মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ - কাকরাইল মাদরাসা

২১৬২. প্রশ্ন

 

এক ব্যক্তি ফরয নামাযে রত বন্ধুকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে সে হাতের ইশারায় অথবা মাথা নেড়ে  উত্তর দিল। এ অবস্থায় তার নামায সহীহ হয়েছে কি?

 

 

উত্তর

নামায অবস্থায় এক হাত অথবা মাথা দ্বারা ইশারা করে উত্তর দিলে নামায নষ্ট হয় না। তবে নামাযের হালতে এভাবে ইশারায় উত্তর দেওয়াও ঠিক নয়। কুরআন মজীদ এবং হাদীস শরীফে নামাযে খুশু-খুযুর প্রতি খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নামাযের হালতে কারো কথার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা এবং ইচ্ছাকৃত হাত বা মাথা নাড়ানো থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

কুরআন মজীদে নামাযের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখে এবং এদিক-সেদিক ভ্রুক্ষেপ না করে তাদেরকে মুমিন বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

হযরত আবু যর রা. থেকে বর্ণিত হাদীস শরীফে আছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নামাযরত ব্যক্তি যতক্ষণ এদিক সেদিক ভ্রুক্ষেপ না করে ততক্ষণ আল্লাহর (বিশেষ) রহমত তার প্রতি থাকে। আর যখন সে অন্য দিকে ভ্রুক্ষেপ করে তখন আল্লাহর (বিশেষ) রহমত তার থেকে সরে যায়। (সুনানে আবু দাউদ ১/১৩১)

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রাহ. এক ব্যক্তিকে নামাযরত অবস্থায় দাঁড়িতে হাত বুলাতে দেখে বললেন, তার অন্তরে যদি খুশু থাকত তবে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির থাকত। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/২৬৬, হাদীস : ৩৩০৮)

প্রকাশ থাকে যে, নামাযরত ব্যক্তির মনোযোগ নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ করা অন্যায়। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করা এবং জবাব দিতে বাধ্য করা গুনাহর কাজ। এ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

-সুনানে আবু দাউদ ১/১৩১-১৩৩; তাসফীরে ইবনে কাসীর ৪/৪৪৫; জামে তিরমিযী ১/৪৮, ৫০, ৫১; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/৫৩৩-৫৩৪; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ১৯২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৯৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৮-৯; নুখাবুল আফকার ৪/৪০৯-৪২০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৪৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ - কাকরাইল মাদরাসা

২১৬১. প্রশ্ন

ফিকহের কিতাবে ঘোড়ার গোশত খাওয়াকে মাকরূহ বলা হয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘোড়া জিহাদের কাজে ব্যবহার হয়। তাই সাধারণভাবে খাওয়া শুরু করলে জিহাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে।

বর্তমানে জিহাদে ঘোড়ার ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। বিশেষ করে আমাদের দেশে তো নেই-ই। তাহলে ঘোড়ার গোশত খাওয়া বর্তমানে জায়েয হবে কি? এ ব্যাপারে একজন মুফতী সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ঘোড়া সম্মানিত হওয়ার কারণে তা খাওয়া মাকরুহ। সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে যদিও ব্যাপকভাবে ঘোড়ার ব্যবহার হয় না, কিন্তু তা একেবারে বন্ধও হয়ে যায়নি। তাই পুলিশ কেন্দ্রগুলোতে ঘোড়ার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং নিয়মিত তার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

তাছাড়া হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত খালিদ ইবনে ওলীদ রা. বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ার গোশত নিষেধ করেছেন। (সুনানে নাসাঈ ৮/২০৬; সুনানে আবু দাউদ ২/৫৩১)

নিষিদ্ধতার মূল সূত্র হচ্ছে উক্ত হাদীস। আর জিহাদের কাজে ব্যবহার হওয়ার বিষয়টি একটি প্রাসঙ্গিক দলিলমাত্র। অতএব জিহাদের কাজে ঘোড়ার ব্যবহার একেবারে বন্ধ হয়ে গেলেও তা খাওয়া উপরোক্ত হাদীসের কারণে মাকরূহ তানযীহি থাকবে।

-আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/১৮৩, ১৮৪; সহীহ বুখারী ২/৬০৬; সহীহ মুসলিম ২/১৫০; সুনানে আবু দাউদ ২/৫৩১; দারা কুতনী ৪/২৮৭; উমদাতুল কারী ১৭/২৪৮; বাযলুল মাজহূদ ১৬/১১৩; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৪৯; ইলাউস সুনান ১৭/১৪৩; ফাতহুল কাদীর ৮/৪১৯; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯০; মুলতাকাল আবহুর ৪/১৬২; আযযখীরাহ ৪/১০১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩০৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আতীকুর রহমান - চট্টগ্রাম

২১৬০. প্রশ্ন

 

আমার এক বন্ধু তার কামরায় ফরয নামায পড়ছিল। আমি বাইরে থেকে এসে দরজায় আওয়াজ করি। সে নামযারত অবস্থায় এক কাতার পরিমাণ হেঁটে এসে এক হাতে এক দফায় দরজা খুলে নিজ জায়গায় চলে গিয়ে নামায পুরো করে। একজন আলেম বলেছেন, তার নামায সহীহ হয়েছে। সত্যিই কি সহীহ হয়েছে? উল্লেখ্য, আমার ঐ বন্ধু পশ্চিম দিক থেকে সরেনি। কারণ তার রুমের দরজা পশ্চিম দিকে ছিল।


 

উত্তর

প্রশ্নে বর্ণনা অনুযায়ী ঐ ব্যক্তি নামায পরিপন্থী অন্য কিছু না করে থাকলে শুধু ঐভাবে দরজা খোলা দ্বারা তার নামায নষ্ট হয়নি। কারণ সে এক হাত ব্যবহার করে এক দফায় দরজা খুলেছে। অতএব ওই আলেম সাহেবের কথা সঠিক। তবে কোনো ওজর ছাড়া নামাযে এ ধরনের সামান্য কাজেও লিপ্ত হওয়া ঠিক নয়।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৮৫, ৫৮৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৫৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ১৭৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৬৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬২৮

শেয়ার লিংক

মাওলানা আমীর হুসাইন - ঢাকা

২১৫৯. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কয়েক বিঘা জমি নিয়ে চিংড়ি মাছের ঘের করা হয়। সেখানে মাছ চাষ করা হয়। আর ঘেরের উপর মুরগীর ফার্ম তৈরি করা হয়। মুরগীর বিষ্ঠা ঐ মাছের খাদ্য। প্রশ্ন হল, ঐ মাছের হুকুম কী? তা কী হালাল? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

চিংড়ি মাছের চাষ করা হয় অনেক বড় জায়গাজুড়ে বেশি পানিতে। তাই মুরগীর বিষ্ঠা খাওয়ালেও মাছের মধ্যে কোনো দুর্গন্ধ হয় না এবং তার স্বাদও পরিবর্তন হয় না। সুতরাং এই চাষের চিংড়ি খাওয়া জায়েয। বিষ্ঠা খাওয়ানোর কারণে চাষের মাছ খাওয়া নিষিদ্ধ হবে না।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১২/৪৩২, হাদীস : ২৫০৯৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৪৪; রদ্দুল মুহতার ৬/৩০৬, ৩৪০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৮৯; মুগনীল মুহতাজ ৪/৩৮৪; হাওয়াশি শারওয়ানী ১২/৩২১; আযযখীরাহ ৪/১০৪; আলমুগনী ১৩/৩২৮

শেয়ার লিংক

মাহমুদা আক্তার - রাজাপুর, হবিগঞ্জ

২১৫৮. প্রশ্ন

তেলাওয়াতের সময় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নাম এলে তেলাওয়াত বন্ধ করে দরূদ পড়া উচিত নাকি তেলাওয়াত শেষ করে দরূদ পড়া উচিত? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

কুরআন মজীদের আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম এলে তৎক্ষণাৎ তেলাওয়াতকারী ও শ্রবণকারী কারো উপর দরূদ পড়া ওয়াজিব নয়। এক্ষেত্রে তেলাওয়াত চালিয়ে যাওয়াই নিয়ম। তবে তেলাওয়াত শেষে দরূদ পড়ে নেওয়া উত্তম।

-রদ্দুল মুহতার ১/৫১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩১৬; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪২২; আলমুহীতুল বুরহানী ৭/৫১০

শেয়ার লিংক

আনিসুর রহমান - মদীনাতুল উলূম মাদরাসা আশরাফাবাদ, কামরাঙ্গীর চর, ঢাকা

২১৫৭. প্রশ্ন

 

আমি এক হেফযখানার খেদমতে আছি। আমাদের মাদরাসাটি মসজিদের একেবারে নিকটে অবস্থিত। আজান হলে স্পষ্ট শোনা যায়। জানার বিষয় হল, সবক চলাকালে যখন মসজিদে আযান হয় তখন ছাত্রদের তেলাওয়াত বন্ধ করে আযানের জওয়াব দেওয়া জরুরি কি না।

 

উত্তর

সাধারণ অবস্থায় তেলাওয়াতের সময় আযান শুনলে, তেলাওয়াত মওকুফ করে আযানের জওয়াব দেওয়াই উত্তম। কিন্তু যারা কুরআন মজীদ শেখা বা শেখানোয় ব্যস্ত থাকে তারা তাদের পড়াশেনা অব্যাহত রাখতে পারে। এ অবস্থায় তাদের আযানের জওয়াব না দেওয়ারও অবকাশ রয়েছে। সকল ছাত্রের পড়া বন্ধ করে আযানের জওয়াব দেওয়ানোর প্রয়োজন নেই।

-আসসিআয়াহ ২/৫১; রদ্দুল মুহতার ১/৩৯৬; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - নেত্রকোণা

২১৫৬. প্রশ্ন

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর একান্তে সাক্ষাতের পূর্বেই যদি স্বামী মৃত্যুবরণ করে এবং মহরও নির্ধারিত থাকে তাহলে কি স্ত্রী পূর্ণ  মহর পাবে, না নির্ধারিত মহরের অর্ধেক পাবে?


উত্তর

নির্জনবাসের আগেও স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজন মৃত্যু বরণ করলে স্ত্রী নির্ধারিত মহরের পুরোটাই পাবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৮৪, ৫৮৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩০৩; রদ্দুল মুহতার ৩/১০২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - নেত্রকোণা

২১৫৫. প্রশ্ন


মসজিদের ইমাম সাহেব বললেন, তাকবীরে তাশরীক যেমন পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর পড়তে হয় তেমনি ঈদের জামাতের পরও পড়তে হয়। মাসআলাটি সঠিক কি না জানালে      খুশি হব।


উত্তর

ঈদের জামাতের পর তাকবীরে তাশরীক পড়া জায়েয আছে। তবে এ সময় তা পড়া ওয়াজিব নয়।

-মারাকিল ফালাহ ২৯৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৫; আননাহরুল ফায়েক ১/৩৭৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১০৪; শরহুল মুনইয়াহ ৫৭৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৫৭; রদ্দুল মুহতার ২/১৮০; কেফায়াতুল মুফতী ৩/৩০৫; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/১৮১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল বারী - কুনিয়া, নেত্রকোণা

২১৫৪. প্রশ্ন

মোমেনশাহীর দুই ব্যক্তি ঢাকায় চাকরি করেন। তারা শুক্রবার সকাল ১১ টায় মোমেনশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। রাস্তায় জুমআর নামায পড়তে পারেননি। বেলা ৩টায় বাড়ি পৌঁছে দুজন মিলে জামাতের সাথে যোহরের নামায আদায় করেছেন। প্রশ্ন হল, তাদের জন্য জামাতের সাথে যোহরের নামায পড়া ঠিক হয়েছে নাকি একাকী পড়া উচিত ছিল? জানালে খুশি হব।

 

উত্তর

তাদের যোহরের  নামায আদায় হয়েছে। তবে তাদের জন্য যোহরের নামায একাকী পড়া উত্তম ছিল। কারণ জুমার জামাত না পেলে যোহর একাকী আদায় করা উত্তম।

-কিতাবুল আসল ১/৩৬৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৭৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৪; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ২৮৪; রদ্দুল মুহতার ২/১৫৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল বারী - কুনিয়া, নেত্রকোণা

২১৫৩. প্রশ্ন

 

জনৈক ব্যক্তি এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এক লক্ষ টাকা মূল্যের একটি জমি জামানত রেখে দুই লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিল। এখন সে জমিটি বিক্রি করতে চাচ্ছে এবং তার পরিবর্তে এক লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার জামানত রাখতে চাচ্ছে। তার জন্য শরীয়তে এই সুযোগ আছে কি?

 

উত্তর

হ্যাঁ, উক্ত প্রতিষ্ঠান মেনে নিলে জমির পরিবর্তে স্বর্ণালংকার জামানত রাখতে পারবে।

- হেদায়া ৪/৫৫৭; বাদায়েউস সানায়ে ৫/২৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫২৪; জামেউর রুমুয ২/১৯৩; মাজাল্লাহ, পৃ. ১৩৫, মাদ্দাহ : ৭১২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৪৬২; মাজমাউল আনহুর ৪/২৯৪; শরহুল মাজাল্লাহ ৩/১৮৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রকীবুল হাসান - কদমতলী

২১৫২. প্রশ্ন

ছেলেদের সামনের চুল বড় রেখে পিছনের চুল ছোট রাখা কিংবা সম্পূর্ণ মাথার চুল সমান রেখে সাইডে ক্ষুর দিয়ে কাটা জায়েয আছে কি?

 

উত্তর

মাথার সামনের দিকে চুল বড় রেখে পিছন বা মাথার পাশের চুল ছোট করে রাখা যদিও নাজায়েয নয় তবে তা নেক লোকদের রীতিবিরোধী। তাই এ থেকে বিরত থাকা উচিত। (কিতাবুত তারাজ্জুল, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ৭৭; বাযলুল মাজহূদ ১৭/৮৩)

আর পুরো মাথার চুল সমান করে কেটে ঘাড় ও কানের পাশের চুলের মাথা সমান করার জন্য ক্ষুর ব্যবহার করার অবকাশ আছে। (ফাতহুল বারী ১০/৩৭৮; তালিফাতে রশীদিয়া ৪৮৪; ইমদাদুল আহকাম ৪/৩৩৪)

উল্লেখ্য, চুলের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে। ১. বাবরি চুল রাখা। অর্থাৎ কানের লতি পর্যন্ত ঘাড়ের অর্ধেক পর্যন্ত, অধিক লম্বা হয়ে গেলে কাধের কাছাকাছি পর্যন্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় বাবরি চুল রেখেছেন।

২. পুরো মাথার চুল মুন্ডিয়ে ফেলা।

৩. পুরো মাথার চুল সমানভাবে ছোট করে রাখা।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুস সাত্তার - তারাইল, কিশোরগঞ্জ

২১৫১. প্রশ্ন

আমাদের হজ্ব-কাফেলার মুআল্লিম সাহেব যিলহজ্বের ১১ ও ১২ তারিখ যোহরের পর বেশি ভিড় হবে বলে সকাল ৮/৯ টার সময় রমী করিয়ে আমাদের নিয়ে মক্কায় চলে যান। জানতে চাই, সকাল বেলা এভাবে রমী করার দ্বারা তা আদায় হয়েছে কি না এবং আদায় না হলে কোনো জরিমানা আসবে কি না?


উত্তর

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল ও আছারে সাহাবার আলোকে অধিকাংশ ফকীহ একমত যে, ১১ ও ১২ যিলহজ্ব সূর্য ঢলার আগ পর্যন্ত রমীর সময় হয় না। তাই এ সময় রমী করলে ওয়াজিব আদায় হবে না। সুতরাং কেউ আগে রমী করলে তাকে আবার সূর্য ঢলার পর রমী করতে হবে। অন্যথায় জরিমানা দম দিতে হবে।

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের উপর জরিমানা দম ওয়াজিব হয়েছে।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২৯৯, ১৩০০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৪৭৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩২৪; ফাতহুল কাদীর ২/৩৯৩, ৩৯২; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৪৮; মানাসিকে মোল্লা আলী কারী ২৩৭; গুনইয়াতুন নাসিক ১৮১; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৫/৩২৮; আলমাজমু’ ৮/২১১; যখীরাহ ৩/২৭৫; আলবাহরুল আমীক ৪/১৮৭৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নুমান আহমদ - মুন্সিগঞ্জ

২১৫০. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি বিবাহের কয়েক মাস পর কয়েকজন লোকের সামনে স্ত্রীর অনুপস্থিতে তাকে তালাক গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করে। তালাক গ্রহণের ক্ষমতা প্রদানের বিষয়টি স্ত্রীর কাছে পৌঁছার আগেই মহিলাটি নিজ থেকে তালাকে বায়েন গ্রহণ করে।

জানতে চাই, ঐ মহিলার তালাক গ্রহণ করা সহীহ হয়েছে কি না?

উল্লেখ্য যে, তাদের বিবাহের কাবীননামার ১৮ নং ধারায় লেখা আছে যে, না, তালাকের অধিকার দেওয়া হয়নি।


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি মহিলাটি তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়ার বিষয়টি অবগত হওয়ার আগেই তালাক গ্রহণ করে থাকে তাহলে তার তালাক গ্রহণ সহীহ হয়নি এবং ঐ তালাক কার্যকর হয়নি। কারণ স্ত্রী তালাক গ্রহণের অনুমতি না জেনে তালাক গ্রহণ করলে তা কার্যকর হয় না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৫২১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩২৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালাহ উদ্দীন ইদিলপুর - সেনবাগ, নোয়াখালি

২১৪৯. প্রশ্ন

বিতরের নামাযে দুআয়ে কুনূত পড়ার আগে হাত তুলে আবার হাত বাঁধতে হয়। আমার জানার বিষয় হল, বাঁধা থেকে হাত উঠাব, না হাত ছেড়ে দিয়ে পুনরায় হাত বাঁধার জন্য হাত উঠাব? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

দুআ কুনূতের তাকবীরের জন্য হাত উঠানোর সময় হাত ছেড়ে দিয়ে তারপর উঠানোর কোনো নিয়ম আছে বলে আমাদের জানা নেই। তাই সরাসরি হাত উঠাবে, হাত ছাড়বে না।

শেয়ার লিংক

আরেফীন সিদ্দীক - সেনপাড়া, মিরপুর

২১৪৮. প্রশ্ন

আমাদের দেশে অনেক লোককে দেখা যায়, আবা পরিধান করে, যা টাখনুর নিচে ঝুলে থাকে। আমরা জানি, টাখনুর নিচে কাপড় পরা নিষেধ। আবাও কি এ হুকুমের অন্তর্ভুক্ত?

 

উত্তর

হ্যাঁ, আবা এবং সকল ধরনের পোষাক পুরুষের জন্য টাখনু গিরার নিচে ঝুলিয়ে পরা নাজায়েয। কেননা হাদীস শরীফে লুঙ্গি, জামা, পাগড়ি এবং চাদরকে টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরতে নিষেধ করা হয়েছে। (সুনানে নাসাঈ ২/২৫৪; তবারানী ৮/২৩২)

অন্য হাদীসে আছে, টাখনুর নিচে যতটুকু ঝুলিয়ে পরবে তা জাহান্নামে যাবে।

(সুনানে আবু দাউদ ৫৬৬)-সহীহ বুখারী ২/৮৬১; ফাতহুল বারী ১০/২৬৮; সুনানে নাসাঈ ২/২৫৪; আওনুল মাবুদ ১১/১০৩; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/১২০; তবারানী ৮/২৩২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ - বরিশাল

২১৪৬. প্রশ্ন

 

(ক) আমার আম্মা আমার মরহুম পিতার মীরাসসূত্রে বাড়ির জমির ১১ কড়া (২২ শতাংশ) জমির মালিক হয়েছেন। জায়গাটির বর্তমান মূল্য ৬-৭ লক্ষ টাকা। এছাড়া আম্মার আর কোনো সম্পদ, অলংকারাদি বা নগদ অর্থ নেই। আম্মার ভরণ-পোষণ আমরা ছেলেরাই করি। উপরোক্ত জায়গাটি বর্তমানে খালি পড়ে আছে। চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। জানার বিষয় এই যে, আমার আম্মার উপর কি হজ্ব করা ফরয?

 

(খ) আমি আমার পিতার মীরাসসূত্রে ৫ কাঠা জমির মালিক হয়েছি। জমিটি আমি ৯ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। চুক্তি হয়েছিল, ৫ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করবে। কিন্তু ৪ মাসে ৬ লক্ষ টাকা পরিশোধের পর বাকি টাকা এখনও পরিশোধ করেনি। এক বছরেরও বেশি সময় দিচ্ছি-দিব বলে পার করে দেয়।

এখন জিজ্ঞাসার বিষয় হল, আমাকে উক্ত বকেয়া ৩ লক্ষ টাকার যাকাত আদায় করতে হবে কি না? দিলে কখন আদায় করব? উসূল হওয়ার পর বিগত সময়ের যাকাত দিতে হবে কি?


 

উত্তর

 

(ক) প্রশ্নপত্রের বিবরণ ও মৌখিক বর্ণনা অনুযায়ী আপনার আম্মার উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। কারণ মীরাসসূত্রে পাওয়া  জমিটি প্রয়োজনের অতিরিক্ত, তার বসবাস ও ভরণ-পোষণে লাগছে না। আর সেটির মূল্যও হজ্ব আদায়ের জন্য। সুতরাং আপনার আম্মাকে ফরয হজ্ব আদায় করতে হবে।


 

(খ) প্রশ্নে বর্ণিত ক্ষেত্রে জমির মূল্য বাবদ বকেয়া ৩ লক্ষ টাকা হাতে পাওয়ার আগে তার উপর যাকাত ফরয নয়। হস্তগত হওয়ার পর এক বছর অতিবাহিত হলে তার যাকাত দিতে হবে। তবে আপনি যদি পূর্ব থেকে যাকাতের নেসাবের মালিক হয়ে থাকেন তাহলে আপনার যাকাত-বর্ষ শেষ হওয়ার পর অন্যান্য সম্পদের সাথে মিলিয়ে ঐ টাকারও যাকাত আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে ঐ টাকার উপর আলাদাভাবে এক বছর অতিবাহিত হওয়া লাগবে না।

(ক) বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৮; ফাতহুল কাদীর ২/৩২২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৩; মানাসিক মোল্লা আলী কারী ৪৪; আলমাসালিক ১/২৬৩; আলবাহরুল আমীক ১/৩৮৪; গুনইয়াতুন নাসিক ২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৭ (খ) শরহু মুখতাছারিত তাহাবী ২/৩৪১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০; আততাজরীদ ৩/১২৬২; তুহফাতুল ফুকাহা ১/২৯৪; ফাতাওয়া দারুল উলূম ৬/১৩৫; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২৭১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহাদাত হুসাইন - সিদ্ধিরগঞ্জ

২১৪৫. প্রশ্ন

কিছুদিন আমি ফজর নামাযের কেরাত পড়ার সময় ভুলে

ان الله يحب المحسنين

 এর স্থলে

 ان الله لا يحب المسلمين

পড়েছি। এখন জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায সহীহ হয়েছে কি? না হয়ে থাকলে এখন আমার করণীয় কী?


উত্তর

প্রশ্নোক্ত ভুলের কারণে আপনার নামায নষ্ট হয়ে গেছে। উক্ত নামায পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/৭৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৫৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১১৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবুল হাসান - খুলনা

২১১২. প্রশ্ন

হজ্ব শিক্ষার একটি বইয়ে পড়েছি, হাজরে আসওয়াদ একটি জান্নাতী পাথর, যা প্রথমে খুব সাদা ছিল। এরপর মানুষের গুনাহের কারণে তা কালো হয়ে যায়। মানুষের গুনাহ যদি তাকে স্পর্শ না করত তাহলে যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি তাকে স্পর্শ করামাত্র সুস্থ হয়ে যেত। আমি জানতে চাই, কথাগুলো সহীহ কি না? হাদীস বা আছারে এ ধরনের কথা আছে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, কথাগুলো সহীহ। বিশুদ্ধ সূত্রে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাজরে আসওয়াদ জান্নাতের পাথর। প্রথমে এটি দুধের চেয়েও অধিক সাদা ছিল। পরে মানুষের গুনাহ তাকে কালো করে দিয়েছে। (জামে তিরমিযী, হাদীস : ৮৭৭; সহীহ ইবনে খুযাইমা ৪/২২০; মুসনাদে আহমাদ ১/৩০৭, ৩২৯, ৩৭৩)

অন্য হাদীসে আছে, মানুষের গুনাহ যদি হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীমের পাথরকে স্পর্শ না করত তাহলে যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি তা স্পর্শ করলে (আল্লাহর পক্ষ হতে) তাকে সুস্থতা দান করা হত। (সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৫/৭৫; শরহুল মুহাযযাব ৮/৫১)

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শামসুদ্দোহা - আমরাইদ, কাপাসিয়া

২১১১. প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের ঈদগাহের জন্য একটি জমি প্রায় এক শ’ বছর পূর্বে ওয়াকফ করা হয়। এরপর থেকে সেখানে ঈদের নামায হয়ে আসছে। কিছুদিন পূর্বে ঈদগাহের সীমানা দেয়াল নির্মাণ এবং আরো কিছু প্রয়োজনে ঈদগাহের সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে দেখা যায়, ঈদগাহ সংলগ্ন জমির মালিক অনেকগুলো ফলদ ও কাঠের গাছ ভুলবশত ঈদগাহের সীমানার ভিতরে লাগিয়ে ফেলেছে। গাছগুলো অন্তত ২০/২৫ বছর পূর্বে লাগানো হয়েছিল এবং এতদিন যাবৎ গাছের ফল রোপনকারী ভোগ করে আসছে। এখন মুসল্লিরা দাবি করছে, যেহেতু গাছগুলো ঈদগাহের জমিতে বড় হয়েছে সুতরাং এগুলো ঈদগাহের গাছ। আর রোপনকারীর বক্তব্য, আমার গাছ আমি কেটে নিয়ে যাব। এ বিষয়ে শরঈ সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন। 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির জন্য ঈদগাহে গাছ লাগানো ঠিক হয়নি। তাকে এর জন্য তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে আর বিগত যত বছর ঈদগাহের সীমানার ভিতরে জমিতে তার গাছ ছিল তত বছরের ন্যায্য ভাড়া ঈদগাহ ফান্ডে আদায় করতে হবে। তবে রোপনকারী গাছগুলোর মালিক। ঈদগাহ কর্তৃপক্ষ তাকে গাছগুলো কেটে নিয়ে মাঠ খালি করে দিতে বাধ্য করতে পারবে।

উল্লেখ্য, গাছের ছায়া বা অন্য কোনো সুবিধার জন্য ঈদগাহ কর্তৃপক্ষ গাছগুলো রেখে দিতে চাইলে রোপনকারীর সম্মতিতে গাছের বর্তমান মূল্য পরিশোধ করে দিতে হবে।

জামেউল ফুসূলাইন ২/১০১; কিতাবুল ওয়াকফ, পৃষ্ঠা : ৩৮৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ জাবের আবদুল্লাহ - বগুড়া

২১১০. প্রশ্ন

মনে মনে তালাক দিলে কি তালাক হয়ে যাবে?

উত্তর

মুখে উচ্চারণ না করে শুধু মনে মনে তালাক দিলে তা কার্যকর হয় না। তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য লিখা বা মুখে উচ্চারণ করা জরুরি।

সহীহ মুসলিম ১/৭৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২৩০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৫৭

শেয়ার লিংক

আবদুর রহমান - খামারবাড়ি, ঢাকা

২১০৯. প্রশ্ন

আজকের আধুনিক সময়ে যদিও ঘড়ির প্রয়োজন কমে গেছে তবুও প্রায় সময় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। অনেকেই বলে যে, পুরুষদের ঘড়ি বাম হাতে পরতে হয়। আর মেয়েদের পরতে হয় ডান হাতে। আবার দু তিনজন হুজুর থেকে শুনেছি, পুরুষরা ঘড়ি ডান হাতে পরবে। তারা মেয়েদের কথা উল্লেখ করেননি। এখন কার কথা অনুসরণ করব? দলিলসহ জানতে চাই। 

উত্তর

পুরুষ-মহিলা প্রত্যেকে নিজ নিজ সুবিধামত যেকোনো হাতে ঘড়ি পরতে পারবে। এ বিষয়ে শরীয়তে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। পুরুষ-মহিলার ঘড়ি পরিধানের নিয়ম ভিন্ন হওয়ার যে কথা প্রশ্নে বলা হয়েছে এর কোনো ভিত্তি নেই।

ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ১৭/৩০১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ বুরহানুদ্দীন - ফরিদাবাদ মাদরাসা

২১০৮. প্রশ্ন

--- একটি প্রসিদ্ধ নাম। এর সঠিক উচ্চারণ কী? অনেকে এ নামটির প্রথম অক্ষর অর্থাৎ ফা যের দিয়ে পড়েন। আবার অনেকে যবর উচ্চারণ করেন। কোনটি সঠিক এবং এর অর্থ কী? এটি সাহাবী-তাবেয়ীদের কারো নাম ছিল কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

-- শব্দটির প্রথম অক্ষর যবর দিয়ে ‘ফাইরুয’ বলা যায়। আবার যের দিয়ে ‘ফীরুয’ ও বলা যায়। উভয় উচ্চারণ সহীহ। এটি মূলত ফার্সী শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে, বিজয়ী, সফল, কৃতকার্য। এটি একজন সাহাবীর নাম। তাঁর উল্লেখযোগ্য একটি কৃতিত্ব হল, তিনি নবুওয়তের মিথ্যা দাবীদার আসওয়াদ আনাসীকে হত্যা করেছিলেন।

সহীহ বুখারী ২/৬২৮; আলইসাবা ৫/৩৭৯; আলইস্তিআব ৩/১২৬৪; আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫/১৩; ফাইরুযুল লুগাত ৯৪১; গিয়াসুল লুগাত ৩৮১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল ফয়েজ - মাদরাসা বাইতুন নূর, সায়েদাবাদ

২১০৭. প্রশ্ন

একদিন রাত্রে আমার স্বপ্নদোষ হয়। ফজরের সময় ঘুম থেকে জেগে দেখি, সূর্যোদয়ের  মাত্র বিশ মিনিট বাকি আছে। তাড়াতাড়ি পুকুর ঘাটে গোসল করতে গিয়ে দেখি, আমার খুব ঘনিষ্ট আত্মীয়দের মধ্যে দু’ একজন ঘাটে কাজ করছেন, যাদের সামনে গোসল করা খুব লজ্জার ব্যাপার। তাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলাম, কি করা যায়, অন্য কোথায় গোসল করা যায়। কিন্তু ভাবতে ভাবতে সময় প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। মাত্র ৫/৭ মিনিট বাকি আছে। তাই গোসল না করে অযু ও তায়াম্মুম করে নামায আদায় করি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার তায়াম্মুম করা সহীহ হয়নি। কারণ পানি থাকা অবস্থায় লোকলজ্জার কারণে তায়াম্মুম করা সহীহ নয়। সুতরাং তায়াম্মুম করে আদায়কৃত নামাযও সহীহ হয়নি। ঐ নামায কাযা করে নিতে হবে। (আদ্দুররুল মুখতার ১/২৩০) উল্লেখ্য, এ ধরনের ক্ষেত্রে লজ্জা পাওয়া বাঞ্চনীয় নয়। আর স্বভাবগত লজ্জার অজুহাতে শরীয়তের বিধান লঙ্ঘন করা যায় না।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আসআদ - সিলেট

২১০৬. প্রশ্ন

তামাত্তু হজ্বকারী উকুফে আরাফার আগে উমরা সম্পন্ন করতে পারেনি। এক্ষেত্রে  তার করণীয় কী? সে কি উমরার ইহরাম নিয়েই আরাফায় চলে যাবে, না তা ভেঙ্গে হজ্বের ইহরাম বাঁধবে? ইহরাম ভাঙ্গলে কি এর কারণে দম আদায় করতে হবে এবং পরবর্তীতে ঐ উমরা কাযা করতে হবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

তামাত্তু হজ্বকারী উকুফে আরাফার আগে যদি উমরার তাওয়াফের অন্তত চার চক্কর আদায় করতে না পারে তাহলে উমরার ইহরামটি এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সে হজ্বের ইহরাম করে হজ্বের আমল করে যাবে এবং তার হজ্বটি ইফরাদ হবে। তাই দমে শোকর ওয়াজিব হবে না। তবে উমরার ইহরাম বাতিল হওয়ার কারণে তার উপর জরিমানা দম ওয়াজিব হবে এবং ১৩ তারিখের পর বাতিল হয়ে যাওয়া উমরাটি কাযা করে নিবে। আর যদি উকুফে আরাফার আগে তাওয়াফের চার চক্কর বা আরো বেশি আদায় করতে পারে তাহলে উমরার ইহরাম বাতিল হবে না। অবশ্য সে এখন উমরার কোনো কাজ করবে না; বরং (হজ্বের ইহরাম করে) হজ্বের আমলগুলি আদায় করবে। এক্ষেত্রে এটি কিরান হজ্ব বলে গণ্য হবে এবং হজ্বের কুরবানী (দমে শোকর) দিতে হবে। এ ব্যক্তি উমরার অবশিষ্ট কাজগুলো ১০ থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্তের ভেতর তাওয়াফে যিয়ারতের পূর্বে আদায় করে নিবে। এরপর ইহরাম ত্যাগ করবে।

সহীহ বুখারী ১/৪৫; মুয়াত্তা, ইমাম মুহাম্মাদ, পৃ : ২২১; আলহুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনা ১/৪২৫; মুসনাদে ইমাম আযম পৃ. : ১১৩; ফাতহুল মুলহিম ৩/২৪৭; ইলাউস সুনান ১০/৩২৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৭৭; আলবাহরুল আমীক ২/৭৩৩; মানাসিক পৃ. : ২৫৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ - হবিগঞ্জ, সিলেট

২১০৫. প্রশ্ন

আমার উপর যাকাত ফরয হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর যথাযথভাবে তা আদায় করে আসছি। কিন্তু আমার জানা ছিল না যে, স্বর্ণালংকারেরও যাকাত দিতে হয়। অথচ আমার কাছে প্রায় আট ভরি স্বর্ণের অলংকার আছে। এখন কীভাবে এ অলংকারগুলোর যাকাত আদায় করব? প্রতি বছরই তো স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তন হচ্ছে। এখন কোন মূল্য হিসেবে তা আদায় করব?  

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ অলংকারের বর্তমান বাজারদর ধরেই পিছনের যাকাত আদায় করতে হবে। কেননা, প্রতি বছর ঐ অলংকারের শতকরা আড়াই ভাগ যাকাত আদায় করা আপনার উপর ফরয  ছিল। তা যেহেতু আদায় করা হয়নি তাই এখন এ পরিমাণ স্বর্ণ কিংবা তার বর্তমান বাজার দর আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোর যাকাত আদায়ের সময় প্রত্যেক বছরের যাকাত বাদ দিয়ে যে সম্পদ/অলংকার থাকবে তা পরবর্তী বছরের যাকাতযোগ্য সম্পদ বলে বিবেচিত হবে। যেমন কারো কাছে ৪০ ভরি অলংকার আছে। সে দুই বছর যাকাত দেয়নি। এক্ষেত্রে তাকে প্রথম বছরের জন্য ১ ভরি স্বর্ণ বা তার মূল্য যাকাত দিতে হবে। আর দ্বিতীয় বছরের যাকাতযোগ্য সম্পদ ৩৯ ভরি। তাই এ থেকে যাকাত দিতে হবে ০.৯৭৫ ভরি স্বর্ণ বা তার মূল্য।

বাদায়েউস সানায়ে ২/১১১; ফাতহুল কাদীর ২/১১৮; আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল মজীদ - রংপুর

২১০৪. প্রশ্ন

শাশুড়ির মামার সাথে দেখা সাক্ষাত করা যাবে কি?

উত্তর

শাশুড়ির মামা মাহরাম নয়। তাই তার সাথে দেখা সাক্ষাত করা জায়েয হবে না।

সূরা নিসা : ২২-২৪; তাফসীরে কুরতুবী ৫/১০৩; তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৭১১; আলমুফাসসাল, মাদ্দাহ : ৫৪৫২

শেয়ার লিংক

বেগম আবু তাসনীম - বাসাবো, ঢাকা

২১০৩. প্রশ্ন

মহিলারা ঘরে একা একা নামায পড়ার সময় ইকামত বলবে কি না?

উত্তর

মহিলাদের জন্য আযান-ইকামতের বিধান নেই। তাদের আযান-ইকামত দেওয়া মাকরূহ। তারা আযান-ইকামত ছাড়া নামায আদায় করবে।

সুনানে বায়হাকী ১/৪০৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৭৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৮; ফাতহুল কাদীর ১/২১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩; ফাতাওয়া শামী ১/৩৯১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আহসান হাবীব - মাদানী নগর মাদরাসা

২১০২. প্রশ্ন

জুমআর প্রথম আযানের পর আমরা অনেকেই খানাপিনা, গোসল, কাপড় ইস্ত্রি, কাপড় ধোয়া, কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি কাজ করে থাকি। জানতে চাই, আযানের পর এ সমস্ত কাজ করা ঠিক কি না?

উত্তর

জুমআর প্রথম আযানের পর অন্য কোনো কাজে লিপ্ত  না হয়ে মসজিদে যাওয়ার প্রস্ত্ততি নেওয়া এবং মসজিদের দিকে রওনা হওয়া জরুরি। এ সময় গল্পগুজব করা, কাপড় ধোয়া, কাপড় ইস্ত্রি করা, এমনকি ঘরে বসে কুরআন তিলাওয়াত করা অর্থাৎ জুমআর প্রস্ত্ততিমূলক কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ করা মাকরূহে তাহরীমী। অবশ্য নামাযের প্রস্ত্ততিমূলক কাজ যেমন-অযু, গোসল, কাপড় পরিধান ইত্যাদির সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, আমাদের দেশে জুমআর দুই আযানের মাঝে যে লম্বা সময়ের ব্যবধান রাখার যে প্রচলন রয়েছে তা সংশোধন করা উচিত। দুই আযানের মাঝে অধিক বিরতি না দিয়ে দুই আযানকে আরো কাছাকাছি নিয়ে আসা কর্তব্য।

সহীহ বুখারী, হাদীস : ৮৭৮; ফাতহুল বারী ২/৪১৯; তাফসীরে কুরতুবী ১৮/৭০; আহকামুল কুরআন, থানভী ৪/৬৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৬; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫৮০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইকবাল - উত্তর মুগদা পাড়া, ঢাকা-১২১৪

২১০১. প্রশ্ন

সাবেরা খাতুন নামে একজন মহিলা নিঃসন্তান অবস্থায় ১৯৯৭ ঈ. সালে ইন্তেকাল করেন। তার স্বামী পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন। তার মা, বাবা, দাদা, দাদী, নানা, নানী ও তাদের উর্ধ্বতন নারী-পুরুষ এবং তার চাচা, ফুফু সকলেই পূর্বে মারা গেছেন।

সাবেরা খাতুনরা দুই ভাই, দুই বোন। বোন হাজেরা খাতুন। বড় ভাই ইউনুস আলী ও ছোট ভাই দানিশ। বোন হাজেরা খাতুন ও বড় ভাই ইউনুস আলী সাবেরা খাতুনের পূর্বেই মারা গেছেন। মৃত্যুকালে হাজেরা খাতুন এক ছেলে এবং ইউনুস আলী তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে যান। এরা সবাই বর্তমানে জীবিত রয়েছেন।

ছোট ভাই দানিশ সাবেরা খাতুনের পর মারা যান। দানিশের স্ত্রী স্বামীর পূর্বেই মারা গেছেন। দানিশ দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে যান। ছেলেমেয়ে সকলেই জীবিত রয়েছে। এখন সাবেরা খাতুনের সম্পদের বণ্টন কীভাবে হবে?

উত্তর

সাবেরা খাতুনের স্থাবর-অস্থাবর সমুদয় সম্পদ থেকে প্রয়োজন হলে তার কাফন-দাফনের খরচ দিতে হবে। এরপর মৃতের কোনো ঋণ থাকলে তা আদায় করতে হবে। অতপর শরীয়তসম্মত কোনো অসীয়ত থাকলে অবশিষ্ট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে তা পূরণ করতে হবে। এরপর অবশিষ্ট সকল সম্পদ প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী মৃতের (মহিলার) ছোট ভাই দানিশ একাই পাবেন। কারণ মহিলার মৃত্যুর সময় দানিশই তার সবচেয়ে নিকটতম আত্মীয় ছিলেন। অন্য আত্মীয়স্বজন যারা জীবিত ছিলেন তারা কেউ দানিশের সমস্তরের নয়। তাই বোনের সমুদয় সম্পদ ভাই দানিশ পাবেন। আর এখন যেহেতু দানিশ বেঁচে নেই তাই তার সূত্রে এ সম্পদ তার জীবিত ওয়ারিশগণের মধ্যে বণ্টন হয়ে যাবে প্রত্যেক ছেলে (সাবেরা খাতুনের ভাতিজা) ২৮.৫৭১ করে পাবে এবং প্রত্যেক মেয়ে (সাবেরা খাতুনের ভাতিজি) ১৪.২৮৫ করে পাবে।

সূরা নিসা : ১৭৬; সুনানে আবু দাউদ ২/৪০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৪৫১; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/৪৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২০৭, ৩৩৭; কিতাবুল মাবসূত ২৯/১৪০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাফিউদ্দীন - ১১০ বি কে মেইল রোড, পূর্ব বালিয়া খামার, খুলনা

২১০০. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি তামাত্তু হজ্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে মীকাতের আগে থেকে উমরার ইহরাম করে রওনা হন এবং যথারীতি তাওয়াফ ও সাঈ করেন। কিন্তু এরপর হলক বা কসর না করে ইহরামের হালতেই মক্কায় অবস্থান করেন এবং ৮ তারিখ হজ্বের ইহরাম করে মিনায় রওনা হন। এরপর আরাফা, মুযদালিফায় উকূফ করে মিনায় রমী, কুরবানী ও হলক করেন। এরপর তাওয়াফে যিয়ারত, সাঈ, তাওয়াফুল বিদা সম্পন্ন করেন এবং ঘোষণা দেন যে, তিনি কিরান হজ্ব আদায় করেছেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে তার এ হজ্ব ক্বি কিরান হজ্ব হয়েছে? জানালে কৃতজ্ঞ হব। 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তার হজ্বটি তামাত্তু হজ্বই হয়েছে। কিরান হয়নি। কেননা, কিরান হওয়ার জন্য শর্ত হল,  অন্তত উমরার তাওয়াফের অধিকাংশ চক্কর দেওয়ার পূর্বেই হজ্বের ইহরাম করে নেওয়া। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু উমরার তাওয়াফ, সাঈ সম্পন্ন করার পর হজ্বের ইহরাম করা হয়েছে তাই তা কিরান হয়নি, তামাত্তু হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উমরার তাওয়াফ ও সাঈ করার পর যেহেতু মাথা মুন্ডানো হয়নি তাই হজ্বের ইহরামের পূর্ব পর্যন্ত তিনি উমরার ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। তাই এ অবস্থায় থাকাকালীন ইহরাম সংক্রান্ত নিষিদ্ধ কোনো কাজ করে ফেললে তার উপর দম/জরিমানা (ক্ষেত্রবিশেষ) ওয়াজিব হবে। আর যেসব ভুলের কারণে কিরানকারীর উপর দুটি দম ওয়াজিব হয়, হজ্বের ইহরাম করার পর এমন কোনো নিষিদ্ধ কাজ করে থাকলে তার উপরও দুটি দম ওয়াজিব হবে। কেননা, সে বাস্তবে কিরানকারী না হলেও উমরার ইহরাম ত্যাগ না করার কারণে তার ইহরাম এখন দুটি : হজ্বের ইহরাম ও উমরার ইহরাম।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৩৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৭৮; মানাসেক পৃ. ২৭১, ২৮৭, ২৮৯, ২৯০, ২৯৪; রদ্দুল মুহতার ২/৫৩৫; গুনইয়াতুন নাসিক ২০৩, ২১২, ২১৯

শেয়ার লিংক