কোনো হাদীস থাকলে তাও জানতে ইচ্ছুক?

উত্তর

মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করার পর কিবলামুখী হয়ে তার জন্য দুআ করা মুস্তাহাব। এটি একাধিক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এক হাদীসে আছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ‘(তাবুক যুদ্ধে) আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি আবদুল্লাহ যুলবিজাদাইন রা.কে কবরে শায়িত করলেন এবং দাফনের পর কিবলামুখী হয়ে হাত তুলে তাঁর জন্য দুআ করলেন। (দুআতে) তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট, তুমিও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাও।’ (হিলইয়াতুল আওলিয়া ১/১৬৯; আলবিদায়া ওয়াননিহায়া ৪/৬৭৩; আসসিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ইবনে হিশাম ২/৫২৭; ফাতহুল বারী ১১/১৪৮) অন্য হাদীসে আছে, হযরত উসমান ইবনে আফফান রা. বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন এবং বলতেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর নিকট মাগফিরাত কামনা কর এবং সে যেন কবরের সওয়ালের জওয়াব সঠিকভাবে দিতে পারে এজন্য দুআ কর। কেননা এখনি তাকে সওয়াল করা হবে।’ (সুনানে আবু দাদউ, হাদীস : ৩২২১) এসব হাদীসের আলোকে ফকীহগণ দাফনের পর দুআ করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। সুতরাং একে অবৈধ বা বিদআত বলা ঠিক নয়।

বযলুল মাজহূদ ১৪/১৯০; ইলাউস সুনান ৮/৩৪৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবরাহীম - ধানমণ্ডি, ঢাকা

১৯৯৫. প্রশ্ন

ধারণা করা হয় যে, পীর হেদায়েতদাতা। পীর ধরলে সে হেদায়েত পেয়ে যাবে। এ কথা কি ঠিক?

উত্তর

: সুন্নত ও শরীয়তের অনুসারী হক্কানী পীর হেদায়েতের পথ প্রদর্শক। কোনো পীর হেদায়েতদাতা নয়। এমনকি কোনো নবীও হেদায়েতের মালিক ছিলেন না। হেদায়েতদাতা একমাত্র আল্লাহ তাআলা। এ সম্পর্কে কুরআন মজীদে পরিষ্কার বলা হয়েছে, (তরজমা) (হে নবী!) আপনি যাকে পছন্দ করেন তাকে সৎ পথে আনতে পারবেন না। তবে আল্লাহই যাকে ইচ্ছা করেন সৎ পথে আনয়ন করেন। কে সৎ পথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন। ’ (সূরা কাসাস : ৫৬) অতএব কাউকে হেদায়েত দান করার ক্ষমতা কোনো মাখলুকের নেই। মাখলুক শুধু পথ দেখাতে পারে। হেদায়েত দেওয়ার মলিক একমাত্র আল্লাহ। এ সম্পর্কে কুরআন মজীদের সূরা মায়েদা (আয়াত ৪১), সূরা জিন (আয়াত ২১-২৩) ও উল্লেখ আছে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সীরাজ - পাবনা

১৯৯৪. প্রশ্ন

পীরকে কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক মনে করা, তার কাছে গিয়ে সন্তান চাওয়া, বিপদ থেকে মুক্তি চাওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি কামনা করা ইত্যাদি কাজের হুকুম কী? কিছু লোক মাজারে গিয়ে এসব চায়। আবার জিন্দা পীরকেও এসব বিষয়ে ক্ষমতাবান মনে করে। জানতে চাই এমন ধারণা করা ঠিক কি না? এতে কোনো ক্ষতি আছে কি না?

উত্তর

কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। রিযিকদাতা,সন্তানদাতা, ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতিদানকারী এবং মনোবাঞ্ছা পূরণকারী একমাত্র আল্লাহ। কোনো পীর, তিনি জীবিত হোন বা মৃত এসব কাজের ক্ষমতা রাখেন না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ তাআলা আমার অনিষ্ট করার ইচ্ছা করেন তবে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সেই অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করলে তারা কি সে রহমত রোধ করতে পারবে? বলুন, আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁর উপরই নির্ভর করে।’ (সূরা যুমার : ৩৮) বোঝা গেল, কল্যাণ-অকল্যাণএবং উপকার-অপকারের মালিক একমাত্র আল্লাহ। অন্যত্র এসেছে, (তরজমা) ‘আল্লাহ ব্যতীত এমন কোনো স্রষ্টা আছে কি যে তোমাদেরকে আসমান ও জমিন থেকে রিযিক দান করে? তিনি ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই। অতএব তোমরা কোথায় ঘুরপাক খাচ্ছ।’ (সূরা ফাতির : ৩) রিযিকের বরকত একমাত্র আল্লাহ তাআলার হাতে। সন্তানসন্ততিও আল্লাহই দান করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। এ মর্মে কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) আসমান ও জমিনের রাজত্ব আল্লারই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।’ (সূরা শুরা : ৪৯-৫০) অতএব বোঝা গেল আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কারো কাছে সন্তান চাওয়া, কাউকে লাভক্ষতির মালিক মনে করা, আয়-উপার্জনে উন্নতিদানকারী মনে করা সম্পূর্ণ শিরক ও ঈমান পরিপন্থী আকীদা। কেউ যদি কখনো এমন কাজ করে থাকে তাহলে তাকে খাঁটি অন্তরে তওবা করে নতুনভাবে ঈমান আনয়ন করতে হবে এবং এগুলো যে একমাত্র আল্লাহ তাআলারই ক্ষমতা এ ব্যাপারে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে।

শেয়ার লিংক

মুাহম্মা ফরীদুদ্দীন - নোয়াখালী

১৯৯৩. প্রশ্ন

খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আলী রা.-এর জানাযা কে পড়িয়েছিলেন? তিনি কার হাতে শাহাদাত বরণ করেন? তিনি তার পুত্রদ্বয়কে যে নসীহত করেছিলেন তা কী ছিল? সঠিকভাবে উল্লেখ করে বাধিত করবেন।

উত্তর

হযরত আলী রা. ৪০ হিজরী ১৭ রমযান আবদুর রহমান বিন মুলজিম খারেজীর আক্রমণের শিকার হন। অতঃপর তিন দিন পর শাহাদাত বরণ করেন। তার জানাযা হযরত হাসান রা. পড়িয়েছেন। তিনি হযরত হাসান ও হুসাইন রা.কে যে গুরুত্বপূর্ণ ওসীয়ত করেছিলেন তা হল নিম্নরূপ : অর্থ, আল্লাহকে ভয় করা, নামায কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, ক্রোধ সংবরণ করা, আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, অজ্ঞ ও জাহেল লোকদের সাথে বুদ্ধিমত্তার সাথে চলা, দ্বীনী বুঝ সৃষ্টি করা। দ্বীনের প্রতিটি মাসআলার উপর অটল ও অবিচল হয়ে আমল করা। কুরআন মজীদের হেফাযত করা, ভালোর আদেশ এবং মন্দের প্রতি বাধা প্রদান করা, অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা।

আলবিদায়া ওয়াননিহায়া ৫/৪৩৭; তবাকাতে সা’দ ৩/২২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুশ শুকুর - গুলশান, ঢাকা

১৯৯২. প্রশ্ন

আমাদের দেশে রজবের ২৭ তারিখ দিবাগত রাতে শবে মেরাজ পালন করা হয়। বইপুস্তুকেও ২৭ তারিখকেই মেরাজ রজনী বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। কিন্তু ইদানীং কিছু মৌলভী সাহেব থেকে এ ব্যাপারে কিছু সংশয়ের কথা শুনলাম। বাস্তব বিষয়টি কি?

উত্তর

মেরাজের ঘটনা রজবের ২৭ তারিখে হয়েছিল-একথা প্রমাণিত নয়। এই তারিখটি শুধু এমন একটি রেওয়ায়েতে পাওয়া যায়, যার সনদ সহীহ নয়। কোনো নির্ভরযোগ্য দলীল দ্বারা এটি প্রমাণিত নয়। মেরাজ কখন হয়েছিল সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সনদে শুধু এটুকু পাওয়া যায় যে, তা হিজরতের এক বা দেড় বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু কোন দিন, মাস বা তারিখে সংঘটিত হয়েছে এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কিছুই নেই। তাই এই তারিখকে মেরাজ-রজনী হিসাবে ধরে নেওয়া যেমন ভুল তেমনি তা উদযাপন করাও ভুল। সাহাবা, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন কেউ কখনো মেরাজ রজনী উদযাপন করেছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। এটি একটি কুসংস্কারও বিদআত।

আলমাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ ও শরহুল মাওয়াহিব ৮/১৮-১৯; আলবিদায়া ওয়াননিহায়া ২/৪৭১; লাতায়িফুল মাআরিফ পৃ. ১৩৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুঈনুদ্দীন - রাহাত হুসাইন তাহফিজুল কুরআন মাদরাসা, মিরপুর-১৩, ঢাকা

১৯৯১. প্রশ্ন

আমাকে একজন বলেছেন, পবিত্র কুরআনের যের, যবর, পেশ ও নুকতা খলীফা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ নিজ হাতে লিখেছেন। এ কথাটি আমার বোধগম্য হচ্ছে না। এত বড় অত্যাচারী শাসক এ মহৎ কাজের উদ্যোগ কীভাবে নিল? সত্যিই কি তিনি এই কাজ করেছেন?

উত্তর

হযরত উসমান রা. যে মুসহাফ তৈরি করেছেন তাতে হরফসমূহে নুকতা ও হরকত যের, যবর ও পেশ ছিল না। পরবর্তীতে কে এই মহৎ কাজটি করেছেন-এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে মতভেদ আছে। তবে আল্লামা তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম ‘উলূমুল কুরআন’-এ বলেন, এ সম্পর্কিত সকল বর্ণনা সামনে রাখলে প্রতীয়মান হয় যে, হরকত (যের, যবর ও পেশ) সর্বপ্রথম হযরত আবুল আসওয়াদ দুয়ালী রাহ. আবিষ্কার করেন। কিন্তু হরকতের রূপ এখন যেমন দেখা যায় তেমন ছিল না। তখন ছিল ফোঁটার মতো। যবরের জন্য উপরে এক ফোঁটা দেওয়া হত, যেরের জন্য নিচে এক ফোঁটা আর পেশের জন্য সামনে এক ফোঁটা দেওয়া হত। তানভীনের জন্য দুই ফোঁটা ব্যবহৃত হত। এরপর খলীল বিন আহমদ রাহ. হামযাহ ও তাশদীদের বর্তমান রূপটি আবিষ্কার করেন। এরপর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার রাহ. ও নাসর বিন আসেম রাহ.-এর মাধ্যমে কুরআনে কারীমে হরফসমূহে নুকতা লাগানোর ব্যবস্থা করেন। এই সময়ই মূলত নুকতা ও হরকতের পার্থক্যের উদ্দেশ্যে হরকতের বর্তমান রূপটি অবলম্বন করা হয়।

আলইতকান ২/৪১৯; সুবহুল আ‘শা ৩/১৬০-১৬১; আলবুরহান ১/২৫০; উলূমুল কুরআন পৃ. ১৯৫

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - কাকরাইল মারকায মসজিদ মাদরাসা

১৯৯০. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি পোস্ট অফিস কর্তৃক ইস্যুকৃত পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে ইচ্ছুক। তার জন্য কি ঐ সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা জায়েয হবে? জায়েয না হলে তার সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করে বাধিত করবেন। পেনশনার সঞ্চয়পত্র এর ৪র্থ পৃষ্ঠায় রয়েছে, ‘২ লক্ষ টাকায় তিন মাস অন্তর ৫৫০/- টাকা মুনাফা প্রদান করা হবে। ... এক বছরান্তে ৭.৫০%, দুই বছরান্তে ৮.২৫% হারে মুনাফা দেওয়া হবে। অর্থাৎ মূলের উপর এত হারে মুনাফা দেওয়া হবে।

উত্তর

পোস্ট অফিস পেনশনার সঞ্চয়পত্র-এর বিবরণ থেকে এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটি পুরোপুরি সুদী প্রকল্প। যেখানে জমাকারীকে মেয়াদান্তে নির্দিষ্ট অংকে লাভ দেওয়া হয়। বলাবাহুল্য যে, এটিই হল কুরআন মজীদের নিষিদ্ধ সুদ-রিবান নাসিআহ। এই সুদ সম্পর্কেই কুরআন মজীদে ঘোষণা করা হয়েছে, (তরজমা) ‘ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে তা পরিত্যাগ কর যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস'ত হয়ে যাও।’ (সূরা বাকারা : ২৭৮,২৭৯) আরো দেখুন : সূরা বাকারা : ২৭৫, ২৭৬; সূরা আল-ইমরান : ১৩০; আহকামুল কুরআন, যফর আহমদ থানভী ১/৬৬৬, ৬৭০; তাফসীরে কুরতুবী ৩/২২৬; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ১/৪৬৭ অতএব প্রশ্নোক্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্রে জমা করা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। নিম্নে আরো কয়েকটি বরাত পেশ করা হল। জামে তিরমিযী ১/২২৯; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৫/২৭৫; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ১০/৬৪৮; ফাতাওয়া খানিয়া ২/২৮০; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৮; রদ্দুল মুহতার ৫/১৬৬

জামে তিরমিযী ১/২২৯; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৫/২৭৫; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ১০/৬৪৮; ফাতাওয়া খানিয়া ২/২৮০; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৮; রদ্দুল মুহতার ৫/১৬৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুশতাক আহমদ - বালিপাড়া বাজার, ত্রিশাল

১৯৮৯. প্রশ্ন

গত কয়েক বছর পূর্বে আমরা এলাকর মহিলাদের জন্য তালীমের ব্যবস্থা করেছি। একটি আলাদা ঘরে পূর্ণ পর্দার সাথে সপ্তাহে দুই দিন শুক্রবার ও সোমবার বাদ যোহর দ্বীনি বিষয় ও মাসআলা মাসায়েল আলোচনা করা হয়। একজন মহিলা মজলিসটি পরিচালনা করেন। এতে আশপাশের মহিলারাই অংশগ্রহণ করেন। তবে পাঁচ-ছয় মাইল দূরবর্তী এলাকার স্বল্প সংখ্যক মহিলাও অভিভাবকের অনুমতিক্রমে মাহরাম ছাড়া এসে থাকেন। পাঁচ-ছয় মাইল দূর থেকে মাহরাম ছাড়া আসাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছে। অতএব হুজুরের নিকট আমার জানার বিষয় হল : প্রশ্ন : ক) পার্শ্ববর্তী ও পাঁচ-ছয় মাইল দূর থেকে পর্দার সাথে মহিলাদের মাহরাম ছাড়া আসাটা কেমন? প্রশ্ন : খ) পর্দা রক্ষা করে কোনো মহিলা নিজ বাড়িতে তালীমের ব্যবস্থা করতে পারবে কি না? প্রশ্ন : গ) মহিলাদের কাছ থেকে কোনো দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের জন্য সাহায্য গ্রহণ করা যাবে কি না?

উত্তর

ক) মহিলাদের শিক্ষার ব্যবস্থা প্রধানত নিজ ঘরেই হওয়া চাই। তারা মাহরাম পুরুষ যথা বাপ, দাদা, আপন ভাই, চাচা, মামার কাছে দ্বীন শিক্ষা করবে। হ্যাঁ, মাহরামদের মধ্যে যোগ্য আলেম না পাওয়া গেলে নিজ মহল্লার কোনো দ্বীনী শিক্ষায় শিক্ষিত দ্বীনদার মহিলার নিকট গিয়ে দ্বীন শিক্ষা করবে। তবে শর্ত হল, স্বামী বা অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে পূর্ণ শরয়ী পর্দার সাথে আসা যাওয়া করবে এবং সন্ধ্যার পূর্বেই ঘরে পৌঁছে যাবে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মহল্লার মহিলারা উক্ত তালীমের মজলিসে আসতে পারেন। তবে পাঁচ-ছয় মাইল দূর থেকে এভাবে তালীমে আসা সমীচীন নয়; তারা নিজেদের মহল্লায় তালীমের ব্যবস্থা করবেন এবং ঘরে বসে দ্বীনী কিতাবপত্র পাঠ করবেন। সূরা আহযাব : ৩৩; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৬০ খ) প্রত্যেক নর-নারীর প্রয়োজনীয় দ্বীন শিক্ষা করা ফরয। আর পূর্ণ পর্দার সাথে অভিজ্ঞ শিক্ষিকা দ্বারা দ্বীনী শিক্ষার ব্যবস্থা করা প্রশংসণীয় ও ছওয়াবের কাজ। মহিলাদের জন্য দ্বীনী তালীমের ব্যবস্থা করেছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হাদীস শরীফে আছে, একদিন মহিলা সাহাবীগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আরয করলেন, পুরুষদের কারণে আমরা আপনার নিকটবর্তী হতে পারি না। তাই আপনি আমাদের জন্য আলাদা একটি দিন নির্ধারণ করুন। তিনি তাদের জন্য বিশেষভাবে এক দিনের ওয়াদা করলেন এবং বললেন, তোমরা অমুক দিন অমুকের বাড়িতে একত্র হও। এরপর তিনি সেদিন তাদের কাছে গিয়ে ওয়াজ করলেন। সহীহ বুখারী ১/২০; উমদাতুল কারী ২/১২৩ গ) হ্যাঁ, মহিলারা দান করলে তা গ্রহণ করা যাবে। তবে স্বামীর সম্পদ থেকে তার অনুমতি ছাড়া দান করলে সেক্ষেত্রে স্ত্রীর জন্য কেবল ঐ পরিমাণ দান করা জায়েয যা সাধারণত স্ত্রী হিসাবে স্বামীর সম্পদ থেকে দেওয়ার অনুমতি থাকে। সাধারণ নিয়ম ও পরিমাণের চেয়ে বেশি দেওয়া বৈধ হবে না। সহীহ বুখারী ১/২০; উমদাতুল কারী ২/১২৪; আহকামুন নিসা ৫/১৬৫; আলবাহরুর রায়েক ৮/৯৩; শরহু মাআনিল আছার ২/৩৭৪; ইলাউস সুনান ১৬/১৩৩

শেয়ার লিংক

উম্মে আবদুল্লাহ - উত্তর মুগদা, ঢাকা

১৯৮৮. প্রশ্ন

ক) আমি শৈশবে গ্রামের বাড়িতে কাচারি ঘরের হুজুরের কাছে কুরআন তিলাওয়াত শিখেছিলাম। অতঃপর গত চার-পাঁচ বছর ঢাকায় সহীহ নূরানী পদ্ধতির সাথে পরিচিত হয়ে উক্ত পদ্ধতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে শিখি। এরপর হতে নামাযে ও নামাযের বাইরে নূরানী পদ্ধতিতে কুরআন তিলাওয়াত করি। আমি বুঝতে পারছি যে, পূর্বের পদ্ধতি অশুদ্ধ ছিল। এখন আমার প্রশ্ন এই যে, পূর্বের পদ্ধতিতে আমি যে তেলাওয়াত করেছি সে বিষয়ে আমার কী করণীয়? সেভাবে পড়ার কারণে আমার নামায কি নষ্ট হয়েছে? জানালে উপকৃত হব। খ) আলহামদুলিল্লাহ, আমি যথাসাধ্য পর্দার বিধান মেনে চলতে চেষ্টা করি। কিন্তু গ্রামে গেলে চাচাতো বা মামাতে ভাইরা (বিশেষত যারা বয়সে ছোট) খোঁজ খবর নিতে আসে এবং কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে। আবার কখনো কখনো (বছরে হয়তো ২/১বার) তাদের কেউ কেউ ঢাকায় বেড়াতে আসে। তখনও একই অবস্থার উদ্ভব হয়। এ সকল অবস্থায় তাদের সাথে দেখা না করলে হয়তো আত্মীয়তার সম্পর্কই ছিন্ন হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ঘরে নামাযের সময় যেভাবে সতর ঢাকি সেভাবে কাপড় পরা অবস্থায় তাদের সাথে দেখা করা জায়েয কি না জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

ক) নামায সহীহ এবং কবুল হওয়ার জন্য বিশুদ্ধ তিলাওয়াত জরুরি। সুতরাং অন্তত ফরয কিরাত পরিমাণ শুদ্ধ তিলাওয়াত শেখা ফরয। তবে যে বিশুদ্ধ কিরাত জানে না তার জন্য সহীহ-শুদ্ধ তিলাওয়াত শেখার আগ পর্যন্ত হুকুম এই যে, সে যতটুকু জানে তা দিয়েই নামায পড়তে থাকবে। আর যথাসাধ্য দ্রুত শুদ্ধ তিলাওয়াত শিখে নিবে। এক্ষেত্রে পূর্ণ শুদ্ধ হওয়া পর্যন্ত যত নামায পড়া হয়েছে তা যেহেতু তখনকার সামর্থ অনুযায়ী পড়া হয়েছে তাই তা আদায় হয়ে গিয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। পরবর্তীতে কিরাত শুদ্ধ হওয়ার পর সেগুলোর কাযা করা জরুরি নয়। তবে বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শেখার চেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি। অন্যথায় গুনাহ হবে। অতএব আপনার পূর্বের নামাযগুলো আদায় হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৯; রদ্দুল মুহতার ১/৫৮১; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/১৬২ খ) চেহারাও পর্দার অন্তর্ভুক্ত। বিনা ওজরে বেগানা পুরুষের সামনে তা খোলা নিষেধ। আর আপনি যেহেতু আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের লক্ষে তার সন'ষ্টির উদ্দেশ্যেই পর্দা করছেন তাই বিষয়টি তাদেরকে বুঝিয়ে বললে আশা করি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা হবে না। এছাড়া প্রয়োজনে পর্দার আড়ালে থেকে (কোমলতা বর্জন করে) কুশলাদি বিনিময় ও প্রয়োজনীয় কথা বলতে পারবেন। আল্লাহর উপর ভরসা করে পরিপূর্ণ পর্দার চেষ্টা করুন, ইনশাআল্লাহ আল্লাহর নুসরত পাবেন। সূরা আহযাব :৩২, ৩৩ ও ৫৯; আহকামুল কুরআন জাসসাস ৩/৩৭২; আদিল্লাতুল হিজাব পৃ. ২৪৪; আহকামুন নযর পৃ. ২৬০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল মামুন - উত্তরা, ঢাকা

১৯৮৭. প্রশ্ন

আমাদের মহল্লায় একটি মকতব আছে। যেখানে সকাল বেলা কুরআন শিখানো হয় এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া হয়। মূলত জায়গাটা ওয়াকফ করা হয়েছে মকতবের জন্য। বর্তমানে মুসল্লিরা সেটাকে জুমআর মসজিদ করতে চায়। জুমআর মসজিদের কথা শুনে মসজিদের পূর্ব পশ্চিম পাশের জায়গার মালিক তাও ওয়াকফ করতে আগ্রহী হয়েছেন। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় মকতবের জায়গাসহ পুরোটার উপর কি জুমআর মসজিদ বানানো যাবে? বিস্তারিত জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী ওয়াকফকারী যেহেতু জায়গাটি মকতবের জন্য ওয়াকফ করেছে তাই সেখানে মসজিদ বানানো জায়েয হবে না; বরং ওয়াকফের শর্তানুযায়ী এ স্থান মকতব ও মাদরাসার জন্য নির্ধারিত থাকবে। মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন হলে পৃথক জায়গার ব্যবস্থা করে সেখানে তা বানানো যাবে। পার্শ্ববর্তী জায়গার মালিক যেহেতু মসজিদের জন্য ওয়াকফ করতে ইচ্ছুক তাই তাদের থেকে জায়গা নিয়ে সেখানে মসজিদ বানানো যাবে।

আলআশবাহ ওয়ান নাযায়ের ২/২২৮; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৮/২৩৬; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৪৫; রদ্দুল মুহতার ৪/৪৩৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রবীউল ইসলাম - দোহার, ঢাকা

১৯৮৬. প্রশ্ন

অনেকে বড়শিতে কেঁচো বা ছোট মাছ বিদ্ধ করে মাছ শিকার করেন। এটা জায়েয আছে কি না?

উত্তর

বড়শিতে মাছ বা কেঁচো গাঁথার আগে তা মেরে নিলে তা দ্বারা মাছ ধরা জায়েয হবে। কিন্তু জ্যান্ত মাছ বা কেঁচো বড়শিতে গেঁথে মাছ শিকার করা জায়েয নয়।

সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৫১৩; সহীহ মুসলিম হাদীস : ৫০১৭; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৪/৫৪০; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ১৩/২৮৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪৭৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল বারী - নেত্রকোণা

১৯৮৫. প্রশ্ন

অর্ধ রাত্রির পর এশার নামায পড়া মাকরূহ কি না? মাকরূহ হলে মাকরূহ তাহরীমী না তানযিহী? যদি সফরের কারণে বিলম্ব হয় তাহলেও কি মাকরূহ?

উত্তর

বিনা ওজরে মধ্য রাতের পর পর্যন্ত ইশার নামায বিলম্বিত করা মাকরূহ। এ বিষয়ে ফকীহগণ একমত। তবে এটিকে কেউ কেউ মাকরূহে তাহরীমী বললেও আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রাহ. ইমাম তহাবী রাহ.-এর উদ্ধৃতিতে মাকরূহ তানযিহীর মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। পরবর্তী ফকীহদের অনেকে এ মতকে গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য যে, সফরের কারণে বিলম্বিত হলে তা ওজরের অন্তর্ভুক্ত।

শরহু মাআনিল আছার ১/১৮; মাবসূত সারাখসী ১/১৪৭; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৩৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৯; হেদায়া (ফাতহুল কাদীর) ১/২০১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২২৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪০৬; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৪৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৯৯; রদ্দুল মুহতার ১/৩৬৯; মুখতাসারুত তহাবী পৃ. ২৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩২৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল বারী - নেত্রকোণা

১৯৮৪. প্রশ্ন

যদি কোনো ব্যক্তি কুরআন মজীদের উপর হাত রেখে কোনো কাজ করার কসম করে তাহলে কি কসম হয়ে যাবে? ঐ কাজ না করতে পারলে কি কাফফারা দিতে হবে?

উত্তর

কুরআন মজীদের উপর হাত রেখে কসম করলে কসম হয়ে যায়। যে বিষয়ের কসম করা হয়েছে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হলে কৃত কসম পূরণ করা জরুরি। কসম ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হবে।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৭/৫৩৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৫৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭১২; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৫৬; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৮৬; আননাহরুল ফায়েক ৩/৫৫; তাকরীরাতুর রাফেয়ী পৃ. ১৩; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৫; হেদায়া ২/৪৭৯, ৪৮১; মাবসূত সারাখসী ৮/১৩২; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১২৭; রদ্দুল মুহতার ৩/৭২৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুশাহীদ দেওয়ান - সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ

১৯৮৩. প্রশ্ন

ক) কোনো ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়নি। কিন্তু সে কুরবানীর দিন আকীকা দিতে চায়। তার জন্য আকীকা দেওয়া বৈধ হবে কি না? একজন আলিম বলেছেন, কুরবানীর দিনের ভিতর আকীকা দেওয়া এমন ব্যক্তির জন্য বৈধ নয়। প্রমাণসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব। খ) ডেকোরেটরের জিনিসপত্রে কীভাবে যাকাত আসে? ধরুন, কারো দুই লক্ষ টাকার ডেকোরেটর সামগ্রী আছে। আবার পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণও আছে। তার আয় খুব কম। সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। নগদ কোনো অর্থ নেই। এমন ব্যক্তির উপরও কি যাকাত আসবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ক) কুরবানীর দিন আকীকা করা নিষিদ্ধ নয়। এমনকি কুরবানীর পশুতেও আকীকার অংশ দেওয়া জায়েয। অতএব কুরবানী ওয়াজিব নয় এমন ব্যক্তিও কুরবানীর দিনগুলিতে আকীকা করতে পারবে। বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬ উত্তর : খ) ডেকোরেটর সামগ্রী যদি বিক্রয়ের জন্য না হয়; বরং তা ভাড়ার জন্য তবে সেগুলোতে যাকাত আসবে না। তাই ঐ সামগ্রীর কারণে মালিককে যাকাত দিতে হবে না। ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৯; ফিকহি মাকালাত ৩/১৫৫; রদ্দুল মুহতার ২/২৬৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান - ফরিদাবাদ, ঢাকা

১৯৮২. প্রশ্ন

আমাদের দেশে শীতকালে অনেকে মাথায় রুমাল পরে থাকে। সাধারণত তারা রুমালটিকে তিন কোণ করে এক কোণ পেছনে পিঠের উপর ফেলে রাখে। অবশিষ্ট দুই কোণ দুই কাঁধের উপর দিয়ে সামনে বুকের উপর ঝুলিয়ে দিয়ে ডানের কোণটিকে ঘুরিয়ে বাম কাঁধের উপর ফেলে রাখে। আর বামের কোণটিকে এমনিতেই ঝুলন্ত রাখে। রুকু-সিজদার সময় তা সম্মুখে ঝুলতে থাকে। প্রশ্ন হল, এভাবে নামাযে রুমালের একটি কোণ না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত রেখে দিলে নামায কি মাকরূহ হবে?

উত্তর

না। নামায অবস্থায় প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে রুমালের এক কোণ সম্মুখে ঝুললে এর দ্বারা নামায মাকরূহ হবে না। তবে উত্তম হল নামায অবস্থায় দুই প্রান্তকে কাঁধের সাথে পেঁচিয়ে রাখা। কেননা, তা নামাযীর সম্মুখে ঝুলতে থাকলে তার নামাযের একাগ্রতায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

হেদায়া (ফাতহুল কাদীর) ১/৩৫৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১৯২; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৪৭; আননাহরুল ফায়েক ১/২৮১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৯

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement