মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ - কাকরাইল মসজিদ মাদরাসা

১৮৮৫. প্রশ্ন

আমি এক মাসের চুক্তিতে ২,৫০০/- টাকার বিনিময়ে ১টি রুম ভাড়া নিয়েছি। ৭/৮ দিন থাকার পর বাসার পানির পাইপ ফেটে যাওয়ার কারণে পানি এতই খারাপ হয়েছে যে, খাওয়া-দাওয়া, অযু-গোসল ইত্যাদি কোনো কাজে ব্যবহারের যোগ্য ছিল না। এমনকি এ কারণে আমার এক বাচ্চার ডায়রিয়া হয়েছে এবং আমার স্ত্রী ও আরেক বাচ্চা অসুস্থ হয়েছে। তারপরও আমি ৪/৫ দিন বাহির থেকে পানি এনে সকল কাজ করি। পরবর্তীতে পানির লাইন ঠিক না করার কারণে ১২ দিন পর বাসা ছেড়ে দিই। এখন বাড়িওয়ালা বলছে, ঐ মাসের পূর্ণ ভাড়া দেওয়ার জন্য। আমি বলছি যে, আমি যুক্তিসঙ্গত কারণে বাসা ছেড়েছি। বিনা কারণে বাসা ছাড়িনি। তাই যতদিন ছিলাম ততদিনের ভাড়া দিব। জানিয়ে বাধিত করবেন যে, শরীয়তের আলোকে কার কথা সঠিক?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী বাসার পাইপ ফিটিংসের ত্রুটির কারণেই যদি পানি খারাপ হয়ে থাকে, আর বাড়িওয়ালাকে অবগত করার পরও তা ঠিক না করে থাকে প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পুরো মাসের ভাড়া দেওয়া আপনার জন্য জরুরি নয়; বরং ১২ দিনের পূর্ণ ভাড়া সকল বিলসহ আদায় করতে হবে। অবশ্য পানি যতদিন ব্যবহার উপযোগী ছিল ততদিনের পানির বিল আদায় করতে হবে।

হেদায়া ৩/২৯৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৭৯, ৮০ ও ৮১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১২২, ১৬১; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩৫২; মাজমাউল আনহুর ৩/৫৫৫; আলকিফায়া ৮/৮৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/৩৫; ফাতাওয়া খায়রিয়া ২/২০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৫৮; শরহুল মাজাল্লা, খালিদ আতাসী ২/৬০৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলী - সাভার

১৮৮৪. প্রশ্ন

নামাযীর সামনে সুতরা স্থাপন না করলে তার সামনে দিয়ে যাওয়া নিষেধ। এখন কেউ যদি একজন নামাযী ব্যক্তির সামনে সুতরা রেখে অতিক্রম করার পর তা টান দিয়ে অন্য নামাযী ব্যক্তির সামনে দেয় তবে বিধান কী?

উত্তর

বিশেষ প্রয়োজনে ঐভাবে অতিক্রম করা জায়েয হবে। তবে এতে নামাযীর মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। তাই বিনা প্রয়োজনে এমন করবে না। উল্লেখ্য, নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অন্যান্য মুসল্লি বা সাধারণ মানুষের চলাচলের সম্ভাবনা থাকলে নামায শুরুর আগে সুতরা সামনে রেখে নামাযে দাঁড়ানো সুন্নত।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৬৩১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবুল কালাম রেজা - মিরপুর-১২, ঢাকা

১৮৮৩. প্রশ্ন

আমি একজন ব্যবসায়ী। শুনেছি যে, ব্যবসায় সুদের মিশ্রন হারাম। অনেক সময় পণ্য বাকিতে বিক্রয় করতে হয়। আর তা সাধারণত বাজারদর থেকে কিছু বেশিতে বিক্রি করি। এখানে আমার জানার বিষয় এই যে, বাকি বিক্রিতে মূল্য বৃদ্ধি কি সুদের আওতায় পড়ে? এই বর্ধিত মূল্য গ্রহণ করা কি আমার জন্য বৈধ?

উত্তর

নগদ বিক্রির তুলনায় বাকি বিক্রিতে মূল্য কিছু বেশি রাখা দোষের নয়। তবে সাধারণত বাকির ক্ষেত্রে যে হারে অতিরিক্ত নেওয়া হয় তার চেয়ে বেশি নেওয়া ঠিক হবে না। প্রকাশ থাকে যে, বাকি বিক্রির ক্ষেত্রে অধিক মূল্য নেওয়া সুদ নয়। অবশ্য মূল্য চুড়ান্ত করে চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে বা বিলম্বে মূল্য পরিশোধের কারণে যদি অতিরিক্ত গ্রহণ করা হয় তবে তা সুদ ও হারাম হিসাবে গণ্য হবে।

জামে তিরমিযী ১/২৩৩; হেদায়া ৩/৭৪; বুহুছ ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআছিরা ১/১০; আলবাহরুর রায়েক ৬/১১৪; আলমাবসূত সারাখসী ১৩/৭; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৫/১৪২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবু বকর - মিরপুর-১, ঢাকা

১৮৮২. প্রশ্ন

আমি একদিন তারাবীর নামায আদায় করছিলাম। মাঝে একটি জরুরতে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসি। পুনরায় মসজিদে গিয়ে দেখি যে, ইমাম সাহেব নামাযরত। তবে তারাবীহ না বিতর এ বিষয়ে সংশয়ে পড়ি। তখন আমি এভাবে নিয়ত করি যে, যদি ইমাম সাহেব বিতরের মধ্যে থাকেন তবে বিতরের নিয়ত করলাম আর তারাবীতে হলে তারাবীর। প্রকৃতপক্ষে তা ছিল বিতরের নামায। আমার জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় আমার উক্ত নিয়ত ও নামায সহীহ হয়েছে কি না?

উত্তর

জ্বী, এক্ষেত্রে ঐভাবে নিয়ত করা সহীহ হয়েছে এবং বিতরের নামায আদায় হয়েছে।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬৬; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮২; ফাতহুল কাদীর ১/২৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৩০; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ১২০

শেয়ার লিংক

ফায়রুজা সাফফাত - সাভার

১৮৮১. প্রশ্ন

আমরা জানি, মেয়েদের চুল কাটা নিষেধ। তবে প্রয়োজনের সময় চার আঙ্গুল পরিমাণ চুল কাটা যায়। এখন আমার প্রশ্ন হল : ক) মেয়েরা কতদিন পর পর চুল কাটতে পারবে এবং তার পরিমাণ কতটুকু? খ) বেশি কাটলে তার কাফফারা কী দিতে হবে এবং তা কী পরিমাণ? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

মহিলাদের চুলের ক্ষেত্রে শরীয়তের মৌলিক নীতিমালা হল : ১. মহিলারা চুল লম্বা রাখবে। হাদীস শরীফ থেকে জানা যায় যে, উম্মাহাতুল মুমিনীন রা. চুল লম্বা রাখতেন। ২. এ পরিমাণ খাটো করবে না যে, পুরুষের চুলের মতো হয়ে যায়। হাদীস শরীফে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিনী মহিলার প্রতি অভিসম্পাত করা হয়েছে। ৩. চুল কাটার ক্ষেত্রে বিজাতীয়দের অনুকরণ করবে না। কারণ হাদীসে বিজাতীয়দের অনুকরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। অতএব যে মহিলার চুল এত লম্বা যে, কিছু অংশ কাটলে পুরুষের চুলের সাথে সাদৃশ্য হবে না তার জন্য ঐ পরিমাণ কাটা জায়েয হবে। পক্ষান্তরে যার চুল তত লম্বা নয়; বরং অল্প কাটলেই কাঁধ সমান হয়ে যাবে এবং পুরুষের বাবরী চুলের মতো দেখা যাবে তার জন্য অল্প করেও কাটার অনুমতি নেই। তবে জটিল অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে চুল ছোট করা, এমনকি জরুরতবশতঃ কামানোরও অনুমতি রয়েছে। অতএব চার আঙ্গুল পরিমাণ কাটা যাবে-এ কথা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; বরং চুল বেশি বড় থাকলে যেমন কোমর সমান চুল থাকলে চার আঙ্গুলের বেশি পিঠের মাঝামাঝি করে কাটা জায়েয। তবে সর্বাবস্থায় ফ্যাশনের অনুকরণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে মহিলারা তাদের চুল খাটো করতে পারবে। এর জন্য সময়েরও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর কেউ নাজায়েয পরিমাণ কেটে ফেললে বা বিজাতীয় অনুকরণে চুল কেটে করে ফেললে তাওবা ইস্তিগফার করতে হবে।

সহীহ বুখারী ২/৮৭৪; জামে তিরমিযী ১/১০৩; সহীহ মুসলিম ১/১৪৮; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ১/৪৭২; আলমুফাসসাল ফী আহকামিল মারআতি ওয়াল বায়তিল মুসলিম ৩/৪০০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৭; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/২০৩; আলফাতাওয়াল মারআহ, শায়খ ইবনে বায পৃ. ১৬৫ আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪১৬

শেয়ার লিংক

ফায়রুজা সাফফাত - সাভার

১৮৮০. প্রশ্ন

যদি কোনো মেয়ে ঋতুমতী হয় আর পরীক্ষার প্রশ্নে কোনো সূরার অর্থ লিখতে বলা হয় তাহলে সে যদি মনে মনে সূরা পড়ে অর্থ লেখে তাহলে জায়েয হবে কি না? আর যদি এ অবস্থায় কুরআন মজীদের আয়াত দেখে দেখে লেখে তবে কি কলমের মাঝে কোনো ব্যবধান আছে? যেমন অনেকে বলে, শীষওয়ালা কলমে লেখা যাবে, অন্য কলমের দ্বারা লেখা যাবে না। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানালে অনেক উপকৃত হব।

উত্তর

মাসিক চলাকালীন কুরআন মজীদ স্পর্শ করা, পড়া, লেখা সবই নাজায়েয। পরীক্ষার সময়ও একই হুকুম। তবে কুরআনের আয়াত উচ্চারণ না করে এবং লিখিত আয়াত স্পর্শ না করে শুধু অর্থ লেখা যাবে। অর্থ স্মরণ করার জন্য আয়াত মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে স্মরণ করতে দোষ নেই। তদ্রূপ কেউ কুরআন খুলে দিলে হাত না লাগিয়ে তা দেখা যাবে।

সুনানে দারাকুতনী ১/১১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৯; আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ ১৮/৩২১; হেদায়া ১/১১৭; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/২৩৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৩২৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৪৯; ফাতাওয়া শরঈয়্যাহ ১৪/৫০; মাআরিফুস সুনান ১/৪৪৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফ আলী - ঢাকা

১৮৭৯. প্রশ্ন

একবার অস্ত্র-যাদুঘরের সামনে সিগনালের সময় এক পানিওয়ালার কাছ থেকে এক বোতল পানি কিনেছিলাম। কিন্তু মূল্য পরিশোধের আগেই গাড়ি ছেড়ে দেয়। ফলে তাকে পানির মূল্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। সিগনাল পার হয়ে গাড়ি থামিয়ে তাকে খুঁজেছি কিন্তু তাকে পাইনি। এখনও তাকে খুঁজি তবে ক্ষণিকের দেখায় তার চেহারাও আমার মনে নেই, হয়তবা আমার চেহারাও তার মনে নেই। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু বিক্রেতার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তাই আপনার করণীয় হল ঐ পানির মূল্য বিক্রেতার পক্ষ থেকে ছদকা করে দেওয়া।

আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৮৩; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ১০/১৩৯; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ১০/৬৬৬; মওসূআহ, ইবনে মাসউদ রা. পৃ. ৪৪১; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৫৩, ১৫৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/২৭১, ৩১৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নজরুল ইসলাম - কুমিল্লা

১৮৭৮. প্রশ্ন

গ্রামে সাধারণত বাজার-হাট দূরে থাকে। তাই প্রয়োজনের সময় বাড়ির মহিলারা একে অপরের কাছ থেকে আলু, পেয়াজ, বেগুন ইত্যাদি গণনার হিসাবে ধার নেয়। পরে নিজেদের বাজার এলে তা গণনা করে সমপরিমাণ পরিশোধ করে দেয়। এক্ষেত্রে সাধারণত ঐ বস'গুলো কিছু ছোট বড় হয়েই থাকে, তবে এর কারণে তাদের মাঝে কোনো ঝগড়া বা মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় না। এখন প্রশ্ন হল, এইভাবে করজ নেওয়া-দেওয়া জায়েয কি না?

উত্তর

কম-বেশির শর্ত না করে এমন লেনদেন করা জায়েয। তবে আগে শর্ত না করে সম্ভব হলে আদায় করার সময় কিছু বেশি দিয়ে দেওয়া ভালো।

আলমুগনী ইবনে কুদামা ৬/৪৩৫; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ১১/৫৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৮৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/২০২; কিতাবুল মাজমূ’ ১২/২৬৪

শেয়ার লিংক

মাওলানা মুহাম্মাদ হুমায়ুন আহমাদ - বাইতুল আমান জামে মসজিদ, পটুয়াখালি

১৮৭৭. প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তির নিকট যাকাতযোগ্য ৬০,০০০/- টাকা রয়েছে। পাশাপাশি তার মালিকানায় পাঁচ ভরি স্বর্ণও আছে। সে শুধু টাকার যাকাত আদায় করবে, নাকি স্বর্ণের যাকাতও আদায় করতে হবে? মেহেরবানী করে ফিকহের কিতাবের উদ্ধৃতিসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির নিকট ৬০,০০০/- টাকা থাকায় সে এমনিতেই যাকাতের নেসাবের অধিকারী। আর যাকাতের নেসাবধারী ব্যক্তির নিকট স্বর্ণ, রূপা ও ব্যবসার সম্পদ যে পরিমাণেই থাকুক তার যাকাত দিতে হয়। তাই ঐ ব্যক্তিকে তার মালিকানাধীন ৫ ভরি স্বর্ণেরও যাকাত দিতে হবে।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২৩০; বাদায়েউস সানায়ে ২/১০৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহ ইমরান - বারাহীপুর, ফেনী

১৮৭৬. প্রশ্ন

আমরা জানি যে, নামাযীর সামনে দিয়ে যাওয়া নিষেধ। কিন্তু অনেক সময় সালাম ফিরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি, আমার সোজা পিছনে একজন নামায আদায় করছে। এমতাবস্থায় আমি তার সামনে থেকে সরে যেতে পারব কি? এক্ষেত্রেও নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার গুনাহ হবে কি?

উত্তর

কেউ যদি নামাযীর বরাবর সামনে থাকে তাহলে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ আছে। এটা নামাযের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে বিনা প্রয়োজনে এমন না করা উচিত। কেননা, এতে তার মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। আবার কেউ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করারও আশংকা রয়েছে।

সহীহ ইবনে হিব্বান ৬/১২৯; ইলাউস সুনান ৫/৮২; ফাতহুল বারী ১/৬৯৮; উমদাতুল ফিকহ ২/১৩৫; তুহফাতুল আহওয়াযী ২/২৫৪; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহমান - নরসিংদী

১৮৭৩, ১৮৭৪, ১৮৭৫. প্রশ্ন

১৮৭৩. প্রশ্ন : ক) যদি কোনো ব্যক্তি ঈদের নামায নিজে আদায় করার পর ঈদের নামাযের দ্বিতীয় জামাতের ইমামতি করেন তাহলে তার উক্ত ইমামতি বৈধ হবে কি না? ১৮৭৪. প্রশ্ন : খ) যারা তার পিছনে ইক্তেদা করে ঈদের নামায আদায় করবেন তাদের নামায সহীহ হবে কি না? ১৮৭৫. প্রশ্ন : গ) ঈদের নামাযের প্রথম জামাতের মুক্তাদি দ্বিতীয় জামাতের ইমামতি করতে পারবে কি না-প্রশ্ন করা হলে এক আলেম সাহেব বৈধ বলে ফতোয়া প্রদান করেন। এ ফতোয়া সঠিক কি না? শরীয়তের দৃষ্টিতে ফতোয়ার নির্ভরযোগ্য কিতাবাদির উদ্ধৃতি সহকারে উত্তর দিলে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

উত্তর : ক ও খ) যে ব্যক্তি একবার নামায আদায় করেছে তার জন্য দ্বিতীয় জামাতের ইমাম হওয়ার সুযোগ নেই। শরীয়তে ঈদের নামায একবার, দুইবার নয়। যে ব্যক্তি একবার নামায পড়েছে তার জন্য দ্বিতীয় নামায ঈদের নামায নয়; বরং তা নফল নামায হবে। আর নফল আদায়কারী ইমামের পিছনে, ঈদের নামায আদায়কারী মুসল্লির ইক্তেদা করা বৈধ নয়। উক্ত মাসআলায় যদিও বিভিন্ন ফিকহী মাযহাবে মতভেদ রয়েছে, কিন্তু দলীলের বিচারে উল্লেখিত সিদ্ধান্তই অগ্রগণ্য এবং অধিকাংশ ফকীহ এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সহীহ বুখারীর এক হাদীসে আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ইমাম বানানো হয় তাঁর অনুসরণের জন্য অতএব তোমরা ভিন্নতা অবলম্বন করবে না।’-সহীহ বুখারী ১/১০ জানা কথা, ঈদের নামাযের মুক্তাদীগণ নফল আদায়কারী ইমামের ইক্তেদা করলে ইমামের অনুসরণ হয় না; বরং ইমাম মুক্তাদীর নামায ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। অন্য বর্ণনায় আছে, হযরত কাতাদাহ রাহ. থেকে বর্ণিত, হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব ও হাসান বসরী রাহ. বলেন, যে ব্যক্তি যোহরের জামাত মনে করে আসরের নামায আদায়রত জামাতে শরীক হল এবং নামাযের পর সে জানতে পারল, তারা আসর আদায় করেছে, উক্ত ব্যক্তি আসর ও যোহর উভয় নামায পুনরায় পড়বে।’-মুসন্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৩/৫২৪ আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় এই যে, ইমাম যখন ঈদের নামায পড়বেন, তিনি অতিরিক্ত তাকবীরের সাথে পড়াবেন। অথচ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোনো নফল নামাযে ঈদের নামাযের মতো অতিরিক্ত তাকবীর নেই। বিশেষ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ জীবনে কখনো আদায়কৃত ঈদের নামায পুনরায় পড়াননি। কোনো সাহাবীকে এমন করতে আদেশও করেননি বা কোনো সাহাবী এমন করেছেন তার প্রমাণ নেই; বরং হাদীস শরীফে এক নামায একাধিকবার পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কোনো নামায একদিনে একাধিকবার পড়ো না।-আবু দাউদ ১/৮৫ উত্তর : গ) সম্ভবত তিনি অন্য কোনো মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন। এটা ঠিক হয়নি। এর প্রথম কারণ হল, যে মত অনুযায়ী তিনি ফতোয়া দিয়েছেন তা দলীলের বিচারে দুর্বল। দ্বিতীয় কারণ হল এতদাঞ্চলে ফিকহে হানাফী অনুযায়ী কুরআন ও হাদীসের উপর আমল করা হয়। তাই শরীয়তসম্মত প্রয়োজন ছাড়া বিপরীত ফতোয়া দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলা দ্বীনী মাসলাহাতের পরিপন্থী।-আততামহীদ ২৪/৩৬৭; আলমাজমূ’ ৪/১৬৯; ফাতহুল বারী ২/২২৬; কিতাবুল উম্ম ১/২০০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৯৬; যাখীরা ২/২৪২; আলমুনতাকা, ইবনে তায়মিয়া ১/৬৩২; তাসহীলুল মাসালিক ২/৪৯৬; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৩/৫২৪

আততামহীদ ২৪/৩৬৭; আলমাজমূ’ ৪/১৬৯; ফাতহুল বারী ২/২২৬; কিতাবুল উম্ম ১/২০০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৯৬; যাখীরা ২/২৪২; আলমুনতাকা, ইবনে তায়মিয়া ১/৬৩২; তাসহীলুল মাসালিক ২/৪৯৬; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৩/৫২৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাব্বির আহমদ - বেড়া, পাবনা

১৮৭২. প্রশ্ন

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়টি উমরা করেছেন এবং কয়টি হজ্ব করেছেন? বিদায় হজ্ব কত সনে হয়েছিল?

উত্তর

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি উমরা করেছেন। প্রত্যেকটি যিলকদ মাসে। প্রথমটি হুদায়বিয়ার উমরা, যা ষষ্ঠ হিজরীতে হয়েছে। কাফেরদের প্রতিরোধের কারণে বাইতুল্লাহ শরীফে এ বছর যাওয়া হয়নি। হুদায়বিয়াতেই ইহরাম ত্যাগ করেছিলেন। দ্বিতীয় উমরা পরবর্তী বছর হয়েছে। তৃতীয় উমরাতুল জি’রানা। হুনাইন থেকে ফেরার পথে জি’রানা থেকে ইহরাম বেঁধে ছিলেন। চতুর্থটি বিদায় হজ্বের সাথে করেছেন। তাহলে সর্বমোট উমরা চারটি হলেও পৃথক সফরে পূর্ণ উমরা হয়েছে মোট দুইটি। আর হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মাত্র হজ্ব করেছেন। সেটি হল বিদায় হজ্ব। বিদায় হজ্ব দশম হিজরীতে হয়েছে। হিজরতের আগে কয়টি হজ্ব করেছেন এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলা যায় না। জামে তিরমিযীর এক বর্ণনায় দুইটির কথা আছে। তবে অন্যান্য দলীল দ্বারা তাবেয়ীন ও মুহাদ্দিসগণ আরো বেশি সংখ্যক হজ্বের কথা উল্লেখ করেছেন। এমনকি ইবনুল আমীর রাহ. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের আগে প্রতি বছরই হজ্ব করতেন। এটাই স্বাভাবিক। এর সঠিক সংখ্যা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ৮/৪৪৪-৪৪৯; শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়াহ ৪/১৪১; আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭/৪০৬; সহীহ বুখারী ১/২৩৮; সহীহ মুসলিম ১/৩৯৪; জামে তিরমিযী ১/১৬৮; সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ২২০; মাআরিফুস সুনান ৬/২০; ফাতহুল বারী ৩/৭০২; উমদাতুল কারী ১০/১১৩; যাদুল মাআদ ৩/২৫৬; আল কামিল ফিততারীখ ২/৩০৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফুল ইসলাম - হেমায়েতপুর, পাবনা

১৮৭১. প্রশ্ন

শুনেছি, কিয়ামতের পূর্বে যখন দাজ্জালের আবির্ভাব হবে তখন সে গোটা পৃথিবী চষে বেড়াবে। শুধু মক্কা-মদীনায় যেতে পারবে না। এ সম্পর্কিত কোনো হাদীস থাকলে তা সবিস্তারে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি সঠিক। দাজ্জাল মক্কা মুকাররমা এবং মদীনা মুনাওয়ারায় প্রবেশ করতে পারবে না। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসে তা বিদ্যমান রয়েছে। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, এমন কোনো ভূখণ্ড নেই, যা দাজ্জালের পদভারে মথিত হবে না। তবে মক্কা ও মদীনায় সে প্রবেশ করতে পারবে না। সে কোনো দিক দিয়ে মদীনায় যাওয়ার সুযোগ পাবে না। যেদিকেই যাবে সেদিকেই ফেরেশতাগণকে সারিবদ্ধভাবে মদীনার হেফাযতে প্রহরারত থাকবেন। এরপর মদীনা তার অধিবাসীসহ তিনবার প্রকম্বিত হবে। যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মদীনা থেকে সকল কাফের এবং মুনাফিককে বের করে দিবেন। (সহীহ বুখারী ১/২৫৩)

আরো দেখুন : সহীহ বুখারী, হাদীস ৭১২৪; ফাযাইলুল মদীনা ১/২৫৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৯৪২; মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/৬৬০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সালমান - ত্রিশাল, মোমেনশাহী

১৮৭০. প্রশ্ন

গত ঈদুল ফিতরের দিন আমাদের শহরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়। ফলে মুসল্লীগণ ঈদগাহে না গিয়ে নামাযের জন্য জামে মসজিদে একত্রিত হয়। কিন' সে সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলে ঈদের নামায মসজিদে পড়া ঠিক নয়; বরং বৃষ্টির কারণে ঈদগাহে পড়া সম্ভব না হলে দ্বিতীয় দিন ঈদগাহে পড়তে হবে। মাননীয় মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল বৃষ্টির কারণে কি ঈদের নামায জামে মসজিদে পড়া বৈধ? প্রথম দিন মসজিদে পড়ে নেওয়া উত্তম হবে না দ্বিতীয় দিন ঈদগাহে পড়া উত্তম হবে?

উত্তর

স্বাভাবিক অবস্থায় ঈদের নামায ঈদগাহে পড়াই সুন্নত। তবে ওজরের কারণে মসজিদে আদায় করতে কোনো অসুবিধা নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বৃষ্টির কারণে মসজিদে ঈদের নামায আদায় করেছেন বলে হাদীস শরীফে আছে। তাই ১ম দিন মসজিদে ঈদের নামায না পড়ে দ্বিতীয় দিনের জন্য বিলম্বিত করা জায়েয হবে না।

সুনানে আবু দাউদ ১/১৬৪; ইলাউস সুনান ৮/১১৩; বযলুল মাজহুদ ৬/২০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৮৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৯; আলমুগনী ইবনে কুদামা ২/১১৪; কিতাবুল উম্ম ১/২৮৬; কিতাবুল মাজমূ’ ৫/৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ - তাকমীল, মাদানীনগর

১৮৬৯. প্রশ্ন

পুরান ঢাকায় শবে বরাত উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন পদার্থ দ্বারা বিভিন্ন প্রকার প্রাণীর আকৃতিতে পাউরুটি, কেক, সন্দেশ ইত্যাদি বানাতে দেখা যায়। এসব প্রাণীর মধ্যে হারাম প্রাণী যেমন কুমির, ভোদর, গুই সাপ ইত্যাদি এবং হালাল প্রাণী যেমন বিভিন্ন জাতের মাছও থাকে। এগুলোকে শবে বরাতের বিশেষ খাবার বলে গণ্য করা হয় এবং খুব চড়া মূল্যে তা বিক্রি হয়। প্রশ্ন হল, প্রাণীর আকৃতিতে এসব খাবার তৈরি করা এগুলোর ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে কি না?

উত্তর

শবে বরাত উপলক্ষে খাবারের প্রশ্নোক্ত আয়োজন এবং প্রাণীর আকৃতিতে তা তৈরির প্রচলনটি সম্পূর্ণ নাজায়েয। শরীয়তের দৃষ্টিতে এতে দু’টি আপত্তিকর বিষয়ের সমন্বয় ঘটেছে। এক. কোনো প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং প্রতিকৃতি প্রস্তুতকারীর জন্য আখেরাতে কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, প্রতিকৃতি প্রস্তুতকারীরা আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে কঠিন আযাবের মুখোমুখি হবে।-সহীহ বুখারী ২/৮৮০ অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন, সুদ ভক্ষণকারী ও সুদ প্রদানকারীর উপর, উল্কি অঙ্কন কারীনী নারী ও উল্কি গ্রহণকারীনী নারীর উপর এবং প্রতিকৃতি প্রস্তুতকারীর উপর।-সহীহ বুখারী ২/৮৮১ অন্য হাদীসে আরো বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ফেরেশতারা ওই ঘরে প্রবেশ করে না যাতে মূর্তি বা ছবি রয়েছে।-সহীহ মুসলিম ২/২১১২ দুই. শবে বরাতকে উপলক্ষ করে এ ধরনের খাবারের আয়োজন করাকে দ্বীনী বা নেকের কাজ মনে করা হয়, যা সুস্পষ্ট বিদআত ও কুসংস্কার। অতএব শবে বরাত বা অন্য কোনো উপলক্ষে প্রাণীর আকৃতিতে কোনো ধরনের খাবার তৈরি করা হারাম। এথেকে বিরত থাকা সকল মুসলমানের জন্য জরুরি। আর এ ধরনের প্রাণীর আকৃতি সম্বলিত খাবারের ক্রয়-বিক্রয়ও জায়েয নেই। কেননা, এর দ্বারা ওই নাজায়েয কাজে প্রস'তকারীদের সহযোগিতা করা হয়।

সহীহ বুখারী ২/৮৮০-৮৮১; শরহে মুসলিম নববী ১৪/৮১; আলমাদখাল ইবনে হাজ্জ্ব ১/২৯১; কিতাবুল হাওয়াদিছ ওয়ালবিদা’ পৃ. ১১৮; ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম ২/৬৩২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ফাহিম সিদ্দীকী - ইসলামাবাদ, মতলব

১৮৬৮. প্রশ্ন

বর্তমানে রেডিও টেলিভিশনে যে আযান শোনা যায় তার জওয়াব দিতে হবে কি না?

উত্তর

হাদীস শরীফে আযানের উত্তর দেওয়ার যে নির্দেশ এসেছে তা সরাসরি মুআযযিন থেকে শোনা আযানের ব্যাপারে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন তোমরা মুআযযিনকে বলতে শুনবে তখন তোমরাও তার অনুরূপ বল। তাই রেকর্ডকৃত আযান প্রচারিত হলে তার জবাব দেওয়া মাসনূন বলে বিবেচিত হবে না।

সহীহ মুসলিম ১/১৬৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৭৩; ফাতহুল কাদীর ১/২১৬, ২১৭; আলফিকহ আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ পৃ. ১৮২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - দনিয়া, ঢাকা

১৮৬৭. প্রশ্ন

আমার নানু তার একটি জায়গা মসজিদের জন্য ওয়াকফ করার নিয়ত করেছেন এবং তিনি এ কথাও বলেছেন, ধরে নাও আমি এ জায়গা মসজিদে দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু পরবর্তীতে ঐ জায়গার পাশেই আরেকটি মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। বিধায় এ জায়গায় মসজিদ করার কোনো প্রয়োজন নেই। তাই তিনি নিয়ত করেছেন, এ জায়গা বিক্রি করে দেশে যেখানে মসজিদ নেই সেখানে মসজিদ নির্মাণ করবেন। আমার প্রশ্ন হল, বর্তমান জায়গা বিক্রি করে দেশে জায়গা ক্রয় করে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার নানু যেহেতু মৌখিক বা লিখিতভাবে ঐ জমি ওয়াকফ করে দেননি তাই শুধু নিয়তের কারণে বা ধরে নাও আমি এ জায়গা মসজিদের জন্য দিয়ে দিয়েছি’ বলার কারণে ঐ জমিটি ওয়াকফ হয়ে যায়নি। অতএব জমিটি বিক্রি করে অন্যত্র যেখানে প্রয়োজন আছে তা দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করতে পারবেন।

হিদায়া ২/৬৪৪; ফাতহুল কাদীর ৬/২১৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আহনাফ - মালিবাগ, ঢাকা

১৮৬৬. প্রশ্ন

জনৈক অসুস্থ মাযূর ব্যক্তি যিনি রোযা রাখতে পারেন না তিনি তার রোযার ফিদয়া পুরা রমযানেরটা এক সাথে রমযানের শুরুতেই আদায় করে দিতে পারবেন কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, রমযানের শুরুতেই পুরা রমযানের ফিদইয়া একত্রে আদায় করে দিতে পারবে।

আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭; হাশিয়া তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৩৭৬; হাশিয়া তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৪৬৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৭

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমির হামযাহ - মাদারীপুর

১৮৬৫. প্রশ্ন

জনৈক রোযাদার ব্যক্তির রোযা অবস্থয় হঠাৎ অনিচ্ছায় অল্প পরিমাণ বমি মুখে চলে আসে। অতঃপর তা আবার ভিতরে চলে যায়। জানার বিষয় হল, উক্ত কারণে কি তার রোযা ভেঙ্গে গেছে?

উত্তর

না, ঐ ব্যক্তির রোযা নষ্ট হয়নি।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৬৩; ফাতহুল কাদীর ২/২৬০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪১৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নাঈম - মিরপুর-৬, ঢাকা

১৮৬৪. প্রশ্ন

সাধারণত আযানের পর শুধু দুআ পড়া হয়। দরূদ পড়া হয় না। তাই আমরা ঐভাবে আমল করতাম। একদিন এক আলোচনা মজলিসে আমার ভাই বলল যে, আযানের পর দরূদ পড়তে হয় এরপর দুআ। জানার বিষয় যে, কোনটি সঠিক? বরাতসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আযানের পর দুআর পূর্বে দরূদ পড়ার কথা হাদীসে আছে। সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, (অর্থ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ রা.-এর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আযানের সময় মুয়াযযিন যা বলে উত্তরে তোমরা তা বল। অতঃপর আমার উপর দরূদ পড়। যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পড়বে তার উপর আল্লাহ তাআলা ১০টি রহমত অবতীর্ণ করেন। এরপর আল্লাহর কাছে আমার জন্য ‘ওছিলা’ লাভের দুআ কর। কারণ ওছিলা হল জান্নাতের এক সুউচ্চ মর্যাদা, যা শুধু একজনই পাবে। আমি আশা করি সে ব্যক্তি আমি হব। যে ব্যক্তি আমার জন্য ওছিলা’ লাভের দুআ করবে তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে।’- সহীহ মুসলিম ১/১৬৬ সুতরাং আযানের দুআর আগে দরূদ পড়ার আমলটিই সঠিক।

সুনানে আবু দাউদ ১/৭৭; শরহুত তাহযীব ৩/১২৪; শরহুন নুকায়া ১/১৩৪; রদ্দুল মুহতার ১/৩৯৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহজাহান খান - ঢাকা

১৮৬৩. প্রশ্ন

উমরা পালন করার সময় তাওয়াফের দুই রাকাত ওয়াজিব নামায তওয়াফের পর পর না পড়ে সায়ীর পর পড়লে দম ওয়াজিব হবে কি? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

তাওয়াফের দুই রাকাত ওয়াজিব নামায মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে তাওয়াফের পর পরই পড়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল এমনই ছিল। বিনা ওজরে উক্ত দুই রাকাতকে বিলম্বে পড়া বা সায়ীর পর পড়া সুন্নত পরিপন্থী। তবে এ কারণে দম ওয়াজিব হবে না।

সহীহ বুখারী ১/২২০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৮/১৫৮; ইলাউস সুনান ১০/৮৭, ৮৫; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী পৃ. ১৫৫; আলকুরা লিকাছিদি উম্মিল কুরা পৃ. ৩৫৫; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ১১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল কাদের - মিরপুর, ঢাকা

১৮৬২. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি গত রমযানে রোযা রাখার নিয়তে রাত্রিবেলায় সাহরী খেয়েছে। দিনের বেলায় যখন সূর্য উদিত হয় এবং চারদিকে আলো ছড়িয়ে পড়ে তখন লোকটি ভাবল আজ আমি রোযা রাখব না। তাই আমি আমার রাত্রের নিয়ত ত্যাগ করলাম। এই বলে সে ইচ্ছাকৃত পানাহার করে ফেলে। জানার বিষয় এই যে, তার এই কাজটি ঠিক হয়েছে কি? এর কারণে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে কি? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

লোকটির বিনা ওজরে এভাবে ইচ্ছাকৃত রোযা ভঙ্গ করা সম্পূর্ণ না-জায়েয হয়েছে। তাকে উক্ত রোযার কাযা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে এবং কায়মনোবাক্যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে তওবা-ইসি-গফার করতে হবে।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৬১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৮০, (ইচ্ছাকৃত রোযা ভঙ্গ করা :) সহীহ বুখারী ১/২৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪১২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রেজাউল করীম - ঢাকা

১৮৬১. প্রশ্ন

সুদী ব্যাংকের একজন এমডির কয়েক সন্তানকে আমি পড়াই। এতে আমার মাসে ২০ হাজার টাকা ইনকাম হয়। যা দ্বারা আমার সংসার চলে। এছাড়া ইনকামের আমার আর কোনো ব্যবস্থা নেই। আমার জানা মতে তার ঐ সুদী চাকরি ছাড়া ইনকামের আর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। জানার বিষয় যে, আমার জন্য কি ঐ টিউশনির টাকা বৈধ হবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ ব্যক্তির আয় যেহেতু হারাম, আর আপনি সে সম্পর্কে অবগত তাই তার হারাম উপার্জন থেকে দেওয়া বেতন আপনার জন্য গ্রহণ করা বৈধ হবে না। ঐ ব্যক্তির কর্তব্য, হালাল সম্পদ দ্বারা আপনার বেতন আদায় করা। যদি এ ব্যবস্থা না হয় তাহলে আপনি অন্য চাকরি খোঁজ করতে থাকেন এবং আল্লাহর কাছে ইসি-গফার করতে থাকেন। মোটামুটি চলার ব্যবস্থা হলেই এটা ছেড়ে দিতে হবে।

আহকামুল মালিল হারাম পৃ. ৩১৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৩; আযযাখীরা ১৩/৩১৭; আলবায়ান ওয়াত তাহসীল ১৮/৫১৪; বুহুছ ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআছিরা পৃ. ৪২৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৫২; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০১; রদ্দুল মুহতার ৪/১৯৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান - রায়েরবাগ, ঢাকা

১৮৬০. প্রশ্ন

আমার ব্যস্ততার কারণে কখনো দ্রুত নামায পড়তে গিয়ে রুকু সিজদায় তাসবীহ তিনবার পড়া হয় না; বরং কম হয়ে যায়। এতে নামাযে কোনো সমস্যা হবে কি? আবার কখনো জামাতে নামায পড়তে গিয়ে ইমামের সাথে রুকুতে শরিক হই। তখন দেখা যায় একবার বা দু’বার তাসবীহ পড়তেই ইমাম উঠে যান। তখন কী করণীয়?

উত্তর

রুকু সিজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ পড়া সুন্নত। ইচ্ছাকৃত তিনবারের কম তাসবীহ পড়া সুন্নত পরিপন্থী। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর ঐ ব্যক্তি, যে নামাযে চুরি করে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, নামাযে কীভাবে চুরি করে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নামাযের রুকু, সিজদা ঠিকভাবে আদায় না করা (ই হচ্ছে নামায চুরি করা) - মুসনাদে আহমদ ৩/৫৬। সুতরাং একাকী নামাযে এবং জামাতে উভয় ক্ষেত্রে অন-ত: তিনবার তাসবীহ পড়বে। তবে তিনবার পড়ার পূর্বেই যদি ইমাম উঠে যান তাহলে ইমামের অনুসরণের জন্য মুক্তাদীও উঠে যাবে। কারণ ইমামের অনুসরণ করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ইমামের সাথে যতবার তাসবীহ পড়া যায় তাই যথেষ্ট। তিনবার পুরো করা লাগবে না।

মুসনাদে আহমদ ৩/৫৬; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ২৮২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৯৪ ইমামের সঙ্গে রুকুতে শরিক হওয়া : ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১১৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৯৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহেদ - এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা

১৮৫৯. প্রশ্ন

কবলাল জুমআর চার রাকআত নামায জুমআর পরে আদায় করা যাবে কি না? যদি আদায় করে তবে কি বলে নিয়ত করবে?

উত্তর

হ্যাঁ, জুমআর আগের চার রাকাত সুন্নত ছুটে গেলে তা জুমআর পরে আদায় করা যাবে। ‘পূর্বের চার রাকাত সুন্নত পড়ছি’ এমন নিয়তই যথেষ্ট হবে।

শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৮৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৩৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪১৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমান - ঢাকা

১৮৫৮. প্রশ্ন

বাম হাতে পানি পান করার হুকুম কী? যদি ডান হাতে ওজর থাকে তখন কিভাবে পান করবে?

উত্তর

বিনা ওজরে বাম হাতে পানি পান করা মাকরূহ। একাধিক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতে পানাহার করতে নিষেধ করেছেন এবং ইরশাদ করেছেন যে, শয়তান বাম হাতে পানাহার করে। তবে ডান হাত ব্যবহারে অক্ষম হলে বাম হাতেও পানাহার করা যাবে।

সহীহ মুসলিম ২/১৭২; শরহে মুসলিম, ইমাম নববী ২/১৭২; ফাতহুল বারী ৯/৪৩৩; আততামহীদ, ইবনে আবদুল বার ১১/১১১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আমান উল্লাহ - বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা

১৮৫৭. প্রশ্ন

আমার পরিচিত বিশ্বস্ত এক ব্যবসায়ীকে আমি কিছু টাকা দিয়েছি। সে তা এক বছর ব্যবসায় খাটাবে। আমি বলেছি, ব্যবসার লভ্যাংশ থেকে আমাকে ভালো ও উন্নত (মাল্টি মিডিয়া) একটি মোবাইল সেটা দিতে হবে। আর কিছু দিতে হবে না। এভাবেই তার সাথে আমার চুক্তি হয়েছে। প্রশ্ন হল, উপরোক্ত পদ্ধতিতে চুক্তি করা শরীয়তসম্মত হয়েছে কি না? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

আপনাদের এ চুক্তি শরীয়তসম্মত হয়নি। কারণ এই ধরনের কারবারে লাভ হিসাবে নির্দিষ্ট বস্তু বা নির্ধারিত অংকের টাকা নেওয়া-দেওয়ার চুক্তি করা বৈধ নয়। তাই মোবাইল দেওয়ার চুক্তি জায়েয হয়নি। এ কারণে চুক্তিটি ফাসেদ হয়ে গেছে। সহীহভাবে চুক্তি করতে চাইলে উভয়ের লভ্যাংশ শতকরা হারে নির্ধারণ করতে হবে। যেমন আপনার জন্য লাভের ৫০% এবং ব্যবসা পরিচালনাকারীর জন্য ৫০% অথবা কম-বেশি।

ফাতাওয়া খানিয়া ৩/১৬১; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/২৮৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/১৮৮; শরহুল মাজাল্লা, খালিদ আতাসী ৪/৩৩৩, মাদ্দাহ : ১৪১১; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৭/১৪০, ১৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৪৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম - মোমেনশাহী

১৮৫৬. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি শহরে থাকে। গ্রামে তার অনেক জমি রয়েছে। তা থেকে কিছু জমি সে এক দরিদ্রকে এক বছরের জন্য চাষ করে খাওয়ার জন্য দেয়। কিন্তু কিছু দিন পর জমির মালিক জমি বিক্রি করে দেয়। এদিকে ঐ জমিতে দরিদ্র ব্যক্তি ধান ক্ষেত করেছে যাতে এখনো ধান হয়নি। এখন ক্রেতা চাচ্ছে ধান ক্ষেত উঠিয়ে দিতে এবং তা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য চাষীকে চাপ দিচ্ছে। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত অবস্থায় কি জমি ক্রেতা ধান ক্ষেত উঠিয়ে দেওয়ার অধিকার রাখে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় মালিক যেহেতু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঐ ব্যক্তিকে চাষ করতে দিয়েছে তাই এখন ফসল উঠিয়ে নিয়ে জমি খালি করে দিতে বাধ্য করলে বিক্রেতার জন্য চাষীকে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আলবাহরুর রায়েক ৭/২৮৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৩৩৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৭০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৩; ফাতহুল কাদীর ৭/৪৭৬; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৩২২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৯৩; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/১৪৬; ফাতাওয়া খানিয়া ২/২৩৯; রদ্দুল মুহতার ৫/৬৮২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ - উত্তরা, ঢাকা

১৮৫৫. প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু আছে। সে মেঘমালা, গাছপালা, নদী-নালা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দৃশ্য আর্ট করে। এমনিভাবে বিভিন্ন আল্পনা ও নকশা তৈরি করে। তবে সে প্রাণীর ছবি আঁকে না। জানার বিষয় এই যে, প্রাণীর ছবিমুক্ত এ ধরনের চিত্রাঙ্কন করা বা এগুলো ঘরে সাজিয়ে রাখার শরঈ বিধান কী?

উত্তর

প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা নাজায়েয। কিন্তু গাছ-তরুলতা ও প্রাণীর ছবিমুক্ত প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলি আঁকা নাজায়েয নয়। এ ধরনের চিত্র ঘরে সাজিয়ে রাখাও বৈধ।

সহীহ মুসলিম ২/২০২; শরহে মুসলিম নববী ২/২০১; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/১৬৫; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ১০/৪০০, হাদীস ১৯৪৯৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩০৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭-২৮; আল মুহীতুল বুরহানী ৮/৮৮; আলমুগনী ইবনে কুদামা ১০/১৯৯, ২০১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৪৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইমদাদুল্লাহ - কচুয়া, চাদপুর

১৮৫৪. প্রশ্ন

আমাদের দেশে বিভিন্ন ধাতুর তৈরি নানা প্রকারের মূর্তি-ভাষ্কর্য ইত্যাদি পাওয়া যায়। যা বাসা-বাড়িতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাজিয়ে রাখা হয়। প্রশ্ন হল, এসব প্রতিকৃতি ভাষ্কর্য ক্রয় করা ও সাজিয়ে রাখা বৈধ হবে কি?

উত্তর

যে কোনো প্রাণীর মূর্তি, প্রতিকৃতি, ভাষ্কর্য ইত্যাদি তৈরি করা হারাম। এগুলো ক্রয়-বিক্রয় করা, প্রদর্শনী করা বা ঘরে দৃশ্যমান অবস্থায় সাজিয়ে রাখা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সুতরাং এসব থেকে বিরত থাকা জরুরি।

সূরা মায়েদা : ৯০; সহীহ বুখারী ২/৮৮০; ফাতহুল বারী ১০/৩৯৭; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/১৫৫; উমদাতুল কারী ২২/৭০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/২১৫, ৫/৩৫৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭; আলমাদখাল, ইবনুল হাজ্জ ১/২৭৩; আলমুগনী ইবনে কুদামা ১০/২০২; রদ্দুল মুহতার ১/৬৪৭

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement